বুলূগুল মারাম
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «مَنْ آوَى ضَالَّةً فَهُوَ ضَالٌّ, مَا لَمْ يُعَرِّفْهَا». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
৯৪১। যায়দ বিন খালিদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি হারানো পশুকে আশ্রয় দেবে প্রচার না করা পর্যন্ত সে পথভ্রষ্ট (অন্যায়কারী) বলে গণ্য হবে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ১৭২৫, আহমাদ ১৬৭৭।
وَعَنْ عِيَاضِ بْنِ حِمَارٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «مَنْ وَجَدَ لُقَطَةً فَلْيُشْهِدْ ذَوَيْ عَدْلٍ, وَلْيَحْفَظْ عِفَاصَهَا وَوِكَاءَهَا, ثُمَّ لَا يَكْتُمْ, وَلَا يُغَيِّبْ, فَإِنْ جَاءَ رَبُّهَا فَهُوَ أَحَقُّ بِهَا, وَإِلَّا فَهُوَ مَالُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالْأَرْبَعَةُ إِلَّا التِّرْمِذِيَّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ, وَابْنُ الْجَارُودِ, وَابْنُ حِبَّانَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (4/ 261 - 262 و 266 - 267)، وأبو داود (1709)، والنسائي في «الكبرى «(3/ 418)، وابن ماجه (2505)، وابن حبان (1169 موارد)، وابن الجارود (671)
৯৪২। ইয়ায বিন হিমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন হারানো বস্তু পাবে সে যেন নির্ভরযোগ্য দুজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিকে সাক্ষী করে রাখে এবং ঐ বস্তুর পাত্র ও তার বন্ধন (সঠিক পরিচয় লাভের নিদর্শনগুলো) তার স্বীয় অবস্থায় ঠিক রাখে, অতঃপর তাকে গোপন বা গায়েব করে না রাখে। তারপর যদি ঐ বস্তুর মালিক এসে যায় তাহলে সেই প্রকৃত হকদার হবে, অন্যথায় তা আল্লাহর মাল হিসেবে যাকে তিনি দেন তারই হবে। --ইবনু খুযাইমাহ, ইবনু জারূদ ও ইবনু হিব্বান একে সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ১৭০৯, ইবনু মাজাহ ২৫০৫, আহমাদ ১৭০২৭, ১৭৮৭২।
وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عُثْمَانَ التَّيْمِيِّ - رضي الله عنه، أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - نَهَى عَنْ لُقَطَةِ الْحَاجِّ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (1724)
৯৪৩। ‘আবদুর রহমান বিন উসমান তাইমী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্ব পালনকারীদের পড়ে থাকা কোন বস্তু উঠাতে নিষেধ করেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ১৭২৪, আবূ দাউদ ১৭১৯, আহমাদ ১৫৪৬।
وَعَنْ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِي كَرِبَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «أَلَا لَا يَحِلُّ ذُو نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ, وَلَا الْحِمَارُ الْأَهْلِيُّ, وَلَا اللُّقَطَةُ مِنْ مَالِ مُعَاهَدٍ, إِلَّا أَنْ يَسْتَغْنِيَ عَنْهَا». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
رواه أبو داود (3804)
৯৪৪। মিকদাদ বিন মাদীকারিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সাবধান! তীক্ষ্ম বড় দাঁতধারী হিংস্র পশু, গৃহপালিত গাধা আর যিম্মীদের পড়ে থাকা কোন মাল তোমাদের জন্য হালাল নয়। তবে যদি যিম্মী মালিক সেটাকে নিস্প্রয়োজন মনে করে তাহলে তা কুড়িয়ে নেয়া যাবে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৩৮০৪।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا, فَمَا بَقِيَ فَهُوَ لِأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (6732)، ومسلم (1615)
৯৪৫। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সুনির্দিষ্ট অংশের হকদারদের মীরাস পৌঁছে দাও। অতঃপর যা বাকী থাকবে তা (মৃতের) নিকটতম পুরুষের জন্য।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৬৭৩২, ৬৭৩৫, ৬৭৩৭, ৬৭৪৫, মুসলিম ১৬১৫, তিরমিযী ২০৯৪, আবূ দাউদ ২৮৯৮, ইবনু মাজাহ ২৭৪০, ২৬৫২, ২৬৫৭, দারেমী ২৯৮৬।
وَعَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «لَا يَرِثُ الْمُسْلِمُ الْكَافِرَ, وَلَا يَرِثُ الْكَافِرُ الْمُسْلِمَ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (6764)، ومسلم (1614) رواه البخاري (4283) بلفظ «المؤمن» بدل «المسلم» في الموضعين
৯৪৬। উসামাহ বিন যায়ীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসলিম কাফেরের উত্তরাধিকারী হয় না, আর কাফিরও মুসলিমের উত্তরাধিকারী হয় না।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারীতে المسلم শব্দের স্থলে المؤمن শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে; দু স্থানেই। বুখারী ১৫৮৮, ৩০৫৮, ৪২৮৩, ৬৭৬৩, মুসলিম ১৬১৪, তিরমিযী ২১০৭, আবূ দাউদ ২৯০৯, ইবনু মাজাহ ২৭২৯, ২৭৩০, আহমাদ ২১৩০১, ২১৩১৩, মুওয়াত্তা মালেক ১১০৪, ১১০৫, দারেমী ২৯৯৮, ৩০০০।
وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ - رضي الله عنه - فِي بِنْتٍ, وَبِنْتِ اِبْنٍ, وَأُخْتٍ - قَضَى النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم: «لِلِابْنَةِ النِّصْفَ, وَلِابْنَةِ الِابْنِ السُّدُسَ - تَكْمِلَةَ الثُّلُثَيْنِ- وَمَا بَقِيَ فَلِلْأُخْتِ». رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (6736) من طريق هزيل بن شرحبيل قال: سئل أبو موسى؛ عن ابنة. وابن ابن. وأخت؟ فقال: للابنة النصف. وللأخت النصف. وائت ابن مسعود فسيتابعني، فسئل ابن مسعود، وأخبر بقول أبي موسى؟ فقال: لقد ضللت إذًا وما أنا من المهتدين، أقضي فيها بما قضى النبي -صلى الله عليه وسلم-: … فذكره. وزاد: فأتينا أبا موسى، فأخبرناه بقول ابن مسعود. فقال: لا تسألوني ما دام هذا الحبر فيكم
৯৪৭। ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফয়সলা করেছেন, কন্যা পাবে অর্ধাংশ আর পৌত্রী পাবে ষষ্ঠাংশ। এভাবে দুতৃতীয়াংশ পূর্ণ হবে। বাকী এক তৃতীয়াংশ পাবে বোন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারীর বর্ণনায় রয়েছে,
هزيل بن شرحبيل قال: سئل أبو موسى؛ عن ابنة. وابن ابن. وأخت؟ فقال: للابنة النصف. وللأخت النصف. وائت ابن مسعود فسيتابعني، فسئل ابن مسعود، وأخبر بقول أبي موسى؟ فقال: لقد ضللت إذًا وما أنا من المهتدين، أقضي فيها بما قضى النبي -صلى الله عليه وسلم-: … فذكره. وزاد: فأتينا أبا موسى، فأخبرناه بقول ابن مسعود. فقال: لا تسألوني ما دام هذا الحبر فيكم
হুযায়ল ইবনু শুরাহবীল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আবূ মূসা (রাঃ)-কে কন্যা, পুত্রের কন্যা এবং ভগ্নির (মীরাস) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তখন তিনি বললেন, কন্যার জন্য অর্ধেক আর ভগ্নির জন্য অর্ধেক। (তিনি বললেন) তোমরা ইবনু মাস’উদ (রাঃ) -এর কাছে যাও, তিনিও হয়ত আমার মতই বলবেন। অতঃপর ইবনু মাস’উদ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হল এবং আবূ মূসা (রাঃ) যা বলেছেন সে সম্পর্কে তাঁকে জানানো হল। তিনি বললেন, (ও রকম সিদ্ধান্ত দিলে)। আমি তো পথভ্রষ্ট হয়ে যাব, হেদায়েতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত থাকব না। আমি এ ব্যাপারে ঐ ফায়সালাই দিচ্ছি, যে ফায়সালা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদান করেছিলেন। কন্যা পাবে অর্ধাংশ আর পৌত্রী পাবে ষষ্ঠাংশ। এভাবে দু’তৃতীয়াংশ পূর্ণ হবে। বাকী এক তৃতীয়াংশ পাবে বোন। এরপর আমরা আবূ মূসা (রাঃ)-এর কাছে আসলাম এবং ইবনু মাস’উদ (রাঃ) যা বললেন, তা তাকে জানালাম। তখন তিনি বললেন, এ অভিজ্ঞ মনীষী যতদিন তোমাদের মাঝে থাকবে ততদিন আমার কাছে কিছু জিজ্ঞেস করো না। বুখারী ৬৭৩৬, ৬৭৪২, তিরমিযী ২০৯৩, আবূ দাউদ ২৮৯০, ইবনু মাজাহ ২৭২১, আহমাদ ৩৬৮৪, ৪০৬২।
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «لَا يَتَوَارَثُ أَهْلُ مِلَّتَيْنِ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالْأَرْبَعَةُ إِلَّا التِّرْمِذِيَّ
وَأَخْرَجَهُ الْحَاكِمُ بِلَفْظِ أُسَامَةَ
وَرَوَى النَّسَائِيُّ حَدِيثَ أُسَامَةَ بِهَذَا اللَّفْظِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه أحمد (2/ 178 و 195)، وأبو داود (2911)، والنسائي في «الكبرى «(4/ 82)، وابن ماجه (2731) وزادوا جميعًا إلا ابن ماجه: «شتى «. وزاد ابن الجارود في روايته (967): «والمرأة ترث من دية زوجها وماله، وهو يرث من ديتها ومالها ما لم يقتل أحدهما صاحبه، فإن قتل أحدهما صاحبه لم يرث من ديته وماله شيئا، وإن قتل أحدهما صاحبه خطأ، ورث من ماله، ولم يرث من ديته». وسندها حسن أيضًا
৯৪৮। ‘আবদুল্লাহ বিন ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দুটি ভিন্ন ধর্মাবলম্বী ব্যক্তিরা একে অপরের ওয়ারিস হবে না। -ইমাম হাকিম (রহঃ) উসামাহ (রাঃ)-এর বর্ণিত শব্দ বিন্যাসে এবং নাসায়ী (রহঃ) উসামাহ (রাঃ)-এর হাদীসকে অত্র (‘আবদুল্লাহ-এর) হাদীসের শব্দে বর্ণনা করেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ২৯১১, ইবনু মাজাহ ২৭৩১, আহমাদ ৬৬২৬, ৬৮০৫।
وَعَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَينٍ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فَقَالَ: إِنَّ ابْنَ ابْنِي مَاتَ, فَمَا لِي مِنْ مِيرَاثِهِ فَقَالَ: «لَكَ السُّدُسُ» فَلَمَّا وَلَّى دَعَاهُ، فَقَالَ: «لَكَ سُدُسٌ آخَرُ» فَلَمَّا وَلَّى دَعَاهُ. فَقَالَ: «إِنَّ السُّدُسَ الْآخَرَ طُعْمَةٌ». رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالْأَرْبَعَةُ, وَصَحَّحَهُ التِّرْمِذِيُّ
وَهُوَ مِنْ رِوَايَةِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ عَنْ عِمْرَانَ, وَقِيلَ: إِنَّهُ لَمْ يَسْمَعْ مِنْهُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أحمد (4/ 428 - 429)، وأبو داود (2896)، والنسائي في «الكبرى» (4/ 73)، والترمذي (2099) من طريق قتادة، عن الحسن، عن عمران، به. وقال الترمذي: «حديث حسن صحيح». قلت: كيف وقتادة والحسن مُدَلِّسان؟! وانظر التعليق التالي. «تنبيه»: عزو الحافظ الحديث للأربعة وَهْمٌ إذ لم يروه ابن ماجه
ممن جزم بعدم سماعه أبو حاتم، فقال في «الجرح والتعديل» (1/ 41): «لم يصح له السماع من جندب، ولا من معقل بن يسار، ولا عن عمران بن حصين، ولا من عقبة بن عامر، ولا من أبي هريرة
৯৪৯। ‘ইমরান বিন হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললো, আমার ছেলের ছেলে নাতির মৃত্যু হয়েছে, তার মিরাস থেকে আমার জন্য কি হক রয়েছে? তিনি বললেনmdash; এক ষষ্ঠাংশ। লোকটি ফিরে গেলে আবার তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ডেকে বললেন, তোমার জন্য আর এক ষষ্ঠাংশ। লোকটি ফিরলে পুনরায় তাকে ডেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে দিলেন এর পরবর্তী ষষ্ঠাংশ তোমার খাদ্যের জন্য (আসবাবরূপে) প্রাপ্ত। mdash;তিরমিযী একে সহীহ বলেছেন, এটা ‘ইমরান থেকে হাসান বাসরীর বর্ণনায় রয়েছে। এ সম্বন্ধে বলা হয়েছে- হাসান বাসরী ‘ইমরান (রাঃ) থেকে শ্রবণ করেননি।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ২০৯৯, আবূ দাউদ ২৮৯৬। ইবনু উসাইমীন শরহে বুলুগুল মারাম ৪/৩৬৯ গ্রন্থে একে মুনকাতি বলেছেন। আবদুর রহমান মুবারকপুরী তুহফাতুল আহওয়াযী ৫/৫১৮ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে রয়েছে হাসান, ইবনু আবূ হাতিম ইমামগণ থেকে এটি বর্ণনা করেন যে, হাসান ইমরান বিন হুসাইন থেকে কোন কিছুই শুনেনি। শাইখ আলবানী তাখরাজ মিশকাতুল মাসাবীহ ২৯৯৬ ও যঈফ, আবূ দাউদে (২৮৯৬) গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন।
وَعَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ, عَنْ أَبِيهِ; أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - جَعَلَ لِلْجَدَّةِ السُّدُسَ, إِذَا لَمْ يَكُنْ دُونَهَا أُمٌّ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ, وَابْنُ الْجَارُودِ, وَقَوَّاهُ ابْنُ عَدِيٍّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه أبو داود (2895)، والنسائي في «الكبرى» (4/ 73)، وابن الجارود (960)، وابن عدي في ط «الكامل» (4637) وفي سنده أبو المنيب؛ عبيد الله العتكي مختلف فيه. وقال ابن عدي: «ولأبي المنيب هذا أحاديث غير ما ذكرت، وهو عندي لا بأس به
৯৫০। ইবনু বুরাইদাহ থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃতের মাতা না থাকার অবস্থায় সম্পত্তি থেকে দাদীর জন্য এক ষষ্ঠাংশ দিয়েছেন। -ইবনু হিব্বান, ইবনু খুযাইমাহ ও ইবনু জারূদ সহীহ বলেছেন আর ইবনু আদী হাদীসটিকে শক্তিশালী বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ২৮৯৫।
وَعَنْ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِي كَرِبَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «الْخَالُ وَارِثُ مَنْ لَا وَارِثَ لَهُ». أَخْرَجَهُ أَحْمَدُ, وَالْأَرْبَعَةُ سِوَى التِّرْمِذِيِّ, وَحَسَّنَهُ أَبُو زُرْعَةَ الرَّازِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ, وَالْحَاكِمُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (4/ 131 و 133)، وأبو داود (2899 و 2900)، والنسائي في «الكبرى» (4/ 76 - 77)، وابن ماجه (2738)، وابن حبان (1225 و 1226)، والحاكم (4/ 344) ولفظه: «من ترك مالًا فلأهله، ومن ترك كلًا فإلى الله ورسوله. وربما قال: فإلينا. وأنا وارث من لا وارث له، أعقل له وأرثه، والخال وارث من لا وارث له، يعقل عنه ويرثه
৯৫১। মিকদাদ ইবনু মাদীকারিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- যার কোন ওয়ারিস নেই, তার মামা তার ওয়ারিস হবে। -আবূ যুরআতার রাযী হাসান বলেছেন এবং হাকিম ও ইবনু হিব্বান একে সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইবনু মাজাহ ২৭৩৮, আবূ দাউদ ২৮৯৯, ২৯০০, ২৯০১, আহমাদ ১৬৭২৩, ১৬৭৪৮।
وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلٍ قَالَ: كَتَبَ مَعِي عُمَرُ إِلَى أَبِي عُبَيْدَةَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ-; أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «اللَّهُ وَرَسُولُهُ مَوْلَى مَنْ لَا مَوْلَى لَهُ, وَالْخَالُ وَارِثُ مَنْ لَا وَارِثَ لَهُ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالْأَرْبَعَةُ سِوَى أَبِي دَاوُدَ, وَحَسَّنَهُ التِّرْمِذِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (1/ 28 و 46)، والنسائي في «الكبرى» (4/ 76)، والترمذي (2103)، وابن ماجه (2737)، وابن حبان (1227) وقال الترمذي: «حسن صحيح». قلت: حسن باعتبار سنده عندهم، صحيح بشاهده السابق، وله شاهد آخر عن عائشة رضي الله عنها
৯৫২। আবূ উমামাহ ইবনু সাহল (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, ‘উমার (রাঃ) আবূ উবায়দাহ (রাঃ)-কে লিখে জানিয়েছিলেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার কোন অভিভাবক নেই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই তার অভিভাবক এবং যার কোন ওয়ারিস নেই মামাই তার ওয়ারিস। -তিরমিযী একে হাসান বলেছেন এবং ইবনু হিব্বান সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ২১০৩, ইবনু মাজাহ ২৭৩৭।
وَعَنْ جَابِرٍ - رضي الله عنه - عَنْ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «إِذَا اسْتَهَلَّ الْمَوْلُودُ وُرِّثَ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح بطرقه وشواهده. رواه الترمذي (1032)، وابن ماجه (2750) و (2751)، وابن حبان (1223) ولفظه: «إذا استهل الصبي، صلي عليه، وورث». وفي لفظ آخر: «لا يرث الصبي حتى يستهل صارخًا». قلت: وللحديث طريق وشواهد - يصح بها - مذكورة «بالأصل» لكن يجدر هنا التنبيه على أن: اللفظ الذي ذكره الحافظ ليس لفظ حديث جابر، وإنما هو لفظ حديث أبي هريرة. هذا أولًا. وثانيًا: حديث جابر لم يروه أبو داود، وإنما روى حديث أبي هريرة
৯৫৩। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, ভূমিষ্ঠ সন্তান যদি শব্দ করে চীৎকার দেয় তাহলে তাকে ওয়ারিস বলে গণ্য করতে হবে। -ইবনু হিব্বান সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ১০৩২, ইবনু মাজাহ ১৫০৮, ২৭৫০, ২৭৫১, দারেমী ৩১২৫।
وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ, عَنْ أَبِيهِ, عَنْ جَدِّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «لَيْسَ لِلْقَاتِلِ مِنَ الْمِيرَاثِ شَيْءٌ». رَوَاهُ النَّسَائِيُّ, وَالدَّارَقُطْنِيُّ, وَقَوَّاهُ ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ, وَأَعَلَّهُ النَّسَائِيُّ, وَالصَّوَابُ: وَقْفُهُ عَلَى عُمَرَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صححه شيخنا - حفظه الله - في «الإرواء رقم (1671)
৯৫৪। ‘আমর বিন শুআইব হতে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হত্যাকারীর জন্য নিহত ব্যক্তির পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে কোন অধিকার নেই। -হাদীসটিকে ইবনু ‘আবদিল বার শক্তিশালী বলেছেন, নাসায়ী ইল্লাত বা ত্রুটিযুক্ত হাদীস বলেছেন, কিন্তু হাদীসটির ‘আমার এর উপর মাওকুফ হওয়াটাই সঠিক।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইমাম সানআনী তাঁর সুবুল সালাম (৩/১৫৯) গ্রন্থে বলেন, এর অনেক শাহেদ থাকার কারণে সামগ্রিকভাবে এর আমল রহিত হয় না। শাইখ আলবানী সহীহুল জামে (৫৪২২) গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনু উমার থেকে বর্ণিত একই হাদীসকে সহীহ বলেছেন। পক্ষান্তরে ইবনু হাজার আসকালানী তাঁর মাওয়াফিকাতুল খবরিল খবর (২/১০৫) গ্রন্থে বলেন, হাদীসটি ত্রুটিযুক্ত। ইমাম ইবনু কাসীর তাঁর মুসনাদ আল ফারুক (১/৩৭৭) গ্রন্থে বলেন, এটি ইসমাঈল বিন আইয়্যাশ হেজায়ীদের থেকে বর্ণনা করেছেন যে কিনা ইসলামের প্রসিদ্ধ ইমামগণের নিকট অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। ইবনু উসাইমীন তাঁর শরহে বুলুগুল মারাম (৪/৩৮১) গ্রন্থে বলেন, এ হাদীসটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিশুদ্ধ সানাদে বর্ণিত হয়নি। আর তিনি তাঁর শরাহুল মুমতি’ (১১/৩১৯) গ্রন্থে বলেছেন, এটি বিশুদ্ধ নয়। ইমাম যাহাবী তাঁর তনকীহুত তাহকীক (২৫/১৫৯) গ্রন্থে বলেন, হেজাযীদের থেকে ইসমাইলের বর্ণনাসূত্রটি যঈফ।
وَعَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ - رضي الله عنه - قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَا أَحْرَزَ الْوَالِدُ أَوْ الْوَلَدُ فَهُوَ لِعَصَبَتِهِ مَنْ كَانَ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ, وَابْنُ مَاجَهْ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ الْمَدِينِيِّ, وَابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه أبو داود (2917)، والنسائي في «الكبرى» (4/ 75)، وابن ماجه (2732) من طريق عمرو بن شعيب، عن أبيه، عن جده، قال: تزوج رئاب بن حذيفة بن سعيد بن سهم، أم وائل؛ بنت معمر الجمحية، فولدت له ثلاثة. فتوفيت أمهم، فورثها بنوها، رباعا وولاء مواليها. فخرج بهم عمرو بن العاص إلى الشام. فماتوا في طاعون عَمْواس، فورثهم عمرو، وكان عصبتهم. فلما رجع عمرو بن العاص، جاء بنو معمر يخاصمونه في ولاء أختهم، إلى عمر. فقال عمر: أقضي بينكم بما سمعت من رسول الله -صلى الله عليه وسلم-. سمعته يقول: … فذكره. وزاد: قال: فقضى لنا به، وكتب لنا به كتابا، فيه شهادة عبد الرحمن بن عوف، وزيد بن ثابت، وآخر. حتى إذا استخلف عبد الملك بن مروان، توفي مولًى لها. وترك ألفي دينار. فبلغني أن ذلك القضاء قد غُيِّر. فخاصموا إلى هشام بن إسماعيل، فرفَعَنا إلى عبد الملك، فأتيناه بكتاب عمر. فقال: إن كنت لأرى أن هذا من القضاء الذي لا يشك فيه، وما كنت أرى أن أمر أهل المدينة بلغ هذا؛ أن يشكوا في هذا القضاء. فقضى لنا فيه. فلم نزل فيه بعدُ. واقتصر النسائي على المرفوع فقط. وقال ابن القيم في «تهذيب السنن» (4/ 184): قال ابن عبد البر: هذا حديث حسن صحيح غريب
৯৫৫৷ ‘উমার বিন খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, মৃতের পিতা ও পুত্র যা অধিকার করবে তা আসাবা সূত্রেই পাবে, সে যেই হোন না কেন। -ইবনুল মাদানী ও ইবনু ‘আবদিল বার সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ২৯১৭, ইবনু মাজাহ ২৭৩২।
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم: «الْوَلَاءُ لُحْمَةٌ كَلُحْمَةِ النَّسَبِ, لَا يُبَاعُ, وَلَا يُوهَبُ». رَوَاهُ الْحَاكِمُ: مِنْ طَرِيقِ الشَّافِعِيِّ, عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ, عَنْ أَبِي يُوسُفَ، وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ, وَأَعَلَّهُ الْبَيْهَقِيُّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
رواه الشافعي (1232)، وابن حبان (4929)، والحاكم (4/ 231)، والبيهقي (10/ 292)، وقد وقع في إسناده اضطراب واختلاف، فضلًا عن مخالفة المتن الصحيح المتقدم برقم (1429)
৯৫৬। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দাসমুক্ত করার দ্বারা ‘ওয়ালা[1] নামে যে সম্পর্ক মুক্তকারী মুনিব ও দাসের মধ্যে স্থাপিত হয় তা বংশীয় সম্পর্কের ন্যায় (স্থায়ী)। সেটি বিক্রয় হয় না ও দানও করা যায় না। হাকিম শাফিঈ (রহঃ)-এর সূত্রে তিনি মুহাম্মাদ বিন হাসান থেকে, তিনি আবূ ইউসুফ হতে বর্ণনা করেছেন। হাদীসটিকে ইবনু হিব্বান সহীহ বলেছেন; ইমাম বাইহাকী ত্রুটিযুক্ত বা দুর্বল বলেছেন।[2]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ওয়ালা হচ্ছে সেই মুক্ত দাস, যাকে মুক্ত করে দেয়া হলেও শুধুমাত্র সুসম্পর্কের কারণে মুনিব কর্তৃক সম্পত্তি থেকে কিছু প্ৰদান করা হয়।
[2] ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ তাঁর নাযারিয়াতুল আকদ (৮০) গ্রন্থে বলেন, এটি হাসান থেকে মুরসাল রূপে উত্তম সানাদে বর্ণিত। বিন বায হাশিয়া বুলুগুল মারাম (৫৬২) গ্রন্থে বলেন, এর শাহেদ থাকার কারণে হাসান। ইবনু উসাইমীনও ৪/৩৮৪ গ্রন্থে একই কথা বলেছেন। শাইখ আলবানী ইরওয়াউল গালীল ১৭৩৮ ও ১৬৬৮ গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন। ইমাম সুয়ূত্বীও আল জামেউস সগীর ৯৬৮৭ গ্রন্থেও একে সহীহ বলেছেন।
وَعَنْ أَبِي قِلَابَةَ, عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «أَفْرَضُكُمْ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ». أَخْرَجَهُ أَحْمَدُ, وَالْأَرْبَعَةُ سِوَى أَبِي دَاوُدَ, وَصَحَّحَهُ التِّرْمِذِيُّ, وَابْنُ حِبَّانَ, وَالْحَاكِمُ, وَأُعِلَّ بِالْإِرْسَالِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. وتفصيل ذلك بالأصل
৯৫৭। আবূ কিলাবাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যায়দ বিন সাবিত (রাঃ) তোমাদের মধ্যে ফারায়িয বা মৃতের পরিত্যক্ত সম্পত্তি বণ্টন বিষয়ে অধিক পারদর্শী। -তিরমিযী, ইবনু হিব্বান ও হাকিম। সহীহ বলেছেন। কিন্তু এর উপর মুরসাল হবার ত্রুটি আরোপ করা হয়েছে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইমাম সানআনী তাঁর সুবুলুস সালাম (৩/১৬১) গ্রন্থে বলেন, হাদীসটি ত্রুটিযুক্ত কেননা, আবূ কিলাবা আনাস থেকে হাদীসটি শ্রবণ করেননি। বিন বায (তাঁর) হাশিয়া বুলুলুগুল মারাম (৫৬৩) গ্রন্থে বলেন, মুরসালের কারণে হাদীসটি ক্ৰটিযুক্ত। ইবনু উসাইমীন তাঁর বুলুগুল মারামের শরাহ (৪/৩৮৬) গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন।
عَنْ ابْنِ عُمَرَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا-; أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «مَا حَقُّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ لَهُ شَيْءٌ يُرِيدُ أَنْ يُوصِيَ فِيهِ يَبِيتُ لَيْلَتَيْنِ إِلَّا وَوَصِيَّتُهُ مَكْتُوبَةٌ عِنْدَهُ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2738)، ومسلم (1627)
৯৫৮। ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন মুসলিম ব্যক্তির এটা উচিত নয় যে, কোন ব্যাপারে কোন ওয়াসিয়্যাত করতে ইচ্ছা করার পর লিখিত আকারে কাছে না রেখে দুদিন অতিবাহিত করে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২৭৩৮, মুসলিম ১৬২৭, তিরমিযী ৯৭৪, ২১১৮, নাসায়ী ৩৬১৫, ৩৬১৮, আবূ দাউদ ২৮৬২, ইবনু মাজাহ ২৬৯৯, আহমাদ ৪৪৫৫, ৪৫৬৩, মুওয়াত্তা মালেক ১৪৯২।
وَعَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! أَنَا ذُو مَالٍ, وَلَا يَرِثُنِي إِلَّا اِبْنَةٌ لِي وَاحِدَةٌ, أَفَأَتَصَدَّقُ بِثُلُثَيْ مَالِي قَالَ: «لَا»، قُلْتُ: أَفَأَتَصَدَّقُ بِشَطْرِهِ قَالَ: «لَا»، قُلْتُ: أَفَأَتَصَدَّقُ بِثُلُثِهِ قَالَ: «الثُّلُثُ, وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ, إِنَّكَ أَنْ تَذَرَ وَرَثَتَكَ أَغْنِيَاءَ خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَذَرَهُمْ عَالَةً يَتَكَفَّفُونَ النَّاسَ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (1295)، ومسلم (1628)، عن سعد بن أبي وقاص، قال: عادني رسول الله -صلى الله عليه وسلم- في حجة الوداع من وجع أشفيت منه على الموت فقلت: يا رسول الله! بلغني ما ترى من الوجع، وأنا ذو مال … الحديث. وزادا: «ولست تنفق نفقة تبتغي بها وجه الله إلا أجرت بها. حتى اللقمة تجعلها في فيِّ امرأتك. قال: قلت: يا رسول الله! أُخَلَّف بعد أصحابي؟ قال: إنك لن تُخَلَّف، فتعمل عملًا تبتغي به وجه الله، إلا ازددت به درجة ورفعة. ولعلك تخلف حتى يُنْفَع بك أقوامٌ ويُضَرّ بك آخرون. اللهم أمض لأصحابي هجرتهم. ولا تردهم على أعقابهم، لكن البائس سعد بن خولة
৯৫৯। সাদ বিন আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি সম্পদশালী। আর একমাত্ৰ কন্যা ছাড়া কেউ আমার উত্তরাধিকারী নেই। তবে আমি কি আমার সম্পদের দু তৃতীয়াংশ সদাকাহ করতে পারি? তিনি বললেন, না। আমি আবার নিবেদন করলাম, তাহলে অর্ধেক। তিনি বললেন, না। অতঃপর তিনি বললেন, এক তৃতীয়াংশ আর এক তৃতীয়াংশও বিরাট পরিমাণ অথবা অধিক। তোমার ওয়ারিসদের অভাবমুক্ত রেখে যাওয়া, তাদেরকে খালি হাতে পরমুখাপেক্ষী অবস্থায় রেখে যাওয়ার চেয়ে উত্তম।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৫৬, ১২৯৫, ২৮৪২, ২৭৪৪, ৩৯৩৬, ৪৪০৯, মুসলিম ১৬২৮, তিরমিযী ২১১৬, নাসায়ী ৩৬২৬, ৩৬২৭, আবূ দাউদ ২৮৬৫, আহমাদ ১৪৪৩, ১৪৭৭, মুওয়াত্তা মালেক ১৪৯৫, দারেমী ৩১৯৬। বুখারী এবং মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে।
عن سعد بن أبي وقاص، قال: عادني رسول الله -صلى الله عليه وسلم- في حجة الوداع من وجع أشفيت منه على الموت فقلت: يا رسول الله! بلغني ما ترى من الوجع، وأنا ذو مال … الحديث. وزادا: «ولست تنفق نفقة تبتغي بها وجه الله إلا أجرت بها. حتى اللقمة تجعلها في فيِّ امرأتك. قال: قلت: يا رسول الله! أُخَلَّف بعد أصحابي؟ قال: إنك لن تُخَلَّف، فتعمل عملًا تبتغي به وجه الله، إلا ازددت به درجة ورفعة. ولعلك تخلف حتى يُنْفَع بك أقوامٌ ويُضَرّ بك آخرون. اللهم أمض لأصحابي هجرتهم. ولا تردهم على أعقابهم، لكن البائس سعد بن خولة
সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হাজ্জে একটি কঠিন রোগে আমি আক্রান্ত হলে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার খোঁজ খবর নেয়ার জন্য আসতেন। একদা আমি তাঁর কাছে নিবেদন করলাম, আমার রোগ চরমে পৌছেছে আর আমি সম্পদশালী। অতঃপর উপরোক্ত হাদীসের মতই বর্ণিত হয়েছে। তারপর আরো রয়েছে, আর আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য তুমি যে কোন ব্যয় করো না কেন, তোমাকে তার বিনিময় প্রদান করা হবে। এমনকি যা তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে তুলে দিবে (তারও প্রতিদান পাবে)। আমি নিবেদন করলাম, হে আল্লাহর রসূল! (আফসোস) আমি আমার সাথীদের হতে পিছনে থেকে যাব? তিনি বললেন, তুমি যদি পিছনে থেকে নেক ‘আমল করতে থাক, তাহলে তাতে তোমার মর্যাদা ও উন্নতি বৃদ্ধিই পেতে থাকবে। তাছাড়া, সম্ভবত তুমি পিছনে (থেকে যাবে)। যার ফলে তোমার দ্বারা অনেক কাওম উপকার লাভ করবে। আর অন্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। হে আল্লাহ! আমার সাহাবীগণের হিজরত বলবৎ রাখুন। পশ্চাতে ফিরিয়ে দিবেন না। কিন্তু আফসোস! সা’দ ইবনু খাওলার জন্য (এ বলে) আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য শোক প্রকাশ করছিলেন, যেহেতু মাক্কাহয় তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।
وَعَنْ عَائِشَةَ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! إِنَّ أُمِّي اُفْتُلِتَتْ نَفْسُهَا وَلَمْ تُوصِ, وَأَظُنُّهَا لَوْ تَكَلَّمَتْ تَصَدَّقَتْ, أَفَلَهَا أَجْرٌ إِنْ تَصَدَّقْتُ عَنْهَا قَالَ: «نَعَمْ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَّفْظُ لِمُسْلِمٍ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (1388)، ومسلم (1004) وزاد البخاري في رواية (2960: تصدق عنها
৯৬০। ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মায়ের আকস্মিক মৃত্যু ঘটে, কিন্তু আমার বিশ্বাস তিনি (মৃত্যুর পূর্বে) কথা বলতে সক্ষম হলে কিছু সদাকাহ করে যেতেন। এখন আমি তাঁর পক্ষ হতে সদাকাহ করলে তিনি এর প্রতিফল পাবেন কি? তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। শব্দ বিন্যাস মুসলিমের।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারীর এক বর্ণনায় রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তুমি তাঁর পক্ষ থেকে সাদাকাহ করা। বুখারী ১৩২৮, ২৭৬০, মুসলিম ১০০৪, নাসায়ী ৩৬৪৯, আবূ দাউদ ২৮৮১, ইবনু মাজাহ ২৭১৭, আহমাদ ২৩৭৩০, মুওয়াত্তা মালেক ১৪৯০।