বুলূগুল মারাম
وَرَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ: عَنْ عَلِيٍّ - رضي الله عنه - (مِنْ) قَوْلِهِ بِلَفْظِ: «ادْرَأُوا الْحُدُودَ بِالشُّبُهَاتِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف جدا أيضا. رواه البيهقي (838)
১২২১। আলী (রাঃ) হতে বৰ্ণিত; তিনি বলেন: সন্দেহের অবকাশ থাকলে দণ্ডকে প্রতিহত করবে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইবনু কাসীর তুহফাতুত ত্বলিব ১৯২ গ্রন্থে বলেন, আমি এই হাদীসটি এই শব্দে দেখিনি। মুহাম্মাদ জারুল্লাহ আস সাদী তাঁর আন নাওয়াফেহুল উত্বরাহ ২৫ গ্রন্থে বলেন, হাদীসটি মাওকুফ হিসেবে সহীহ, আর মারফূ হিসেবে হাসান লিগাইরিহী। ইবনু হযম তাঁর আল মাহাল্লী ৯/১৫৪ গ্রন্থে হাদীসটিকে মুরসাল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ইমাম যায়লায়ী তাঁর নাসবুর রায়াহ ৩/৩৩৩ গ্রন্থে বলেন, এই শব্দে হাদীসটি শায বা বিরল। বিন বায তাঁর মাজমুআ ফাতাওয়া ২৫/২৬৩ গ্রন্থে বলেন: এর অনেক সানাদ রয়েছে, তবে তাতে দুর্বলতা রয়েছে। সার্বিকভাবে একটি অপরটিকে শক্তিশালী করে বিধায় এ হাদীসটি হাসান লিগাইরিহী পর্যায়ের।
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «اجْتَنِبُوا هَذِهِ الْقَاذُورَاتِ الَّتِي نَهَى اللَّهُ تَعَالَى عَنْهَا, فَمَنْ أَلَمَّ بِهَا فَلْيَسْتَتِرْ بِسِتْرِ اللَّهِ تَعَالَى, وَلِيَتُبْ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى, فَإِنَّهُ مَنْ يَبْدِ لَنَا صَفْحَتَهُ نُقِمْ عَلَيْهِ كِتَابَ اللَّهِ - عز وجل». رَوَاهُ الْحَاكِمُ, وَهُوَ فِي «الْمُوْطَّإِ» مِنْ مَرَاسِيلِ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. وهو مخرج في «مشكل الآثار» للطحاوي برقم (91)
১২২২। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যেসব নোংরা বস্তু হতে দূরে থাকার জন্য আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন তা হতে দূরে থাকবে। আল্লাহ না করুন যদি কেউ তাতে পড়েই যায়, তবে যেন সে তা গোপন করে নেয়- আল্লাহর পর্দা দিয়ে আর মহান আল্লাহর কাছে তওবা করে। কেননা যে ব্যক্তি নিজের রহস্যাবৃত বস্তুকে প্রকাশ করে ফেলবে তার উপরে আমরা আল্লাহর কিতাবের ফায়সালা জারি করব।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইমাম সুয়ুত্বী তাঁর আল জামেউস সগীর (১৭৫) গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন। শাইখ আলবানী সহীহুল জামে ১৪৯। সিলসিলা সহীহাহ ৬৬৩।
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: لَمَّا نَزَلَ عُذْرِي, قَامَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - عَلَى الْمِنْبَرِ, فَذَكَرَ ذَلِكَ وَتَلَا الْقُرْآنَ, فَلَمَّا نَزَلَ أَمَرَ بِرَجُلَيْنِ وَامْرَأَةٍ فَضُرِبُوا الْحَدَّ. أَخْرَجَهُ أَحْمَدُ وَالْأَرْبَعَةُ
- وأشار إلِيه البخاري
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه احمد (6/ 35)، وأبو داود (4474)، والنسائي في «الكبرى» (4/ 325)، والترمذي (3181)، وابن ماجه (2567) من طريق ابن إسحاق، عن عبد الله بن أبي بكر، عن عمرة، عن عائشة
১২২৩। আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: যখন কুরআনে আমার উপর আরোপিত অপবাদ হতে মুক্তি সংক্রান্ত আয়াত অবতীর্ণ হলো তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে উঠে দাঁড়ালেন ও এর উল্লেখ করলেন এবং কুরআনের আয়াত পাঠ করে শুনালেন। তারপর মিম্বার হতে অবতরণ করলেন, এবং দুজন পুরুষ (হাসসান ইবনু সাবিত, মিসতাহ ইবনু আসাসা) ও একজন স্ত্রীলোক (হামনা বিনতু জাহাশ)-কে তাঁর আদেশক্রমে হদ্দ মারা হলো।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৪৪৭৪, ইবনু মাজাহ ২৫৬৭, আহমাদ ২৬৫৩১। শাইখ আলবানী সহীহ ইবনু মাজাহ ২০৯৭, সহীহ তিরমিযী। ৩১৮১, সহীহ আবূ দাউদ ৪৪৭৪ গ্ৰন্থত্রয়ে হাসান বলেছেন। তবে তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ ৩৫১২ এর মধ্যে বলেন, ইবনু ইসহাক আন আন করে বর্ণনা করেছেন, যিনি মুদাল্লিস। ইমাম শাওকানী তাঁর নাইলুল আওত্বার ৭/৮২ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে মুহাম্মাদ বিন ইসহাক রয়েছে। সে আন আন করে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং তার তাব্দলীস ও আন আন এর কারণে এটি দলিল হিসেবে গৃহীত হবে না।
وَعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ - رضي الله عنه - قَالَ: أَوَّلَ لِعَانٍ كَانَ فِي الْإِسْلَامِ أَنَّ شَرِيكَ بْنُ سَمْحَاءَ قَذَفَهُ هِلَالُ بْنُ أُمَيَّةَ بِامْرَأَتِهِ, فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «الْبَيِّنَةَ، وَإِلَّا فَحَدٌّ فِي ظَهْرِكَ». الْحَدِيثَ أَخْرَجَهُ أَبُو يَعْلَي, وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو يعلي في «المسند» (2824) ولكن لفظه عنده: «يا هلال! أربعة شهود، وإلا ... » وهو مطول عنده
১২২৪। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: ইসলামের সর্বপ্রথম সংঘটিত লিআন এজন্য ছিল যে, হিলাল ইবনু উমাইয়াহ তার স্ত্রীর সাথে শারীক ইবনু সাহিমার ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে (হিলালকে) বলেন, প্রমাণ উপস্থিত কর অন্যথায় তোমার পিঠের উপর অপবাদের হদ্দ মারা হবে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইমাম শাওকানীর নাইলুল আওত্বার (৭/৬৯), ইবনু হাযামের আল মাহাল্লী (১১/১৬৮, ১১/২৬৫), মুসনাদ আবূ ইয়ালা ২৮২৪।
وَهُوَ فِي الْبُخَارِيِّ نَحْوُهُ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
روى البخاري (2671) عن ابن عباس؛ أن هلال بن أمية قذف امرأته عند النبي صلى الله عليه وسلم بشريك بن سمحاء، فقال النبي صلى الله عليه وسلم «البينة أو حد في ظهرك» فقال: يا رسول الله إذا رأى أحدنا على امرأته رجلا ينطلق يلتمس البينة؟ فجعل يقول: «البينةَ، وإلا حد في ظهرك
১২২৫। বুখারীতে হাদীসটি ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৪৭৪৭, ৫৩০৭, তিরমিযী ৩১৭৯, আবূ দাউদ২২৫৪, ২২৫৫, ইবনু মাজাহ ২০৬৭, আহমাদ ২১৩২।
عن ابن عباس؛ أن هلال بن أمية قذف امرأته عند النبي صلى الله عليه وسلم بشريك بن سمحاء، فقال النبي صلى الله عليه وسلم «البينة أو حد في ظهرك» فقال: يا رسول الله إذا رأى أحدنا على امرأته رجلا ينطلق يلتمس البينة؟ فجعل يقول: «البينةَ، وإلا حد في ظهرك
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। হিলাল ইবনু উমাইয়া নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে শারীক ইবনু সাহমা এর সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হবার অভিযোগ করলে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হয় তুমি প্রমাণ পেশ করবে, নয় তোমার পিঠে দণ্ড আপতিত হবে। সে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কেউ কি আপন স্ত্রীর উপর অপর কোন পুরুষকে দেখে প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ছুটে যাবে? কিন্তু নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই কথা বলতে থাকলেন, হয় প্রমাণ পেশ করবে, নয় তোমার পিঠে বোত্রাঘাতের দণ্ড আপতিত হবে।
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرٍ بْنِ رَبِيعَةَ قَالَ: لَقَدْ أَدْرَكَتُ أَبَا بَكْرٍ, وَعُمَرَ, وَعُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ, وَمِنْ بَعْدَهُمْ, فَلَمْ أَرَهُمْ يَضْرِبُونَ الْمَمْلُوكَ فِي الْقَذْفِ إِلَّا أَرْبَعِينَ. رَوَاهُ مَالِكٌ, وَالثَّوْرِيُّ فِي جَامِعِهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. وهو في «الموطأ» (2/ 8287) بنحوه ولم يذكر أبا بكر
১২২৬। আব্দুল্লাহ ইবনু আমির ইবনু রাবীআহ (রহঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন, আমি আবূ বকর, উমার ও উসমান (রাঃ) খলীফাদের এবং তাদের পরবর্তী খলিফাগণের যুগও পেয়েছি- তারা কেউ দাসের উপর অপবাদের হদ্দ ৪০ কোড়া ছাড়া (আর বেশি) মারতেন না।
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «مَنْ قَذْفَ مَمْلُوكَهُ يُقَامُ عَلَيْهِ الْحَدُّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ, إِلَّا أَنْ يَكُونَ كَمَا قَالَ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (6858) ومسلم (1660)، واللفظ لمسلم وزاد: «بالزنا» بعد «مملوكه». واما البخاري فعنده: «وهو برئ مما قال جلد يوم القيامة». والباقي مثله
১২২৭। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে কেউ আপন ক্রীতদাসের প্রতি অপবাদ আরোপ করল- অথচ সে তা থেকে পবিত্র যা সে বলেছে- ক্বিয়ামাত দিবসে তাকে কশাঘাত করা হবে। তবে যদি এমনই হয় যেমন সে বলেছে (সে ক্ষেত্রে কশাঘাত করা হবে না)।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৬৮৫৮, মুসলিম ১৬৬০, তিরমিযী ১৯৪৭, আবূ দাউদ ৫১৬৫, আহমাদ ৯২৮৩, ১০১১০।
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «لَا تُقْطَعُ يَدُ سَارِقٍ إِلَّا فِي رُبُعِ دِينَارٍ فَصَاعِدًا». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَاللَّفْظُ لِمُسْلِم وَلَفْظُ الْبُخَارِيِّ: تُقْطَعُ الْيَدُ فِي رُبُعِ دِينَارٍ فَصَاعِدًا
وَفِي رِوَايَةٍ لِأَحْمَدَ: «اقْطَعُوا فِي رُبُعِ دِينَارٍ, وَلَا تَقْطَعُوا فِيمَا هُوَ أَدْنَى مِنْ ذَلِكَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. وهذا لفظ مسلم (1684)
البخاري (6789)
المسند (6/ 80 - 81) من طريق يحيى بن يحيى الغساني، قال: قدمت المدينة، فلقيت أبا بكر بن محمد بن عمرو بن حزم وهو عامل على المدينة، قال: أتيت بسارق فأرسلت إليّ خالتي عمرة بنت عبد الرحمن؛ أن لا تعجل في أمر هذا الرجل حتى آتيك، فأخبرك ما سمعت من عائشة في أمر السارق، قال: فأتتني، وأخبرتني أنها سمعت عائشة تقول: قال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فذكره. وزاد: وكان ربع الدينار يومئذ ثلاثة دراهم، والدينار اثني عشر درهما. قال: وكانت سرقته دون ربع الدينار، فلم أقطعه
১২২৮। আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন চোরের হাত চার ভাগের এক ভাগ দিনার বা তার অধিক পরিমাণ মাল চুরি ছাড়া কাটা যাবে না।
বুখারীতে এভাবে আছে, এক চতুর্থাংশ দীনার বা তার অধিক চুরির কারণে হাত কাটা যাবে। আহমাদে আছে এক চতুর্থাংশ দীনারের চুরির কারণে হাত কাট, এর কমে হাত কেটো না।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৬৭৮৯, ৬৭৯০, ৬৭৯১, মুসলিম ১৬৮৪, তিরমিযী ১৪৪৫, নাসায়ী ৪৯১৪, ৪৯১৫, আর দাউদ ৪৩৮৩, ৪৩৮৪, ইবনু মাজাহ ২৫৮৫, আহমাদ ২৩৫৫৮, ২৩৯৯৪, ২৪২০৪, মালেক ১৫৫৭, দারেমী ২৩০০।
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَطَعَ فِي مِجَنٍ، ثَمَنُهُ ثَلَاثَةُ دَرَاهِمَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (6795)، ومسلم (1686)، واللفظ للبخاري
১২২৯। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন দিরহাম মূল্যের ঢালের চুরিতে হাত কেটেছিলেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৬৭৯৬, ৬৭৯৭, ৬৭৯৮, মুসলিম ১৬৮৯, তিরমিযী ১৪৪৬, নাসায়ী ৪৯০৬, ৪৯০৭, ৪৯০৮, আর দাউদ ৪৩৮৫, ইবনু মাজাহ ২৫৮৪. আহমাদ ৪৪৮৯, ৫১৩৫, মালেক ১৫৭২, দারেমী ২৩০১।
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «لَعَنَ اللَّهُ السَّارِقَ؛ يَسْرِقُ الْبَيْضَةَ، فَتُقْطَعُ يَدُهُ، وَيَسْرِقُ الْحَبْلَ، فَتُقْطَعُ يَدُهُ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ أَيْضًا
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح رواه البخاري (6799)، ومسلم (1687)
১২৩০। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর লানত বর্ষিত হয় চোরের উপর যে একটি ডিম চুরি করেছে। তাতে তার হাত কাটা গেছে বা একটি দড়ি চুরি করেছে যার ফলে তার হাত কাটা গেছে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৬৭৮৩, মুসলিম ১৬৮৭, নাসায়ী ৪৮৭৩, ইবনু মাজাহ ২৫৮৮, আহমাদ ৭৩৮৮।
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا؛ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «أَتَشْفَعُ فِي حَدٍ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ؟». ثُمَّ قَامَ فَاخْتَطَبَ، فَقَالَ: «أَيُّهَا (1) النَّاسُ! إِنَّمَا هَلَكَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ أَنَّهُمْ كَانُوا إِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الشَّرِيفُ تَرَكُوهُ، وَإِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الضَّعِيفُ أَقَامُوا عَلَيْهِ الْحَدَّ ... ». الْحَدِيثَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ، وَاللَّفْظُ لِمُسْلِمٍ
وَلَهُ مِنْ وَجْهٍ آخَرَ: عَنْ عَائِشَةَ: كَانَتِ امْرَأَةٌ تَسْتَعِيرُ الْمَتَاعَ، وَتَجْحَدُهُ، فَأَمَرَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - بِقَطْعِ يَدِهَا
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (6788)، ومسلم (1688)، واللفظ لمسلم، وزاد: «وَايْمُ اللهِ لَوْ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ مُحَمَّدٍ سَرَقَتْ لَقَطَعْتُ يَدَهَا
১২৩১। ‘আয়িশা (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তুমি কি আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তি গুলোর একটি শাস্তির ব্যাপারে আমার কাছে সুপারিশ করছ? এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং খুতবা দিলেন। বললেন, হে লোকসকল! তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতরা এ জন্য ধ্বংস হয়েছিল যে, তারা তাদের মধ্যকার উচ্চ শ্রেণীর কোন লোক চুরি করলে তাকে ছেড়ে দিত। পক্ষান্তরে কোন দুর্বল চুরি কোন করলে তার উপর নির্ধারিত শাস্তি প্ৰয়োগ করত।
অন্য সূত্রে ‘আয়িশা (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। কোন এক নারী আসবাবপত্র চেয়ে নিয়ে তা (ফেরত না দিয়ে) অস্বীকার করে বসত, ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাত কাটার আদেশ দিয়েছিলেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২৬৪৮, ৩৪৭৫, ৩৭৩৩, ৪৩০৪, মুসলিম ১৬৮৮, তিরমিযী ১৪৩০, নাসায়ী ৪৮৯৫, ৪৮৯৭, ৪৮৯৮, আবূ দাউদ ৪৩৭৩, ইবনু মাজাহ ২৫৪৭, আহমাদ ২২৯৬৮, মালেক ২৩০২।
وَعَنْ جَابِرٍ - رضي الله عنه -، عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «لَيْسَ عَلَى خَائِنٍ وَلَا مُنْتَهِبٍ، وِلَا مُخْتَلِسٍ، قَطْعٌ». رَوَاهُ أَحْمَدُ، وَالْأَرْبَعَةُ، وَصَحَّحَهُ التِّرْمِذِيُّ، وَابْنُ حِبَّانَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح، رواه أحمد (3/ 380)
১২৩২। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমানতের খিয়ানতকারী ও ছিনতাইকারী, লুণ্ঠনকারীর হাত কাটা যাবে না।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ১৪৪৮, নাসায়ী ৪৯৭১, ৪৯৭২, ৪৯৭৩, আবূ দাউদ৪৩৯১, ৪৩৯২, ইবনু মাজাহ ২৫৯১, আহমাদ ১৪৬৬২, দারেমী ২৩১০।
وَعَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ - رضي الله عنه -، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَقُولُ: «لَا قَطْعَ فِي ثَمَرٍ وَلَا كَثَرٍ». رَوَاهُ الْمَذْكُورُونَ, وَصَحَّحَهُ أَيْضًا التِّرْمِذِيُّ, وَابْنُ حِبَّانَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (3/ 463 و464، 540 و141)، وأبو داود (4388)، والنسائي (8/ 88)
১২৩৩। রাফি ইবনু খাদীজা (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ফলে ও খেজুরের গাছের মাথিতে হাত কাটার বিধান নেই।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৪৩৮৮, তিরমিযী ১৪৪৯, নাসায়ী ৪৯৬০, ৪৯৬১, ইবনু মাজাহ ২৫৯৩, আহমাদ ১৫৩৭৭, ১৫৩৮৭, মালেক ১৫৮৩, দারেমী ২৩০৪, ২৩০৫।
وَعَنْ أَبِي أُمَيَّةَ الْمَخْزُومِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: أُتِيَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - بِلِصٍّ قَدِ اعْتَرَفَ اعْتِرَافًا، وَلَمْ يُوجَدْ مَعَهُ مَتَاعٌ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - «مَا إِخَالَكَ سَرَقْتَ». قَالَ: بَلَى، فَأَعَادَ عَلَيْهِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا، فَأَمَرَ بِهِ فَقُطِعَ. وَجِيءَ بِهِ، فَقَالَ: «اسْتَغْفِرِ اللَّهَ وَتُبْ إِلَيْهِ»، فَقَالَ: أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ، فَقَالَ: «اللَّهُمَّ تُبْ عَلَيْهِ»، ثَلَاثًا. أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ وَاللَّفْظُ لَهُ، وَأَحْمَدُ، وَالنَّسَائِيُّ، وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أحمد (5/ 293) وأبو داود (4380)، والنسائي (8/ 67)
১২৩৪। আবূ উমাইয়া মাখযুমী (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে কোন এক চোরকে আনা হলো যে যথারীতি চুরির কথা স্বীকার করেছিল কিন্তু তার নিকটে কোন মাল পাওয়া যায়নি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তুমি চুরি করেছ বলে তো আমি মনে করছি না! সে বলল: হাঁ। (আমি চুরি করেছি)। বৰ্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই কি তিনবার তাকে এ কথা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলেছেন। অতঃপর তাঁর আদেশত্রুমে তার হাত কাটা হলো এবং তাকে পুনরায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে আনা হলো। তাকে তিনি বললেন: আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও ও তওবা কর। সে বললঃ আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইছি ও তাওবা করছি। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকটির জন্য ৩ বার এই বলে প্রার্থনা জানালেন যে, হে আল্লাহ! তুমি তার তওবা কবুল কর।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইবনু মাজাহ ২৫৯৭, নাসায়ী ৪৮৭৭, আর দাউদ ৪৩৮০, আহমাদ ২২০০২, দারেমী ২৩০৩। শাইখ আলবানী যঈফ আবূ দাউদে ৪৩৮০, যঈফ নাসাঈ ৪৮৯২ গ্রন্থদ্বয়ে দুর্বল বলেছেন। ইমাম যায়লাঈ তাঁর নাসবুর রায়াহ ৪/৭৬ গ্রন্থে বলেন, এর এক বর্ণনাকারী আবূ মুনযির হচ্ছে অপরিচিত, এর অন্য একটি সূত্র রয়েছে। ইবনু কাসীর তাঁর ইরশীদুল ফাকীহ ২/৪২৬ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে ইসহাক বিন আবদুল্লাহ বিন আবূ (ফুরুওয়াহ) আল মাদীনী রয়েছে, তার সম্পর্কে হাদীসবিশারদগণ সমালোচনা করেছেন।
وَأَخْرَجَهُ الْحَاكِمُ مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ، فَسَاقَهُ بِمَعْنَاهُ، وَقَالَ فِيهِ: «اذْهَبُوا بِهِ، فَاقْطَعُوهُ، ثُمَّ احْسِمُوهُ». وَأَخْرَجَهُ الْبَزَّارُ أَيْضًا، وَقَالَ: لَا بَأْسَ بِإِسْنَادِهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صعيف، رواه الحاكم (4/ 381) والبزار (1560) من طريق الدراودي
১২৩৫। ইমাম হাকিম আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে এ অর্থেই একটি হাদীস সংকলন করেছেন, তাতে রাবী বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তাকে নিয়ে গিয়ে তার হাত কেটে দাও ও তার রক্ত বন্ধ করে দাও। হাদীসটি বাযযারও সংকলন করেছেন ও তিনি হাদীসটির সানাদকে নির্দোষ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইমাম আবূ দাউদের আল মারাসীল (৩২৪), ইমাম হাইসামীর মাজমাউয যাওয়ায়েদ (৬/২৭৯) এর বর্ণনাকারী আহমাদ বিন আবান আল কুরাশীকে ইবনু হিব্বান সহীহ বিশ্বস্ত বলেছেন। অবশিষ্ট রাবীগণ বুখারীর। ইমাম বাইহাকীর আস সুনান আস সগীর (৩/৩১৪), ইমাম শাওকানীর নাইলুল আওত্বার (৭/৩১০) মুত্তাসিল ও মুরসাল রূপে বর্ণনা করেছেন।
وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ؛ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «لَا يُغَرَّمُ السَّارِقُ إِذَا أُقِيمَ عَلَيْهِ الْحَدُّ». رَوَاهُ النَّسَائِيُّ، وَبَيَّنَ أَنَّهُ مُنْقَطِعٌ. وَقَالَ أَبُو حَاتِمٍ: هُوَ مُنْكَرٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف رواه النسائي (8/ 92)
১২৩৬। আব্দুর রহমান উবনু আউফ (রাঃ) হতে বর্ণিত; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ চোরের উপর হাদ্দ জারি করা হলে তাকে মালের ক্ষতিপূরণের জন্য দায়ী করা যাবে না।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] নাসায়ী ৪৯৮৪। ইমাম দারাকুতনী তাঁর সুনানে ৩/১০৪ গ্রন্থে একে মুরসাল বলেছেন। বাইহাকী তাঁর কুবরা ৮/২৭৭ গ্রন্থে বলেন, এ ব্যাপারে মতভেদ আছে, এটি বিচ্ছিন্ন সানাদে বর্ণিত হয়েছে। ইবনু হাজার লিসানুল আরাব ৪/৩৭ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে আল মাসরুর বিন ইবরাহী রয়েছে। তার সম্পর্কে দারাকুতনী বলেন, তিনি আবদুর রহমান বিন আওফকে পাননি। ইমাম সানআনী বলেন, সে তার দাদা আবদুর রহমান বিন আওফকে পাননি, সুতরাং এর দ্বারা দলিল সাব্যস্ত হয় না। ইবনু উসাইমীন শরহে বুলুগুল মারাম ৫/৪০২ গ্রন্থে বলেন, হাদীসটি মতনের দিক থেকে পরিত্যাজ্য আর সানাদের দিক থেকে মুনকাতি। আলবানী যঈফ নাসায়ীতে ৪৯৯৯ একে দুর্বল বলেছেন। ইমাম যাহাবী তাঁর মীযানুল ইতিদাল ৪/১১৩ গ্রন্থে একে মুনকার বলেছেন, ইমাম নাসায়ী আদদিরায়াহ ২/১১৩ গ্রন্থে বলেন, এটির সানাদ বিচ্ছিন্ন, সুতরাং এর বিশুদ্ধতা প্রমাণিত নয়।
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ سُئِلَ عَنِ التَّمْرِ الْمُعَلَّقِ؟ فَقَالَ: «مَنْ أَصَابَ بِفِيهِ مِنْ ذِي حَاجَةٍ، غَيْرَ مُتَّخِذٍ خُبْنَةً، فَلَا شَيْءَ عَلَيْهِ، وَمَنْ خَرَجَ بِشَيْءٍ مِنْهُ، فَعَلَيْهِ الْغَرَامَةُ وَالْعُقُوبَةُ، وَمَنْ خَرَجَ بِشَيْءٍ مِنْهُ بَعْدَ أَنْ يُؤْوِيَهُ الْجَرِينُ، فَبَلَغَ ثَمَنَ الْمِجَنِّ فَعَلَيْهِ الْقَطْعُ». أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ، وَالنَّسَائِيُّ، وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه أبو داود (4390)، والنسائي (8/ 85)، والحاكم (4/ 380)
১২৩৭। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনিল ‘আস (রাঃ) হতে বর্ণিত; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গাছে ঝুলন্ত খেজুর প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেনঃ যদি নিয়ে যাওয়ার জন্য আচলে না বেঁধে কেবল প্রয়োজন (ক্ষুধা) মেটানোর জন্য খায় তবে তাতে কোন দোষ নেই। আর যদি কিছু নিয়ে বেরিয়ে যায় তবে তাকে জরিমানা করতে হবে ও শাস্তিও দিতে হবে। আর যদি খামারে রাখার পর সেখান হতে তার কিছু উঠিয়ে নিয়ে যায় আর তার মূল্য একটি ঢাল পরিমাণ হয়ে যায়। তবে তার হাত কাটা হবে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] নাসায়ী ৪৯৫৭, ৪৯৫৯, তিরমিযী ১২৮৯, আর দাউদ ১৭১০, ৪৩৯০, আহমাদ ৬৬৪৮।
وَعَنْ صَفْوَانَ بْنِ أُمِّيَّةٍ - رضي الله عنه - أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ لَهُ لَمَّا أَمَرَ بِقَطْعِ الَّذِي سَرَقَ رِدَاءَهُ, فَشَفَعَ فِيهِ: «هَلَّا كَانَ ذَلِكَ قَبْلِ أَنْ تَأْتِيَنِي بِهِ?». أَخْرَجَهُ أَحْمَدُ, وَالْأَرْبَعَةَ، وَصَحَّحَهُ ابْنُ الْجَارُودِ, وَالْحَاكِمُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (6/ 466) وأبو داود (4394)، والنسائي (8/ 69)، وابن ماجه (2595)، وابن الجارود (828)، والحاكم (4/ 380) - وطرقهم مختلفة - عن صفوان بن أمية قال: كنت نائما في المسجد على خميصة لي ثمن ثلاثين درهما، فجاء رجل فاختلسها مني، فأخذ الرجل، فأتي به رسول الله صلى الله عليه وسلم، فأمر به ليقطع. قال: فأتيته، فقلت: أتقطعه من أجل ثلاثين درهما! أنا أبيعه وأنسئه ثمنها. قال: فذكره. والسياق لأبي داود. «تنبيه» عزو الحديث للأربعة وهم من الحافظ -رحمه الله- إذ لم يروه الترمذي
১২৩৮। সাফওয়ান ইবনু উমাইয়াহ (রাঃ) হতে বর্ণিত; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছিলেন- যখন তিনি (সাফওয়ান) তার এক চাদর চুরির ব্যাপারে হাত কাটার আদেশ দেয়ার পর সুপারিশ করেছিলেন- কেন তুমি তাকে (চোরকে) আমার কাছে আনার আগেই এ সুপারিশ করনি।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] নাসায়ী ৪৮৭৮, ৪৮৭৯, ৪৮৮৩, ইবনু মাজাহ ২৫৯৫, আহমাদ ১৪৮৭৯, ২৭০৯০, ২৭০৯৭।
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: جِيءَ بِسَارِقٍ إِلَى النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فَقَالَ: «اقْتُلُوهُ». فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ! إِنَّمَا سَرَقَ. قَالَ: «اقْطَعُوهُ» فَقَطَعَ, ثُمَّ جِيءَ بِهِ الثَّانِيَةِ, فَقَالَ «اقْتُلُوهُ» فَذَكَرَ مِثْلَهُ, ثُمَّ جِيءَ بِهِ الرَّابِعَةِ كَذَلِكَ, ثُمَّ جِيءَ بِهِ الْخَامِسَةِ فَقَالَ: «اُقْتُلُوهُ». أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالنِّسَائِيُّ, وَاسْتَنْكَرَهُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أبو داود (4410)، والنسائي (8/ 90 - 91) من طريق مصعب بن ثابت، عن محمد بن المنكدر، عن جابر. به. قال النسائي: هذا حديث منكر، ومصعب بن ثابت ليس بالقوي في الحديث
১২৩৯। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত; কোন এক চোরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আনা হলে তিনি তাকে হত্যা করতে বলেন। সাহাবীগণ বলেন, এ তো চুরি করেছে মাত্র। তিনি বলেন: তার হাত কেটে দাও ফলে তার হাত কাটা হল। তারপর দ্বিতীয় বার তাকে আনা হলে তিনি এবারেও বললেন: তাকে হত্যা করো। কিন্তু পূর্বের মতই ঘটল (হত্যা করা হল না) তারপর তৃতীয়বার তাকে আনা হলে ঐ রূপ ঘটলো। তারপর চতুৰ্থবার তাকে আনা হলো এবং ঐ রূপ ঘটল। তারপর তাকে পঞ্চম দফা আনা হলে তিনি তাকে হত্যা করার আদেশ দিলেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] নাসায়ী ৪৯৭৮, আবূ দাউদ ৪৪১০। শাইখ আলবানী তাঁর সহীহ আবূ দাউদ (৪৪১০) গ্রন্থে হাসান বলেছেন। ইমাম সান’আনী তাঁর সুবুলুস সালাম গ্রন্থে বলছেন, এর শাহেদ আছে। কিন্তু শাইখ বিন বায তাঁর বুলুলুগুল মারামের হাশিয়া (৬৮৬) গ্রন্থে একে অত্যন্ত দুর্বল বলেছেন। উসাইমীনও তাঁর বুলুগুল মারামের শরাহ (৫/৪০৭) গ্রন্থে বলেন, হাদীসটি মুনকার, সহীহ নয়। ইবনু হাজার আসকালানী তাঁর আত-তালখীসুল হাবীর (৪/১৩৮৭) গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে মাসআব বিন সা’দ রয়েছে, তাঁর সম্পর্কে ইমাম নাসায়ী বলেন, তিনি শক্তিশালী বৰ্ণনাকারী নন। আর এ হাদীসটি মুনকার। এ সম্পর্কে আমার কোন সহীহ হাদীস জানা নেই। ইবনুল মুলকীনও তাঁর আল বাদরুল মুনীর (৮/৬৭২) গ্রন্থে বলেন, এ সানাদের বর্ণনাকারী মাসআব বিন সা’দকে দুর্বল বলা হয়েছে।
وَأَخْرُجَ مِنْ حَدِيثِ الْحَارِثِ بْنِ حَاطِبٍ نَحْوَهُ. وَذَكَرَ الشَّافِعِيُّ أَنَّ الْقَتْلَ فِي الْخَامِسَةِ مَنْسُوخٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
منكر. رواه النسائي (8/ 89 - 90)
১২৪০। হারিস ইবনু হাত্বিব হতে অনুরূপ হাদীস নাসায়ীতে সংকলিত হয়েছে। আর ইমাম শাফিঈ বলেনঃ ৫ম দফায় চোরকে হত্যা করার আদেশ মানসুখ বা বাতিল হয়ে গেছে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] নাসায়ী (৪৯৭৭) এককভাবে বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি মুনকার।