হাদীস বিএন


সহীহুল বুখারী





সহীহুল বুখারী (5464)


وَعَنْ أَيُّوبَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّه“ تَعَشّٰى مَرَّةً وَهُوَ يَسْمَعُ قِرَاءَةَ الإِمَامِ.




আইয়ূব নাফি’ (রাহিঃ)-এর সূত্রে ইবনু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি একবার রাতের খাবার খাচ্ছিলেন, এ সময় ইমামের কিরাআতও শুনছিলেন। [৬৭৩; মুসলিম ৫/১৬, হাঃ ৫৫৭, ৫৫৯, আহমাদ ৪৭০৯] আধুনিক প্রকাশনী- নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯৫৫)









সহীহুল বুখারী (5465)


مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذَا أُقِيمَتْ الصَّلاَةُ وَحَضَرَ الْعَشَاءُ فَابْدَءُوا بِالْعَشَاءِ قَالَ وُهَيْبٌ وَيَحْيٰى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ هِشَامٍ إِذَا وُضِعَ الْعَشَاءُ.




‘আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন সলাতের ইকামাত দেয়া হয় এবং রাতের খাবারও হাজির হয়ে যায়, তাহলে তোমরা আগে খাবার হয়ে নেবে।

উহাইব ও ইয়াহইয়া বিন সা’ঈদ হিশাম হতে বর্ণনা করেছেনঃ যখন রাতের খাবার আনা হয়।[মুসলিম ৫/১৬, হাঃ ৫৫৮, আহমাদ ২৫৬৭৮] আধুনিক প্রকাশনী- ৫০৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯৫৬)









সহীহুল বুখারী (5466)


عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ صَالِحٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّ أَنَسًا قَالَ أَنَا أَعْلَمُ النَّاسِ بِالْحِجَابِ كَانَ أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ يَسْأَلُنِي عَنْه“ أَصْبَحَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَرُوسًا بِزَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ وَكَانَ تَزَوَّجَهَا بِالْمَدِينَةِ فَدَعَا النَّاسَ لِلطَّعَامِ بَعْدَ ارْتِفَاعِ النَّهَارِ فَجَلَسَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَجَلَسَ مَعَه“ رِجَالٌ بَعْدَ مَا قَامَ الْقَوْمُ حَتّٰى قَامَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَمَشٰى وَمَشَيْتُ مَعَه“ حَتّٰى بَلَغَ بَابَ حُجْرَةِ عَائِشَةَ ثُمَّ ظَنَّ أَنَّهُمْ خَرَجُوا فَرَجَعْتُ مَعَه“ فَإِذَا هُمْ جُلُوسٌ مَكَانَهُمْ فَرَجَعَ وَرَجَعْتُ مَعَهُ الثَّانِيَةَ حَتّٰى بَلَغَ بَابَ حُجْرَةِ عَائِشَةَ فَرَجَعَ وَرَجَعْتُ مَعَه“ فَإِذَا هُمْ قَدْ قَامُوا فَضَرَبَ بَيْنِي وَبَيْنَه“ سِتْرًا وَأُنْزِلَ الْحِجَابُ.




আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি পর্দা (এর আয়াত অবতীর্ণ হওয়া) সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত। এ ব্যাপারে ‘উবাই ইবনু কা’ব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে জিজ্ঞাসা করতেন। যাইনাব বিন্‌ত জাহ্‌শের সঙ্গে নববিবাহিত হিসেবে রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ভোর হল। তিনি মদিনায় তাঁকে বিয়ে করেছিলেন। বেলা ওঠার পর তিনি লোকজনকে খাওয়ার জন্য দাওয়াত করলেন। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বসা ছিলেন। (খাদ্য গ্রহণ শেষে) অনেক লোক চলে যাওয়ার পরও কিছু লোক তাঁর সাথে বসে থাকলো। অবশেষে রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উঠে গেলেন আমিও তাঁর সাথে সাথে গেলাম। আমি ‘আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হুজুরার দরজায় পৌঁছলেন। তারপর ভাবলেন, লোকেরা হয়ত চলে গেছে। আমিও তাঁর সঙ্গে ফিরে আসলাম। (এসে দেখলাম) তারা আপন জায়গায় বসেই রয়েছে। তিনি আবার ফিরে গেলাম। আমিও তাঁর সঙ্গে দ্বিতীয়বার ফিরে গেলাম। এমনকি তিনি ‘আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর গৃহের দরজা পর্যন্ত পৌঁছে আবার ফিরে আসলেন। আমিও তার সঙ্গে ফিরে আসলাম। এবার তারা উঠে গেছে। তারপর তিনি আমার ও তাঁর মাঝে পর্দা ঝুলিয়ে দিলাম। তখন পর্দা সম্পর্কিত বিধান অবতীর্ণ হল।আধুনিক প্রকাশনী- ৫০৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯৫৭)









সহীহুল বুখারী (5467)


إِسْحَاقُ بْنُ نَصْرٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ قَالَ حَدَّثَنِي بُرَيْدٌ عَنْ أَبِي بُرْدَةَ عَنْ أَبِي مُوسٰى قَالَ وُلِدَ لِي غُلاَمٌ فَأَتَيْتُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَسَمَّاه“ إِبْرَاهِيمَ فَحَنَّكَه“ بِتَمْرَةٍ وَدَعَا لَه“ بِالْبَرَكَةِ وَدَفَعَه“ إِلَيَّ وَكَانَ أَكْبَرَ وَلَدِ أَبِي مُوسَى.




আবূ মূসা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)‎ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার একটি পুত্র সন্তান জন্মালে আমি তাকে নিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে ‎গেলাম। তিনি তার নাম রাখলেন ইবরাহীম। তারপর খেজুর চিবিয়ে তার মুখে দিলেন এবং তার জন্য বারাকাতের ‎দু’আ করে আমার কাছে ফিরিয়ে দিলেন। সে ছিল আবূ মূসার সবচেয়ে বড় ছেলে। ‎(আধুনিক প্রকাশনী- ৫০৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯৫৮)









সহীহুল বুখারী (5468)


حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ أُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِصَبِيٍّ يُحَنِّكُهُ، فَبَالَ عَلَيْهِ، فَأَتْبَعَهُ الْمَاءَ‏.‏




আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ‎ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে তাহ্নীক করার জন্য এক শিশুকে আনা হল, শিশুটি ‎তার কোলে পেশাব করে দিল, তিনি তখন এতে পানি ঢেলে দিলেন। ‎ (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯৫৯)









সহীহুল বুখারী (5469)


إِسْحَاقُ بْنُ نَصْرٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ أَنَّهَا حَمَلَتْ بِعَبْدِ اللهِ بْنِ الزُّبَيْرِ بِمَكَّةَ قَالَتْ فَخَرَجْتُ وَأَنَا مُتِمٌّ فَأَتَيْتُ الْمَدِينَةَ فَنَزَلْتُ قُبَاءً فَوَلَدْتُ بِقُبَاءٍ ثُمَّ أَتَيْتُ بِه„ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَوَضَعْتُه“ فِي حَجْرِه„ ثُمَّ دَعَا بِتَمْرَةٍ فَمَضَغَهَا ثُمَّ تَفَلَ فِي فِيهِ فَكَانَ أَوَّلَ شَيْءٍ دَخَلَ جَوْفَه“ رِيقُ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ حَنَّكَه“ بِالتَّمْرَةِ ثُمَّ دَعَا لَه“ فَبَرَّكَ عَلَيْهِ وَكَانَ أَوَّلَ مَوْلُودٍ وُلِدَ فِي الإِسْلاَمِ فَفَرِحُوا بِه„ فَرَحًا شَدِيدًا لِأَنَّهُمْ قِيلَ لَهُمْ إِنَّ الْيَهُودَ قَدْ سَحَرَتْكُمْ فَلاَ يُولَدُ لَكُمْ.




আসমা বিন্‌ত আবূ বক্‌র (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)‎ হতে বর্ণিত, তিনি ‘আবদুল্লাহ্‌ ইবনু যুবায়রকে মক্কায় গর্ভে ধারণ করেন। তিনি বলেন, গর্ভকাল পূর্ণ হওয়া অবস্থায় আমি বেরিয়ে ‎মদীনায় আসলাম এবং কুবায় অবতরণ করলাম। কুবাতেই আমি তাকে প্রসব করি। তারপর তাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ্‌ ‎‎(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে তাকে তাঁর কোলে রাখলাম। তিনি একটি খেজুর আনতে ‎বললেন। তা চিবিয়ে তিনি তার মুখে দিলেন। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই লালাই সর্বপ্রথম ‎তার পেটে প্রবেশ করেছিল। তারপর তিনি খেজুর চিবিয়ে তাহ্নীক করলেন এবং তার জন্য বরকতের দু’আ ‎করলেন। (হিজরতের পরে) ইসলামে জন্মলাভকারী সেই ছিল প্রথম সন্তান। তাই তার জন্যে মুসলিমরা মহা আনন্দে ‎আনন্দিত হয়েছিলেন। কারণ, তাদের বলা হত ইয়াহূদীরা তোমাদের যাদু করেছে, তাই তোমাদের সন্তান হয় না।(আধুনিক প্রকাশনী- , ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯৬০)









সহীহুল বুখারী (5470)


حَدَّثَنَا‎ ‎مَطَرُ‎ ‎بْنُ‎ ‎الْفَضْلِ،‎ ‎حَدَّثَنَا‎ ‎يَزِيدُ‎ ‎بْنُ‎ ‎هَارُونَ،‎ ‎أَخْبَرَنَا‎ ‎عَبْدُ‎ ‎اللَّهِ‎ ‎بْنُ‎ ‎عَوْنٍ،‎ ‎عَنْ‎ ‎أَنَسِ‎ ‎بْنِ‎ ‎سِيرِينَ،‎ ‎عَنْ‎ ‎أَنَسِ‎ ‎بْنِ‎ ‎مَالِكٍ‎ ‎ـ‎ ‎رضى‎ ‎الله‎ ‎عنه‎ ‎ـ‎ ‎قَالَ‎ ‎كَانَ‎ ‎ابْنٌ‎ ‎لأَبِي‎ ‎طَلْحَةَ‎ ‎يَشْتَكِي،‎ ‎فَخَرَجَ‎ ‎أَبُو‎ ‎طَلْحَةَ،‎ ‎فَقُبِضَ‎ ‎الصَّبِيُّ‎ ‎فَلَمَّا‎ ‎رَجَعَ‎ ‎أَبُو‎ ‎طَلْحَةَ‎ ‎قَالَ‎ ‎مَا‎ ‎فَعَلَ‎ ‎ابْنِي‎ ‎قَالَتْ‎ ‎أُمُّ‎ ‎سُلَيْمٍ‎ ‎هُوَ‎ ‎أَسْكَنُ‎ ‎مَا‎ ‎كَانَ‏‎.‎‏‎ ‎فَقَرَّبَتْ‎ ‎إِلَيْهِ‎ ‎الْعَشَاءَ‎ ‎فَتَعَشَّى،‎ ‎ثُمَّ‎ ‎أَصَابَ‎ ‎مِنْهَا،‎ ‎فَلَمَّا‎ ‎فَرَغَ‎ ‎قَالَتْ‎ ‎وَارِ‎ ‎الصَّبِيَّ‏‎.‎‏‎ ‎فَلَمَّا‎ ‎أَصْبَحَ‎ ‎أَبُو‎ ‎طَلْحَةَ‎ ‎أَتَى‎ ‎رَسُولَ‎ ‎اللَّهِ‎ ‎صلى‎ ‎الله‎ ‎عليه‎ ‎وسلم‎ ‎فَأَخْبَرَهُ‎ ‎فَقَالَ‎ ‎‏‎"‎‏‎ ‎أَعْرَسْتُمُ‎ ‎اللَّيْلَةَ‎ ‎‏‎"‎‏‏‎.‎‏‎ ‎قَالَ‎ ‎نَعَمْ‏‎.‎‏‎ ‎قَالَ‎ ‎‏‎"‎‏‎ ‎اللَّهُمَّ‎ ‎بَارِكْ‎ ‎لَهُمَا‎ ‎‏‎"‎‏‏‎.‎‏‎ ‎فَوَلَدَتْ‎ ‎غُلاَمًا‎ ‎قَالَ‎ ‎لِي‎ ‎أَبُو‎ ‎طَلْحَةَ‎ ‎احْفَظْهُ‎ ‎حَتَّى‎ ‎تَأْتِيَ‎ ‎بِهِ‎ ‎النَّبِيَّ‎ ‎صلى‎ ‎الله‎ ‎عليه‎ ‎وسلم‎ ‎فَأَتَى‎ ‎بِهِ‎ ‎النَّبِيَّ‎ ‎صلى‎ ‎الله‎ ‎عليه‎ ‎وسلم‎ ‎وَأَرْسَلَتْ‎ ‎مَعَهُ‎ ‎بِتَمَرَاتٍ،‎ ‎فَأَخَذَهُ‎ ‎النَّبِيُّ‎ ‎صلى‎ ‎الله‎ ‎عليه‎ ‎وسلم‎ ‎فَقَالَ‎ ‎‏‎"‎‏‎ ‎أَمَعَهُ‎ ‎شَىْءٌ‎ ‎‏‎"‎‏‏‎.‎‏‎ ‎قَالُوا‎ ‎نَعَمْ‎ ‎تَمَرَاتٌ‏‎.‎‏‎ ‎فَأَخَذَهَا‎ ‎النَّبِيُّ‎ ‎صلى‎ ‎الله‎ ‎عليه‎ ‎وسلم‎ ‎فَمَضَغَهَا،‎ ‎ثُمَّ‎ ‎أَخَذَ‎ ‎مِنْ‎ ‎فِيهِ‎ ‎فَجَعَلَهَا‎ ‎فِي‎ ‎فِي‎ ‎الصَّبِيِّ،‎ ‎وَحَنَّكَهُ‎ ‎بِهِ،‎ ‎وَسَمَّاهُ‎ ‎عَبْدَ‎ ‎اللَّهِ‏‎.‎‏

حَدَّثَنَا‎ ‎مُحَمَّدُ‎ ‎بْنُ‎ ‎الْمُثَنَّى،‎ ‎حَدَّثَنَا‎ ‎ابْنُ‎ ‎أَبِي‎ ‎عَدِيٍّ،‎ ‎عَنِ‎ ‎ابْنِ‎ ‎عَوْنٍ،‎ ‎عَنْ‎ ‎مُحَمَّدٍ،‎ ‎عَنْ‎ ‎أَنَسٍ،‎ ‎وَسَاقَ‎ ‎الْحَدِيثَ،‏‎.‎‏




আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ‎ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ তালহার এক ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়ল। আবূ তালহা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বাইরে গেলেন, তখন ছেলেটি মারা ‎গেল। আবূ তালহা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ফিরে এসে জিজ্ঞেস করলেনঃ ছেলেটি কী করছে? উম্মু সুলাইম বললেনঃ সে আগের চেয়ে ‎শান্ত। তারপর তাঁকে খাবার দিলেন। তিনি আহার করলেন। তারপর উম্মু সুলাইমের সঙ্গে যৌন সঙ্গম করলেন। ‎যৌন সঙ্গম ক্রিয়া শেষে উম্মু সুলাইম বললেনঃ ছেলেটিকে দাফন করে আস। সকাল হলে আবূ তালহা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ‎রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে তাঁকে এ ঘটনা বললেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ গত ‎রাতে তুমি কি স্ত্রীর সাথে রয়েছ? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ! নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হে আল্লাহ! ‎তাদের জন্য তুমি বরকত দান কর। কিছুদিন পর উম্মু সুলাইম একটি সন্তান প্রসব করল। (রাবী বলেনঃ ) আবূ ‎তালহা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে বললেনঃ তাকে তুমি দেখাশোনা কর যতক্ষণ না আমি তাকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া ‎সাল্লাম)-এর কাছে নিয়ে যাই। অতঃপর তিনি তাকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে নিয়ে ‎গেলেন। উম্মু সুলাইম সঙ্গে কিছু খেজুর দিয়ে দিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে (কোলে) ‎নিলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, তার সঙ্গে কিছু আছে কি? তাঁরা বললেনঃ হ্যাঁ, আছে। তিনি তা নিয়ে চিবালেন এবং ‎তারপর মুখ থেকে বের করে বাচ্চাটির মুখে দিলেন। তিনি এর দ্বারাই তার তাহ্নীক করলেন এবং তার নাম ‎রাখলেন ‘আবদুল্লাহ্‌। ‎

আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি উক্ত হাদীসটিই বর্ণনা করেন। ‎ (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯৬২)









সহীহুল বুখারী (5471)


وَقَالَ‎ ‎غَيْرُ‎ ‎وَاحِدٍ‎ ‎عَنْ‎ ‎عَاصِمٍ،‎ ‎وَهِشَامٍ،‎ ‎عَنْ‎ ‎حَفْصَةَ‎ ‎بِنْتِ‎ ‎سِيرِينَ،‎ ‎عَنِ‎ ‎الرَّبَابِ،‎ ‎عَنْ‎ ‎سَلْمَانَ،‎ ‎عَنِ‎ ‎النَّبِيِّ‎ ‎صلى‎ ‎الله‎ ‎عليه‎ ‎وسلم‏‎.‎‏‎ ‎وَرَوَاهُ‎ ‎يَزِيدُ‎ ‎بْنُ‎ ‎إِبْرَاهِيمَ‎ ‎عَنِ‎ ‎ابْنِ‎ ‎سِيرِينَ‎ ‎عَنْ‎ ‎سَلْمَانَ‎ ‎قَوْلَهُ‏‎.‎‏‎ ‎وَقَالَ‎ ‎أَصْبَغُ‎ ‎أَخْبَرَنِي‎ ‎ابْنُ‎ ‎وَهْبٍ‎ ‎عَنْ‎ ‎جَرِيرِ‎ ‎بْنِ‎ ‎حَازِمٍ‎ ‎عَنْ‎ ‎أَيُّوبَ‎ ‎السَّخْتِيَانِيِّ‎ ‎عَنْ‎ ‎مُحَمَّدِ‎ ‎بْنِ‎ ‎سِيرِينَ‎ ‎حَدَّثَنَا‎ ‎سَلْمَانُ‎ ‎بْنُ‎ ‎عَامِرٍ‎ ‎الضَّبِّيُّ‎ ‎قَالَ‎ ‎سَمِعْتُ‎ ‎رَسُولَ‎ ‎اللَّهِ‎ ‎صلى‎ ‎الله‎ ‎عليه‎ ‎وسلم‎ ‎يَقُولُ‎ ‎‏‎ "‎‏‎ ‎مَعَ‎ ‎الْغُلاَمِ‎ ‎عَقِيقَةٌ،‎ ‎فَأَهْرِيقُوا‎ ‎عَنْهُ‎ ‎دَمًا‎ ‎وَأَمِيطُوا‎ ‎عَنْهُ‎ ‎الأَذَى‎ ‎‏‎"‎‏‏‎.‎‏




‎সালমান ইবনু ‘আমির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ‎ হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ‎বলতে শুনেছি যে, সন্তানের সঙ্গে ‘আকিকা সম্পর্কিত। ‎তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত (অর্থাৎ ‘আকিকার জন্তু যবেহ্‌) ‎কর এবং তার অশুচি (চুল, নখ ইত্যাদি) দূর করে দাও। ‎(আধুনিক প্রকাশনী ৫০৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৬৩)‎









সহীহুল বুখারী (5472)


حَدَّثَنَا‎ ‎أَبُو‎ ‎النُّعْمَانِ،‎ ‎حَدَّثَنَا‎ ‎حَمَّادُ‎ ‎بْنُ‎ ‎زَيْدٍ،‎ ‎عَنْ‎ ‎أَيُّوبَ،‎ ‎عَنْ‎ ‎مُحَمَّدٍ،‎ ‎عَنْ‎ ‎سَلْمَانَ‎ ‎بْنِ‎ ‎عَامِرٍ،‎ ‎قَالَ‎ ‎مَعَ‎ ‎الْغُلاَمِ‎ ‎عَقِيقَةٌ‏‎.‎‏‎ ‎وَقَالَ‎ ‎حَجَّاجٌ‎ ‎حَدَّثَنَا‎ ‎حَمَّادٌ‎ ‎أَخْبَرَنَا‎ ‎أَيُّوبُ‎ ‎وَقَتَادَةُ‎ ‎وَهِشَامٌ‎ ‎وَحَبِيبٌ‎ ‎عَنِ‎ ‎ابْنِ‎ ‎سِيرِينَ‎ ‎عَنْ‎ ‎سَلْمَانَ‎ ‎عَنِ‎ ‎النَّبِيِّ‎ ‎صلى‎ ‎الله‎ ‎عليه‎ ‎وسلم‏‎.‎‏




হাবীব ইবনু শাহীদ (রাহিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনু সিরীন আমাকে নির্দেশ করলেন, আমি যেন ‎হাসানকে জিজ্ঞেস করি তিনি ‘আকিকার হাদীসটি কার কাছ থেকে শুনেছেন? আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি ‎বললেনঃ সামূরাহ ইবনু জুনদুব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে। [৫৪৭১] (আধুনিক প্রকাশনী ৫০৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৬৪)‎









সহীহুল বুখারী (5473)


حَدَّثَنَا‎ ‎عَبْدَانُ،‎ ‎حَدَّثَنَا‎ ‎عَبْدُ‎ ‎اللَّهِ،‎ ‎أَخْبَرَنَا‎ ‎مَعْمَرٌ،‎ ‎أَخْبَرَنَا‎ ‎الزُّهْرِيُّ،‎ ‎عَنِ‎ ‎ابْنِ‎ ‎الْمُسَيَّبِ،‎ ‎عَنْ‎ ‎أَبِي‎ ‎هُرَيْرَةَ‎ ‎ـ‎ ‎رضى‎ ‎الله‎ ‎عنه‎ ‎ـ‎ ‎عَنِ‎ ‎النَّبِيِّ‎ ‎صلى‎ ‎الله‎ ‎عليه‎ ‎وسلم‎ ‎قَالَ‎ ‎‏‎ "‎‏‎ ‎لاَ‎ ‎فَرَعَ‎ ‎وَلاَ‎ ‎عَتِيرَةَ‎ ‎‏‎"‎‏‏‎.‎‏‎ ‎وَالْفَرَعُ‎ ‎أَوَّلُ‎ ‎النِّتَاجِ،‎ ‎كَانُوا‎ ‎يَذْبَحُونَهُ‎ ‎لَطِوَاغِيتِهِمْ،‎ ‎وَالْعَتِيرَةُ‎ ‎فِي‎ ‎رَجَبٍ‏‎.‎‏




আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)‎ হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, (ইসলামে) ফারা বা আতীরা নেই। ফারা হল ঊটের সে প্রথম ‎বাচ্চা, যা তারা তাদের দেব-দেবীর নামে যবেহ করত। আর আতীরা হল রজবে যে জন্তু যবেহ করত। ‎









সহীহুল বুখারী (5474)


عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ الزُّهْرِيُّ حَدَّثَنَا عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لاَ فَرَعَ وَلاَ عَتِيرَةَ قَالَ وَالْفَرَعُ أَوَّلُ نِتَاجٍ كَانَ يُنْتَجُ لَهُمْ كَانُوا يَذْبَحُونَه“ لِطَوَاغِيَتِهِمْ وَالْعَتِيرَةُ فِي رَجَبٍ.




আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)‎ হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (ইসলামে) ফারা ও আতীরা নেই। ফারা হল উটের প্রথম বাচ্চা যা ‎তারা তাদের দেব-দেবীর নামে যবেহ্ দিত। আর আতীরা যা রজবে যবেহ করত। ‎(আধুনিক প্রকাশনী- ৫০৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯৬৬)









সহীহুল বুখারী (5475)


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ سَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ صَيْدِ ‏الْمِعْرَاضِ قَالَ ‏"‏ مَا أَصَابَ بِحَدِّهِ فَكُلْهُ، وَمَا أَصَابَ بِعَرْضِهِ فَهْوَ وَقِيذٌ ‏"‏‏.‏ وَسَأَلْتُهُ عَنْ صَيْدِ الْكَلْبِ فَقَالَ ‏"‏ مَا أَمْسَكَ عَلَيْكَ فَكُلْ، فَإِنَّ ‏أَخْذَ الْكَلْبِ ذَكَاةٌ، وَإِنْ وَجَدْتَ مَعَ كَلْبِكَ أَوْ كِلاَبِكَ كَلْبًا غَيْرَهُ فَخَشِيتَ أَنْ يَكُونَ أَخَذَهُ مَعَهُ، وَقَدْ قَتَلَهُ، فَلاَ تَأْكُلْ، فَإِنَّمَا ذَكَرْتَ اسْمَ اللَّهِ ‏عَلَى كَلْبِكَ وَلَمْ تَذْكُرْهُ عَلَى غَيْرِهِ ‏"‏‏.‏




আদী ইবনু হাতিম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ‎ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তীরের ফলার আঘাতে প্রাপ্ত শিকারের ব্যাপারে জিজ্ঞেস ‎করলাম। উত্তরে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তীরের ধারালো অংশের দ্বারা যেটি নিহত হয়েছে সেটি ‎খাও। আর ফলকের বাঁটের আঘাতে যেটি নিহত হয়েছে সেটি ‘অকীয’ (অর্থাৎ থেতলে যাওয়া মৃতের মধ্যে গণ্য)। আমি ‎তাঁকে কুকুরের দ্বারা প্রাপ্ত শিকার সম্পর্কেও জিজ্ঞেস করলাম। উত্তরে তিনি বললেনঃ যে শিকারকে কুকুর তোমার জন্য ধরে ‎রাখে সেটি খাও। কেননা, কুকুরের ঘায়েল করা যবহর হুকুম রাখে। তবে তুমি যদি তোমার কুকুর বা কুকুরগুলোর সঙ্গে ‎অন্য কুকুর পাও এবং তুমি আশঙ্কা কর যে, অন্য কুকুরটিও তোমার কুকুরের শিকার ধরেছে এবং হত্যা করেছে, তা হলে তা ‎খেও না। কারণ, তুমি তো কেবল নিজের কুকুর ছাড়ার সময় বিসমিল্লাহ বলেছ। অন্যের কুকুরের জন্য তা বলনি। ‎(আধুনিক প্রকাশনী- ৫০৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯৬৭)









সহীহুল বুখারী (5476)


سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي السَّفَرِ عَنْ الشَّعْبِيِّ قَالَ سَمِعْتُ عَدِيَّ بْنَ حَاتِمٍ قَالَ سَأَلْتُ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْمِعْرَاضِ فَقَالَ إِذَا أَصَبْتَ بِحَدِّه„ فَكُلْ فَإِذَا أَصَابَ بِعَرْضِه„ فَقَتَلَ فَإِنَّه“ وَقِيذٌ فَلاَ تَأْكُلْ فَقُلْتُ أُرْسِلُ كَلْبِي قَالَ إِذَا أَرْسَلْتَ كَلْبَكَ وَسَمَّيْتَ فَكُلْ قُلْتُ فَإِنْ أَكَلَ قَالَ فَلاَ تَأْكُلْ فَإِنَّه“ لَمْ يُمْسِكْ عَلَيْكَ إِنَّمَا أَمْسَكَ عَلٰى نَفْسِه„ قُلْتُ أُرْسِلُ كَلْبِي فَأَجِدُ مَعَه“ كَلْبًا آخَرَ قَالَ لاَ تَأْكُلْ فَإِنَّكَ إِنَّمَا سَمَّيْتَ عَلٰى كَلْبِكَ وَلَمْ تُسَمِّ عَلٰى آخَرَ.




আদী ইবনু হাতিম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তীরের শিকার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ যদি তীরের ধারালো অংশ দ্বারা আঘাত করে থাক তাহলে খাও, আর যদি ফলার আঘাত লেগে থাকে এবং শিকারটি মারা যায়, তাহলে খেও না। কেননা, সেটি ওয়াকীয বা থেতলে মরার মধ্যে গণ্য। আমি বললামঃ আমি তো শিকারের জন্য কুকুর ছেড়ে দেই। তিনি উত্তর দিলেনঃ যদি তোমার কুকুরকে তুমি বিসমিল্লাহ পড়ে ছেড়ে থাক, তা হলে খাও। আমি আবার বললামঃ যদি কুকুরটা কিছু খেয়ে ফেলে? তিনি বললেনঃ তা হলে খেও না, কারণ সে তা তোমার জন্য ধরে রাখেনি বরং সে ধরেছে নিজের জন্যই। আমি বললামঃ আমি আমার কুকুরকে পাঠিয়ে দেবার জন্য যদি তার সঙ্গে অন্য কুকুরকেও দেখতে পাই, তখন? তিনি বললেনঃ তাহলে খেও না। কেননা, তুমি তো কেবল তোমার কুকুরের উপর বিসমিল্লাহ বলেছ, অন্য কুকুরের উপর বিসমিল্লাহ বলনি।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫০৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯৬৮)









সহীহুল বুখারী (5477)


قَبِيصَةُ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ هَمَّامِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّا نُرْسِلُ الْكِلاَبَ الْمُعَلَّمَةَ قَالَ كُلْ مَا أَمْسَكْنَ عَلَيْكَ قُلْتُ وَإِنْ قَتَلْنَ قَالَ وَإِنْ قَتَلْنَ قُلْتُ وَإِنَّا نَرْمِي بِالْمِعْرَاضِ قَالَ كُلْ مَا خَزَقَ وَمَا أَصَابَ بِعَرْضِه„ فَلاَ تَأْكُلْ.




আদী ইবনু হাতিম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলামঃ হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরগুলোকে শিকারে পাঠিয়ে থাকি। তিনি বললেনঃ কুকুরগুলো তোমার জন্য যেটি ধরে রাখে সেটি খাও। আমি বললামঃ যদি ওরা হত্যা করে ফেলে? তিনি বললেনঃ যদি ওরা হত্যাও করে ফেলে। আমি বললামঃ আমরা তো ফলার দ্বারাও শিকার করে থাকি। তিনি বললেনঃ সেটি খাও, যেটি তীরে যখম করেছে; আর যেটি তীরের পার্শ্বের আঘাতে মারা গেছে সেটি খেও না।[১৭৫; মুসলিম ৩৪/১, হাঃ ১৯২৯, আহমাদ ১৯৩৮৯] আধুনিক প্রকাশনী- ৫০৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯৬৯)









সহীহুল বুখারী (5478)


عَبْدُ اللهِ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا حَيْوَةُ قَالَ أَخْبَرَنِي رَبِيعَةُ بْنُ يَزِيدَ الدِّمَشْقِيُّ عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ عَنْ أَبِي ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيِّ قَالَ قُلْتُ يَا نَبِيَّ اللهِ إِنَّا بِأَرْضِ قَوْمٍ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ أَفَنَأْكُلُ فِي آنِيَتِهِمْ وَبِأَرْضِ صَيْدٍ أَصِيدُ بِقَوْسِي وَبِكَلْبِي الَّذِي لَيْسَ بِمُعَلَّمٍ وَبِكَلْبِي الْمُعَلَّمِ فَمَا يَصْلُحُ لِي قَالَ أَمَّا مَا ذَكَرْتَ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ فَإِنْ وَجَدْتُمْ غَيْرَهَا فَلاَ تَأْكُلُوا فِيهَا وَإِنْ لَمْ تَجِدُوا فَاغْسِلُوهَا وَكُلُوا فِيهَا وَمَا صِدْتَ بِقَوْسِكَ فَذَكَرْتَ اسْمَ اللهِ فَكُلْ وَمَا صِدْتَ بِكَلْبِكَ الْمُعَلَّمِ فَذَكَرْتَ اسْمَ اللهِ فَكُلْ وَمَا صِدْتَ بِكَلْبِكَ غَيْرِ مُعَلَّمٍ فَأَدْرَكْتَ ذَكَاتَه“ فَكُلْ.




আবূ সা’লাবা আল খুশানী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলামঃ হে আল্লাহ্‌র নবী! আমরা আহলে কিতাব সম্প্রদায়ের এলাকায় বসবাস করি। আমরা কি তাদের থালায় খেতে পারি? তাছাড়া আমরা শিকারের অঞ্চলে থাকি। তীর ধনুকের সাহায্যে শিকার করি এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন কুকুর দিয়ে শিকার করে থাকি। এমতাবস্থায় আমার জন্য কোন্‌টা বৈধ হবে? উত্তরে তিনি বললেনঃ তুমি যে সকল আহলে কিতাবের কথা উল্লেখ করলে তাতে বিধান হলঃ যদি অন্য পাত্র পাও তাদের পাত্রে খাবে না। আর যদি না পাও, তাহলে তাদের পাত্রগুলো ধুয়ে নিয়ে তাতে আহার কর। আর যে প্রাণীকে তুমি তোমার তীর ধনুকের সাহায্যে শিকার করেছ এবং বিসমিল্লাহ পড়েছ সেটি খাও। আর যে প্রাণীকে তুমি তোমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরের দ্বারা শিকার করেছ এবং বিসমিল্লাহ পড়েছ, সেটি খাও। আর যে প্রাণীকে তুমি তোমার প্রশিক্ষণবিহীন কুকুর দ্বারা শিকার করেছ, সেটি যদি যবহ করতে পার তবে তা খেতে পার। [৫৪৮৮, ৫৪৯৬; মুসলিম ৩৪/১, হাঃ ১৯৩০, আহমাদ ১৭৭৬৭] আধুনিক প্রকাশনী- ৫০৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯৭০)









সহীহুল বুখারী (5479)


يُوسُفُ بْنُ رَاشِدٍ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ وَيَزِيدُ بْنُ هَارُونَ وَاللَّفْظُ لِيَزِيدَ عَنْ كَهْمَسِ بْنِ الْحَسَنِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مُغَفَّلٍ أَنَّه“ رَأٰى رَجُلاً يَخْذِفُ فَقَالَ لَه“ لاَ تَخْذِفْ فَإِنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم نَهٰى عَنِ الْخَذْفِ أَوْ كَانَ يَكْرَهُ الْخَذْفَ وَقَالَ إِنَّه“ لاَ يُصَادُ بِه„ صَيْدٌ وَلاَ يُنْكٰى بِه„ عَدُوٌّ وَلٰكِنَّهَا قَدْ تَكْسِرُ السِّنَّ وَتَفْقَأُ الْعَيْنَ ثُمَّ رَآه“ بَعْدَ ذ‘لِكَ يَخْذِفُ فَقَالَ لَه“ أُحَدِّثُكَ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّه“ نَهٰى عَنِ الْخَذْفِ أَوْ كَرِهَ الْخَذْفَ وَأَنْتَ تَخْذِفُ لاَ أُكَلِّمُكَ كَذَا وَكَذَا.




‘আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফ্‌ফাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি এক ব্যাক্তিকে দেখলেন, সে ছোট ছোট পাথর নিক্ষেপ করছে। তখন তিনি তাকে বললেনঃ পাথর নিক্ষেপ কর না। কেননা, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাথর ছুঁড়তে নিষেধ করেছেন অথবা রাবী বলেছেনঃ পাথর ছোঁড়াকে তিনি অপছন্দ করতেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ এর দ্বারা কোন প্রাণী শিকার করা হয় না এবং কোন শত্রুকেও ঘায়েল করা হয় না। তবে এটি কারো দাঁত ভেঙ্গে ফেলতে পারে এবং চোখ ফুঁড়ে দিতে পারে। তারপর তিনি আবার তাকে পাথর ছুঁড়তে দেখলেন। তখন তিনি বললেনঃ আমি তোমাকে রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীস বর্ণনা করেছিলাম যে, তিনি পাথর নিক্ষেপ করতে নিষেধ করেছেন অথবা তিনি তা অপছন্দ করছেন। তা সত্ত্বেও তুমি পাথর নিক্ষেপ করছ? আমি তোমার সঙ্গে কথাই বলব না- এতকাল এতকাল পর্যন্ত। [৪৭৪১; মুসলিম ৩৪/১০, হাঃ ১৯৫৪] আধুনিক প্রকাশনী- ৫০৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯৭১)









সহীহুল বুখারী (5480)


مُوسٰى بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ دِينَارٍ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ اقْتَنٰى كَلْبًا لَيْسَ بِكَلْبِ مَاشِيَةٍ أَوْ ضَارِيَةٍ نَقَصَ كُلَّ يَوْمٍ مِنْ عَمَلِه„ قِيرَاطَانِ.




ইবনু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ যে ব্যাক্তি এমন কুকুর পালে যেটি পশু রক্ষার জন্যও নয় কিংবা শিকারের জন্যও নয়; তার ‘আমাল থেকে প্রত্যেহ দু’ কীরাত পরিমাণ কমে যাবে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫০৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯৭২)









সহীহুল বুখারী (5481)


الْمَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ أَخْبَرَنَا حَنْظَلَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ قَالَ سَمِعْتُ سَالِمًا يَقُوْلُ سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ يَقُوْلُ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ مَنْ اقْتَنٰى كَلْبًا إِلاَّ كَلْبًا ضَارِيًا لِصَيْدٍ أَوْ كَلْبَ مَاشِيَةٍ فَإِنَّه“ يَنْقُصُ مِنْ أَجْرِه„ كُلَّ يَوْمٍ قِيرَاطَانِ.




‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত, ব্যাক্তি শিকারী কুকুর কিংবা পশু রক্ষাকারী কুকুর ছাড়া অন্য কোন কুকুর পোষে, সে ব্যাক্তির সাওয়াব থেকে প্রতিদিন দু’ কীরাত পরিমাণ কমে যায়।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫০৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯৭৩)









সহীহুল বুখারী (5482)


عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ اقْتَنٰى كَلْبًا إِلاَّ كَلْبَ مَاشِيَةٍ أَوْ ضَارِيًا نَقَصَ مِنْ عَمَلِه„ كُلَّ يَوْمٍ قِيرَاطَانِ.




‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি পশু রক্ষাকারী কিংবা শিকারী কুকুর ছাড়া অন্য কুকুর পালে, তার ‘আমাল থেকে প্রতিদিন দু’কীরাত পরিমাণ সাওয়াব কমে যায়।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫০৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯৭৪)









সহীহুল বুখারী (5483)


قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ عَنْ بَيَانٍ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ قَالَ سَأَلْتُ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قُلْتُ إِنَّا قَوْمٌ نَصِيدُ بِهٰذِهِ الْكِلاَبِ فَقَالَ إِذَا أَرْسَلْتَ كِلاَبَكَ الْمُعَلَّمَةَ وَذَكَرْتَ اسْمَ اللهِ فَكُلْ مِمَّا أَمْسَكْنَ عَلَيْكُمْ وَإِنْ قَتَلْنَ إِلاَّ أَنْ يَأْكُلَ الْكَلْبُ فَإِنِّي أَخَافُ أَنْ يَكُونَ إِنَّمَا أَمْسَكَه“ عَلٰى نَفْسِه„ وَإِنْ خَالَطَهَا كِلاَبٌ مِنْ غَيْرِهَا فَلاَ تَأْكُلْ.




আদী ইবনু হাতিম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলামঃ আমরা এমন সম্প্রদায়, যারা এ সকল কুকুরের দ্বারা শিকার করে থাকি। তিনি বললেনঃ তুমি যদি তোমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরগুলোকে বিসমিল্লাহ পড়ে পাঠিয়ে থাক তাহলে ওরা যেগুলো তোমাদের জন্য ধরে রাখে, তা খাও; যদিও শিকারকে কুকুর হত্যা করে ফেলে। তবে যদি কুকুর শিকারের কিছুটা খেয়ে ফেলে (তাহলে খাবে না)। কেননা, তখন আমার আশঙ্কা হয় যে, সে শিকার নিজেরই উদ্দেশ্যে ধরেছে। আর যদি তার সঙ্গে অন্য কুকুর মিলে যায়, তাহলে খাবে না।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫০৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯৭৫)