হাদীস বিএন


আল-আদাবুল মুফরাদ





আল-আদাবুল মুফরাদ (157)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ مُغِيرَةَ، عَنْ أُمِّ مُوسَى، عَنْ عَلِيٍّ صَلَوَاتُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ : كَانَ آخِرُ كَلاَمِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم : الصَّلاَةَ، الصَّلاَةَ، اتَّقُوا اللَّهَ فِيمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ .




১৫৭। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্তিম কথা ছিলঃ নামায! নামায! তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীদের সম্পর্কে আল্লাহকে ভয় করো (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, মুসনাদ আহমাদ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (158)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ : حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ لِلنَّاسِ : نَحْنُ أَعْرَفُ بِكُمْ مِنَ الْبَيَاطِرَةِ بِالدَّوَابِّ، قَدْ عَرَفْنَا خِيَارَكُمْ مِنْ شِرَارِكُمْ . أَمَّا خِيَارُكُمُ : الَّذِي يُرْجَى خَيْرُهُ، وَيُؤْمَنُ شَرُّهُ . وَأَمَّا شِرَارُكُمْ : فَالَّذِي لاَ يُرْجَى خَيْرُهُ، وَلاَ يُؤْمَنُ شَرُّهُ، وَلاَ يُعْتَقُ مُحَرَّرُهُ .

صحيح الإسناد موقوفا ، وقد صح منه مرفوعا جملة الخيار والشرار دون العتق - الألباني




১৫৮। আবু দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি লোকদেরকে বলতেন, পশু চিকিৎসকগণ পশুদেরকে যেরূপ চিনতে পারে, আমি তোমাদেরকে তার চেয়েও উত্তমরূপে চিনি। আমি তোমাদের মধ্যকার উত্তম ও নিকৃষ্ট লোকদের চিনি। অতএব তোমাদের মধ্যকার উত্তম লোক হলো, যাদের নিকট কল্যাণ আশা করা যায় এবং যাদের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ বোধ করা যায়। আর তোমাদের মধ্যকার মন্দ লোক হলো, যাদের নিকট কল্যাণ আশা করা যায় না, যাদের অনিষ্ট থেকেও নিরাপদ বোধ করা যায় না এবং যাদের প্রতিশ্রুত দাসের মুক্তি দেয়া হয় না।









আল-আদাবুল মুফরাদ (159)


حَدَّثَنَا عِصَامُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَرِيزُ بْنُ عُثْمَانَ، عَنِ ابْنِ هَانِئٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، سَمِعْتُهُ يَقُولُ : الْكَنُودُ : الَّذِي يَمْنَعُ رِفْدَهُ، وَيَنْزِلُ وَحْدَهُ، وَيَضْرِبُ عَبْدَهُ .




১৫৯। আবু উমামা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘কানুদ’ (অকৃতজ্ঞ) সেই ব্যক্তি যে তার দান-খয়রাত বন্ধ রাখে, জনবিচ্ছিন্ন থাকে এবং নিজের দাসকে মারধর করে।









আল-আদাবুল মুফরাদ (160)


حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، وَحَمَّادٍ، عَنْ حَبِيبٍ، وَحُمَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ أَنَّ رَجُلاً أَمَرَ غُلاَمًا لَهُ أَنْ يَسْنُوَ عَلَى بَعِيرٍ لَهُ، فَنَامَ الْغُلاَمُ، فَجَاءَ بِشُعْلَةٍ مِنْ نَارٍ فَأَلْقَاهَا فِي وَجْهِهِ، فَتَرَدَّى الْغُلاَمُ فِي بِئْرٍ، فَلَمَّا أَصْبَحَ أَتَى عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، فَرَأَى الَّذِي فِي وَجْهِهِ، فَأَعْتَقَهُ .




১৬০। হাসান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি তার উটে করে তার গোলামকে কূপ থেকে পানি তুলে আনতে নির্দেশ দিলো। কিন্তু গোলামটি ঘুমিয়ে গেলো। তার মনিব অগ্নিশিখাসহ এসে তা তার মুখের উপর নিক্ষেপ করলো। গোলামটি কূপের মধ্যে ঝাপিয়ে পড়লো। পরদিন সকালে সে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র নিকট উপস্থিত হলো। তিনি তার মুখে পোড়া দাগ দেখে তৎক্ষণাৎ তাকে দাসত্বমুক্ত ঘোষণা করেন।









আল-আদাবুল মুফরাদ (161)


حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ عَمْرَةَ، عَنْ عَمْرَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا دَبَّرَتْ أَمَةً لَهَا، فَاشْتَكَتْ عَائِشَةُ، فَسَأَلَ بَنُو أَخِيهَا طَبِيبًا مِنَ الزُّطِّ، فَقَالَ : إِنَّكُمْ تُخْبِرُونِي عَنِ امْرَأَةٍ مَسْحُورَةٍ، سَحَرَتْهَا أَمَةٌ لَهَا، فَأُخْبِرَتْ عَائِشَةُ، قَالَتْ : سَحَرْتِينِي ؟ فَقَالَتْ : نَعَمْ، فَقَالَتْ : وَلِمَ ؟ لاَ تَنْجَيْنَ أَبَدًا، ثُمَّ قَالَتْ : بِيعُوهَا مِنْ شَرِّ الْعَرَبِ مَلَكَةً .




১৬১। আমরা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার এক বাঁদীকে তার মৃত্যুর পর মুক্তি প্রদানের কথা ঘোষণা করেন। পরে আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার ভ্রাতুষ্পুত্ৰগণ যুক্ত (জাঠ) সম্প্রদায়ের এক চিকিৎসকের সাথে তার ব্যাপারে পরামর্শ করেন। সে বললো, আপনারা আমাকে এমন এক মহিলা সম্পর্কে অবিহত করেছেন যাকে তার দাসী যাদু করেছে। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে তা অবহিত করা হলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুই কি আমাকে যাদু করেছিস? সে বললো, হাঁ। তিনি বলেন, কেন? কখনও তুই মুক্তি পাবি না। তিনি বলেন, তোমরা তাকে উগ্র মেজাজের অসদাচারী বেদুইনের কাছে বিক্রি করো (আবু দাউদ, হাকিম)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (162)


حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، هُوَ ابْنُ سَلَمَةَ، قَالَ : أَخْبَرَنَا أَبُو غَالِبٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ : أَقْبَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَعَهُ غُلامَانِ، فَوَهَبَ أَحَدُهُمَا لِعَلِيٍّ صَلَوَاتُ اللهِ عَلَيْهِ، وَقَالَ : لاَ تَضْرِبْهُ، فَإِنِّي نُهِيتُ عَنْ ضَرْبِ أَهْلِ الصَّلاَةِ، وَإِنِّي رَأَيْتُهُ يُصَلِّي مُنْذُ أَقْبَلْنَا، وَأَعْطَى أَبَا ذَرٍّ غُلاَمًا، وَقَالَ : اسْتَوْصِ بِهِ مَعْرُوفًا فَأَعْتَقَهُ، فَقَالَ : مَا فَعَلَ ؟ قَالَ : أَمَرْتَنِي أَنْ أَسْتَوْصِي بِهِ خَيْرًا فَأَعْتَقْتُهُ .




১৬২। আবু উমামা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুইটি গোলামসহ আসলেন। এদের একটি আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে দিয়ে তিনি বলেনঃ তাকে মারধর করো না। কেননা নামাযীকে নির্যাতন করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে। সে আমাদের নিকট আসার পর থেকে আমি তাকে নামায পড়তে দেখেছি। অপর গোলামটি তিনি আবু যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে দিয়ে বলেনঃ তার সাথে সদয় ব্যবহার করো। তিনি তাকে মুক্ত করে দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ সে কি করছে? আবু যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আপনি আমাকে তার সাথে সদয় ব্যবহার করতে বলেছেন। তাই আমি তাকে দাসত্বমুক্ত করে দিয়েছি (আবু দাউদ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (163)


حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ : قَدِمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ وَلَيْسَ لَهُ خَادِمٌ، فَأَخَذَ أَبُو طَلْحَةَ بِيَدِي، فَانْطَلَقَ بِي حَتَّى أَدْخَلَنِي عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ : يَا نَبِيَّ اللهِ، إِنَّ أَنَسًا غُلاَمٌ كَيِّسٌ لَبِيبٌ، فَلْيَخْدُمْكَ . قَالَ : فَخَدَمْتُهُ فِي السَّفَرِ وَالْحَضَرِ، مَقْدَمَهُ الْمَدِينَةَ حَتَّى تُوُفِّيَ صلى الله عليه وسلم، مَا قَالَ لِي لِشَيْءٍ صَنَعْتُ : لِمَ صَنَعْتَ هَذَا هَكَذَا ؟ وَلاَ قَالَ لِي لِشَيْءٍ لَمْ أَصْنَعْهُ : أَلاَ صَنَعْتَ هَذَا هَكَذَا ؟ .




১৬৩৷ আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আসলেন। তাঁর কোন খাদেম ছিলো না। আবু তালহা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমার হাত ধরে আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়ে গেলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর নবী! আনাস বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমান বালক। সে আপনার খেদমত করবে। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি তার মদীনায় আসার সময় থেকে তাঁর ইনতিকাল পর্যন্ত সফরে ও আবাসে তার সেবা করেছি। তিনি আমার কোন কাজের জন্য বলেননিঃ তুমি এটা এভাবে করলে কেন? আবার আমার কোন কাজ না করায় তিনি বলেননিঃ তুমি এটা এভাবে করলে না কেন (বুখারী, মুসলিম, মুসনাদ আহমাদ)









আল-আদাবুল মুফরাদ (164)


حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : إِذَا سَرَقَ الْمَمْلُوكُ بِعْهُ وَلَوْ بِنَشٍّ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللهِ : النَّشُّ : عِشْرُونَ . وَالنَّوَاةُ : خَمْسَةٌ . وَالأُوقِيَّةُ : أَرْبَعُونَ .




১৬৪। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্রীতদাস চুরি করলে একটি ‘নাশ’-এর বিনিময়ে হলেও তাকে বিক্রয় করে ফেলো। ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, ‘নাশ’ হলো বিশ দিরহাম ‘নাওয়াত’ হলো পাঁচ দিরহাম এবং ‘উকিয়া’ হলো চল্লিশ দিরহাম (নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, আহমাদ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (165)


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ : سَمِعْتُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ لَقِيطِ بْنِ صَبِرَةَ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ : انْتَهَيْتُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَدَفَعَ الرَّاعِي فِي الْمُرَاحِ سَخْلَةً، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : لاَ تَحْسِبَنَّ، وَلَمْ يَقُلْ : لاَ تَحْسَبَنَّ إِنَّ لَنَا غَنَمًا مِئَةً لاَ نُرِيدُ أَنْ تَزِيدَ، فَإِذَا جَاءَ الرَّاعِي بِسَخْلَةٍ ذَبَحْنَا مَكَانَهَا شَاةً، فَكَانَ فِيمَا قَالَ : لاَ تَضْرِبْ ظَعِينَتَكَ كَضَرْبِكَ أَمَتَكَ، وَإِذَا اسْتَنْشَقْتَ فَبَالِغْ، إِلاَّ أَنْ تَكُونَ صَائِمًا .




১৬৫। আসেম ইবনে লাকীত ইবনে সাবুরা (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (বনু মুনতাফিকের প্রতিনিধি হয়ে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে পৌছলাম। রাখাল খোঁয়াড়ে একটি ছাগল ছানা নিয়ে যাচ্ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি ধারণা করো না যে, আমরা এটা তোমার জন্য যবেহ করছি। আমাদের এক শত বকরী আছে। এই সংখ্যা বৰ্দ্ধিত হওয়া আমরা কামনা করি না। অতএব ছাগল ছানাটি নিয়ে এলে আমরা তৎপরিবর্তে একটি বকরী যবেহ করলাম। নবী (সা) তখন যা বলেছেন, তার মধ্যে ছিলঃ তোমার স্ত্রীকে তোমার দাসীর মত মারধর করো না এবং যখন নাক পরিষ্কার করো উত্তমরূপে পরিষ্কার করো, যদি তুমি রোযাদার না হও (আবু দাউদ, আহমাদ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (166)


حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ، قَالَ : أَخْبَرَنَا أَبُو خَلْدَةَ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ قَالَ : كُنَّا نُؤْمَرُ أَنْ نَخْتِمَ عَلَى الْخَادِمِ، وَنَكِيلَ، وَنَعُدَّهَا، كَرَاهِيَةَ أَنْ يَتَعَوَّدُوا خُلُقَ سُوءٍ، أَوْ يَظُنَّ أَحَدُنَا ظَنَّ سُوءٍ .




১৬৬। আবুল আলিয়া (রহঃ) বলেন, আমাদের নির্দেশ দেয়া হতো যে, আমরা যেন কোন বস্তু খাদেমের নিকট দেয়ার সময় সীলমোহর করে, ওজন করে বা গুণে দেই, যাতে তার অভ্যাস খারাপ না হতে পারে বা আমাদের কেউ কুধারণার শিকার না হয়।









আল-আদাবুল মুফরাদ (167)


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ حَارِثَةَ بْنِ مُضَرِّبٍ، عَنْ سَلْمَانَ قَالَ : إِنِّي لَأَعُدُّ الْعُرَاقَ عَلَى خَادِمِي مَخَافَةَ الظَّنِّ .




১৬৭। সালমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি খাদেমের কাছে কোন বস্তু দেওয়ার সময় গণনা করে দেই, যাতে কুধারণা থেকে বেঁচে থাকতে পারি।









আল-আদাবুল মুফরাদ (168)


حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ : أَنْبَأَنَا أَبُو إِسْحَاقَ قَالَ : سَمِعْتُ حَارِثَةَ بْنَ مُضَرِّبٍ قَالَ : سَمِعْتُ سَلْمَانَ : إِنِّي لَأَعُدُّ الْعُرَاقَ خَشْيَةَ الظَّنِّ .




১৬৮। হারিসা ইবনে মুদাররিব (রহঃ) বলেন, আমি সালমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলতে শুনেছি, আমি সন্দেহমুক্ত থাকার জন্য খাদেমের কাছে কোন বস্তু দেওয়ার সময় গণনা করে দেই।









আল-আদাবুল মুফরাদ (169)


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ وَهْبٍ قَالَ : أَخْبَرَنِي مَخْرَمَةُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ : سَمِعْتُ يَزِيدَ بْنَ عَبْدِ اللهِ بْنِ قُسَيْطٍ قَالَ : أَرْسَلَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ غُلاَمًا لَهُ بِذَهَبٍ أَوْ بِوَرِقٍ، فَصَرَفَهُ، فَأَنْظَرَ بِالصَّرْفِ، فَرَجَعَ إِلَيْهِ فَجَلَدَهُ جَلْدًا وَجِيعًا وَقَالَ : اذْهَبْ، فَخُذِ الَّذِي لِي، وَلاَ تَصْرِفْهُ .




১৬৯। ইয়াযীদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে কুসাইত (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার এক গোলামকে সোনা বা রূপার মুদ্রাসহ পাঠালেন। সে মুদ্রা বিনিময় করে অপর পক্ষকে (তার মুদ্ৰা আনার জন্য) সময় দেয়। সে ফিরে এলে তিনি তাকে বেদম প্রহার করেন এবং বলেন, যাও আমার মুদ্রা ফেরত নিয়ে এসো, তা বিনিময় করো না।









আল-আদাবুল মুফরাদ (170)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ قَالَ : كُنْتُ أَضْرِبُ غُلاَمًا لِي، فَسَمِعْتُ مِنْ خَلْفِي صَوْتًا : اعْلَمْ أَبَا مَسْعُودٍ، لَلَّهُ أَقْدَرُ عَلَيْكَ مِنْكَ عَلَيْهِ، فَالْتَفَتُّ فَإِذَا هُوَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ، فَهُوَ حُرٌّ لِوَجْهِ اللهِ، فَقَالَ : أَمَا لَوْ لَمْ تَفْعَلْ لَمَسَّتْكَ النَّارُ أَوْ لَلَفَحَتْكَ النَّارُ .




১৭০। আবু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি আমার এক গোলামকে প্রহার করছিলাম। আমি আমার পিছন থেকে ডাক শুনলামঃ হে আবু মাসউদ! নিশ্চয় আল্লাহ তোমার উপর, গোলামের উপর তোমার ক্ষমতার চেয়ে অধিক ক্ষমতাবান। আমি ফিরে তাকিয়ে দেখি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর ওয়াস্তে সে আযাদ। তিনি বলেনঃ তুমি যদি তা না করতে তবে দোযখ তোমাকে অবশ্যই স্পর্শ করতো অথবা দোযখ তোমাকে অবশ্যই গ্রাস করতো (মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (171)


حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : لاَ تَقُولُوا : قَبَّحَ اللَّهُ وَجْهَهُ .




১৭১। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা বলো না, ”আল্লাহ তার মুখমণ্ডল বিকৃত করুন” (ইবনে খুযাইমাহ, ইবনে হিব্বান)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (172)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : لاَ تَقُولَنَّ : قَبَّحَ اللَّهُ وَجْهَكَ وَوَجْهَ مَنْ أَشْبَهَ وَجْهَكَ، فَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ خَلَقَ آدَمَ صلى الله عليه وسلم عَلَى صُورَتِهِ .




১৭২। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, অবশ্যই তুমি বলো না, ”আল্লাহ তোমার মুখমণ্ডল এবং তোমার সদৃশ ব্যক্তির মুখমণ্ডল বিকৃত করুন”। আল্লাহ আদম (আবু দাউদ)-কে তাঁর নিজ অবয়বে সৃষ্টি করেছেন (মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (173)


حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ قَالَ : حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلاَنَ قَالَ : أَخْبَرَنِي أَبِي، وَسَعِيدٌ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : إِذَا ضَرَبَ أَحَدُكُمْ خَادِمَهُ فَلْيَجْتَنِبِ الْوَجْهَ .




১৭৩। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ তার খাদেমকে মারধর করলে সে যেন মুখমণ্ডল পরিহার করে (বুখারী, আবু দাউদ, নাসাঈ, আহমাদ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (174)


حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ قَالَ : مَرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِدَابَّةٍ قَدْ وُسِمَ يُدَخِّنُ مَنْخِرَاهُ، قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : لَعَنَ اللَّهُ مَنْ فَعَلَ هَذَا، لاَ يَسِمَنَّ أَحَدٌ الْوَجْهَ وَلاَ يَضْرِبَنَّهُ .




১৭৪। জাবের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি পশুকে অতিক্রম করলেন। এর দুই চিবুকে গরম লোহার দাগ ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে এই কাজ করেছে, আল্লাহ তাকে অভিসম্পাত করুন। কেউ যেন মুখমণ্ডলে দাগ না দেয় এবং তাতে আঘাত না করে (মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, আহমাদ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (175)


حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ : حَدَّثَنَا حُصَيْنٌ قَالَ : سَمِعْتُ هِلاَلَ بْنَ يَسَافٍ يَقُولُ : كُنَّا نَبِيعُ الْبَزَّ فِي دَارِ سُوَيْدِ بْنِ مُقَرِّنٍ، فَخَرَجَتْ جَارِيَةٌ فَقَالَتْ لِرَجُلٍ شَيْئًا، فَلَطَمَهَا ذَلِكَ الرَّجُلُ، فَقَالَ لَهُ سُوَيْدُ بْنُ مُقَرِّنٍ : أَلَطَمْتَ وَجْهَهَا ؟ لَقَدْ رَأَيْتُنِي سَابِعَ سَبْعَةٍ وَمَا لَنَا إِلاَّ خَادِمٌ، فَلَطَمَهَا بَعْضُنَا، فَأَمَرَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُعْتِقُهَا .




১৭৫। হেলাল ইবনে ইয়াসাফ (রহঃ) বলেন, আমরা সুয়াইদ ইবনে মুকাররিন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর বাড়ির সামনে কাপড় বিক্রি করতাম। এক দাসী বের হয়ে এসে এক ব্যক্তিকে কটু কথা বললো। লোকটি তাকে চপেটাঘাত করলো। সুয়াইদ ইবনে মুকাররিন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তুমি কি তার গালে চপেটাঘাত করছো? আমি ছিলাম সাতজনের মধ্যে একজন। আমাদের সাতজনের একজন মাত্র খাদেম ছিল। আমাদের একজন তাকে চপেটাঘাত করলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদেমটিকে আযাদ করে দিতে তাকে নির্দেশ দিলেন (মুসলিম, তিরমিযী)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (176)


حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، وَمُسَدَّدٌ، قَالاَ : حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ فِرَاسٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ زَاذَانَ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ : سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : مَنْ لَطَمَ عَبْدَهُ أَوْ ضَرَبَهُ حَدًّا لَمْ يَأْتِهِ، فَكَفَّارَتُهُ عِتْقُهُ .




১৭৬। ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি নিজ গোলামকে চপেটাঘাত করলো অথবা বিনা অপরাধে হদ্দ-এর শাস্তি দিলো, তার কাফফারা হলো তাকে আযাদ করে দেয়া (মুসলিম, আহমাদ, ইবনে হিব্বান)।