হাদীস বিএন


আল-আদাবুল মুফরাদ





আল-আদাবুল মুফরাদ (417)


حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ خَالِدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا بَكْرٌ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، أَنَّ وَهْبَ بْنَ كَيْسَانَ أَخْبَرَهُ، وَكَانَ وَهْبٌ أَدْرَكَ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ رَأَى رَاعِيًا وَغَنَمًا فِي مَكَانٍ قَبِيحٍ وَرَأَى مَكَانًا أَمْثَلَ مِنْهُ، فَقَالَ لَهُ : وَيْحَكَ، يَا رَاعِي، حَوِّلْهَا، فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : كُلُّ رَاعٍ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ .




৪১৭। ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এক রাখালকে তার ছাগলসহ একটি তৃণলতাহীন স্থানে দেখতে পেলেন। তিনি তার চাইতে উত্তম একটি স্থানও দেখতে পেলেন। তিনি তাকে বলেন, হে রাখাল! তোমার জন্য দুঃখ হয়। এগুলো অন্যত্র নিয়ে যাও। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ ”প্রত্যেক রাখালকে তার রাখালী সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে”(বুখারী, মুসলিম, আহমাদ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (418)


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : لَيْسَ لَنَا مَثَلُ السَّوْءِ، الْعَائِدُ فِي هِبَتِهِ، كَالْكَلْبِ يَرْجِعُ فِي قَيْئِهِ .




৪১৮। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমাদের জন্য মন্দ দৃষ্টান্ত শোভনীয় নয়। যে ব্যক্তি দান করে তা ফেরত নেয় সে কুকুরতুল্য যে বমি করে পুনরায় তা গলাধকরণ করে। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ)









আল-আদাবুল মুফরাদ (419)


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَجَّاجِ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو الأَسْبَاطِ الْحَارِثِيُّ وَاسْمُهُ بِشْرُ بْنُ رَافِعٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : الْمُؤْمِنُ غِرٌّ كَرِيمٌ، وَالْفَاجِرُ خَبٌّ لَئِيمٌ .




৪১৯। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেনঃ মুমিন ব্যক্তি চিন্তাশীল, গম্ভীর ও ভদ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে। আর পাপিষ্ঠ ব্যক্তি প্রতারক, ধোঁকাবাজ, কৃপণ, নীচ ও অসভ্য হয়ে থাকে (আবু দাউদ, হাকিম, তাহাবী)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (420)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أُمَيَّةَ، قَالَ : حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ مُوسَى، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : اسْتَبَّ رَجُلاَنِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَسَبَّ أَحَدُهُمَا وَالْآخَرُ سَاكِتٌ، وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم جَالِسٌ، ثُمَّ رَدَّ الْآخَرُ . فَنَهَضَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، فَقِيلَ : نَهَضْتَ ؟ قَالَ : نَهَضَتِ الْمَلاَئِكَةُ فَنَهَضْتُ مَعَهُمْ، إِنَّ هَذَا مَا كَانَ سَاكِتًا رَدَّتِ الْمَلاَئِكَةُ عَلَى الَّذِي سَبَّهُ، فَلَمَّا رَدَّ نَهَضَتِ الْمَلاَئِكَةُ .




৪২০। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে দুই ব্যক্তি পরস্পরকে গালি দিলো। তাদের একজন গালি দিলে অপরজন নীরব থাকলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসা অবস্থায় ছিলেন। অতঃপর অপরজনও তার প্রতিপক্ষকে গালি দিলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে দাঁড়ান। তাঁকে বলা হলো, আপনি উঠে গেলেন কেন? তিনি বলেনঃ ফেরেশতারা উঠে যাওয়ায় আমিও উঠে গেলাম। ঐ ব্যক্তি যতক্ষণ নীরব ছিল, ততক্ষণ ফেরেশতারা তার পক্ষ থেকে যে গালি দিচ্ছিল, তার উত্তর দিচ্ছিলেন। যখন সে প্রতিশোধস্বরূপ গালি দিলো তখন ফেরেশতারা উঠে চলে গেলেন (আবু দাউদ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (421)


حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا رُدَيْحُ بْنُ عَطِيَّةَ، قَالَ : حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي عَبْلَةَ، عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ أَنَّ رَجُلاً أَتَاهَا فَقَالَ : إِنَّ رَجُلاً نَالَ مِنْكِ عِنْدَ عَبْدِ الْمَلِكِ، فَقَالَتْ : إِنْ نُؤْبَنَ بِمَا لَيْسَ فِينَا، فَطَالَمَا زُكِّينَا بِمَا لَيْسَ فِينَا .




৪২১। উম্মু দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি তার নিকট এসে বললো, এক ব্যক্তি আবদুল মালেকের নিকট আপনার দুর্নাম করেছে। তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে যে দোষ নাই তা কেউ বলে থাকলে, কখনো আমরা এমন গুণের জন্যও প্রশংসিত হয়েছি যা আমাদের মধ্যে নেই।









আল-আদাবুল মুফরাদ (422)


حَدَّثَنَا شِهَابُ بْنُ عَبَّادٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ حُمَيْدٍ الرُّؤَاسِيُّ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ قَيْسٍ قَالَ : قَالَ عَبْدُ اللهِ : إِذَا قَالَ الرَّجُلُ لِصَاحِبِهِ : أَنْتَ عَدُوِّي، فَقَدْ خَرَجَ أَحَدُهُمَا مِنَ الإِسْلاَمِ، أَوْ بَرِئ مِنْ صَاحِبِهِ .




৪২২। কায়েস (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, কোন ব্যক্তি তার সাথীকে বললো, তুমি আমার দুশমন অথবা বললো, সে তার বন্ধুত্ব থেকে দায়মুক্ত, তাদের একজন ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে গেলো। কায়েস (রহঃ) বলেন, পরে আবু জুহাইফা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে অবহিত করেন যে, তারপর আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, তবে যে তওবা করে সে ব্যতীত।









আল-আদাবুল মুফরাদ (423)


حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، قَالَ : حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَظُنُّهُ رَفَعَهُ، شَكَّ لَيْثٌ، قَالَ : فِي ابْنِ آدَمَ سِتُّونَ وَثَلاَثُمِئَةِ سُلاَمَى، أَوْ عَظْمٍ، أَوْ مَفْصِلٍ، عَلَى كُلِّ وَاحِدٍ فِي كُلِّ يَوْمٍ صَدَقَةٌ، كُلُّ كَلِمَةٍ طَيْبَةٍ صَدَقَةٌ، وَعَوْنُ الرَّجُلِ أَخَاهُ صَدَقَةٌ، وَالشَّرْبَةُ مِنَ الْمَاءِ يَسْقِيهَا صَدَقَةٌ، وَإِمَاطَةُ الأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ صَدَقَةٌ .




৪২৩। ইবনে আব্বাস (রহঃ) বলেন আদম সন্তানের দেহে তিনশত ষাটটি সংযোগ অস্থি বা গ্রন্থি আছে। প্রতিদিন সেগুলোর প্রতিটির জন্য একটি সদাকা ধার্য আছে। প্রতিটি উত্তম কথা একটি সদাকা। কোন ব্যক্তির তার ভাইকে সাহায্য করাও একটি সদাকা। কেউ কাউকে পানি পান করালে তাও একটি সদাকা এবং রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানোও একটি সদাকা (বাযযার, ইবনে হিব্বান)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (424)


حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، قَالَ : حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا الْعَلاَءُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : الْمُسْتَبَّانِ مَا قَالاَ فَعَلَى الْبَادِئِ، مَا لَمْ يَعْتَدِ الْمَظْلُومُ .




৪২৪। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দুই পরস্পর গালিদাতার পাপ সূচনাকারীর উপর বর্তায়, প্রথমে যাকে গালি দেয়া হয়েছে সে সীমা লংঘন না করলে (মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে হিব্বান)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (425)


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى، قَالَ : حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ قَالَ : أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ سِنَانِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : الْمُسْتَبَّانِ مَا قَالاَ، فَعَلَى الْبَادِئِ، حَتَّى يَعْتَدِيَ الْمَظْلُومُ .




৪২৫। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দুই পরস্পর গালিদাতার পাপ সূচনাকারীর উপর বর্তায়, প্রথমে যাকে গালি দেয়া হয়েছে সে সীমা লংঘন না করলে।– (মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে হিব্বান)









আল-আদাবুল মুফরাদ (426)


وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : أَتَدْرُونَ مَا الْعَضْهُ ؟ قَالُوا : اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ : نَقْلُ الْحَدِيثِ مِنْ بَعْضِ النَّاسِ إِلَى بَعْضٍ، لِيُفْسِدُوا بَيْنَهُمْ .




৪২৬। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা কি জানো চোগলখোর কে? সকলে বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সর্বাধিক জ্ঞাত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি লোকজনের মধ্যে বিবাদ ও হানাহানি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তাদের একের কথা অপরের কানে লাগায়।









আল-আদাবুল মুফরাদ (427)


وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ أَوْحَى إِلَيَّ أَنْ تَوَاضَعُوا، وَلاَ يَبْغِ بَعْضُكُمْ عَلَى بَعْضٍ .




৪২৭। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মহামহিম আল্লাহ আমার নিকট ওহী পাঠিয়েছেন, তোমরা বিনয়ী হও এবং একে অপরের প্রতি বাড়াবাড়ি করো না।









আল-আদাবুল মুফরাদ (428)


حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ الشِّخِّيرِ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ حِمَارٍ قَالَ : قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ، الرَّجُلُ يَسُبُّنِي ؟ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : الْمُسْتَبَّانِ شَيْطَانَانِ يَتَهَاتَرَانِ وَيَتَكَاذَبَانِ .




৪২৮। ইয়াদ ইবনে হিমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এক ব্যক্তি আমাকে গালাগালি করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যারা একে অপরকে গালি দেয় তারা দুইটি শয়তান, তারা বাজে কথা বলে এবং তারা মিথ্যুক (ইবনে হিব্বান)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (429)


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ : حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ، عَنْ حَجَّاجِ بْنِ حَجَّاجٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللهِ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ حِمَارٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : إِنَّ اللَّهَ أَوْحَى إِلَيَّ أَنْ تَوَاضَعُوا حَتَّى لاَ يَبْغِيَ أَحَدٌ عَلَى أَحَدٍ، وَلاَ يَفْخَرَ أَحَدٌ عَلَى أَحَدٍ، فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ، أَرَأَيْتَ لَوْ أَنَّ رَجُلاً سَبَّنِي فِي مَلَأٍ هُمْ أَنْقُصُ مِنِّي، فَرَدَدْتُ عَلَيْهِ، هَلْ عَلَيَّ فِي ذَلِكَ جُنَاحٌ ؟ قَالَ : الْمُسْتَبَّانِ شَيْطَانَانِ يَتَهَاتَرَانِ وَيَتَكَاذَبَانِ .




৪২৯। ইয়াদ ইবনে হিমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ আমার নিকট ওহী পাঠিয়েছেনঃ তোমরা পরস্পর বিনয়ী হও, এমনকি একে অপরের সাথে বাড়াবাড়ি করবে না, একে অপরের সামনে অহংকার করবে না। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আপনার কি মত, কেউ যদি আমাকে আমার চেয়ে কম মর্যাদাসম্পন্ন লোকদের মজলিসে গালি দেয় এবং আমিও তার প্রতিউত্তর করি, তবে তাতে আমার গুনাহ হবে? তিনি বলেনঃ যারা একে অপরকে গালি দেয় তারা দুইটি শয়তান, উভয়ে বাজে কথা বলে এবং উভয়ে মিথ্যুক (মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (430)


قَالَ عِيَاضٌ : وَكُنْتُ حَرْبًا لِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَأَهْدَيْتُ إِلَيْهِ نَاقَةً، قَبْلَ أَنْ أُسْلِمَ، فَلَمْ يَقْبَلْهَا وَقَالَ : إِنِّي أَكْرَهُ زَبْدَ الْمُشْرِكِينَ .




৪৩০। ইয়াদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি ছিলাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শত্রু। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে আমি তাঁকে একটি উল্লী হাদিয়া দিতে চাইলাম, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। তিনি বলেনঃ মুশরিকদের উপহারাদি গ্রহণ আমার পছন্দনীয় নয় (আবু দাউদ, তিরমিযী)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (431)


حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى قَالَ : أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ زَكَرِيَّا، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : سِبَابُ الْمُسْلِمِ فُسُوقٌ .




৪৩১। সাদ ইবনে মালক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মুসলিমকে গালি দেয়া জঘন্য পাপ (নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (432)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سِنَانٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ : حَدَّثَنَا هِلاَلُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ : لَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَاحِشًا، وَلاَ لَعَّانًا، وَلاَ سَبَّابًا، كَانَ يَقُولُ عِنْدَ الْمَعْتَبَةِ : مَا لَهُ تَرِبَ جَبِينُهُ .




৪৩২। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো অশ্লীলভাষী, অভিশাপকারী বা গালি বর্ষণকারী ছিলেন না। অসন্তুষ্ট হলে তিনি বলতেনঃ তার কি হলো? তার কপাল ধূলিমলিন হোক (বুখারী)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (433)


حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ زُبَيْدٍ قَالَ : سَمِعْتُ أَبَا وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم : سِبَابُ الْمُسْلِمِ فُسُوقٌ، وَقِتَالُهُ كُفْرٌ .




৪৩৩। আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মুসলিমকে গালি দেয়া জঘন্য পাপ এবং তাকে হত্যা করা কুফরী কাজ (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, আহমাদ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (434)


حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنِ الْحُسَيْنِ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، قَالَ : حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَعْمَُرَ، أَنَّ أَبَا الأَسْوَدِ الدِّيلِيَّ حَدَّثَهُ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا ذَرٍّ قَالَ : سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : لاَ يَرْمِي رَجُلٌ رَجُلاً بِالْفُسُوقِ، وَلاَ يَرْمِيهِ بِالْكُفْرِ، إِلاَّ ارْتَدَّتْ عَلَيْهِ، إِنْ لَمْ يَكُنْ صَاحِبُهُ كَذَلِكَ .




৪৩৪। আবু যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে যেন পাপাচারী বা কাফের বলে অভিহিত না করে। বাস্তবে সেই ব্যক্তি তদ্রুপ না হলে উক্ত অপবাদ অপবাদ দানকারীর উপর পতিত হয় (বুখারী, মুসলিম, আহমাদ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (435)


وَبِالسَّنَدِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : مَنِ ادَّعَى لِغَيْرِ أَبِيهِ وَهُوَ يَعْلَمُ فَقَدْ كَفَرَ، وَمَنِ ادَّعَى قَوْمًا لَيْسَ هُوَ مِنْهُمْ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ، وَمَنْ دَعَا رَجُلاً بِالْكُفْرِ، أَوْ قَالَ : عَدُوُّ اللهِ، وَلَيْسَ كَذَلِكَ إِلا حَارَتْ عَلَيْهِ .




৪৩৫। আবু যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ যে ব্যক্তি সজ্ঞানে নিজ পিতা ব্যতীত অপর কাউকে তার পিতা বলে পরিচয় দেয় এবং যে ব্যক্তি নিজেকে এমন কোন বংশের লোক বলে পরিচয় দেয়, যে বংশে তার জন্ম হয়নি, সে যেন দোযখকে তার বাসস্থান বানালো। আর যে ব্যক্তি কাউকে কাফের বা আল্লাহর দুশমন বলে অথচ সে তা নয়, তা তার উপর পতিত হয় (বুখারী, মুসলিম)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (436)


حَدَّثَنَا عُمَرُ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبِي، قَالَ : حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَدِيُّ بْنُ ثَابِتٍ قَالَ : سَمِعْتُ سُلَيْمَانَ بْنَ صُرَدٍ، رَجُلاً مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ : اسْتَبَّ رَجُلاَنِ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَغَضِبَ أَحَدُهُمَا، فَاشْتَدَّ غَضَبُهُ حَتَّى انْتَفَخَ وَجْهُهُ وَتَغَيَّرَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : إِنِّي لَأَعْلَمُ كَلِمَةً لَوْ قَالَهَا لَذَهَبَ عَنْهُ الَّذِي يَجِدُ، فَانْطَلَقَ إِلَيْهِ الرَّجُلُ، فَأَخْبَرَهُ بِقَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ : تَعَوَّذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ، وَقَالَ : أَتَرَى بِي بَأْسًا، أَمَجْنُونٌ أَنَا ؟ اذْهَبْ .




৪৩৬। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী সুলাইমান ইবনে সুরাদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে দুই লোক পরস্পরকে গালি দিলো। তাদের একজন অতিমাত্রায় রাগান্বিত হয়ে গেলো, এমনকি তার চেহারা ফুলে বিকৃত হয়ে গেলো। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি এমন একটি কথা জানি যা সে বললে তার ক্রোধ তিরোহিত হতো। একথা শুনে এক ব্যক্তি লোকটির কাছে গিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ উক্তিটি তাকে অবহিত করলো এবং বললো, তুমি শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাও অর্থাৎ আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম পড়ো। প্রত্যুত্তরে সে বললো, আমার মধ্যে কি তুমি কোন খারাপ কিছু দেখতে পাচ্ছো? আমি কি পাগল? তুমি চলে যাও (বুখারী,মুসলিম,আবু দাউদ,নাসাঈ)।