হাদীস বিএন


আল-আদাবুল মুফরাদ





আল-আদাবুল মুফরাদ (377)


حَدَّثَنَا حَرَمِيُّ بْنُ حَفْصٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَرْحَمَ النَّاسِ بِالْعِيَالِ، وَكَانَ لَهُ ابْنٌ مُسْتَرْضَعٌ فِي نَاحِيَةِ الْمَدِينَةِ، وَكَانَ ظِئْرُهُ قَيْنًا، وَكُنَّا نَأْتِيهِ، وَقَدْ دَخَنَ الْبَيْتُ بِإِذْخِرٍ، فَيُقَبِّلُهُ وَيَشُمُّهُ .




৩৭৭। আনাস ইবনে মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, মানুষের মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন পরিবার-পরিজনের প্রতি সর্বাধিক দয়ালু। তাঁর এক পুত্র ছিল মদীনার উপকণ্ঠে এক মহিলার দুগ্ধপোষ্য। তার স্বামী ছিল লোহাড়। আমরা সেখানে যেতাম। ঘরটি ইযখির ঘাসের ধোঁয়ায় ভরে যেতো। তিনি তাকে চুমা দিতেন এবং নাক লাগিয়ে ঘ্ৰাণ নিতেন (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, আহমাদ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (378)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، قَالَ : حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ كَيْسَانَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ وَمَعَهُ صَبِيٌّ، فَجَعَلَ يَضُمُّهُ إِلَيْهِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : أَتَرْحَمُهُ ؟ قَالَ : نَعَمْ، قَالَ : فَاللَّهُ أَرْحَمُ بِكَ مِنْكَ بِهِ، وَهُوَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ .




৩৭৮। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, এক ব্যক্তি একটি শিশুসহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলো। সে তাকে নিজ দেহের সাথে লাগাচ্ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি কি তার প্রতি মায়া করো? সে বললো, হাঁ। তিনি বলেনঃ আল্লাহ তার প্রতি তোমার চেয়ে অধিক দয়াপরবশ এবং তিনি দয়ালুদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু (নাসাঈ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (379)


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ : حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ سُمَيٍّ مَوْلَى أَبِي بَكْرٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : بَيْنَمَا رَجُلٌ يَمْشِي بِطَرِيقٍ اشْتَدَّ بِهِ الْعَطَشُ، فَوَجَدَ بِئْرًا فَنَزَلَ فِيهَا، فَشَرِبَ ثُمَّ خَرَجَ، فَإِذَا كَلْبٌ يَلْهَثُ، يَأْكُلُ الثَّرَى مِنَ الْعَطَشِ، فَقَالَ الرَّجُلُ : لَقَدْ بَلَغَ هَذَا الْكَلْبَ مِنَ الْعَطَشِ مِثْلُ الَّذِي كَانَ بَلَغَنِي، فَنَزَلَ الْبِئْرَ فَمَلَأَ خُفَّاهُ، ثُمَّ أَمْسَكَهَا بِفِيهِ، فَسَقَى الْكَلْبَ، فَشَكَرَ اللَّهُ لَهُ، فَغَفَرَ لَهُ، قَالُوا : يَا رَسُولَ اللهِ، وَإِنَّ لَنَا فِي الْبَهَائِمِ أَجْرًا ؟ قَالَ : فِي كُلِّ ذَاتِ كَبِدٍ رَطْبَةٍ أَجْرٌ .




৩৭৯। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ একদা এক ব্যক্তি পথ চলতে চলতে তার ভীষণ পিপাসা লাগলো। সে একটি কূপ দেখতে পেয়ে তাতে নামলো এবং পানি পান করে উঠে আসলো। তখন সে দেখলো যে, একটি কুকুর পিপাসার্ত হয়ে হাপাচ্ছে এবং ভিজা মাটি চাটছে। লোকটি মনে মনে বললো, আমি যেমন পিপাসার্ত হয়েছিলাম, কুকুরটিরও তদ্রুপ পিপাসা লেগেছে। সে পুনরায় কূপে নামলো এবং তার মোজা ভর্তি করে পানি তুলে তা নিজের দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে উপরে আসলো এবং কুকুরটিকে তা পান করালো। আল্লাহ তার এই কাজ কবুল করলেন এবং তাকে ক্ষমা করে দিলেন। সাহাবীগণ বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! পশুর জন্যও কি আমাদেরকে সওয়াব দেয়া হবে? তিনি বলেনঃ প্রতিটি প্রাণধারী সৃষ্টির সেবার জন্য সওয়াব রয়েছে (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, মুওয়াত্তা মালিক, আহমাদ, ইবনে হিব্বান)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (380)


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ : حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : عُذِّبَتِ امْرَأَةٌ فِي هِرَّةٍ حَبَسَتْهَا حَتَّى مَاتَتْ جُوعًا، فَدَخَلَتِ فِيهَا النَّارَ، يُقَالُ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ : لاَ أَنْتِ أَطْعَمْتِيهَا، وَلاَ سَقِيتِيهَا حِينَ حَبَسْتِيهَا، وَلاَ أَنْتِ أَرْسَلْتِيهَا، فَأَكَلَتْ مِنْ خَشَاشِ الأَرْضِ .




৩৮০। ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এক নারী একটি বিড়ালের কারণে দোযখের শাস্তি প্রাপ্ত হয়। সে সেটিকে বেঁধে রেখেছিল, ফলে অনাহারে তার মৃত্যু হয় এবং সেই কারণে উক্ত নারী দোযখে যায়। তাকে বলা হবে, আল্লাহ অধিক অবগত, তুই একে আটকে রাখা অবস্থায় না একে খাদ্য ও পানীয় দিলি আর না একে ছেড়ে দিলি যে, পোকা-মাকড় খেয়ে তার জীবন রক্ষা করতে পারতো (বুখারী, মুসলিম)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (381)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُقْبَةَ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْقُرَشِيُّ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَرِيزٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا حِبَّانُ بْنُ زَيْدٍ الشَّرْعَبِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : ارْحَمُوا تُرْحَمُوا، وَاغْفِرُوا يَغْفِرُ اللَّهُ لَكُمْ، وَيْلٌ لأَقْمَاعِ الْقَوْلِ، وَيْلٌ لِلْمُصِرِّينَ الَّذِينَ يُصِرُّونَ عَلَى مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ .




৩৮১। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা দয়া করো তোমাদেরকেও দয়া করা হবে। তোমরা ক্ষমা করো, তোমাদেরকেও আল্লাহ ক্ষমা করবেন। সর্বনাশ তাদের যারা কথা ভুলে যায় এবং ধ্বংস তাদের জন্য যারা জ্ঞাতসারে বারবার অন্যায় কাজ করতে থাকে (আবু দাউদ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (382)


حَدَّثَنَا مَحْمُودٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا يَزِيدُ، قَالَ : أَخْبَرَنَا الْوَلِيدُ بْنُ جَمِيلٍ الْكِنْدِيُّ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : مَنْ رَحِمَ وَلَوْ ذَبِيحَةً، رَحِمَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ .




৩৮২। আবু উমামা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দয়াপরবশ হয়, তা যবেহ করার প্রাণীর প্রতি হলেও, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে দয়া করবেন।









আল-আদাবুল মুফরাদ (383)


حَدَّثَنَا طَلْقُ بْنُ غَنَّامٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا الْمَسْعُودِيُّ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، عَنْ عَبْدِ اللهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَزَلَ مَنْزِلاً فَأَخَذَ رَجُلٌ بَيْضَ حُمَّرَةٍ، فَجَاءَتْ تَرِفُّ عَلَى رَأْسِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : أَيُّكُمْ فَجَعَ هَذِهِ بِبَيْضَتِهَا ؟ فَقَالَ رَجُلٌ : يَا رَسُولَ اللهِ، أَنَا أَخَذْتُ بَيْضَتَهَا، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : ارْدُدْ، رَحْمَةً لَهَا .




৩৮৩। আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মনযিলে অবতরণ করলেন। এক ব্যক্তি হুম্মারা পাখির ডিম তুলে আনলো। পাখিটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাথার উপর এসে উড়তে লাগলো। তিনি বলেনঃ তোমাদের মধ্যে কে তার ডিম তুলে এনে একে শংকিত করেছে? এক ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তার ডিম পেড়ে এনেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তার প্রতি দয়াপরবশ হয়ে ডিম রেখে আসো (আবু দাউদ, আহমাদ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (384)


حَدَّثَنَا عَارِمٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ قَالَ : كَانَ ابْنُ الزُّبَيْرِ بِمَكَّةَ وَأَصْحَابُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَحْمِلُونَ الطَّيْرَ فِي الأَقْفَاصِ .




৩৮৪। হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ) বলেন, ইবনুয যুবাইব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) মক্কায় (শাসনকর্তা) ছিলেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ খাঁচায় পাখি পোষতেন বা খাঁচায় করে (অন্যত্র) নিয়ে যেতেন।









আল-আদাবুল মুফরাদ (385)


حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ : حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ : دَخَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَرَأَى ابْنًا لأَبِي طَلْحَةَ يُقَالُ لَهُ : أَبُو عُمَيْرٍ، وَكَانَ لَهُ نُغَيْرٌ يَلْعَبُ بِهِ، فَقَالَ : يَا أَبَا عُمَيْرٍ، مَا فَعَلَ أَوْ، أَيْنَ، النُّغَيْرُ ؟ .




৩৮৫। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আবু তালহার ঘরে) প্রবেশ করলেন। তিনি আবু তালহার বালক পুত্র আবু উমাইরকে দেখতে পেলেন। তার একটি বুলবুলি ছিল এবং সে তা নিয়ে খেলা করতো। তিনি তাকে বলেনঃ ওহে আবু উমাইর! কি করলো তোমার নুগায়ের (বুখারী, মুসলিম)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (386)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ : حَدَّثَنِي اللَّيْثُ قَالَ : حَدَّثَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ : أَخْبَرَنِي حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أُمَّهَ أُمَّ كُلْثُومِ ابْنَةَ عُقْبَةَ بْنِ أَبِي مُعَيْطٍ أَخْبَرَتْهُ، أَنَّهَا سَمِعَتْ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : لَيْسَ الْكَذَّابُ الَّذِي يُصْلِحُ بَيْنَ النَّاسِ، فَيَقُولُ خَيْرًا، أَوْ يَنْمِي خَيْرًا، قَالَتْ : وَلَمْ أَسْمَعْهُ يُرَخِّصُ فِي شَيْءٍ مِمَّا يَقُولُ النَّاسُ مِنَ الْكَذِبِ إِلاَّ فِي ثَلاَثٍ : الإِصْلاَحِ بَيْنَ النَّاسِ، وَحَدِيثِ الرَّجُلِ امْرَأَتَهُ، وَحَدِيثِ الْمَرْأَةِ زَوْجَهَا .




৩৮৬। উম্মু কুলসুম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ যে ব্যক্তি লোকজনের মধ্যে আপোষ-মীমাংসা করে দেয় এবং কল্যাণকর কথা বলে বা কল্যাণকর ব্যবস্থার উন্নয়ন করে, সে মিথুক নয়। উম্মু কুলসুম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আরো বলেন, আমি তিনটি ক্ষেত্র ছাড়া আর কোন ব্যাপারে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কাউকে মিথ্যা বলার অনুমতি দিতে শুনিনিঃ (১) লোকজনের মধ্যে আপোষ-রফা করতে, (২) স্ত্রীর নিকট স্বামীর কথায় এবং (৩) স্বামীর নিকট স্ত্রীর কথায় (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (387)


حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : عَلَيْكُمْ بِالصِّدْقِ، فَإِنَّ الصِّدْقَ يَهْدِي إِلَى الْبِرِّ، وَإِنَّ الْبِرَّ يَهْدِي إِلَى الْجَنَّةِ، وَإِنَّ الرَّجُلَ يَصْدُقُ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللهِ صِدِّيقًا، وَإِيَّاكُمْ وَالْكَذِبَ، فَإِنَّ الْكَذِبَ يَهْدِي إِلَى الْفُجُورِ، وَالْفُجُورَ يَهْدِي إِلَى النَّارِ، وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَكْذِبُ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللهِ كَذَّابًا .




৩৮৭। আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা অবশ্যই সত্যের ধারক হবে। কেননা সত্যবাদিতা কল্যাণের দিকে পথ দেখায় এবং কল্যাণ জান্নাতের দিকে পথ দেখায়। কোন ব্যক্তি সত্যবাদিতা অবলম্বন করে শেষ পর্যন্ত আল্লাহর দরবারে পরম সত্যাশ্রয়ী বলে তালিকাভুক্ত হয়। সাবধান! তোমরা মিথ্যা পরিহার করবে। কেননা মিথ্যা পাপাচারের দিকে চালিত করে এবং পাপাচার জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। কোন ব্যক্তি মিথ্যাচার অবলম্বন করে এবং শেষ পর্যন্ত আল্লাহর দরবারে চরম মিথ্যাবাদীর তালিকাভুক্ত হয় (বুখারী, মুসলিম, দারিমী, তিরমিযী)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (388)


حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ : حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ : لاَ يَصْلُحُ الْكَذِبُ فِي جِدٍّ وَلاَ هَزْلٍ، وَلاَ أَنْ يَعِدَ أَحَدُكُمْ وَلَدَهُ شَيْئًا ثُمَّ لاَ يُنْجِزُ لَهُ .




৩৮৮। আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, মিথ্যা বাস্তবিকপক্ষেও নয় এবং ঠাট্টাচ্ছলেও সংগত নয়। তোমাদের কেউ তার সন্তানকে কিছু দেয়ার ওয়াদা করে তা তাকে না দেয়ার বিষয়টিও সংগত নয়।









আল-আদাবুল মুফরাদ (389)


حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ وَثَّابٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : الْمُؤْمِنُ الَّذِي يُخَالِطُ النَّاسَ، وَيَصْبِرُ عَلَى أَذَاهُمْ، خَيْرٌ مِنَ الَّذِي لاَ يُخَالِطُ النَّاسَ، وَلاَ يَصْبِرُ عَلَى أَذَاهُمْ .




৩৮৯। ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ঈমানদার ব্যক্তি জনগণের সাথে মেলামেশা করে এবং তাদের উৎপাত সহ্য করে সে যে ব্যক্তি মানুষের সাথে মেলামেশাও করে না এবং তাদের উৎপাতও সহ্য করে না, তার চেয়ে উত্তম (তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, আহমাদ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (390)


حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سُفْيَانَ قَالَ : حَدَّثَنِي الأَعْمَشُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : لَيْسَ أَحَدٌ، أَوْ لَيْسَ شَيْءٌ، أَصْبَرَ عَلَى أَذًى يَسْمَعُهُ مِنَ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ، وَإِنَّهُمْ لَيَدَّعُونَ لَهُ وَلَدًا، وَإِنَّهُ لَيُعَافِيهِمْ وَيَرْزُقُهُمْ .




৩৯০। আবু মূসা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কষ্টদায়ক কিছু শোনার পরও ধৈর্য ধারণের ব্যাপারে মহামহিম আল্লাহর চেয়ে অধিক ধৈর্যশীল আর কেউ বা কিছু নাই। লোকে তাঁর সন্তান আছে বলে দাবি করে। এতদসত্ত্বেও তিনি তাদেরকে নিরাপদ রাখেন এবং রিযিক দান করেন (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (391)


حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبِي، قَالَ : حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ قَالَ : سَمِعْتُ شَقِيقًا يَقُولُ : قَالَ عَبْدُ اللهِ : قَسَمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قِسْمَةً، كَبَعْضِ مَا كَانَ يَقْسِمُ، فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ : وَاللَّهِ، إِنَّهَا لَقِسْمَةٌ مَا أُرِيدَ بِهَا وَجْهَ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ، قُلْتُ أَنَا : لَأَقُولَنَّ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَأَتَيْتُهُ، وَهُوَ فِي أَصْحَابِهِ، فَسَارَرْتُهُ، فَشَقَّ ذَلِكَ عَلَيْهِ صلى الله عليه وسلم وَتَغَيَّرَ وَجْهُهُ، وَغَضِبَ، حَتَّى وَدِدْتُ أَنِّي لَمْ أَكُنْ أَخْبَرَتْهُ، ثُمَّ قَالَ : قَدْ أُوذِيَ مُوسَى بِأَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَصَبَرَ .




৩৯১। আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু মাল বণ্টন করলেন, সাধারণত যেভাবে তিনি বণ্টন করতেন। আনসার সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি বললো, আল্লাহর শপথ! এটা এমন বণ্টন যাতে মহামহিম আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের অভিপ্রায় অনুপস্থিত। আমি মনে মনে বললাম, আমি অবশ্যই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলবো। আমি তার নিকট আসলাম। তিনি তখন তার সাহাবী পরিবেষ্টিত ছিলেন। আমি তাঁকে নীরবে তা বললাম। এতে তাঁর মনোকষ্ট হলো এবং তাঁর চেহারা পরিবর্তিত হয়ে গেলো। তিনি এতো অসন্তুষ্ট হলেন যে, আমি মনে মনে বললাম, যদি আমি তা তাকে অবগত না করতাম। অতঃপর তিনি বলেনঃ মূসা (আবু দাউদ)-কে এর চেয়েও অধিক কষ্ট দেয়া হয়েছে, কিন্তু তিনি ধৈর্য ধারণ করেছেন (বুখারী, মুসলিম, মুসনাদ আহমাদ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (392)


حَدَّثَنَا صَدَقَةُ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : أَلاَ أُنَبِّئُكُمْ بِدَرَجَةٍ أَفْضَلَ مِنَ الصَّلاَةِ وَالصِّيَامِ وَالصَّدَقَةِ ؟ قَالُوا : بَلَى، قَالَ : صَلاَحُ ذَاتِ الْبَيْنِ، وَفَسَادُ ذَاتِ الْبَيْنِ هِيَ الْحَالِقَةُ .




৩৯২। আবু দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি কি তোমাদেরকে নামায, রোযা ও দান-খয়রাতের চেয়ে উত্তম কাজ সম্পর্কে অবহিত করবো না। সাহাবীগণ বলেন, নিশ্চয়। তিনি বলেনঃ জনগণের মধ্যে (বিবাদের) আপোষ-রফা। আর জনগণের মধ্যকার বিবাদ-বিসম্বাদ হলো ধ্বংসকারী (দারিমী, তিরমিযী)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (393)


حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ، قَالَ : أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ الْحُسَيْنِ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ : ( فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَصْلِحُوا ذَاتَ بَيْنِكُمْ ) ، قَالَ : هَذَا تَحْرِيجٌ مِنَ اللهِ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَنْ يَتَّقُوا اللَّهَ وَأَنْ يُصْلِحُوا ذَاتَ بَيْنِهِمْ .




৩৯৩। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। ”অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং নিজেদের অবস্থা সংশোধন করো” (সূরা আনফালঃ ১)। উক্ত আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর দ্বারা আল্লাহ বান্দার উপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছেন যে, তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং তাদের পারস্পরিক অবস্থার সংশোধন করে (তাবারানী)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (394)


حَدَّثَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنْ ضُبَارَةَ بْنِ مَالِكٍ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، أَنَّ أَبَاهُ حَدَّثَهُ، أَنَّ سُفْيَانَ بْنَ أُسَيْدٍ الْحَضْرَمِيَّ حَدَّثَهُ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : كَبُرَتْ خِيَانَةً أَنْ تُحَدِّثَ أَخَاكَ حَدِيثًا هُوَ لَكَ مُصَدِّقٌ، وَأَنْتَ لَهُ كَاذِبٌ .




৩৯৪। সুফিয়ান ইবনে উসাইদ আল-হাদৱামী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ সবচাইতে মারাত্মক বিশ্বাসভঙ্গ এই যে, তুমি তোমার কোন ভাইকে কোন কথা বললে, সে তো তোমাকে বিশ্বাস করেছে, অথচ তুমি তাকে মিথ্যা কথাই বলেছে (আবু দাউদ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (395)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُحَارِبِيُّ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : لاَ تُمَارِ أَخَاكَ، وَلاَ تُمَازِحْهُ، وَلاَ تَعِدْهُ مَوْعِدًا فَتُخْلِفَهُ .




৩৯৫। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তুমি তোমার ভাইয়ের সাথে ঝগড়া করো না, তাকে উপহাস করো না এবং তার সাথে এমন ওয়াদা করো না তুমি যার খেলাপ করবে (তিরমিযী)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (396)


حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : شُعْبَتَانِ لاَ تَتْرُكُهُمَا أُمَّتِي : النِّيَاحَةُ وَالطَّعْنُ فِي الأَنْسَابِ .




৩৯৬। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দুইটি (মন্দ) কর্ম যা আমার উম্মাত ত্যাগ করবে না : মৃতের জন্য বিলাপ করে কান্নাকাটি করা এবং বংশ তুলে খোটা দেয়া (মুসলিম, তিরমিযী, ইবনুল জারূদ)।