আল-আদাবুল মুফরাদ
ثُمَّ أَتَيْنَاهُ مَرَّةً أُخْرَى، وَهُوَ يَبْنِي حَائِطًا لَهُ، فَقَالَ : إِنَّ الْمُسْلِمَ يُؤْجَرُ فِي كُلِّ شَيْءٍ يُنْفِقُهُ إِلاَّ فِي شَيْءٍ يَجْعَلُهُ فِي التُّرَابِ .
৪৫৭। কায়েস ইবনে আবু হাযেম (রহঃ) বলেন, অতঃপর আর একদিন আমরা তার নিকট আসলাম। তখন তিনি তার একটি দেয়াল নির্মাণে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি বলেন, মুসলিমকে তার প্রতিটি খরচের জন্য সওয়াব দেয়া হয়, কিন্তু যা সে মাটিতে খরচ করে (ঘরবাড়ি নির্মাণ করে) তাতে নয় (বুখারী, মুসলিম)।
حَدَّثَنَا عُمَرُ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبِي، قَالَ : حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو السَّفَرِ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ : مَرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، وَأَنَا أُصْلِحُ خُصًّا لَنَا، فَقَالَ : مَا هَذَا ؟ قُلْتُ : أُصْلِحُ خُصَّنَا يَا رَسُولَ اللهِ، فَقَالَ : الأَمْرُ أَسْرَعُ مِنْ ذَلِكَ .
৪৫৮। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাচ্ছিলেন, তখন আমি আমার কুড়ে ঘর মেরামত করছিলাম। তিনি বলেনঃ এটা কি? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার কুড়ে ঘর মেরামত করছি। তিনি বলেনঃ ব্যাপারটি (মৃত্যু বা কিয়ামত) এর চেয়েও দ্রুত ধেয়ে আসছে। (আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, আহমাদ, ইবেন হিব্বান)
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ وَقَبِيصَةُ قَالاَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ خَمِيلٍ، عَنْ نَافِعِ بْنِ عَبْدِ الْحَارِثِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : مِنْ سَعَادَةِ الْمَرْءِ الْمَسْكَنُ الْوَاسِعُ، وَالْجَارُ الصَّالِحُ، وَالْمَرْكَبُ الْهَنِيءُ .
৪৫৯। নাফে ইবনে আবদুল হারিস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তির সৌভাগ্যের নিদর্শন হলো প্রশস্ত বসতবাড়ি, উত্তম প্রতিবেশী এবং মনোপূত বা আরামদায়ক বাহন (আহমাদ, তাহাবী)।
حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ : حَدَّثَنَا الضَّحَّاكُ بْنُ نِبْرَاسٍ أَبُو الْحَسَنِ، عَنْ ثَابِتٍ، أَنَّهُ كَانَ مَعَ أَنَسٍ بِالزَّاوِيَةِ فَوْقَ غُرْفَةٍ لَهُ، فَسَمِعَ الأَذَانَ، فَنَزَلَ وَنَزَلْتُ، فَقَارَبَ فِي الْخُطَا فَقَالَ : كُنْتُ مَعَ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ فَمَشَى بِي هَذِهِ الْمِشْيَةَ وَقَالَ : أَتَدْرِي لِمَ فَعَلْتُ بِكَ ؟ فَإِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَشَى بِي هَذِهِ الْمِشْيَةَ وَقَالَ : أَتَدْرِي لِمَ مَشَيْتُ بِكَ ؟ قُلْتُ : اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ : لِيَكْثُرَ عَدَدُ خُطَانَا فِي طَلَبِ الصَّلاةِ .
৪৬০। সাবিত (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর সাথে তার ঘরে উপরের মাচানে ছিলেন। তিনি আযান শুনে নিচে নামলে আমিও তার সাথে নিচে নামলাম। তিনি ঘন ঘন পা ফেলে (মসজিদে) যেতে লাগলেন। তিনি বলেন, একদা আমি যায়েদ ইবনে সাবিত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর সাথে ছিলাম। তিনি এভাবে আমাকে সাথে নিয়ে হাটলেন এবং বললেন, তুমি কি জানো, আমি তোমার সাথে এভাবে কেন হাঁটছি? কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সাথে নিয়ে এভাবে (ঘন কদমে) হেঁটেছিলেন এবং বলেছিলেনঃ তুমি কি জানো, আমি কেন তোমার সাথে এভাবে হাঁটছি? আমি বললাম, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই অধিক জ্ঞাত। তিনি বলেনঃ যাতে নামাযের উদ্দেশ্যে আমাদের পদচারণার সংখ্যা অধিক হয় (ইবনে আবু শায়বা)।
حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يُونُسَ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي الْفُدَيْكِ قَالَ : حَدَّثَنِي عَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِي يَحْيَى، عَنِ ابْنِ أَبِي هِنْدَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَبْنِيَ النَّاسُ بُيُوتًا، يُشَبِّهُونَهَا بِالْمَرَاحِلِ .
৪৬১। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ লোকে নকশি কাঁথার মত কারুকার্যময় বাড়িঘর নির্মাণ না করা পর্যন্ত কিয়ামত হবে না। ইবরাহীম (রহঃ) বলেন, ‘মারাজিল’ অর্থ কারুকার্য মণ্ডিত কাপড়।
حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عُمَيْرٍ، عَنْ وَرَّادٍ كَاتِبِ الْمُغِيرَةِ قَالَ : كَتَبَ مُعَاوِيَةُ إِلَى الْمُغِيرَةِ : اكْتُبْ إِلَيَّ مَا سَمِعْتَ مِنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَكَتَبَ إِلَيْهِ : إِنَّ نَبِيَّ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلاَةٍ : لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، اللَّهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلاَ مُعْطِيَ لَمَا مَنَعْتَ، وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ، وَكَتَبَ إِلَيْهِ : إِنَّهُ كَانَ يَنْهَى عَنْ قِيلَ وَقَالَ، وَكَثْرَةِ السُّؤَالِ، وَإِضَاعَةِ الْمَالِ . وَكَانَ يَنْهَى عَنْ عُقُوقِ الأُمَّهَاتِ، وَوَأْدِ الْبَنَاتِ، وَمَنْعٍ وَهَاتِ .
৪৬২। মুগীরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর সচিব ওয়াররাদ (রহঃ) বলেন, মুয়াবিয়া (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) মুগীরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে লিখে পাঠান, আপনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যা শুনেছেন তা আমাকে লিখে পাঠান। মুগীরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাকে লিখলেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি নামাযের পর বলতেনঃ ”আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নাই, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নাই। তাঁরই রাজত্ব, তাঁর জন্যই সব প্রশংসা। তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। হে আল্লাহ! তুমি যা দান করো তা কেউ রোধ করতে পারে না এবং যা প্রতিরোধ করো তা কেউ দান করতে পারে না। কোন সম্পদশালীর সম্পদ তোমার অসন্তুষ্টির মোকাবিলায় কোন উপকারে আসে না”। তিনি তাকে পত্রে আরো লিখেনঃ তিনি অযথা অধিক কথাবার্তা বলতে, যাঞ্চা করতে এবং সম্পদের অপচয় করতে নিষেধ করতেন। তিনি আরো নিষেধ করতেন, মায়েদের অবাধ্য হতে, কন্যা সন্তানদের জীবন্ত প্রোথিত করতে এবং কার্পণ্য করতে ও অপরের প্রাপ্য রুখে রাখতে। (বুখারী, মুসলিম, দারিমী, আহমাদ, ইবনে হিব্বান, ইবনে খুজাইমাহ, আবু আওয়ানা)
حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ : حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : لَنْ يُنَجِّي أَحَدًا مِنْكُمْ عَمَلٌ، قَالُوا : وَلاَ أَنْتَ يَا رَسُولَ اللهِ، قَالَ : وَلاَ أَنَا، إِلاَّ أَنْ يَتَغَمَّدَنِي اللَّهُ مِنْهُ بِرَحْمَةٍ، فَسَدِّدُوا وَقَارِبُوا وَاغْدُوا وَرُوحُوا، وَشَيْءٌ مِنَ الدُّلْجَةِ، وَالْقَصْدَ الْقَصْدَ تَبْلُغُوا .
৪৬৩। আবু হুরায়রা (রহঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কোন ব্যক্তিকেই তার আমল মুক্তি দিতে পারবে না। সাহাবীগণ বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনিও নন কি? তিনি বলেনঃ আমিও নই, যদি না আল্লাহ তাঁর রহমত দ্বারা আমাকে আবৃত করে নেন। অতএব তোমরা সরল পথে চলো, তাঁর নৈকট্য লাভে সচেষ্ট হও, সকাল-সন্ধ্যায় ইবাদত করো, রাতের অন্ধকারেও কিছু ইবাদত করো এবং সর্বাবস্থায় ভারসাম্যপূৰ্ণপন্থা অবলম্বন করো -(বুখারী, মুসলিম, ইবনে মাজাহ)।
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللهِ، قَالَ : حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ : دَخَلَ رَهْطٌ مِنَ الْيَهُودِ عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا : السَّامُ عَلَيْكُمْ، قَالَتْ عَائِشَةُ فَفَهِمْتُهَا فَقُلْتُ : عَلَيْكُمُ السَّامُ وَاللَّعْنَةُ، قَالَتْ : فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : مَهْلاً يَا عَائِشَةُ، إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الرِّفْقَ فِي الأَمْرِ كُلِّهِ، فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ، أَوَ لَمْ تَسْمَعْ مَا قَالُوا ؟ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : قَدْ قُلْتُ : وَعَلَيْكُمْ .
৪৬৪। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, কয়েকজন ইহুদীর একটি দল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রবেশ করে বললো, আসসামু আলাইকুম (তোমাদের মৃত্যু হোক)। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, কথাটা আমি বুঝতে পারলাম এবং বললাম, ওয়া আলাইকুমুস সামু ওয়াল-লানাতু (তোমাদের মৃত্যু হোক এবং অভিসম্পাতও)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ থামো হে আয়েশা! আল্লাহ সব ব্যাপারে নম্রতা পছন্দ করেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তারা কি বলেছে তা আপনি শুনেননি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমিও তো ওয়া আলাইকুম বলেছি -(বুখারী, মুসলিম)।
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ تَمِيمِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هِلاَلٍ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : مَنْ يُحْرَمُ الرِّفْقَ يُحْرَمُ الْخَيْرَ .
৪৬৫। জারীর ইবনে আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নম্রতার গুণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে, সে কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرٍو، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ يَعْلَى بْنِ مَمْلَكٍ، عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : مَنْ أُعْطِيَ حَظَّهُ مِنَ الرِّفْقِ فَقَدْ أُعْطِيَ حَظَّهُ مِنَ الْخَيْرِ، وَمَنْ حُرِمَ حَظَّهُ مِنَ الرِّفْقِ، فَقَدْ حُرِمَ حَظَّهُ مِنَ الْخَيْرِ، أَثْقَلُ شَيْءٍ فِي مِيزَانِ الْمُؤْمِنِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حُسْنُ الْخُلُقِ، وَإِنَّ اللَّهَ لَيُبْغِضُ الْفَاحِشَ الْبَذِيَّ .
৪৬৬। আবু দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যাকে নম্রতার মতো গুণ দান করা হয়েছে তাকে কল্যাণ দান করা হয়েছে। আর যাকে নম্রতার গুণ থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে, সে কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কিয়ামতের দিন মুমিন বান্দার নেকীর পাল্লায় সবচেয়ে ভারী বস্তু হবে উত্তম চরিত্র। নিশ্চয় আল্লাহ অশ্লীলভাষী ও বাচাল লোককে পছন্দ করেন না -(তিরমিযী, আবু দাউদ)।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ قَالَ : حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ وَاسْمُهُ أَبُو بَكْرٍ مَوْلَى زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ : سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ قَالَتْ عَمْرَةُ : قَالَتْ عَائِشَةُ : قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : أَقِيلُوا ذَوِيِ الْهَيْئَاتِ عَثَرَاتِهِمْ .
৪৬৭। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ত্রুটি-বিচ্যুতিকে তুচ্ছ জ্ঞান করো। (আবু দাউদ, নাসাঈ)
حَدَّثَنَا الْغُدَانِيُّ أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ، قَالَ : حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : لاَ يَكُونُ الْخُرْقُ فِي شَيْءٍ إِلاَّ شَانَهُ، وَإِنَّ اللَّهَ رَفِيقٌ يُحِبُّ الرِّفْقَ .
৪৬৮। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কর্কশ স্বভাব যে কোন বস্তুকেই দোষযুক্ত করে। নিশ্চয় আল্লাহ নম্র এবং তিনিও নম্রতা পছন্দ করেন। (তিরমিযি, ইবনে মাজাহ)
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ قَالَ : سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ أَبِي عُتْبَةَ يُحَدِّثُ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَشَدَّ حَيَاءً مِنَ الْعَذْرَاءِ فِي خِدْرِهَا، وَكَانَ إِذَا كَرِهَ شَيْئًا عَرَفْنَاهُ فِي وَجْهِهِ .
৪৬৯। আবু সাঈদ খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন পর্দানশীন কুমারী মেয়েদের চেয়েও অধিক লজ্জাশীল। কোন কিছু তাঁর অপছন্দ হলে আমরা তাঁর চেহারা দর্শনেই তা বুঝতে পারতাম -(বুখারী, মুসলিম)।
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، قَالَ : حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ قَابُوسَ، أَنَّ أَبَاهُ حَدَّثَهُ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : الْهَدْيُ الصَّالِحُ، وَالسَّمْتُ، وَالِاقْتِصَادُ جُزْءٌ مِنْ سَبْعِينَ جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ .
৪৭০। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ উত্তম চালচলন, সদাচার এবং মিতাচার হচ্ছে নবুয়াতের সত্তর ভাগের একভাগ (আবু দাউদ)।
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْمِقْدَامِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ : كُنْتُ عَلَى بَعِيرٍ فِيهِ صُعُوبَةٌ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : عَلَيْكِ بِالرِّفْقِ، فَإِنَّهُ لاَ يَكُونُ فِي شَيْءٍ إِلا زَانَهُ، وَلاَ يُنْزَعُ مِنْ شَيْءٍ إِلا شَانَهُ .
৪৭১। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি একটি উটের পিঠে সওয়ার ছিলাম। তা ছিল বেশ কষ্টদায়ক। (আমি তাকে প্রহার করলে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি অবশ্যই নম্রতা অবলম্বন করবে। কোন বস্তুর মধ্যে তা বিদ্যমান থাকলে তা সেই বস্তুকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে। আর কোন বস্তু থেকে তা অপসারিত করা হলে তা দোষদুষ্ট হয়ে যায় (মুসলিম)।
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، قَالَ : حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : إِيَّاكُمْ وَالشُّحَّ، فَإِنَّهُ أَهْلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ، سَفَكُوا دِمَاءَهُمْ، وَقَطَعُوا أَرْحَامَهُمْ، وَالظُّلْمُ ظُلُمَاتٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ .
৪৭২। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাবধান! কৃপণতা পরিহার করবে। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহকে এই কৃপণতাই ধ্বংস করেছে। ফলে তারা পরস্পর হানাহানিতে লিপ্ত হয়েছে এবং আত্মীয় সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। যুলুম কিয়ামতের দিন ঘনীভূত অন্ধকাররূপে আবির্ভূত হবে (মুসলিম, আহমাদ, ইবনে হিব্বান)।
حَدَّثَنَا حَرَمِيُّ بْنُ حَفْصٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، قَالَ : حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ كَثِيرِ بْنِ عُبَيْدٍ قَالَ : حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ : دَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، فَقَالَتْ : أَمْسِكْ حَتَّى أَخِيطَ نَقْبَتِي فَأَمْسَكْتُ فَقُلْتُ : يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ، لَوْ خَرَجْتُ فَأَخْبَرْتُهُمْ لَعَدُّوهُ مِنْكِ بُخْلاً، قَالَتْ : أَبْصِرْ شَأْنَكَ، إِنَّهُ لاَ جَدِيدَ لِمَنْ لاَ يَلْبَسُ الْخَلَقَ .
৪৭৩। কাসীর ইবনে উবায়দুল্লাহ (রহঃ) বলেন, আমি উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট গেলাম। তিনি বলেন, একটু অপেক্ষা করো। আমি আমার মুখাভরণটি একটু সেলাই করে নেই। আমি অপেক্ষা করলাম। আমি বললাম, হে উম্মুল মুমিনীন! আমি যদি বাইরে গিয়ে লোকজনকে অবহিত করি তবে তারা এটাকে আপনার কৃপণতা বলবে। তিনি বলেন, তুমি নিজের অবস্থার দিকে তাকাও। যে ব্যক্তি পুরাতন কাপড় পরিধান করে না তার জন্য নতুন কাপড় নয় (তাবাকাত ইবনে সাদ)।
حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ : حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مُغَفَّلٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : إِنَّ اللَّهَ رَفِيقٌ يُحِبُّ الرِّفْقَ، وَيُعْطِي عَلَيْهِ مَا لاَ يُعْطِي عَلَى الْعُنْفِ .
৪৭৪। আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তাআলা নম্র, তিনি নম্রতা পছন্দ করেন। তিনি নম্রতার উসীলায় (বান্দাকে) এমন কিছু দান করেন যা কঠোরতার বেলায় দান করেন না (মুসলিম, আবু দাউদ)।
حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ قَالَ : سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : يَسِّرُوا وَلاَ تُعَسِّرُوا، وَسَكِّنُوا ولا تُنَفِّرُوا .
৪৭৫। আনাস ইবনে মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সহজ করো, কঠিন করো না, সান্ত্বনা দাও, ঘৃণা বা বিরক্তি উৎপাদন করো না -(বুখারী, মুসলিম)।
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ : حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ : نَزَلَ ضَيْفٌ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ، وَفِي الدَّارِ كَلْبَةٌ لَهُمْ، فَقَالُوا : يَا كَلْبَةُ، لاَ تَنْبَحِي عَلَى ضَيْفِنَا فَصِحْنَ الْجِرَاءُ فِي بَطْنِهَا، فَذَكَرُوا لِنَبِيٍّ لَهُمْ فَقَالَ : إِنَّ مَثَلَ هَذَا كَمَثَلِ أُمَّةٍ تَكُونُ بَعْدَكُمْ، يَغْلِبُ سُفَهَاؤُهَا عُلَمَاءَهَا .
৪৭৬। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, বনী ইসরাঈলে জনৈক মেহমান আসলো। তাদের ঘরের দরজায় ছিল তাদের একটি মাদী কুকুর। লোকজন বললো, হে কুকুরী! আমাদের মেহমানের আগমনে ঘেউ ঘেউ করো না। (কুকুরী তো নীরব থাকলো কিন্তু) তার পেটের দানাগুলো ঘেউ ঘেউ করতে লাগলো। তারা (বিষয়টি) তাদের নবীর কাছে উল্লেখ করলো। তিনি বলেনঃ এর অনুরূপ তোমাদের পরবর্তী উম্মাতের মধ্যে ঘটবে। তাদের নির্বোধেরা তাদের আলেমদের পরাভূত করবে (আবু দাউদ)।