আল-লু’লু’ ওয়াল-মারজান
467 - حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لاَ حَسَدَ إِلاَّ فِي اثْنَتَيْنِ: رَجُلٌ آتَاهُ اللهُ مَالاً فَسُلِّطَ عَلَى هَلَكَتِهِ فِي الْحَقِّ، وَرَجُلٌ آتَاهُ اللهُ الْحِكْمَةَ فَهُوَ يَقْضِي بِهَ
بيان أن القرآن على سبعة أحرف وبيان معناه
467. ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেবল দু’টি বিষয়ে ঈর্ষা করা বৈধ; (1) সে ব্যক্তির উপর, যাকে আল্লাহ্ সম্পদ দিয়েছেন, অতঃপর তাকে বৈধ পন্থায় অকাতরে ব্যয় করার ক্ষমতা দিয়েছেন; (2) সে ব্যক্তির উপর, যাকে আল্লাহ্ তা‘আলা প্রজ্ঞা দান করেছেন, অতঃপর সে তার মাধ্যমে বিচার ফায়সালা করে ও তা অন্যকে শিক্ষা দেয়।
468 - حديث عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعْتُ هِشَامَ بْنَ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ يَقْرَأُ سُورَة الْفُرْقَانِ عَلَى غَيْرِ مَا أَقْرَؤهَا، وَكَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَقْرَأَنِيهَا، وَكِدْتُ أَنْ أَعْجَلَ عَل
468. ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হিশাম ইবনু হাকীম (রাযি.)-কে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায় সূরাহ্ ফুরক্বান তিলাওয়াত করতে শুনেছি এবং গভীর মনোযোগ সহকারে আমি তাঁর কিরাআত শুনেছি। তিনি বিভিন্নভাবে কিরাআত পাঠ করেছেন; অথচ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এভাবে শিক্ষা দেননি। এ কারণে সালাতের মাঝে আমি তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য উদ্যত হয়ে পড়েছিলাম, কিন্তু বড় কষ্টে নিজেকে সামলে নিলাম। অতঃপর সে সালাম ফিরালে আমি চাদর দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে ধরলাম এবং জিজ্ঞেস করলাম, তোমাকে এ সূরাহ্ যেভাবে পাঠ করতে শুনলাম, এভাবে তোমাকে কে শিক্ষা দিয়েছে? সে বলল, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই আমাকে এভাবে শিক্ষা দিয়েছেন। আমি বললাম, তুমি মিথ্যা বলছ। কারণ, তুমি যে পদ্ধতিতে পাঠ করেছ, এর থেকে ভিন্ন পদ্ধতিতে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন।
এরপর আমি তাকে জোর করে টেনে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে নিয়ে গেলাম এবং বললাম, আপনি আমাকে সূরাহ্ ফুরকান যে পদ্ধতিতে পাঠ করতে শিখিয়েছেন এ লোককে আমি এর থেকে ভিন্ন পদ্ধতিতে তা পাঠ করতে শুনেছি। এ কথা শুনে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। হিশাম, তুমি পাঠ করে শোনাও। অতঃপর সে সেভাবেই পাঠ করে শোনাল, যেভাবে আমি তাকে পাঠ করতে শুনেছি। তখন আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এভাবেই নাযিল করা হয়েছে। এরপর বললেন, হে ‘উমার! তুমিও পড়। সুতরাং আমাকে তিনি যেভাবে শিক্ষা দিয়েছেন, সেভাবেই আমি পাঠ করলাম। এবারও রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এভাবেও কুরআন নাযিল করা হয়েছে। এ কুরআন সাত উপ (আঞ্চলিক) ভাষায় নাযিল করা হয়েছে। সুতরাং তোমাদের জন্য যা সহজতর, সে পদ্ধতিতেই তোমরা পাঠ কর।
469 - حديث ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: أَقْرَأَنِي جِبْرِيلُ عَلَى حَرْفٍ فَلَمْ أَزَلْ أَسْتَزِيدُهُ حَتَّى انْتَهَى إِلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ
__________
أخرجه البخاري في: 59 كتاب بدء الخلق: 6 باب ذكر الملا
ترتيل القراءة واجتناب الهذّ وهو الإفراط في السرعة وإباحة سورتين فأكثر في ركعة
469. ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। রসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘জিবরীল (‘আ.) আমাকে এক আঞ্চলিক ভাষায় কুরআন পাঠ করে শুনিয়েছেন। কিন্তু আমি সব সময় তাঁর নিকট বেশি ভাষায় পাঠ শুনতে চাইতাম। শেষতক তা সাতটি আঞ্চলিক ভাষায় সমাপ্ত হয়।
470 - حديث ابْنِ مَسْعُودٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى ابْنِ مَسْعُودٍ، فَقَالَ -[158]- قَرَأْتُ الْمُفَصَّلَ اللَّيْلَةَ في رَكْعَةٍ، فَقَالَ: هَذًّا كَهَذِّ الشِّعْرِ لَقَدْ عَرَفْتُ النَّظَائرَ الَّتِي كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ ع
ما يتعلق بالقراءات
470. আবূ ওয়াইল (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ইবনু মাস‘ঊদ (রাযি.)-এর নিকট এসে বলল, গতরাতে আমি মুফাস্সাল সূরাগুলো এক রাক‘আতেই তিলাওয়াত করেছি। তিনি বললেন, তাহলে নিশ্চয়ই কবিতার ন্যায় দ্রুত পড়েছ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরস্পর সমতুল্য যে সব সূরা মিলিয়ে পড়তেন, সেগুলো সম্পর্কে আমি জানি। এ বলে তিনি মুফাস্সাল সূরাসমূহের বিশটি সূরার কথা উল্লেখ করে বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রাক‘আতে এর দু’টি করে সূরা পড়তেন।
471 - حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ كَانَ يَقْرَأُ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ
__________
أخرجه البخاري في: 65 كتاب التفسير: 54 سورة اقتربت الساعة: 2 باب تجرى بأعيننا
471. ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ পড়তেন।
472 - حديث أَبِي الدَّرْدَاءِ عَنْ إِبْرَاهيمَ، قَالَ: قَدِمَ أَصْحَابُ عَبْدِ اللهِ عَلَى أَبِي الدَّرْدَاءِ فَطَلَبَهُمْ فَوَجَدَهُمْ، فَقَالَ: أَيُّكُمْ يَقْرَأُ قِرَاءَةَ عَبْدِ اللهِ قَالَ: كُلُّنَا؛ قَالَ: فَأَيُّكُمْ أَحْفَظُ فَأَشَارُوا إِلَى عَلْ
الأوقات التي نهى عن الصلاة فيها
472. ইব্রাহীম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাযি.)-এর কতিপয় সাথী আবুদ্ দারদা (রাযি.)-এর কাছে আগমন করলেন। তিনিও তাদেরকে তালাশ করে পেয়ে গেলেন। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাযি.)-এর কিরাআত অনুযায়ী কে কুরআন পাঠ করতে পারে। আলক্বামাহ (রহ) বললেন, আমরা সকলেই। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস কররেন, তোমাদের মধ্যে সবচাইতে ভাল হাফিয কে? সকলেই আলকামার প্রতি ইঙ্গিত করলে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদকে (وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى) কীভাবে পড়তে শুনেছেন? আলকামাহ্ (রহ.) বললেন, আমি তাকে (وَالذَّكَرِ وَالأُنْثَى) (ব্যতীত) পড়তে শুনেছি। এ কথা শুনে আবুদ্ দারদা (রাযি.) বললেন, তোমরা সাক্ষী থাক, আমিও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এভাবেই পড়তে শুনেছি। অথচ এসব (সিরিয়াবাসী) লোকেরা চাচ্ছে, আমি যেন আয়াতটি(وَمَا خَلَقَ الذَّكَرَ وَالأُنْثَى) পড়ি। আল্লাহর কসম! আমি তাদের কথা মানবো না।
473 - حديث عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: شَهِدَ عِنْدِي رِجَالٌ مَرْضِيُّونَ -[159]- وَأَرْضَاهُمْ عِنْدِي عُمَرُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهى عَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى تَشْرُقَ الشَّمْسُ، وَ
473. ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কয়েকজন আস্থাভাজন ব্যক্তি-আমার নিকট যাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন ‘উমার (রাযি.)-আমাকে বলেছেন যে, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের পর সূর্য উজ্জ্বল হয়ে না উঠা পর্যন্ত এবং ‘আসরের পর সূর্য অস্তমিত না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।
474 - حديث أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: لاَ صَلاَةَ بَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى تَرْتَفِعَ الشَّمْسُ، وَلاَ صَلاَةَ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغِيبَ الشَّمْسُ
__________
أخرجه البخاري في: 9
474. আবূ সাঈদ খুদরী (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, ফজরের পর সূর্য উদিত হয়ে (একটু) উপরে না উঠা পর্যন্ত এবং ‘আসরের পর সূর্য অস্তমিত না হওয়া পর্যন্ত কোন সালাত নেই।
475 - حديث ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لاَ تَحَرَّوْا بِصَلاَتِكُمْ طُلُوعَ الشَّمْسِ وَلاَ غُرُوبَهَا
__________
أخرجه البخاري في: 9 كتاب مواقيت الصلاة: 30 باب الصلاة بعد الفجر حتى ترتفع الشمس
475. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় সালাত আদায়ের ইচ্ছা করো না।
476 - حديث ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا طَلَعَ حَاجِبُ الشَّمْسِ فَدَعُوا الصَّلاَةَ حَتَّى تَبْرُزَ، وَإِذَا غَابَ حَاجِبُ الشَّمْسِ فَدَعُوا الصَّلاَةَ حَتَّى تَغِيبَ
__________
أخرجه البخاري في: 59 ك
معرفة الركعتين اللتين كان يصليهما النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بعد العصر
476. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন সূর্যের এক কিনারা উদিত হবে, তখন তা পরিষ্কারভাবে উদিত না হওয়া পর্যন্ত তোমরা সালাত আদায় বন্ধ রাখ। আবার যখন সূর্যের এক কিনারা অস্ত যাবে তখন তা সম্পূর্ণ অস্ত না যাওয়া পর্যন্ত তোমরা সালাত আদায় বন্ধ রাখ।
477 - حديث أُمِّ سَلَمَةَ عَنْ كُرَيْبٍ، أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ، وَالْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ، وَعَبْدَ الرَّحْمنِ بْنَ أَزْهَرَ أَرْسَلُوهُ إِلَى عَائِشَةَ، فَقَالُوا: اقْرأْ عَلَيْهَا السَّلاَمَ مِنَّا جَمِيعًا، وَسَلْهَا عَنِ الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ صَلا
477. কুরাইব (রহ.) হতে বর্ণিত, ইবনু ‘আব্বাস, মিসওয়ার ইবনু মাখরামা এবং আবদুর রহমান ইবনু আযহার (রাযি.) তাঁকে ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর নিকট পাঠালেন এবং বলে দিলেন, তাঁকে আমাদের সকলের তরফ হতে সালাম পৌঁছিয়ে আসরের পরের দু’রাক‘আত সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে। তাঁকে একথাও বলবে যে, আমরা খবর পেয়েছি যে, আপনি সে দু’রাক‘আত আদায় করেন, অথচ আমাদের নিকট পৌঁছেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে দু’রাক‘আত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সংবাদে আরও বললেন যে, আমি ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাযি.)-এর সাথে এ সালাতের কারণে লোকদের মারধোর করতাম।
কুরাইব (রহ.) বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর নিকট গিয়ে তাঁকে তাঁদের পয়গাম পৌঁছিয়ে দিলাম। তিনি বললেন, উম্মু সালামাহ (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস কর। [কুরাইব (রহ.) বলেন] আমি সেখান হতে বের হয়ে তাঁদের নিকট গেলাম এবং তাঁদেরকে ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর কথা জানালাম। তখন তাঁরা আমাকে ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর নিকট যে বিষয় নিয়ে পাঠিয়েছিলেন, তা নিয়ে পুনরায় উম্মু সালামা (রাযি.)-এর নিকট পাঠালেন। উম্মু সালামাহ্ (রাযি.) বললেন, আমিও নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তা নিষেধ করতে শুনেছি। অথচ অতঃপর তাঁকে ‘আসরের সালাতের পর তা আদায় করতেও দেখেছি।
একদা তিনি আসরের সালাতের পর আমার ঘরে তাশরীফ আনলেন। তখন আমার নিকট বনূ হারাম গোত্রের আনসারী কয়েকজন মহিলা উপস্থিত ছিলেন। আমি বাঁদীকে এ বলে তাঁর নিকট পাঠালাম যে, তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে তাঁকে বলবে, উম্মে সালামা (রাযি.) আপনার নিকট জানতে চেয়েছেন, আপনাকে (আসরের পর সালাতের) দু’রাক‘আত নিষেধ করতে শুনেছি; অথচ দেখছি, আপনি তা আদায় করছেন? যদি তিনি হাত দিয়ে ইঙ্গিত করেন, তাহলে পিছনে সরে থাকবে, বাঁদী তা-ই করল। তিনি ইঙ্গিত করলেন, সে পিছনে সরে থাকল। সালাত শেষ করে তিনি বললেন, হে আবূ উমায়্যাহর কন্যা! আসরের পরের দু’রাক‘আত সালাত সম্পর্কে তুমি আমাকে জিজ্ঞেস করেছ। আবদুল কায়স গোত্রের কিছু লোক আমার নিকট এসেছিল। তাদের কারণে যুহরের পরের দু’রাকা‘আত আদায় করা হতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। এ দু’রাক‘আত সে দু’রাক‘আত।
478 - حديث عَائِشَةَ، قَالَتْ: رَكْعَتَانِ لَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَعُهُمَا سِرًّا وَلاَ عَلاَنِيَةً؛ رَكْعَتَانِ قَبْلَ صَلاَةِ الصُّبْحِ، وَرَكْعَتَانِ بَعْدَ الْعَصْرِ
__________
أخرجه البخاري في: 9 كتاب مواقيت ال
استحباب ركعتين قبل صلاة المغرب
478. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, দু’রাক‘আত সালাত আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রকাশ্যে বা গোপনে কোনো অবস্থাতেই ছাড়তেন না। তাহলো ফজরের সালাতের পূর্বের দু’রাক‘আত ও ‘আসরের পরের দু’রাক‘আত।
479 - حديث أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: كَانَ الْمُؤذِّنُ إِذَا أَذَّنَ، قَامَ نَاسٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَبْتَدِرُونَ السَّوَارِيَ حَتَّى يَخْرُجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُمْ كَذلِكَ يُصَلُّون
بين كل أذانين صلاة
479. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুআযযিন যখন আযান দিতো, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণের মধ্যে কয়েকজন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বের হওয়া পর্যন্ত (মসজিদের) খুঁটির নিকট গিয়ে দাঁড়াতেন এবং এ অবস্থায় মাগিরবের পূর্বে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। অথচ মাগরিবের আযান ও ইকামাতের মধ্যে কিছু (সময়) থাকত না। উসমান ইবনু জাবালাহ ও আবূ দাঊদ (রহ.) শু‘বা (রহ.) হতে বর্ণনা করেন যে, এ দু’য়ের মধ্যবর্তী ব্যবধান খুবই সামান্য হত।
480 - حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ مُغَفَّلٍ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: بَيْنَ كلِّ أَذَانَيْنِ صَلاَةٌ، بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلاَةٌ ثُمَّ قَالَ فِي الثَّالِثَةِ: لِمَنْ شَاءَ
__________
أخرجه البخاري في: 10 كتاب الأذان: 16
صلاة الخوف
480. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মুগাফফাল মুযানী (রাযি.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক আযান ও ইকামতের মধ্যে সালাত রয়েছে। একথা তিনি তিনবার বলেন, (তারপর বলেন) যে চায় তার জন্য।
481 - حديث ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى بِإِحْدَى الطَّائِفَتَيْنِ، وَالطَّائِفَةُ الأُخْرَى مُوَاجِهَةَ الْعَدُوِّ، ثُمَّ انْصَرَفُوا، فَقَامُوا فِي مَقَامِ أَصْحَابِهِمْ، فَجَاءَ أُولئِكَ فَصَلَّى بِهِمْ رَك
481. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল সাথে নিয়ে সালাত আদায় করেছেন। অন্যদরকে রেখেছেন শত্রুর মুকাবিলায়। তারপর সালাতরত দলটি এক রাক‘আত আদায় করে শত্রুর মুকাবিলায় নিজ সাথীদের স্থানে চলে গেলেন। অতঃপর অন্য দলটি আসলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে নিয়ে এক রাক‘আত সালাত আদায় করে সালাম ফিরালেন। এরপর তাঁরা তাদের বাকী আরেক রাক‘আত আদায় করলেন এবং শত্রুর মুকাবিলায় গিয়ে দাঁড়ালেন। এবার আগের দলটি এসে তাদের বাকী রাক‘আতটি পূর্ণ করলেন।
482 - حديث سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، قَالَ: يَقُومُ الإِمَامُ مُسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةِ، وَطَائِفَةٌ مِنْهُمْ مَعَهُ، وَطَائِفَةٌ مِنْ قِبَلِ الْعَدُوِّ، وُجُوهُهُمْ إِلَى الْعَدُوِّ، فَيُصَلِّي بِالَّذِينَ مَعَهُ رَكْعَةً، ثُمَّ يَقُومُونَ فَيَرْكَعُونَ
482. সাহল ইবনু আবূ হাসমাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (সালাতুল খাওফে) ইমাম কেবলামুখী হয়ে দাঁড়াবেন। একদল থাকবেন তাঁর সাথে এবং অন্যদল শত্রুদের মুখোমুখী হয়ে তাদের মুকাবিলায় দাঁড়িয়ে থাকবেন। তখন ইমাম তাঁর পেছনের একদল নিয়ে এক রাক‘আত সালাত আদায় করবেন। এরপর সালাতরত দলটি নিজ স্থানে দাঁড়িয়ে রুকূ ও দু’ সাজদাসহ আরো এক রাক‘আত সালাত আদায় করে ঐ দলের স্থানে গিয়ে দাঁড়াবেন। এরপর তারা এলে ইমাম তাদের নিয়ে এক রাক‘আত সালাত আদায় করবেন। এভাবে ইমামের দু’রাক‘আত সালাত পূর্ণ হয়ে যাবে। আর পিছনের লোকেরা রুকূ‘ সাজদাসহ আরো এক রাক‘আত সালাত আদায় করবেন।
483 - حديث خَوَّاتِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ صَالِحِ بْنِ خَوَّاتٍ عَمَّنْ شَهِدَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ ذَاتِ الرِّقَاعِ صَلَّى صَلاَةَ الْخَوْفِ؛ أَنَّ طَائِفَةً صَفَّتْ مَعَهُ، وَطَائِفَةٌ وُجَاهَ الْعَدُوِّ، فَصَلَّى -[162]-
483. সলিহ ইবনু খাওয়াত (রাযি.) এমন একজন সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন যিনি যাতুর রিকার যুদ্ধে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাতুল খাওফ আদায় করেছেন। তিনি বলেছেন, একদল লোক রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে কাতারে দাঁড়ালেন এবং অপর দলটি থাকলেন শত্রুর সম্মুখীন। এরপর তিনি তার সাথে দাঁড়ানো দলটি নিয়ে এক রাক‘আত সালাত আদায় করে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেন। মুক্তাদীগণ তাদের সালাত পূর্ণ করে ফিরে গেলেন এবং শত্রুর সম্মুখে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালেন। এরপর দ্বিতীয় দলটি এলে তিনি তাদেরকে নিয়ে অবশিষ্ট রাক‘আত আদায় করে স্থির হয়ে বসে থাকলেন। এরপর মুক্তাদীগণ তাদের নিজেদের সালাত সম্পূর্ণ করলে তিনি তাদেরকে নিয়ে সালাম ফিরালেন।
484 - حديث جَابِرٍ، قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِذَاتِ الرِّقَاعِ، فَإِذَا أَتَيْنَا عَلَى شَجَرَةٍ ظَلِيلَةٍ تَرَكْنَاهَا لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَجَاءَ رَجُلٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ وَسَيْفُ النّ
كتاب الجمعة
484. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, যাতুর রিকার যুদ্ধে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। আমরা একটি ছায়াদার বৃক্ষের কাছে গিয়ে পৌছলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য আমরা তা ছেড়ে দিলাম। এমন সময় এক মুশরিক ব্যক্তি এসে গাছের সাথে লটকানো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তরবারীখানা হাতে নিয়ে তা তার উপর উঁচিয়ে ধরে বলল, তুমি আমাকে ভয় পাও কি? তিনি বললেন, না। এরপর সে বলল, এখন তোমাকে আমার হাত থেকে রক্ষা করবে কে? তিনি বললেন, আল্লাহ। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ তাকে ধমক দিলেন। এরপর সালাত আরম্ভ হলে তিনি সাহাবীদের একটি দলকে নিয়ে দু’ক’আত সালাত আদায় করলেন। তারা এখান থেকে সরে গেলে অপর দলটি নিয়ে তিনি আরো দুরাকাআত নামায আদায় করলেন। এভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হল চার রাকত এবং সাহাবীদের হল দু' রাকআত সালাত।
485 - حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: إِذَا جَاءَ أَحَدُكمُ الْجُمُعَةَ فَلْيَغْتَسِلْ
__________
أخرجه البخاري في: 11 كتاب الجمعة: 2 باب فضل الغسل يوم الجمعة
485. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ জুমু‘আহ’র সালাতে আসলে (তার পূর্বে) সে যেন গোসল করে।
486 - حديث عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ بَيْنَمَا هُوَ قَائمٌ فِي الْخُطْبَةِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِذْ دَخَلَ رَجُلٌ مِنَ الْمُهَاجِرينَ الأَوَّلَينَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ف
وجوب غسل الجمعة على كل بالغ من الرجال وبيان ما أمروا به
486. ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত, ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাযি.) জুমু‘আহ’র দিন দাঁড়িয়ে খুত্বা দিচ্ছিলেন, এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রথম যুগের একজন মুহাজির সাহাবী এলেন। ‘উমার (রাযি.) তাঁকে ডেকে বললেন, এখন সময় কত? তিনি বললেন, আমি ব্যস্ত ছিলাম, তাই ঘরে ফিরে আসতে পারিনি। এমন সময় আযান শুনতে পেয়ে শুধু উযূ করে নিলাম। ‘উমার (রাযি.) বললেন, কেবল উযূই? অথচ আপনি জানেন যে, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসলের আদেশ দিতেন।