আল-আদাবুল মুফরাদ
حَدَّثَنَا خَلاَّدُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ : مَا مِنْ مُسْلِمَيْنِ إِلاَّ بَيْنَهُمَا مِنَ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ سِتْرٌ، فَإِذَا قَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ كَلِمَةَ هَجْرٍ فَقَدْ خَرَقَ سِتْرَ اللهِ، وَإِذَا قَالَ أَحَدُهُمَا لِلْآخَرِ : أَنْتَ كَافِرٌ، فَقَدْ كَفَرَ أَحَدُهُمَا .
৪৩৭। আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, প্রতি দু’জন মুসলিম যাদের মধ্যে মহামহিম আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি আচ্ছাদন বিদ্যমান আছে। কোন ব্যক্তি তার অপর সাখীকে অশ্লীল কথা বললে সে আল্লাহর সেই আচ্ছাদন ছিন্ন করলো এবং একজন অপরজনকে তুমি কাফের বললে তাদের মধ্যকার একজন তো কাফের হয়েই যায়।
حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبِي، قَالَ : حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ، عَنْ مَسْرُوقٍ قَالَ : قَالَتْ عَائِشَةُ : صَنَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا، فَرَخَّصَ فِيهِ، فَتَنَزَّهَ عَنْهُ قَوْمٌ، فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَخَطَبَ، فَحَمِدَ اللَّهَ، ثُمَّ قَالَ : مَا بَالُ أَقْوَامٍ يَتَنَزَّهُونَ عَنِ الشَّيْءِ أَصْنَعُهُ ؟ فَوَاللَّهِ إِنِّي لَأَعْلَمُهُمْ بِاللَّهِ، وَأَشَدُّهُمْ لَهُ خَشْيَةً .
৪৩৮। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটা কিছু করলেন এবং লোকদেরকেও তা করার অনুমতি দিলেন। কিন্তু লোকেরা তা করা থেকে বিরত থাকলো। এ খবর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌছলে তিনি লোকদের উদ্দেশ্যে কিছু বক্তব্য পেশ করলেন। বক্তৃতায় তিনি প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং তারপর বলেনঃ লোকদের কি হয়েছে যে, এমন কাজ থেকে তারা বিরত থাকছে যা আমি করেছি? আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহকে তাদের চেয়ে বেশী জানি এবং তাদের চেয়ে বেশী ভয়ও করি (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)।
حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْمُبَارَكِ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ سَلْمٍ الْعَلَوِيِّ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَلَّ مَا يُوَاجِهُ الرَّجُلَ بِشَيْءٍ يَكْرَهُهُ، فَدَخَلَ عَلَيْهِ يَوْمًا رَجُلٌ، وَعَلَيْهِ أَثَرُ صُفْرَةٍ، فَلَمَّا قَامَ قَالَ لأَصْحَابِهِ : لَوْ غَيَّرَ، أَوْ نَزَعَ، هَذِهِ الصُّفْرَةَ .
৪৩৯। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, কারো কোন আচরণ অপছন্দ হলে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কাদাচিৎ মুখের উপর কিছু বলেছেন। একদিন তাঁর নিকট এক ব্যক্তি উপস্থিত হলো যার পরিধেয় বস্ত্রে হলুদ রং-এর ছাপ ছিল। সে চলে গেলে তিনি তার সাহাবীদের বলেনঃ কতই না উত্তম হতো যদি এই ব্যক্তি এই রংটি পরিবর্তন করতো বা তা তুলে ফেলতো (আবু দাউদ, আহমাদ, তিরমিযী)।
حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، قَالَ : حَدَّثَنَا حُصَيْنٌ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ قَالَ : سَمِعْتُ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ : بَعَثَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَالزُّبَيْرَ بْنَ الْعَوَّامِ، وَكِلاَنَا فَارِسٌ، فَقَالَ : انْطَلِقُوا حَتَّى تَبْلُغُوا رَوْضَةَ كَذَا وَكَذَا، وَبِهَا امْرَأَةٌ مَعَهَا كِتَابٌ مِنْ حَاطِبٍ إِلَى الْمُشْرِكِينَ، فَأْتُونِي بِهَا، فَوَافَيْنَاهَا تَسِيرُ عَلَى بَعِيرٍ لَهَا حَيْثُ وَصَفَ لَنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، فَقُلْنَا : الْكِتَابُ الَّذِي مَعَكِ ؟ قَالَتْ : مَا مَعِي كِتَابٌ، فَبَحَثْنَاهَا وَبَعِيرَهَا، فَقَالَ صَاحِبِي : مَا أَرَى، فَقُلْتُ : مَا كَذَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَأُجَرِّدَنَّكِ أَوْ لَتُخْرِجِنَّهُ، فَأَهْوَتْ بِيَدِهَا إِلَى حُجْزَتِهَا وَعَلَيْهَا إِزَارٌ صُوفٌ، فَأَخْرَجَتْ، فَأَتَيْنَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ عُمَرُ : خَانَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالْمُؤْمِنِينَ، دَعْنِي أَضْرِبْ عُنُقَهُ، وَقَالَ : مَا حَمَلَكَ ؟ فَقَالَ : مَا بِي إِلاَّ أَنْ أَكُونَ مُؤْمِنًا بِاللَّهِ، وَأَرَدْتُ أَنْ يَكُونَ لِي عِنْدَ الْقَوْمِ يَدٌ، قَالَ : صَدَقَ يَا عُمَرُ، أَوَ لَيْسَ قَدْ شَهِدَ بَدْرًا، لَعَلَّ اللَّهَ اطَّلَعَ إِلَيْهِمْ فَقَالَ : اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ فَقَدْ وَجَبَتْ لَكُمُ الْجَنَّةُ، فَدَمَعَتْ عَيْنَا عُمَرَ وَقَالَ : اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ .
৪৪০। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ও যুবাইর ইবনুল আওয়ামকে পাঠালেন। আমরা দুজনই ছিলাম ঘোড়সওয়ার। তিনি বলেনঃ ”তোমরা রওয়ানা হয়ে অমুক অমুক রওদায় (বাগানে) গিয়ে পৌছবে। সেখানে এক নারীকে পাবে। তার সাথে একটি চিঠি আছে যা হাতেব মুশরিকদের লিখেছে। তোমরা সেই পত্র উদ্ধার করে আমার নিকট নিয়ে আসবে”। আমরা পথ চলতে লাগলাম এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দেয়া তথ্য মোতাবেক সেই নারীকে পেয়ে গেলাম। সে তার উটে করে যাচ্ছিল। আমরা বললাম, তোমার সাথের চিঠি কোথায়? সে বললো, আমার সাথে কোন চিঠি নাই। আমরা তাকে এবং তার উট তল্লাশী করলাম। আমার সাথী বললো, আমি তো (চিঠি) দেখি না। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিথ্যা বলেননি। আল্লাহর শপথ! হয় তুমি পত্র বের করে দিবে, নতুবা আমি তোমাকে উলঙ্গ করবো। তখন সে তার কোমরের দিকে তার হাত বাড়ালো।
সে একটি পশমী কাপড় পরিহিত ছিল। সে চিঠি বের করলো। আমি তা নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ফিরে এলাম। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, এই ব্যক্তি (হাতিব) আল্লাহ, তার রাসূল এবং মুসলিম জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আমাকে তাকে হত্যা করার অনুমতি দিন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কেন এটা করলে? হাতিব বললেন, আল্লাহর উপর আমার ঈমান ঠিক আছে। আমি ইচ্ছা করলাম যে তাদের উপর আমার একটু অনুগ্রহ থাকুক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সে ঠিক বলেছে। হে উমার! সে কি বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। এজন্যই হয়তো আল্লাহ তাদের সম্পর্কে বলেছেন, ”তোমরা যা ইচ্ছা তাই করো, তোমাদের জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে গেছে”। এ কথায় উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর চক্ষুদ্বয় অশ্রুসজল হয়ে গেলো এবং তিনি বলেন, আল্লাহ এবং তার রাসূলই অধিক জ্ঞাত (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ)
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ : حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : أَيُّمَا رَجُلٌ قَالَ لأَخِيهِ : كَافِرٌ، فَقَدْ بَاءَ بِهَا أَحَدُهُمَا .
৪৪১। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন লোক তার কোন ভাইকে ‘হে কাফের’ বলে সম্বোধন করলে তাদের একজন কুফরীর শিকার হলো (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, মুওয়াত্ত্বা মালিক)।
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ دَاوُدَ، قَالَ : حَدَّثَنَا مَالِكٌ، أَنَّ نَافِعًا حَدَّثَهُ، أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ أَخْبَرَهُ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : إِذَا قَالَ لِلْآخَرِ : كَافِرٌ، فَقَدْ كَفَرَ أَحَدُهُمَا، إِنْ كَانَ الَّذِي قَالَ لَهُ كَافِرًا فَقَدْ صَدَقَ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ كَمَا قَالَ لَهُ فَقَدْ بَاءَ الَّذِي قَالَ لَهُ بِالْكُفْرِ .
৪৪২। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে কাফের বললে তাদের দুইজনের মধ্যে একজন কাফের হয়ে যায়। সেই ব্যক্তি যাকে কাফের বলেছে, সে যদি সত্যিই কাফের হয়ে থাকে তাহলে সে যথার্থই বলেছে। আর সে যদি তার মন্তব্য অনুযায়ী কাফের না হয়ে থাকে, তবে যে তাকে কাফের বললো সে কাফের হয়ে যায় (বুখারী, আহমাদ)।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سُمَيٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَتَعَوَّذُ مِنْ سُوءِ الْقَضَاءِ، وَشَمَاتَةِ الأعداء .
৪৪৩। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুর্ভাগ্য এবং শক্রর আনন্দ-উল্লাস থেকে (আল্লাহর) আশ্রয় প্রার্থনা করতেন (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী)।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ : أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : إِنَّ اللَّهَ يَرْضَى لَكُمْ ثَلاَثًا، وَيَسْخَطُ لَكُمْ ثَلاَثًا، يَرْضَى لَكُمْ : أَنْ تَعْبُدُوهُ وَلاَ تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، وَأَنْ تَعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللهِ جَمِيعًا، وَأَنْ تَنَاصَحُوا مَنْ وَلاَّهُ اللَّهُ أَمْرَكُمْ، وَيَكْرَهُ لَكُمْ : قِيلَ وَقَالَ، وَكَثْرَةَ السُّؤَالِ، وَإِضَاعَةَ الْمَالِ .
৪৪৪। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের তিনটি কাজে সন্তুষ্ট হন এবং তোমাদের তিনটি কাজে অসন্তুষ্ট হন। যে তিনটি কাজে তিনি সন্তুষ্ট হন তা হলো, তোমরা তাঁর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে অন্য কিছু শরীক করবে না। তোমরা একতাবদ্ধ হয়ে আল্লাহর রশিকে মজবুতভাবে আকড়ে ধরবে। আল্লাহ যাকে তোমাদের শাসক বানিয়েছেন তোমরা তার কল্যাণ কামনা করবে বা তাকে সদুপদেশ দিবে। তিনি তোমাদের যে তিনটি কাজ অপছন্দ করেন তা হলো, আসার কথা (গুজব), অধিক যাঞ্চা ও সম্পদের অপচয় (বুখারী,মুয়াত্তা মালিক, ইবনু হিব্বান)।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ زَكَرِيَّا، عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ الْمُلاَئِيِّ، عَنِ الْمِنْهَالِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ : ( وَمَا أَنْفَقْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَهُوَ يَخْلُفُهُ وَهُوَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ ) ، قَالَ : فِي غَيْرِ إِسْرَافٍ، ولا تَقْتِيرٍ .
৪৪৫। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে আল্লাহর বাণীঃ ”তোমরা যা কিছু খরচ করো আল্লাহ তার বিনিময় দেন, তিনি উত্তম রিযিকদাতা” (৩৪ঃ ৩৯) সম্পর্কে বর্ণিত। তিনি এর তাফসীর প্রসঙ্গে বলেন, আল্লাহর এই ওয়াদা তখনই প্রযোজ্য হবে, যখন তোমরা অপচয় করবে না এবং কার্পণ্যও করবে না।
حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سَلَمَةَ، عَنْ مُسْلِمٍ الْبَطِينِ، عَنْ أَبِي الْعُبَيْدَيْنِ قَالَ : سَأَلْتُ عَبْدَ اللهِ عَنِ الْمُبَذِّرِينَ، قَالَ : الَّذِينَ يُنْفِقُونَ فِي غَيْرِ حَقٍّ .
৪৪৬। আবু উবায়দায়ন (রহঃ) বলেন, আমি আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে মুবাযযিরীন (অপব্যয়কারী) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, যারা অন্যায় পথে সম্পদ খরচ করে তারাই অপব্যয়কারী (বাযযার)।
حَدَّثَنَا عَارِمٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا حُصَيْنٌ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ : ( الْمُبَذِّرِينَ ) ، قَالَ : الْمُبَذِّرِينَ فِي غَيْرِ حَقٍّ .
৪৪৭। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, যারা অন্যায় পন্থায় সম্পদ খরচ করে তারাই অপচয়কারী।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ : حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، قَالَ : حَدَّثَنَا ابْنُ عَجْلاَنَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ : كَانَ عُمَرُ يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَرِ : يَا أَيُّهَا النَّاسُ، أَصْلِحُوا عَلَيْكُمْ مَثَاوِيكُمْ، وَأَخِيفُوا هَذِهِ الْجِنَّانَ قَبْلَ أَنْ تُخِيفَكُمْ، فَإِنَّهُ لَنْ يَبْدُوَ لَكُمْ مُسْلِمُوهَا، وَإِنَّا وَاللَّهِ مَا سَالَمْنَاهُنَّ مُنْذُ عَادَيْنَاهُنَّ .
৪৪৮। যায়েদ ইবনে আসলাম (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) মিম্বারে দাড়িয়ে বলতেন, হে লোকসকল! তোমরা তোমাদের বাসস্থানসমূহ সংস্কার করো এবং এই জিনেরা তোমাদেরকে ভীতি প্রদর্শনের পূর্বেই তোমরা তাদের ভীতি প্রদর্শন করো। এদের মধ্যকার মুসলিমরা তোমাদের সামনে আবির্ভূত হবে না। আল্লাহর শপথ! যখন থেকে তাদের সাথে আমার শত্রুতা হয়েছে তারপর আর কোন দিন তাদের সাথে আমি আপোষ করিনি।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ حَارِثَةَ بْنِ مُضَرِّبٍ، عَنْ خَبَّابٍ قَالَ : إِنَّ الرَّجُلَ لَيُؤْجَرُ فِي كُلِّ شَيْءٍ، إِلا الْبِنَاءَ .
৪৪৯। খাব্বাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আদম সন্তানকে প্রতিটি ব্যাপারেই সওয়াব দেয়া হবে, ঘরবাড়ি নির্মাণ ব্যয় ব্যতীত (তিরমিযী)।
حَدَّثَنَا أَبُو حَفْصِ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ وَهْبٍ الطَّائِفِيُّ، قَالَ : حَدَّثَنَا غُطَيْفُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ، أَنَّ نَافِعَ بْنَ عَاصِمٍ أَخْبَرَهُ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَمْرٍو قَالَ لِابْنِ أَخٍ لَهُ خَرَجَ مِنَ الْوَهْطِ : أَيَعْمَلُ عُمَّالُكَ ؟ قَالَ : لاَ أَدْرِي، قَالَ : أَمَا لَوْ كُنْتَ ثَقَفِيًّا لَعَلِمْتَ مَا يَعْمَلُ عُمَّالُكَ، ثُمَّ الْتَفَتَ إِلَيْنَا فَقَالَ : إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا عَمِلَ مَعَ عُمَّالِهِ فِي دَارِهِ، وَقَالَ أَبُو عَاصِمٍ مَرَّةً : فِي مَالِهِ، كَانَ عَامِلاً مِنْ عُمَّالِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ .
৪৫০। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ওয়াহত নামক স্থান থেকে আগত তার এক ভ্রাতুষ্পুত্রকে বলেন, তোমার কর্মচারীরা কি কাজ করে? সে বললো, আমি জানি না। তিনি বলেন, যদি তুমি সাকাফী গোত্রের লোক হতে তবে তোমার কর্মচারীরা কি কাজ করে তা তুমি অবশ্যই জানতে। অতঃপর তিনি আমাদের লক্ষ্য করে বলেন, কোন ব্যক্তি নিজের ঘরে বা সম্পদে তার কর্মচারীদের সাথে কাজ করলে সে হয় মহামহিম আল্লাহর কর্মচারী।
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَتَطَاوَلَ النَّاسُ فِي الْبُنْيَانِ .
৪৫১। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মানুষ সুউচ্চ দালানকোঠা নিয়ে গর্বে মত্ত না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত হবে না (বুখারী)।
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ، قَالَ : حَدَّثَنَا حُرَيْثُ بْنُ السَّائِبِ قَالَ : سَمِعْتُ الْحَسَنَ يَقُولُ : كُنْتُ أَدْخُلُ بُيُوتَ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي خِلاَفَةِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ فَأَتَنَاوَلُ سُقُفَهَا بِيَدِي .
৪৫২। হাসান (রহঃ) বলেন, আমি উসমান ইবনে আফফান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর খেলাফতকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীগণের ঘরসমূহে যাতায়াত করতাম। আমি তাদের ঘরসমূহের ছাদসমূহ আমার দুই হাতে নাগাল পেতাম (মারাসীল)।
وَبِالسَّنَدِ عَنْ عَبْدِ اللهِ، قَالَ : أَخْبَرَنَا دَاوُدُ بْنُ قَيْسٍ قَالَ : رَأَيْتُ الْحُجُرَاتِ مِنْ جَرِيدِ النَّخْلِ مَغْشِيًّا مِنْ خَارِجٍ بِمُسُوحِ الشَّعْرِ، وَأَظُنُّ عَرْضَ الْبَيْتِ مِنْ بَابِ الْحُجْرَةِ إِلَى بَابِ الْبَيْتِ نَحْوًا مِنْ سِتِّ أَوْ سَبْعِ أَذْرُعٍ، وَأَحْزِرُ الْبَيْتَ الدَّاخِلَ عَشْرَ أَذْرُعٍ، وَأَظُنُّ سُمْكَهُ بَيْنَ الثَّمَانِ وَالسَّبْعِ نَحْوَ ذَلِكَ، وَوَقَفْتُ عِنْدَ بَابِ عَائِشَةَ فَإِذَا هُوَ مُسْتَقْبِلٌ الْمَغْرِبَ .
৪৫৩। দাউদ ইবনে কায়েস (রহঃ) বলেন, খেজুরের ডাল দ্বারা নির্মিত মুমিন জননীদের ঘরসমূহ আমি দেখেছি। এসব ঘরের বহির্দিকে (দেয়ালে) ছিল ঘাসের পলেস্তারা। আমার মনে হয় ঘরের প্রস্থ ছিল ঘরের দরজা থেকে বাড়ির ফটক পর্যন্ত প্রায় ছয়-সাত হাত, ভিতরের অংশ দশ হাত এবং উচ্চতা মনে হয় সাত-আট হাত হবে। আমি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর ঘরের দরজায় দাঁড়িয়েছি। তা ছিল পশ্চিমমুখী (আবু দাউদের মারাসীল)।
وَبِالسَّنَدِ عَنْ عَبْدِ اللهِ، قَالَ : أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مَسْعَدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللهِ الرُّومِيِّ قَالَ : دَخَلْتُ عَلَى أُمِّ طَلْقٍ فَقُلْتُ : مَا أَقْصَرَ سَقْفَ بَيْتِكِ هَذَا ؟ قَالَتْ : يَا بُنَيَّ إِنَّ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ كَتَبَ إِلَى عُمَّالِهِ : أَنْ لاَ تُطِيلُوا بِنَاءَكُمْ، فَإِنَّهُ مِنْ شَرِّ أَيَّامِكُمْ .
৪৫৪। আবদুল্লাহ রুমী (রহঃ) বলেন, আমি উম্মে তাল্ক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর বাড়িতে গেলাম। আমি তাকে বললাম, আপনার এই ঘরের ছাদ কতো নিচু। তিনি বলেন, হে ব্যৎস! আমীরুল মুমিনীন উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার কর্মচারীদেরকে লিখে পাঠান, তোমাদের ঘর-বাড়িগুলো সুউচ্চ করে বানাবে না। কেননা তা তোমাদের দুর্দিনের ইঙ্গিতবহ।
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ سَلاَّمِ بْنِ شُرَحْبِيلَ، عَنْ حَبَّةَ بْنِ خَالِدٍ، وَسَوَاءَ بْنِ خَالِدٍ، أَنَّهُمَا أَتَيَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يُعَالِجُ حَائِطًا أَوْ بِنَاءً لَهُ، فَأَعَانَاهُ .
৪৫৫। হাব্বা ইবনে খালিদ এবং সাওয়া ইবনে খালিদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলেন। তখন তিনি ঘরের দেয়াল মেরামত করছিলেন। তারা উভয়ে তাঁর সেই কাজে তাকে সহায়তা করেন। (ইবনে মাজাহ, আহমাদ, ইবনে হিব্বান)
حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ قَالَ : دَخَلْنَا عَلَى خَبَّابٍ نَعُودُهُ، وَقَدِ اكْتَوَى سَبْعَ كَيَّاتٍ، فَقَالَ : إِنَّ أَصْحَابَنَا الَّذِينَ سَلَفُوا مَضَوْا وَلَمْ تُنْقِصْهُمُ الدُّنْيَا، وَإِنَّا أَصَبْنَا مَا لاَ نَجِدُ لَهُ مَوْضِعًا إِلاَّ التُّرَابَ، وَلَوْلاَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَانَا أَنْ نَدْعُوَ بِالْمَوْتِ لَدَعَوْتُ بِهِ .
৪৫৬। কায়েস ইবনে আবু হাযেম (রহঃ) বলেন, আমরা অসুস্থ খাব্বাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে দেখতে গেলাম। তিনি তার দেহে (গরম লোহার) সাতটি দাগ নিলেন। তিনি বলেন, আমাদের যে সকল সাথী অতীত হয়েছেন, দুনিয়া তাদের কোন ক্ষতি করতে পারেনি। এখন আমরা এমন বস্তুর অধিকারী হয়েছি যা রাখার জন্য মাটি ছাড়া আর কিছু পাচ্ছি না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি আমাদেরকে মৃত্যু কামনা করতে নিষেধ না করতেন তবে আমি অবশ্যই মৃত্যু কামনা করতাম (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।