হাদীস বিএন


বুলূগুল মারাম





বুলূগুল মারাম (1161)


وَعَنْ سَمُرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «مَنْ قَتَلَ عَبْدَهُ قَتَلْنَاهُ, وَمَنْ جَدَعَ عَبْدَهُ جَدَعْنَاهُ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالْأَرْبَعَةُ, وَحَسَّنَهُ التِّرْمِذِيُّ, وَهُوَ مِنْ رِوَايَةِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ عَنْ سَمُرَةَ, وَقَدِ اخْتُلِفَ فِي سَمَاعِهِ مِنْهُ

وَفِي رِوَايَةٍ لِأَبِي دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيِّ: «وَمَنْ خَصَى عَبْدُهُ خَصَيْنَاهُ». وَصَحَّحَ الْحَاكِمُ هَذِهِ الزِّيَادَةَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أحمد (50 و 11 و 12 و 18 و 19)، وأبو داود (4515)، والنسائي (81)، والترمذي (1414)، وابن ماجه (2663) من طريق الحسن، عن سمُرة، به. وليس الأمر هنا إثباتَ أسَمِعَ الحسن من سمُرة أم لا؟ فهو لا شك قد ثبت سماعه منه، ولكنه رحمه الله كان يدلس، فلا يقبل من حديثه إلا ما صرح فيه بالسماع، وهو ما لا يوجد هنا. «فائدة»: في رواية الإمام أحمد (50) بالإسناد الصحيح التصريح بأن الحسن لم يسمع هذا الحديث من سمرة

ضعيف أيضا. وهذه الرواية عند أبي داود (4516)، والنسائي (80 - 21)، والحاكم (4/ 367 - 368) وعلته كعلة سابقة




১১৬১। সামুরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার দাসকে হত্যা করবে আমরা তাকে হত্যা করব, যে তার দাসের নাক কান কাটবে আমরা তার নাক কান কেটে নেব।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৪৫১৫, ৪৫১৮, তিরমিযী ১৪১৪, নাসায়ী ৪৭৩৬, ৪৭৩৭, ইবনু মাজাহ ২৬৬৩, আহমাদ ১৯৫৯৮, ১৯৬১৪, দারেমী ২৩৫৮। ইমাম বাইহাকী তাঁর সুনানে কুবরায় ৮/৩৫ গ্রন্থে একে যঈফ বলেছেন। আর তিনি সুনানে সুগরার ৩/২১০ গ্রন্থে বলেছেন। ইয়াহইয়া বিন মুঈন ও শুবা অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছেন সামুরা থেকে হাসান এর শ্রবণ করাকে। শাইখ আলবানী তাঁর তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ ৩৪০৪ গ্রন্থে এর সানাদকে দুর্বল বলেছেন। শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওয়াহহাব ৪/১৯৩ গ্রন্থে বলেন, হাসান পর্যন্ত সানাদ সহীহ, মুহাদ্দিসগণ সামুরা থেকে হাসানের এ হাদীসটি শোনার ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। ইমাম শাওকানী তাঁর আদদিরারী আল মাযীয়্যাহ ৪১১ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে দুর্বলতা রয়েছে, কেননা হাসান এটি সামুরা থেকে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি নাইলুল আওত্বার ৭/১৫৬ গ্রন্থে এর সানাদকে দুর্বল বলেছেন। শাইখ আলবানী তাঁর যঈফ আবূ দাউদ৪৫১৫, যঈফ নাসায়ী ৪৭৬৭, যঈফ তিরমিযী ১৪১৪ গ্রন্থসমূহে একে দুর্বল বলেছেন। ইবনে উসাইমীন তাঁর শরহে বুলুগুল মারাম ৫/২২৯ গ্রন্থে বলেনঃ একে বিচ্ছিন্নতার দোষে দুষ্ট করা হয়েছে। সঠিক হলো মুত্তাসিল।









বুলূগুল মারাম (1162)


وَعَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ - رضي الله عنه - قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَقُولُ: «لَا يُقَادُ الْوَالِدُ بِالْوَلَدِ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالتِّرْمِذِيُّ, وَابْنُ مَاجَهْ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ الْجَارُودِ وَالْبَيْهَقِيُّ, وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: إِنَّهُ مُضْطَرِبٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح بطرقه وشواهده. رواه أحمد (12 و 49)، والترمذي (1400)، وابن ماجه (2662)، وابن الجارود (788)، والبيهقي (8/ 38)




১১৬২। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, সন্তানের হত্যার বদলে পিতাকে হত্যা করা যাবে না।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ১৪৮০, আবূ দাউদ২৮৫৮। ইমাম তিরমিযী তাঁর সুনানে ১৪০০, ইমাম বাগাবী তাঁর শারহুস সুন্নাহ ৫/৩৯৪ গ্রন্থে এর সানাদে ইযতিরাব সংঘটিত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। ইবনুল কাত্ত্বান তাঁর আল ওয়াহম ওয়াল ঈহাম ৩/৩৬৪ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে হাজ্জাজ বিন আরত্বআহ নামক দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছে। মুহাম্মাদ বিন আবদুল হাদী তাঁর তানকীহ তাহকীকুত তালীক ৩/২৬০ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে হাজ্জাজ সম্পর্কে ইবনুল মুবারক বলেন, সে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে তাব্দলীস করত। ইমাম সনআনী তাঁর সুবুলুস সালাম ৩/৩৬৪ গ্রন্থে উক্ত রাবীকে ইযতিরাবের দোষে অভিযুক্ত করেছেন। ইবনে উসাইমীন তাঁর হাশিয়া বুলুগুল মারাম ৫ম খণ্ড ২৩০ পৃষ্ঠায় একে দুর্বল বলেছেন। ইবনু হাজার আসকালানী তাঁর আত-তালখীসুল হাবীর ৪/১৩১৪ গ্রন্থে হাজ্জাজ বিন আরত্বআর দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, এর আরো কয়েকটি সানাদ রয়েছে। বিন বায তাঁর হাশিয়া বুলুগুল মারাম ৬৫০ গ্রন্থে একে হাসান লিগাইরিহী বলেছেন। শাইখ আলবানী সহীহ তিরমিযী ১৪০০ ও সহীহুল জামে ৭৭৪৪ গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন।









বুলূগুল মারাম (1163)


وَعَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ قَالَ: قُلْتُ لَعَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: هَلْ عِنْدَكُمْ شَيْءٌ مِنَ الْوَحْيِ غَيْرَ الْقُرْآنِ? قَالَ: لَا، وَالَّذِي فَلَقَ الْحَبَّةَ وَبَرَأَ النِّسْمَةَ, إِلَّا فَهْمٌ يُعْطِيهِ اللَّهُ رَجُلًا فِي الْقُرْآنِ, وَمَا فِي هَذِهِ الصَّحِيفَةِ. قُلْتُ: وَمَا فِي هَذِهِ الصَّحِيفَةِ قَالَ: الْعَقْلُ, وَفِكَاكُ الْأَسِيرِ, وَلَا يُقْتَلُ مُسْلِمٌ بِكَافِرٍ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (111)، وانظر أطرافه




১১৬৩। আবূ জুহাইফাহ (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আলী (রাঃ)-কে বললাম, আপনাদের নিকট কি কিছু লিপিবদ্ধ আছে? তিনি বললেন, ‘না, শুধুমাত্র আল্লাহর কিতাব রয়েছে, আর একজন মুসলিমকে যে জ্ঞান দান করা হয় সেই বুদ্ধি ও বিবেক। এছাড়া কিছু এ সহীফাতে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তিনি [আবূ জুহাইফাহ (রাঃ)] বলেন, আমি বললাম, এ সহীফাটিতে কী আছে? তিনি বললেন, ‘ক্ষতিপূরণ ও বন্দী মুক্তির বিধান, আর এ বিধানটিও যে, ‘কোন মুসলিমকে কাফির হত্যার বদলে হত্যা করা যাবে না।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ১১১, ১৮৭০, ৩০৪৭, ৩১৭২, ৩১৮০, ৬৭৫৫, মুসলিম ১৩৭০, তিরমিযী ১৪১২, ২১২৭, নাসায়ী ৪৭৩৪, ৪৭৩৫, ৪৭৫৫, আবূ দাউদ ২০৩৪, ৪৫৩০, ইবনু মাজাহ ২৬৫৮, আহমাদ ৬০০, ৬১৬, ৭৮৪, ৮০০, দারেমী ২৩৫৬।









বুলূগুল মারাম (1164)


وَأَخْرَجَهُ أَحْمَدُ, وَأَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ: مِنْ وَجْهٍ آخَرَ عَنْ عَلِيٍّ وَقَالَ فِيهِ: «الْمُؤْمِنُونَ تَتَكَافَأُ دِمَاؤُهُمْ, وَيَسْعَى بِذِمَّتِهِمْ أَدْنَاهُمْ, وَهُمْ يَدٌ عَلَى مَنْ سِوَاهُمْ, وَلَا يُقْتَلُ مُؤْمِنٌ بِكَافِرٍ, وَلَا ذُو عَهْدٍ فِي عَهْدِهِ». وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (122)، وأبو داود (4530)، والنسائي (89 - 20) وزادوا جميعا: ومن أحدث حدثا أو آوى محدثا، فعليه لعنة الله والملائكة والناس أجمعين




১১৬৪। অন্য সূত্রে (সানাদে) আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন, মুমিন মুসলিমগণ তাদের রক্তের বদলার ব্যাপারে সমান। একজন অতি সাধারণ মুসলিমের (কোন কাফির শত্রুকে) আশ্রয় দান সকল মুসলিমের নিকটে সমান গুরুত্বপূর্ণ। মুসলিমের হাত অন্য সকল মুসলিমেরও হাত; (অর্থাৎ তারা একটি সংঘবদ্ধ শক্তি) কোন মুমিনকে কাফির হত্যার বদলে হত্যা করা যাবে না, আর কোন চুক্তিবদ্ধ (অমুসলিমকেও) চুক্তি বহাল থাকা পর্যন্ত হত্যা করা যাবে না।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ১১১, ১৮৭০, ৩০৪৭, ৩১৭২, ৩১৮০, ৬৭৫৫, মুসলিম ১৩৭০, তিরমিযী ১৪১২, ২১২৭, নাসায়ী ৪৭৩৪, ৪৭৩৫, ৪৭৫৫, আর দাউদ ২০৩৪, ৪৫৩০, ইবনু মাজাহ ২৬৫৮, আহমাদ ৬০০, ৬১৬, ৭৮৪, ৮০০, দারেমী ২৩৫৬। নাসায়ীর বর্ণনায় আরো রয়েছে, ومن أحدث حدثا أو آوى محدثا، فعليه لعنة الله والملائكة والناس أجمعين যে ব্যক্তি কোন বিদ’আত বা দীনের মধ্যে নতুন বিষয় আবিষ্কার করবে বা কোন বিদ’আতীকে আশ্রয় দিবে তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতাকুল ও সকল মানুষের লা’নত।









বুলূগুল মারাম (1165)


وَعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ - رضي الله عنه: أَنَّ جَارِيَةً وُجِدَ رَأْسُهَا قَدْ رُضَّ بَيْنَ حَجَرَيْنِ, فَسَأَلُوهَا: مَنْ صَنَعَ بِكِ هَذَا? فُلَانٌ. فُلَانٌ. حَتَّى ذَكَرُوا يَهُودِيًّا. فَأَوْمَأَتْ بِرَأْسِهَا, فَأُخِذَ الْيَهُودِيُّ, فَأَقَرَّ, فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - أَنْ يُرَضَّ رَأْسُهُ بَيْنَ حَجَرَيْنِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَّفْظُ لِمُسْلِمٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2413)، ومسلم (1672) (17)




১১৬৫। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত; কোন এক দাসীর মস্তক দুটি পাথরের মধ্যে থেতলানো পাওয়া যায়, তাকে জিজ্ঞেস করা হল, কে তোমাকে এরূপ করেছে? অমুক ব্যক্তি, অমুক ব্যক্তি? যখন জনৈক ইয়াহুদীর নাম বলা হল- তখন সে দাসী মাথার দ্বারা হ্যাঁ সূচক ইশারা করল। ইয়াহুদীকে ধরে আনা হল। সে অপরাধ স্বীকার করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পর্কে নির্দেশ দিলেন। তখন তার মাথা দুটি পাথরের মাঝখানে রেখে পিষে দেয়া হল।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২৪১৩, ২৭৪৬, ৬৮৭৬, ৬৮৭৭, মুসলিম ১৬৭২, তিরমিযী ১৩৯৪, নাসায়ী ৪৭৪০, ৪৭৪১, আর দাউদ ৪৫২৭, ৪৫২৮, ৪৫২৯, ইবনু মাজাহ ২৬৬৫, ২৬৬৬, আহমাদ ১২২৫৬, ১২৩৩০, দারেমী ২৩৫৫।









বুলূগুল মারাম (1166)


وَعَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ - رضي الله عنه: أَنَّ غُلَامًا لِأُنَاسٍ فُقَرَاءَ قَطَعَ أُذُنَ غُلَامٍ لِأُنَاسٍ أَغْنِيَاءَ, فَأَتَوا النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - فَلَمْ يَجْعَلْ لَهُمْ شَيْئًا. رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالثَّلَاثَةُ, بِإِسْنَادٍ صَحِيحٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (4/ 438)، وأبو داود (4590)، والنسائي (85 - 26) «تنبيه»: عزو الحافظ الحديثَ للثلاثة وَهْمٌ منه رحمه الله تعالى، إذ لم يروه الترمذي، ولا نسبه له المزي في «التحفة» ولا النابلسي في الذخائر




১১৬৬। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত; গরীব লোকেদের কোন এক ছেলে ধনী লোকেদের কোন এক বালকের কান কেটে ফেলে। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে বিচার প্রার্থী হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য কোন দিয়াত দেয়ার ব্যবস্থা করেননি। (তাদের পক্ষে ক্ষতিপূরণ সম্ভব ছিল না বলে)।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৪৫৯০, নাসায়ী ৪৭৫১, নাসায়ী ৪৭৫১, দারেমী ২৩৬৮।









বুলূগুল মারাম (1167)


وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ, عَنْ أَبِيهِ, عَنْ جَدِّهِ; - رضي الله عنه: أَنَّ رَجُلًا طَعَنَ رَجُلًا بِقَرْنٍ فِي رُكْبَتِهِ, فَجَاءَ إِلَى النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فَقَالَ: أَقِدْنِي. فَقَالَ: «حَتَّى تَبْرَأَ». ثُمَّ جَاءَ إِلَيْهِ. فَقَالَ: أَقِدْنِي, فَأَقَادَهُ, ثُمَّ جَاءَ إِلَيْهِ. فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! عَرِجْتُ, فَقَالَ: «قَدْ نَهَيْتُكَ فَعَصَيْتَنِي, فَأَبْعَدَكَ اللَّهُ, وَبَطَلَ عَرَجُكَ». ثُمَّ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - «أَنْ يُقْتَصَّ مِنْ جُرْحٍ حَتَّى يَبْرَأَ صَاحِبُهُ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالدَّارَقُطْنِيُّ, وَأُعِلَّ بِالْإِرْسَالِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه أحمد (217)، والدارقطني (3/ 88)، وإعلاله بالإرسال لا يضره إذ له شواهد يصح بها. وقال الصنعاني: «في معناه أحاديث تزيده قوة». وقال ابن التركماني (8/ 67): روي من عدة طرق يشد بعضها بعضا




১১৬৭। আমর, তিনি তার পিতা শুআইব (রাঃ) হতে, তিনি তার দাদা হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কোন এক লোক অন্য এক লোকের হাঁটুতে শিং দ্বারা আঘাত করে। সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললোঃ আমার বদলা নিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ তুমি ক্ষত সেরে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা কর। লোকটি কিন্তু (সেরে যাওয়ার আগেই)। আবার এসে বললো: আমার জখমের মূল্য বা খেসারত আদায় করে দিন। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার খেসারত আদায় করে দেন। তারপর লোকটি এসে বললোঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো খোঁড়া হয়ে গেলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তোমাকে নিষেধ করেছিলাম তুমি তা মাননি। ফলে আল্লাহ তোমাকে (তাঁর রহমত হতে) দূর করে দিয়েছেন এবং তোমার খোড়াত্ব বাতিল হয়ে গেছে। (দিয়াত আদায়ের যোগ্য রাখেননি)। এরপর থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন জখম আরোগ্য না হওয়া পর্যন্ত জখমী লোকের পক্ষে কোন বদলা আদায়ের ফয়সালা দিতে নিষেধ করেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আহমাদ ২১৭, দারাকুতনী ৩/৮৮ এর সানাদে ইরসালের দোষ থাকলেও তা ক্ষতিকর নয়, কেননা অনেকগুলো শাহেদ থাকার কারণে এটি সহীহর পর্যায়ভুক্ত। ইমাম সনআনী বলেন, এর সমার্থক হাদীস থাকার কারণে এটিকে শক্তিশালী করেছে। ইবনু তুর্কমান বলেন, ৮/৬৭, অনেক সানাদে বর্ণিত বলে একে অপরকে শক্তিশালী করেছে।









বুলূগুল মারাম (1168)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: اقْتَتَلَتِ امْرَأَتَانِ مِنْ هُذَيْلٍ, فَرَمَتْ إِحْدَاهُمَا الْأُخْرَى بِحَجَرٍ, فَقَتَلَتْهَا وَمَا فِي بَطْنِهَا, فَاخْتَصَمُوا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - فَقَضَى رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - أَنَّ دِيَةَ جَنِينِهَا: غُرَّةٌ; عَبْدٌ أَوْ وَلِيدَةٌ, وَقَضَى بِدِيَةِ الْمَرْأَةِ عَلَى عَاقِلَتِهَا. وَوَرَّثَهَا وَلَدَهَا وَمَنْ مَعَهُمْ. فَقَالَ حَمَلُ بْنُ النَّابِغَةِ الْهُذَلِيُّ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! كَيْفَ يَغْرَمُ مَنْ لَا شَرِبَ, وَلَا أَكَلَ, وَلَا نَطَقَ, وَلَا اسْتَهَلَّ, فَمِثْلُ ذَلِكَ يُطَلُّ, فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِنَّمَا هَذَا مِنْ إِخْوَانِ الْكُهَّانِ» ; مِنْ أَجْلِ سَجْعِهِ الَّذِي سَجَعَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (5758)، ومسلم (1681) (36) واللفظ لمسلم




১১৬৮। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, হুযাইল গোত্রের দুজন মহিলা উভয়ে মারামারি করেছিল। তাদের একজন অন্যজনের উপর পাথর নিক্ষেপ করে। পাথর গিয়ে তার পেটে লাগে। সে ছিল গর্ভবতী। ফলে তার পেটের বাচ্চাকে সে হত্যা করে। তারপর তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অভিযোগ দায়ের করে। তিনি ফায়সালা দেন যে, এর পেটের সন্তানের বদলে একটি পূর্ণ দাস অথবা দাসী দিতে হবে। আর নিহত মেয়েটির জন্য হত্যাকারিণীর আসাবাগণের (অভিভাবকদের) উপর দিয়াত (একশত উট) দেয়ার নির্দেশ দেন এবং এ দিয়াতের ওয়ারিসদের মধ্যে নিহত মহিলার সন্তান ও তাদের সঙ্গে অন্য যারা অংশীদার রয়েছে তাদের শামিল করেন। এরূপ ফায়সালার জন্য হামাল বিন নাবিগাহ আল-হুযালী বলল: হে আল্লাহর রসূল! এমন সন্তানের জন্য আমার উপর জরিমানা কেন হবে, যে পান করেনি, খাদ্য খায়নি, কথা বলেনি এবং কান্নাকাটিও করেনি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছন্দযুক্ত কথার জন্য তাকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ এ তো (দেখছি) গণকদের ভাই।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৫৭৫৮, ৫৭৬০, ৬৭৪০, ৬৯০৪, মুসলিম ১৬৮১, তিরমিযী ১৪১০, ২১১১, নাসায়ী ৪৮১৭, ৪৮১৯, আর দাউদ ৪৫৭৬, ইবনু মাজাহ ২৬৩৯, আহমাদ ৭১৭৬, ৭৬৪৬, ২৭২১২, মালেক ১৬০৮, ১৬০৯, দারেমী ২৩৮২।









বুলূগুল মারাম (1169)


وَأَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ: مِنْ حَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ; أَنَّ عُمَرَ - رضي الله عنه - سَأَلَ مَنْ شَهِدَ قَضَاءَ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - فِي الْجَنِينِ قَالَ: فَقَامَ حَمَلُ بْنُ النَّابِغَةِ, فَقَالَ: كُنْتُ بَيْنَ امْرَأَتَيْنِ, فَضَرَبَتْ إِحْدَاهُمَا الْأُخْرَى ... فَذَكَرَهُ مُخْتَصَرًا. وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ, وَالْحَاكِمُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (4572)، والنسائي (81 - 22) وأيضا ابن ماجة (2641)، وابن حبان (5989)، والحاكم (3/ 575) بسند صحيح، وتمامه: «بمسطح، فقتلتها وجنينها، فقضى النبي صلى الله عليه وسلم في جنينها بغرة، وأن تقتل بها». وزاد الحاكم: فقال عمر: الله أكبر. لو لم نسمع بهذا ما قضينا بغيره




১১৬৯। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত; উমার (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, ভ্ৰমণ সম্পর্কিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ফয়সালায় কে উপস্থিত ছিল? বৰ্ণনাকারী বলেন, অতঃপর হামাল ইবনু নাবিগা দাঁড়িয়ে বলেন: আমি দুটি রমণির মধ্যে ছিলাম তাদের একজন অন্যজনকে মেরেছিল। ঘটনাটি সংক্ষেপে বর্ণনা করলেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ-৪৫৭২, ইবনু মাজাহ ২৬৪১, আহমাদ ১৬২৮৮, দারেমী ২৩৮১।









বুলূগুল মারাম (1170)


وَعَنْ أَنَسٍ - رضي الله عنه: أَنَّ الرُّبَيِّعَ بِنْتَ النَّضْرِ - عَمَّتَهُ - كَسَرَتْ ثَنِيَّةَ جَارِيَةٍ, فَطَلَبُوا إِلَيْهَا الْعَفْوَ, فَأَبَوْا, فَعَرَضُوا الْأَرْشَ, فَأَبَوْا, فَأَتَوْا رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - وَأَبَوْا إِلَّا الْقِصَاصَ, فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - بِالْقِصَاصِ, فَقَالَ أَنَسُ بْنُ النَّضْرِ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! أَتُكْسَرُ ثَنِيَّةُ الرُّبَيِّعِ? لَا, وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ, لَا تُكْسَرُ ثَنِيَّتُهَا, فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «يَا أَنَسُ! كِتَابُ اللَّهِ: الْقِصَاصُ». فَرَضِيَ الْقَوْمُ, فَعَفَوْا, فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ مَنْ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لَأَبَرَّهُ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَّفْظُ لِلْبُخَارِيِّ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2703)، ومسلم (1675)




১১৭০। আনাস (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। আনাসের ফুফু রুবাঈ এক বাঁদির সম্মুখ দাঁত ভেঙ্গে ফেলে। এরপর বাঁদির কাছে রুবাঈয়ের লোকজন ক্ষমা চাইলে বাঁদির লোকেরা অস্বীকার করে। তখন তাদের কাছে দিয়াত পেশ করা হল, তখন তা তারা গ্রহণ করল না। অগত্যা তারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমীপে এসে ঘটনা জানাল। কিন্তু কিসাস ব্যতীত অন্য কিছু গ্ৰহণ করতে তারা অস্বীকার করল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিসাসের নির্দেশ দিলেন। তখন আনাস ইবনু নযর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! রুবাঈদের সামনের দাঁত ভাঙ্গা হবে? না, যে সত্তা আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন তাঁর শপথ, তার দাঁত ভাঙ্গা হবে না। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আনাস! আল্লাহর কিতাব তো কিসাসের নির্দেশ দেয়। এরপর বাঁদির লোকেরা রাযী হয়ে যায় এবং রুবাঈকে ক্ষমা করে দেয়। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আল্লাহর বান্দাদের মাঝে এমন মানুষও আছে যিনি আল্লাহর নামে শপথ করলে আল্লাহ তা পূরণ করেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২৮০৬, ৪০৪৮, ৪৪৯৯, ৪৫০০, ৪৭৮৩, মুসলিম ১৯০৩, নাসায়ী ৪৭৫৫, ৪৭৫৬, আর দাউদ ৪৫৯৫, ইবনু মাজাহ ২৬৪৯, আহমাদ ১১৮৯৩, ১২২৯৩, ১২৬০৩।









বুলূগুল মারাম (1171)


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «مَنْ قُتِلَ فِي عِمِّيَّا أَوْ رِمِّيَّا بِحَجَرٍ, أَوْ سَوْطٍ, أَوْ عَصًا, فَعَلَيْهِ عَقْلُ الْخَطَإِ, وَمِنْ قُتِلَ عَمْدًا فَهُوَ قَوَدٌ, وَمَنْ حَالَ دُونَهُ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ». أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ, وَابْنُ مَاجَهْ, بِإِسْنَادٍ قَوِيٍّ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه أبو داود (4540)، والنسائي (8/ 39 - 40 و 40)، وابن ماجه (3635)، من طريق سليمان بن كثير العبدي، عن عمرو بن دينار، عن طاوس، عن ابن عباس، مرفوعا به. وتمامه: «والملائكة والناس أجمعين، لا يقبل الله منه صرفا ولا عدلا». قلت: وسليمان بن كثير فيه كلام وهو من رجال الشيخين، ويخشى من روايته عن الزهيري، وهذه ليس منها، فلا أقل من أن يكون حسن الحديث. والله أعلم




১১৭১। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বৰ্ণিত; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অজ্ঞাত অবস্থার মধ্যে নিহত হয় অথবা পাথর ছোঁড়াছুঁড়ি হচ্ছে এমন সময় পাথরের আঘাতে নিহত হয় অথবা কোড়া বা লাঠির আঘাতে নিহত হয়, তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুলক্রমে হত্যা করার অনুরূপ দিয়াত বা আর্থিক ক্ষতিপূরণ লাগবে। আর যাকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা হয় সে ক্ষেত্রে কিসাস (জানের বদলে জান) নেয়ার হাক্বদার হবে। আর যে কিসাস কায়িম করার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করবে (সুপারিশ বা অন্য উপায় দ্বারা) তার উপরে আল্লাহর লানত বৰ্ষিত হবে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৪৫৪০, ৪৫৯১ নাসায়ী ৪৭৮৯, ৪৭৯০।









বুলূগুল মারাম (1172)


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا, عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «إِذَا أَمْسَكَ الرَّجُلُ الرَّجُلَ, وَقَتَلَهُ الْآخَرُ, يُقْتَلُ الَّذِي قَتَلَ, وَيُحْبَسُ الَّذِي أَمْسَكَ». رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ مَوْصُولًا وَمُرْسَلًا, وَصَحَّحَهُ ابْنُ الْقَطَّانِ, وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ, إِلَّا أَنَّ الْبَيْهَقِيَّ رَجَّحَ الْمُرْسَلَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. وهو مخرج في «الأقضية النبوية» لابن الطلاع ص (8 منسوختي)




১১৭২। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: যখন কোন লোক কোন লোককে ধরে রাখে ও অন্য লোক তাকে হত্যা করে তখন হত্যাকারীকে হত্যা করা হবে। আর যে ধরে রাখে তাকে (যাবজ্জীবন) কারাদন্ড দিতে হবে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] দারাকুতনী হাদীসটিকে মাওসূল ও মুরসাল উভয়ভাবেই বর্ণনা করেছেন। হাদীসটিকে বাইহাকী তাঁর আল কুবরা (৮/৫০) গ্রন্থে হাদীসটিকে গাইর মাহফূয বললেও, ইবনুল কাত্তান তাঁর আল ওয়াহম ওয়াল ঈহাম (৫/৪১৫) গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন, ইবনু কাসীর তাঁর ইরশাদুল ফাকীহ (২/২৫৬) গ্রন্থে এর সানাদকে মুসলিমের শর্তে উল্লেখ করেছেন। ইমাম শাওকানী তাঁর আস সাইলুল জাররার (৪/৪১১) গ্রন্থে এর সকল রাবীকে বিশ্বস্ত বলেছেন। শাইখ আলবানী তাঁর তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ (৩৪১৫) গ্রন্থে এর সানাদকে সহীহ বলেছেন। সুতরাং ইমাম বাইহাকীর কথাটি গ্রহণযোগ্য নয়।









বুলূগুল মারাম (1173)


وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْبَيْلَمَانِيِّ; أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَتَلَ مُسْلِمًا بِمَعَاهِدٍ. وَقَالَ: «أَنَا أَوْلَى مَنْ وَفَى بِذِمَّتِهِ». أَخْرَجَهُ عَبْدُ الرَّزَّاقِ هَكَذَا مُرْسَلًا
وَوَصَلَهُ الدَّارَقُطْنِيُّ, بِذِكْرِ اِبْنِ عُمَرَ فِيهِ, وَإِسْنَادُ الْمَوْصُولِ وَاهٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف جدا. والمرسل رواه عبد الرزاق (1001 / رقم 18514) عن الثوري، عن ربيعة، عن ابن البيلماني به. وهذا فضلا عن إرساله، فمرسله ضعيف لا يحتج به، فقد قال الدارقطني: «ابن البيلماني ضعيف لا تقوم به حجة إذا وصل الحديث، فكيف بما يرسله؟!». وأما الموصول: فرواه الدارقطني (334 - 13565) من طريق إبراهيم بن محمد الأسلمي، عن ربيعة، عن ابن البيلماني، عن ابن عمر، به. وقال الدارقطني: «لم يسنده غير إبراهيم بن أبي يحيى، وهو متروك الحديث». قلت: بل كذبه بعضهم، وابن البيلماني ضعيف. وثم علة أخرى، وهي نكارة هذا المتن إذ يعارض الحديث الصحيح المتقدم برقم (1163) وهو قوله صلى الله عليه وسلم: لا يقتل مسلم بكافر




১১৭৩। আব্দুর রহমান ইবনু বাইলামানী (রাঃ) হতে বর্ণিত; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন মুসলিমকে হত্যা করেছিলেন- যিম্মী কাফিরকে হত্যা করার অপরাধে। এবং বলেছিলেন, আমি (অঙ্গিকার) পালনকারীদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি। দারাকুত্বনী ইবনু উমারের উল্লেখপূর্বক একে মাওসুল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মাওসূল সানাদটি দুর্বল।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইমাম সনআনী তাঁর সুবুলুস সালাম ৩/৩৭৮ গ্রন্থে বলেন, এ হাদীসে ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন আবূ লায়লা নামক একজন দুর্বল রাবী রয়েছে। ইবনু উসাইমীন তার শরহে বুলুগুল মারাম ৫/২৫৫ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদ ও মতন উভয়ই দুর্বল। ইমাম ত্বহাবী তাঁর শরহে মাআনী আল আসার ৩/১৯৫ গ্রন্থে হাদীসটিকে মুনকাতি বলেছেন। ইবনু হাজার আসকালানী তাঁর ফাতহুল বারী ১২/২৭৩ গ্রন্থে বলেন, এতে আম্মার বিন মিত্বর এর সানাদে গোপন রয়েছেন।









বুলূগুল মারাম (1174)


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قُتِلَ غُلَامٌ غِيلَةً, فَقَالَ عُمَرُ: «لَوِ اشْتَرَكَ فِيهِ أَهْلُ صَنْعَاءَ لَقَتَلْتُهُمْ بِهِ». أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (6896) وليس عنده لفظ: به




১১৭৪। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত; একটি বালককে গোপনে হত্যা করা হয়। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, যদি গোটা সানআবাসী এতে অংশ নিত তাহলে আমি তাদেরকে হত্যা করতাম।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৬৮৯৬, তিরমিযী ১৩৯২, নাসায়ী ৪৮৪৭, ৪৮৪৮, আবূ দাউদ ৪৫৫৮, ইবনু মাজাহ ২৬৫২, আহমাদ ২০০০, ২৬১৬, মালেক ১৬১৫।









বুলূগুল মারাম (1175)


وَعَنْ أَبِي شُرَيْحٍ الْخُزَاعِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «فَمَنْ قُتِلَ لَهُ قَتِيلٌ بَعْدَ مَقَالَتِي هَذِهِ, فَأَهْلُهُ بَيْنَ خِيَرَتَيْنِ: إِمَّا أَنْ يَأْخُذُوا الْعَقْلِ أَوْ يَقْتُلُوا». أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (4504)، والترمذي (1406) بسند صحيح. وقال الترمذي: «حديث حسن صحيح». «تنبيه» قوله: رواه النسائي، وهم من الحافظ رحمه الله، وإنما رواه من أصحاب السنن الترمذي كما ترى، ويؤكد ذلك عدم عزو المزي (925) الحديث للنسائي




১১৭৫। আবূ শুরাইহ খুযাঈ (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার এ ঘোষণার পর কোন খুনের বদলে আর্থিক ক্ষতিপূরণ (দিয়াত) গ্ৰহণ করবে, নয় সে প্রাণদন্ডের (কিসাসের) দাবী করবে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৪৫০৪, তিরমিযী ১৪০৪, আহমাদ ১৫৯৩৮, ১৫৯৪২।









বুলূগুল মারাম (1176)


وَأَصْلُهُ فِي «الصَّحِيحَيْنِ» مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ بِمَعْنَاهُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
رواه البخاري (6880)، ومسلم (1355) عن أبي هريرة من حديث طويل، وفيه: «ومن قتل له قتيل، فهو بخير النظرين؛ إما أن يُودَى، وإما أن يقاد» لفظ البخاري. ولفظ مسلم: إما أن يفدى، وإما أن يقتل




১১৭৬। এর মূল বক্তব্যটি অনুরূপ অর্থে হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বুখারী ও মুসলিমে বিদ্যমান আছে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ১১২, ২৪৩৪, ৬৪০১, মুসলিম ১৩৫৫, আর দাউদ ২০১৭, ৩৬৪৯, ইবনু মাজাহ ২৬২৪, আহমাদ ৭২০১, দারেমী ২৬০০। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে লম্বা হাদীসে রয়েছে, ومن قتل له قتيل، فهو بخير النظرين؛ إما أن يُودَى، وإما أن يقاد আর যার কাউকে হত্যা করা হয় সে দু’ প্রকার দণ্ডের যে কোন একটি দেয়ার অধিকার লাভ করবে। হয়ত রক্তপণ নেয়া হবে, নতুবা কিসাস নেয়া হবে।









বুলূগুল মারাম (1177)


عَنْ أَبِي بَكْرٍ بْنِ مُحَمَّدٍ بْنِ عَمْرِوِ بْنِ حَزْمٍ, عَنْ أَبِيهِ, عَنْ جَدِّهِ - رضي الله عنه - أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - كَتَبَ إِلَى أَهْلِ الْيَمَنِ ... فَذَكَرَ الْحَدِيثَ, وَفِيهِ: «أَنَّ مَنِ اعْتَبَطَ مُؤْمِنًا قَتْلًا عَنْ بَيِّنَةٍ, فَإِنَّهُ قَوَدٌ, إِلَّا أَنْ يَرْضَى أَوْلِيَاءُ الْمَقْتُولِ, وَإِنَّ فِي النَّفْسِ الدِّيَةَ مِائَةً مِنْ الْإِبِلِ, وَفِي الْأَنْفِ إِذَا أُوعِبَ جَدْعُهُ الدِّيَةُ, وَفِي اللِّسَانِ الدِّيَةُ, وَفِي الشَّفَتَيْنِ الدِّيَةُ, وَفِي الذَّكَرِ الدِّيَةُ, وَفِي الْبَيْضَتَيْنِ الدِّيَةُ, وَفِي الصُّلْبِ الدِّيَةُ, وَفِي الْعَيْنَيْنِ الدِّيَةُ, وَفِي الرِّجْلِ الْوَاحِدَةِ نِصْفُ الدِّيَةِ, وَفِي الْمَأْمُومَةِ ثُلُثُ الدِّيَةِ, وَفِي الْجَائِفَةِ ثُلُثُ الدِّيَةِ, وَفِي الْمُنَقِّلَةِ خَمْسَ عَشْرَةَ مِنَ الْإِبِلِ, وَفِي كُلِّ إِصْبَعٍ مِنْ أَصَابِعِ الْيَدِ وَالرِّجْلِ عَشْرٌ مِنَ الْإِبِلِ, وَفِي السِّنِّ خَمْسٌ مِنَ الْإِبِلِ وَفِي الْمُوضِحَةِ خَمْسٌ مِنَ الْإِبِلِ, وَإِنَّ الرَّجُلَ يُقْتَلُ بِالْمَرْأَةِ, وَعَلَى أَهْلِ الذَّهَبِ أَلْفُ دِينَارٍ». أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ فِي «الْمَرَاسِيلِ» وَالنَّسَائِيُّ, وَابْنُ خُزَيْمَةَ, وَابْنُ الْجَارُودِ, وَابْنُ حِبَّانَ, وَأَحْمَدُ, وَاخْتَلَفُوا فِي صِحَّتِهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف؛ لإرساله، ولأنه من رواية سليمان بن أرقم، وهو متروك، وفي الحديث كلام كثير، وقد فصلت القول فيه في الأصل




১১৭৭। আবূ বকর তার পিতা মুহাম্মাদ হতে তিনি তার দাদা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামান প্রদেশের অধিবাসীবৃন্দকে লিখেছিলেন ঐ হাদীসে (ঐ পত্রে) এটাও লিখেছিলেন-এটা নিশ্চিত যে, কেউ যদি কোন মুমিন মুসলিমকে বিনা অপরাধে হত্যা করে এবং ঐ হত্যা প্রমাণিত হয় তবে তাতে প্রাণদন্ড হবে; কিন্তু নিহত ব্যক্তির ওয়ারিসগণ যদি অন্য কোনভাবে (ক্ষমা করতে বা ক্ষতিপূরণ নিতে) রাজি হয় তবে তার প্রাণদন্ড হবে না। প্রাণের ক্ষতিপূরণ হিসেবে একশত উট দেয়া হবে। নাক যদি সম্পপূর্ণরূপে কেটে ফেলা হয় তবে তাতে একশত উট দেয়া হবে; জিহ্বা কেটে ফেলা হলে পূর্ণ দিয়াত (১০০ উট) দেয়া হবে; উভয় ঠোঁট কেটে ফেলা হলে পুর্ণ দিয়াত দিতে হবে; পুরুষাঙ্গ কাটা হলে পূর্ণ খেসারত (১০০ উট) দেয়া হবে; উভয় অন্ডকোষ নষ্ট করা হলে পূর্ণ দিয়াত লাগবে; এবং মেরুদন্ড ভেঙ্গে ফেললে পূর্ণ দিয়াত লাগবে। (একটা অন্ডকোষের জন্য ৫০টি উট দেয়া।) উভয় চক্ষু নষ্ট করা হলে একশত উট দেয়া হবে।



তারপর এক পায়ের জন্য অর্ধেক এবং অর্ধেক মাথার আঘাত প্রাপ্ত হলে এক তৃতীয়াংশ দিয়াত দিতে হবে; পেটে কিছু বিদ্ধ করা হলে (যদি তা পেটের ভিতরে গিয়ে পৌছে।) তবে এক তৃতীয়াংশ দিয়াত দিতে হবে; আঘাতের জন্য হাড় ভেঙ্গে গেলে বা স্থানান্তরিত হয়ে গেলে ১৫টি উট, হাত পায়ের আঙ্গুলগুলোর যে কোন ১টির জন্য ১০টি উট, একটি দাঁতের জন্য ৫টি উট, যে আঘাতের ফলে মাথা ও মুখ ছাড়া হাড় ঠেলে উঠে বা অন্য কোন কারণে দৃশ্যমান হয়ে উঠে তাতে ৫টি উট দেয়া হবে।



তারপর এটাও নিশ্চিত যে, (কোন পুরুষ কোন রমণীকে হত্যা করে তবে) নিহত স্ত্রীলোকের কারণে হত্যাকারী অপরাধী পুরুষকে হত্যা করা হবে। হত্যাকারীর যদি স্বর্ণমুদ্রা থাকে। তবে সে এক হাজার দিনার (স্বর্ণমাদ্রা) নিহতের ওয়ারিসকে প্রদান করবে।



হাদীসটি আবূ দাউদতার মুরসাল সানাদের হাদীগুলোর মধ্যে রিওয়ায়াত করেছেন। নাসাঈ, ইবনু খুযাইমাহ, ইবনুল হিব্বান, আহমদ এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এর সহীহ হওয়া প্রসঙ্গে মুহাদ্দিসগণের মতভেদ রয়েছে। (মুরসাল সানাদ প্রসঙ্গে এরূপ অভিমত, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে হাদীসটি ফুকাহাগণের নিকটে স্বীকৃতি লাভ করেছে ও এ হাদীসের উপর আমল হয়ে আসছে।)[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইমাম শওক্কানী তাঁর আস সাইলুল জাররার ৪/৪৪৩ গ্রন্থে বলেন, ইমামগণ তাকে গ্ৰহণ করেছেন। শাইখ আলবানী যঈফ নাসায়ী ৪৮৬৮ গ্রন্থে একে যঈফ উল্লেখ করে বলেন, এর অধিকাংশের শাহিদ রয়েছে। আর তিনি তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ ৩৪২১ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে: সানাদটি মুরসালের দোষে দুষ্ট। ইবনু উসাইমীন তাঁর শরহে বুলুগুল মারাম ৫/২৬১ গ্রন্থে বলেন, হাদীসটি মুরসাল।









বুলূগুল মারাম (1178)


وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ - رضي الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «دِيَةُ الْخَطَأَ أَخْمَاسًا: عِشْرُونَ حِقَّةً, وَعِشْرُونَ جَذَعَةً, وَعِشْرُونَ بَنَاتِ مَخَاضٍ, وَعِشْرُونَ بَنَاتِ لَبُونٍ, وَعِشْرُونَ بَنِي لَبُونٍ». أَخْرَجَهُ الدَّارَقُطْنِيُّ
وَأَخْرَجَهُ الْأَرْبَعَةُ, بِلَفْظٍ: «وَعِشْرُونَ بِنِي مَخَاضٍ» -, بَدَلَ: بُنِيَ لَبُونٍ. وَإِسْنَادُ الْأَوَّلِ أَقْوَى
وَأَخْرَجَهُ ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ مِنْ وَجْهٍ آخَرَ مَوْقُوفًا, وَهُوَ أَصَحُّ مِنَ الْمَرْفُوعِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
الموقوف رواه ابن أبي شيبة في «المصنف» (934) وأما المرفوع فهو ضعيف




১১৭৮। ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অনিচ্ছাকৃত হত্যার ক্ষতিপূরণ (দিয়াত) পাঁচ প্রকার উটে সমান ভাগে বিভক্ত করে আদায় করতে হবে। (যথা) চতুর্থ বছর বয়সে পদার্পণকারিণী উটনি ২০টি, ৫ম বছর বয়সে পদার্পণকারিণী উটনি ২০টি ২য় বছরে পদার্পণকারিণী উট ২০টি।



সুনানে আরবাআর (৪ জনের) সংকলনের শব্দে বানী লাবুন (৩য় বছরে উপনীত নর উট) এর বদলে বানী মাখায (২য় বছরে উপনীত নর উটের) কথা রয়েছে। তবে আগে বর্ণিত দারাকুতনীর সানাদটি অধিক মজবুত। অন্যসূত্রে ইবনু আবী শাইবাহ মাওকুফ সানাদে বর্ণনা করেছেন, এ সানাদটি মারফূ সানাদের থেকে অধিক সহীহ।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইবনু আবী শাইবাহ (৯৩৪)।









বুলূগুল মারাম (1179)


وَأَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالتِّرْمِذِيُّ: مِنْ طَرِيقِ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ, عَنْ أَبِيهِ, عَنْ جَدِّهِ رَفَعَهُ: «الدِّيَةُ ثَلَاثُونَ حِقَّةً, وَثَلَاثُونَ جَذَعَةً, وَأَرْبَعُونَ خَلِفَةً، فِي بُطُونِهَا أَوْلَادُهَا

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه أبو داود (4541)، والترمذي (1387) وليس عندهما الجملة الأخيرة




১১৭৯। আমর ইবনু শুআইব-এর স্বীয় সূত্রে যে হাদীসটি আবূ দাউদ ও তিরমিযী মারফূরূপে বর্ণনা করেছেন, তাতে আছে দিয়াত ৪ৰ্থ বছর বয়সে উপনীত উটনী ৩০টি, ৫ম বছরে পদার্পণকারিণী ৩০টি, এবং ৪০টি গর্ভধারিণী উটনী যাদের পেটে বাচ্চা রয়েছে (দিতে হবে)। (২০টি করে ৫ ভাগ আর ৩০ ও ৪০টির তিন ভাগ-গড়ে একই মূল্য দাঁড়াবে।)[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৪৫৪১, তিরমিযী ১৩৮৭।









বুলূগুল মারাম (1180)


وَعَنِ ابْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا, عَنْ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «إِنَّ أَعْتَى النَّاسِ عَلَى اللَّهِ ثَلَاثَةٌ: مَنْ قَتَلَ فِي حَرَمَ اللَّهِ, أَوْ قَتَلَ غَيْرَ قَاتِلِهِ, أَوْ قَتَلَ لِذَحْلِ الْجَاهِلِيَّةِ». أَخْرَجَهُ ابْنُ حِبَّانَ فِي حَدِيثٍ صَحَّحَهُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن رواه أحمد (279) مطولا من طريق عمرو بن شعيب، عن أبيه، عن جده. ورواه أحمد (287) من نفس الطريق لكن مقتصرا على الجملة المذكورة هنا فقط. قلت وهذا سند حسن كما هو معروف. إلا أن الحديث له شاهد آخر يصح به «والذحل» ثأر الجاهلية وعدوانها




১১৮০। ইবনু ‘আমর[1] (রাঃ) হতে বর্ণিত; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহর দরবারে তিন প্রকারের লোক সর্বাপেক্ষা অবাধ্য। (ক) যে হত্যাকাণ্ড ঘটায় হারাম শরীফের (বাইতুল্লাহর) মধ্যে, (খ) এমন লোককে হত্যা করে যে তার হত্যাকারী নয়, (অৰ্থাৎ যে তাকে হত্যা করার জন্য উদ্যত ছিল না।)। (গ) যে জাহিলী যুগের সঞ্চিত আক্রোশ ও বিদ্বেষ বশতঃ মানুষকে হত্যা করে।




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আহমাদ ২৭৯। ইবনু আমরকে বিকৃতি ঘটিয়ে ইবনু উমার করা হয়েছে। যেহেতু হাদীসটি আবদুল্লাহ বিন আমরের। হাফিয ইবনু হাজার নিজেও তাঁর তালখীস গ্রন্থে এর বর্ণনাকারী হিসেবে ইবনু আমরই উল্লেখ করেছেন, ইবনু উমার নয়। অনুবাদকদের অধিকাংশই এর অনুবাদে ইবনু আমরের পরিবর্তে ইবনু উমারই উল্লেখ করেছেন।