সহীহ মুসলিম
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا مَنْصُورٌ، عَنِ هِلاَلِ بْنِ يَسَافٍ، عَنْ رَبِيعِ بْنِ عُمَيْلَةَ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم "أَحَبُّ الْكَلاَمِ إِلَى اللَّهِ أَرْبَعٌ سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ . لاَ يَضُرُّكَ بَأَيِّهِنَّ بَدَأْتَ. وَلاَ تُسَمِّيَنَّ غُلاَمَكَ يَسَارًا وَلاَ رَبَاحًا وَلاَ نَجِيحًا وَلاَ أَفْلَحَ فَإِنَّكَ تَقُولُ أَثَمَّ هُوَ فَلاَ يَكُونُ فَيَقُولُ لاَ ." إِنَّمَا هُنَّ أَرْبَعٌ فَلاَ تَزِيدُنَّ عَلَىَّ .
৫৪৯৪-(১২/২১৩৭) আহমাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... সামুরাহ ইবনু জুনদাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর নিকট বেশি পছন্দনীয় কালাম চারটি। سُبْحَانَ اللَّهِআল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি,وَالْحَمْدُ لِلَّهِ যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর,وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ (এক) আল্লাহ ছাড়া আর উপাস্য নেই এবংوَاللَّهُ أَكْبَرُ আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। এগুলোর যে কোন শব্দ দ্বারা তুমি আরম্ভ কর, এতে তোমার কোন ক্ষতি নেই এবং কক্ষনো তোমার ক্রীতদাসের নাম ইয়াসার, রাবাহ, নাজীহ ও আফলাহ রাখবে না। কেননা, তুমি হয়তো বা ডাকবে- ওখানে সে আছে কি? আর সে (তখন) সেখানে নাও থাকতে পারে। তখন কেউ বলবে না এখানে নেই। (এ জবাবে কু-ধারণা তৈরি হতে পারে)।
(বর্ণনাকারী বলেন), নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল এ চারটি নাম বলেছেন। অতঃপর কেউ যেন আমার চাইতে অধিক সংযোজন না করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৪১৬, ইসলামিক সেন্টার ৫৪৩৮)
وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنِي جَرِيرٌ، ح وَحَدَّثَنِي أُمَيَّةُ بْنُ بِسْطَامٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا رَوْحٌ، - وَهْوَ ابْنُ الْقَاسِمِ - ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، كُلُّهُمْ عَنْ مَنْصُورٍ، بِإِسْنَادِ زُهَيْرٍ . فَأَمَّا حَدِيثُ جَرِيرٍ وَرَوْحٍ فَكَمِثْلِ حَدِيثِ زُهَيْرٍ بِقِصَّتِهِ . وَأَمَّا حَدِيثُ شُعْبَةَ فَلَيْسَ فِيهِ إِلاَّ ذِكْرُ تَسْمِيَةِ الْغُلاَمِ وَلَمْ يَذْكُرِ الْكَلاَمَ الأَرْبَعَ .
৫৪৯৫-(.../...) ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, উমাইয়াহ ইবনু বিসতাম, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) মানসূর (রহঃ) হতে যুহায়র (রহঃ) এর সানাদানুসারে হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু জারীর (রহঃ) ও রাওহ্ (রহঃ) উল্লিখিত হাদীস যুহায়র (রহঃ) বর্ণিত সম্পূর্ণ ঘটনার বর্ণনা সম্বলিত হাদীসের অবিকল। তবে শু'বাহ (রহঃ) এর হাদীসে শুধু সন্তানের নাম রাখার কথা বর্ণনা আছে। তিনি أربع (চার-এর) কথাটি বর্ণনা করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৪১৭, ইসলামিক সেন্টার ৫৪৩৯)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي خَلَفٍ، حَدَّثَنَا رَوْحٌ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ أَرَادَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَنْهَى عَنْ أَنْ يُسَمَّى بِيَعْلَى وَبِبَرَكَةَ وَبِأَفْلَحَ وَبِيَسَارٍ وَبِنَافِعٍ وَبِنَحْوِ ذَلِكَ ثُمَّ رَأَيْتُهُ سَكَتَ بَعْدُ عَنْهَا فَلَمْ يَقُلْ شَيْئًا ثُمَّ قُبِضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَنْهَ عَنْ ذَلِكَ ثُمَّ أَرَادَ عُمَرُ أَنْ يَنْهَى عَنْ ذَلِكَ ثُمَّ تَرَكَهُ .
৫৪৯৬-(১৩/২১৩৮) মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ ইবনু আবূ খালাফ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়া'লা, বারাকাহ, আফলাহ, ইয়াসার ও নাফি' ইত্যাদি এ রকম নাম রাখা বারণ করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। অতঃপর তাকে আমি লক্ষ্য করলাম যে, এ ব্যাপারে তিনি নিশ্চুপ রইলেন, কিছু বললেন না। তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে উঠিয়ে নেয়া হলো এবং তিনি তা (শক্তভাবে) বারণ করেননি। পরে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তা বারণ করার ইচ্ছা পোষণ করলেন, তারপর তিনিও তা পরিত্যাগ করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৪১৮, ইসলামিক সেন্টার ৫৪৪০)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ قَالُوا حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَيَّرَ اسْمَ عَاصِيَةَ وَقَالَ " أَنْتِ جَمِيلَةُ " . قَالَ أَحْمَدُ مَكَانَ أَخْبَرَنِي عَنْ .
৫৪৯৭-১৪/২১৩৯) আহমাদ ইবনু হাম্বাল, যুহায়র ইবনু হারব, মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না, উবাইদুল্লাহ ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামعَاصِيَةَ (অমান্যকারী) এর নাম পরিবর্তন করে দিলেন এবং বললেন, তুমিجَمِيلَةُ (সুন্দরী)।
বর্ণনাকারী আহমাদ (রহঃ) এর সানাদেأَخْبَرَنِي এর স্থানেعَنْ দিয়ে উল্লেখ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৪১৯, ইসলামিক সেন্টার ৫৪৪১)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ ابْنَةً لِعُمَرَ، كَانَتْ يُقَالُ لَهَا عَاصِيَةُ فَسَمَّاهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَمِيلَةَ .
৫৪৯৮-১৫/...) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ... ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত যে, উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর এক মেয়েকেعَاصِيَةُ (আসিয়াহ) নামে ডাকা হত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম রাখলেন, 'জামীলাহ্'। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৪২০, ইসলামিক সেন্টার ৫৪৪২)
حَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، - وَاللَّفْظُ لِعَمْرٍو - قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، مَوْلَى آلِ طَلْحَةَ عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَتْ جُوَيْرِيَةُ اسْمُهَا بَرَّةَ فَحَوَّلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اسْمَهَا جُوَيْرِيَةَ وَكَانَ يَكْرَهُ أَنْ يُقَالَ خَرَجَ مِنْ عِنْدِ بَرَّةَ . وَفِي حَدِيثِ ابْنِ أَبِي عُمَرَ عَنْ كُرَيْبٍ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ .
৫৪৯৯-(১৬/২১৪০) 'আমর আন নাকিদ ও ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (উম্মুল মু'মিনীন) জুওয়াইরিয়াহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর আসল নাম ছিল বাররাহ্ (পুণ্যবতী) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম পরিবর্তন করে রাখলেন জুওয়াইরিয়াহ্ (স্নেহময়ী কিশোরী)। কেননা বাররাহ (পুণ্যবতী) এর নিকট হতে বের হয়ে এসেছেন- এমন বাক্য তিনি পছন্দ করতেন না। ইবনু আবূ উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর হাদিসে কুরায়ব (রহঃ) সূত্রেعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ এর স্থানে سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৪২১, ইসলামিক সেন্টার ৫৪৪৩)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ، سَمِعْتُ أَبَا رَافِعٍ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي، هُرَيْرَةَ ح وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ زَيْنَبَ، كَانَ اسْمُهَا بَرَّةَ فَقِيلَ تُزَكِّي نَفْسَهَا . فَسَمَّاهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم زَيْنَبَ . وَلَفْظُ الْحَدِيثِ لِهَؤُلاَءِ دُونَ ابْنِ بَشَّارٍ . وَقَالَ ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ شُعْبَةَ .
৫৫০০-(১৭/২১৪১) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার ও উবাইদুল্লাহ ইবনু মু'আয (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত যে, যাইনাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর আসল নাম ছিল বাররাহ্'। তাই বলা হলো, তিনি আত্মশুদ্ধি করেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নামকরণ করলেন যাইনাব।
ইবনু বাশশার ছাড়া উপরোল্লিখিত রাবীদের বর্ণিত হাদীসের হুবহু শব্দ বর্ণিত হয়েছে। তবে ইবনু আবী শাইবাহحَدَّثَنَا شُعْبَةُ এর স্থলেعَنْ شُعْبَةَ বলেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৪২২, ইসলামিক সেন্টার ৫৪৪৪)
حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، قَالاَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ كَثِيرٍ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، حَدَّثَتْنِي زَيْنَبُ، بِنْتُ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ كَانَ اسْمِي بَرَّةَ فَسَمَّانِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم زَيْنَبَ . قَالَتْ وَدَخَلَتْ عَلَيْهِ زَيْنَبُ بِنْتُ جَحْشٍ وَاسْمُهَا بَرَّةُ فَسَمَّاهَا زَيْنَبَ .
৫৫০১-(১৮/২১৪২) ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... যাইনাব বিনতু উম্মু সালামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, পূর্বে আমার নাম বাররাহ ছিল। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নাম রাখলেন 'যাইনাব'।
তিনি বলেন, যাইনাব বিনতু জাহশ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর) নিকট আসলো। তার (ও) নাম ছিল বাররাহ তার নামও তিনি 'যাইনাব' রেখে দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৪২৩, ইসলামিক সেন্টার ৫৪৪৫)
حَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، قَالَ سَمَّيْتُ ابْنَتِي بَرَّةَ فَقَالَتْ لِي زَيْنَبُ بِنْتُ أَبِي سَلَمَةَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ هَذَا الاِسْمِ وَسُمِّيتُ بَرَّةَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تُزَكُّوا أَنْفُسَكُمُ اللَّهُ أَعْلَمُ بِأَهْلِ الْبِرِّ مِنْكُمْ " . فَقَالُوا بِمَ نُسَمِّيهَا قَالَ " سَمُّوهَا زَيْنَبَ " .
৫৫০২-(১৯/...) 'আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... মুহাম্মাদ ইবনু আমর ইবনু আতা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কন্যার নাম রাখলাম বাররাহ। সে সময় যাইনাব বিনতু আবূ সালামাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে বললেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ নাম রাখতে বারণ করেছেন। আমার নাম বাররাহ্- (পুণ্যবতী) রাখা হয়েছিল। তাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা স্বয়ং আত্মা পরিশুদ্ধ বলে দাবি করো না। আল্লাহ তা'আলাই অধিকতর জানেন তোমাদের মাঝে পুণ্যবানদের সম্পর্কে। অতঃপর তারা বলল, তবে আমরা তার কি নামকরণ করবো? তিনি বললেন, তার নাম রাখো যাইনাব'। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৪২৪, ইসলামিক সেন্টার ৫৪৪৬)
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَمْرٍو الأَشْعَثِيُّ، وَأَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ - وَاللَّفْظُ لأَحْمَدَ - قَالَ الأَشْعَثِيُّ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ أَخْنَعَ اسْمٍ عِنْدَ اللَّهِ رَجُلٌ تَسَمَّى مَلِكَ الأَمْلاَكِ " . زَادَ ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ فِي رِوَايَتِهِ " لاَ مَالِكَ إِلاَّ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ " . قَالَ الأَشْعَثِيُّ قَالَ سُفْيَانُ مِثْلُ شَاهَانْ شَاهْ . وَقَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ سَأَلْتُ أَبَا عَمْرٍو عَنْ أَخْنَعَ فَقَالَ أَوْضَعَ .
৫৫০৩-(২০/২১৪৩) সাঈদ ইবনু আমর আশ'আসী, আহমাদ ইবনু হাম্বাল ও আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর তা'আলার নিকট অধিকতর ঘৃণিত নাম ঐ লোকের, যার নাম 'মালিকুল আমলাক'- (বাদশার বাদশাহ) রাখা হয়। ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) তার বর্ণিত হাদীসে বেশি বর্ণনা করেছেন- "আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে অন্য কোন মালিকা অধিপতি" নেই"।
আশ'আসী (রহঃ) বলেন, বর্ণনাকারী সুফইয়ান (রহঃ) বলেছেন, এ শব্দ (ফারসী ভাষায়) শাহান শাহ-এর অবিকল। আর আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রহঃ) বলেন, আমি আবূ আমর (রহঃ) কেأَخْنَعَ এর অর্থ জানতে চাইলে তিনি বলেন,أَوْضَعَ চরম নিকৃষ্ট। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৪২৫, ইসলামিক সেন্টার ৫৪৪৭)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَغْيَظُ رَجُلٍ عَلَى اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَخْبَثُهُ وَأَغْيَظُهُ عَلَيْهِ رَجُلٌ كَانَ يُسَمَّى مَلِكَ الأَمْلاَكِ لاَ مَلِكَ إِلاَّ اللَّهُ " .
৫৫০৪-(২১/....) মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এগুলো আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। তারপর তিনি কিছু হাদীস বর্ণনা করলেন। তন্মধ্যে অন্যতম একটি হলো, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলার নিকটে সবচেয়ে রাগের কারণ, সবচেয়ে ঘৃণিত, অধিকতর ক্ষিপ্রতার সম্মুখীন হবে সে লোক যার নাম রাখা হয়েছে 'মালিকুল আমলাক' (রাজাধিরাজ সম্রাট), আল্লাহ ছাড়া অন্য আর কেউ মালিক (সম্রাট) নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৪২৬, ইসলামিক সেন্টার ৫৪৪৮)
حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ، بْنِ مَالِكٍ قَالَ ذَهَبْتُ بِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ الأَنْصَارِيِّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ وُلِدَ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي عَبَاءَةٍ يَهْنَأُ بَعِيرًا لَهُ فَقَالَ " هَلْ مَعَكَ تَمْرٌ " . فَقُلْتُ نَعَمْ . فَنَاوَلْتُهُ تَمَرَاتٍ فَأَلْقَاهُنَّ فِي فِيهِ فَلاَكَهُنَّ ثُمَّ فَغَرَ فَا الصَّبِيِّ فَمَجَّهُ فِي فِيهِ فَجَعَلَ الصَّبِيُّ يَتَلَمَّظُهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " حُبُّ الأَنْصَارِ التَّمْرَ " . وَسَمَّاهُ عَبْدَ اللَّهِ .
৫৫০৫-(২২/২১৪৪) আবদুল আ'লা ইবনু হাম্মাদ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু আবূ তালহাহ্ আনসারী এর জন্মকালে আমি তাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে নিয়ে গেলাম। সে সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় গায়ে একটি আলখাল্লা জড়িয়ে তার উটের গায়ে তৈল মালিশ করছিলেন। তিনি প্রশ্ন করলেন, তোমার সাথে খেজুর আছে কি? আমি বললাম, হ্যাঁ। তারপর আমি তার হাতে কয়েকটি খেজুর দিলাম। তিনি তার মুখে জড়িয়ে দিয়ে চিবালেন। তারপর শিশুটির মুখ ফাঁক করে তার মুখের ভিতরে দিলেন। শিশুটি তা চুষতে লাগল। সে সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ 'আনসারীদের খেজুরের প্রতি ভালবাসা' এবং তিনি তার নাম রাখলেন, 'আবদুল্লাহ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৪২৭, ইসলামিক সেন্টার ৫৪৪৯)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا ابْنُ عَوْنٍ، عَنِ ابْنِ، سِيرِينَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ ابْنٌ لأَبِي طَلْحَةَ يَشْتَكِي فَخَرَجَ أَبُو طَلْحَةَ فَقُبِضَ الصَّبِيُّ فَلَمَّا رَجَعَ أَبُو طَلْحَةَ قَالَ مَا فَعَلَ ابْنِي قَالَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ هُوَ أَسْكَنُ مِمَّا كَانَ . فَقَرَّبَتْ إِلَيْهِ الْعَشَاءَ فَتَعَشَّى ثُمَّ أَصَابَ مِنْهَا فَلَمَّا فَرَغَ قَالَتْ وَارُوا الصَّبِيَّ . فَلَمَّا أَصْبَحَ أَبُو طَلْحَةَ أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ فَقَالَ " أَعْرَسْتُمُ اللَّيْلَةَ " . قَالَ نَعَمْ قَالَ " اللَّهُمَّ بَارِكْ لَهُمَا " . فَوَلَدَتْ غُلاَمًا فَقَالَ لِي أَبُو طَلْحَةَ احْمِلْهُ حَتَّى تَأْتِيَ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم . فَأَتَى بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَبَعَثَتْ مَعَهُ بِتَمَرَاتٍ فَأَخَذَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَمَعَهُ شَىْءٌ " . قَالُوا نَعَمْ تَمَرَاتٌ . فَأَخَذَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَمَضَغَهَا ثُمَّ أَخَذَهَا مِنْ فِيهِ فَجَعَلَهَا فِي فِي الصَّبِيِّ ثُمَّ حَنَّكَهُ وَسَمَّاهُ عَبْدَ اللَّهِ .
৫৫০৬-(২৩/....) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ তালহাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর এক পুত্র সন্তান রোগগ্রস্ত ছিল। (একদিন) আবূ তালহাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) (তার কর্মে) বের হলো এদিকে তার বাচ্চাটি মারা যায়। যখন আবূ তালহাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ফিরে আসলেন, তিনি (স্ত্রীকে) প্রশ্ন করলেন, আমার সন্তান কী করছে? (স্ত্রী) উম্মু সুলায়ম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, সে পূর্বের চেয়ে অধিকতর শান্ত। তারপর তিনি তাকে রাতের খাদ্য দিলেন, তিনি তা খেলেন, তারপর তার সাথে মিলিত হলেন। তারপর তিনি অবসর হলে উম্মু সুলায়ম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, শিশুটিকে দাফন করে এসো। যখন সকাল হলো আবূ তালহাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে এসে তাকে (সব) ঘটনা অবহিত করলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি গতরাতে মিলিত হয়েছো? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি (দু'আ করে) বললেন, হে আল্লাহ তাদের দু'জনের জন্যে বারাকাত দিন।
তারপর তার স্ত্রী একটি সন্তান প্রসব করলেন। সে সময় আবূ তালহাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে বললেন, তাকে (কোলে) তুলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে নিয়ে যাও। তাকে নিয়ে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলেন। উম্মু সুলায়ম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার সঙ্গে কতক খেজুরও দিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে (শিশুটিকে) কোলে নেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, তার সাথে কিছু আছে কি? তারা বললো, হ্যাঁ, কয়েকটি খেজুর। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেগুলো বের করলেন ও চিবালেন। তারপর তা তার মুখ হতে নিলেন এবং বাচ্চাটির মুখের মধ্যে দিলেন। এরপর তাকে তাহনীক করে তার জন্যে দু'আ করলেন এবং তার নাম রাখলেন 'আবদুল্লাহ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৪২৮, ইসলামিক সেন্টার ৫৪৫০)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ مَسْعَدَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَنَسٍ، بِهَذِهِ الْقِصَّةِ نَحْوَ حَدِيثِ يَزِيدَ .
৫৫০৭-(.../...) মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে এ ঘটনা সহকারে রাবী ইয়াযীদ (রহঃ) এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৪২৯, ইসলামিক সেন্টার ৫৪৫১)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَرَّادٍ الأَشْعَرِيُّ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالُوا حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بُرَيْدٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ وُلِدَ لِي غُلاَمٌ فَأَتَيْتُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَسَمَّاهُ إِبْرَاهِيمَ وَحَنَّكَهُ بِتَمْرَةٍ .
৫৫০৮-(২৪/২১৪৫) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, 'আবদুল্লাহ ইবনু বাররাদ আশ'আরী ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ মূসা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার একটি পুত্র সস্তান ভূমিষ্ঠ হলে আমি তাকে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে উপস্থিত হলাম। তিনি তার নাম রাখলেন ইবরাহীম এবং একটি খেজুর চিবিয়ে তার মুখে দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৪৩০, ইসলামিক সেন্টার ৫৪৫২)
حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ مُوسَى أَبُو صَالِحٍ، حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْحَاقَ - أَخْبَرَنِي هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، حَدَّثَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، وَفَاطِمَةُ بِنْتُ الْمُنْذِرِ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّهُمَا قَالاَ خَرَجَتْ أَسْمَاءُ بِنْتُ أَبِي بَكْرٍ حِينَ هَاجَرَتْ وَهِيَ حُبْلَى بِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ فَقَدِمَتْ قُبَاءً فَنُفِسَتْ بِعَبْدِ اللَّهِ بِقُبَاءٍ ثُمَّ خَرَجَتْ حِينَ نُفِسَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِيُحَنِّكَهُ فَأَخَذَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْهَا فَوَضَعَهُ فِي حَجْرِهِ ثُمَّ دَعَا بِتَمْرَةٍ قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ فَمَكَثْنَا سَاعَةً نَلْتَمِسُهَا قَبْلَ أَنْ نَجِدَهَا فَمَضَغَهَا ثُمَّ بَصَقَهَا فِي فِيهِ فَإِنَّ أَوَّلَ شَىْءٍ دَخَلَ بَطْنَهُ لَرِيقُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَتْ أَسْمَاءُ ثُمَّ مَسَحَهُ وَصَلَّى عَلَيْهِ وَسَمَّاهُ عَبْدَ اللَّهِ ثُمَّ جَاءَ وَهُوَ ابْنُ سَبْعِ سِنِينَ أَوْ ثَمَانٍ لِيُبَايِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَمَرَهُ بِذَلِكَ الزُّبَيْرُ فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ رَآهُ مُقْبِلاً إِلَيْهِ ثُمَّ بَايَعَهُ .
৫৫০৯-(২৫/২১৪৬) হাকাম ইবনু মূসা আবূ সালিহ্ (রহঃ) ..... উরওয়াহ্ ইবনু যুবায়র ও ফাতিমাহ বিনতু মুনযির ইবনু যুবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিত। তারা বলেন, আসমা বিনতু আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) যে সময় হিজরাত করলেন, সে সময় তিনি 'আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে পেটে ধারণ করছিলেন। কুবায় পৌছলে তিনি 'আবদুল্লাহকে প্রসব করলেন। তারপর প্রসবের পর তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে গেলেন যাতে তিনি তাকে (নবজাতককে) খেজুর চিবিয়ে বারাকাত দেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাচ্চাটিকে তার নিকট হতে নিয়ে নিজের কোলে রাখলেন। এরপর একটি খেজুর নিয়ে আসলেন। বর্ণনাকারী বলেন, 'আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তা পাওয়ার আগ পর্যন্ত খুঁজে যোগাড় করতে আমাদের কিছু সময় দেরী হলো।
তারপর তিনি তা চিবিয়ে নিজ মুখে থেকে তার মুখের ভিতরে দিলেন। অতএব তার পেটে প্রথম যা ঢুকল তা ছিল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর লালা। আসমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আরও বলেছেন, তারপর তিনি তাকে হাত বুলিয়ে দিলেন এবং তার জন্য দু'আ করলেন, আর তার নাম রাখলেন আবদুল্লাহ। তারপর সাত কিংবা আট বছর বয়সে সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে বাই'আত হওয়ার জন্য এলো। (পিতা) যুবায়র (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাকে তা করার উপদেশ দিয়েছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এগিয়ে আসতে দেখে মুচকি হাসলেন। এরপর তাকে বাই'আত করে নিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৪৩১, ইসলামিক সেন্টার ৫৪৫৩)
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَسْمَاءَ، أَنَّهَا حَمَلَتْ بِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ بِمَكَّةَ قَالَتْ فَخَرَجْتُ وَأَنَا مُتِمٌّ، فَأَتَيْتُ الْمَدِينَةَ فَنَزَلْتُ بِقُبَاءٍ فَوَلَدْتُهُ بِقُبَاءٍ ثُمَّ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَوَضَعَهُ فِي حَجْرِهِ ثُمَّ دَعَا بِتَمْرَةٍ فَمَضَغَهَا ثُمَّ تَفَلَ فِي فِيهِ فَكَانَ أَوَّلَ شَىْءٍ دَخَلَ جَوْفَهُ رِيقُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ حَنَّكَهُ بِالتَّمْرَةِ ثُمَّ دَعَا لَهُ وَبَرَّكَ عَلَيْهِ وَكَانَ أَوَّلَ مَوْلُودٍ وُلِدَ فِي الإِسْلاَمِ .
৫৫১০-(২৬/...) আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনু 'আলা (রহঃ) ..... আসমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত যে, তিনি মাক্কায় (থাকাকালে) আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে গর্ভে ধারণ করেন। তিনি বলেন, আমি (মাক্কাহ থেকে মাদীনায় (হিজরাতের উদ্দেশে) বের হলাম। সে সময় আমার গর্ভকাল পূর্ণ হয়ে আসছে। আমি মদীনায় এসে কুবায় গমন করলাম এবং কুবায় তাকে প্রসব করলাম। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমাতে গেলাম। তিনি তাকে (নবজাতককে) তার কোলে রাখলেন, এরপর একটি খেজুর আনিয়ে তা চিবালেন, অতঃপর তার মুখ থেকে লালাসহ তার (বাচ্চাটির) মুখে দিলেন। অতএব রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর লালাই ছিল প্রথম খাদ্য, যা তার পেটে ঢুকলো। অতঃপর খেজুর চিবিয়ে তার মুখে দেয়ার পর তার জন্য দু'আ করলেন এবং তাকে বারাকাত (এর দু'আ) দিলেন। এ সন্তানই ছিল (মাদীনায়) হিজরাতের পর ইসলামের প্রথম নবজাতক। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৪৩২, ইসলামিক সেন্টার ৫৪৫৪)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُسْهِرٍ، عَنْ هِشَامِ، بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّهَا هَاجَرَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهِيَ حُبْلَى بِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ . فَذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ أَبِي أُسَامَةَ .
৫৫১১-(..../....) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আসমা বিনতু আবূ বাকর সিদ্দীক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে গর্ভে ধারণ করে হিজরাত করে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে পৌছলেন। অতঃপর উসামাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর হাদীসের অবিকল উল্লেখ করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৪৩৩, ইসলামিক সেন্টার ৫৪৫৫)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، - يَعْنِي ابْنَ عُرْوَةَ - عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُؤْتَى بِالصِّبْيَانِ فَيُبَرِّكُ عَلَيْهِمْ وَيُحَنِّكُهُمْ .
৫৫১২-(২৭/২১৪৭) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে (নবজাতক) সন্তানদের নিয়ে আসা হত। তাদের জন্য তিনি বারাকাতের দু'আ করতেন এবং খেজুর চিবিয়ে তাদের মুখে দিতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৪৩৪, ইসলামিক সেন্টার ৫৪৫৬)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ جِئْنَا بِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يُحَنِّكُهُ فَطَلَبْنَا تَمْرَةً فَعَزَّ عَلَيْنَا طَلَبُهَا .
৫৫১৩-(২৮/২১৪৮) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়রকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে (নবজাতক) নিয়ে আসলাম তাকে তাহনীক করার জন্য। অতঃপর আমরা একটি খেজুর চাইলাম। তবে তা সংগ্রহ করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়লো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৪৩৫, ইসলামিক সেন্টার ৫৪৫৭)