হাদীস বিএন


বুলূগুল মারাম





বুলূগুল মারাম (1181)


وَأَصْلُهُ فِي الْبُخَارِيِّ: مِنْ حَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (6882) عن ابن عباس؛ أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: أبغض الناس إلى الله ثلاثة: ملحد في الحرم، ومبتغ في الإسلام سنة الجاهلية، ومطلب دم امرئ بغير حق ليهريق دمه




১১৮১। এ হাদীসের মূল বুখারীতে রয়েছে যা ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মূল হাদীসটি হচ্ছে: عن ابن عباس؛ أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: أبغض الناس إلى الله ثلاثة: ملحد في الحرم، ومبتغ في الإسلام سنة الجاهلية، ومطلب دم امرئ بغير حق ليهريق دمه ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর কাছে সবচেয়ে লোক হচ্ছে তিনজন। যে লোক হারাম শরীফে অন্যায় ও অপকর্মে লিপ্ত হয়। যে লোক ইসলামী যুগে যুগের রেওয়াজ অন্বেষণ করে। যে লোক ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া কারো রক্তপাত দাবি করে। (বুখারী ৬৮৮২)









বুলূগুল মারাম (1182)


وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا; أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «أَلَا إِنَّ دِيَةَ الْخَطَأِ شِبْهِ الْعَمْدِ - مَا كَانَ بِالسَّوْطِ وَالْعَصَا - مَائَةٌ مِنَ الْإِبِلِ, مِنْهَا أَرْبَعُونَ فِي بُطُونِهَا أَوْلَادُهَا». أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ, وَابْنُ مَاجَهْ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح رواه أبو داود (4547) والنسائي (8/ 41)، وابن ماجه (2627) وابن حبان (1526) بسند صحيح، عن عبد الله بن عمر؛ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم خطب يوم الفتح بمكة، فكبر ثلاثا، ثم قال: «لا إله إلا الله وحده، صدق وعده، ونصر عبده، وهزم الأحزاب وحده، ألا إن كل مأثرة كانت في الجاهلية تذكر وتدعى من دم أو مال تحت قدمي، إلا ما كان من سقاية الحاج وسدانة البيت ألا إن دية الخطأ ... » الحديث والسياق لأبي داود




১১৮২। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল আস (রাঃ) হতে বর্ণিত; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: মনে রাখবে, ভুলবশত নরহত্যা আর ইচ্ছাকৃত হত্যার মত হত্যা যেমন ছড়ি বা লাঠির আঘাতে হঠাৎ হত্যাকান্ড ঘটে যায়-এরূপ নরহত্যার অপরাধের জন্য এমন উটের দিয়াত (খুনের বদলা) হবে, একেশত উট-যার মধ্যে চল্লিশটি গর্ভবতী উটনী থাকবে। ইবনু হিব্বান এ হাদীসকে সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৪৫৪৭, ৪৫৮৮, নাসায়ী ৪৭৯১, ৪৭৯৩, ইবনু মাজাহ ২৬২৭, দারেমী ২৩৮৩।

عن عبد الله بن عمر؛ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم خطب يوم الفتح بمكة، فكبر ثلاثا، ثم قال: لا إله إلا الله وحده، صدق وعده، ونصر عبده، وهزم الأحزاب وحده، ألا إن كل مأثرة كانت في الجاهلية تذكر وتدعى من دم أو مال تحت قدمي، إلا ما كان من سقاية الحاج وسدانة البيت ألا إن دية الخطأ

আবদুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কাহ বিজয়ের দিন মাক্কায় খুতবা দিলেন, তিনি তিনবার তাকবীর দিয়ে বললেন, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই। তিনি তাঁর অঙ্গীকার পূর্ণ করলেন, তাঁর বান্দাহকে সাহায্য করলেন এবং নিজেই শত্রুদের ধ্বংস করলেন।









বুলূগুল মারাম (1183)


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا, عَنْ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «هَذِهِ وَهَذِهِ سَوَاءٌ». يَعْنِي: الْخُنْصَرَ وَالْإِبْهَامَ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
وَلِأَبِي دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيَّ: «دِيَةُ الْأَصَابِعِ سَوَاءٌ, وَالْأَسْنَانُ سَوَاءٌ: الثَّنِيَّةُ وَالضِّرْسُ سَوَاءٌ
وَلِابْنِ حِبَّانَ: دِيَةُ أَصَابِعِ الْيَدَيْنِ وَالرِّجْلَيْنِ سَوَاءٌ, عَشَرَةٌ مِنَ الْإِبِلِ لِكُلِّ إصْبَعٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح رواه البخاري (6895)

رواه أبو داود (4559) ولم أجده في الترمذي بهذا اللفظ

صحيح رواه ابن حبان (5980) قلت: وصنيع المصنف هنا -رحمه الله- يشعر أن الحديث لم يروه من هو أعلى من ابن حبان، وليس الأمر كذلك، فقد رواه الترمذي (1391)، بنفس سند ابن حبان ومتنه، وقال: حديث حسن صحيح غريب




১১৮৩। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বৰ্ণিত; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এটা ও এটা অর্থাৎ কনিষ্ঠাংগুলি ও বৃদ্ধাংগুলিদ্বয় সমমূল্যের আংগুল।[1]



আবূ দাউদও তিরমিযীতে আছে, আংগুলসমূহের দিয়াত (নষ্টের ক্ষতিপূরণ) সমান সমান। সব দাঁতের দিয়াত একই সমান, সামনের ও চোয়ালের দাঁত সমান মূল্যের।[2]



ইবনু হিব্বানে আছে, দু হাত ও দু পায়ের আংগুলসমূহের দিয়াত সমান। প্রত্যেক আংগুলের জন্য দশটি করে উট দিয়াত স্বরূপ দিতে হবে।[3]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৬৮৯৫, তিরমিযী ১৩৯২, নাসায়ী ৪৮৪৭, ৪৮৪৮, আবূ দাউদ ৪৫৫৮, ইবনু মাজাহ ২৬৫২, আহমাদ ২০০০, ২৬১৬, ৩১৪০, ৩২১০, মালিক ১৬১৫।

[2] আবূ দাউদ ৪৫৫৯।

[3] ইবনু হিব্বান ৫৯৮০।









বুলূগুল মারাম (1184)


وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ, عَنْ أَبِيهِ, عَنْ جَدِّهِ رَفَعَهُ قَالَ: «مَنْ تَطَبَّبَ - وَلَمْ يَكُنْ بِالطِّبِّ مَعْرُوفًا - فَأَصَابَ نَفْسًا فَمَا دُونَهَا, فَهُوَ ضَامِنٌ». أَخْرَجَهُ الدَّارَقُطْنِيُّ, وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ, وَهُوَ عِنْدَ أَبِي دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيِّ وَغَيْرِهِمَا; إِلَّا أَنَّ مَنْ أَرْسَلَهُ أَقْوَى مِمَّنْ وَصَلَهُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
رواه أبو داود (4586)، والنسائي (8/ 52 - 53)، وابن ماجه (3466)، والدارقطني (396)، والحاكم (412)، وهو ضعيف للعلة التي ذكرها الحافظ، ولغيرها أيضا، وكذلك ضعفه الدارقطني، والبهيقي




১১৮৪। “আমর ইবনু শুআইব (রাঃ) তার স্বীয় সানাদে মারফূ রূপে বর্ণনা করেছেন, যে ব্যক্তি চিকিৎসায় খ্যাতিসম্পন্ন না হয়ে চিকিৎসা করতে গিয়ে কোন প্রাণহানি করবে বা তার থেকে কম ক্ষতি করবে তাকে ঐ ক্ষতির জন্য দায়ী হতে হবে। (ক্ষতিপূরণ করতে হবে)।



হাদীসটি আবূ দাউদ, নাসায়ী ইত্যাদিতেও আছে, কিন্তু মাওসূল বা যুক্ত সানাদ হতে ঐগুলোর মুরসাল সানাদই অধিক শক্তিশালী।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৪৫৮৬, নাসায়ী ৪৮৩০, ইবনু মাজাহ ৩৪৬৬। ইমাম দারাকুতনী তাঁর সুনানে ৩/১১৭ গ্রন্থে বলেন, ইবনু জুরাইজ থেকে ওয়ালিদ বিন মুসলিম ব্যতীত অন্য কেউ সানাদ সহ বৰ্ণনা করেনি। ওয়ালিদ বিন মুসলিম ইবনু জুরাইজ থেকে, তিনি আমর ইবনু শুআইব থেকে, তিনি মুরসালরূপে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। শাইখ আলবানী তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ ৩৪৩৪, সহীহ নাসায়ী ৪৮৪৫, সহীহুল জামে ৬১৫৩ গ্ৰন্থত্রয়ে একে হাসান বলেছেন। তিনি সহীহ ইবনু মাজাহ ২৮০৮ গ্রন্থে একে সহীহ লিগাইরিহী বলেছেন, আর সিলসিলা সহীহাহ ৬৩৫ গ্রন্থে হাসান লিগাইরিহী বলেছেন। তবে তিনি তাঁর আত তালীকাতুর রাযিয়্যাহ ২/৪৫৫ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে ইবনু জুরাইজ রয়েছে যিনি মুদাল্লিস, তিনি আন আন শব্দে বর্ণনা করেছেন।









বুলূগুল মারাম (1185)


وَعَنْهُ; أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «فِي الْمَوَاضِحِ خَمْسٌ, خَمْسٌ مِنْ الْإِبِلِ». رَوَاهُ أَحْمَدُ. وَالْأَرْبَعَةُ. وَزَادَ أَحْمَدُ: «وَالْأَصَابِعُ سَوَاءٌ, كُلُّهُنَّ عَشْرٌ, عَشْرٌ مِنَ الْإِبِلِ». وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ, وَابْنُ الْجَارُودِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن رواه أبو داود (4566)، والنسائي (8/ 57)، والترمذي (1390)، وابن ماجه (2655)، وابن الجارود (785) واللفظ لابن ماجه، وقال الترمذي: «حديث حسن» ورواية أحمد وزيادته في «المسند» (215)




১১৮৫। ‘আমর ইবনু শুআইব (রহঃ) এর স্বীয় সূত্রে বর্ণিত; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: যে সকল আঘাতের ফলে হাড় দৃশ্যমান হয়ে উঠে তার দিয়াত (খেসারত) পাঁচটি উট দিতে হবে।



সবগুলো আঙ্গুলের (দিয়াত) সমান। প্রতিটি আঙ্গুলের দিয়াত দশটি করে উট।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৪৫৬৬, তিরমিযী ১৩৯০, নাসায়ী ৪৮৫২, ইবনু মাজাহ ২৬৫৫, আহমাদ ৬৬৪৩, ৬৭৩৩, ৬৯৭৩, দারেমী ২৩৭২।









বুলূগুল মারাম (1186)


وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «عَقْلُ أَهْلِ الذِّمَّةِ نِصْفُ عَقْلِ الْمُسْلِمِينَ». رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالْأَرْبَعَةُ

وَلَفْظُ أَبِي دَاوُدَ: دِيَةُ الْمُعَاهِدِ نِصْفُ دِيَةِ الْحُرِّ

وَلِلنِّسَائِيِّ: «عَقْلُ الْمَرْأَةِ مِثْلُ عَقْلِ الرَّجُلِ, حَتَّى يَبْلُغَ الثُّلُثَ مِنْ دِيَتِهَا». وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن وهذا لفظ النسائي (8/ 45) وزاد: «وهم اليهود والنصارى». وفي رواية للترمذي (1413)، والنسائي (8/ 45): «عقل الكافر نصف عقل المؤمن». وقال الترمذي: «حديث حسن». وفي رواية لأحمد (280): «دية الكافر نصف دية المسلم»، وفي أخرى لابن ماجه (2644) وأحمد (283): أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قضى أن عقل أهل الكتابين نصف عقل المسلمين. وهم اليهود والنصارى. وفي أخرى لأحمد «أهل الكتاب» والباقي مثله سواء

حسن وهذا اللفظ لأبي داود (4583)

ضعيف، وهذا لفظ النسائي (8/ 44 - 45)، وفي الطريق إلى عمرو بن شعيب. ابن جريح وهو مدلس ولم يصرح بالتحديث، ورواه عنه إسماعيل بن عياش وهي رواية ضعيفة. «فائدة»: قال الحافظ في «التلخيص» (45): قال الشافعي: وكان مالك يذكر أنه السنة، وكنت أتابعه عليه، وفي نفسي منه شيء، ثم علمت أنه يريد سنة أهل المدينة، فرجعت عنه




১১৮৬। ‘আমর ইবনু শুআইব (রহঃ) এর স্বীয় সূত্রে বর্ণিত; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যিম্মী কাফিরের দিয়াত মুসলিমের দিয়াতের অর্ধেক।[1]



আবূ দাউদের শব্দগুলোতে আছে, আশ্রয়ের অঙ্গীকারপ্রাপ্ত অমুসলিমদের হত্যার দিয়াত একজন স্বাধীন মুসলিমের দিয়াতের অর্ধেক।[2]



নাসায়ীতে আছে, স্ত্রীলোকের অঙ্গহানির জন্য দিয়াত, পূর্ণ দিয়াতের (১০০ উটের) এক তৃতীয়াংশের সমপরিমাণ হওয়া অবধি পুরুষের দিয়াতের সমপরিমাণ দিয়াত দিতে হবে।[3]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] নাসায়ী ৪৮০৬, তিরমিযী ১৪১৩।

[2] আবূ দাউদ ৪৫৮৩।

[3] দারাকুতনী ৩য় খণ্ড ৯৫ পৃষ্ঠা। নাসায়ীতে (৪৮০৭) আছে عقل الكافر نصف عقل المؤمن অমুসলিমের পণ হচ্ছে মুমিনের পণের অর্ধেক।









বুলূগুল মারাম (1187)


وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «عَقْلُ شِبْهِ الْعَمْدِ مُغَلَّظٌ مِثْلُ عَقْلِ الْعَمْدِ, وَلَا يَقْتَلُ صَاحِبُهُ, وَذَلِكَ أَنْ يَنْزُوَ الشَّيْطَانُ, فَتَكُونُ دِمَاءٌ بَيْنَ النَّاسِ فِي غَيْرِ ضَغِينَةٍ, وَلَا حَمْلِ سِلَاحٍ». أَخْرَجَهُ الدَّارَقُطْنِيُّ وَضَعَّفَهُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه الدارقطني (3/ 95)، وهو أيضا عند أبي داود (4565)، ولم أجد تضعيف الدارقطني في «السنن» وعلى أية حال الحديث سنده حسن، ولا توجد حجة لتضعيفه




১১৮৭। ‘আমর ইবনু শুআইব (রহঃ) এর সূত্রে বর্ণিত; যে হত্যা ইচ্ছাকৃত হত্যার অনুরূপ, তাতে হত্যাকারীকে হত্যা করা হবে না, তবে দিয়াতের ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত হত্যার মতই তা কঠিন হবে। দিয়াতের ব্যবস্থা গ্রহণ এজন্যে যে, কোন প্রকার আক্রোশ ও অস্ত্র ধারণ ছাড়াই কেবল শাইতানের প্ররোচনামূলে যাতে মানুষের মধ্যে রক্তপাত না ঘটে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৪৫৬৫, দারাকুতনী ৩য় খণ্ড ৯৫ পৃষ্ঠা।









বুলূগুল মারাম (1188)


عَنْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَتَلَ رَجُلٌ رَجُلًا عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم
فَجَعَلَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - دِيَتَهُ اِثْنَيْ عَشَرَ أَلْفًا. رَوَاهُ الْأَرْبَعَةُ, وَرَجَّحَ النَّسَائِيُّ وَأَبُو حَاتِمٍ إِرْسَالَهُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أبو داود (4546)، والنسائي (8/ 44)، والترمذي (1388)، وابن ماجه (2629) من طريق محمد بن مسلم، عن عمرو بن دينار، عن عكرمة، عن ابن عباس. قلت: وإعلان الحديث بالإرسال هو الصواب، وبذلك أيضا أعله أبو داود والترمذي، وابن حزم، وعبد الحق




১১৮৮। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে একটি লোক অন্য একজনকে হত্যা করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ খুনের দিয়াত ১২ হাজার রৌপ্যমুদ্রা ধার্য করেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৪৫৪৬, তিরমিযী ১৩৮৮, নাসায়ী ৪৮০৩, ৪৮০৪, ইবনু মাজাহ ২৬২৯, ২৬৩২, দারেমী ২৩৬৩। শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওয়াহহাব তাঁর আল হাদীস গ্রন্থের ৪/২০৫ গ্রন্থে একে মুরসাল বলেছেন, শাইখ আলবানী যঈফ নাসায়ী ৪৮১৭, যঈফ আবূ দাউদ ৪৫৪৬, আত তালীকাতুর রাযীয়্যাহ ৩/৩৭২ গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন। ইমাম নাসায়ী তাঁর সুনান আল কুবরা গ্রন্থে বলেন, এর মধ্যে ইবনু মাইমুন নামক এক বর্ণনাকারী আছে সে শক্তিশালী নয়। ইবনু হাজার আসকালানী তাঁর মাওয়াফিকাতু আলখবরুল খবর ১/১৮৬ গ্রন্থে একে গরীব ও ইবনু কাসীর তাঁর জামে আল মাসানীদ ওয়াস সুনান ৮/৩৫৮ গ্রন্থে হাদীসটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনার কথা উল্লেখ করেছেন। তবে শুধুমাত্ৰ ইমাম শাওকানী ভিন্নমত পোষণ করে তাঁর নাইলুল আওত্বার ৭/২৪০ গ্রন্থে বলেন, অনেকগুলো সানাদ থাকার কারণে হাদীসটি সহীহ।









বুলূগুল মারাম (1189)


وَعَنْ أَبِي رِمْثَةَ قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - وَمَعِي ابْنِي فَقَالَ: «مَنْ هَذَا» قُلْتُ: ابْنِي. أَشْهَدُ بِهِ. قَالَ: «أَمَّا إِنَّهُ لَا يَجْنِي عَلَيْكَ, وَلَا تَجْنِي عَلَيْهِ». رَوَاهُ النَّسَائِيُّ, وَأَبُو دَاوُدَ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ, وَابْنُ الْجَارُودِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (4495)، والنسائي (8/ 53)، وابن الجارود (770) وزاد أبو داود: «وقرأ رسول الله صلى الله عليه وسلم: (وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى)




১১৮৯। আবূ রিমসাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে হাজির হলাম, আর আমার সঙ্গে ছিল আমার পুত্র। তিনি মন্ত্র বললেন “এ কে ?” আমি বললাম, “আমার পুত্ৰ” আপনি এ ব্যাপারে সাক্ষী থাকুন।” অতঃপর রাসূলুল্লাহ কিছু বলেন, সাবধান হও, অবশ্য তার অপরাধের জন্য তোমাকে ও তোমার অপরাধের জন্য তাকে দায়ী করা হবে না।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] নাসায়ী ৪৮৩২, তিরমিযী ২৮১২, আর দাউদ ৪২০৮, ৪৪৯৫, আহমাদ ৭০৬৪, ৭০৭১, ৭০৭৭, দারেমী ২৩৮৮। আবূ দাউদের বর্ণনায় আরো রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করলেন, (وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى) কোন বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না।









বুলূগুল মারাম (1190)


عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ, عَنْ رِجَالٍ مِنْ كُبَرَاءِ قَوْمِهِ, أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَهْلٍ ومُحَيِّصَةَ بْنَ مَسْعُودٍ خَرَجَا إِلَى خَيْبَرَ مِنْ جَهْدٍ أَصَابَهُمْ, فَأُتِيَ مَحَيِّصَةُ فَأُخْبِرَ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنِ سَهْلِ قَدْ قُتِلَ, وَطُرِحَ فِي عَيْنٍ, فَأَتَى يَهُودَ, فَقَالَ: أَنْتُمْ وَاللَّهِ قَتَلْتُمُوهُ. قَالُوا: وَاللَّهِ مَا قَتَلْنَاهُ, فَأَقْبَلَ هُوَ وَأَخُوهُ حُوَيِّصَةُ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَهْلٍ, فَذَهَبَ مُحَيِّصَةُ لَيَتَكَلَّمَ, فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «كَبِّرْ كَبِّرْ» يُرِيدُ: السِّنَّ, فَتَكَلَّمَ حُوَيِّصَةُ, ثُمَّ تَكَلَّمَ مُحَيِّصَةُ, فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِمَّا أَنْ يَدُوا صَاحِبَكُمْ, وَإِمَّا أَنْ يَأْذَنُوا بِحَرْبٍ». فَكَتَبَ إِلَيْهِمْ فِي ذَلِكَ [كِتَابًا]. فَكَتَبُوا: إِنَّا وَاللَّهِ مَا قَتَلْنَاهُ, فَقَالَ لِحُوَيِّصَةَ, وَمُحَيِّصَةُ, وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنَ سَهْلٍ: «أَتَحْلِفُونَ, وَتَسْتَحِقُّونَ دَمَ صَاحِبَكُمْ» قَالُوا: لَا. قَالَ: «فَتَحْلِفُ لَكُمْ يَهُودُ?» قَالُوا: لَيْسُوا مُسْلِمِينَ فَوَدَاهُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - مِنْ عِنْدِهِ, فَبَعَثَ إِلَيْهِمْ مَائَةَ نَاقَةٍ. قَالَ سَهْلٌ: فَلَقَدْ رَكَضَتْنِي مِنْهَا نَاقَةٌ حَمْرَاءُ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (7192)، ومسلم (1669) (6)




১১৯০। সাহল ইবনু হাসমা হতে বৰ্ণিত। তিনি ও তাঁর কওমের কতক বড় বড় ব্যক্তি বর্ণনা করেন যে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু সাহল ও মুহাইয়াসা ক্ষুধার্ত হয়ে খায়বারে আসেন। একদা মুহাইয়াসা জানতে পারেন যে, ‘আবদুল্লাহ নিহত হয়েছে এবং তার লাশ একটা গর্তে অথবা কূপে ফেলে দেয়া হয়েছে। তখন তিনি ইয়াহুদীদের কাছে এসে বললেন, আল্লাহর শপথ! নিঃসন্দেহে তোমরাই তাকে মেরে ফেলেছি। তারা বলল, আল্লাহর কসম করে বলছি, আমরা তাকে হত্যা করিনি। তারপর তিনি তার কওমের কাছে এসে এ ঘটনা বর্ণনা করলেন। পরে তিনি, তার বড় ভাই হওয়াইয়াসা এবং ‘আবদুর রহমান ইবনু সাহল আসলেন। মুহাইয়াসা, যিনি খায়বারে ছিলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এ ঘটনা বলার জন্য এগিয়ে গেলেন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বড়কে কথা বলতে দাও, বড়কে কথা বলতে দাও। এ দ্বারা তিনি উদ্দেশ্য করলেন বয়সে বড়কে। তখন হুওয়াইয়াসা প্রথমে ঘটনা বর্ণনা করলেন। এরপর কথা বললেন, মুহাইয়াসা।



রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হয় তারা তোমাদের মৃত সাথীর রক্তপণ আদায় করবে, না হয় তাদের সঙ্গে যুদ্ধের ঘোষণা দেয়া হবে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে এ ব্যাপারে পত্র লিখলেন। জবাবে লেখা হল যে, আমরা তাকে হত্যা করিনি। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুওয়াইয়াসা, মুহাইয়াসা ও ‘আবদুর রহমানকে বললেন, তোমরা কি কসম করে বলতে পারবে? তাহলে তোমরা তোমাদের সঙ্গীর রক্তপণের অধিকারী হবে। তারা বলল, না। তিনি বললেন, তাহলে ইয়াহুদীরা কি তোমাদের সামনে কসম করবে? তাঁরা বলল, এরা তো মুসলিম না। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের পক্ষ হতে একশ উট রক্তপণ বাবদ আদায় করে দিলেন। অবশেষে উটগুলোকে ঘরে ঢুকানো হল। সাহল বলেন, ওগুলো থেকে একটা উট আমাকে লাথি মেরেছিল।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২৭০২, ৩১৭৩, ৬১৪২, ৬৮৯৮, ৭১৯২, মুসলিম ১৬৬৯, তিরমিযী ১৪২২, নাসায়ী ৪৭১৩, ৪৭১৪, ৪৭১৫, আবূ দাউদ ৪৫২০, ৪৫২১, ইবনু মাজাহ ২৬৭৭।









বুলূগুল মারাম (1191)


وَعَنْ رَجُلٍ مِنْ الْأَنْصَارِ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - أَقَرَّ الْقَسَامَةَ عَلَى مَا كَانَتْ عَلَيْهِ فِي الْجَاهِلِيَّةِ, وَقَضَى بِهَا رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - بَيْنَ نَاسٍ مِنَ الْأَنْصَارِ فِي قَتِيلٍ ادَّعَوْهُ عَلَى الْيَهُودِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (1670)، وهما عنده روايتان جمعهما الحافظ هنا




১১৯১। কোন এক আনসারী (সাহাবী) (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাসামা নামক প্রাক-ইসলামিক বিচারপদ্ধতিকে সাব্যস্ত করেছিলেন এবং আনসারী সাহাবীর একটা খুনের দায়ে অভিযুক্ত ইয়াহুদী আসামীদের মধ্যে সে মত বিচার করেছিলেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ১৬৭০, নাসায়ী ৪৭০৭, ৪৭০৮, আহমাদ ১৬১৬২, ২২৬৭৬, ২৩১৫৬।









বুলূগুল মারাম (1192)


عَنْ اِبْنِ عُمَرَ رِضَيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «مَنْ حَمَلَ عَلَيْنَا السِّلَاحَ, فَلَيْسَ مِنَّا». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح رواه البخاري (6874)، ومسلم (98)




১১৯২। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের উপরে (কোন মুসলিমের উপরে) অস্ত্ৰ উত্তোলন করবে সে আমাদের দলভুক্ত নয়।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৭০৭০, মুসলিম ৯৮, নাসায়ী ৪১০০, ইবনু মাজাহ ২৫৭৬, আহমাদ ৪৫৫৩, ৪৬৩৫, ৫১২৭, ৬২৪১।









বুলূগুল মারাম (1193)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - عَنْ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «مَنْ خَرَجَ عَنِ الطَّاعَةِ, وَفَارَقَ الْجَمَاعَةَ, وَمَاتَ, فَمِيتَةٌ جَاهِلِيَّةٌ». أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح رواه مسلم (1848) وعنده: «من الطاعة» وأيضا: «فمات، مات ميتة جاهلية» وزاد: «ومن مات تحت راية عمية، يغضب لعصبة، أو يدعو إلى عصبة، فقتل، فقِتلة جاهلية، ومن خرج على أمتي يضرب برها وفاجرها، ولا يتحاشى من مؤمنها، ولا يفي لذي عهد عهده، فليس مني ولست منه




১১৯৩। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি (ইসলামী রাষ্ট্র নায়কের) আনুগত্য ত্যাগ করবে, মুমিনদের দল থেকে সরে গিয়ে মারা যাবে, সে জাহিলী অবস্থায় মরবে। (অর্থাৎ ইসলাম বর্জিত অবস্থায় তার মৃত্যু হবে)।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ১৮৪৮, নাসায়ী ৪১১৪. ইবনু মাজাহ ৩৯৪৮, আহমাদ ৭৮৮৪, ৮০০০, ৯৯৬০।









বুলূগুল মারাম (1194)


وَعَنْ أَمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «تَقْتُلُ عَمَّارًا الْفِئَةُ الْبَاغِيَةُ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح رواه مسلم (2916) (73)




১১৯৪। উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সাহাবী আম্মার (রাঃ)-কে একটি বিদ্রোহী দল হত্যা করবে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ২৯১৬, আহমাদ ২৫৯৪৩, ২৬০২৩।









বুলূগুল মারাম (1195)


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «هَلْ تَدْرِي يَا ابْنَ أُمِّ عَبْدٍ, كَيْفَ حُكْمُ اللَّهِ فِيمَنْ بَغَى مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ?» , قَالَ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: «لَا يُجْهَزُ عَلَى جَرِيحِهَا, وَلَا يُقْتَلُ أَسِيرُهَا, وَلَا يُطْلَبُ هَارِبُهَا, وَلَا يُقْسَمُ فَيْؤُهَا». رَوَاهُ الْبَزَّارُ وَالْحَاكِمُ وَصَحَّحَهُ فَوَهِمَ; فَإِنَّ فِي إِسْنَادِهِ كَوْثَرَ بْنَ حَكِيمٍ, وَهُوَ مَتْرُوكٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف جدا. رواه البزار (1849 زوائد)، والحاكم (255)، واللفظ للبزار، وآفته كما ذكر الحافظ رحمه الله




১১৯৫। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনু মাসউদ (রাঃ) কে বলেছিলেন - হে উম্মু আবদের পুত্র! তুমি কি জান এ উম্মাতের বিদ্রোহীদের জন্য মহান আল্লাহ কি ফয়সালা দিয়েছেন? তিনি (ইবনু মাসউদ) বলেন, আল্লাহ ও তার রাসূলই ভালো জানেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, বিদ্রোহী জখমীদের ব্যান্ডেজ (সেবা) করা যাবে না, কয়েদীদের হত্যা করা যাবে না, পলায়নকারীদের অনুসন্ধান করা যাবে না, তাদের গানিমাতের মাল বন্টিত হবে না।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বাযযার ১৮৪৯, হাকিম ২৫৫। ইমাম হাইসামী তাঁর মাজমাউয যাওয়ায়িদ ৬/২৪৬ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে কাউসার বিন হাকীম বিদ্যমান, আর সে হচ্ছে দুর্বল পরিত্যাজ্য। ইবনু হযম তাঁর আল মুহাল্লা ১১/১০২ গ্রন্থে উক্ত বর্ণনাকারী সম্পর্কে বলেন, নিঃসন্দেহে তার হাদীস পরিত্যাজ্য। ইবনু উসাইমীনও শরহে বুলুগুল মারাম ৫/২৯৯ গ্রন্থে হাদীসটিকে মাতরূক বলেছেন। ইবনু হিব্বান তাঁর আল মাজরুহীন ২/২৩৩ গ্রন্থে বলেন, প্রসিদ্ধ হাদীস বিশারদগণ তাকে মুনকার বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। প্রসিদ্ধ হাদীস বিশারদগণ থেকে তিনি মুনকার হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বিশ্বস্ত বর্ণনাকারী থেকে হাদীস বর্ণনা করলেও সেগুলো শক্তিশালী নয়।









বুলূগুল মারাম (1196)


وَصَحَّ عَنْ عَلِيٍّ مِنْ طُرُقٍ نَحْوُهُ مَوْقُوفًا. أَخْرَجَهُ ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ, وَالْحَاكِمُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
انظر «المصنف» (1563)، «والمستدرك» (255)، و «السنن الكبرى» للبهيقي (881)




১১৯৬। আলী (রাঃ) হতে এটি সহীহ সানাদে মওকুফ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ, হাকিম।












বুলূগুল মারাম (1197)


وَعَنْ عَرْفَجَةَ بْنِ شُرَيْحٍ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَقُولُ: «مَنْ أَتَاكُمْ وَأَمَرَكُمْ جَمِيعٌ, يُرِيدُ أَنْ يُفَرِّقَ جَمَاعَتَكُمْ, فَاقْتُلُوهُ». أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح رواه مسلم (1852) (60) وزاد: «على رجل واحد، يريد أن يشق عصاكم، أو» بعد قوله: جميع




১১৯৭। আরাফাজাহ ইবনু শুরাইহ (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছিলেন: তোমাদের সংঘবদ্ধ থাকা অবস্থায় যদি কেউ আসে আর সে তোমাদেরকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য ইচ্ছা (চেষ্টা) করে তবে তোমরা তাকে হত্যা কর।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ১৮৫২, নাসায়ী ৪০২০, ৪০২১, ৪০২২, আবূ দাউদ ৪৭৬২, আহমাদ ১৭৮৩১, ১৮৫২, ১৯৭৬৬।









বুলূগুল মারাম (1198)


عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم : «مَنْ قُتِلَ دُونَ مَالِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ, وَالتِّرْمِذِيُّ وَصَحَّحَهُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. ولكن فيه إشكال، فاسم الصحابي اختلف فيه بين النسختين كما تقدم، والذي يترجح لدي أنه: «عبد الله بن عمرو» وذلك لصحة الأصل؛ إذ هو منقول مباشرة من خط الحافظ، وأيضا لرواية من ذكرهم الحافظ الحديث عن ابن عمرو وبناء على هذا الرأي، فهذا التخريج. رواه أبو داود (4771)، والنسائي (715)، والترمذي (1419) واللفظ للنسائي والترمذي. وقال الترمذي: «حديث حسن». ولفظ أبي داود: «من أريد ماله بغير حق، فقاتل فقتل، فهو شهيد». وهو أيضا رواية للنسائي، والترمذي وقال: «حديث حسن صحيح». وأخيرا لابد من التنبيه إلى أن الحديث باللفظ الذي ذكره الحافظ. رواه البخاري (2480)، ومسلم (141)، ومن حديث عبد الله بن عمرو. وأما إن كان الصحابي «عبد الله بن عمر» كما في النسخة (أ) - وهذا هو الذي اعتمده شارح «البلوغ» فقال: وأخرجه البخاري من حديث عبد الله بن عمرو بن العاص - فلم يروه أحد ممن ذكرهم الحافظ. وإنما حديث ابن عمر عند ابن ماجه فقط (2581)، ولفظه: «من أُتِيَ عند ماله فقوتل فقاتل، فقتل، فهو شهيد» وهو صحيح، وإن كان عند ابن ماجه بإسناد ضعيف. وانظر الحديث الآتي برقم (1256)




১১৯৮। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি সম্পদ রক্ষার্থে নিহত হবে সে শহীদ ব্যক্তির সমতুল্য মর্যাদা পাবে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ১৪১, তিরমিযী ১৪১৯, ১৪২০, নাসায়ী ৪০৮৪, ৪০৮৫, ৪০৮৬, আহমাদ ৬৬৮৬, ৬৭৭৭, ৬৭৮৪, ৬৮৮৩, বুখারী।









বুলূগুল মারাম (1199)


وَعَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَاتَلَ يُعْلَى بْنُ أُمَيَّةَ رَجُلًا, فَعَضَّ أَحَدُهُمَا صَاحِبَهُ, فَنَزَعَ ثَنِيَّتَهُ, فَاخْتَصَمَا إِلَى النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فَقَالَ: «أَيَعَضُّ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ كَمَا يَعَضُّ الْفَحْلُ لَا دِيَةَ لَهُ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَّفْظُ لِمُسْلِمٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (6892)، وزاد مسلم (1673)، وزاد مسلم: «فانتزع يده من فمه» بعد قوله: «صاحبه»، وليس عنده لفظ: «أخاه» وهو عند البخاري




১১৯৯। ‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ইউলা বিন উমাইয়াহ এক ব্যক্তির সাথে ঝগড়া করলো। একে অন্যের হাত দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরল। সে তার হাত ঐ লোকের মুখ থেকে টেনে বের করল। ফলে তার দুটো দাঁত উপড়ে গেল। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তাদের মুকাদ্দমা হাজির করল। তখন তিনি বললেন, তোমাদের কেউ তার ভাইকে কি কামড়াবে উট যেমন কামড়ায়? তোমার জন্য কোন রক্তপণ নেই।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ১৬৭৩, তিরমিযী ১৪১৬, নাসায়ী ৪৭৫৮, ৪৭৫৯, ৪৭৬০, ৪৭৬১, ৪৭৬২, ইবনু মাজাহ ২৬৫৭, আহমাদ ১৯৩২৮, ১২০০।









বুলূগুল মারাম (1200)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ أَبُو الْقَاسِمِ - صلى الله عليه وسلم: «لَوْ أَنَّ امْرَأً اطَّلَعَ عَلَيْكَ بِغَيْرِ إِذْنٍ, فَحَذَفْتَهُ بِحَصَاةٍ, فَفَقَأْتَ عَيْنَهُ, لَمْ يَكُنْ عَلَيْكَ جُنَاحٌ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
وَفِي لَفْظٍ لِأَحْمَدَ, وَالنَّسَائِيِّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ: «فَلَا دِيَةَ لَهُ وَلَا قِصَاصَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح رواه البخاري (6902)، ومسلم (2158)

رواه أحمد (243)، والنسائي (8/ 61) وابن حبان (5972)




১২০০। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন আবূল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কোন লোক কোন অনুমতি ছাড়াই তোমার দিকে উঁকি মারে আর তুমি তাকে কাঁকর ছুঁড়ে মার ও তার চক্ষু নষ্ট করে ফেল তবে তোমার কোন দোষ হবে না।



আহমাদ ও নাসায়ীর শব্দে রয়েছে, এর জন্য দিয়াত বা কিসাস নেই। ইবনু হিব্বান এ বর্ধিত অংশকে সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৬৮৮৮, ৬৯০২, ২১৫৮, নাসায়ী ৪৮৬১, মুসলিম ২১৫৮, আবূ দাউদ ৫১৭২ আহমাদ ৭৫৬১।