বুলূগুল মারাম
وَعَنْ أَبِي رَافِعٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «الْجَارُ أَحَقُّ بِسَقَبِهِ». أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ, وَفِيهِ قِصَّةٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2258) من طريق عمرو بن الشريد قال: «وقفت على سعد بن أبي وقاص فجاء المِسْوَر بن مَخْرَمة فوضع يده على إحدى منكبيَّ، إذ جاء أبو رافع مولى النبي -صلى الله عليه وسلم- فقال: يا سعد ابتع مني بيتي في دارك. فقال سعد: والله ما أبتاعهما. فقال المسور: والله لتبتاعهما. فقال سعد: والله لا أزيدك على أربعة آلافٍ مُنَجَّمَة أو مقطعة. فقال أبو رافع: لقد أعطيت بها خمسمائة دينار، ولولا أني سمعت النبي -صلى الله عليه وسلم- يقول: الجار أحق بسقبه ما أعطيتكها بأربعة آلاف، وأنا أعطي بها خمسمائة دينار، فأعطاه إياه». والسقب: بالسين المهلة وأيضًا الصاد المهلة: القرب والملاصقة. ومنجمة أو مقطعة: المراد مؤجلة على أقساط معلومة
৯০১. আবূ রাফি (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঘরের প্রতিবেশী সর্বাপেক্ষা শুফআহর হকদার। -এর মধ্যে একটি ঘটনা রয়েছে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২২৫৮, ৬৯৭৭, ৬৯৭৮, ৬৯৮০, ৬৯৮১, নাসায়ী ৪৭০২, আবূ দাউদ ৩৫১৬, ইবনু মাজাহ ২৪৯৫, আহমাদ ২৩৩৫৯, ২৬৬৩৯।
বুখারীর বর্ণনায় রয়েছে,
عمرو بن الشريد قال: وقفت على سعد بن أبي وقاص فجاء المِسْوَر بن مَخْرَمة فوضع يده على إحدى منكبيَّ، إذ جاء أبو رافع مولى النبي -صلى الله عليه وسلم- فقال: يا سعد ابتع مني بيتي في دارك. فقال سعد: والله ما أبتاعهما. فقال المسور: والله لتبتاعهما. فقال سعد: والله لا أزيدك على أربعة آلافٍ مُنَجَّمَة أو مقطعة. فقال أبو رافع: لقد أعطيت بها خمسمائة دينار، ولولا أني سمعت النبي -صلى الله عليه وسلم- يقول: الجار أحق بسقبه ما أعطيتكها بأربعة آلاف، وأنا أعطي بها خمسمائة دينار، فأعطاه إياه». والسقب: بالسين المهلة وأيضًا الصاد المهلة: القرب والملاصقة. ومنجمة أو مقطعة: المراد مؤجلة على أقساط معلومة
আমর ইবনু শারীদি ((রহঃ)) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আমি সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)-এর কাছে দাঁড়িয়ে ছিলাম, তখন মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) এসে তাঁর হাত আমার কাঁধ রাখেন। এমতাবস্থায় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আযাদকৃত গোলাম আবূ রাফি’ চিত্র এসে বললেন, হে সা’দ! আপনার বাড়ীতে আমার যে দু’টি ঘর আছে, তা আপনি আমার নিকট হতে খরিদ করে নিন। সা’দ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর কসম, আমি সে দু’টি খরিদ করব না। তখন মিসওয়ার ক্ষেত্রে বললেন, আল্লাহর কসম, আপনি এ দু’টো অবশ্যই খরিদ করবেন। সা’দ (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে কিস্তিতে চার হাজার (দিরহাম)-এর অধিক দিব না। আবূ রাফি’ (রাঃ) বললেন, এই ঘর দু’টির বিনিময়ে আমাকে পাঁচশ’ দীনার দেয়ার প্রস্তাব এসেছে। আমি যদি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে না শুনতাম যে, প্রতিবেশী অধিক হকদার তার নৈকট্যের কারণে, তাহলে আমি এ দু’টি ঘর আপনাকে চার হাজার (দিরহাম)-এর বিনিময়ে কিছুতেই দিতাম না। আমাকে এ দু’টি ঘরের বিনিময়ে পাঁচশ’ দীনার দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। তারপর তিনি তা তাকে (সাদকে) দিয়ে দিলেন।
وَعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «جَارُ الدَّارِ أَحَقُّ بِالدَّارِ». رَوَاهُ النَّسَائِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ, وَلَهُ عِلَّةٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
رواه النسائي في «الكبرى» كما في «التحفة» (4/ 69) من طريق قتادة، عن الحسن، عن سمرة، ومن هذا الوجه رواه أبو داود (3517)، والترمذي (1368) وقال الترمذي: «حديث سمرة حديث حسن صحيح، وروى عيسى بن يونس، عن سعيد بن أبي عَرُوبة، عن قتادة، عن أنس، عن النبي -صلى الله عليه وسلم-. والصحيح عند أهل العلم حديث الحسن عن سمرة، ولا نعرف حديث قتادة، عن أنس إلا من حديث عيسى بن يونس». قلت: ومن الوجه الثاني رواه ابن حبان (1153) وإلى هذا الاختلاف يشير قول الحافظ: «وله علة». وخلاصة الكلام أن الحديث عند قتادة من وجهين: الأول: عن الحسن، عن سمرة، وهو الصواب عند أهل العلم. والثاني: عن أنس، به. وأيًّا كان الأمر فهو ضعيف من الوجهين؛ لعدم تصريح قتادة والحسن بالسماع؛ وكلاهما موصوف بالتدليس
৯০২. আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বাড়ির প্রতিবেশী বাড়ির বেশী হকদার। নাসায়ী, ইবনু হিব্বান একে সহীহ বলেছেন। এর একটি দুর্বল দিক রয়েছে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৩৫১/৭, তিরমিযী ১৩৬৮, আহমাদ ১৯৫৮৪, ১৯৬২০, ১৯৬৭০
আল ইলালুল কাবীর ২১৮ গ্রন্থে ইমাম বুখারী বলেনঃ الصحيح حديث الحسن عن سمورة وحديث قتادة عن أنس ليس بمحفوظ সঠিক কথা হচ্ছে সামুরা থেকে হাসানের হাদীস এবং আনাস থেকে কাতাদার হাদীস মাহফূয (নিরাপদ) নয়। শাইখ আলবানী ইরওয়াউল গালীল ১৫৩৯, সহীহ আবূ দাউদ ৩৫১৭ গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন। অনুরূপ ইমাম সুয়ূতীও আল জামেউস সগীর ৩৫৭৪ গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন।
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «الْجَارُ أَحَقُّ بِشُفْعَةِ جَارِهِ, يُنْتَظَرُ بِهَا - وَإِنْ كَانَ غَائِبًا - إِذَا كَانَ طَرِيقُهُمَا وَاحِدًا». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالْأَرْبَعَةُ, وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (3/ 303)، وأبو داود (3518)، والنسائي في «الكبرى» كما في «التحفة» (2/ 229)، والترمذي (1369)، وابن ماجه (2494) وقد أعلّ الحديث بما لا يقدح
৯০৩. জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রতিবেশী অন্যের চেয়ে তার শুফআহর অধিক হকদার- যদি উভয়ের রাস্তা এক হয় তাহলে প্রতিবেশী অনুপস্থিত থাকলে তার জন্য (বিক্রয়কারী) প্রতিবেশীকে তার বাড়ি ফেরা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে (তাকে না জানিযে অন্যের কাছে বিক্রয় করতে পারবে না)। -এর সকল রাবী নির্ভরযোগ্য।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ১৩৬৯, আবূ দাউদ ৩৫১৮, ইবনু মাজাহ ২৪৯৪, আহমাদ ১৩৮৪১।
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا-, عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: الشُّفْعَةُ كَحَلِّ الْعِقَالِ. رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ وَالْبَزَّارُ, وَزَادَ: «وَلَا شُفْعَةَ لِغَائِبٍ». وَإِسْنَادُهُ ضَعِيفٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف جدًا. رواه ابن ماجه (2500) وقال الحافظ في «التلخيص» (3/ 56) إسناده ضعيف جدًا
৯০৪. ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনndash; ‘শুফআর হক উট বাঁধা রশি খুলে ফেলার অনুরূপ। -বাযযারে আরো আছে- অনুপস্থিত শরীকের জন্য শুফআহার হক কার্যকর নয়। -এ হাদীসের সানাদ যঈফ।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইবনু মাজাহ ২৫০০। ইবনু হাজার তাঁর দিরায়াহ (২/২০৩) গ্রন্থে এর সানাদেক যঈফ বলেছেন, অনুরূপভাবে ইমাম সনআনী সুবুলুস সালাম (৩/১২০) গ্রন্থে বলেন, এর দ্বারা দলিল সাব্যস্ত হবে না। ইমাম শাওকানী তাঁর আস সাইলুল জাররার (৩/১৭৫) গ্রন্থে বলেন, মুনকার, প্রমাণিত নয়। শাইখ আলবানী তাঁর যঈফুল জামে (৩৪৩৯) গ্রন্থে দুর্বল বলেছেন, ইরওয়াউল গালীল ১৫৪২ ও যঈফ ইবনু মাজাহ ৪৯০ গ্রন্থে অত্যন্ত দুর্বল বলেছেন। এর সানাদে ইবনুল বাইলামানী রয়েছেন যিনি তাঁর পিতা থেকে যে কপি থেকে বর্ণনা করেন সেটি জাল। তার দলিল গ্রহণযোগ্য নয়। ইবনু আদী তাঁর আল কামিল ফি যু’আফা (৭/৩৮৪) গ্রন্থে বলেন, এর বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহমান আল বাইলামানী সে দুর্বল। ইবনু উসাইমীন তার বুলুলুগুল মারামের শরাহ (৪/২২৯) গ্রন্থে বলেন, এর সানাদ দুর্বল আর মতন হচ্ছে শায (বিরল)।
عَنْ صُهَيْبٍ - رضي الله عنه - أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «ثَلَاثٌ فِيهِنَّ الْبَرَكَةُ: الْبَيْعُ إِلَى أَجَلٍ، وَالْمُقَارَضَةُ، وَخَلْطُ الْبُرِّ بِالشَّعِيرِ لِلْبَيْتِ, لَا لِلْبَيْعِ». رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ بِإِسْنَادٍ ضَعِيفٍ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه ابن ماجه (2289)
৯০৫. তিনটি জিনিসের মধ্যে বরকত রয়েছে: মেয়াদ নির্দিষ্ট করে ক্রয়-বিক্রয়, মুকারা যা ব্যবসা এবং পারিবারিক প্রয়োজনে গমে যব মিশানো, ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে নয়। mdash;ইবনু মাজাহ দুর্বল সনদে।[1]
সম্পদের মালিক যৌথ ব্যবসায় কল্যাণমূলক যে কোন শর্ত করতে পারে
৯০৫-১. হাকিম বিন হিযাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি যৌথভাবে কারবার করার জন্য কোন ব্যক্তিকে কোন মাল দিলে এ শর্তগুলো আরোপ করতেনঃ জানোয়ার ও কাঁচা অস্থায়ী মালে আমার পুঁজি লাগবে না, আমার মাল সামুদ্রিক যানে চাপবে না, কোন প্লাবন ভূমিতে তা নিয়ে রাখবে না। যদি তুমি এরূপ কিছু কর তাহলে তুমি আমার মালের খেসারত দিতে বাধ্য থাকবে। mdash;দারাকুতনী, এর রাবীগণ নির্ভরযোগ্য।[2]
ইমাম মালিক মুআত্তায় বলেছেন- আলা বিন আবদুর রহমান বিন ইয়াকুব হতে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি (ইয়াকুব) উসমান (রাঃ)-এর মাল নিয়ে উভয়ের মধ্যে লাভ বণ্টিত হবার শর্তে ব্যবসা করেছিলেন। -এই হাদীস মাওকুফ সূত্রে সহীহ।[3]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বিন বায তাঁর হাশিয়া বুলুগুল মারাম ৫৩৭ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে তিনজন অপরিচিত বৰ্ণনাকারী রয়েছে। ইমাম শাওকানী আদ দুরারী আল মাযিয়্যাহ ২৮৪ গ্রন্থে বলেন, এতে দু’জন অপরিচিত রাবী রয়েছে। তিনি নাইলুল আওত্বার ৫/৩৯৪ গ্রন্থে বলেন, নাসর ইবনুল কাসেম আবদুর রহীম বিন দাউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, যারা উভয়েই অপরিচিত। শাইখ আলবানী যঈফ ইবনু মাজাহ ৪৫৪, যঈফুল জামে ২৫২৫ গ্রন্থদ্বয়ে অত্যন্ত দুর্বল বলেছেন। আবার তাখরীজ মিশকাত ২৮৬৬ গ্রন্থে শুধু দুর্বল বলেছেন। কিন্তু সিলসিলা যাঈফা ২১০০ গ্রন্থে একে মুনকার বলেছেন। মীযানুল ইতিদাল ২/৬০৫ গ্রন্থে ইমাম যাহাবীও একে মুনকার বলেছেন।
[2] দারাকুতনী (৩/৬৩) শক্তিশালী সানাদে বর্ণনা করেছেন।
[3] মুওয়াত্তা মালিক (২/৬৮৮)।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - عَامَلَ أَهْلَ خَيْبَرَ بِشَطْرِ مَا يَخْرُجُ مِنْهَا مِنْ ثَمَرٍ, أَوْ زَرْعٍ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
وَفِي رِوَايَةٍ لَهُمَا: فَسَأَلُوا أَنْ يُقِرَّهُمْ بِهَا عَلَى أَنْ يَكْفُوا عَمَلَهَا وَلَهُمْ نِصْفُ الثَّمَرِ, فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «نُقِرُّكُمْ بِهَا عَلَى ذَلِكَ مَا شِئْنَا» , فَقَرُّوا بِهَا, حَتَّى أَجْلَاهُمْ عُمَرُ
وَلِمُسْلِمٍ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - دَفَعَ إِلَى يَهُودِ خَيْبَرَ نَخْلَ خَيْبَرَ وَأَرْضَهَا عَلَى أَنْ يَعْتَمِلُوهَا مِنْ أَمْوَالِهِمْ, وَلَهُ شَطْرُ ثَمَرِهَا
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2329)، ومسلم (1551) (1)
رواه البخاري (2338)، ومسلم (1551) (6) وزادا: إلى تيماء وأريحاء
رواه مسلم (1551) (5) ووقع في «أ»: «ولهم» بدل: «وله». وعند مسلم: «ولرسول الله -صلى الله عليه وسلم- شطر ثمرها». وأيضًا البخاري (2331) بنحوه
৯০৬. ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহুদীদের সঙ্গে উৎপাদিত ফল কিংবা ফসলের অর্ধেক শর্তে খায়বারের জমি বৰ্গ দিয়েছিলেন।
উক্ত সহীহ দ্বয়ের অন্য বর্ণনায় আছে- তখন ইয়াহুদীরা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে অনুরোধ করল যেন তাদের সে স্থানে বহাল রাখা হয় এ শর্তে যে, তারা সেখানে চাষাবাদের দায়িত্ব পালন করবে; আর ফসলের অর্ধেক তাদের থাকবে। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন, আমরা এ শর্তে তোমাদের এখানে বহাল থাকতে দিব যতদিন আমাদের ইচ্ছা। কাজেই তারা সেখানে বহাল রইল। অবশেষে ‘উমার (রাঃ) তাদেরকে নির্বাসিত করে দেন।[1]
মুসলিমে আছে- উৎপন্ন ফল ও শস্যের অর্ধেকের বিনিময়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের ইহুদীদেরকে সেখানকার খেজুর বাগান ও আবাদী জমি তাদের নিজ ব্যয়ে আবাদ করার দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন।
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী এবং মুসলিমের বর্ণনায় আরো রয়েছে, অবশেষে ‘উমার (রাঃ) তাদেরকে তাইমা ও আরীহায় নির্বাসিত করে দেন। বুখারী ২২৮৬, ২৩২৮, ২৩২৯, ২৩৩১, ২৩৩৮, ২৪৯৯, মুসলিম ১৫৫১, তিরমিযী ১৩৮৩, নাসায়ী ৩৮৬৩, ৩৮৬৪, ৩৮৬৫, আবূ দাউদ ৩০০৮, ৩৩৯৩ , ৩৩৯৪, ইবনু মাজাহ ২৪৫৩, ২৪৬৭, ৪৪৯০, ৪৬৪৯, ৪৭১৮, মুওয়াত্তা মালেক ১৪১৫।
وَعَنْ حَنْظَلَةَ بْنِ قَيْسٍ قَالَ: سَأَلْتُ رَافِعَ بْنَ خَدِيجٍ - رضي الله عنه - عَنْ كِرَاءِ الْأَرْضِ بِالذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ? فَقَالَ: لَا بَأْسَ بِهِ, إِنَّمَا كَانَ النَّاسُ يُؤَاجِرُونَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - عَلَى الْمَاذِيَانَاتِ, وَأَقْبَالِ الْجَدَاوِلِ, وَأَشْيَاءَ مِنَ الزَّرْعِ, فَيَهْلِكُ هَذَا وَيَسْلَمُ هَذَا, وَيَسْلَمُ هَذَا وَيَهْلِكُ هَذَا, وَلَمْ يَكُنْ لِلنَّاسِ كِرَاءٌ إِلَّا هَذَا, فَلِذَلِكَ زَجَرَ عَنْهُ, فَأَمَّا شَيْءٌ مَعْلُومٌ مَضْمُونٌ فَلَا بَأْسَ بِهِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
وَفِيهِ بَيَانٌ لِمَا أُجْمِلَ فِي الْمُتَّفَقَ عَلَيْهِ مِنْ إِطْلَاقِ النَّهْيِ عَنْ كِرَاءِ الْأَرْضِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (1547) (116) (ج 3 ص 1183) والماذيانات: مسايل المياه، وقيل: ما ينبت حول السواقي. وأقبال الجداول: أوائل ورؤوس الأنهار الصغيرة
৯০৭. হানযালাহ বিন কাইস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি রাফি বিন খাদীজ (রাঃ)-কে সোনা ও রৌপ্যের বিনিময়ে জমি ইজারায় (লাগানোর) বৈধতা সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলে তিনি (সাহাবী রাফি) বললেন, এতে কোন দোষ নেই। লোকেরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে পানি প্রবাহের স্থলে, নহর ও নালার পাড়ের আর কোন ক্ষেতের অংশ বিশেষের বিনিময়ে ঠিকার লেনদেন করত। এসবের কোনটি নষ্ট হয়ে যেত। আর কোনটি ঠিক থাকত এবং কোনটি ঠিক থাকত আর কোনটি নষ্ট হয়ে যেত, আর তখন এসব ঠিক ব্যতীত অন্য কোনরূপ ঠিক ছিল না। এই (অনিশ্চিত অবস্থার) ঠিকা সম্বন্ধেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ধমক দিয়েছেন।
কিন্তু এমন জ্ঞাত বস্তু যা নিশ্চিত ফলপ্রসূ ও জিম্মাদারীর যোগ্য তাতে ঠিকা দেয়ার ব্যবস্থায় কোন দোষ নেই।
অত্র কেতাবের সংকলক আসকালানী (রহঃ) বলেছেন- এ হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত সাধারণভাবে জমি ঠিকা দেয়ার নিষেধাজ্ঞাসূচক সংক্ষিপ্ত হাদীসটির বিশ্লেষণ স্বরূপ।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২২৮৬, ২৩২৭, ২৩৩২, ২৩৩৯, ২৩৪৪, ২৩৪৭, মুসলিম ১৫৪৭, ১৫৪৮, তিরমিযী ১২২৪, ১৩৮৪, নাসায়ী ৩৮৬২, ৩৮৬৩, ৩৮৬৪, আবূ দাউদ ৩৩৯২, ৩৩৯৩, ইবনু মাজাহ ২৪৪৯, ২৪৫৩, আহমাদ ৪৫৭২ মুওয়াত্তা মালেক ১৪/১৫।
وَعَنْ ثَابِتِ بْنِ الضَّحَّاكِ - رضي الله عنه - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - نَهَى عَنِ الْمُزَارَعَةِ [وَأَمَرَ] بِالْمُؤَاجَرَةِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ أَيْضًا
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (1549) (119)
৯০৮। সাবিত ইবনু যাহহাক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উৎপন্ন বস্তুর মধ্যে অংশ ধার্য চাষ আবাদের ব্যবস্থাকে নিষিদ্ধ করেছেন এবং ঠিকা প্রদানের আদেশ দিয়েছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ১৫৪৯, আহমাদ ১৫৯৫৩, দারেমী ২৬১৬।
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا-; أَنَّهُ قَالَ: احْتَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - وَأَعْطَى الَّذِي حَجَمَهُ أَجْرَهُ، وَلَوْ كَانَ حَرَامًا لَمْ يُعْطِهِ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2103)
৯০৯। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিঙ্গা লাগালেন এবং যে তাঁকে শিঙ্গা লাগিয়েছে, তাকে তিনি মজুরী দিলেন। যদি তা হারাম হতো। তবে তিনি তা দিতেন না।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ১৮৩৫, ১৯৩৮, ১৯৩৯, ২১০৩, মুসলিম ১২০২, তিরমিযী ৭৭৫, ৭৭৬, ৭৭৭, নাসায়ী ২৮৪৫, ২৮৪৬, আবূ দাউদ ১৮৩৫, ১৮৩৬, ২৩৭২, ইবনু মাজাহ। ১৬৮২, ৩০৮:১, ১৮৫২, ১৯২২, দারেমী ১৮১৯, ১৮২১।
وَعَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «كَسْبُ الْحَجَّامِ خَبِيثٌ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (1568) (41) وهو بتمامه: ثمن الكلب خبيث، ومهر البَغِيّ خبيث، وكسْب الحَجَّام خبيث
৯১০। রাফি বিন খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শিঙ্গা লাগানোর উপার্জন নোংরা বস্তু।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ১৫৬৮, তিরমিযী ১২৭৫, নাসায়ী ৪২৯৪, আবূ দাউদ ৩৪২১, আহমাদ ১৫৩৮৫, ১৫৪০০, দারেমী ২৬২১৷ মুসলিমের বর্ণনায় সম্পূর্ণ হাদীসটি হচ্ছেঃ কুকুরের মূল্য, ব্যভিচারীর মাহরানা এবং শিঙ্গা লাগানোর উপার্জন নোংরা বস্তু।
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «قَالَ اللَّهُ - عز وجل: ثَلَاثَةٌ أَنَا خَصْمُهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ: رَجُلٌ أَعْطَى بِي ثُمَّ غَدَرَ, وَرَجُلٌ بَاعَ حُرًّا, فَأَكَلَ ثَمَنَهُ، وَرَجُلٌ اسْتَأْجَرَ أَجِيرًا, فَاسْتَوْفَى مِنْهُ, وَلَمْ يُعْطِهِ أَجْرَهُ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه البخاري (2227)، وأما قول الحافظ: رواه مسلم فهو سهو منه -رحمه الله-. تنبيه: جاء في هامش «أ» ما يلي تعليقًا على قوله: «رواه مسلم». «كذا وقع في «الأصل»، وإنما هو في البخاري في البيوع، وفي ابن ماجه في الإجارة. قال سبط مؤلفه. من هامش الأصل
৯১১। আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন যে, কিয়ামতের দিবসে আমি নিজে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাদী হবো। এক ব্যক্তি, যে আমার নামে ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করল। আরেক ব্যক্তি, যে কোন আযাদ মানুষকে বিক্রি করে তার মূল্য ভোগ করল। আর এক ব্যক্তি, যে কোন মজুর নিয়োগ করে পুরো কাজ আদায় করে আর তার পারিশ্রমিক দেয় না।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২২২৭, ২২৭০, ইবনু মাজাহ ২৪৪২, আহমাদ ৮৪৭৭।
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ أَحَقَّ مَا أَخَذْتُمْ عَلَيْهِ حَقًّا كِتَابُ اللَّهِ». أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (5737) من طريق ابن أبي ملكية، عن ابن عباس النبي أن نفرًا من أصحاب النبي -صلى الله عليه وسلم- مرُّوا بماء فيهم لديغ - أو سليم - فعرض لهم رجل من أهل الماء. فقال: هل فيكم من راق؟ إن في الماء رجلًا لديغًا أو سليمًا. فانطلق رجل منهم، فقرأ بفاتحة الكتاب على شاء، فَبَرَأَ، فجاء بالشاء إلى أصحابه، فكرهوا ذلك، وقالوا: أخذت على كتاب الله أجرًا، حتى قدموا المدينة فقالوا: يا رسول الله! أخذ على كتاب الله أجرًا؟ فقال رسول الله -صلى الله عليه وسلم-: «إن أحق» الحديث
৯১২। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা মজুরী গ্ৰহণ কর এমন সব বস্তুর মধ্যে কুরআনের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করা সর্বাপেক্ষা বেশী হকদার।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শ্রমিককে তার ঘাম শুকানোর পূর্বেই মজুরী দিয়ে দাও।[1]
বুখারী ৫৭৩৭, বুখারীর বর্ণনায় রয়েছে,
عن ابن عباس النبي أن نفرًا من أصحاب النبي -صلى الله عليه وسلم- مرُّوا بماء فيهم لديغ - أو سليم - فعرض لهم رجل من أهل الماء. فقال: هل فيكم من راق؟ إن في الماء رجلًا لديغًا أو سليمًا. فانطلق رجل منهم، فقرأ بفاتحة الكتاب على شاء، فَبَرَأَ، فجاء بالشاء إلى أصحابه، فكرهوا ذلك، وقالوا: أخذت على كتاب الله أجرًا، حتى قدموا المدينة فقالوا: يا رسول الله! أخذ على كتاب الله أجرًا؟ فقال رسول الله -صلى الله عليه وسلم-: «إن أحق» الحديث
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের একটি দল একটি কুয়ার পার্শ্ববর্তী বাসিন্দাদের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। কুপের পাশে অবস্থানকারীদের মধ্যে ছিল সাপে কাটা এক ব্যক্তি কিংবা তিনি বলেছেন, দংশিত এক ব্যক্তি। তখন কূপের কাছে বসবাসকারীদের একজন এসে তাদের বলল: আপনাদের মধ্যে কি কোন ঝাড়-ফুঁককারী আছেন? কূপ এলাকায় একজন সাপ বা বিছু দংশিত লোক আছে। তখন সাহাবীদের মধ্যে একজন সেখানে গেলেন। এরপর কিছু বকরী দানের বিনিময়ে তিনি সূরা ফাতিহা পড়লেন। ফলে লোকটির রোগ সেরে গেল। এরপর তিনি ছাগলগুলো নিয়ে তাঁর সাথীদের নিকট আসলেন, কিন্তু তাঁরা কাজটি পছন্দ করলেন না। তারা বললেন, আপনি আল্লাহর কিতাবের উপর পারিশ্রমিক নিয়েছেন। অবশেষে তাঁরা মাদীনায় পৌছে বলল, হে আল্লাহর রসূল! তিনি আল্লাহর কিতাবের উপর পারিশ্রমিক গ্রহণ করেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপরোক্ত হাদীসটি উল্লেখ করলেন।
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «أُعْطُوا الْأَجِيرَ أَجْرَهُ قَبْلَ أَنْ يَجِفَّ عَرَقُهُ». رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حديث صحيح بشواهده. رواه ابن ماجه (2443) بسند ضعيف جدًا. قلت: وله شواهد من حديث أبي هريرة، وجابر بن عبد الله، وعطاء بن يَسَار. فأما حديث أبي هريرة: فرواه الطحاوي في «المشكل» (4/ 142)، والبيهقي (6/ 121) بسند حسن على أقل أحواله، وله طريق أخرى عند أبي يعلى (6682) وأما حديث جابر: فرواه الطبراني في «الصغير» (34) وسنده ضعيف. وأما مرسل عطاء: فرواه ابن زَنْجَوَيْه في «الأموال (2091) بسند حسن. تنبيه: جاء عقب هذا الحديث في «الأصل» قول الحافظ: «وفي الباب: عن أبي هريرة -رضي الله عنه- عند [أبي] يعلى والبيهقي. وجابر عند الطبراني، وكلها ضعاف». ثم ضرب عليه الناسخ. ولم يرد هذا الكلام في «أ» ولذلك حذفته
৯১৩. ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, শ্রমিককে তার ঘাম শুকানোর পূর্বৈই মজুরী দিয়ে দাও।[1]
আবূ ইয়ালা ও বাইহাকীতে আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে আর ত্বাবারানীতে জাবির (রাঃ) থেকে এ ব্যাপারে আরো হাদীস বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু তার সবগুলোই যঈফ হাদীস।[2]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইবনু মাজাহ ২৪৪৩। ইমাম হাইসামী মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৪/১০১ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে শারকি বিন কাত্তামী রয়েছে, সে দুর্বল। ইমাম সুয়ূত্বী আল জামেউস সগীর ১১৬৪ গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন। ইমাম সনআনী সুবুলুস সালাম এর সানাদে দুজন দুর্বল বর্ণনাকারী পেয়েছে- শারকি বিন কাত্তামী ও মুহাম্মাদ বিন যিয়াদকে। কিন্তু শাইখ আলবানী তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ ২৯১৮ নং গ্রন্থে একে সহীহ লিগাইরিহী বলেছেন, ইরওয়াউল গালীল ১৪৯৮ গ্রন্থে সহীহ ও সহীহুল জামে ১০৫৫ গ্রন্থে একে হাসান বলেছেন।
[2] বাইহাকী (৬/১২১) হাসান সানাদে, আবূ ইয়ালা (৬৬৮২), ত্বাবারানী সগীর (৩৪)।
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ - رضي الله عنه - أَنَّ النَّبِيَّ -صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنِ اسْتَأْجَرَ أَجِيرًا, فَلْيُسَمِّ لَهُ أُجْرَتَهُ». رَوَاهُ عَبْدُ الرَّزَّاقِ وَفِيهِ انْقِطَاعٌ, وَوَصَلَهُ الْبَيْهَقِيُّ مِنْ طَرِيقِ أَبِي حَنِيفَةَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه عبد الرازق في «المصنف» (8/ 235 / رقم 15023) قال: أخبرنا معمر والثوري، عن حماد، عن إبراهيم، عن أبي هريرة، وأبي سعيد الخدري - أو أحدهما - أن النبي -صلى الله عليه وسلم-، قال: فذكره. وهو منقطع كما قال الحافظ، فإبراهيم لم يسمع من أحد من الصحابة. ورواه أحمد (3/ 59 و 68 و 71) من طريق حماد، ولكن عن أبي سعيد وحده بلفظ: «نهى عن استئجار الأجير حتى يبين له أجره «وهو منقطع كسابقه. وأما البيهقي فرواه (6/ 120) من طريق ابن المبارك، عن أبي حنيفة، عن حماد، عن إبراهيم، عن الأسود، عن أبي هريرة، وأبو حنيفة ضعيف عند أئمة الجرح والتعديل، ولذلك قال البيهقي: «كذا رواه أبو حنيفة. وكذا في كتابي عن أبي هريرة». قلت: وخالف الإمام الجبل شعبة. فرواه النسائي (7/ 31) من طريق ابن المبارك، عن شعبة، عن حماد، عن إبراهيم، عن أبي سعيد، قال: إذا استأجرت أجيرًا، فأعلمه أجره وتابع شعبة على ذلك الثوري، فقال عبد الرازق في «المصنف» (15024) «قلت للثوري: أسمعت حمادًا يحدث عن إبراهيم، عن أبي سعيد؛ أن النبي -صلى الله عليه وسلم- قال: من استأجر أجيرًا، فليُسَمِّ له إجارته؟ قال: نعم. وحدث به مرة أخرى، فلم يبلغ به النبي -صلى الله عليه وسلم». وأبو حنيفة -رحمه الله- لا يوازن بواحد منهما -رحمهما الله-، فكيف بهما وقد اجتمعا. ثم رأيت ابن أبي حاتم نقل عن أبي زُرعة في «العلل» (1/ 376 / رقم 1118) قوله: «الصحيح موقوف على أبي سعيد «فالحمد لله على توفيقه. قلت: ولا يفهم من قوله: «الصحيح» «أن الإسناد صحيح كما ذهب إلى ذلك الشيخ شُعَيْب الأرناؤوط في تعليقه على «المراسيل» ص (168)، إذ كيف يفهم ذلك، بينما الإنقطاع لم ينتف من السند؟، وإنما المراد أن راوية من رواه موقوفًا - بغضّ النظر عن صحة السند أو ضعفه - أصح من رواية من رفعه، وفي بقية كلام أبي زُرعة ما يوضح ذلك، إذ علّل رأيه السابق بقوله: لأن الثوري أحفظ
৯১৪। আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন শ্রমিককে কাজে লাগাবে সে যেন তার পারিশ্রমিক নির্ধারণ করে কাজে লাগায়। ‘আবদুর রাযযাক (রহ.) এর সানাদ মুনকাতে, আর বাইহাকী আবূ হানীফাহ (রহঃ)-এর মাওসূল বা অবিচ্ছিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইবনু হাজার আসকালানী তাঁর আত-তালখীসুল হাবীর (৩/১০৩৩) গ্রন্থেও এটিকে মুনকাতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক (৮/২৩৫) হাদীস নং ১৫০২৩। এর সমর্থনে মামার থেকে হাম্মাদ সূত্রে মুরসাল সূত্রেও একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
عَنْ عُرْوَةَ, عَنْ عَائِشَةَ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا-; أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «مَنْ عَمَّرَ أَرْضًا لَيْسَتْ لِأَحَدٍ, فَهُوَ أَحَقُّ بِهَا». قَالَ عُرْوَةُ: وَقَضَى بِهِ عُمَرُ فِي خِلَافَتِهِ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2335) وليس عند البخاري لفظ: بها
৯১৫। উরওয়াহ হতে বর্ণিত, তিনি ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি পরিত্যক্ত মালিকহীন জমি আবাদ করবে। ঐ জমির হকদার সে ব্যক্তিই হবে। উরওয়াহ বলেছেন, এরূপ ফয়সালাহ ‘উমার (রাঃ) তাঁর খিলাফত আমলে করেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২৩৩৫, আহমাদ ২৪৩৬২।
وَعَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ - رضي الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «مَنْ أَحْيَا أَرْضًا مَيْتَةً فَهِيَ لَهُ». رَوَاهُ الثَّلَاثَةُ, وَحَسَّنَهُ التِّرْمِذِيُّ
وَقَالَ: رُوِيَ مُرْسَلًا. وَهُوَ كَمَا قَالَ, وَاخْتُلِفَ فِي صَحَابِيِّهِ, فَقِيلَ: جَابِرٌ, وَقِيلَ: عَائِشَةُ, وَقِيلَ: عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو, وَالرَّاجِحُ الْأَوَّلُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حديث صحيح
৯১৬। সাঈদ ইবনু যায়দ থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে কোন ব্যক্তি অনাবাদী মৃত জমিকে আবাদ করবে ঐ জমি তারই হবে। -তিরমিযী একে হাসান বলেছেন, আর তিনি বলেছেন, এটা মুরসালরূপে বৰ্ণিত হয়েছে।
বর্ণনাকারী ‘সাহাবী নির্ণয়ের ব্যাপারে মতভেদ আছে- কেউ বলেছেন জাবির (রাঃ), কেউ বলেছেন ‘আয়িশা (রাঃ), কেউ বলেছেন ‘আবদুল্লাহ বিন ‘উমার (রাঃ), তবে প্রথম মত জাবির (রাঃ) অধিক অগ্রগণ্য।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ১৩৭৮, ১৩৭৯, আবূ দাউদ ৩০৭৩।
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ; أَنَّ الصَّعْبَ بْنَ جَثَّامَةَ - رضي الله عنه - أَخْبَرَهُ أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «لَا حِمَى إِلَّا لِلَّهِ وَلِرَسُولِهِ». رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2370)
৯১৭। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, সাব বিন জাসসামাহ আল-লাইসী (রাঃ) তাঁকে জানিয়েছিলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, চারণভূমি সংরক্ষিত করা আল্লাহ ও তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া আর কারো অধিকারে নেই।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২৩৭০, মুসলিম ১৭৪৫, তিরমিযী ১৫৭০, আবূ দাউদ ২৬৭২, ৩০৮৩, ৩০৮৪, ইবনু মাজাহ ২৮৩৯, আহমাদ ২৭৯০২, ২৭৮০৯, ১৬২৪৩।
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَابْنُ مَاجَهْ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حديث صحيح بطرقه وشواهده؛ إذ قد روي عن عدد كبير من الصحابة، وبطرق عدة، كما صححه جماعة من الحُفّاظ. وتفصيل ذلك بالأصل
৯১৮। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বা উদ্দেশ্যহীনভাবে কাকেও কোন রকম কষ্ট দেয়া বৈধ নয়।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইবনু মাজাহ ২৩৪১, আহমাদ ২৮৬২।
وَلَهُ مِنْ حَدِيثِ أَبِي سَعِيدٍ مِثْلُهُ, وَهُوَ فِي الْمُوَطَّإِ مُرْسَلٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
الموطأ (2/ 745 / رقم 31)، وانظر ما قبله
৯১৯। ইবনু মাজাহয় আবূ সাঈদ (রাঃ) কর্তৃকও অনুরূপ হাদীস বর্ণিত রয়েছে। আর হাদীসটি মুওয়াত্তায় রয়েছে মুরসালরূপে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বাইহাকী, সুনান আল কুবরা (৬/৬৯), ইমাম নববী আল আরবাউনা (৩২) গ্রন্থে একে হাসান বলেছেন। ইমাম যাহাবী মীযানুল ইতিদাল (২/৬৬৫) গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে আবদুল মালিক বিন মু’আয আন নুসাইবী রয়েছে। আমি তাকে চিনি না। অনুরূপ হাদীস উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রা.) থেকে, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ থেকেও বর্ণিত হয়েছে।
وَعَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «مَنْ أَحَاطَ حَائِطًا عَلَى أَرْضٍ فَهِيَ لَهُ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ الْجَارُودِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حديث صحيح. بما له من شواهد كما تقد م رقم (897 و 898)، وإن رواه أبو داود (3077)، وابن الجارود (1015) بسند ضعيف
৯২০। সামুরাহ বিন জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন অনাবাদী জমিকে প্রাচীরবেষ্টিত করে নিবে ঐ স্থান তারই হবে। -ইবনু জারূদ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ ৩০৭৭, আহমাদ ২৭৭০৬, ১৯৭২৬