হাদীস বিএন


সহীহ মুসলিম





সহীহ মুসলিম (3614)


وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، وَحَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، - وَتَقَارَبَا فِي اللَّفْظِ - قَالَ حَرْمَلَةُ حَدَّثَنَا وَقَالَ أَبُو الطَّاهِرِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، - حَدَّثَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ أَبَاهُ، كَتَبَ إِلَى عُمَرَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَرْقَمِ الزُّهْرِيِّ يَأْمُرُهُ أَنْ يَدْخُلَ، عَلَى سُبَيْعَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ الأَسْلَمِيَّةِ فَيَسْأَلَهَا عَنْ حَدِيثِهَا وَعَمَّا قَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ اسْتَفْتَتْهُ فَكَتَبَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ يُخْبِرُهُ أَنَّ سُبَيْعَةَ أَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا كَانَتْ تَحْتَ سَعْدِ ابْنِ خَوْلَةَ وَهُوَ فِي بَنِي عَامِرِ بْنِ لُؤَىٍّ وَكَانَ مِمَّنْ شَهِدَ بَدْرًا فَتُوُفِّيَ عَنْهَا فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ وَهْىَ حَامِلٌ فَلَمْ تَنْشَبْ أَنْ وَضَعَتْ حَمْلَهَا بَعْدَ وَفَاتِهِ فَلَمَّا تَعَلَّتْ مِنْ نِفَاسِهَا تَجَمَّلَتْ لِلْخُطَّابِ فَدَخَلَ عَلَيْهَا أَبُو السَّنَابِلِ بْنُ بَعْكَكٍ - رَجُلٌ مِنْ بَنِي عَبْدِ الدَّارِ - فَقَالَ لَهَا مَا لِي أَرَاكِ مُتَجَمِّلَةً لَعَلَّكِ تَرْجِينَ النِّكَاحَ إِنَّكِ وَاللَّهِ مَا أَنْتِ بِنَاكِحٍ حَتَّى تَمُرَّ عَلَيْكِ أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ وَعَشْرٌ . قَالَتْ سُبَيْعَةُ فَلَمَّا قَالَ لِي ذَلِكَ جَمَعْتُ عَلَىَّ ثِيَابِي حِينَ أَمْسَيْتُ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلْتُهُ عَنْ ذَلِكَ فَأَفْتَانِي بِأَنِّي قَدْ حَلَلْتُ حِينَ وَضَعْتُ حَمْلِي وَأَمَرَنِي بِالتَّزَوُّجِ إِنْ بَدَا لِي . قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَلاَ أَرَى بَأْسًا أَنْ تَتَزَوَّجَ حِينَ وَضَعَتْ وَإِنْ كَانَتْ فِي دَمِهَا غَيْرَ أَنْ لاَ يَقْرَبُهَا زَوْجُهَا حَتَّى تَطْهُرَ .




৩৬১৪-(৫৬/১৪৮৪) আবূ তাহির ও হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়া (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... উবায়দুল্লাহ ইবনু 'আবদুল্লাহ ইবনু আরকাম যুহরীকে নির্দেশ দিয়ে লিখলেন যে, তিনি যেন সুবায়'আহ বিনতু হারিস আসলামীর কাছে চলে যান। এরপর তাকে তার হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। যখন তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ফাতাওয়া চাইছিলেন এবং তিনি তাকে যা বলেছিলেন তখন উমর ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উতবাকে লিখে পাঠালেন যে, সুবায়'আহ তাকে জানিয়েছেন- তিনি বানু আমির ইবনু লুঈ গোত্রের সা'দ ইবনু খাওলার স্ত্রী ছিলেন। তিনি ছিলেন বাদরী সাহাবী এবং বিদায় হাজজের (হজ্জের/হজের) সময় ওফাত পান। সে সময়ে তিনি গর্ভবতী ছিলেন।

তার স্বামীর ইন্তিকালের অব্যবহিত পরেই তিনি সন্তান প্রসব করেন। এরপর যখন তিনি নিফাস থেকে পবিত্র হলেন, তখন বিবাহের পয়গামদাতাদের জন্য সাজসজ্জা করতে লাগলেন। তখন বানু আবদুদ দার গোত্রের আবূ সানাবিল ইবনু বা'কাক নামক এক ব্যক্তি তার কাছে এলেন। তখন তিনি তাকে বললেন, মতলব কী? আমি তোমাকে সাজসজ্জা করতে দেখতে পাচ্ছি। সম্ভবত তুমি বিবাহ প্রত্যাশী? আল্লাহর কসম চার মাস দশদিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তুমি বিয়ে করতে পারবে না। সুবায়'আহ বললেন, যখন সে লোকটি আমাকে এ কথা বলল, তখন কাপড়-চোপড় পরিধান করে সন্ধ্যাবেলা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে চলে এলাম।

এরপর আমি তাকে সে বিষযে জানিয়ে দিলাম। তিনি আমাকে জানিয়ে দিলেন যে, সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার সাথে সাথেই আমার ইদ্দাত পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। তিনি আমাকে আরও নির্দেশ দিলেন যে, আমি ইচ্ছা করলে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারি। ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, সস্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পরপরই প্রসূতির জন্য বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকে আমি দূষণীয় মনে করি না, যদিও সে তখন নিফাসের ইদ্দাত পালনরত থাকে। তবে নিফাস থেকে পবিত্র হওয়ার পূর্বে স্বামী যেন স্ত্রীর সাথে যৌন সঙ্গম না করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৮৪, ইসলামীক সেন্টার ৩৫৮৪)









সহীহ মুসলিম (3615)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى الْعَنَزِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ، أَخْبَرَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ يَسَارٍ، أَنَّ أَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَابْنَ، عَبَّاسٍ اجْتَمَعَا عِنْدَ أَبِي هُرَيْرَةَ وَهُمَا يَذْكُرَانِ الْمَرْأَةَ تُنْفَسُ بَعْدَ وَفَاةِ زَوْجِهَا بِلَيَالٍ . فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ عِدَّتُهَا آخِرُ الأَجَلَيْنِ . وَقَالَ أَبُو سَلَمَةَ قَدْ حَلَّتْ . فَجَعَلاَ يَتَنَازَعَانِ ذَلِكَ قَالَ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ أَنَا مَعَ ابْنِ أَخِي - يَعْنِي أَبَا سَلَمَةَ - فَبَعَثُوا كُرَيْبًا - مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ - إِلَى أُمِّ سَلَمَةَ يَسْأَلُهَا عَنْ ذَلِكَ فَجَاءَهُمْ فَأَخْبَرَهُمْ أَنَّ أُمَّ سَلَمَةَ قَالَتْ إِنَّ سُبَيْعَةَ الأَسْلَمِيَّةَ نُفِسَتْ بَعْدَ وَفَاةِ زَوْجِهَا بِلَيَالٍ وَإِنَّهَا ذَكَرَتْ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهَا أَنْ تَتَزَوَّجَ .




৩৬১৫-(৫৭/১৪৮৫) মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না আল আনাযী (রহঃ) ..... সুলায়মান ইবনু ইয়াসার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, আবূ সালামাহ্ ইবনু আবদুর রহমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ও ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আবূ হুরায়রাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর কাছে সমবেত হলেন। তারা এমন একজন মহিলার কথা আলোচনা করছিলেন যিনি তার স্বামীর ইনতিকালের কয়েক দিন পরেই সন্তান প্রসব করেছেন। তখন ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, তার ইদ্দাত হবে দু'টির মধ্যে দীর্ঘতরটি। আবূ সালামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, তার ইদ্দাত পূর্ণ হয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে তারা দু'জনে বিতর্ক শুরু করে দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আবূ হুরায়রাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আমি আমার ভাতিজা আবূ সালামার পক্ষে। এরপর তারা সবাই ইবনু আব্বাসের মুক্তদাস কুরায়বকে উম্মু সালামাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর কাছে উক্ত বিষয়ে জিজ্ঞেস করার জন্য পাঠালেন। সে তাদের কাছে এসে বলল যে, উম্মু সালামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, সুবায়'আহ আসলামিয়াহ তার স্বামীর ইনতিকালের কয়েক রাত পরই সন্তান প্রসব করেন এবং তিনি সে বিষয়টি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থাপন করেন। তখন তিনি তাকে বিবাহ করার অনুমতি দেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৮৫, ইসলামীক সেন্টার ৩৫৮৫)









সহীহ মুসলিম (3616)


وَحَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، ح وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو، النَّاقِدُ قَالاَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، كِلاَهُمَا عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . غَيْرَ أَنَّقَالَ فِي حَدِيثِهِ فَأَرْسَلُوا إِلَى أُمِّ سَلَمَةَ وَلَمْ يُسَمِّ كُرَيْبًا .




৩৬১৬-(.../...) মুহাম্মদ ইবনু রুমূহ, আবূ বাকর ইবনু শায়বাহ ও আমর আন নাদি (রহিমাহুমুল্লাহ) ..... ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) থেকে উক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে লায়স (রহঃ) বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ আছে "তারা সাবাই উম্মু সালামার কাছে সংবাদ পাঠালেন" এবং তিনি (লায়স) কুরায়বের নাম উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৮৬, ইসলামীক সেন্টার ৩৫৮৬)









সহীহ মুসলিম (3617)


وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ نَافِعٍ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ، أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ هَذِهِ الأَحَادِيثَ الثَّلاَثَةَ، قَالَ قَالَتْ زَيْنَبُ دَخَلْتُ عَلَى أُمِّ حَبِيبَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حِينَ تُوُفِّيَ أَبُوهَا أَبُو سُفْيَانَ فَدَعَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ بِطِيبٍ فِيهِ صُفْرَةٌ خَلُوقٌ أَوْ غَيْرُهُ فَدَهَنَتْ مِنْهُ جَارِيَةً ثُمَّ مَسَّتْ بِعَارِضَيْهَا ثُمَّ قَالَتْ وَاللَّهِ مَا لِي بِالطِّيبِ مِنْ حَاجَةٍ غَيْرَ أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَرِ " لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ تُحِدُّ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلاَثٍ إِلاَّ عَلَى زَوْجٍ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا "




৩৬১৭-(৫৮/১৪৮৬) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... হুমায়দ ইবনু নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যায়নাব বিনতু আবূ সালামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাকে এ তিনটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি (হুমায়দ ইবনু নাফি) বলেন, যায়নাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী উম্মু হাবীবাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর পিতা আবূ সুফইয়ান ইনতিকাল করেন তখন আমি তার কাছে গেলাম। আমি দেখতে পেলাম যে, উম্মু হাবীবাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হলদে বর্ণের মিশ্রিত সুগন্ধি আনলেন অথবা অন্য কোন প্রসাধনী চেয়ে পাঠালেন। এরপর তা থেকে একটি বালিকাকে নিজ হাতে লাগিয়ে দিলেন। এরপর তিনি তার দু'কপালে হাত মুছে নিলেন। এরপর তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আমার সুগন্ধি ব্যবহারের কোন প্রয়োজন ছিল না। তবে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মিম্বারে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি যে, যে মহিলা আল্লাহ ও পরকালে ঈমান রাখে সে মহিলার জন্য তার কোন আত্মীয়ের মৃত্যুতে তিন দিনের বেশি শোক পালন করা হালাল নয়। তবে বিধবা তার স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশদিন শোক পালন করতে পারবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৮৭, ইসলামীক সেন্টার ৩৫৮৭)









সহীহ মুসলিম (3618)


قَالَتْ زَيْنَبُ ثُمَّ دَخَلْتُ عَلَى زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ حِينَ تُوُفِّيَ أَخُوهَا فَدَعَتْ بِطِيبٍ فَمَسَّتْ مِنْهُ ثُمَّ قَالَتْ وَاللَّهِ مَا لِي بِالطِّيبِ مِنْ حَاجَةٍ غَيْرَ أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَرِ " لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ تُحِدُّ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلاَثٍ إِلاَّ عَلَى زَوْجٍ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا




৩৬১৮-(.../১৪৮৭) যায়নাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, এরপর আমি (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী) যায়নাব বিনতু জাহশ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর কাছে গেলাম। সে সময় তার ভাই ইনতিকাল করেছিলেন। আমি দেখলাম, তিনিও সুগন্ধি চেয়ে পাঠালেন এবং তার থেকে স্পর্শ করলেন। এরপর তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আমার সুগন্ধি ব্যবহারের কোন প্রয়োজন ছিল না। তবে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মিম্বারে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি যে, যে মহিলা আল্লাহ ও আখিরাতে ঈমান রাখে তার জন্য মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের অধিক শোক পালন করা হালাল নয়। তবে স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশদিন শোক পালন করা যাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৮৮, ইসলামীক সেন্টার ৩৫৮৭)









সহীহ মুসলিম (3619)


قَالَتْ زَيْنَبُ سَمِعْتُ أُمِّي أُمَّ سَلَمَةَ، تَقُولُ جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ ابْنَتِي تُوُفِّيَ عَنْهَا زَوْجُهَا وَقَدِ اشْتَكَتْ عَيْنُهَا أَفَنَكْحُلُهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ " . مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا كُلَّ ذَلِكَ يَقُولُ لاَ ثُمَّ قَالَ " إِنَّمَا هِيَ أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ وَعَشْرٌ وَقَدْ كَانَتْ إِحْدَاكُنَّ فِي الْجَاهِلِيَّةِ تَرْمِي بِالْبَعَرَةِ عَلَى رَأْسِ الْحَوْلِ "




৩৬১৯-(.../১৪৮৮) অতঃপর যায়নাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি আমার মা উম্মু সালামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে বলতে শুনেছি যে, একবার এক মহিলা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমার কন্যাকে রেখে তার স্বামী ইনতিকাল করেছেন। তার (শোক পালন করতে গিয়ে) চোখে অসুখ হয়েছে। এ অবস্থায় আমরা কি তার চোখে সুরমা ব্যবহার করতে পারি? তখন রসূলুল্লাহ বললেনঃ 'না'। এরপর সে দুই কি তিন বার জিজ্ঞেস করল। প্রতিবারই তিনি বললেন, না। এরপর তিনি বললেন, তার ইদ্দাত তো চারমাস দশদিন। অথচ জাহিলিয়্যাহ যুগে তোমাদের একজন মহিলা বছরান্তে উটের বিষ্ঠা নিক্ষেপ করত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৮৭, ইসলামীক সেন্টার ৩৫৮৭)









সহীহ মুসলিম (3620)


قَالَ حُمَيْدٌ قُلْتُ لِزَيْنَبَ وَمَا تَرْمِي بِالْبَعَرَةِ عَلَى رَأْسِ الْحَوْلِ فَقَالَتْ زَيْنَبُ كَانَتِ الْمَرْأَةُ إِذَا تُوُفِّيَ عَنْهَا زَوْجُهَا دَخَلَتْ حِفْشًا وَلَبِسَتْ شَرَّ ثِيَابِهَا وَلَمْ تَمَسَّ طِيبًا وَلاَ شَيْئًا حَتَّى تَمُرَّ بِهَا سَنَةٌ ثُمَّ تُؤْتَى بِدَابَّةٍ حِمَارٍ أَوْ شَاةٍ أَوْ طَيْرٍ فَتَفْتَضُّ بِهِ فَقَلَّمَا تَفْتَضُّ بِشَىْءٍ إِلاَّ مَاتَ ثُمَّ تَخْرُجُ فَتُعْطَى بَعَرَةً فَتَرْمِي بِهَا ثُمَّ تُرَاجِعُ بَعْدُ مَا شَاءَتْ مِنْ طِيبٍ أَوْ غَيْرِهِ .




৩৬২০-(.../১৪৮৯) হুমায়দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি যায়নাবকে বললাম, এ যাবৎ উটের বিষ্ঠা নিক্ষেপ করার তাৎপর্য কী ছিল? তখন যায়নাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, সে কালে কোন স্বামী ইন্তিকাল করলে স্ত্রীকে একটি সংকীর্ণ কক্ষে (কুঠরীতে) প্রবেশ করতে হত। ছিড়ে-ফাড়া কাপড়-চোপড় পরিধান করতে হত। সে কোন প্রসাধনী দ্রব্য স্পর্শ করতে পারত না কিংবা অন্য কোন সুগন্ধি ইত্যাদি ব্যবহার করত না। এমনিভাবে দীর্ঘ একটি বছর কেটে যেত। এরপর তার সামনে আনা হত গাধা, বকরী কিংবা পাখী জাতীয় কোন প্রাণী এবং সে ঐ প্রাণীকে স্পর্শ করে ইদ্দাত পূর্ণ করত। সে যে প্রাণীকে স্পর্শ করত তা খুব কমই বাচত। এরপর সে ঐ সংকীর্ণ কুঠরী থেকে বের হয়ে আসত। তখন তার হাতে উটের বিষ্ঠা দেয়া হত এবং সে তা ছুড়ে মারত। এরপর সে তার পছন্দসই প্রসাধনী সুগন্ধি ইত্যাদি ব্যবহারের প্রতি মনোযোগী হত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৮৭, ইসলামীক সেন্টার ৩৫৮৭)









সহীহ মুসলিম (3621)


وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ نَافِعٍ، قَالَ سَمِعْتُ زَيْنَبَ بِنْتَ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ تُوُفِّيَ حَمِيمٌ لأُمِّ حَبِيبَةَ فَدَعَتْ بِصُفْرَةٍ فَمَسَحَتْهُ بِذِرَاعَيْهَا وَقَالَتْ إِنَّمَا أَصْنَعُ هَذَا لأَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ تُحِدَّ فَوْقَ ثَلاَثٍ إِلاَّ عَلَى زَوْجٍ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا " .




৩৬২১-(৫৯/১৪৮৬) মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... হুমায়দ ইবনু নাফি' (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যায়নাব বিনত উম্মু সালামাকে বলতে শুনেছি যে, উম্মু হাবীবাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর একজন নিকট আত্মীয় ইনতিকাল করেন। এরপর তিনি হলুদ বর্ণের সুগন্ধি চেয়ে পাঠান এবং তার দু' বাহুতে মেখে নিলেন। এরপর তিনি বললেন, আমি তা এজন্য করলাম যে, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যে মহিলা আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে তার পক্ষে কারো মৃত্যুতে তিনদিনের বেশি শোক পালন করা হালাল নয়। তবে স্বামীর মৃত্যুতে চারমাস দশদিন শোক পালন করা যাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৮৮, ইসলামীক সেন্টার ৩৫৮৮)









সহীহ মুসলিম (3622)


وَحَدَّثَتْهُ زَيْنَبُ، عَنْ أُمِّهَا، وَعَنْ زَيْنَبَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَوْ عَنِ امْرَأَةٍ مِنْ بَعْضِ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .




৩৬২২-(.../১৪৮৭-১৪৮৮) আর যায়নাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এ হাদীসখানা তার মা উম্মু সালামাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী যায়নাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৮৮, ইসলামীক সেন্টার ৩৫৮৮)









সহীহ মুসলিম (3623)


وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ نَافِعٍ، قَالَ سَمِعْتُ زَيْنَبَ بِنْتَ أُمِّ سَلَمَةَ، تُحَدِّثُ عَنْ أُمِّهَا، أَنَّ امْرَأَةً، تُوُفِّيَ زَوْجُهَا فَخَافُوا عَلَى عَيْنِهَا فَأَتَوُا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَاسْتَأْذَنُوهُ فِي الْكُحْلِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَدْ كَانَتْ إِحْدَاكُنَّ تَكُونُ فِي شَرِّ بَيْتِهَا فِي أَحْلاَسِهَا - أَوْ فِي شَرِّ أَحْلاَسِهَا فِي بَيْتِهَا - حَوْلاً فَإِذَا مَرَّ كَلْبٌ رَمَتْ بِبَعَرَةٍ فَخَرَجَتْ أَفَلاَ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا " .




৩৬২৩-(৬০/১৪৮৮) মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... হুমায়দ ইবনু নাফি' (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যায়নাব বিনতু উম্মু সালামাকে তার মায়ের সূত্রে বলতে শুনেছি যে, এক মহিলার স্বামী মারা গেল। লোকেরা তার চোখের ব্যাপারে আশংকাবোধ করল। তখন তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলেন। তারা তার কাছে মহিলার চোখে সুরমা ব্যবহারের অনুমতি চাইল। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জাহিলিয়্যাত যুগে স্বামীর মৃত্যুতে তোমাদের কেউ কেউ সাদা-মাটা কাপড়-চোপড় কিংবা ছিড়ে-ফাড়া বস্ত্র পরিধান করে একটি সংকীর্ণ কক্ষে পুরো এক বছর (ইদ্দাত পালনের জন্য) অতিবাহিত করত। এরপর কোন কুকুর তার নিকট দিয়ে অতিক্রম করলে সে উটের বিষ্ঠা নিক্ষেপ করে বাইরে বের হয়ে পড়ত। এ কুসংস্কারের পরিবর্তে চারমাস দশদিন পর্যন্ত প্রতীক্ষা করতে তোমরা কি সক্ষম হবে না? (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৮৯, ইসলামীক সেন্টার ৩৫৮৯)









সহীহ মুসলিম (3624)


وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ نَافِعٍ، بِالْحَدِيثَيْنِ جَمِيعًا حَدِيثِ أُمِّ سَلَمَةَ فِي الْكُحْلِ وَحَدِيثِ أُمِّ سَلَمَةَ وَأُخْرَى مِنْ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم غَيْرَ أَنَّهُ لَمْ تُسَمِّهَا زَيْنَبُ نَحْوَ حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ .




৩৬২৪-(.../...) উবায়দুল্লাহ ইবনু মুআয (রহঃ) ..... হুমায়দ ইবনু নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি চোখে সুরমা ব্যবহার সংক্রান্ত উম্মু সালামাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদীস এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণীগণের মধ্যে থেকে কোন একজনের বর্ণিত হাদীস উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি তার বর্ণনায় এতটুকু বেশি উল্লেখ করেছেন "মুহাম্মাদ ইবনু জাফার (রহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। যায়নাব তার নাম উল্লেখ করেননি।" - (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৯০, ইসলামীক সেন্টার ৩৫৯০)









সহীহ মুসলিম (3625)


وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ نَافِعٍ، أَنَّهُ سَمِعَ زَيْنَبَ بِنْتَ أَبِي سَلَمَةَ، تُحَدِّثُ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، وَأُمِّ حَبِيبَةَ تَذْكُرَانِ أَنَّ امْرَأَةً أَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَتْ لَهُ أَنَّ بِنْتًا لَهَا تُوُفِّيَ عَنْهَا زَوْجُهَا فَاشْتَكَتْ عَيْنُهَا فَهْىَ تُرِيدُ أَنْ تَكْحُلَهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَدْ كَانَتْ إِحْدَاكُنَّ تَرْمِي بِالْبَعَرَةِ عِنْدَ رَأْسِ الْحَوْلِ وَإِنَّمَا هِيَ أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ وَعَشْرٌ " .




৩৬২৫-(৬১/১৪৮৬-১৪৮৮) আবূ বকর ইবনু শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... হুমায়দ ইবনু নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি যায়নাব বিনতু আবূ সালামাকে উম্মু সালামাহ্ ও উম্মু হাবীবাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছেন। তারা উল্লেখ করেন যে, জনৈকা মহিলা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলো। তিনি তার (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর) কাছে উত্থাপন করলেন যে, আমার মেয়ের স্বামী মারা গিয়েছে। (তার শোক পালন করতে গিয়ে) তার চোখে অসুখ হয়েছে। সে এখন তার চোখে সুরমা ব্যবহার করতে চায়। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ (জাহিলিয়াত যুগে স্বামীর মৃত্যুতে) তোমাদের কেউ এক বছর পূর্তি পর্যন্ত উটের বিষ্ঠা নিক্ষেপ করত। আর এখন তো মাত্র চারমাস দশদিন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৯১, ইসলামীক সেন্টার ৩৫৯১)









সহীহ মুসলিম (3626)


وَحَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، - وَاللَّفْظُ لِعَمْرٍو - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ مُوسَى، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ نَافِعٍ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَتْ لَمَّا أَتَى أُمَّ حَبِيبَةَ نَعِيُّ أَبِي سُفْيَانَ دَعَتْ فِي الْيَوْمِ الثَّالِثِ بِصُفْرَةٍ فَمَسَحَتْ بِهِ ذِرَاعَيْهَا وَعَارِضَيْهَا وَقَالَتْ كُنْتُ عَنْ هَذَا غَنِيَّةً سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ تُحِدَّ فَوْقَ ثَلاَثٍ إِلاَّ عَلَى زَوْجٍ فَإِنَّهَا تُحِدُّ عَلَيْهِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا " .




৩৬২৬-(৬২/১৪৮৬) আমর আন নাকিদ ও ইবনু আবূ উমর (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... যায়নাব বিনতু আবূ সালামাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী হাবীবাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর কাছে তার পিতা আবূ সুফইয়ানের ইনতিকালের খবর পৌঁছল তখন তৃতীয় দিনে তিনি হলুদ বর্ণের সুগন্ধি চেয়ে পাঠালেন এবং তার দু'হাতে গায়ে ভাল করে তা মেখে নিলেন। আর বললেন, আমার এর কোন প্রয়োজন ছিল না। তবে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, যে মহিলা আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস রাখে তার পক্ষে কারো মৃত্যুতে তিন দিনের বেশি শোক পালন করা হালাল নয়। তবে স্বামীর মৃত্যুর ব্যাপারটি স্বতন্ত্র। কেননা সে তার স্বামীর মৃত্যুতে চারমাস দশদিন শোক পালন করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৯২, ইসলামীক সেন্টার ৩৫৯২)









সহীহ মুসলিম (3627)


وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَقُتَيْبَةُ، وَابْنُ، رُمْحٍ عَنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ صَفِيَّةَ، بِنْتَ أَبِي عُبَيْدٍ حَدَّثَتْهُ عَنْ حَفْصَةَ، أَوْ عَنْ عَائِشَةَ، أَوْ عَنْ كِلْتَيْهِمَا، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ - أَوْ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ - أَنْ تُحِدَّ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ إِلاَّ عَلَى زَوْجِهَا " .




৩৬২৭-(৬৩/১৪৯০) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, কুতায়বাহ ও ইবনু রুমূহ (রহিমাহুমুল্লাহ) ..... হাফসাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কিংবা আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে পৃথকভাবে অথবা তাদের দু'জন থেকে যৌথভাবে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে মহিলা আল্লাহ ও শেষ বিচার দিবসের প্রতি ঈমান রাখে কিংবা যে মহিলা আল্লাহ ও তার রসূলের প্রতি ঈমান রাখে তার পক্ষে কোন মৃতের জন্য তিন দিনের অধিক শোক পালন করা হালাল নয়। তবে তার স্বামীর মৃত্যুতে শোক পালন করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৯৩, ইসলামীক সেন্টার ৩৫৯৩)









সহীহ মুসলিম (3628)


وَحَدَّثَنَاهُ شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ مُسْلِمٍ - حَدَّثَنَا عَبْدُ، اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ عَنْ نَافِعٍ، بِإِسْنَادِ حَدِيثِ اللَّيْثِ . مِثْلَ رِوَايَتِهِ .




৩৬২৮-(.../...) শায়বান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... নাফি (রহঃ) থেকে লায়স বর্ণিত হাদীসে অনুরূপ বর্ণিত আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৯৪, ইসলামীক সেন্টার ৩৫৯৪)









সহীহ মুসলিম (3629)


وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو غَسَّانَ الْمِسْمَعِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ نَافِعًا، يُحَدِّثُ عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ أَبِي عُبَيْدٍ، أَنَّهَا سَمِعَتْ حَفْصَةَ بِنْتَ عُمَرَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تُحَدِّثُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِ حَدِيثِ اللَّيْثِ وَابْنِ دِينَارٍ وَزَادَ " فَإِنَّهَا تُحِدُّ عَلَيْهِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا " .




৩৬২৯-(৬৪/...) আবূ গাসসান আল মিসমাঈ ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... সফিয়্যাহ বিনতে আবূ উবায়দ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী উমারের কন্যা হাফসাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। রাবী কর্তৃক বর্ণিত এ বর্ণনাটি লায়স ও ইবনু দীনার বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। তবে তার বর্ণনায় এতটুকু বেশি উল্লেখ আছে "কারণ সে তার (স্বামীর) জন্য চারমাস দশদিন শোক পালন করবে।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৯৫, ইসলামীক সেন্টার ৩৫৯৫)









সহীহ মুসলিম (3630)


وَحَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، جَمِيعًا عَنْ نَافِعٍ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ أَبِي عُبَيْدٍ، عَنْ بَعْضِ، أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَى حَدِيثِهِمْ .




৩৬৩০-(.../...) আবূ রবী' ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... সফিয়্যাহ বিনতু আবূ উবায়দ (রহঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জনৈক সহধর্মিণী সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তাদের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৯৬, ইসলামীক সেন্টার ৩৫৯৬)









সহীহ মুসলিম (3631)


وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَعَمْرٌو النَّاقِدُ وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ - وَاللَّفْظُ لِيَحْيَى - قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرُونَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ تُحِدَّ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلاَثٍ إِلاَّ عَلَى زَوْجِهَا " .




৩৬৩১-(৬৫/১৪৯১) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহিমাহুমুল্লাহ) ..... আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, যে মহিলা আল্লাহ ও শেষ বিচার দিবসের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন তার কোন মৃতের জন্য তিন দিনের অধিক শোক পালন না করে। তবে তার স্বামীর মৃত্যুতে শোক পালন করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৯৭, ইসলামীক সেন্টার ৩৫৯৭)









সহীহ মুসলিম (3632)


وَحَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ حَفْصَةَ، عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تُحِدُّ امْرَأَةٌ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلاَثٍ إِلاَّ عَلَى زَوْجٍ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا وَلاَ تَلْبَسُ ثَوْبًا مَصْبُوغًا إِلاَّ ثَوْبَ عَصْبٍ وَلاَ تَكْتَحِلُ وَلاَ تَمَسُّ طِيبًا إِلاَّ إِذَا طَهُرَتْ نُبْذَةً مِنْ قُسْطٍ أَوْ أَظْفَارٍ " .




৩৬৩২-(৬৬/৯৩৮) হাসান ইবনু রবী' (রহঃ) ..... উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মহিলা তার কোন মৃতের জন্য তিন দিনের বেশি শোক পালন করবে না। তবে তার স্বামীর মৃত্যুতে চারমাস দশদিন পর্যন্ত শোক পালন করবে। এ সময় সীমায় (ইদ্দাতের মেয়াদকালে) সে রঙিন কাপড় চোপড় পরিধান করবে না। তবে কালো রঙে রঞ্জিত চাঁদর পরিধান করতে পারবে। সে চোখে সুরমা লাগাবে না এবং কোন সুগন্ধি ব্যবহার করবে না এবং সে হায়য থেকে পবিত্র হলে (পবিত্রতার নিদর্শন স্বরূপ) কুসত ও আযফার নামক সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৯৮, ইসলামীক সেন্টার ৩৫৯৮)









সহীহ মুসলিম (3633)


وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، ح وَحَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، كِلاَهُمَا عَنْ هِشَامٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالاَ " عِنْدَ أَدْنَى طُهْرِهَا نُبْذَةً مِنْ قُسْطٍ وَأَظْفَارٍ " .




৩৬৩৩-(.../...) আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... হিশাম (রহঃ) থেকে উপরোক্ত হাদীসে অনুরূপ বর্ণিত। তবে এ হাদীসে 'আমর আন নাকিদ ও ইয়াযীদ ইবনু হারূন (রহঃ) উভয়ে বর্ণনা করেছেন যে, সে তার হায়য থেকে পবিত্র হওয়ার পর কুসত্ব ও আযফার নামক সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৯৯, ইসলামীক সেন্টার ৩৫৯৯)