হাদীস বিএন


সহীহুল বুখারী





সহীহুল বুখারী (5604)


الْحُمَيْدِيُّ سَمِعَ سُفْيَانَ أَخْبَرَنَا سَالِمٌ أَبُو النَّضْرِ أَنَّه“ سَمِعَ عُمَيْرًا مَوْلٰى أُمِّ الْفَضْلِ يُحَدِّثُ عَنْ أُمِّ الْفَضْلِ قَالَتْ شَكَّ النَّاسُ فِي صِيَامِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ عَرَفَةَ فَأَرْسَلْتُ إِلَيْهِ بِإِنَاءٍ فِيهِ لَبَنٌ فَشَرِبَ فَكَانَ سُفْيَانُ رُبَّمَا قَالَ شَكَّ النَّاسُ فِي صِيَامِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ عَرَفَةَ فَأَرْسَلَتْ إِلَيْهِ أُمُّ الْفَضْلِ فَإِذَا وُقِّفَ عَلَيْهِ قَالَ هُوَ عَنْ أُمِّ الْفَضْلِ.




উম্মুল ফায্‌ল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আরাফার দিন রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সিয়াম পালনের ব্যাপারে লোকেরা সন্দেহ করে। তখন আমি তাঁর নিকট দুধ ভর্তি একটা পেয়ালা পাঠালাম। তিনি তা পান করলেন। বর্ণনাকারী সুফিয়ান অনেক সময় এভাবে বলতেন, আরাফার দিন রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সিয়াম পালন সম্পর্কে লোকেরা সন্দেহ করছিল। তখন উম্মুল ফায্‌ল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর কাছে দুধ পাঠিয়েছিলেন। হাদীসটি মাউসূল না মুরসাল, এ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছেন, এটি উম্মুল ফায্‌ল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৯০)









সহীহুল বুখারী (5605)


قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ الأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ وَأَبِي سُفْيَانَ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ جَاءَ أَبُو حُمَيْدٍ بِقَدَحٍ مِنْ لَبَنٍ مِنَ النَّقِيعِ فَقَالَ لَه“ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَلاَّ خَمَّرْتَه“ وَلَوْ أَنْ تَعْرُضَ عَلَيْهِ عُودًا.




জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ্‌ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ হুমাইদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এক বাটি দুধ নিয়ে আসলেন। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেনঃ এটিকে ঢাকলে না কেন? একটি কাঠি দিয়ে হলেও ঢেকে রাখা দরকার।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৯১)









সহীহুল বুখারী (5606)


عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ حَدَّثَنَا أَبِي حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا صَالِحٍ يَذْكُرُ أُرَاه“ عَنْ جَابِرٍ قَالَ جَاءَ أَبُو حُمَيْدٍ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ مِنَ النَّقِيعِ بِإِنَاءٍ مِنْ لَبَنٍ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَلاَّ خَمَّرْتَه“ وَلَوْ أَنْ تَعْرُضَ عَلَيْهِ عُودًا

وَحَدَّثَنِي أَبُو سُفْيَانَ عَنْ جَابِرٍ عَنْ النَّبِيِّصلى الله عليه وسلم بِهٰذَا.




জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ হুমাইদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নামক এক আনসারী নাফি' নামক জায়গা থেকে এক পেয়ালা দুধ নিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেনঃ এটিকে ঢেকে আননি কেন? এর উপর থেকে কাঠি দিয়ে হলেও ঢেকে রাখা দরকার।
আবূ সুফিয়ান (রাহিঃ) এ হাদীসটি জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এরকমই বর্ণনা করেছেন। [৫৬০৫; মুসলিম ৩৬/১২, হাঃ ২০১১] আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৯২)









সহীহুল বুখারী (5607)


مَحْمُودٌ أَخْبَرَنَا النَّضْرُ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ قَالَ قَدِمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْ مَكَّةَ وَأَبُو بَكْرٍ مَعَه“ قَالَ أَبُو بَكْرٍ مَرَرْنَا بِرَاعٍ وَقَدْ عَطِشَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَبُو بَكْرٍ فَحَلَبْتُ كُثْبَةً مِنْ لَبَنٍ فِي قَدَحٍ فَشَرِبَ حَتّٰى رَضِيتُ وَأَتَانَا سُرَاقَةُ بْنُ جُعْشُمٍ عَلٰى فَرَسٍ فَدَعَا عَلَيْهِ فَطَلَبَ إِلَيْهِ سُرَاقَةُ أَنْ لاَ يَدْعُوَ عَلَيْهِ وَأَنْ يَرْجِعَ فَفَعَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم.




বারা‘ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কা থেকে রওয়ানা হলেন, তখন তাঁর সাথে ছিলেন আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)। আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেনঃ আমরা এক রাখালের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। সে সময়ে রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন খুব পিপাসার্ত। আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেনঃ আমি তখন একটি পাত্রে ভেড়ার দুধ দুইলাম। তিনি তা পান করলেন, আমি খুব খুশি হলাম। এমন সময় সুরাকা ইবনু জু‘শুম একটি ঘোড়ার উপর চড়ে আমাদের কাছে আসলো। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বদ দু‘আ করতে চাইলে সে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আরয করল, যেন তিনি তার জন্য বদ দু‘আ না করেন এবং সে যেন নির্বিঘ্নে ফিরে যেতে পারে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাই করলেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৯৩)









সহীহুল বুখারী (5608)


أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ نِعْمَ الصَّدَقَةُ اللِّقْحَةُ الصَّفِيُّ مِنْحَةً وَالشَّاةُ الصَّفِيُّ مِنْحَةً تَغْدُو بِإِنَاءٍ وَتَرُوحُ بِآخَرَ.




আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ উত্তম সদকা হল উপহার স্বরূপ দেয়া দুধেল উটনী কিংবা বক্‌রী, যা সকালে একটি পাত্র পূর্ণ করে আর বিকালে পূর্ণ করে আরেকটি।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৯৪)









সহীহুল বুখারী (5609)


أَبُو عَاصِمٍ عَنْ الأَوْزَاعِيِّ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم شَرِبَ لَبَنًا فَمَضْمَضَ وَقَالَ إِنَّ لَه“ دَسَمًا.




ইবনু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুধপান করেছেন, এরপর তিনি কুলি করেছেন এবং বলেছেনঃ এর মধ্যে তৈল আছে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৯৯১), ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৯৫)









সহীহুল বুখারী (5610)


وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم رُفِعْتُ إِلٰى السِّدْرَةِ فَإِذَا أَرْبَعَةُ أَنْهَارٍ نَهَرَانِ ظَاهِرَانِ وَنَهَرَانِ بَاطِنَانِ فَأَمَّا الظَّاهِرَانِ النِّيلُ وَالْفُرَاتُ وَأَمَّا الْبَاطِنَانِ فَنَهَرَانِ فِي الْجَنَّةِ فَأُتِيتُ بِثَلاَثَةِ أَقْدَاحٍ قَدَحٌ فِيهِ لَبَنٌ وَقَدَحٌ فِيهِ عَسَلٌ وَقَدَحٌ فِيهِ خَمْرٌ فَأَخَذْتُ الَّذِي فِيهِ اللَّبَنُ فَشَرِبْتُ فَقِيلَ لِي أَصَبْتَ الْفِطْرَةَ أَنْتَ وَأُمَّتُكَ.
قَالَ هِشَامٌ وَسَعِيدٌ وَهَمَّامٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ مَالِكِ بْنِ صَعْصَعَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الأَنْهَارِ نَحْوَه“ وَلَمْ يَذْكُرُوا ثَلاَثَةَ أَقْدَاحٍ.




আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমার সম্মুখে ‘সিদ্‌রাতুল মুনতাহা’ তুলে ধরা হল। তখন দেখলাম চারটি নহর। দু‘টি নহর হল যাহেরী, আর দু‘টি নহর হল বাতেনী। যাহেরী দু‘টি হল, নীল ও ফোরাত। আর বাতেনী দু‘টি হল, জান্নাতের দু‘টি নহর। আমার সম্মুখে তিনটি পেয়ালা তুলে ধরা হল, একটি পেয়ালায় আছে দুধ, একটি পেয়ালায় আছে মধু আর একটিতে শরাব। আমি দুধের পেয়ালাটি গ্রহণ করলাম এবং পান করলাম। তখন আমাকে বলা হল, আপনি এবং আপনার উম্মাত স্বভাবজাত বস্তু গ্রহণ করেছেন। তবে তাঁরা তিনটি পেয়ালার কথা উল্লেখ করেননি।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৯৯২), ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৯৫)









সহীহুল বুখারী (5611)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ كَانَ أَبُو طَلْحَةَ أَكْثَرَ أَنْصَارِيٍّ بِالْمَدِينَةِ مَالاً مِنْ نَخْلٍ، وَكَانَ أَحَبُّ مَالِهِ إِلَيْهِ بَيْرَحَاءَ، وَكَانَتْ مُسْتَقْبِلَ الْمَسْجِدِ، وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدْخُلُهَا وَيَشْرَبُ مِنْ مَاءٍ فِيهَا طَيِّبٍ‏.‏ قَالَ أَنَسٌ فَلَمَّا نَزَلَتْ ‏{‏لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ‏}‏ قَامَ أَبُو طَلْحَةَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَقُولُ ‏{‏لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ‏}‏ وَإِنَّ أَحَبَّ مَالِي إِلَىَّ بَيْرُحَاءَ، وَإِنَّهَا صَدَقَةٌ لِلَّهِ أَرْجُو بِرَّهَا وَذُخْرَهَا عِنْدَ اللَّهِ فَضَعْهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ حَيْثُ أَرَاكَ اللَّهُ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ بَخٍ ذَلِكَ مَالٌ رَابِحٌ ـ أَوْ رَايِحٌ شَكَّ عَبْدُ اللَّهِ ـ وَقَدْ سَمِعْتُ مَا قُلْتَ وَإِنِّي أَرَى أَنْ تَجْعَلَهَا فِي الأَقْرَبِينَ ‏"‏‏.‏ فَقَالَ أَبُو طَلْحَةَ أَفْعَلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَقَسَمَهَا أَبُو طَلْحَةَ فِي أَقَارِبِهِ وَفِي بَنِي عَمِّهِ‏.‏ وَقَالَ إِسْمَاعِيلُ وَيَحْيَى بْنُ يَحْيَى رَايِحٌ‏.‏




আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ ত্বলহা ছিলেন মদিনার আনসারদের মধ্যে সবার চেয়ে অধিক খেজুর গাছের মালিক। আর তাঁর নিকট তাঁর প্রিয় সম্পত্তি ছিল ‘‘বাইরুহা’’ নামক বাগানটি। সেটি ছিল মসজিদে নববীর ঠিক সামনে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বাগানে যেতেন এবং সেখানকার উৎকৃষ্ট পানি পান করতেন।’’ আনাস বলেন, যখন আয়াত অবতীর্ণ হলঃ ‘‘তোমরা তোমাদের প্রিয়বস্তু খরচ না করা পর্যন্ত কক্ষনো পুণ্য লাভ করবে না’’সূরাহ আলু ‘ইমরান ৩/৯২)।তখন আবূ ত্বলহা দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেনঃ হে রাসূলুল্লাহ! আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেনঃ‘‘তোমরা তোমাদের প্রিয়বস্তু খরচ না করা পর্যন্ত কক্ষনো পুণ্য লাভ করবে না’’ - আর আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ হল ‘‘বাইরুহা’’ বাগান। এটিকে আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে সদাকাহ করে দিলাম। আমি আল্লাহর কাছে এর সাওয়াব এবং সঞ্চয় আশা করি। হে রাসূলুল্লাহ! আপনি এটিকে গ্রহণ করুন, আল্লাহর ইচ্ছেয় যেখানে ব্যয় করতে আপনি ভাল মনে করেন, সেখানে ব্যয় করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ খুব ভাল, এটিতো লাভজনক কিংবা বলেছেন) মুনাফা দানকারী। কথাটিতে রাবী ‘আবদুল্লাহ সন্দেহ পোষণ করেছেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি যা বলেছ, আমি তা শুনেছি। তবে আমি ভাল মনে করি যে, তুমি এটিকে আত্মীয়দের মাঝে বণ্টন করে দেবে। আবূ ত্বলহা বললেনঃ হে রাসূলুল্লাহ! আমি তাই করব। এরপর আবূ ত্বলহা বাগানটি তাঁর আত্মীয়দের মধ্যে এবং তাঁর চাচাত ভাইদের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন।ইসমাঈল ও ইয়াহ্ইয়া رَابِحٌ এর জায়গায় رَايِحٌ বলেছেন। [১৪৬১] আধুনিক প্রকাশনী- ৫২০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৯৬)









সহীহুল বুখারী (5612)


عَبْدَانُ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ أَخْبَرَنَا يُونُسُ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ أَنَّه“ رَأٰى رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم شَرِبَ لَبَنًا وَأَتٰى دَارَه“ فَحَلَبْتُ شَاةً فَشُبْتُ لِرَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْبِئْرِ فَتَنَاوَلَ الْقَدَحَ فَشَرِبَ وَعَنْ يَسَارِه„ أَبُو بَكْرٍ وَعَنْ يَمِينِه„ أَعْرَابِيٌّ فَأَعْطٰى الأَعْرَابِيَّ فَضْلَه“ ثُمَّ قَالَ الأَيْمَنَ فَالأَيْمَنَ.




আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর বাড়ীতে এসে দুধ পান করতে দেখেন। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি একটি ছাগী দোহন করলাম এবং কূপের পানি মিশিয়ে রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে পেশ করলাম। তিনি পেয়ালাটি নিয়ে পান করেন। তাঁর বাঁদিকে ছিলেন আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ও ডানদিকে ছিল এক বেদুঈন। তিনি বেদুঈনকে তাঁর অতিরিক্ত দুধ দিলেন। এরপর বললেনঃ ডান দিকের আছে অগ্রাধিকার।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫২০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৯৭)









সহীহুল বুখারী (5613)


عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ حَدَّثَنَا فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلٰى رَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ وَمَعَه“ صَاحِبٌ لَه“ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِنْ كَانَ عِنْدَكَ مَاءٌ بَاتَ هٰذِهِ اللَّيْلَةَ فِي شَنَّةٍ وَإِلاَّ كَرَعْنَا قَالَ وَالرَّجُلُ يُحَوِّلُ الْمَاءَ فِي حَائِطِه„ قَالَ فَقَالَ الرَّجُلُ يَا رَسُوْلَ اللهِ عِنْدِي مَاءٌ بَائِتٌ فَانْطَلِقْ إِلَى الْعَرِيشِ قَالَ فَانْطَلَقَ بِهِمَا فَسَكَبَ فِي قَدَحٍ ثُمَّ حَلَبَ عَلَيْهِ مِنْ دَاجِنٍ لَه“ قَالَ فَشَرِبَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ شَرِبَ الرَّجُلُ الَّذِي جَاءَ مَعَهُ.




জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্‌ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনসারদের এক লোকের কাছে গেলেন। তাঁর সাথে ছিলেন তাঁর এক সাহাবী। তখন রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনসারীকে বললেনঃ তোমার কাছে যদি মশকে রাখা গত রাতের পানি থাকে তাহলে আমাদের পান করাও। আর না থাকলে আমরা সামনে গিয়ে পান করব। রাবী বলেন, লোকটি তখন তার বাগানে পানি দিচ্ছিল। বর্ণনাকারী বলেন, লোকটি বললঃ হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমার কাছে গত রাতের পানি আছে। আপনি কুটীরে চলুন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর লোকটি তাঁদের দু‘জনকে নিয়ে গেল এবং একটি পেয়ালায় পানি নিয়ে তাতে তার একটা বক্‌রীর দুধ দোহন করল। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা পান করলেন, তাঁর সাথে আগন্তুক লোকটিও পান করলেন।( আধুনিক প্রকাশনী- ৫২০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৯৮)









সহীহুল বুখারী (5614)


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، قَالَ أَخْبَرَنِي هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُعْجِبُهُ الْحَلْوَاءُ وَالْعَسَلُ‏.‏




‘আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট সর্বাধিক পছন্দনীয় দ্রব্য ছিল মিষ্টিদ্রব্য ও মধু।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫২০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৯৯)









সহীহুল বুখারী (5615)


أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا مِسْعَرٌ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَيْسَرَةَ عَنْ النَّزَّالِ قَالَ أَتٰى عَلِيٌّ عَلٰى بَابِ الرَّحَبَةِ فَشَرِبَ قَائِمًا فَقَالَ إِنَّ نَاسًا يَكْرَه“ أَحَدُهُمْ أَنْ يَشْرَبَ وَهُوَ قَائِمٌ وَإِنِّي رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَعَلَ كَمَا رَأَيْتُمُونِي فَعَلْتُ.




নায্‌যাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুফা মসজিদের ফটকে ‘আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট পানি আনা হলে তিনি দাঁড়িয়ে তা পান করলেন। এরপর তিনি বললেনঃ লোকজনের মধ্যে কেউ কেউ দাঁড়িয়ে পান করাকে মাকরূহ মনে করে, অথচ আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছি, তোমরা আমাকে যেমনভাবে পান করতে দেখলে তিনিও তেমনি করেছেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫২০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১০০)









সহীহুল বুখারী (5616)


آدَمُ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مَيْسَرَةَ سَمِعْتُ النَّزَّالَ بْنَ سَبْرَةَ يُحَدِّثُ عَنْ عَلِيٍّ أَنَّه“ صَلّٰى الظُّهْرَ ثُمَّ قَعَدَ فِي حَوَائِجِ النَّاسِ فِي رَحَبَةِ الْكُوفَةِ حَتّٰى حَضَرَتْ صَلاَةُ الْعَصْرِ ثُمَّ أُتِيَ بِمَاءٍ فَشَرِبَ وَغَسَلَ وَجْهَه“ وَيَدَيْهِ وَذَكَرَ رَأْسَه“ وَرِجْلَيْهِ ثُمَّ قَامَ فَشَرِبَ فَضْلَه“ وَهُوَ قَائِمٌ ثُمَّ قَالَ إِنَّ نَاسًا يَكْرَهُونَ الشُّرْبَ قِيَامًا وَإِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَنَعَ مِثْلَ مَا صَنَعْتُ.




নায্‌যাল ইবনু সাবরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি ‘আলী ইবনু আবূ ত্বলিব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি যুহরের সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি মানুষের নানান প্রয়োজনে কূফা মসজিদের চত্বরে বসে পড়লেন। অবশেষে ‘আসরের সালাত আদায়ের সময় হয়ে গেল। তখন পানি আনা হল। তিনি পানি পান করলেন এবং নিজের মুখমন্ডল ও উভয় হাত ধৌত করলেন। বর্ণনাকারী আদাম এখানে তাঁর মাথা ও দু‘পায়ের কথা উল্লেখ করেন। অতঃপর বর্ণনাকারী বলেন এরপর ‘আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) দাঁড়ালেন এবং তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় অযূর উদ্বৃত্ত পানি পান করে নিলেন। এরপর তিনি বললেনঃ লোকজন দাঁড়িয়ে পান করাকে ঘৃণা করে, অথচ আমি যেমন করেছি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ও তেমন করেছেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫২০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১০১)









সহীহুল বুখারী (5617)


أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ شَرِبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَائِمًا مِنْ زَمْزَمَ.




আবূ নু‘আইম (রাহিঃ) ইবনু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়ানো অবস্থায় যমযমের পানি পান করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১০২)









সহীহুল বুখারী (5618)


مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ أَخْبَرَنَا أَبُو النَّضْرِ عَنْ عُمَيْرٍ مَوْلٰى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ أُمِّ الْفَضْلِ بِنْتِ الْحَارِثِ أَنَّهَا أَرْسَلَتْ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِقَدَحِ لَبَنٍ وَهُوَ وَاقِفٌ عَشِيَّةَ عَرَفَةَ فَأَخَذَ بِيَدِه„ فَشَرِبَهُ




উম্মুল ফায্‌ল বিনতু হারিস (রাঃ হতে বর্ণিত, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এক পেয়ালা দুধ পাঠিয়ে ছিলেন। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাতে বিকালে অবস্থান করছিলেন। তিনি তাঁর হাত দিয়ে পেয়ালাটি নিলেন এবং তা পান করলেন। [১৬৫৮]

আবুন নাযর থেকে মালিক عَلٰى بَعِيرِه„ তাঁর উটের উপর ছিলেন) কথাটি বৃদ্ধি করেছেন। আধুনিক প্রকাশনী- ৫২০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১০৩)









সহীহুল বুখারী (5619)


إِسْمَاعِيلُ قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أُتِيَ بِلَبَنٍ قَدْ شِيبَ بِمَاءٍ وَعَنْ يَمِينِه„ أَعْرَابِيٌّ وَعَنْ شِمَالِه„ أَبُو بَكْرٍ فَشَرِبَ ثُمَّ أَعْطٰى الأَعْرَابِيَّ وَقَالَ الأَيْمَنَ فَالأَيْمَنَ.




আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে সম্মুখে পানি মেশানো দুধ পেশ করা হলে। তাঁর ডান পার্শ্বে ছিল এক বেদুঈন ও বাম পার্শ্বে ছিলেন আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুধ পান করলেন। তারপর বেদুঈন লোকটিকে তা দিয়ে বললেনঃ ডানের লোকের অধিকার আগে। এরপর তার ডানের লোকের। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১০৪)









সহীহুল বুখারী (5620)


إِسْمَاعِيلُ قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ عَنْ أَبِي حَازِمِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أُتِيَ بِشَرَابٍ فَشَرِبَ مِنْه“ وَعَنْ يَمِينِه„ غُلاَمٌ وَعَنْ يَسَارِهِ الأَشْيَاخُ فَقَالَ لِلْغُلاَمِ أَتَأْذَنُ لِي أَنْ أُعْطِيَ هَؤُلاَءِ فَقَالَ الْغُلاَمُ وَاللهِ يَا رَسُوْلَ اللهِ لاَ أُوثِرُ بِنَصِيبِي مِنْكَ أَحَدًا قَالَ فَتَلَّه“ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي يَدِهِ.




সাহ্‌ল ইবনু সা‘দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে শরবত পেশ করা হল, তিনি তা থেকে পান করলেন। তাঁর ডানে ছিল একটি বালক, আর বামে ছিলেন কয়েকজন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বালকটিকে বললেনঃ তুমি কি আমাকে অনুমতি দেবে যে, আমি ঐ বয়স্ক লোকদের আগে পান করতে দেই? বালকটি বললঃ আল্লাহ্‌র কসম! হে আল্লাহ্‌র রসুল! আপনার নিকট হতে আমার ভাগ পাওয়ার ব্যাপারে আমি কাউকে আমার উপর অগ্রাধিকার দেব না। রাবী বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন পেয়ালাটি তার হাতে তুলে দিলেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫২০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১০৫)









সহীহুল বুখারী (5621)


يَحْيٰى بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنَا فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلٰى رَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ وَمَعَه“ صَاحِبٌ لَه“ فَسَلَّمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَصَاحِبُه“ فَرَدَّ الرَّجُلُ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي وَهِيَ سَاعَةٌ حَارَّةٌ وَهُوَ يُحَوِّلُ فِي حَائِطٍ لَه“ يَعْنِي الْمَاءَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِنْ كَانَ عِنْدَكَ مَاءٌ بَاتَ فِي شَنَّةٍ وَإِلاَّ كَرَعْنَا وَالرَّجُلُ يُحَوِّلُ الْمَاءَ فِي حَائِطٍ فَقَالَ الرَّجُلُ يَا رَسُوْلَ اللهِ عِنْدِي مَاءٌ بَاتَ فِي شَنَّةٍ فَانْطَلَقَ إِلَى الْعَرِيشِ فَسَكَبَ فِي قَدَحٍ مَاءً ثُمَّ حَلَبَ عَلَيْهِ مِنْ دَاجِنٍ لَه“ فَشَرِبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ أَعَادَ فَشَرِبَ الرَّجُلُ الَّذِي جَاءَ مَعَهُ.




জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্‌ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনসারদের এক লোকের নিকট গেলেন। তাঁর সাথে ছিল তাঁর এক সাহাবী। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবী সালাম দিলে লোকটি সালামের জবাব দিল। এরপর সে বললঃ হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আপনার জন্য আমার পিতা ও মাতা কুরবান! এটি ছিল প্রচন্ড গরমের সময়। এ সময় লোকটি তার বাগানে পানি দিচ্ছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যদি তোমার কাছে গতরাতের মশ্‌কে রাখা পানি থাকে তাহলে আমাদের পান করাতে পার। তা নাহলে আমরা আমাদের সামনের পানি থেকে পার করে নেব। তখন লোকটি বাগানে পানি দিচ্ছিল। এরপর লোকটি বললঃ হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমার কাছে গতরাতের মশ্‌কে রাখা পানি আছে। এরপর সে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কুটীরে নিয়ে গেল। একটি পাত্রে কিছু পানি ঢেলে তাতে ঘরে পোষা বক্‌রীর দুধ দোহন করল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা পান করলেন। এরপর সে আবার দোহন করল। তখন তাঁর সঙ্গে যিনি এসেছিলেন তিনি তা পান করলেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫২১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১০৬)









সহীহুল বুখারী (5622)


مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ عَنْ أَبِيهِ قَالَ سَمِعْتُ أَنَسًا قَالَ كُنْتُ قَائِمًا عَلَى الْحَيِّ أَسْقِيهِمْ عُمُومَتِي وَأَنَا أَصْغَرُهُمْ الْفَضِيخَ فَقِيلَ حُرِّمَتْ الْخَمْرُ فَقَالَ اكْفِئْهَا فَكَفَأْنَا قُلْتُ لِأَنَسٍ مَا شَرَابُهُمْ قَالَ رُطَبٌ وَبُسْرٌ فَقَالَ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَنَسٍ وَكَانَتْ خَمْرَهُمْ فَلَمْ يُنْكِرْ أَنَسٌ
وَحَدَّثَنِي بَعْضُ أَصْحَابِي أَنَّه“ سَمِعَ أَنَسًا يَقُوْلُ كَانَتْ خَمْرَهُمْ يَوْمَئِذٍ.




আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার বংশের লোকদের মধ্যে দাঁড়িয়ে তাদেরকে অর্থাৎ আমার চাচাদেরকে “ফাযীখ” নামক শরাব পান করাচ্ছিলাম। আমি ছিলাম তাঁদের মাঝে সবার চেয়ে ছোট। এমন সময় বলা হলঃ শরাব হারাম হয়ে গেছে। তাঁরা বললেনঃ এ শরাবগুলো ঢেলে দাও। আমি তা ঢেলে দিলাম। বর্ণনাকারী (সুলাইমান তাইমী ) বলেন, আমি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে জিজ্ঞেস করলামঃ তাদের শরাব কী দিয়ে তৈরী ছিল? তিনি বললেনঃ কাঁচা ও পাকা খেজুরের তৈরী। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর পুত্র আবু বক্‌র বললেন, এটিই ছিল তাঁদের যুগের শরাব। তাতে আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কোন অসম্মতি ব্যক্ত করেননি।

সুলাইমান বলেন, আমার কতক বন্ধু আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে শুনেছেনঃ সে যুগে এটিই ছিলা তাঁদের শরাব।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫২১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১০৭)









সহীহুল বুখারী (5623)


إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ أَخْبَرَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ قَالَ أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ أَنَّه“ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ يَقُوْلُ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا كَانَ جُنْحُ اللَّيْلِ أَوْ أَمْسَيْتُمْ فَكُفُّوا صِبْيَانَكُمْ فَإِنَّ الشَّيَاطِينَ تَنْتَشِرُ حِينَئِذٍ فَإِذَا ذَهَبَ سَاعَةٌ مِنَ اللَّيْلِ فَحُلُّوهُمْ فَأَغْلِقُوا الأَبْوَابَ وَاذْكُرُوا اسْمَ اللهِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ لاَ يَفْتَحُ بَابًا مُغْلَقًا وَأَوْكُوا قِرَبَكُمْ وَاذْكُرُوا اسْمَ اللهِ وَخَمِّرُوا آنِيَتَكُمْ وَاذْكُرُوا اسْمَ اللهِ وَلَوْ أَنْ تَعْرُضُوا عَلَيْهَا شَيْئًا وَأَطْفِئُوا مَصَابِيحَكُمْ.




জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্‌ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন সন্ধ্যা হয়, তখন তোমাদের সন্তানদের ঘরে আটকে রাখ। কেননা এ সময় শয়তানরা ছড়িয়ে পড়ে। তবে রাতের কিছু অংশ অতিক্রম করলে তখন তাদের ছেড়ে দিতে পার। আর ঘরের দরজা বন্ধ করবে। কেননা, শয়তান বন্ধ দরজা খুলতে পারে না। আর তোমরা আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে তোমাদের মশকের মুখ বন্ধ করবে এবং আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে তোমাদের পাত্রগুলোকে ঢেকে রাখবে, কমপক্ষে পাত্রগুলোর উপর কোন বস্তু আড়াআড়ি করে রেখে। আর (শয্যা গ্রহণের সময়) তোমরা তোমাদের প্রদীপগুলো নিভিয়ে দেবে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫২১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১০৮)