হাদীস বিএন


বুলূগুল মারাম





বুলূগুল মারাম (861)


وَعَنْ عَلِيٍّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كُلُّ قَرْضٍ جَرَّ مَنْفَعَةً, فَهُوَ رِبًا». رَوَاهُ الْحَارِثُ بْنُ أَبِي أُسَامَةَ, وَإِسْنَادُهُ سَاقِطٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف جدا، ً وقد أفصح الحافظ في «التلخيص» (3/ 34) عن علته، فقال: في إسناده سوَّار بن مصعب، وهو متروك




৮৬১. ‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, লাভ বা উপস্বত্ত লাভের এরূপ সমস্ত ঋণই সুদে গণ্য হবে। হাদীসটিকে হারিস বিন আবূ উসামাহ বৰ্ণনা করেছেন; এর সানাদ সাকিত বা অগ্রহণযোগ্য বা বাতিল।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইমাম শাওকানী আল ফাতহুর রব্বানী ৭/৩৬৬৬, নাইলুল আওত্বার ৫/৩৫১ ইমাম সনআনী সুবুলুস সালাম ৩/৮২, ইবনু হাজার আসকালানী আত-তালখীসুল হাবীর ৩/৯৯৭ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে সাওয়ার বিন মাসআব (আল হামদানী) মাতরূক। ইমাম সুয়ূতী আল জামেউস সগীর ৬৩৩৬ গ্রন্থে দুর্বল বলেছেন। বিন বায মাজমু ফাতাওয়া ১৯/২৯৪ গ্রন্থে দুর্বল বলেছেন, তবে মাজমু ফাতাওয়া ২৫/২৫৬ গ্রন্থে বলেন, এটি দুর্বল তবে অর্থগত দিক থেকে সহীহ। সালেহ আল উসাইমীন বুলুগুল মারামের শরাহ ৪/১০২, গ্রন্থে বলেন, ‘এটি বিশুদ্ধ নয়’। শারহুল মুমতি ৯/১০৬ গ্রন্থে দুর্বল বলেছেন। শাইখ আলবানী ইরওয়াউল গালীল ১৩৯৮, যঈফুল জামে ৪২৪৪ গ্রন্থে দুর্বল বলেছেন। তবে ইরওয়াউল গালীল ১৩৯৭ গ্রন্থে ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।









বুলূগুল মারাম (862)


وَلَهُ شَاهِدٌ ضَعِيفٌ عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ عِنْدَ الْبَيْهَقِيِّ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
رواه البيهقي (5/ 350) موقوفًا بلفظ: كل قرض جر منفعة، فهو وجه من وجوه الربا وهو ضعيف كما قال الحافظ




৮৬২. ফুযালাহ বিন উবাইদ (রাঃ) থেকে, বাইহাকীতে দুর্বল সূত্রে এই হাদীসটির একটি শাহিদ (সমর্থক হাদীস) রয়েছে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। বাইহাকী ৫ম খণ্ড ৩৫০ পৃষ্ঠা।









বুলূগুল মারাম (863)


وَآخَرُ مَوْقُوفٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَامٍ عِنْدَ الْبُخَارِيِّ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
رواه البخاري (3814) وهو من طريق أبي بُردة قال: أتيت المدينة، فلقيت عبد الله بن سلام -رضي الله عنه-، فقال: ألا تجيء فأطعمك سويقًا وتمرًا، وتدخل في بيت؟ ثم قال: إنك في أرضٍ الرِّبا بها فاشٍ، إذا كان لك على رجل حق، فأهدى إليك حِمْل تِبْن، أو حِمْل شعير، أو حمل قَتٍّ، فإنه ربا. «تنبيه»: نفى صاحب «سبل السلام» وجود هذا الأثر في البخاري، وتبعه على ذلك كل من أخرج «البلوغ» إما تصريحًا وإما تلميحًا. مع أنه يوجد في موضعين من «الصحيح». وانظر الأصل




৮৬৩. এবং ‘আবদুল্লাহ বিন সালাম (রাঃ) থেকে বুখারীতে একটা মাওকুফ হাদীস রয়েছে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৩৮১৪, ৭৩৪২।

আবূ বুরদাহ (রহঃ) বলেন, আমি মদীনাহয় গেলাম; আবদুল্লাহ ইবনু সালামের সাথে আমার দেখা হল। তিনি আমাকে বললেন, তুমি আমাদের এখানে আসবে না? তোমাকে আমি খেজুর ও ছাতু খেতে দেব এবং একটি ঘরে থাকতে দেব। অতঃপর তিনি বললেন, তুমি এমন স্থানে (ইরাকে) বসবাস কর, যেখানে সুদের কারবার খুব ব্যাপক। যখন কোন মানুষের নিকট তোমার কোন প্রাপ্য থাকে আর সেই মানুষটি যদি তোমাকে কিছু ঘাস, খড় অথবা খড়ের ন্যায় সামান্য কিছুও হাদীয়া পেশ করে তার কাছ থেকে তা গ্ৰহণ করো না, যেহেতু তা সুদের অন্তর্ভুক্ত।









বুলূগুল মারাম (864)


عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ, عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه -[قَالَ]: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَقُولُ: «مَنْ أَدْرَكَ مَالَهُ بِعَيْنِهِ عِنْدَ رَجُلٍ قَدْ أَفْلَسَ, فَهُوَ أَحَقُّ بِهِ مِنْ غَيْرِهِ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2402)، ومسلم (1559)




৮৬৪। আবূ বাকর ইবনু ‘আবদির রহমান কর্তৃক আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যখন কেউ তার মাল এমন লোকের কাছে পায়, যে নিঃসম্বল হয়ে গেছে, তবে অন্যের চেয়ে সে-ই তার বেশী হকদার।[1]



وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَمَالِكٌ: مِنْ رِوَايَةِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ مُرْسَلًا بِلَفْظِ: أَيُّمَا رَجُلٌ بَاعَ مَتَاعًا فَأَفْلَسَ الَّذِي ابْتَاعَهُ, وَلَمْ يَقْبِضِ الَّذِي بَاعَهُ مِنْ ثَمَنِهِ شَيْئًا, فَوَجَدَ مَتَاعَهُ بِعَيْنِهِ, فَهُوَ أَحَقُّ بِهِ, وَإِنْ مَاتَ الْمُشْتَرِي فَصَاحِبُ الْمَتَاعِ أُسْوَةُ الْغُرَمَاءِ



وَوَصَلَهُ الْبَيْهَقِيُّ, وَضَعَّفَهُ تَبَعًا لِأَبِي دَاوُدَ



ইমাম আবূ দাউদ ও মালিক উক্ত আবূ বাকর (রাঃ) থেকে মুরসালরূপে এরূপ শব্দযোগে বর্ণনা করেছেন ‘কোন ব্যক্তি কোন বস্তু (বাকীতে) বিক্রয় করল, তারপর ক্রেতা অভাবগ্ৰস্ত হয়ে পড়লো, অথচ বিক্রেতা তার মূল্য বাবদ কিছুই গ্রহণ করেনি-যদি ঐ বিক্রিত বস্তুটি পূর্ববৎই থেকে থাকে তাহলে বিক্রেতাই ঐ বস্তুর অধিক হকদার হবে।



আর যদি ক্রেতা মরে গিয়ে থাকে তাহলে বিক্রেতা অন্যান্য মহাজ্জনদের সমপর্যায়ভুক্ত হবে।[2]



বাইহাকী একে মাওসূল বা অবিচ্ছিন্ন সানাদযুক্ত হাদীসরূপে বর্ণনা করেছেন ও আবূ দাউদের অভিমতের অনুকূলে হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন।[3]



وَرَوَى أَبُو دَاوُدَ, وَابْنُ مَاجَهْ: مِنْ رِوَايَةِ عُمَرَ بْنِ خَلْدَةَ قَالَ: أَتَيْنَا أَبَا هُرَيْرَةَ فِي صَاحِبٍ لَنَا قَدْ أَفْلَسَ, فَقَالَ: لَأَقْضِيَنَّ فِيكُمْ بِقَضَاءِ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: laquo;مَنْ أَفْلَسَ أَوْ مَاتَ فَوَجَدَ رَجُلٌ مَتَاعَهُ بِعَيْنِهِ فَهُوَ أَحَقُّ بِهِ. وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ, وَضَعَّفَ أَبُو دَاوُدَ هَذِهِ الزِّيَادَةَ فِي ذِكْرِ الْمَوْتِ



আর ‘উমার বিন খালদাহ কর্তৃক আবূ দাউদে ও ইবনু মাজাহতে বর্ণিত হয়েছে- আমরা আমাদের এক নিঃস্ব বন্ধুর ব্যাপারে আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর নিকটে আসলাম। তিনি বললেন, আমি এ ব্যাপারে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ফয়সালা অনুযায়ী ফয়সালা দেব। (তা হচ্ছে) যে ব্যক্তি বাকীতে কোন বস্তু ক্রয় করার পর নিঃস্ব হয়ে যায় অথবা মারা যায়, আর বিক্রেতা ব্যক্তি তার ঐ মাল ঠিকভাবে পেয়ে যায়, তাহলে সে ঐ বস্তুর সর্বাপেক্ষা অধিক হকদার হবে। হাকিম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আর আবূ দাউদ একে যঈফ বলেছেন এবং অত্র হাদীসে মৃত্যুর উল্লেখ সংযোজিত অংশটুকুকেও তিনি যঈফ বলেছেন।[4]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২৪০২, মুসলিম ১৫৫৯, তিরমিযী ১২৬২, ৪৬৭৬, নাসায়ী ৪৬৭৬, ৪৬৭৭, আবূ দাউদ ৩৫১৯, ৩৫২০, ইবনু মাজাহ ২৩৫৮, ২৩৫৯, আহমাদ ৭০৮৪, ৭৩২৫, ৭৩৪৩, মুওয়াত্তা মালেক ১৩৮৩, দারেমী ২৫৯০।


[2] আবু দাউদ ৩৫২২।

[3] বাইহাকী ৬ষ্ঠ খন্ড ৪৭ পৃষ্ঠা।

[4] হাদীসের সানাদটি দুর্বল। আবূ দাউদ ৩৫২৩, ইবনু মাজাহ ২৩৬০, হাকিম, ২য় খণ্ড ৫০ পৃষ্ঠা।









বুলূগুল মারাম (865)


وَعَنْ عَمْرِو بْنِ الشَّرِيدِ, عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «لَيُّ الْوَاجِدِ يُحِلُّ عِرْضَهُ وَعُقُوبَتَهُ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ, وَعَلَّقَهُ الْبُخَارِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه البخاري معلقًا (5/ 62)، ووصله أبو داود (3628)، والنسائي (7/ 316)، وأيضًا ابن ماجه (3627)، وابن حبان (1164) وقال الحافظ في «الفتح»: «إسناده حسن». و «الليّ»: المطل. و «الواجد»: الغنيّ. علق البخاري عن سفيان قوله: عرضه: يقول: مطلتني. وعقوبته: الحبس. قلت: ودليل الحبس في الشريعة حديث بَهْز بن حكيم، عن أبيه، عن جده، أن النبي -صلى الله عليه وسلم- حبس رجلًا في تهمة، ثم خلى عنه وهو حديث حسن، وقد خرجته في كتاب «الأقضية النبوية» لابن الطلَّاع -يسر الله نشره-




৮৬৫. ‘আমর ইবনু শারীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সামৰ্থ্যবান ধনী ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে টালবাহানা করার অপরাধ তার সম্মানহানি ও শাস্তিপ্রাপ্তিকে বৈধ করে দেয়। -বুখারী হাদীসটিকে মুআল্লাকরূপে বর্ণনা করেছেন; ইবনু হিব্বান একে সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইবনু মাজাহ ৩৬২৭, আবূ দাউদ ৩৬২৮, নাসাঈ ৪৬৯০, ইবনু মাজাহ ২৪২৭, আহমাদ ১৮৯৬২।









বুলূগুল মারাম (866)


وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: أُصِيبَ رَجُلٌ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - فِي ثِمَارٍ ابْتَاعَهَا, فَكَثُرَ دَيْنُهُ, فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - «تَصَدَّقُوا عَلَيْهِ»، فَتَصَدَّقَ النَّاسُ عَلَيْهِ, وَلَمْ يَبْلُغْ ذَلِكَ وَفَاءَ دَيْنِهِ, فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - لِغُرَمَائِهِ: «خُذُوا مَا وَجَدْتُمْ, وَلَيْسَ لَكُمْ إِلَّا ذَلِكَ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (1556)




৮৬৬. আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে কোন ব্যক্তি ফল ক্রয় করে তাতে বিপদগ্ৰস্ত হয়ে পড়েন এবং তার ঋণের বােঝা বেড়ে যায়। ফলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তাকে সাদাকাহ (সাহায্য) প্ৰদান কর। লোকেরা তাকে সাদাকাহ বা সাহায্য করলো কিন্তু ঐ সাহায্যের পরিমাণ ঋণ সম্পূর্ণভাবে পরিশোধ করার মত হল না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পাওনাদারদেরকে বললেন, যা পাচ্ছ তা নাও, এর অধিক আর তোমাদের জন্য হবে না।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ১৫৫৬, তিরমিযী ৬৫৫, নাসায়ী ৪৫৩০, ৪৬৭৮, আবূ দাউদ ৩৪৬৯, ইবনু মাজাহ ২৩৫৬ আহমাদ ১১১১৫৭।









বুলূগুল মারাম (867)


وَعَنِ ابْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ, عَنْ أَبِيهِ; - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - حَجَرَ عَلَى مُعَاذٍ مَالَهُ, وَبَاعَهُ فِي دَيْنٍ كَانَ عَلَيْهِ. رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ, وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ, وَأَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ مُرْسَلًا, وَرُجِّحَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف مرفوعًا. والصحيح فيه الإرسال كما رجح ذلك غير واحد، وقد تكلمت عليه مفصلًا في «الأقضية النبوية «لابن الطلاع




৮৬৭. কাব বিন মালিক কর্তৃক তাঁর পিতা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, অবশ্য রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাঁর প্রিয় সাহাবী) মুআযের মালের উপর ক্রোক আরোপ করেছিলেন, আর তাঁর ঋণ পরিশোধ হেতু তাঁর মাল বিক্রয় করে দিয়েছিলেন। দারাকুতনী, হাকিম একে সহীহ বলেছেন; আবূ দাউদ একে মুরসাল হাদীসররূপে বর্ণনা করেছেন এবং হাদীসটি মুরসাল হওয়াকে অগ্রগণ্য বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মারফূ’ হিসেবে যঈফ। মুরসাল হিসেবে সহীহ। ইবনু হাজার আসকালানী তাঁর আত-তালখীসুল হাবীর গ্রন্থে ৩য় খণ্ড ১০০১ পৃষ্ঠায় হাদীসটিকে মুরসাল বলেছেন। তিনি তার লিসানুল মীযান গ্রন্থে ১ম খণ্ড ৩৬৫ পৃষ্ঠায় বলেন, এর বর্ণনাকারীর মধ্যে ইবরাহীম বিন মু’আবিয়া আয যিয়াদী রয়েছে। উকাইলী তার আযযুআফা আল কাবীর গ্রন্থে ১ম খণ্ড ৬৮ পৃষ্ঠায় উক্ত ইবরাহীম সম্পর্কে বলেন, তার বর্ণিত হাদীসের সমর্থনে অন্য কেউ হাদীস বর্ণনা করেন নি। ইমাম হাইসামী মাজমাউজ যাওয়ায়েদ গ্রন্থে ৪র্থ খণ্ড ১৪৬ পৃষ্ঠায় এ রাবীকে দুর্বল বলেছেন।









বুলূগুল মারাম (868)


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- قَالَ: عُرِضْتُ عَلَى النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - يَوْمَ أُحُدٍ, وَأَنَا ابْنُ أَرْبَعَ عَشْرَةَ سَنَةً, فَلَمْ يُجِزْنِي, وَعُرِضْتُ عَلَيْهِ يَوْمَ الْخَنْدَقِ, وَأَنَا ابْنُ خَمْسَ عَشْرَةَ سَنَةً, فَأَجَازَنِي. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
وَفِي رِوَايَةٍ لِلْبَيْهَقِيِّ: «فَلَمْ يُجِزْنِي, وَلَمْ يَرَنِي بَلَغْتُ». وَصَحَّحَهَا ابْنُ خُزَيْمَةَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2664)، ومسلم (1868)، وزادا: «قال نافع: فقدمت على عمر بن عبد العزيز - وهو يومئذ خليفة - فحدثته هذا الحديث. فقال: إن هذا لحدّ بين الصغير والكبير. فكتب لعماله أن يفرضوا لمن بلغ خمس عشرة». وزاد مسلم: «ومن كان دون ذلك فاجعلوه في العيال

صحيح بهذه الزيادة، وإن لم أجده في «سنن البيهقي» بهذه الزيادة. لكن رواه ابن حبان في «صحيحه» (4708) بهذه الزيادة وسنده صحيح. ثم رأيت الحافظ في «الفتح» (5/ 279) قال: «أخرجه عبد الرازق، عن ابن جريج ورواه أبو عَوانة وابن حبان في «صحيحيهما» من وجه آخر عن ابن جريج. أخبرني نافع - قال سمير: كذا قال والذي في ابن حبان: أخبرني عبيد الله بن عمر، عن نافع فذكر الحديث بلفظ: «ولم يرني بلغت». وهي زيادة صحيحة لا مطعن فيها؛ لجلالة ابن جريج، وتقدمه على غيره في حديث نافع، وقد صرح فيها بالتحديث، فانتقى ما يخشى من تدليسه




৮৬৮. ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমার ১৪ বছর বয়সে ওহুদ যুদ্ধের সময় আমাকে যোদ্ধাদের মধ্যে শামিল করার জন্য রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে হাজির করা হলে তিনি আমাকে অনুমতি দেননি। তারপর খন্দকের যুদ্ধের সময় ১৫ বছর বয়সে আমাকে তাঁর সম্মুখে পেশ করা হলে তিনি আমাকে এর অনুমতি প্ৰদান করেন।[1]



বাইহাকীতে আছে, আমাকে অনুমতি দেননি। আর আমাকে সাবালক মনে করেননি। ইবনু খুযাইমাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।[2]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২৬৬৪, ৪০৯৭, ৪১০৭, মুসলিম ১৮৬৮, তিরমিযী ১৭১১, নাসায়ী ৩৪৩১, আবূ দাউদ ৪৪০৬, ইবনু মাজাহ ২৫৪৩, ৪৬৪৭।

বুখারী এবং মুসলিমের বর্ণনায় আরো রয়েছে, নাফি’ (রহঃ) বলেন, আমি খলীফা ‘উমার ইবনু ‘আবদুল ‘আযীযের নিকট গিয়ে এ হাদীস শুনালাম। তিনি বললেন, এটাই হচ্ছে প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্ত বয়সের সীমারেখা। অতঃপর তিনি তাঁর গভর্নরদেরকে লিখিত নির্দেশ পাঠালেন যে, (সেনাবাহিনীতে)। যাদের বয়স পনের হয়েছে তাদের জন্য যেন ভাতা নির্দিষ্ট করেন।


[2] ইবনু হিব্বান ৪৭০৮, দারাকুতনী ৩য় খণ্ড ৩৫১ পৃষ্ঠা। আবদুর রাযযাক ইবনু জুরাইজ থেকে এ হাদীসটিকে সহীহ হিসেবে সমর্থন করেছেন।









বুলূগুল মারাম (869)


وَعَنْ عَطِيَّةَ الْقُرَظِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: عُرِضْنَا عَلَى النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - يَوْمَ قُرَيْظَةَ، فَكَانَ مَنْ أَنْبَتَ قُتِلَ, وَمَنْ لَمْ يُنْبِتْ خُلِّيَ سَبِيلُهُ, فَكُنْتُ فِيمَنْ لَمْ يُنْبِتْ فَخُلِّيَ سَبِيلِي. رَوَاهُ الْخَمْسَةُ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ، وَالْحَاكِمُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (4404) و (4405)، والنسائي في «الكبرى» (5/ 185)، والترمذي (1584)، وابن ماجه (2541)، وأحمد (4/ 310)، وابن حبان (4760) والحاكم (2/ 123)، وفي غير موطن. وفي رواية للنسائي، وأبي داود، وابن حبان: كنت فيمن حكم فيه سعد، فجيء بي وأنا أرى أنه سيقتلني، فكشفوا عانتي فوجدوني لم أُنبت، فجعلوني في السَبْي وله ألفاظ أخرى، ذكرتها بطرقها في «الأصل». وقال الترمذي «هذا حديث حسن صحيح، والعمل على هذا عند بعض أهل العلم: أنهم يرون الإنبات بلوغًا إن لم يعرف احتلامه ولا سنه، وهو قول أحمد وإسحاق». وقال الحاكم: «صحيح على شرط الشيخين». فقال الحافظ في «التلخيص» (3/ 42): وهو كما قال؛ إلا أنهما لم يخرجا لعطيّة، وما له إلا هذا الحديث الواحد




৮৬৯। আতিয়্যাহ কুরাযী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, বানু কুরাইযার (সামরিক শাস্তির) ঘটনাকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে আমাদেরকে হাজির করা হয়, তাতে যে সব যুবকের গুপ্ত স্থানের লোম উদগম হয়েছিল তাদেরকে (অপরাধী ধরে) হত্যা করা হল আর যাদের তা বের হয়নি তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হল। আমার সে সময় তা বের হয়নি বলে আমাকে (নাবালেগ ধরে) ছেড়ে দেয়া হয়েছিল ইবনু হিব্বান ও হাকিম একে সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ১৫৮৪, নাসায়ী ৩৪৩০, ৪৯৮১, আবূ দাউদ ৪৪০৪, ইবনু মাজাহ ২৫৪২ আহমাদ ১৮২৯৯, ১৮৯২৮, ২২১৫২, দারেমী ২৪৬৪।









বুলূগুল মারাম (870)


وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ, عَنْ أَبِيهِ, عَنْ جَدِّهِ; أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: لَا يَجُوزُ لِامْرَأَةٍ عَطِيَّةٌ إِلَّا بِإِذْنِ زَوْجِهَا
وَفِي لَفْظٍ: «لَا يَجُوزُ لِلْمَرْأَةِ أَمْرٌ فِي مَالِهَا, إِذَا مَلَكَ زَوْجُهَا عِصْمَتَهَا». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَأَصْحَابُ السُّنَنِ إِلَّا التِّرْمِذِيَّ, وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (2/ 179 و 184)، وأبو داود (3547)، والنسائي (5/ 65 - 66)، وابن ماجه (2388)، والحاكم (2/ 47) وهو وإن كان حسن الإسناد؛ إلا أنه صحيح لما له من شواهد، وقد ذكرتها في «الأصل» كما أشرت إلى الرويات ومخرجيها




৮৭০. ‘আমর বিন শুআইব হতে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন মহিলার জন্য স্বামীর বিনা অনুমতিতে কোন দান করা বৈধ হবে না।



অন্য শব্দে আছে, কোন স্ত্রীলোকের জন্য তার মালের হস্তান্তর বা অন্যকে প্রদান করা বৈধ হবে না যদি তাঁর স্বামী তার ইজ্জত আবরুসহ জীবনযাপনের দায়িত্ব বহন করেন। --ইমাম হাকিম সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] নাসায়ী ২৫৪০, ৩৭৫৬ আবূ দাউদ ৩৫৪৬, ৩৫৪৭, আহমাদ ৬৬৪৩, ৭০১৮।









বুলূগুল মারাম (871)


وَعَنْ قَبِيصَةَ بْنِ مُخَارِقٍ [الْهِلَالِيِّ]- رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ الْمَسْأَلَةَ لَا تَحِلُّ إِلَّا لِأَحَدِ ثَلَاثَةٍ: رَجُلٍ تَحَمَّلَ حَمَالَةً فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ حَتَّى يُصِيبَهَا ثُمَّ يُمْسِكَ، وَرَجُلٍ أَصَابَتْهُ جَائِحَةٌ اجْتَاحَتْ مَالَهُ, فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ حَتَّى يُصِيبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشٍ، وَرَجُلٍ أَصَابَتْهُ فَاقَةٌ حَتَّى يَقُولَ ثَلَاثَةٌ مِنْ ذَوِي الْحِجَى مِنْ قَوْمِهِ: لَقَدْ أَصَابَتْ فُلَانًا فَاقَةٌ, فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح




৮৭১. কাবীসাহ বিন মুখারিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিন শ্রেণীর লোক ব্যতীত কারও জন্য ভিক্ষা করা বৈধ নয়। ১. কোন ব্যক্তি কারও ঋণ পরিশোধের জিম্মাদারী নিয়েছে। তা আদায় দেয়া পর্যন্ত তার ভিক্ষা চাওয়া বৈধ- তারপর সে তা থেকে বিরত থাকবে। ২. কোন ব্যক্তির ধনসম্পদ কোন দুর্যোগহেতু ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় তার জন্য- তার জীবন ধারনের সামৰ্থ্য অর্জন পর্যন্ত ভিক্ষা করা বৈধ হবে। ৩. ঐ ব্যক্তি যাকে দুর্ভিক্ষে পেয়েছে, অতঃপর তার অনাহার থাকার পক্ষে তার কওমের মধ্যে থেকে তিনজন জ্ঞানী লোক সাক্ষী দেন যে অমুক ব্যক্তিকে দুর্ভিক্ষে পেয়েছে, তার জন্য ভিক্ষা করা বৈধ হবে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ১০৪৪, নাসায়ী ২৫৭৯, ২৫৯১, আবূ দাউদ ১৬৪০, আহমাদ ১৫৪৮৬, ২০০৭৮, দারেমী ১৬৭৮।









বুলূগুল মারাম (872)


عَنْ عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ الْمُزَنِيِّ - رضي الله عنه - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «الصُّلْحُ جَائِزٌ بَيْنَ الْمُسْلِمِينَ, إِلَّا صُلْحًا حَرَّمَ حَلَالًا وَ أَحَلَّ حَرَامًا، وَالْمُسْلِمُونَ عَلَى شُرُوطِهِمْ, إِلَّا شَرْطًا حَرَّمَ حَلَالًا وَ أَحَلَّ حَرَامًا». رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَصَحَّحَهُ
وَأَنْكَرُوا عَلَيْهِ; لِأَنَّ رَاوِيَهُ كَثِيرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِوِ بْنِ عَوْفٍ ضَعِيفٌ
وَكَأَنَّهُ اعْتَبَرَهُ بِكَثْرَةِ طُرُقِهِ




৮৭২. আমার বিন আওফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- মুসলিমদের মধ্যে আপোষ-মীমাংসা করা বৈধ কাজ, তবে তার দ্বারা হালালকে হারাম ও হারামকে হালাল করা হলে তা অবৈধ হবে। মুসলিম ব্যক্তি স্বীয় শর্তাদি পালনেও বাধ্য, তবে ঐ শর্ত পালনে বাধ্য নয় যার দ্বারা হালাল বস্তুকে হারাম ও হারাম বস্তুকে হালাল করা হয়। -তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। অন্যান্য মুহাদ্দিস মুনকার বলেছেন। কেননা এ হাদীসের রাবী ‘কাসীর বিন ‘আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আওফ দুর্বল।[1] তিরমিযী সম্ভবতঃ সানাদের আধিক্যতা হেতু হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।[2]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বরং আবূ দাউদ এবং শাফিয়ী (রঃ) বলেছেন, সে মিথ্যার স্তম্ভগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি স্তম্ভ। অর্থাৎ সে বড় মিথ্যুক।

[2] তিরমিযী ১৩৫২, ইবনু মাজাহ ২৩৫৩।









বুলূগুল মারাম (873)


وَقَدْ صَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه ابن حبان (1199)، ورواه ابن الجارود، والحاكم، ومن قبلهما رواه أبو داود (3594) وقال الحافظ في «التغليق» (3/ 281) حديث: المسلمون عند شروطهم رُوي من حديث أبي هريرة، وعمرو بن عوف، وأنس بن مالك، ورافع بن خَدِيج، وعبد الله بن عمر، وغيرهم، وكلها فيها مقال، لكن حديث أبي هريرة أمثلها




৮৭৩. আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত এই হাদীসটিকে ইবনু হিব্বান সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৩৫৯৪, আহমাদ ৮৫৬৬।









বুলূগুল মারাম (874)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - «قَالَ: لَا يَمْنَعُ جَارٌ جَارَهُ أَنْ يَغْرِزَ خَشَبَةً فِي جِدَارِهِ». ثُمَّ يَقُولُ أَبُو هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - مَا لِي أَرَاكُمْ عَنْهَا مُعْرِضِينَ? وَاللَّهِ لَأَرْمِيَنَّ بِهَا بَيْنَ أَكْتَافِكُمْ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2463)، ومسلم (1609)




৮৭৪. আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন প্রতিবেশী যেন তার প্রতিবেশীকে তার দেয়ালে খুঁটি পুঁততে নিষেধ না করে। তারপর আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, কী হল, আমি তোমাদেরকে এ হাদীস হতে উদাসীন দেখতে পাচ্ছি। আল্লাহর কসম, আমি সব সময় তোমাদেরকে এ হাদীস বলতে থাকব।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২৪৬৩, ৫৬২৭, ৫৬২৮, মুসলিম ১৬০৯, ১৩৫৩, ৩৬৩৪, আবূ দাউদ ৩৬৩৪, ইবনু মাজাহ ২৩৩৫, আহমাদ ৭১১৪, ৭২৩৬, ৭৬৪৫, মুওয়াত্তা মালেক ১৪৬২।









বুলূগুল মারাম (875)


وَعَنْ أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «لَا يَحِلُّ لِامْرِئٍ أَنْ يَأْخُذَ عَصَا أَخِيهِ بِغَيْرِ طِيبِ نَفْسٍ مِنْهُ». رَوَاهُ ابْنُ حِبَّانَ, وَالْحَاكِمُ فِي «صَحِيحَيْهِمَا

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه ابن حبان (1166)، وأما عزوه للحاكم فلعله وهْم من الحافظ. والله أعلم. وللحديث شواهد كثيرة مذكورة في الأصل




৮৭৫. আবূ হুমাইদ সাঈদী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন লোক তার ভাই-এর অন্তরকে ব্যথিত করে তার লাঠি (সামান্য বস্তু) গ্রহণও বৈধ হবে না। mdash;ইবনু হিব্বান ও হাকিম তাঁদের সহীহা এর মধ্যে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইবনু হিব্বান ১১৬৬, সহীহ আত-তারগীব লি আলবানী ১৮৭১, গায়াতুল মারাম ৪৫৬।









বুলূগুল মারাম (876)


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «مَطْلُ الْغَنِيِّ ظُلْمٌ, وَإِذَا أُتْبِعُ أَحَدُكُمْ عَلَى مَلِيٍّ فَلْيَتْبَعْ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
وَفِي رِوَايَةِ أَحْمَدَ: «فَلْيَحْتَلْ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2287)، ومسلم (1564)




৮৭৬. আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ধনী ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করা জুলুম। যখন তোমাদের কাউকে (তার জন্যে) কোন ধনী ব্যক্তির হাওয়ালা করা হয়, তখন সে যেন তা মেনে নেয়। আহমাদের অন্য বর্ণনায় আছেঃ হাওয়ালা করলে তা মেনে নেবে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২২৮৮, ২৪০০, মুসলিম ১৫৬৪, ১৩০৮, নাসায়ী ৪৬৮৮, ৪৬৯১, আবূ দাউদ ৩৩৪৫, ইবনু মাজাহ। ২৪৫৩, আহমাদ ৭২৯২, মুওয়াত্তা মালেক ১৩৭৯, দারেমী ২৫৮৬।









বুলূগুল মারাম (877)


وَعَنْ جَابِرٍ - رضي الله عنه - قَالَ: تُوُفِّيَ رَجُلٌ مِنَّا, فَغَسَّلْنَاهُ, وَحَنَّطْنَاهُ, وَكَفَّنَّاهُ, ثُمَّ أَتَيْنَا بِهِ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - فَقُلْنَا: تُصَلِّي عَلَيْهِ? فَخَطَا خُطًى, ثُمَّ قَالَ: «أَعَلَيْهِ دَيْنٌ» قُلْنَا: دِينَارَانِ، فَانْصَرَفَ, فَتَحَمَّلَهُمَا أَبُو قَتَادَةَ، فَأَتَيْنَاهُ, فَقَالَ أَبُو قَتَادَةَ: الدِّينَارَانِ عَلَيَّ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - «أُحِقَّ الْغَرِيمُ وَبَرِئَ مِنْهُمَا الْمَيِّتُ?» قَالَ: نَعَمْ, فَصَلَّى عَلَيْهِ. رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَأَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ, وَالْحَاكِمُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (3/ 330)، وأبو داود (3343)، والنسائي (4/ 65 - 66)، وابن حبان (3064)، واللفظ لأحمد وسنده حسن، وأما الباقون فلهم لفظ آخر وسندهم على شرط الشيخين، وتفصيل ذلك بالأصل




৮৭৭. জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমাদের কোন একজন সাহাবী ব্যক্তি ইনতিকাল করায় আমরা তাঁর গোসল দিলাম, খুশবু লাগালাম, কাফন পরালাম। তারপর তাঁর লাশ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে হাজির করলাম। আমরা বললাম, তাঁর জানাযা পড়ান। তিনি দু-এক পা এগিয়ে আসলেন, অতঃপর বললেন, তাঁর কি কোন ঋণ রয়েছে? আমরা বললাম, দুটি দীনার (ঋণ আছে)। এ কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে গেলেন। আর কাতাদাহ দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) দুটির ঋণ পরিশোধের জিম্মা নিলেন। তারপর আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে এলাম, আবূ কাতাদাহ বললেন, আমার জিম্ময় ঐ দীনার দুটি রইলো। তৎপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে ঋণ দাতার হক এবারে সাব্যস্ত হল এবং মৃতব্যক্তি ঋণ থেকে মুক্ত হল তো? আবূ কাতাদাহ উত্তরে বললেন, জি-হাঁ। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত সাহাবীর জানাযার সালাত আদায় করলেন। ইবনু হিব্বান ও হাকিম একে সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৪৬৭, আবূ দাউদ ২৯৫৪, ২৯৫৬, ৩৩৪৩, নাসায়ী ১৫৭৮, ১৯৬২, ইবনু মাজাহ ২৪১৬, আহমাদ ১৩৭৪৪, ১৩৯২৪, ইবনু হিব্বান ৩০৬৪।









বুলূগুল মারাম (878)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - كَانَ يُؤْتَى بِالرَّجُلِ الْمُتَوَفَّى عَلَيْهِ الدَّيْنُ, فَيَسْأَلُ: «هَلْ تَرَكَ لِدَيْنِهِ مِنْ قَضَاءٍ?» فَإِنْ حُدِّثَ أَنَّهُ تَرَكَ وَفَاءً صَلَّى عَلَيْهِ, وَإِلَّا قَالَ: «صَلُّوا عَلَى صَاحِبِكُمْ» فَلَمَّا فَتَحَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْفُتُوحَ قَالَ: «أَنَا أَوْلَى بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ, فَمَنْ تُوُفِّيَ, وَعَلَيْهِ دَيْنٌ فَعَلَيَّ قَضَاؤُهُ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
وَفِي رِوَايَةٍ لِلْبُخَارِيِّ: «فَمَنْ مَاتَ وَلَمْ يَتْرُكْ وَفَاءً

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2398)، ومسلم (1619)، وزادا: ومن ترك مالًا فهو لورثته




৮৭৮. আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বৰ্ণিত যে, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যখন কোন ঋণী ব্যক্তির জানাযা উপস্থিত করা হত তখন তিনি জিজ্ঞেস করতেন, সে তার ঋণ পরিশোধের জন্য অতিরিক্ত মাল রেখে গেছে কি? যদি তাকে বলা হত যে, সে তার ঋণ পরিশোধের মতো মাল রেখে গেছে তখন তার জানাযার সালাত আদায় করতেন। নতুবা বলতেন, তোমরা তোমাদের সাথীর জানায আদায় করে নাও। পরবর্তীতে যখন আল্লাহ তাঁর বিজয়ের দ্বার উম্মুক্ত করে দেন, তখন তিনি বললেন, আমি মুমিনদের জন্য তাদের নিজের চেয়েও অধিক নিকটবর্তী। তাই কোন মুমিন ঋণ রেখে মারা গেলে সে ঋণ পরিশোধ করার দায়িত্ব আমার। আর যে ব্যক্তি সম্পদ রেখে যায়, সে সম্পদ তার উত্তরাধিকারীদের জন্য।[1]



বুখারীর অন্য এক বর্ণনায় আছে- যে মরে যাবে আর ঋণ পরিশোধের মত কিছু রেখে না যায়।[2]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী এবং মুসলিমের বর্ণনায় আরো রয়েছে, নাবী আিছল বলেছেন, যে ব্যক্তি মাল রেখে গেল, তা তার ওয়ারিশদের।

[2] বুখারী ৪৭৬, ২১৩৮, ২২৬৩, আবূ দাউদ ৪০৮৩, আহমাদ ২৫০৯৮।









বুলূগুল মারাম (879)


وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ, عَنْ أَبِيهِ, عَنْ جَدِّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «لَا كَفَالَةَ فِي حَدٍّ». رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ بِإِسْنَادٍ ضَعِيفٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
منكر. رواه البيهقي (6/ 77) وقال: «إسناده ضعيف. تفرد به بقية، عن أبي محمد؛ عمر بن أبي عمر الكلاعي، وهو من مشايخ بقية المجهولين، ورواياته منكرة




৮৭৯. ‘আমর বিন শুআইব হতে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হদ-এর ব্যাপারে কোন জিম্মাদারী নেই। mdash;বাইহাকী দুর্বল সানাদে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইমাম যাহাবী তানকীহুত তাহকীক ২/১১৭ গ্রন্থে বলেন, এটি মুনকার। উমার অপরিচিত ব্যক্তি। ইমাম সুয়ূত্বী আল জামেউস সগীর ৯৯২১, শাইখ আলবানী ইরওয়াউল গালীল ১৪১৫, যঈফুল জামে ৬৩০৯ গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন। ইবনু উসাইমীন বুলুগুল মারামের শরাহ ৪/১৬৬ গ্রন্থে দুর্বল বলেছেন।









বুলূগুল মারাম (880)


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «قَالَ اللَّهُ: أَنَا ثَالِثُ الشَّرِيكَيْنِ مَا لَمْ يَخُنْ أَحَدُهُمَا صَاحِبَهُ, فَإِذَا خَانَ خَرَجْتُ مِنْ بَيْنِهِمَا». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أبو داود (3383)، والحاكم (2/ 52) وله علتان: جهالة أحد رواته، والاختلاف في وصله وإرساله




৮৮০. আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহান আল্লাহ বলেছেন- যতক্ষণ দুজন শরীকদার ব্যবসায়ে একে অপরের সাথে খিয়ানত (বিশ্বাসঘাতকতা) না করে ততক্ষণ আমি তাদের তৃতীয় শরীক হিসাবে (তাদের সহযোগিতা করতে) থাকি। অতঃপর যখন খিয়ানত করে, তখন আমি তাদের মধ্য থেকে বেরিয়ে যাই (তারা আমাদের সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হয়)।-হাকিম একে সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৩৩৮৩। শাইখ আলবানী ইরওয়াউল গালীল (১৪৬৮), যঈফ তারগীব (১১১৪), গায়াতুল মারাম ৩৫৭, যঈফুল জামে’ ১৭৪৮, যঈফ আবূ দাউদ (৩৩৮৩) গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন। আর নাকদুন নুসূস ৩০ গ্রন্থে বলেন এর সানাদে দুর্বলতা ও দু’টি ত্রুটি রয়েছে। ইমাম দারাকুতনী আত-তালখীসুল হাবীর ৩/১০১৭ গ্রন্থে বলেন, معلول بالإرسال মুরসাল হওয়ার দোষে দুষ্ট।