হাদীস বিএন


আল-আদাবুল মুফরাদ





আল-আদাবুল মুফরাদ (397)


حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا، قَالَ : حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ، قَالَ : حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ الرَّبِيعِ قَالَ : حَدَّثَنِي عَبَّادٌ الرَّمْلِيُّ قَالَ : حَدَّثَتْنِي امْرَأَةٌ يُقَالُ لَهَا : فُسَيْلَةُ، قَالَتْ : سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ : قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ، أَمِنَ الْعَصَبِيَّةِ أَنْ يُعِينَ الرَّجُلُ قَوْمَهُ عَلَى ظُلْمٍ ؟ قَالَ : نَعَمْ .




৩৯৭। ফুসায়লা (রহঃ) বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছিঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! অন্যায় কাজে কোন ব্যক্তির নিজ সম্প্রদায়কে সাহায্য করা কি জাহিলী গোত্রপ্রীতির অন্তর্ভুক্ত? তিনি বলেনঃ হাঁ।-(ইবনে মাজাহ, আহমাদ)









আল-আদাবুল মুফরাদ (398)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ : حَدَّثَنِي اللَّيْثُ قَالَ : حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ خَالِدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَوْفِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ الطُّفَيْلِ، وَهُوَ ابْنُ أَخِي عَائِشَةَ لِأُمِّهَا، أَنَّ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا حُدِّثَتْ، أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ الزُّبَيْرِ قَالَ فِي بَيْعٍ، أَوْ عَطَاءٍ، أَعْطَتْهُ عَائِشَةُ : وَاللَّهِ لَتَنْتَهِيَنَّ عَائِشَةُ أَوْ لَأَحْجُرَنَّ عَلَيْهَا، فَقَالَتْ : أَهُوَ قَالَ هَذَا ؟ قَالُوا : نَعَمْ، قَالَتْ عَائِشَةُ : فَهُوَ لِلَّهِ نَذْرٌ أَنْ لاَ أُكَلِّمَ ابْنَ الزُّبَيْرِ كَلِمَةً أَبَدًا، فَاسْتَشْفَعَ ابْنُ الزُّبَيْرِ بِالْمُهَاجِرِينَ حِينَ طَالَتْ هِجْرَتُهَا إِيَّاهُ، فَقَالَتْ : وَاللَّهِ، لاَ أُشَفِّعُ فِيهِ أَحَدًا أَبَدًا، وَلاَ أُحَنِّثُ نَذْرِي الَّذِي نَذَرْتُ أَبَدًا . فَلَمَّا طَالَ عَلَى ابْنِ الزُّبَيْرِ كَلَّمَ الْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الأَسْوَدِ بْنِ يَغُوثَ، وَهُمَا مِنْ بَنِي زُهْرَةَ، فَقَالَ لَهُمَا : أَنْشُدُكُمَا بِاللَّهِ إِلاَّ أَدْخَلْتُمَانِي عَلَى عَائِشَةَ، فَإِنَّهَا لاَ يَحِلُّ لَهَا أَنْ تَنْذِرَ قَطِيعَتِي، فَأَقْبَلَ بِهِ الْمِسْوَرُ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ مُشْتَمِلَيْنِ عَلَيْهِ بِأَرْدِيَتِهِمَا، حَتَّى اسْتَأْذَنَا عَلَى عَائِشَةَ فَقَالاَ : السَّلاَمُ عَلَيْكِ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ، أَنَدْخُلُ ؟ فَقَالَتْ عَائِشَةُ : ادْخُلُوا، قَالاَ : كُلُّنَا يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ ؟ قَالَتْ : نَعَمْ، ادْخُلُوا كُلُّكُمْ . وَلاَ تَعْلَمُ عَائِشَةُ أَنَّ مَعَهُمَا ابْنَ الزُّبَيْرِ، فَلَمَّا دَخَلُوا دَخَلَ ابْنُ الزُّبَيْرِ فِي الْحِجَابِ، وَاعْتَنَقَ عَائِشَةَ وَطَفِقَ يُنَاشِدُهَا يَبْكِي، وَطَفِقَ الْمِسْوَرُ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ يُنَاشِدَانِ عَائِشَةَ إِلاَّ كَلَّمَتْهُ وَقَبِلَتْ مِنْهُ، وَيَقُولاَنِ : قَدْ عَلِمْتِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَمَّا قَدْ عَلِمْتِ مِنَ الْهِجْرَةِ، وَأَنَّهُ لاَ يَحِلُّ لِلرَّجُلِ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلاَثِ لَيَالٍ . قَالَ : فَلَمَّا أَكْثَرُوا التَّذْكِيرَ وَالتَّحْرِيجَ طَفِقَتْ تُذَكِّرُهُمْ وَتَبْكِي وَتَقُولُ : إِنِّي قَدْ نَذَرْتُ وَالنَّذْرُ شَدِيدٌ، فَلَمْ يَزَالُوا بِهَا حَتَّى كَلَّمَتِ ابْنَ الزُّبَيْرِ، ثُمَّ أَعْتَقَتْ بِنَذْرِهَا أَرْبَعِينَ رَقَبَةً، ثُمَّ كَانَتْ تَذْكُرُ بَعْدَ مَا أَعْتَقَتْ أَرْبَعِينَ رَقَبَةً فَتَبْكِي حَتَّى تَبُلَّ دُمُوعُهَا خِمَارَهَا .




৩৯৮। আওফ ইবনুল হারিস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণনা করেন যে, তার কোন একটি জিনিস বিক্রয় বা দান করার ব্যাপারে আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আল্লাহর কসম! হয় আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এ কাজ থেকে বিরত থাকবেন, নয়তো আমি তাকে সম্পদ দানের অযোগ্য ঘোষণা করবো। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) জিজ্ঞেস করলেন, সত্যিই কি সে এ ধরনের কথা বলেছে? লোকেরা বললো, হাঁ। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আল্লাহর নামে শপথ করছি যে, আমি ইবনুয যুবাইরের সাথে কখনো কথা বলবো না। এ বিচ্ছেদকাল দীর্ঘায়িত হলে ইবনুয যুবাইর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট মধ্যস্থতাকারী পাঠান। কিন্তু আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আল্লাহর কসম! আমি কখনো কারো সুপারিশ গ্রহণ করবো না এবং আমি আমার শপথও ভঙ্গ করবো না।

ব্যাপারটি ইবনুয যুবাইর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর জন্য দীর্ঘায়িত হলে তিনি মিসওয়ার ইবনে মাখরামা ও আবদুর রহমান ইবনুল আসওয়াদ ইবনে আবদে ইয়াগূসের সাথে কথা বলেন। তারা দু’জন বনু যোহরার লোক ছিলেন। ইবনুয যুবাইর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাদেরকে বলেন, তোমাদের দু’জনকে আল্লাহর দোহাই দিচ্ছি, আমাকে তোমরা আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সামনে পৌছিয়ে দাও। কেননা আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার মানত মানা তার জন্য জায়েয হয়নি। অতএব মিসওয়ার ও আবদুর রহমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) চাদর গায়ে জড়িয়ে ইবনুয যুবাইর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে সাথে নিয়ে চললেন।

শেষ পর্যন্ত দু’জনে আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। দু’জন বলেন, আসসালামু আলাইকে ওয়া রহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহু! আমরা কি ভেতরে আসতে পারি? তিনি বলেন, হাঁ, আসো। তারা বলেন, হে উম্মুল মুমিনীন। আমরা সবাই কি ভেতরে আসতে পারি? আয়েশা বলেন, হাঁ, সবাই আসো। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) জানতেন না যে, তাদের সাথে ইবনুয যুবাইর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-ও আছেন। তারা ভেতরে প্রবেশ করলে ইবনুয যুবাইর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) পর্দার ভেতর গিয়ে আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে জড়িয়ে ধরে আল্লাহর দোহাই দিতে লাগলেন এবং কাঁদতে শুরু করলেন। মিসওয়ার ও আবদুর রহমানও তাঁকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে ইবনুয যুবাইর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাথে কথা বলতে এবং তার ওজর ও অনুশোচনা গ্রহণ করতে বলেন।

তারা দু’জন বলেন, আপনি তো জানেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম-কালাম ও দেখা-সাক্ষাত বন্ধ করে দিতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেনঃ ”কোন মুসলিমের জন্য তার মুসলিম ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশী দেখা-সাক্ষাত ও সালাম-কালাম বন্ধ রাখা জায়েয নয়”। তারা দু’জন যখন এভাবে আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বুঝালেন এবং বারবার এর ক্ষতিকর দিক স্মরণ করিয়ে দিলেন তখন তিনিও কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি (কথা না বলার) মানত ও শপথ করে ফেলেছি এবং অনেক কঠিন মানত। কিন্তু তারা দু’জন বরাবর তাকে বুঝাতে থাকেন, যতক্ষণ না তিনি ইবনুয যুবাইরের সাথে কথা বলেন।

অতঃপর আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার শপথ ভঙ্গের কাফফারা হিসেবে চল্লিশজন গোলাম আযাদ করেন। এরপর যখনই এ মানতের কথা তার স্মরণ হতো তখনই তিনি কাঁদতেন, এমনকি তার চোখের পানিতে তার ওড়না ভিজে যেতো (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, আহমাদ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (399)


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ : حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : لاَ تَبَاغَضُوا، وَلاَ تَحَاسَدُوا، وَلاَ تَدَابَرُوا، وَكُونُوا عِبَادَ اللهِ إِخْوَانًا، وَلاَ يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلاَثِ لَيَالٍ .




৩৯৯। আনাস ইবনে মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা পরস্পরের প্রতি ঘৃণা-বিদ্বেষ পোষণ করো না, পরস্পর গোপনে শত্রুতা করো না এবং আল্লাহর বান্দাগণ পরম্পর ভাই ভাই হয়ে যাও। কোন মুসলিমের জন্য তার অপর মুসলিম ভাইয়ের সাথে তিন রাতের অধিক সম্পর্কচ্ছেদ করে থাকা জায়েয নয় (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, মুওয়াত্ত্বা মালিক)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (400)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ : حَدَّثَنِي اللَّيْثُ قَالَ : حَدَّثَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ ثُمَّ الْجُنْدَعِيِّ، أَنَّ أَبَا أَيُّوبَ صَاحِبَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : لاَ يَحِلُّ لأَحَدٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلاَثِ لَيَالٍ، يَلْتَقِيَانِ فَيَصُدُّ هَذَا وَيَصُدُّ هَذَا، وَخَيْرُهُمَا الَّذِي يَبْدَأُ بِالسَّلامِ .




৪০০। আতা ইবনে ইয়ামীদ আল-লাইসী আল-জুনদাই (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তির জন্য তার অপর ভাইয়ের সাথে তিন রাতের অধিক সম্পর্কচ্ছেদ করে থাকা হালাল নয়। (অবস্থা এই যে,) তাদের দেখা-সাক্ষাত হলে একজন এদিকে এবং অপরজন ওদিকে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। তাদের দু’জনের মধ্যে যে প্রথমে সালাম দেয় সে অপরের চেয়ে উত্তম (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, তাবারানী)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (401)


حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ : حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُهَيْلٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : لاَ تَبَاغَضُوا، وَلاَ تَنَافَسُوا، وَكُونُوا عِبَادَ اللهِ إِخْوَانًا .




৪০১। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা পরম্পর ঘৃণা-বিদ্বেষ পোষণ করো না, ঝগড়া-বিবাদ করো না এবং আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা ভাই ভাই হয়ে যাও (বুখারী, মুসলিম)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (402)


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ : حَدَّثَنِي ابْنُ وَهْبٍ قَالَ : أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ سِنَانِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : مَا تَوَادَّ اثْنَانِ فِي اللهِ جَلَّ وَعَزَّ أَوْ فِي الإِسْلاَمِ، فَيُفَرِّقُ بَيْنَهُمَا إِلاَّ بِذَنْبٍ يُحْدِثُهُ أَحَدُهُمَا .




৪০২। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দুই ব্যক্তি মহামহিম আল্লাহর জন্য অথবা ইসলামের সৌজন্যে পরস্পর ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর তাদের মধ্যকার কোন একজনের প্রথম অপরাধ তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটায় (আবু দাউদ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (403)


حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ يَزِيدَ قَالَ : قَالَتْ مُعَاذَةَ : سَمِعْتُ هِشَامَ بْنَ عَامِرٍ الأَنْصَارِيَّ، ابْنَ عَمِّ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، وَكَانَ قُتِلَ أَبُوهُ يَوْمَ أُحُدٍ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : لاَ يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يُصَارِمَ مُسْلِمًا فَوْقَ ثَلاَثٍ، فَإِنَّهُمَا نَاكِبَانِ عَنِ الْحَقِّ مَا دَامَا عَلَى صِرَامِهِمَا، وَإِنَّ أَوَّلَهُمَا فَيْئًا يَكُونُ كَفَّارَةً عَنْهُ سَبْقُهُ بِالْفَيْءِ، وَإِنْ مَاتَا عَلَى صِرَامِهِمَا لَمْ يَدْخُلاَ الْجَنَّةَ جَمِيعًا أَبَدًا، وَإِنْ سَلَّمَ عَلَيْهِ فَأَبَى أَنْ يَقْبَلَ تَسْلِيمَهُ وَسَلاَمَهُ، رَدَّ عَلَيْهِ الْمَلَكُ، وَرَدَّ عَلَى الْآخَرِ الشَّيْطَانُ .




৪০৩। আনাস ইবনে মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র চাচাতো ভাই হিশাম ইবনে আমের আল-আনসারী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তার পিতা উহুদের যুদ্ধের দিন শহীদ হন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ কোন মুসলিমের জন্য অপর মুসলিমের সাথে তিন দিনের অধিক সম্পর্কচ্ছেদ করে থাকা জায়েয নয়। তারা যাবত সম্পর্কচ্ছেদ করে থাকবে, তাবৎ তারা সত্য বিমুখ বলে গণ্য হবে। তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি প্রথম কথা বলার উদ্যোগ নিবে তার সেই উদ্যোগ তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহের কাফফারাস্বরূপ হবে। আর যদি তারা এরূপ সম্পর্কচ্ছেদ অবস্থায় মারা যায় তবে তারা কখনও একত্রে বেহেশতে যেতে পারবে না। যদি তাদের একজন অপরজনকে সালাম করে, আর সে তা গ্রহণ করতে রাজী না হয়, তবে একজন ফেরেশতা তার সালামের জবাব দেন, আর অপরজনকে দেয় শয়তান।









আল-আদাবুল মুফরাদ (404)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : إِنِّي لَأَعْرِفُ غَضَبَكِ وَرِضَاكِ، قَالَتْ : قُلْتُ : وَكَيْفَ تَعْرِفُ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللهِ ؟ قَالَ : إِنَّكِ إِذَا كُنْتِ رَاضِيَةً قُلْتِ : بَلَى، وَرَبِّ مُحَمَّدٍ، وَإِذَا كُنْتِ سَاخِطَةً قُلْتِ : لاَ، وَرَبِّ إِبْرَاهِيمَ، قَالَتْ : قُلْتُ : أَجَلْ، لَسْتُ أُهَاجِرُ إِلا اسْمَكَ .




৪০৪। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তোমার সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টি অবশ্যই বুঝতে পারি। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কেমন করে তা বুঝেন? তিনি বলেনঃ যখন তুমি সন্তুষ্ট থাকো তখন বলো, হাঁ, মুহাম্মাদের প্রভুর শপথ। আর যখন তুমি অসন্তুষ্ট থাকো তখন বলো, না, ইবরাহীমের প্রভুর শপথ। আমি বললাম, হাঁ, আমি তখন আপনার নামটাই কেবল পরিহার করি।









আল-আদাবুল মুফরাদ (405)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَيْوَةُ قَالَ : حَدَّثَنِي أَبُو عُثْمَانَ الْوَلِيدُ بْنُ أَبِي الْوَلِيدِ الْمَدَنِيُّ، أَنَّ عِمْرَانَ بْنَ أَبِي أَنَسٍ حَدَّثَهُ، عَنْ أَبِي خِرَاشٍ السُّلَمِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : مَنْ هَجَرَ أَخَاهُ سَنَةً، فَهُوَ كَسَفْكِ دَمِهِ .




৪০৫। আবু খিরাশ আস-সুলামী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সাথে এক বছর ধরে সম্পর্কচ্ছেদ করে থাকে, সে যেন তাকে হত্যা করলো (আবু দাউদ, আহমাদ, হাকিম)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (406)


حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ : أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ قَالَ : حَدَّثَنِي الْوَلِيدُ بْنُ أَبِي الْوَلِيدِ الْمَدَنِيُّ، أَنَّ عِمْرَانَ بْنَ أَبِي أَنَسٍ حَدَّثَهُ، أَنَّ رَجُلاً مِنْ أَسْلَمَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَدَّثَهُ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : هِجْرَةُ الْمُسْلِمِ سَنَةً كَدَمِهِ، وَفِي الْمَجْلِسِ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ، وَعَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِي عَتَّابٍ، فَقَالاَ : قَدْ سَمِعْنَا هَذَا عَنْهُ .




৪০৬। ইমরান ইবনে আবু আনাস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আসলাম গোত্রীয় মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জনৈক সাহাবী তার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ”কোন ঈমানদার ব্যক্তির সাথে এক বছর ধরে সম্পর্কচ্ছেদ করে থাকা তাকে হত্যা করার সমতুল্য”। সেই মজলিসে মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির এবং আবদুল্লাহ ইবনে আবু ইতাবও উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, আমরাও সেই সাহাবীর নিকট এ হাদীস শুনেছি (আবু দাউদ, আহমাদ, হাকিম)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (407)


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ : حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : لاَ يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ، يَلْتَقِيَانِ فَيُعْرِضُ هَذَا وَيُعْرِضُ هَذَا، وَخَيْرُهُمَا الَّذِي يَبْدَأُ بِالسَّلامِ .




৪০৭। আবু আইউব আনসারী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন লোকের জন্য তার (মুসলিম) ভাইকে এভাবে পরিত্যাগ করা (কথাবার্তা না বলা) বৈধ নয় যে, উভয়ের সাক্ষাত হলে একে অপরের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে। তাদের দু’জনের মধ্যে উত্তম সেইজন যে সালাম দ্বারা (কথাবার্তার) সূচনা করে।









আল-আদাবুল মুফরাদ (408)


حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ يَزِيدَ، عَنْ مُعَاذَةَ، أَنَّهَا سَمِعَتْ هِشَامَ بْنَ عَامِرٍ يَقُولُ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : لاَ يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يُصَارِمَ مُسْلِمًا فَوْقَ ثَلاَثِ لَيَالٍ، فَإِنَّهُمَا مَا صَارَمَا فَوْقَ ثَلاَثِ لَيَالٍ، فَإِنَّهُمَا نَاكِبَانِ عَنِ الْحَقِّ مَا دَامَا عَلَى صِرَامِهِمَا، وَإِنَّ أَوَّلَهُمَا فَيْئًا يَكُونُ كَفَّارَةً لَهُ سَبْقُهُ بِالْفَيْءِ، وَإِنْ هُمَا مَاتَا عَلَى صِرَامِهِمَا لَمْ يَدْخُلاَ الْجَنَّةَ جَمِيعًا .




৪০৮। হিশাম ইবনে আমের আল-আনসারী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ কোন মুসলিমের জন্য অপর মুসলিমের সাথে তিন দিনের অধিক সম্পর্কচ্ছেদ করে থাকা জায়েয নয়। তারা যাবত সম্পর্কচ্ছেদ করে থাকবে তাবৎ তারা সত্য বিমুখ বলে গণ্য হবে। তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি প্রথম কথা বলার উদ্যোগ নিবে, তার সেই উদ্যোগ তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহের কাফফারাস্বরূপ হবে। আর যদি তারা এইরূপ সম্পর্কচ্ছেদ অবস্থায় মারা যায় তবে তারা কখনও একত্রে বেহেশতে যেতে পারবে না (আহমাদ, ইবনে হিব্বান)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (409)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلامٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : لاَ تَبَاغَضُوا، وَلاَ تَحَاسَدُوا، وَكُونُوا عِبَادَ اللهِ إِخْوَانًا .




৪০৯। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা পরস্পর ঘৃণা-বিদ্বেষ পোষণ করো না এবং আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা ভাই ভাই হয়ে যাও (বুখারী, মুসলিম)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (410)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبِي، قَالَ : حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : تَجِدُ مِنْ شَرِّ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عِنْدَ اللهِ ذَا الْوَجْهَيْنِ، الَّذِي يَأْتِي هَؤُلاَءِ بِوَجْهٍ، وَهَؤُلاَءِ بِوَجْهٍ .




৪১০। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কিয়ামতের দিন তুমি দ্বিমুখী চরিত্রের লোককে আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টরূপে দেখতে পাবে, যে এদের কাছে এক চেহারা নিয়ে আসে এবং অন্যদের কাছে ভিন্ন চেহারা (চরিত্র) নিয়ে আসে (বুখারী, মুসলিম, দারিমী, তিরমিযী)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (411)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ : أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : إِيَّاكُمْ وَ الظَّنَّ، فَإِنَّ الظَّنَّ أَكْذَبُ الْحَدِيثِ، وَلاَ تَنَاجَشُوا، وَلاَ تَحَاسَدُوا، وَلاَ تَبَاغَضُوا، وَلاَ تَنَافَسُوا، وَلاَ تَدَابَرُوا وَكُونُوا عِبَادَ اللهِ إِخْوَانًا .




৪১১। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাবধান! তোমরা কুধারণা পোষণ করা থেকে বিরত থাকবে। কেননা কুধারণা হলো ডাহা মিথ্যা। তোমরা নকল ক্রেতা সেজে আসল ক্রেতাকে প্রতারিত করার উদ্দেশ্যে পণ্যের দরদাম করো না, ঘৃণা-বিদ্বেষ পোষণ করো না, ঝগড়াঝাটি করো না এবং গোপনে শত্রুতা করো না। আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা পরস্পর ভাই হয়ে যাও (বুখারী, মুসলিম, ইবনে মাজাহ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (412)


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ : حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : تُفْتَحُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ وَيَوْمَ الْخَمِيسِ، فَيُغْفَرُ لِكُلِّ عَبْدٍ لاَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا، إِلاَّ رَجُلٌ كَانَتْ بَيْنَهُ وَبَيْنَ أَخِيهِ شَحْنَاءُ، فَيُقَالُ : أَنْظِرُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحَا .




৪১২। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজাসমূহ উম্মুক্ত করা হয়। এরপর এমন সব বান্দাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয় যারা আল্লাহর সাথে শরীক করে না। তবে সে ব্যক্তিকে নয় যার ভাই ও তার মধ্যে শত্রুতা বিদ্যমান। বলা হয়, এই দু’জনকে আপোষ-রক্ষা করার জন্য অবকাশ দাও। এই দু’জনকে আপোষ-রফা করার জন্য অবকাশ দাও; এই দু’জনকে আপোষ-রফার জন্য অবকাশ দাও (মুসলিম, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, মুওয়াত্ত্বা মালিক, ইবনে হিব্বান)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (413)


حَدَّثَنَا بِشْرُ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ، قَالَ : أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ : أَخْبَرَنِي أَبُو إِدْرِيسَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا الدَّرْدَاءِ يَقُولُ : أَلاَ أُحَدِّثُكُمْ بِمَا هُوَ خَيْرٌ لَكُمْ مِنَ الصَّدَقَةِ وَالصِّيَامِ ؟ صَلاَحُ ذَاتِ الْبَيْنِ، أَلاَ وَإِنَّ الْبُغْضَةَ هِيَ الْحَالِقَةُ .




৪১৩। আবু দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি কি তোমাদেরকে এমন কথা বলবো না যা দান-খয়রাত ও রোযার তুলনায় উত্তম? তা হলো মানুষের মধ্যে আপোষ-মীমাংসা করে দেয়া। সাবধান! ঘৃণা-বিদ্বেষ ধ্বংসাত্মক।









আল-আদাবুল মুফরাদ (414)


حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو شِهَابٍ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ أَبِي فَزَارَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ الأَصَمِّ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : ثَلاَثٌ مَنْ لَمْ يَكُنَّ فِيهِ، غُفِرَ لَهُ مَا سِوَاهُ لِمَنْ شَاءَ، مَنْ مَاتَ لاَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا، وَلَمْ يَكُنْ سَاحِرًا يَتَّبِعُ السَّحَرَةَ، وَلَمْ يَحْقِدْ عَلَى أَخِيهِ .




৪১৪। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তির মধ্যে তিনটি পাপাচার না থাকলে যাকে ইচ্ছা তার অন্য গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হবে। (১) যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কিছু শরীক না করে মারা গেলো, (২) সে যাদু চর্চাকারী ছিলো না এবং (৩) সে তার কোন (মুসলিম) ভাইয়ের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেনি।









আল-আদাবুল মুফরাদ (415)


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ قَالَ : حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ هِلاَلِ بْنِ أَبِي هِلاَلٍ مَوْلَى ابْنِ كَعْبٍ الْمَذْحِجِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ : سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : لاَ يَحِلُّ لِرَجُلٍ أَنْ يَهْجُرَ مُؤْمِنًا فَوْقَ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ، فَإِذَا مَرَّتْ ثَلاَثَةُ أَيَّامٍ فَلْيَلْقَهُ فَلْيُسَلِّمْ عَلَيْهِ، فَإِنْ رَدَّ عَلَيْهِ السَّلاَمَ فَقَدِ اشْتَرَكَا فِي الأَجْرِ، وَإِنْ لَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ فَقَدْ بَرِئ الْمُسْلِمُ مِنَ الْهِجْرَةِ .




৪১৫। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ কোন ব্যক্তির জন্য কোন ঈমানদার ব্যক্তির সাথে তিন দিনের অধিক সম্পর্কচ্ছেদ করে থাকা জায়েয নয়। তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পর সে যেন তার সাথে সাক্ষাত করে তাকে সালাম দেয়। মুমিন ব্যক্তি তার সালামের জবাব দিলে তারা দু’জনই সওয়াবে অংশীদার হবে। আর তার সালামের উত্তর না দেয়া হলে সালামদাতা মুসলিম ব্যক্তি সম্পর্কচ্ছেদের গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে যাবে (আবু দাউদ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (416)


حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ مَالِكٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَغْرَاءَ، قَالَ : حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُبَشِّرٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، عَنْ أَبِيهِ، كَانَ عُمَرُ يَقُولُ لِبَنِيهِ : إِذَا أَصْبَحْتُمْ فَتَبَدَّدُوا، وَلاَ تَجْتَمِعُوا فِي دَارٍ وَاحِدَةٍ، فَإِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ أَنْ تَقَاطَعُوا، أَوْ يَكُونَ بَيْنَكُمْ شَرٌّ .




৪১৬। সালিম ইবনে আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার পুত্রদেরকে বলতেন, ভোর হলেই তোমরা পৃথক পৃথক হয়ে যাবে এবং এক ঘরে একত্র হবে না। কেননা আমার আশংকা হয়, না জানি তোমাদের মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ বা কোন অঘটন ঘটে যায়।