বুলূগুল মারাম
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا -[قَالَ]: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَقُولُ: «إِذَا تَبَايَعْتُمْ بِالْعِينَةِ, وَأَخَذْتُمْ أَذْنَابَ الْبَقَرِ, وَرَضِيتُمْ بِالزَّرْعِ, وَتَرَكْتُمْ الْجِهَادَ, سَلَّطَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ ذُلًّا لَا يَنْزِعُهُ حَتَّى تَرْجِعُوا إِلَى دِينِكُمْ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ مِنْ رِوَايَةِ نَافِعٍ عَنْهُ, وَفِي إِسْنَادِهِ مَقَالٌ
وَلِأَحْمَدَ: نَحْوُهُ مِنْ رِوَايَةِ عَطَاءٍ, وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ وَصَحَّحَهُ ابْنُ الْقَطَّانِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح بطرقه رواه أبو داود (3462)
৮৪১. ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন- আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যখন তোমরা ‘ঈনা (নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে পুনঃ মূল্য কম দিয়ে ক্রেতার নিকট হতে ঐ বস্তু ফেরত নিয়ে) কেনা-বেচা করবে আর গরুর লেজ ধরে নেবে এবং চাষবাসেই তৃপ্ত থাকবে আর আল্লাহর পথে জিহাদ (সংগ্রাম) করা বর্জন করবে তখন আল্লাহ্ তোমাদেরকে অবমাননার কবলে ফেলবেন আর তোমাদের দ্বীনে প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত তোমাদের উপর থেকে এটা অপসারিত করবেন না। -আবূ দাউদ নাফি কর্তৃক বর্ণিত। এর সানাদে ত্রুটি রয়েছেঃ আহমাদেও তদ্রুপ আতা কর্তৃক বর্ণিত; এর বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য; ইবনু কাত্তান এটিকে সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৩৪৬২, আহমাদ ৪৮১০, ৪৯৮৭, ২৭৫৭৩।
وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ - رضي الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «مَنْ شَفَعَ لِأَخِيهِ شَفَاعَةً, فَأَهْدَى لَهُ هَدِيَّةً, فَقَبِلَهَا, فَقَدْ أَتَى بَابًا عَظِيمًا مِنْ أَبْوَابِ الرِّبَا». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَأَبُو دَاوُدَ, وَفِي إِسْنَادِهِ مَقَالٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أحمد (5/ 261)، وأبو داود (3541)
৮৪২. আবূ উমামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি তার কোন ভায়ের জন্য সুপারিশ করল, অতঃপর তার জন্য হাদিয়া দিল তার পর সুপারিশকারী তা গ্রহণ করল, তাহলে সে সুদেরই এক বড় দরজায় উপনীত হল। -এর সানাদটি আলোচনা সাপেক্ষ।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৩৫৪১, আহমাদ ২১৭৪৮
বিন বায হাশিয়া বুলুগুল মারাম ৫০৫ গ্রন্থে একে হাসান লিগাইরিহী বলেছেন। ইমাম শাওকানী আদ দুরারী আল মাযীয়া ৩০৫, নাইলুল আওত্বার ৯/১৭২ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে আশ শামির দুই গোলাম, আল কাসিম বিন আবদুর রহমান আবূ আবদুর রহমান আল আমুবী রয়েছে যারা বিতর্কিত। শাইখ আলবানী সহীহ আবূ দাউদ ৩৫৪১, সহীহুল জামে ৬৩১৬, গ্ৰন্থ দ্বয়ে একে হাসান বলেছেন। তবে সিলসিলা সহীহাহ ৩৪৬৫ গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন। আত তালীকাতুর রযীয়্যাহ ২/৫৩০ গ্রন্থে বলেন, এর সকল রাবী বিশ্বস্তও তাঁরা মুসলিমের বর্ণনাকারী।
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِوٍ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- قَالَ: لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - الرَّاشِي وَالْمُرْتَشِيَ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالتِّرْمِذِيُّ وَصَحَّحَهُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (3580)، والترمذي (1337) وقال الترمذي: حسن صحيح
৮৪৩. ‘আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুষ দাতা ও ঘুষ গ্রহীতা উভয়কেই অভিসম্পাত করেছেন। -তিরমিযী একে সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৩৫৮০, তিরমিযী ১৩৩৭, ইবনু মাজাহ ২৩১৩, আহমাদ ৬৪৯৬, ৬৭৯১।
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - عَنِ الْمُزَابَنَةِ; أَنْ يَبِيعَ ثَمَرَ حَائِطِهِ إِنْ كَانَ نَخْلًا بِتَمْرٍ كَيْلًا, وَإِنْ كَانَ كَرْمًا أَنْ يَبِيعَهُ بِزَبِيبٍ كَيْلًا, وَإِنْ كَانَ زَرْعًا أَنْ يَبِيعَهُ بِكَيْلِ طَعَامٍ, نَهَى عَنْ ذَلِكَ كُلِّهُ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2205)، ومسلم (1542) (76)
৮৪৪. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযাবানা নিষেধ করেছেন, আর তা হলো বাগানের ফল বিক্রয় করা। খেজুর হলে মেপে শুকনো খেজুরের বদলে, আঙ্গুর হলে মেপে কিসমিসের বদলে, আর ফসল হলে মেপে খাদ্যের বদলে বিক্রি করা। তিনি এসব বিক্রি নিষেধ করেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ১৪৮৬, ২১৭১, ২১৭৩, ২১৮৪, ২২০৫, মুসলিম ১৫৩৪, ১৫৩৮, ১৫৩৯, তিরমিযী ১২২৬, ১২২৭, নাসায়ী ৩৯২১, ৪৫১৯, ৪৫২০, আবূ দাউদ ৩৩৬১, ৩৩৬৭, ইবনু মাজাহ ২২১৪, ২২৬৫, ২২৬৮, আহমাদ ৪৪৭৬, ৪৪৭৯, ৪৫১১, মুওয়াত্তা মালেক ১৩০৩, ১৩১৭, দারেমী ২৫৫৫।
وَعَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ - رضي الله عنه - قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - سُئِلَ عَنِ اشْتِرَاءِ الرُّطَبِ بِالتَّمْرِ. فَقَالَ: «أَيَنْقُصُ الرُّطَبُ إِذَا يَبِسَ» قَالُوا: نَعَمَ. فَنَهَى عَنْ ذَلِكَ. رَوَاهُ الْخَمْسَةُ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ الْمَدِينِيِّ, وَالتِّرْمِذِيُّ, وَابْنُ حِبَّانَ, وَالْحَاكِمُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (3359)، والنسائي (7/ 268 - 269)، والترمذي (1225)، وابن ماجه (2264)، وأحمد (1/ 175)، وابن حبان (4982)، والحاكم (2/ 38)، من طريق مالك، عن عبد الله بن يزيد، أن زيدًا أبا عياش أخبره؛ أنه سأل سعد بن أبي وقاص، عن البيضاء بالسُّلت؟ فقال له سعد أيتهما أفضل قال: البيضاء، فنهاه عن ذلك، وقال سعد: سمعت رسول -صلى الله عليه وسلم - الحديث. وقال الترمذي: «حديث حسن صحيح». قلت: وتابع مالكا على ذلك جماعة من الثقات؛ إلا أن يحيى بن أبي كثير تابعهم في الإسناد، وخالفهم في المتن؛ إذ رواه بلفظ: نهى رسول الله -صلى الله عليه وسلم- عن بيع الرطب بالتمر نسيئة، وهو شاذ بهذا اللفظ «نسيئة» كما حكم بذلك غير واحد، وبيانه بالأصل
৮৪৫. সাদ বিন আবূ আক্কাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন- আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে শুকনা খেজুরের সাথে তাজা খেজুরের বিনিময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে শুনেছি। তিনি জিজ্ঞেস করেন: তাজা খেজুর শুকালে কি কমে যায়? লোকজন বলেন, হাঁ। তিনি এ জাতীয় লেনদেন করতে নিষেধ করেন। -ইবনু মাদীনী, তিরমিযী, ইবনু হিব্বান ও হাকিম একে সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৩৩৫৯, তিরমিযী ১২২৫, নাসায়ী ৪৫৪৫, ইবনু মাজাহ ২২৬৪, আহমাদ ১৫১৮, ১৫৪৭, মুওয়াত্তা মালেক ১৩১৬।
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا-; - أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - نَهَى عَنْ بَيْعِ الْكَالِئِ بِالْكَالِئِ, يَعْنِي: الدَّيْنِ بِالدَّيْنِ. رَوَاهُ إِسْحَاقُ, وَالْبَزَّارُ بِإِسْنَادٍ ضَعِيفٍ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. وهو في «كشف الأستار» (1280)، ورواه الدارقطني، والطحاوي، والحاكم، والبيهقي، وضعّفه جمع غَفير من أهل العلم، وذلك لتفرد موسى بن عبيدة الزبيدي، به. قال الحافظ في «التلخيص» (3/ 26): «قال أحمد بن حنبل: لا تحلّ عندي عنه الرواية، ولا أعرف هذا الحديث عن غيره، وقال أيضًا: ليس في هذا صحيح يصح، لكن إجماع الناس على أنه لا يجوز بيع دين بدين
৮৪৬. ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কালয়ী দ্বারা কালায়ী অর্থাৎ ঋণের পরিবর্তে ঋণ বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। ইসহাক, বাযযার দুর্বল সানাদে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বিন বায হাশিয়া বুলুগুল মারাম ৫০৮ বলেন, ইবরাহীম বিন আবূ ইয়াহইয়া থেকে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে, যিনি যঈফ। মাজমুআ ফাতাওয়া ১৯/৪২ গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন। ইবনু উসাইমীন বুলুগুল মারামের শরাহ ৪/৪৯ গ্রন্থেও একে দুর্বল বলেছেন। ইমাম শাওকানী নাইলুল আওত্বার ৫/২৫৪ গ্রন্থ বলেন, মূসা বিন উবাইদাহ আর রাবযী এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদ বলেন, আমরা তার থেকে হাদীস বর্ণনা বৈধ মনে করি না। শাইখ আলবানী তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ ২৭৯২, ইরাওয়াউল গালীল ১৩৮২ গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন।
عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ - رضي الله عنه - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - رَخَّصَ فِي الْعَرَايَا: أَنْ تُبَاعَ بِخَرْصِهَا كَيْلًا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
وَلِمُسْلِمٍ: رَخَّصَ فِي الْعَرِيَّةِ يَأْخُذُهَا أَهْلُ الْبَيْتِ بِخَرْصِهَا تَمْرًا، يَأْكُلُونَهَا رُطَبًا
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2192)، ومسلم (1539) (64)
مسلم (1539) (61)
৮৪৭. যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরায়্যার ব্যাপারে অনুমতি দিয়েছেন যে, ওজনকৃত খেজুরের বিনিময়ে গাছের অনুমানকৃত খেজুর বিক্রি করা যেতে পারে।
মুসলিমে আছে- আরিয়া ক্রয়-বিক্রয়ে নবী (রহঃ) অনুমতি দিয়েছেন। বাড়ীওয়ালা শুকনো খেজুর দিয়ে গাছের তাজা খেজুর অনুমানের ভিত্তিতে নিবে এবং ঐ টাটুকা খেজুর খাবে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২১৯২, ১৪৮৬, ২১৭১, ২১৭৩, ২১৮৫, মুসলিম ১৫৩৪, ১৫৩৮, ১৫৩৯, তিরমিযী ১২২৬, ১২২৭, নাসায়ী ৩৯২১, ৪৫২০, আবূ দাউদ ৩৩৬৭, ৩৩৬৮, ইবনু মাজাহ ২২১৪, ২২৬৫, ২২২৬৮, আহমাদ ৪৪৭৬, ৪৪,৭৯, ৪৮৫৪, মুওয়াত্তা মালেক ১৩০৩, ১৩১৭, দারেমী ২৫৫৫।
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - رَخَّصَ فِي بَيْعِ الْعَرَايَا بِخَرْصِهَا, فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ, أَوْ فِي خَمْسَةِ أَوْسُقٍ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2190)، ومسلم (1541)
৮৪৮. আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঁচ অসাকের কম পরিমাণ অথবা পাঁচ অসাক পরিমাণ (গাছের) তাজা খেজুর অনুমান করে শুকনো খেজুরের বিনিময়ে বিক্রয় করার অনুমতি দিয়েছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২৩৯২, ২১৯০, মুসলিম ১৫৪১, তিরমিযী ১৩০১, নাসায়ী ৪৫৪১, আবূ দাউদ ৩৩৬৪, আহমাদ ৭১৯৫, মুওয়াত্তা মালেক ১৩০৭।
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - عَنْ بَيْعِ الثِّمَارِ حَتَّى يَبْدُوَ صَلَاحُهَا, نَهَى الْبَائِعَ وَالْمُبْتَاعَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
وَفِي رِوَايَةٍ: وَكَانَ إِذَا سُئِلَ عَنْ صَلَاحِهَا? قَالَ: «حَتَّى تَذْهَبَ عَاهَتُهُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2194)، ومسلم (3/ 1165 / رقم 1534)
৮৪৯. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গাছের ফল ব্যবহার উপযোগী হওয়ার আগেই তা বিক্রি করতে ক্রেতা ও বিক্রেতাকে নিষেধ করেছেন।
অন্য বর্ণনায় আছে- সেলাহ (পুষ্ট) হবার অর্থ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হয়ে তিনি বলতেন, ‘ফলের দুৰ্যোগকাল উত্তীর্ণ হওয়া।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] এখানে আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাঃ) কে প্রশ্ন করা হয়েছিল।
বুখারী ১৪৮৬, ২১৭১, ২১৭৩, ২১৮৪, ২১৮৫, ২২০৫, মুসলিম ১৫৩৪, ১৫৩৮, ১৫৩৯, ১৫৪২, তিরমিযী ১২২৬, নাসায়ী ৩১২১, ৪৫১৯, ৪৫২০, আবূ দাউদ ৩৩৬১, ৩৩৬৭, ইবনু মাজাহ ২২১৪, ২২৬৭, আহমাদ ৪৪৭৬, ৪৫১১, মুওয়াত্তা মালেক ১৩০৩, দারেমী ২৫৫৫।
وَعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ - رضي الله عنه، أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - نَهَى عَنْ بَيْعِ الثِّمَارِ حَتَّى تُزْهَى. قِيلَ: وَمَا زَهْوُهَا? قَالَ: «تَحْمَارُّ وَتَصْفَارُّ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَّفْظُ لِلْبُخَارِيِّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (1488)، ومسلم (1555)، وفي اللفظ الذي ساقه الحافظ، وتخصيصه بالبخاري نظر
৮৫০. আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশ্য ফলে পরিপক্কতা আসার পূর্বে বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। ‘পরিপক্কতার অবস্থা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হয়ে তিনি বলেছেন- ফলের রং যেন লালচে বা হলুদ হয়ে ওঠে। -শব্দ বিন্যাস বুখারীর।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ১৪৮৮, ২১৯৫, ২১৯৭, ২১৯৯, মুসলিম ১৫৫৫, তিরমিযী ১২২৮, নাসায়ী ৪৫২৬, ইবনু মাজাহ ৩৩৭১, ইবনু মাজাহ ২২১৭, আহমাদ ১১৭২৮, ১২২৭, মুওয়াত্তা মালিক ১৩০৪।
وَعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ - رضي الله عنه، أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - نَهَى عَنْ بَيْعِ الْعِنَبِ حَتَّى يَسْوَدَّ, وَعَنْ بَيْعِ الْحَبِّ حَتَّى يَشْتَدَّ. رَوَاهُ الْخَمْسَةُ, إِلَّا النَّسَائِيَّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ, وَالْحَاكِمُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (3371)، والترمذي (1228)، وابن ماجه (2217)، وأحمد (3/ 221 و 250)، وابن حبان (4972)، والحاكم (2/ 19) وقال الحاكم: «صحيح على شرط مسلم» وهو كما قال
৮৫১. আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আঙ্গুরের ক্ষেত্রে কালচে রং না ধরা পর্যন্ত তা বিক্রয় করতে এবং শস্য দৃঢ় পুষ্ট হবার পূর্বে বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। -ইবনু হিব্বান ও হাকিম একে সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ১৪৮৮, ২১৯৭, ২১৯৯, ২২০৮, মুসলিম ১৩৫, আবূ দাউদ ৩৩৭১, তিরমিযী ১২২৮, নাসায়ী ৪৫২৬, ইবনু মাজাহ ২২১৭ আহমাদ ১২২২৭, ১২৯০১, মুওয়াত্তা মালেক ১৩০৫।
وَعَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «لَوْ بِعْتَ مِنْ أَخِيكَ ثَمَرًا فَأَصَابَتْهُ جَائِحَةٌ, فَلَا يَحِلُّ لَكَ أَنْ تَأْخُذَ مِنْهُ شَيْئًا. بِمَ تَأْخُذُ مَالَ أَخِيكَ بِغَيْرِ حَقٍّ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
وَفِي رِوَايَةٍ لَهُ: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - أَمَرَ بِوَضْعِ الْجَوَائِحِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (1554) (14)
مسلم (3/ 1191) الجائحة: الآفة تصيب الثمار فتتلفها
৮৫২. জাবির বিন ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- যদি তুমি তোমার কোন (মুসলিম) ভাই-এর নিকটে ফল বিক্রয় কর তারপর তা কোন দুর্যোগে নষ্ট হয়ে যায় তাহলে তার নিকট থেকে কিছু (মূল্য বাবদ) গ্রহণ করা তোমার জন্য বৈধ হবে না। কারণ তোমার মুসলিম ভাইয়ের মাল (মূল্য) তুমি কিসের বিনিময়ে নেবে?
অন্য বর্ণনায় আছে- অবশ্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুর্যোগে ক্ষতির পূরণ করতে বলেছেন। অর্থাৎ এ অবস্থায় ক্ষতির পরিমাণমত মূল্য না নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] الجائحة প্রাকৃতিক দুযোগে ফলফলাদি নষ্ট হয়ে যাওয়া। বুখারী ৪৮৩২, ৪৯৮৭, ৫৯৮৭, মুসলিম ২৫৫৪, আহমাদ ৭৮৭২, ৮১৬৭, ৮৭৫২।
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا-, عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: مَنِ ابْتَاعَ نَخْلًا بَعْدَ أَنْ تُؤَبَّرَ, فَثَمَرَتُهَا لِلْبَائِعِ الَّذِي بَاعَهَا, إِلَّا أَنْ يَشْتَرِطَ الْمُبْتَاعُ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2379)، ومسلم (1543) (80) وزادا: ومن ابتاع عبدًا وله مال فماله للذي باعه إلا أن يشترط المبتاع والتأبير: هو التشقيق والتلقيح
৮৫৩. ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনmdash; যে ব্যক্তি খেজুর গাছ তাবীর (ফুলের পরাগায়ণ) করার পর গাছ বিক্রয় করে, তার ফল বিক্রেতার। কিন্তু ক্রেতা শর্ত করলে তা তারই।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২২০৩, ২২০৪, ২২০৬, ২৭১৬, ২৩৭৯, ২৭১৬ মুসলিম ১৫৪৩, তিরমিযী ১২৪৪, নাসায়ী ৪৬৩৫, ৪৬৩৬, আবূ দাউদ ৩৪৩৩, ইবনু মাজাহ ২২১০, ২২১১, আহমাদ ৫২৮৪, মুওয়াত্তা মালেক ১৩০২, ২৫৬১, দারেমী ২৫৬১।
বুখারী এবং মুসলিমে আরো রয়েছে, আর যদি কেউ গোলাম বিক্রয় করে এবং তার সম্পদ থাকে। তবে সে সম্পদ যে বিক্রি করল তার। কিন্তু যদি ক্রেতা শর্ত করে তাহলে তা হবে তার।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- قَالَ: قَدِمَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - الْمَدِينَةَ, وَهُمْ يُسْلِفُونَ فِي الثِّمَارِ السَّنَةَ وَالسَّنَتَيْنِ, فَقَالَ: مَنْ أَسْلَفَ فِي تَمْرٍ فَلْيُسْلِفْ فِي كَيْلٍ مَعْلُومٍ, وَوَزْنٍ مَعْلُومٍ, إِلَى أَجَلٍ مَعْلُومٍ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
وَلِلْبُخَارِيِّ: مَنْ أَسْلَفَ فِي شَيْءٍ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2239)، ومسلم (1604)، واللفظ لمسلم
৮৫৪. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মাদীনায় আগমন করেন তখন লোকেরা এক বা দু বছরের বাকীতে খেজুর সলম (অগ্রিম বিক্রি পদ্ধতিতে) বেচা-কেনা করত। এতে তিনি বললেন, যে ব্যক্তি খেজুরে সলম করতে চায় সে যেন নির্দিষ্ট মাপে এবং নির্দিষ্ট ওজনে সলম করে। বুখারীতে ‘ফলের স্থলে ‘যে কোন বস্তুর কথা উল্লেখের রয়েছে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২২৩৯, ২২৪১, ২২৫৩, মুসলিম ১৬০৪, তিরমিযী ১৩১১, ৪৬১৬, আবূ দাউদ ৩৪৬৩, ইবনু মাজাহ ২২৮০, আহমাদ ১৮৭১, ১৯৩৮, ২৫৪৪, দারেমী ২৫৮৩।
وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- قَالَا: كُنَّا نُصِيبُ الْمَغَانِمَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - وَكَانَ يَأْتِينَا أَنْبَاطٌ مِنْ أَنْبَاطِ الشَّامِ, فَنُسْلِفُهُمْ فِي الْحِنْطَةِ وَالشَّعِيرِ وَالزَّبِيبِ.
وَفِي رِوَايَةٍ: وَالزَّيْتِ - إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى. قِيلَ: أَكَانَ لَهُمْ زَرْعٌ? قَالَا: مَا كُنَّا نَسْأَلُهُمْ عَنْ ذَلِكَ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (4/ 434 / رقم 2254 و 2255) وهذا السياق بلفظ الزيت، وأما رواية: «الزبيب» فهي: (4/ 431)
৮৫৫. ‘আবদুর রহমান বিন আবযা ও ‘আবদুল্লাহ বিন আবী আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেছেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে (জিহাদে) আমরা মালে গনীমত লাভ করতাম, আমাদের কাছে সিরিয়া হতে কৃষকগণ আসলে আমরা তাদের সঙ্গে গম, যব ও যায়তুনে সলম করতাম।
অন্য একটি বর্ণনায় আছে- এবং তেলে- নির্দিষ্ট মেয়াদে। তিনি [মুহাম্মাদ ইবনু আবূ মুজালিদ (রহ.)] বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, তাদের নিকট সে সময় ফসল মাওজুদ থাকত, কি থাকত না? তাঁরা উভয়ে বললেন, আমরা এ বিষয়ে তাদেরকে জিজ্ঞেস করিনি।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২২৫৪, ২২৫৫, নাসায়ী ৪৬১৪, ৪৬১৫, আবূ দাউদ ৩৪৬৪, ৩৪,৬৬, ইবনু মাজাহ ২২৮২, আহমাদ ১৮৬৩৩, ১৮৯০৬।
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «مَنْ أَخَذَ أَمْوَالَ النَّاسِ [ص: 252] يُرِيدُ أَدَاءَهَا, أَدَّى اللَّهُ عَنْهُ, وَمَنْ أَخَذَهَا (1) يُرِيدُ إِتْلَافَهَا, أَتْلَفَهُ اللَّهُ». رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2387)
৮৫৬. আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি মানুষের মাল (ধার) নেয় পরিশোধ করার উদ্দেশে আল্লাহ তাআলা তা আদায়ের ব্যবস্থা করে দেন। আর যে তা নেয় বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে আল্লাহ তাআলা তাকে ধবংস করেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২৩৮৭, ইবনু মাজাহ ১৪১১, আহমাদ ৮৫১৬, ৫১৩৫।
وَعَنْ عَائِشَةَ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا- قَالَتْ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! إِنَّ فُلَانًا قَدِمَ لَهُ بَزٌّ مِنَ الشَّامِ, فَلَوْ بَعَثْتَ إِلَيْهِ, فَأَخَذْتَ مِنْهُ ثَوْبَيْنِ بِنَسِيئَةٍ إِلَى مَيْسَرَةٍ? فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ, فَامْتَنَعَ. أَخْرَجَهُ الْحَاكِمُ، وَالْبَيْهَقِيُّ, وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه الحاكم (2/ 23 - 24)، ولفظه: عن عائشة، قالت: كان على رسول الله -صلى الله عليه وسلم- بُرْدان قَطَرِيان غليظان خشنان. فقلت: يا رسول الله إن ثوبيك خشنان غليظان، وإنك ترشح فيهما يثقلان عليك، وإن فلانًا قدم له بَز من الشام، فلو بعثت إليه فأخذت منه ثوبين بنسيئة إلى ميسرة، فأرسل إليه رسول الله -صلى الله عليه وسلم-. فقال: قد علمت ما يريد محمد؛ يريد أن يذهب بثوبي، ويمطلني فيها، فأتى الرسول إلى النبي -صلى الله عليه وسلم- فأخبره فقال النبي -صلى الله عليه وسلم-: قد كذب. قد علموا أني أتقاهم لله، وآداهم للأمانة قلت: والحديث عند النسائي (7/ 294)، والترمذي (1213)، ولا أدري سبب عَزْو الحافظ الحديث للحاكم والبيهقي دونهما. ثم رأيته في «التلخيص» عزاه لهما
৮৫৭. ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! অমুক (ইয়াহুদী) লোকের কাপড় সিরিয়া থেকে এসেছে, আপনি যদি তার নিকট লোক পাঠান তাহলে দুখানা কাপড় বাকীতে এ কথার উপর আনবেন যে, পরে সক্ষম হলে তার দাম দিয়ে দিবেন। ফলে তিনি তার কাছে লোক পাঠালেন। কিন্তু সে তা দিলনা। -এ হাদীসের রাবীগণ নির্ভরযোগ্য (সিকা)।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ১২১৩, নাসায়ী ৪৬২৮, হাকিম, ২য় খণ্ড ২৩-২৪ পৃষ্ঠা।
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «الظَّهْرُ يُرْكَبُ بِنَفَقَتِهِ إِذَا كَانَ مَرْهُونًا, وَلَبَنُ الدَّرِّ يُشْرَبُ بِنَفَقَتِهِ إِذَا كَانَ مَرْهُونًا, وَعَلَى الَّذِي يَرْكَبُ وَيَشْرَبُ النَّفَقَةُ». رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2512)
৮৫৮. আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বাহনের পশু বন্ধক থাকলে তার খরচের পরিমাণে তাতে আরোহণ করা যাবে। তদ্রুপ দুধেল প্রাণী বন্ধক থাকলে তার খরচের পরিমাণে দুধ পান করা যাবে। (মোট কথা) আরোহণকারী এবং দুধ পানকারীকেই খরচ বহন করতে হবে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২৫১১, ২৫১২, তিরমিযী ১২৫৪, আবূ দাউদ ৩৫২৬, ইবনু মাজাহ ২৪৪০, আহমাদ। ৭০৮৫, ৯৭৬০।
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَغْلَقُ الرَّهْنُ مِنْ صَاحِبِهِ الَّذِي رَهَنَهُ, لَهُ غُنْمُهُ, وَعَلَيْهِ غُرْمُهُ». رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ, وَالْحَاكِمُ, وَرِجَالهُ ثِقَاتٌ. إِلَّا أَنَّ الْمَحْفُوظَ عِنْدَ أَبِي دَاوُدَ وَغَيْرِهِ إِرْسَالُهُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف مرفوعًا. رواه الدارقطني (3/ 33)، والحاكم (2/ 51) مرفوعًا. ورواه مرسلًا أبو داود في «المراسيل» (187) وهو الصواب، كما ذهب إلى ذلك جماعة من أهل العلم
৮৫৯. আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- বন্ধক রাখা বস্তু থেকে তাঁর মালিককে বঞ্চিত করা যাবে না। যা লাভ হবে তা তার এবং লোকসানও তাকেই নিতে হবে।
-হাদীসের রাবীগণ নির্ভরযোগ্য কিন্তু আবূ দাউদ ও অন্য মুহাদ্দিসের নিকটে এটা মুরসাল হাদীস বলে সংরক্ষিত।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] হাকিম, ২য় খণ্ড ৫১ পৃষ্ঠা, মারাসীল আবূ দাউদ ১৮৭ ইবনু হাজার আসকালানী আত-তালখীসুল হাবীর ৩/১০০০ গ্রন্থে বলেন: বলা হয়ে থাকে যে, لَهُ غُنْمُهُ, وَعَلَيْهِ غُرْمُهُ কথাটি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের নিজের কথা। শাইখ আলবানী ইরওয়াউল গালীল ১৪০৬ গ্রন্থে মুরসাল বলেছেন, তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ ২৮১৮ গ্রন্থে মুনকার যঈফ মন্তব্য করেন, আত তালীকাতুর রযীয়্যাহ ২/৪৮১ গ্রন্থে বলেন, সানাদটি সহীহ মুসলিমের শর্তভিত্তিক। ইমাম দারাকুতনী তাঁর সুনান ২/৬১৬ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে আবূ আসমাহ ও বাশার রয়েছে দু’জনই দুর্বল রাবী। মুহাম্মাদ বিন আমর হতে বর্ণনাটি বিশুদ্ধ নয়। ইমাম যাহাবী তানকীহুত তাহকীক ২/১০৭ গ্রন্থে বলেন এর সানাদে আবদুল্লাহ বিন নাসর আল উসাম নির্ভরযোগ্য নয়।
وَعَنْ أَبِي رَافِعٍ - أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - اسْتَسْلَفَ مِنْ رَجُلٍ بَكْرًا فَقَدِمَتْ عَلَيْهِ إِبِلٌ مِنَ الصَّدَقَةِ, فَأَمَرَ أَبَا رَافِعٍ أَنْ يَقْضِيَ الرَّجُلَ بَكْرَهُ, فَقَالَ: لَا أَجِدُ إِلَّا خَيَارًا. قَالَ: «أَعْطِهِ إِيَّاهُ, فَإِنَّ خِيَارَ النَّاسِ أَحْسَنُهُمْ قَضَاءً». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (1600)، وفي رواية له: فإن خير عباد الله
৮৬০. আবূ রাফি (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির নিকট থেকে একটা অল্প বয়সের উট[1] ধার নিয়েছিলেন। তারপর তাঁর নিকটে যাকাতের উট এসে গেলে তিনি আবূ রাফেকে ঐ রূপ অল্প বয়সের একটি (বাকারাহ) উট দিয়ে দিতে আদেশ দিলেন। আবূ রাফে বললেন, আমি সপ্তম বছরে পদার্পণকারী রাবায়ী উত্তম উট ব্যতীত পাচ্ছি না।[2] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে ভাল উটাই দিয়ে দাও। কারণ লোকেদের মধ্যে অবশ্য ঐ ব্যক্তি উত্তম যিনি ঋণ পরিশোধে উত্তম। (মুসলিম)[3]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] অল্প বয়সের উটকে بَكْر (বাকর) বলা হয়।
[2] মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে, خيارًا رَبَاعيًا আর رَبَاعيًا বলা হয় ঐ উটকে যার বয়স ছয় বছর পূর্ণ হয়ে সাত বছরে পড়েছে। خيارًا বলা হয় ভালো উটকে।
[3] মুসলিম ১৬০০, তিরমিযী ১৩১৮, নাসায়ী ৪৬১৭, আবূ দাউদ ৩৩৪৬, ইবনু মাজাহ ২২৮৫, আহমাদ ২৬৬৪০, মুওয়াত্তা মালেক ১৩৮৪, দারেমী ২৫৬৫। মুসলিমের অপর এক বর্ণনায় রয়েছে, নিশ্চয় আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম হচ্ছে সেই ব্যক্তি যিনি কর্জ পরিশোধে উত্তম।