সহীহুল বুখারী
عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ يَحْيٰى بْنُ سَعِيدٍ سَمِعْتُ بُشَيْرَ بْنَ يَسَارٍ يَقُوْلُ حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ النُّعْمَانِ قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِلٰى خَيْبَرَ فَلَمَّا كُنَّا بِالصَّهْبَاءِ قَالَ يَحْيٰى وَهِيَ مِنْ خَيْبَرَ عَلٰى رَوْحَةٍ دَعَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِطَعَامٍ فَمَا أُتِيَ إِلاَّ بِسَوِيقٍ فَلُكْنَاه“ فَأَكَلْنَا مِنْه“ ثُمَّ دَعَا بِمَاءٍ فَمَضْمَضَ وَمَضْمَضْنَا فَصَلّٰى بِنَا الْمَغْرِبَ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ قَالَ سُفْيَانُ سَمِعْتُه“ مِنْه“ عَوْدًا وَبَدْءًا.
সুওয়ায়দ ইবনু নু’মান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে খাইবারের দিকে বের হলাম। আমরা সাহ্বা (খাইবারের এক মঞ্জিল দূরে অবস্থিত) নামক স্থানে পৌঁছলে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খাবার আনতে বললেন। কিন্তু ছাতু ব্যতীত আর কিছুই আনা হলো না। আমরা তা-ই গুলে খেলাম। তারপর তিনি পানি আনতে বললেন এবং তিনি কুলি করলেন, আমরাও কুলি করলাম। তারপর তিনি আমাদের নিয়ে মাগরিবের সলাত আদায় করলেন; আর তিনি অযূ করলেন না। সুফিয়ান বলেনঃ আমি ইয়াহ্ইয়া ইবনু সাঈদের কাছে হাদীসটি শুরু হতে শেষ পর্যন্ত শুনেছি।(আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৭৯)
مُحَمَّدُ بْنُ سِنَانٍ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ عَنْ قَتَادَةَ قَالَ كُنَّا عِنْدَ أَنَسٍ وَعِنْدَه“ خَبَّازٌ لَه“ فَقَالَ مَا أَكَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم خُبْزًا مُرَقَّقًا وَلاَ شَاةً مَسْمُوطَةً حَتّٰى لَقِيَ اللهَ.
ক্বাতাদাহ (রাঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমরা আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর কাছে ছিলাম। তাঁর সঙ্গে তাঁর বাবুর্চিও ছিল। তিনি বললেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহ্র সঙ্গে মিলিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত পাতলা নরম রুটি এবং ভূনা বক্রীর গোশ্ত খাননি।(আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৮০)
عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ يُونُسَ قَالَ عَلِيٌّ هُوَ الإِسْكَافُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ مَا عَلِمْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَكَلَ عَلٰى سُكْرُجَةٍ قَطُّ وَلاَ خُبِزَ لَه“ مُرَقَّقٌ قَطُّ وَلاَ أَكَلَ عَلٰى خِوَانٍ قَطُّ قِيلَ لِقَتَادَةَ فَعَلاَمَ كَانُوا يَأْكُلُونَ قَالَ عَلٰى السُّفَرِ.
আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনও ‘সুকুর্জা’ অর্থাৎ ছোট ছোট পাত্রে আহার করেছেন, তার জন্য কখনও নরম রুটি বানানো হয়েছে কিংবা তিনি কখনো টেবিলের উপর আহার করেছেন বলে আমি জানি না। ক্বাতাদাহকে জিজ্ঞেস করা হলো, তাহলে তাঁরা কিসের উপর আহার করতেন। তিনি বললেনঃ দস্তরখানের উপর।(আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৮১)
ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ أَخْبَرَنِي حُمَيْدٌ أَنَّه“ سَمِعَ أَنَسًا يَقُوْلُ قَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَبْنِي بِصَفِيَّةَ فَدَعَوْتُ الْمُسْلِمِينَ إِلٰى وَلِيمَتِه„ أَمَرَ بِالأَنْطَاعِ فَبُسِطَتْ فَأُلْقِيَ عَلَيْهَا التَّمْرُ وَالأَقِطُ وَالسَّمْنُ وَقَالَ عَمْرٌو عَنْ أَنَسٍ بَنٰى بِهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ صَنَعَ حَيْسًا فِي نِطَعٍ.
আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সফীয়্যাহ্র সঙ্গে বাসর করার জন্য অবস্থান করলেন। আমি তাঁর ওলীমার জন্য মুসলিমদের দাওয়াত করলাম। তাঁর নির্দেশে দস্তরখান বিছানো হলো। তারপর তার উপর খেজুর, পনির ও ঘি ঢালা হলো। ‘আমর আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সঙ্গে বাসর করলেন এবং চামড়ার দস্তরখানে ‘হায়স’ (ঘি, খেজুর ইত্যাদি মিশিয়ে বানানো খাবার) তৈরী করলেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৮২)
مُحَمَّدٌ أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ أَبِيهِ وَعَنْ وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ قَالَ كَانَ أَهْلُ الشَّأْمِ يُعَيِّرُونَ ابْنَ الزُّبَيْرِ يَقُوْلُونَ يَا ابْنَ ذَاتِ النِّطَاقَيْنِ فَقَالَتْ لَه“ أَسْمَاءُ يَا بُنَيَّ إِنَّهُمْ يُعَيِّرُونَكَ بِالنِّطَاقَيْنِ هَلْ تَدْرِي مَا كَانَ النِّطَاقَانِ إِنَّمَا كَانَ نِطَاقِي شَقَقْتُه“ نِصْفَيْنِ فَأَوْكَيْتُ قِرْبَةَ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِأَحَدِهِمَا وَجَعَلْتُ فِي سُفْرَتِه„ آخَرَ قَالَ فَكَانَ أَهْلُ الشَّأْمِ إِذَا عَيَّرُوه“ بِالنِّطَاقَيْنِ يَقُوْلُ إِيهًا وَالإِلَهِ تِلْكَ شَكَاةٌ ظَاهِرٌ عَنْكَ عَارُهَا.
ওয়াহ্ব ইবনু কায়সান (রাহিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সিরিয়াবাসীরা ইবনু যুবায়রকে ইবনু যাতান নিতাকায়ন’ বলে লজ্জা দিত। আসমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাকে বললেনঃ হে আমার প্রিয় পুত্র! তারা তোমাকে ‘নিতাকায়ন’ বলে লজ্জা দিয়েছে? তুমি কি ‘নিতাকায়’ (দু’ কোমরবন্দ) সমন্ধে কিছু জান? আসলে তা ছিল আমারই কোমরবন্দ যা দু’ভাগ করে আমি এক অংশ দিয়ে (হিজরাতের সময়) রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খাবারের থলি মুখ বেঁধে দিয়েছিলাম। আর অপর অংশ দস্তরখান বানিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর থেকে সিরিয়া বাসীরা যখনই তাঁকে ‘নিতাকায়ন’ বলে লজ্জা দিতে চাইত, তিনি বলতেনঃ তোমরা সত্যই বলছ। আল্লাহ্র শপথ! এটি এমন এক অভিযোগ যা তোমা থেকে লজ্জা আরো দূর করে দেয়।(আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৮৩)
أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ أَبِي بِشْرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ أُمَّ حُفَيْدٍ بِنْتَ الْحَارِثِ بْنِ حَزْنٍ خَالَةَ ابْنِ عَبَّاسٍ أَهْدَتْ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم سَمْنًا وَأَقِطًا وَأَضُبًّا فَدَعَا بِهِنَّ فَأُكِلْنَ عَلٰى مَائِدَتِه„ وَتَرَكَهُنَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم كَالْمُسْتَقْذِرِ لَهُنَّ وَلَوْ كُنَّ حَرَامًا مَا أُكِلْنَ عَلٰى مَائِدَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلاَ أَمَرَ بِأَكْلِهِنَّ.
ইবনু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তাঁর খালা হাফীদ বিন্ত হারিস ইবনু হায্ন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে ঘি, পনির এবং যব্ব হাদিয়া দিলেন। তিনি এগুলো তাঁর কাছে আনতে বললেন। তারপর এগুলো তার দস্তরখানে খাওয়া হলো। তিনি অপছন্দনীয় মনে করে যব্বগুলো খেলেন না। এগুলো হারাম হলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দস্তরখানে তা খাওয়া হতো না। আর তিনি এগুলো খাওয়ার অনুমতিও দিতেন না।(আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৮৪)
سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ يَحْيٰى عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ سُوَيْدِ بْنِ النُّعْمَانِ أَنَّه“ أَخْبَرَه“ أَنَّهُمْ كَانُوا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِالصَّهْبَاءِ وَهِيَ عَلٰى رَوْحَةٍ مِنْ خَيْبَرَ فَحَضَرَتْ الصَّلاَةُ فَدَعَا بِطَعَامٍ فَلَمْ يَجِدْه“ إِلاَّ سَوِيقًا فَلاَكَ مِنْه“ فَلُكْنَا مَعَه“ ثُمَّ دَعَا بِمَاءٍ فَمَضْمَضَ ثُمَّ صَلّٰى وَصَلَّيْنَا وَلَمْ يَتَوَضَّأْ.
সুওয়ায়দ ইবনু নু’মান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তাঁরা একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে ‘সাহ্বা’ নামক স্থানে উপস্থিত ছিলেন। সাহ্বা ছিল খায়বার থেকে এক মন্যিলের দূরত্বে। সলাতের সময় হলে তিনি খাবার আনতে বললেন। কিন্তু ছাতু ব্যতীত আর কিছুই পেলেন না। তিনি তাই মুখ নাড়াচাড়া করলেন, আমরাও তাঁর সঙ্গে মুখে নাড়াচাড়া করলাম। তারপর তিনি পানি আনালেন এবং কুলি করে সলাত আদায় করলেন। আমরাও তাঁর সঙ্গে সলাত আদায় করলাম। আর তিনি ওযু করলেন না।(আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৮৫)
مُحَمَّدُ بْنُ مُقَاتِلٍ أَبُو الْحَسَنِ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ أَخْبَرَنَا يُونُسُ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو أُمَامَةَ بْنُ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ الأَنْصَارِيُّ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ أَخْبَرَه“ أَنَّ خَالِدَ بْنَ الْوَلِيدِ الَّذِي يُقَالُ لَه“ سَيْفُ اللهِ أَخْبَرَه“ أَنَّه“ دَخَلَ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَلٰى مَيْمُونَةَ وَهِيَ خَالَتُه“ وَخَالَةُ ابْنِ عَبَّاسٍ فَوَجَدَ عِنْدَهَا ضَبًّا مَحْنُوذًا قَدْ قَدِمَتْ بِه„ أُخْتُهَا حُفَيْدَةُ بِنْتُ الْحَارِثِ مِنْ نَجْدٍ فَقَدَّمَتْ الضَّبَّ لِرَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ قَلَّمَا يُقَدِّمُ يَدَه“ لِطَعَامٍ حَتّٰى يُحَدَّثَ بِه„ وَيُسَمّٰى لَه“ فَأَهْو‘ى رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَدَه“ إِلٰى الضَّبِّ فَقَالَتْ امْرَأَةٌ مِنَ النِّسْوَةِ الْحُضُورِ أَخْبِرْنَ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَا قَدَّمْتُنَّ لَه“ هُوَ الضَّبُّ يَا رَسُوْلَ اللهِ فَرَفَعَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَدَه“ عَنْ الضَّبِّ فَقَالَ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ أَحَرَامٌ الضَّبُّ يَا رَسُوْلَ اللهِ قَالَ لاَ وَلٰكِنْ لَمْ يَكُنْ بِأَرْضِ قَوْمِي فَأَجِدُنِي أَعَافُه“ قَالَ خَالِدٌ فَاجْتَرَرْتُه“ فَأَكَلْتُه“ وَرَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَنْظُرُ إِلَيَّ.
ইবনু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) যাঁকে ‘সাইফুল্লাহ’ বলা হতো তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে মাইমূনাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর গৃহে প্রবেশ করলেন। মাইমূনাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর ও ইবনু ‘আব্বাসের খালা ছিলেন। তিনি তাঁর কাছে একটি ভুনা যব্ব দেখতে পেলেন, যা নজ্দ থেকে তাঁর (মাইমূনাহর) বোন হুদাইফা বিন্ত হারিস নিয়ে এসে ছিলেন। মাইমূনাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) যব্বটি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে হাজির করলেন। তাঁর অভ্যাস ছিল, কোন খাদ্যের নাম ও বর্ণনা বলে না দেয়া পর্যন্ত তিনি খুব কমই তার প্রতি হাত বাড়াতেন। তিনি যব্বের দিকে হাত বাড়ালে উপস্থিত মহিলাদের মধ্যে একজন বললঃ তোমরা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে যা পেশ করেছ সে সম্বন্ধে তাঁকে অবহিত কর। বলা হলঃ হে রাসূলুল্লাহ! ওটা যব্ব। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর হাত উঠিয়ে নিলেন। খালিদ বিন ওয়ালীদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) জিজ্ঞেস করলেনঃ হে রাসূলুল্লাহ! যব্ব খাওয়া কি হারাম? তিনি বললেনঃ না। কিন্তু যেহেতু এটা আমাদের এলাকায় নেই। তাই এটি খাওয়া আমি পছন্দ করি না। খালিদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমি সেটা টেনে নিয়ে খেতে থাকলাম। আর রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার দিকে তাকিয়ে থাকলেন। [৩৬][৫৪০০, ৫৫৩৭; মুসলিম ৩৪/৭, হাঃ ১৯৪৫, ১৭৪৬, আহমাদ ১৬৮১৫] আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৮৬)
عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ ح و حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّه“ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم طَعَامُ الِاثْنَيْنِ كَافِي الثَّلاَثَةِ وَطَعَامُ الثَّلاَثَةِ كَافِي الأَرْبَعَةِ.
আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ দু’জনের খাদ্য তিনজনের জন্য যথেষ্ট এবং তিনজনের খাদ্য চারজনের জন্য যথেষ্ট। [মুসলিম ৩৬/৩৩, হাঃ ২০৫৮, আহমাদ ৭৩২৪] আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৮৭)
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ وَاقِدِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ نَافِعٍ قَالَ كَانَ ابْنُ عُمَرَ لاَ يَأْكُلُ حَتّٰى يُؤْتٰى بِمِسْكِينٍ يَأْكُلُ مَعَه“ فَأَدْخَلْتُ رَجُلاً يَأْكُلُ مَعَه“ فَأَكَلَ كَثِيرًا فَقَالَ يَا نَافِعُ لاَ تُدْخِلْ هٰذَا عَلَيَّ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلميَقُوْلُ الْمُؤْمِنُ يَأْكُلُ فِي مِعًى وَاحِدٍ وَالْكَافِرُ يَأْكُلُ فِي سَبْعَةِ أَمْعَاءٍ.
মুহাম্মাদ ইবনু বাশ্শার (রাহিঃ) নাফি’ (রাহিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ততক্ষণ পর্যন্ত আহার করতেন না যতক্ষণ না তাঁর সঙ্গের খাওয়ার জন্য একজন মিসকীনকে ডেকে আনা হতো। একদা আমি তাঁর সঙ্গে বসে খাওয়ার জন্য এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসলাম। লোকটি খুব অধিক আহার করল। তিনি বললেনঃ নাফি’! এমন মানুষ কে আমার কাছে নিয়ে আসবে না। আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছি, মু’মিন এক পেটে খায়। আর কাফির সাত পেটে খায়।[৫৩৯৪; মুসলিম ৩৬/৩৪, হাঃ ২০৬০, আহমাদ ১৫২২০] আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৮৮)
مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ الْمُؤْمِنَ يَأْكُلُ فِي مِعًى وَاحِدٍ وَإِنَّ الْكَافِرَ أَوِ الْمُنَافِقَ فَلاَ أَدْرِي أَيَّهُمَا قَالَ عُبَيْدُ اللهِ يَأْكُلُ فِي سَبْعَةِ أَمْعَاءٍ وَقَالَ ابْنُ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّصلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ.
ইবনু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মু’মিন এক পেটে খায় আর কাফির অথবা বলেছেন, মুনাফিক; রাবী বলেন, এ দু’টি শব্দের মধ্যে আমার সন্দেহ আছে যে, বর্ণনাকারী কোনটি বলেছেন- ‘উবাইদুল্লাহ বলেনঃ সাত পেটে খায়।
ইবনু বুকাইর বলেন, মালিক (রাহিঃ) নাফি’ (রাহিঃ)-এর সূত্রে ইবনু ‘উমার থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৮৯)
عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرٍو قَالَ كَانَ أَبُو نَهِيكٍ رَجُلاً أَكُولاً فَقَالَ لَهُ ابْنُ عُمَرَ إِنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ الْكَافِرَ يَأْكُلُ فِي سَبْعَةِ أَمْعَاءٍ فَقَالَ فَأَنَا أُومِنُ بِاللهِ وَرَسُوْلِهِ.
‘আম্র (রাহিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আবূ নাহীক খুব বেশী ভোজনকারী লোক ছিলেন। ইবনু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁকে বললেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কাফির সাত পেটে খায়। আবূ নাহীক বললেনঃ আমি তো আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান পোষণ করি। [৫৩৯৪; মুসলিম ৩৬/৩৪, হাঃ ২০৬০, ২০৬১, আহমাদ ১৫২২০] আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৯০)
إِسْمَاعِيلُ قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَأْكُلُ الْمُسْلِمُ فِي مِعًى وَاحِدٍ وَالْكَافِرُ يَأْكُلُ فِي سَبْعَةِ أَمْعَاءٍ.
আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মু’মিন এক পেটে খায় আর কাফির সাত পেটে খায়। [৩৭][৫৩৯৭; মুসলিম ৩৬/৩৫, হাঃ ২০৬২, ২০৬৩, আহমাদ ৭৭৭৭] আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৯১)
سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَجُلاً كَانَ يَأْكُلُ أَكْلاً كَثِيرًا فَأَسْلَمَ فَكَانَ يَأْكُلُ أَكْلاً قَلِيلاً فَذُكِرَ ذ‘لِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ الْمُؤْمِنَ يَأْكُلُ فِي مِعًى وَاحِدٍ وَالْكَافِرَ يَأْكُلُ فِي سَبْعَةِ أَمْعَاءٍ.
আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, এক লোক খুব বেশী পরিমাণে আহার করত। লোকটি মুসলিম হলে অল্প আহার করতে লাগল। ব্যপারটি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক কাছে উল্লেখ করা হলে তিনি বললেনঃ মু’মিন এক পেটে খায়, আর কাফির খায় সাত পেটে।[৫৩৯৯; মুসলিম ৩৬/৩৫, হাঃ ৬০৬৩, ৬০৬৪, আহমাদ ৭৭৭৭] আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৯২)
أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا مِسْعَرٌ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الأَقْمَرِ سَمِعْتُ أَبَا جُحَيْفَةَ يَقُوْلُ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لاَ آكُلُ مُتَّكِئًا.
আবূ জুহাইফাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি হেলান দিয়ে খাদ্য গ্রহন করি না। [৩৮](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৯৩)
عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الأَقْمَرِ عَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ قَالَ كُنْتُ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لِرَجُلٍ عِنْدَه“ لاَ آكُلُ وَأَنَا مُتَّكِئٌ.
আবূ জুহাইফাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে ছিলাম। তিনি তাঁর নিকট উপবিষ্ট জনৈক ব্যক্তিকে বললেনঃ আমি হেলান দিয়ে খাবার খাই না।(আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৯৪)
عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ يُوسُفَ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ قَالَ أُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِضَبٍّ مَشْوِيٍّ فَأَهْو‘ى إِلَيْهِ لِيَأْكُلَ فَقِيلَ لَه“ إِنَّه“ ضَبٌّ فَأَمْسَكَ يَدَه“ فَقَالَ خَالِدٌ أَحَرَامٌ هُوَ قَالَ لاَ وَلٰكِنَّه“ لاَ يَكُونُ بِأَرْضِ قَوْمِي فَأَجِدُنِي أَعَافُه“ فَأَكَلَ خَالِدٌ وَرَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَنْظُرُ قَالَ مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ بِضَبٍّ مَحْنُوذٍ.
খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ভুনা যবব আনা হলে তিনি তা খাওয়ার উদ্দেশে হাত বাড়ালেন। তখন তাঁকে বলা হলোঃ এটাতো যবব, এতে তিনি হাত গুটিয়ে নিলেন। খালিদ জিজ্ঞেস করলেনঃ এটা কি হারাম? তিনি বললেনঃ না। যেহেতু এটা আমাদের এলাকায় নেই তাই আমি এটা খাওয়া পছন্দ করি না। তারপর খালিদ তা খেতে থাকলেন, আর রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামদেখছিলেন। মালিক, ইবনু শিহাব হতেبِضَبٍّ مَشْوِيٍّ এর স্থলে)بِضَبٍّ مَحْنُوذٍ বলেছেন। [৫৩৯১] আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৯৫)
يَحْيٰى بْنُ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ عُقَيْلٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ أَخْبَرَنِي مَحْمُودُ بْنُ الرَّبِيعِ الأَنْصَارِيُّ أَنَّ عِتْبَانَ بْنَ مَالِكٍ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِمَّنْ شَهِدَ بَدْرًا مِنَ الأَنْصَارِ أَنَّه“ أَتٰى رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنِّي أَنْكَرْتُ بَصَرِي وَأَنَا أُصَلِّي لِقَوْمِي فَإِذَا كَانَتْ الأَمْطَارُ سَالَ الْوَادِي الَّذِي بَيْنِي وَبَيْنَهُمْ لَمْ أَسْتَطِعْ أَنْ آتِيَ مَسْجِدَهُمْ فَأُصَلِّيَ لَهُمْ فَوَدِدْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَنَّكَ تَأْتِي فَتُصَلِّي فِي بَيْتِي فَأَتَّخِذُه“ مُصَلًّى فَقَالَ سَأَفْعَلُ إِنْ شَاءَ اللهُ قَالَ عِتْبَانُ فَغَدَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ حِينَ ارْتَفَعَ النَّهَارُ فَاسْتَأْذَنَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَأَذِنْتُ لَه“ فَلَمْ يَجْلِسْ حَتّٰى دَخَلَ الْبَيْتَ ثُمَّ قَالَ لِي أَيْنَ تُحِبُّ أَنْ أُصَلِّيَ مِنْ بَيْتِكَ فَأَشَرْتُ إِلٰى نَاحِيَةٍ مِنَ الْبَيْتِ فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَكَبَّرَ فَصَفَفْنَا فَصَلّٰى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ وَحَبَسْنَاه“ عَلٰى خَزِيرٍ صَنَعْنَاه“ فَثَابَ فِي الْبَيْتِ رِجَالٌ مِنْ أَهْلِ الدَّارِ ذَوُو عَدَدٍ فَاجْتَمَعُوا فَقَالَ قَائِلٌ مِنْهُمْ أَيْنَ مَالِكُ بْنُ الدُّخْشُنِ فَقَالَ بَعْضُهُمْ ذ‘لِكَ مُنَافِقٌ لاَ يُحِبُّ اللهَ وَرَسُوْلَه“ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لاَ تَقُلْ أَلاَ تَرَاه“ قَالَ لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ يُرِيدُ بِذ‘لِكَ وَجْهَ اللهِ قَالَ اللهُ وَرَسُوْلُه“ أَعْلَمُ قَالَ قُلْنَا فَإِنَّا نَر‘ى وَجْهَه“ وَنَصِيحَتَه“ إِلَى الْمُنَافِقِينَ فَقَالَ فَإِنَّ اللهَ حَرَّمَ عَلٰى النَّارِ مَنْ قَالَ لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ يَبْتَغِي بِذ‘لِكَ وَجْهَ اللهِ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ ثُمَّ سَأَلْتُ الْحُصَيْنَ بْنَ مُحَمَّدٍ الأَنْصَارِيَّ أَحَدَ بَنِي سَالِمٍ وَكَانَ مِنْ سَرَاتِهِمْ عَنْ حَدِيثِ مَحْمُودٍ فَصَدَّقَهُ.
ইয়াহ্ইয়া ইবনু বুকাইর (রাহিঃ) ‘ইতবান ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী আনসান সাহাবীদের একজন। একবার তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বলেনঃ হে রাসূলুল্লাহ! আমার দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। আমি আমার গোত্রের লোকদের নিতে সলাত আদায় করি। কিন্তু বৃষ্টি হলে আমার ও তাদের মধ্যকার উপত্যকায় পানি প্রবাহিত হয়। তখন আমি তাদের মসজিদে আসতে পারি না যে, তাদের নিয়ে সলাত আদায় করব। তাই হে রাসূলুল্লাহ! আমার আকাঙ্ক্ষা, আপনি এসে যদি আমার ঘরে সলাত আদায় করতেন, তাহলে আমি সে স্থান সলাতের জন্য নির্ধারণ করে নিতাম। তিনি বললেনঃ ইন্শাআল্লাহ্ আমি শীঘ্রই তা করব। ‘ইতবান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেনঃ পূর্ণরূপে সূর্য কিছু উপরে উঠলে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আসলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনুমতি চাইলেন। আমি তাকে অনুমতি দিলাম। তিনি না বসেই সঙ্গে সঙ্গেই ঘরে প্রবেশ করে আমাকে বললেনঃ তোমার ঘরের কোন স্থানে আমার সলাত আদায় করা তোমার পছন্দ? আমি ঘরের এক দিকে ইশারা করলাম। তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে তাকবীর বললেন। আমরা কাতার বাঁধলাম। তিনি দু’রাক’আত সলাত আদায় করে সালাম ফিরালেন। আমরা যে হাযীরা প্রস্তুত করেছিলাম তা খাওয়ার জন্য তাঁকে বসালাম। তাঁর মহল্লার বহু সংখ্যক লোক প্রবেশ করতে লাগল। তারপর তারা সমবেত হলে তাদের একজন বলল, মালিক ইবনু দুখশান কোথায়? আরেকজন বললঃ সে মুনাফিক? অন্য একজন বললঃ সে মুনাফিক, সে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে ভালবাসে না। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এমন কথা বলো না। তুমি কি জান না, সে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়েছে? লোকটি বললঃ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল-ই ভাল জানেন। সে আবার বললঃ কিন্তু আমরা যে মুনাফিকদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ও তাদের প্রতি শুভ কামনা দেখতে পাই? তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তো জাহান্নামকে ঐলোকের জন্য হারাম করে দিয়েছেন যে আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করবে। ইবনু শিহাব বলেনঃ এরপর আমি হুসাইন ইবনু মুহাম্মাদ আনসারী, যিনি ছিলেন বানূ সালিমের একজন নেতৃস্থানীয় লোক, তাকে মাহমূদের এ হাদীসের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি এর সত্যতা স্বীকার করলেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫০০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৯৬)
مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي بِشْرٍ عَنْ سَعِيدٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أَهْدَتْ خَالَتِي إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ضِبَابًا وَأَقِطًا وَلَبَنًا فَوُضِعَ الضَّبُّ عَلٰى مَائِدَتِه„ فَلَوْ كَانَ حَرَامًا لَمْ يُوضَعْ وَشَرِبَ اللَّبَنَ وَأَكَلَ الأَقِطَ.
ইবনু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমার খালা কয়েকটি যব্ব, কিছু পনির এবং দুধ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে হাদিয়া দিলেন এবং দস্তরখানে ‘যব্ব’ রাখা হয়। যদি তা হারাম হতো তার দস্তরখানে তা রাখা হতো না। তিনি (শুধু) দুধ পান করলেন এবং পনির খেলেন। [২৫৭৫; মুসলিম ৩৪০/৭, হাঃ ১৯৪৭] আধুনিক প্রকাশনী- ৫০০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৯৭)
يَحْيٰى بْنُ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ إِنْ كُنَّا لَنَفْرَحُ بِيَوْمِ الْجُمُعَةِ كَانَتْ لَنَا عَجُوزٌ تَأْخُذُ أُصُولَ السِّلْقِ فَتَجْعَلُه“ فِي قِدْرٍ لَهَا فَتَجْعَلُ فِيهِ حَبَّاتٍ مِنْ شَعِيرٍ إِذَا صَلَّيْنَا زُرْنَاهَا فَقَرَّبَتْه“ إِلَيْنَا وَكُنَّا نَفْرَحُ بِيَوْمِ الْجُمُعَةِ مِنْ أَجْلِ ذ‘لِكَ وَمَا كُنَّا نَتَغَد‘ى وَلاَ نَقِيلُ إِلاَّ بَعْدَ الْجُمُعَةِ وَاللهِ مَا فِيهِ شَحْمٌ وَلاَ وَدَكٌ.
সাহল ইবনু সা’দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, জুমু’আর দিন আসলে আমরা খুবই খুশী হতাম। এক বৃদ্ধা আমাদের জন্য সিলক (শালগম জাতীয় এক প্রকার সুস্বাদু সবজী)-এর মূল তুলে তা তাঁর হাঁড়িতে চড়িয়ে দিতেন। তারপর এতে অল্প কিছু যব ছেড়ে দিতেন। [৩৯] সলাতের পর আমরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি এ খাবার আমাদের সম্মুখে হাজির করতেন। এ কারণেই জুমু’আহর দিন আসলে আমরা খুব খুশী হতাম। আমরা সকালে আহার ও বিশ্রাম গ্রহণ করতাম না জুমু’আহর পর ব্যতীত। আল্লাহর কসম! সে খাদ্যে কোন চর্বি থাকত না।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫০০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৯৮)