হাদীস বিএন


বুলূগুল মারাম





বুলূগুল মারাম (1421)


وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ - رضي الله عنه - قَالَ: سَأَلْتُ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - أَيُّ الْعَمَلِ أَفْضَلُ قَالَ: «إِيمَانٌ بِاللَّهِ, وَجِهَادٌ فِي سَبِيلِهِ». قُلْتُ: فَأَيُّ الرِّقَابِ أَفْضَلُ قَالَ: «أَعْلَاهَا ثَمَنًا, وَأَنْفَسُهَا عِنْدَ أَهْلِهَا». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2518)، ومسلم (84) واللفظ للبخاري، وزادا، والسياق للبخاري أيضا: قلت: فإن لم أفعل؟ قال: تعين ضائعا، أو تصنع لأخرق. قال: فإن لم أفعل؟ قال: تدع الناس من الشر؛ فإنها صدقة تصدق بها على نفسك




১৪২১। আবূ যার (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি জিজ্ঞেস করলাম, কোন ‘আমল উত্তম? তিনি বললেন, আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা এবং তাঁর পথে জিহাদ করা। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কোন ধরনের ক্রীতদাস মুক্ত করা উত্তম? তিনি বললেন, যে ক্রীতদাসের মূল্য অধিক এবং যে ক্রীতদাস তার মনিবের কাছে অধিক আকর্ষণীয়।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারীতে আরো রয়েছে, قلت: فإن لم أفعل؟ قال: تعين ضائعا، أو تصنع لأخرق. قال: فإن لم أفعل؟ قال: تدع الناس من الشر؛ فإنها صدقة تصدق بها على نفسك আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ যদি আমি করতে না পারি? তিনি বললেন, তাহলে কাজের লোককে (তার কাজে) সাহায্য করবে কিংবা বেকারকে কাজ দিবে। আমি (আবারও) বললাম, এও যদি না পারি? তিনি বললেন, মানুষকে তোমার অনিষ্টতা হতে মুক্ত রাখবে। বস্তুতঃ এটা তোমার নিজের জন্য তোমার পক্ষ হতে সাদাকাহ। বুখারী ২৫১৮, মুসলিম ৮৪, নাসায়ী ৩১২৯, ইবনু মাজাহ ২৫২৩, আহমাদ ২০৮২৪, দারেমী ২৭৩৮।









বুলূগুল মারাম (1422)


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «مَنْ أَعْتَقَ شِرْكًا لَهُ فِي عَبْدٍ, فَكَانَ لَهُ مَالٌ يَبْلُغُ ثَمَنَ الْعَبْدِ, قُوِّمَ قِيمَةَ عَدْلٍ, فَأَعْطَى شُرَكَاءَهُ حِصَصَهُمْ, وَعَتَقَ عَلَيْهِ الْعَبْدُ, وَإِلَّا فَقَدْ عَتَقَ مِنْهُ مَا عَتَقَ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2522)، ومسلم (1501) و «شركا»: نصيبا




১৪২২। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ যদি কোন ক্রীতদাস হতে নিজের অংশ মুক্ত করে আর ক্রীতদাসের মূল্য পরিমাণ অর্থ তার কাছে থাকে, তবে তার উপর দায়িত্ব হবে ক্রীতদাসের ন্যায্য মূল্য নির্ণয় করা। তারপর সে শরীকদেরকে তাদের প্রাপ্য অংশ পরিশোধ করবে এবং ক্রীতদাসটি তার পক্ষ হতে মুক্ত হয়ে যাবে, কিন্তু (সে পরিমাণ অর্থ) না থাকলে তার পক্ষ হতে ততটুকুই মুক্ত হবে যতটুকু সে মুক্ত করেছে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] شركا শব্দের অর্থ نصيبا অর্থাৎ অংশ, ভাগ। বুখারী ২৪৯১, ২৪০৩, ২৫২১, ২৫২৫, ২৫২৪, মুসলিম ১৫০১, তিরমিযী ১৩৪৬, নাসায়ী ৪৬৯৯, আবূ দাউদ ৩৯৪০, ৩৯৪৩।









বুলূগুল মারাম (1423)


وَلَهُمَا: عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه: «وَإِلَّا قُوِّمَ عَلَيْهِ, وَاسْتُسْعِيَ غَيْرَ مَشْقُوقٍ عَلَيْهِ». وَقِيلَ: إِنَّ السِّعَايَةَ مُدْرَجَةٌ فِي الْخَبَرِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2527)، ومسلم (1503) وأوله: «من أعتق نصيبا - أو شقيصا - في مملوك، فخلاصه عليه في ماله إن كان له مال، وإلا




১৪২৩। বুখারী ও মুসলিমে আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত অন্য একটি রেওয়ায়েতে আছে, একাকী পূর্ণ আযাদ করতে সক্ষম না হলে মূল্য ধার্য করা হবে। আর ‘মূল্য সংগ্রহের জন্য দাসের পক্ষ থেকে চেষ্টা চলবো। এতে তার উপরে কোন কঠোরতা আরোপ করা হবে না।[1]



বলা হয়ে থাকে যে, চেষ্টা করার জন্য যে বাক্যটি বর্ণিত হয়েছে তা ‘মুদরাজ বা কোন রাবীর নিজস্ব বক্তব্য- হাদীসের অংশ নয়। প্রকৃত পক্ষে এটিও হাদীসেরই অংশ।[2]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী এবং মুসলিমে এর প্রথমাংশটুকু হলো কেউ শরীকী ক্রীতদাস হতে নিজের ভাগ বা অংশ (রাবীর দ্বিধা) মুক্ত করে দিলে অর্থ ব্যয়ে সেই ক্রীতদাসকে নিস্কৃতি দেয়া তার উপর কর্তব্য, যদি তার কাছে প্রয়াজনীয় অর্থ থাকে। তার পরের অংশটুকু উপরে বর্ণিত।

[2] বুখারী ২৪৯২, ২৫০৪, মুসলিম ১৫০৩, তিরমিযী ১৩৪৩, আবূ দাউদ ৩৯৩৭, ৩৯৩৮, ইবনু মাজাহ ২৫২৭, আহমাদ ৭৪১৯, ৮৩৬০, ১০৪৯১।









বুলূগুল মারাম (1424)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «لَا يَجْزِي وَلَدٌ وَالِدَهُ, إِلَّا أَنْ يَجِدَهُ مَمْلُوكًا فَيُعْتِقَهُ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (1510) وزاد: «فيشتريه» بعد قوله: مملوكا




১৪২৪। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কোন পুত্র তার পিতার হাক্ব আদায় করতে সক্ষম হবে না, কিন্তু যদি পিতাকে গোলাম অবস্থায় পায় আর তাকে ক্রয় করে আযাদ করে (তবে তার পিতার হাক্ব পরিশোধ হতে পারে)।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] নাসায়ীর বর্ণনায় আরো রয়েছে, তুমি তোমার পরিবারের পিছনে ব্যয় করবে। মুসলিম ১৫১০, তিরমিযী ১৯০৬, আবূ দাউদ ৫১৩৭, ইবনু মাজাহ ৩৬৫৯, আহমাদ ৭৫১৬, ৮৬৭৬।









বুলূগুল মারাম (1425)


وَعَنْ سَمُرَةَ - رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «مَنْ مَلَكَ ذَا رَحِمٍ مَحْرَمٍ, فَهُوَ حُرٌّ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالْأَرْبَعَةُ وَرَجَّحَ جَمْعٌ مِنَ الْحُفَّاظِ أَنَّهُ مَوْقُوفٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (5/ 15 و 20)، وأبو داود (3949)، والترمذي (1365)، والنسائي في «الكبرى» كما في «التحفة»، وابن ماجه (2524) من طريق الحسن، عن سمرة. وله شاهد من حديث ابن عمر بإسناد صحيح. رواه ابن ماجه (2525)، وابن الجارود (972)




১৪২৫। সামুরাহ (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি এমন কোন আত্মীয়ের (রক্ত সম্পর্কযুক্ত লোকের) মনিব হয় যাদের মধ্যে বিয়ে হারাম তবে সে (উক্ত গোলাম) আযাদ হয়ে যায়।



একদল হাদীস বিশেষজ্ঞ এটিকে মাওকূফ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদের বর্ণনায় রয়েছে, أيما عبد كاتب على مائة أوقية فأداها إلا عشرة أواق فهو عبد وأيما عبد كاتب على مائة دينار فأداها إلا عشرة دنانير فهو عبد

যে কোন দাস নিজের মুক্তির জন্য একশত উকিয়া ধাৰ্য করে, অতঃপর দশ উকিয়া ব্যতিত সম্পূর্ণই পরিশোধ করে তাহলে সেই দাস (বলে গণ্য হবে)। আর যে কোন দাস একশত দিনারের বিনিময়ে নিজের মুক্তি চায়। অতঃপর দশ দিনার ব্যতিত আর সবটুকুই পরিশোধ করে তাহলেও সে দাস বলে গণ্য হবে। আবূ দাউদ ৩৯৪৯, তিরমিযী ১৩৬৫, ইবনু মাজাহ ২৫২৪, আহমাদ ১৯৬৫৪, ১৯৬৯২, ১৯৭১৫।









বুলূগুল মারাম (1426)


وَعَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ رَجُلًا أَعْتَقَ سِتَّةً مَمْلُوكِينَ لَهُ, عِنْدَ مَوْتِهِ, لَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ غَيْرَهُمْ, فَدَعَا بِهِمْ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - فَجَزَّأَهُمْ أَثْلَاثًا, ثُمَّ أَقْرَعَ بَيْنَهُمْ, فَأَعْتَقَ اثْنَيْنِ, وَأَرَقَّ أَرْبَعَةً, وَقَالَ لَهُ قَوْلًا شَدِيدًا. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (1668)




১৪২৬। ‘ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত কোন এক ব্যক্তি মৃত্যুর সময় তার ছয়টি দাস মুক্ত করে দেন, ঐ দাসগুলো ছাড়া তার আর কোন সম্পদ ছিল না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে ডেকে পাঠালেন ও তিন ভাগে বিভক্ত করে দিলেন। তার পর প্রত্যেক ভাগের উপর লটারী দিয়ে এর ভিত্তিতে দুটো দাসকে মুক্ত করে দিলেন ও চারজনকে দাস করে রাখলেন এবং তাকে (এদের মনিবকে) কঠোর কথা বললেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ১৬৬৮, তিরমিযী ১৩৬৪, নাসায়ী ১৯৫৮, আবূ দাউদ ৩৯৬১, ইবনু মাজাহ ২৩৪৫, আহমাদ ১৯৩২৫, ১৯৫০৭, দারেমী ১৫০৬।









বুলূগুল মারাম (1427)


وَعَنْ سَفِينَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: كُنْتُ مَمْلُوكًا لِأُمِّ سَلَمَةَ فَقَالَتْ: أُعْتِقُكَ, وَأَشْتَرِطُ عَلَيْكَ أَنْ تَخْدِمَ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - مَا عِشْتَ. رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَأَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ, وَالْحَاكِمُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه أحمد (5/ 221)، وأبو داود (3932)، والنسائي في «الكبرى» (3/ 190 - 191)، والحاكم (2/ 213 - 214) من طريق سعيد بن جمهان - وهو حسن الحديث - عن سفينة، به. وزادوا إلا أحمد: «قال: قلت: لو أنك لم تشترطي علي ما فارقت رسول الله صلى الله عليه وسلم ما عشت. قال: فأعتقتني، واشترطت علي أن أخدم رسول الله صلى الله عليه وسلم ما عشت




১৪২৭। সাফীনাহ (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আমি (নবীর সহধর্মিণী) উম্মু সালামাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দাস ছিলাম। তিনি আমাকে বলেন, আমি তোমাকে এই শর্তে আযাদ করে দিচ্ছি যে, তুমি তোমার জীবন কাল পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমত করবে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৩৯৩২, ইবনু মাজাহ ২৫২৬।









বুলূগুল মারাম (1428)


وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا; أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «إِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ فِي حَدِيثٍ




১৪২৮। ‘আয়িশা (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ওয়ালা (দাসত্ব মুক্তিসূত্রে উত্তরাধিকার) ঐ ব্যক্তির জন্য সাব্যস্ত হবে যে দাসকে আযাদ করে দেয়।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৪৫৫, ২১৫৫, ২১৬৮, মুসলিম ১৫০৪, তিরমিযী ১২৫৬, আবূ দাউদ ৩৯২৯, ইবনু মাজাহ ৩৮৩৪, মালেক ১৫১৯।









বুলূগুল মারাম (1429)


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «الْوَلَاءُ لُحْمَةٌ كَلُحْمَةِ النَّسَبِ, لَا يُبَاعُ وَلَا يُوهَبُ». رَوَاهُ الشَّافِعِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ, وَالْحَاكِمُ. وَأَصْلُهُ فِي «الصَّحِيحَيْنِ» بِغَيْرِ هَذَا اللَّفْظِ




১৪২৯। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ওয়ালা একটা বলিষ্ঠ সম্পর্ক যেমন রক্তের সম্পর্ক (ঘনিষ্ঠ ও স্থায়ী হয়ে থাকে)। অতএব তা বিক্রি করা যায় না, এবং দান করাও যায় না।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৩৯২৯, ইবনু মাজাহ ৩৮৩৫, মালিক ১৫১৯।









বুলূগুল মারাম (1430)


عَنْ جَابِرٍ - رضي الله عنه: أَنَّ رَجُلًا مِنْ الْأَنْصَارِ أَعْتَقَ غُلَامًا لَهُ عَنْ دُبُرٍ, لَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ غَيْرُهُ, فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم. فَقَالَ: «مَنْ يَشْتَرِيهِ مِنِّي» فَاشْتَرَاهُ نُعَيْمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بِثَمَانِمَائَةِ دِرْهَمٍ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَفِي لَفْظٍ لِلْبُخَارِيِّ: فَاحْتَاجَ وَفِي رِوَايَةٍ لِلنَّسَائِيِّ: وَكَانَ عَلَيْهِ دَيْنٌ, فَبَاعَهُ بِثَمَانِمَائَةِ دِرْهَمٍ, فَأَعْطَاهُ وَقَالَ: اقْضِ دَيْنَكَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (6716)، ومسلم (997) وزاد مسلم: «فجاء بها رسول الله صلى الله عليه وسلم، فدفعها إليه. ثم قال: ابدأ بنفسك فتصدق عليها، فإن فضل شيء فلأهلك، فإن فضل عن أهلك شيء فلذي قرابتك، فإن فضل عن ذي قرابتك شيء فهكذا وهكذا. يقول: فبين يديك وعن يمينك وعن شمالك
البخاري (2141) والمراد بالذي احتاج، هو الأنصاري. ووقع عند النسائي: «وكان محتاجا
رواه النسائي (8/ 246)، وزاد: وأنفق على عيالك




১৪৩০। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আনসার গোত্রের এক লোক তার গোলামকে মুদাব্বির বানালো (মনিবের মৃত্যু হলে গোলাম মুক্ত হয়ে যাবে)। ঐ গোলাম ছাড়া তার আর কোন মাল ছিল না। খবরটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌছল। তিনি বললেন, গোলামটিকে আমার নিকট হতে কে কিনে নেবে? নুআয়ম ইবনু নাহহা (রাঃ) তাকে আটশ দিরহামের বিনিময়ে কিনে নিল।[1]



বুখারীর শব্দে আছে, লোকটি তার দাসকে আযাদ করে দেয়ার পর অভাবগ্ৰস্ত হয়ে পড়ে।



নাসায়ীর বর্ণনায় আছে, লোকটির কার্জ ছিল। ফলে গোলামটিকে আটশত দিরহামের বিনিময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিক্রয় করে তাকে দিয়ে বললেন, তুমি তোমার ঋণ পরিশোধ করে দাও।




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২১৪১, ২২৩১, ২৪০৪, মুসলিম ৯৯৭, তিরমিযী ১২১৯, নাসায়ী ৪৬৫২, ৪৬৫৩, আবূ দাউদ ৩৯৫৫, ইবনু মাজাহ ২৫১২, আহমাদ ১৪৭৭৫, ১৪৮০৭, দারেমী ২৫৭৩।









বুলূগুল মারাম (1431)


وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ, عَنْ أَبِيهِ, عَنْ جَدِّهِ, عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم: «قَالَ: «الْمُكَاتَبُ عَبْدٌ مَا بَقِيَ عَلَيْهِ مِنْ مُكَاتَبَتِهِ دِرْهَمٌ». أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ بِإِسْنَادٍ حَسَنٍ (1) وَأَصْلُهُ عِنْدَ أَحْمَدَ, وَالثَّلَاثَةِ, وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه أبو داود (3926)

رواه أحمد (2/ 178 و 206 و 209)، وأبو داود (3927)، والنسائي في «الكبرى» (3/ 197)، والترمذي (1260)، وابن ماجه (2519)، والحاكم (2/ 218) من طريق عمرو بن شعيب أيضا، به. ولفظه كما عند أبي داود: «أيما عبد كاتب على مئة أوقية فأداها إلا عشرة أواق فهو عبد. وأيما عبد كاتب على مئة دينار فأداها إلا عشرة دنانير فهو عبد




১৪৩১। ‘আমর ইবনু শুআইব (রহঃ) তার পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মুকাতাব গোলাম স্বীয় মুক্তির জন্য নির্ধারিত অর্থের মধ্যে একটা দিরহাম পরিশোধ করতে বাকী থাকা পর্যন্ত সে দাস (বলে গণ্য হবে)।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৩৯২৬, ৩৯২৭, তিরমিযী ১২৬০, আহমাদ ৬৬২৮, ৬৬৮৭, ৬৬৮৪।









বুলূগুল মারাম (1432)


وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا- قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا كَانَ لِإِحْدَاكُنَّ مُكَاتَبٌ, وَكَانَ عِنْدَهُ مَا يُؤَدِّي, فَلْتَحْتَجِبْ مِنْهُ». رَوَاهُ الْخَمْسَةُ (1) وَصَحَّحَهُ التِّرْمِذِيُّ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أحمد (6/ 289 و 308 و 311)، وأبو داود (3928)، والنسائي في «الكبرى» (3/ 198)، والترمذي (1261)، وابن ماجه (2520) من طريق نبهان مولى أم سلمة، عنها به، ونبهان مجهول كما قال غير واحد، وقال الشافعي: «لم أرى من رضيت من أهل العلم يثبت حديث نبهان هذا




১৪৩২। উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের (মেয়ে জাতির বা নবীর সহধর্মিণীদের) কারো যখন কোন মুকাতাব গোলাম থাকে আর সে গোলামের নিকটে চুক্তিকৃত টাকা পরিশোধ করার সামৰ্থ্য থাকে তবে ঐ রূপ গোলাম থেকে সে যেন পৰ্দা করে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৩৯২৮, তিরমিযী ১৬৬১, ইবনু মাজাহ ২৫২০, আহমাদ ২৫৯৩৪, ২৬০৮৯। ইমাম শাওকানী তাঁর নাইলুল আওত্বার গ্রন্থে ৬/২১৭ গ্রন্থে বলেন, শাইখ আলবানী যঈফ ইবনু মাজাহ ৪৯৭, ইরওয়াউল গালীল ১৭৬৯ আত্তালীকাত আররাযীয়াহ ২/৫০৮ গ্রন্থে, এটিকে দুর্বল বলেছেন। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর তাহযীবুস সুন্নান ১০/৪৩২ গ্রন্থে বলেন, যাদের হাদীসে আমি সন্তুষ্ট তাদের কাউকে আমি এ হাদীসটি বর্ণনা করতে দেখিনি।









বুলূগুল মারাম (1433)


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «يُودَى الْمُكَاتَبُ بِقَدْرِ مَا عَتَقَ مِنْهُ دِيَةَ الْحُرِّ, وَبِقَدْرِ مَا رَقَّ مِنْهُ دِيَةَ الْعَبْدِ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَأَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (1/ 222 - 223 و 226 و 260)، وأبو داود (4581)، والنسائي (8/ 46) واللفظ لأحمد




১৪৩৩। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মুকাতাব গোলাম নিহত হলে তার দিয়াত (খুনের ক্ষতিপূরণ) যে পরিমাণ অংশ আযাদ ছিল সে পরিমাণের জন্য আযাদের রক্ত পণ দিতে হবে। আর যে অংশ দাস ছিল সে পরিমাণের জন্য গোলামের অনুরূপ রক্ত মূল্য (দিয়াত) দিতে হবে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৪৫৮।









বুলূগুল মারাম (1434)


وَعَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ - أَخِي جُوَيْرِيَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا - قَالَ: «مَا تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - عِنْدَ مَوْتِهِ دِرْهَمًا, وَلَا دِينَارًا, وَلَا عَبْدًا, وَلَا أَمَةً, وَلَا شَيْئًا, إِلَّا بَغْلَتَهُ الْبَيْضَاءَ, وَسِلَاحَهُ, وَأَرْضًا جَعَلَهَا صَدَقَةً». رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2739)




১৪৩৪। উম্মুল যুমিনীন যুওয়াইরিয়ার ভাই ‘আমর ইবনুল হারিস (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ইন্তিকালের সময় কোন দিরহাম (রৌপ্য মুদ্রা), কোন দিনার, কোন গোলাম বা কোন দাসী আর না কোন বস্তু রেখে গিয়েছিলেন। তবে তাঁর একটা মাত্র সাদা রং-এর খচ্চর, যুদ্ধাস্ত্র ও কিছু জমিও ছিল যা সাদাকাহ করে রেখেছিলেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২৮৭৩, ২৯১২, ৩০৯৮, নাসায়ী ৩৫৯৪, ৩৫৯৫, আহমাদ ১৭৯৯০।









বুলূগুল মারাম (1435)


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «أَيُّمَا أَمَةٍ وَلَدَتْ مِنْ سَيِّدِهَا, فَهِيَ حُرَّةٌ بَعْدَ مَوْتِهِ». أَخْرَجَهُ ابْنُ مَاجَهْ, وَالْحَاكِمُ بِإِسْنَادٍ ضَعِيفٍ
وَرَجَّحَ جَمَاعَةٌ وَقْفَهُ عَلَى عُمَرَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه ابن ماجه (2515)، والحاكم (2/ 19)




১৪৩৫। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে কোন দাসী তার মনিবের ঔরসজাত সন্তান প্রসব করবে সে তার মানবের মৃত্যুর পর আযাদ হয়ে যাবে।



একদল হাদীস বিশারদ এটিকে ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত মাওকুফ হাদীস হওয়াকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইবনু মাজাহ ২৫১৫, আহমাদ ২৯৩১, দারেমী ২৫৭৪। ইবনুল কাত্তান তাঁর আল ওয়াহম ওয়াল ইহাম ৩/১৩৮ গ্রন্থে বলেন, আবদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন উওয়াইস আল আসবাহী সত্যবাদী। কিন্তু হাদীস বর্ণনায় দুর্বল। আর দ্বিতীয় জন হচ্ছেন উবাইদুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া আর রহাওয়ী, তার অবস্থা জানা যায় না। ইমাম সুয়ূত্বী তাঁর আল জামেউস সগীর ২৯৮১ হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। ইমাম সানআনী সুবুলুস সালাম গ্রন্থে ৪/২২৮ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে আল হাসান বিন আবদুল্লাহ আল হাশিমী অত্যন্ত দুর্বল রাবী। বিন বায তাঁর হাশিয়া বুলুগুল মারাম ৭৬৪ তে বলেন, এর সানাদে হুসাইন বিন আবদুল্লাহ বিন উবাইদুল্লাহ বিন আব্বাস সে দুর্বল রাবী। বিন বায উক্ত কিতাবের ৬/২৩৩ পৃষ্ঠায় বলেন, শাইখ আলবানী যঈফুল জমে ২২১৮ তে হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন, মুহাদ্দিসগণের নিকট সঠিক হচ্ছে এটি উমার (রাঃ)-এর ইজতিহাদ।









বুলূগুল মারাম (1436)


وَعَنْ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ - رضي الله عنه - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «مَنْ أَعَانَ مُجَاهِدًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ, أَوْ غَارِمًا فِي عُسْرَتِهِ, أَوْ مُكَاتَبًا فِي رَقَبَتِهِ, أَظَلَّهُ اللَّهُ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أحمد (3/ 487)، والحاكم (2/ 89 - 90 و 217) وفي سنده عبد الله بن سهل بن حنيف، وهو مجهول




১৪৩৬। সাহল ইবনু হুনাইফ (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি কোন মুজাহিদ (দ্বীনের পথের সংগ্রামী)-কে সাহায্য করবে বা কোন ঋণী ব্যক্তিকে (যার সাংসারিক অভাব-অনটনের কারণে ঋণ হয়েছে) বা মুকাতাব দাস বা দাসীকে দাসত্ব থেকে মুক্তির জন্য সাহায্য করবে তাকে আল্লাহ ছায়াহীন কিয়ামতের কঠিন দিনে ছায়া প্রদান করবেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আহমাদ, হাকিম, ২য় খণ্ড ৮৯, ৯০ পৃষ্ঠা হাদীস নং ২১৭। তিনি যুহাইর বিন মুহাম্মাদ এবং আমরা বিন সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম হাইসামী তাঁর মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৫ম খণ্ড ২৮৩ পৃষ্ঠায় বলেন, এ হাদীসের বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ বিন সাহল বিন হুনাইফকে আমি চিনি না। আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন উকাইল এর হাদীসটি হাসান। ইমাম যাহাবী তাঁর আল মুহাযযিব (৮/৪৩৪৬) গ্রন্থে হাদীসটিকে খুবই গরীব বলেছেন। আল মুনযিরী তাঁর তারগীব ওয়াত তারহীব (২/২৩০) গ্রন্থে আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন উকাইল দুর্বল বলেছেন। শাইখ আলবানী তাঁর সিলসিলা যাঈফা ৪৫৫৫, যঈফুল জামে ৫৪৪৭, যঈফ তারগীব ৭৯৬ গ্ৰন্থসমূহে হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। মুতলাকা (১০৫) গ্রন্থে হাদীসটি হাসান বলেছেন। ইমাম সুয়ূত্বী আল জামেউস সগীর (৮৪৭০) গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন। আল বাদরুল মুনীর (৯/৭৪১) গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন।









বুলূগুল মারাম (1437)


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ سِتٌّ: إِذَا لَقِيتَهُ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ, وَإِذَا دَعَاكَ فَأَجِبْهُ, وَإِذَا اسْتَنْصَحَكَ فَانْصَحْهُ, وَإِذَا عَطَسَ فَحَمِدَ اللَّهَ فَسَمِّتْهُ وَإِذَا مَرِضَ فَعُدْهُ, وَإِذَا مَاتَ فَاتْبَعْهُ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (2162) (5)، و «التسميت» بالسين المهملة، وأيضا بالمعجمة لغتان مشهورتان، وهو أن يقول للعاطس: يرحمك الله. يعني: بعد قول العاطس: الحمد لله




১৪৩৭। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: এক মুসলিমের উপর অন্য মুসলিমের ৬টি হাক্ব রয়েছে- ১. কারো সাথে সাক্ষাৎ হলে সালাম দেবে; ২, আমন্ত্রণ করলে তা কুবুল করবে; ৩, পরামর্শ চাইলে সৎ পরামর্শ দেবে; ৪. হাঁচি দিয়ে আল-হামদু লিল্লাহ পড়লে তার জবাব দেবে (ইয়ারহামুকাল্লাহ বলবে)।[1] ৫. পীড়িত হলে তার কাছে গিয়ে তার খবরাখরব নেবে; ৬. সে ইন্তিকাল করলে তার জানাযা সালাতে অংশগ্রহণ করবে।[2]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] التسميت শব্দের অর্থ : হাঁচিদাতার হাঁচির উত্তরে يرحمك الله (আল্লাহ তোমার উপর রহমাত বর্ষণ করুক) বলা। অর্থাৎ হাঁচি দাতা আলহামদুলিল্লাহ বলার পর ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা।

[2] মুসলিম ২১৬২, বুখারী ১২৪০, তিরমিযী ২৭৩৭, নাসায়ী ১৯৩৮, আবূ দাউদ ৫০৩০, ইবনু মাজাহ ১৪৩৫, আহমাদ ২৭১৫৫।









বুলূগুল মারাম (1438)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «انْظُرُوا إِلَى مَنْ هُوَ أَسْفَلَ مِنْكُمْ, وَلَا تَنْظُرُوا إِلَى مَنْ هُوَ فَوْقَكُمْ, فَهُوَ أَجْدَرُ أَنْ لَا تَزْدَرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. وهذا اللفظ رواية لمسلم (2963) (9)، وأما اللفظ المتفق عليه، فهو قوله -صلى الله عليه وسلم-: «إذا نظر أحدكم إلى من فضل عليه في المال والخلق، فلينظر إلى من هو أسفل منه ممن فضل عليه». رواه البخاري (6490)، ومسلم (2963) (8) ولشرح الحديث انظر كتابي» ذم الدنيا» ص (17 - 18)




১৪৩৮। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (পার্থিব ব্যাপারে) তুমি তোমার চেয়ে দুর্বলের উপর দৃষ্টি রাখবে, কিন্তু যে ব্যক্তি তোমার চেয়ে উঁচু তার উপর দৃষ্টি রাখবে না। এরূপ করলে তুমি আল্লাহ প্রদত্ত তোমার নিআমাতের প্রতি অবহেলা ও তাচ্ছিল্য প্রকাশ করার অপরাধ হতে বেঁচে যাবে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী এবং মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে, আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ إذا نظر أحدكم إلى من فضل عليه في المال والخلق، فلينظر إلى من هو أسفل منه ممن فضل عليه তোমাদের কারো নজর যদি এমন লোকের উপর পড়ে, যাকে মাল-ধন ও দৈহিক গঠনে অধিক মর্যাদা দেয়া হয়েছে। তবে সে যেন এমন লোকের দিকে নজর দেয়, যে তার চেয়ে নিম্ন স্তরে রয়েছে। বুখারী ৬৪৯০, মুসলিম ২৯৬৩, আহমাদ ২৭৩৬৪, ৯৮৮৬।









বুলূগুল মারাম (1439)


وَعَنِ النَوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ - رضي الله عنه - قَالَ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - عَنِ الْبِرِّ وَالْإِثْمِ? فَقَالَ: «الْبِرُّ: حُسْنُ الْخُلُقِ, وَالْإِثْمُ: مَا حَاكَ فِي صَدْرِكَ, وَكَرِهْتَ أَنْ يَطَّلِعَ عَلَيْهِ النَّاسُ». أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (2553)




১৪৩৯। নাওওয়াস ইবনু সামআন (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নেকি ও পাপ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি বললেন, নেকি হচ্ছে সুন্দর ব্যবহার, আর পাপ হচ্ছে যা তোমার অন্তরে খটকা জাগায়, আর মানুষ তা জেনে যাক এটা তুমি পছন্দ কর না।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ২৫৫৩, ২৩৮৯ আহমাদ ১৭১৭৯ দারেমী ২৭৮৯।









বুলূগুল মারাম (1440)


وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا كُنْتُمْ ثَلَاثَةً, فَلَا يَتَنَاجَى اثْنَانِ دُونَ الْآخَرِ, حَتَّى تَخْتَلِطُوا بِالنَّاسِ; مِنْ أَجْلِ أَنَّ ذَلِكَ يُحْزِنُهُ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَّفْظُ لِمُسْلِمٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (6290)، ومسلم (2184)، وليس عند مسلم لفظ ذلك




১৪৪০। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোথাও তোমরা তিনজনে থাকলে একজনকে বাদ দিয়ে দুজনে কানে-কানে কথা বলবে না যতক্ষণ না জনগণের সাথে মিশে যাও। এতে তার মনে দুঃখ হবে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৬২৯০, মুসলিম ২১৮৪, তিরমিযী ২৮২৫, আবূ দাউদ ৪৮৫১, ইবনু মাজাহ ৩৭৭৫, আহমাদ ৩৪৫০, দারেমী ২৬৫৭।