সহীহুল বুখারী
أَبُو الْيَمَانِ حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ وَأَخْبَرَنِيْ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ قَالَ فَأَمَرَ عُثْمَانُ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ وَسَعِيْدَ بْنَ الْعَاصِ وَعَبْدَ اللهِ بْنَ الزُّبَيْرِ وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ أَنْ يَنْسَخُوْهَا فِي الْمَصَاحِفِ وَقَالَ لَهُمْ إِذَااخْتَلَفْتُمْ أَنْتُمْ وَزَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ فِيْ عَرَبِيَّةٍ مِنْ عَرَبِيَّةِ الْقُرْآنِ فَاكْتُبُوْهَا بِلِسَانِ قُرَيْشٍ فَإِنَّ الْقُرْآنَ أُنْزِلَ بِلِسَانِهِمْ فَفَعَلُوْا.
আনাস ইব্নু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) যায়দ ইব্নু সাবিত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা), সা’ঈদ ইব্নুল ‘আস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা), ‘আব্দুল্লাহ্ ইব্নু যুবায়র (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এবং ‘আবদুর রহমান ইব্নু হারিস ইব্নু হিশাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)– কে পবিত্র কুরআন গ্রন্থাগারে লিপিবদ্ধ করার জন্য আদেশ দিলেন এবং তাদেরকে বললেন, আল কুরআনের কোন শব্দের আরাবী হওয়ার ব্যাপারে যায়দ ইবনু সাবিতের সঙ্গে তোমাদের মতভেদ দেখা দিলে তোমরা তা কুরাইশদের ভাষায় লিপিবদ্ধ করবে। কারণ, কুরআন তাদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। অতএব তাঁরা তা-ই করলেন।(আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬১৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬১৯)
أَبُوْ نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا عَطَاءٌ وَقَالَ مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيْدٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ أَخْبَرَنِيْ عَطَاءٌ قَالَ أَخْبَرَنِيْ صَفْوَانُ بْنُ يَعْلَى بْنِ أُمَيَّةَ أَنَّ يَعْلَى كَانَ يَقُوْلُ لَيْتَنِيْ أَرَى رَسُوْلَ اللهِصلى الله عليه وسلم حِيْنَ يُنْزَلُ عَلَيْهِ الْوَحْيُ فَلَمَّا كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِالْجِعْرَانَةِ عَلَيْهِ ثَوْبٌ قَدْ أَظَلَّ عَلَيْهِ وَمَعَهُ نَاسٌ مِنْ أَصْحَابِهِ إِذْ جَاءَهُ رَجُلٌ مُتَضَمِّخٌ بِطِيْبٍ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ كَيْفَ تَرَى فِيْ رَجُلٍ أَحْرَمَ فِيْ جُبَّةٍ بَعْدَ مَا تَضَمَّخَ بِطِيْبٍ فَنَظَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم سَاعَةً فَجَاءَهُ الْوَحْيُ فَأَشَارَ عُمَرُ إِلَى يَعْلَى أَنْ تَعَالَ فَجَاءَ يَعْلَى فَأَدْخَلَ رَأْسَهُ فَإِذَا هُوَ مُحْمَرُّ الْوَجْهِ يَغِطُّ كَذَلِكَ سَاعَةً ثُمَّ سُرِّيَ عَنْهُ فَقَالَ أَيْنَ الَّذِيْ يَسْأَلُنِيْ عَنِ الْعُمْرَةِ آنِفًا فَالْتُمِسَ الرَّجُلُ فَجِيْءَ بِهِ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَمَّا الطِّيْبُ الَّذِيْ بِكَ فَاغْسِلْهُ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ وَأَمَّا الْجُبَّةُ فَانْزِعْهَا ثُمَّ اصْنَعْ فِيْ عُمْرَتِكَ كَمَا تَصْنَعُ فِيْ حَجِّكَ.
ইয়ালা ইব্নু ‘উমাইয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলতেন, হায়! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)– এর প্রতি ওয়াহী অবতীর্ণ হওয়ার সময় যদি তাঁকে দেখতে পারতাম। যখন নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘জিয়িররানা’ নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন এবং চাঁদোয়া দিয়ে তাঁর উপর ছায়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং তাঁর সঙ্গে ছিলেন কতিপয় সাহাবী। এমন সময় সুগন্ধি মেখে এক ব্যক্তি এলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! ঐ সম্পর্কে আপনার মত কী, যে সুগন্ধি মেখে জুব্বা পরে ইহ্রাম বেঁধেছে? কিছু সময়ের জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অপেক্ষা করলেন, এমনি সময় ওয়াহী এল। ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ইয়ালা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)– কে ইশারা দিয়ে ডাকলেন। ইয়ালা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এলেন এবং তাঁর মাথা ঐ চাদরের ভেতর ঢোকালেন। দেখলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর মুখমণ্ডল লাল রক্তিম বর্ণ এবং কিছু সময়ের জন্য বেশ জোরে জোরে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করছেন। তারপর তাঁর থেকে এ অবস্থা সম্পূর্ণরূপে দূর হওয়ার পর তিনি বললেন, প্রশ্নকারী কোথায় যে কিছুক্ষণ পূর্বে আমাকে ‘উমরাহ্ সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিল? লোকটিকে খুঁজে নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)– এর নিকট নিয়ে আসা হল। নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যে সুগন্ধি তুমি তোমার শরীরে মেখেছ, তা তিনবার ধুয়ে ফেলবে আর জুব্বাটি খুলে ফেলবে। তারপর তুমি তোমার ‘উমরাহ্তে ঐ সমস্ত কাজ করবে, যা তুমি হাজ্জের মধ্যে করে থাক।(আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬১৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬২০)
مُوْسَى بْنُ إِسْمَاعِيْلَ عَنْ إِبْرَاهِيْمَ بْنِ سَعْدٍ حَدَّثَنَا ابْنُ شِهَابٍ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ السَّبَّاقِ أَنَّ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ أَرْسَلَ إِلَيَّ أَبُوْ بَكْرٍ مَقْتَلَ أَهْلِ الْيَمَامَةِ فَإِذَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ عِنْدَهُ قَالَ أَبُوْ بَكْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ إِنَّ عُمَرَ أَتَانِيْ فَقَالَ إِنَّ الْقَتْلَ قَدْ اسْتَحَرَّ يَوْمَ الْيَمَامَةِ بِقُرَّاءِ الْقُرْآنِ وَإِنِّيْ أَخْشَى أَنْ يَسْتَحِرَّ الْقَتْلُ بِالْقُرَّاءِ بِالْمَوَاطِنِ فَيَذْهَبَ كَثِيْرٌ مِنَ الْقُرْآنِ وَإِنِّيْ أَرَى أَنْ تَأْمُرَ بِجَمْعِ الْقُرْآنِ قُلْتُ لِعُمَرَ كَيْفَ تَفْعَلُ شَيْئًا لَمْ يَفْعَلْهُ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ عُمَرُ هَذَا وَاللهِ خَيْرٌ فَلَمْ يَزَلْ عُمَرُ يُرَاجِعُنِيْ حَتَّى شَرَحَ اللهُ صَدْرِيْ لِذَلِكَ وَرَأَيْتُ فِيْ ذَلِكَ الَّذِيْ رَأَى عُمَرُ قَالَ زَيْدٌ قَالَ أَبُوْ بَكْرٍ إِنَّكَ رَجُلٌ شَابٌّ عَاقِلٌ لَا نَتَّهِمُكَ وَقَدْ كُنْتَ تَكْتُبُ الْوَحْيَ لِرَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَتَتَبَّعْ الْقُرْآنَ فَاجْمَعْهُ فَوَاللهِ لَوْ كَلَّفُوْنِيْ نَقْلَ جَبَلٍ مِنَ الْجِبَالِ مَا كَانَ أَثْقَلَ عَلَيَّ مِمَّا أَمَرَنِيْ بِهِ مِنْ جَمْعِ الْقُرْآنِ قُلْتُ كَيْفَ تَفْعَلُوْنَ شَيْئًا لَمْ يَفْعَلْهُ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ هُوَ وَاللهِ خَيْرٌ فَلَمْ يَزَلْ أَبُوْ بَكْرٍ يُرَاجِعُنِيْ حَتَّى شَرَحَ اللهُ صَدْرِيْ لِلَّذِيْ شَرَحَ لَهُ صَدْرَ أَبِيْ بَكْرٍ وَعُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا فَتَتَبَّعْتُ الْقُرْآنَ أَجْمَعُهُ مِنَ الْعُسُبِ وَاللِّخَافِ وَصُدُوْرِ الرِّجَالِ حَتَّى وَجَدْتُ آخِرَ سُوْرَةِ التَّوْبَةِ مَعَ أَبِيْ خُزَيْمَةَ الْأَنْصَارِيِّ لَمْ أَجِدْهَا مَعَ أَحَدٍ غَيْرِهِ{لَقَدْ جَآءَكُمْ رَسُوْلٌ مِّنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيْزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ} حَتَّى خَاتِمَةِ بَرَاءَةَ فَكَانَتْ الصُّحُفُ عِنْدَ أَبِيْ بَكْرٍ حَتَّى تَوَفَّاهُ اللهُ ثُمَّ عِنْدَ عُمَرَ حَيَاتَهُ ثُمَّ عِنْدَ حَفْصَةَ بِنْتِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُما.
যায়দ ইব্নু সাবিত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়ামামাহ্র যুদ্ধে বহু লোক শহীদ হবার পর আবূ বাক্র সিদ্দীক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে ডেকে পাঠালেন। এ সময় ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)– ও তাঁর কাছে উপস্থিত ছিলেন। আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমার কাছে এসে বললেন, ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদদের মধ্যে কারীদের সংখ্যা অনেক। আমি আশংকা করছি, এমনিভাবে যদি কারীগণ শাহীদ হয়ে যান, তাহলে কুরআন মাজীদের বহু অংশ হারিয়ে যাবে। অতএব আমি মনে করি যে, আপনি কুরআন সংকলনের নির্দেশ দিন। উত্তরে আমি ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)– কে বললাম, যে কাজ আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) করেননি, সে কাজ তুমি কীভাবে করবে? ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) জবাবে বললেন, আল্লাহ্র কসম! এটা একটি উত্তম কাজ। ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এ কথাটি আমার কাছে বার বার বলতে থাকলে অবশেষে আল্লাহ্ তা’য়ালা এ কাজের জন্য আমার বক্ষকে উন্মোচন করে দিলেন এবং এ ব্যাপারে ‘উমার যা ভাল মনে করলেন আমিও তাই করলাম। যায়দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আবূ বাক্র সিদ্দীক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে বললেন, তুমি একজন বুদ্ধিমান যুবক। তোমার ব্যাপারে আমার কোন সংশয় নেই। তদুপরি তুমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর ওয়াহীর লেখক ছিলে। সুতরাং তুমি কুরআন মাজীদের অংশগুলোকে তালাশ করে একত্রিত কর। আল্লাহ্র শপথ! তারা যদি আমাকে একটি পর্বত এক স্থান হতে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিত, তাহলেও তা আমার কাছে কুরআন সংকলনের নির্দেশের চেয়ে কঠিন বলে মনে হত না। আমি বললাম, যে কাজ রাসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) করেননি, আপনারা সে কাজ কীভাবে করবেন? তিনি বললেন, আল্লাহ্র কসম! এটা একটা কল্যাণকর কাজ। এ কথাটি আবূ বাক্র সিদ্দীক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমার কাছে বার বার বলতে থাকেন, অবশেষে আল্লাহ্ আমার বক্ষকে উন্মোচন করে দিলেন সে কাজের জন্য, যে কাজের জন্য তিনি আবূ বাকর এবং ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)– এর বক্ষকে উন্মোচন করে দিয়েছিলেন। এরপর আমি কুরআন আনুসন্ধানের কাজে লেগে গেলাম এবং খেজুর পাতা, প্রস্তরখণ্ড ও মানুষের বক্ষ থেকে আমি তা সংগ্রহ করতে থাকলাম। এমন কি আমি সূরা তওবার শেষাংশ আবূ খুযায়মাহ আনসারী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে সংগ্রহ করলাম। এ অংশটুকু তিনি বাদে আর কারো কাছে আমি পাইনি। আয়াতগুলো হচ্ছে এইঃ তোমাদের মধ্যে হতে তোমাদের কাছে এক রাসূল এসেছে। তোমাদেরকে যা বিপন্ন করে তাঁর জন্য তা কষ্টদায়ক। সে তোমাদের মঙ্গলকামী, মু’মিনদের প্রতি সে দয়ার্দ্র ও পরম দয়ালু। এরপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তুমি বলো, আমার জন্য আল্লাহ্ই যথেষ্ট, তিনি ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নেই। আমি তাঁরই উপর নির্ভর করি এবং তিনি মহা আরশের অধিপতি। (১২৮-১২৯) তারপর সঙ্কলিত সহীফাসমূহ মৃত্যু পর্যন্ত আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)– এর কাছে রক্ষিত ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর তা ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)- এর কাছে সংরক্ষিত ছিল, যতদিন তিনি জীবিত ছিলেন। অতঃপর তা ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)- এর কন্যা হাফসাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)- এর কাছে সংরক্ষিত ছিল।(আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬১৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬২১)
مُوْسَى حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيْمُ حَدَّثَنَا ابْنُ شِهَابٍ أَنَّ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ حَدَّثَهُ أَنَّ حُذَيْفَةَ بْنَ الْيَمَانِ قَدِمَ عَلَى عُثْمَانَ وَكَانَ يُغَازِيْ أَهْلَ الشَّأْمِ فِيْ فَتْحِ إِرْمِيْنِيَةَ وَأَذْرَبِيْجَانَ مَعَ أَهْلِ الْعِرَاقِ فَأَفْزَعَ حُذَيْفَةَ اخْتِلَافُهُمْ فِي الْقِرَاءَةِ فَقَالَ حُذَيْفَةُ لِعُثْمَانَ يَا أَمِيْرَ الْمُؤْمِنِيْنَ أَدْرِكْ هَذِهِ الْأُمَّةَ قَبْلَ أَنْ يَخْتَلِفُوْا فِي الْكِتَابِ اخْتِلَافَ الْيَهُوْدِ وَالنَّصَارَى فَأَرْسَلَ عُثْمَانُ إِلَى حَفْصَةَ أَنْ أَرْسِلِيْ إِلَيْنَا بِالصُّحُفِ نَنْسَخُهَا فِي الْمَصَاحِفِ ثُمَّ نَرُدُّهَا إِلَيْكِ فَأَرْسَلَتْ بِهَا حَفْصَةُ إِلَى عُثْمَانَ فَأَمَرَ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ وَعَبْدَ اللهِ بْنَ الزُّبَيْرِ وَسَعِيْدَ بْنَ الْعَاصِ وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ فَنَسَخُوْهَا فِي الْمَصَاحِفِ وَقَالَ عُثْمَانُ لِلرَّهْطِ الْقُرَشِيِّيْنَ الثَلَاثَةِ إِذَا اخْتَلَفْتُمْ أَنْتُمْ وَزَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ فِيْ شَيْءٍ مِنَ الْقُرْآنِ فَاكْتُبُوْهُ بِلِسَانِ قُرَيْشٍ فَإِنَّمَا نَزَلَ بِلِسَانِهِمْ فَفَعَلُوْا حَتَّى إِذَا نَسَخُوا الصُّحُفَ فِي الْمَصَاحِفِ رَدَّ عُثْمَانُ الصُّحُفَ إِلَى حَفْصَةَ وَأَرْسَلَ إِلَى كُلِّ أُفُقٍ بِمُصْحَفٍ مِمَّا نَسَخُوْا وَأَمَرَ بِمَا سِوَاهُ مِنَ الْقُرْآنِ فِيْ كُلِّ صَحِيْفَةٍ أَوْ مُصْحَفٍ أَنْ يُحْرَقَ.
আনাস ইব্নু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুযাইফাহ ইব্নুল ইয়ামান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) একবার ‘উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)- এর কাছে এলেন। এ সময় তিনি আরমিনিয়া ও আযারবাইজান বিজয়ের ব্যাপারে সিরীয় ও ইরাকী যোদ্ধাদের জন্য যুদ্ধ-প্রস্তুতির কাজে ব্যস্ত ছিলেন। কুরআন পাঠে তাঁদের মতবিরোধ হুযাইফাহ্কে ভীষণ চিন্তিত করল। সুতরাং তিনি ‘উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)- কে বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! কিতাব সম্পর্কে ইয়াহূদী ও নাসারাদের মত মতপার্থক্যে লিপ্ত হবার পূর্বে এই উম্মতকে রক্ষা করুন। তারপর ‘উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হাফসাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)- এর কাছে এক ব্যক্তিকে এ বলে পাঠালেন যে, আপনার কাছে সংরক্ষিত কুরআনের সহীফাসমূহ আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন, যাতে আমরা সেগুলোকে পরিপূর্ণ মাসহাফসমূহে লিপিবদ্ধ করতে পারি। এরপর আমরা তা আপনার কাছে ফিরিয়ে দেব। হাফসাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তখন সেগুলো ‘উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)- এর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। এরপর ‘উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) যায়দ ইবনু সাবিত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ‘আব্দুল্লাহ ইব্নু যুবায়র (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা), সা’ঈদ ইব্নু আস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এবং ‘আবদুর রহমান ইব্নু হারিস ইব্নু হিশাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)- কে নির্দেশ দিলেন। তাঁরা মাসহাফে তা লিপিবদ্ধ করলেন। এ সময় ‘উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তিনজন কুরাইশী ব্যাক্তিকে বললেন, কুরআনের কোন ব্যাপারে যদি যায়দ ইব্নু সাবিতের সঙ্গে তোমাদের মতভেদ দেখা দেয়, তাহলে তোমরা তা কুরাইশদের ভাষায় লিপিবদ্ধ করবে। কারণ, কুরআন তাদের ভাষায় নাযিল হয়েছে। সুতরাং তাঁরা তাই করলেন। যখন মূল লিপিগুলো থেকে কয়েকটি পরিপূর্ণ গ্রন্থ লেখা হয়ে গেল, তখন ‘উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) মূল লিপিগুলো হাফসাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)- এর কাছে ফিরিয়ে দিলেন। তারপর তিনি কুরআনের লিখিত মাসহাফ-সমূহের এক একখানা মাসহাফ এক এক প্রদেশে পাঠিয়ে দিলেন এবং এছাড়া আলাদা আলাদা বা একত্রিত কুরআনের যে কপিসমূহ রয়েছে তা জ্বালিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিলেন।(আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬১৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬২২)
قَالَ ابْنُ شِهَابٍ وَأَخْبَرَنِيْ خَارِجَةُ بْنُ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ سَمِعَ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ قَالَ فَقَدْتُ آيَةً مِنَ الْأَحْزَابِ حِيْنَ نَسَخْنَا الْمُصْحَفَ قَدْ كُنْتُ أَسْمَعُ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ بِهَا فَالْتَمَسْنَاهَا فَوَجَدْنَاهَا مَعَ خُزَيْمَةَ بْنِ ثَابِتٍ الْأَنْصَارِيِّ{مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ رِجَالٌ صَدَقُوْا مَا عَاهَدُوا اللهَ عَلَيْهِ} فَأَلْحَقْنَاهَا فِيْ سُوْرَتِهَا فِي الْمُصْحَفِ.
ইবনু শিহাব (রাহিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, খারিজাহ ইব্নু সাবিতের মাধ্যমে যায়দ ইব্নু সাবিত থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমরা যখন গ্রন্থাকারে কুরআন লিপিবদ্ধ করছিলাম তখন সূরা আহযাবের একটি আয়াত আমার থেকে হারিয়ে যায়; অথচ আমি তা রাসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে পাঠ করতে শুনেছি। তাই আমরা খোঁজ করতে লাগলাম। শেষে আমরা তা খুযাইমাহ ইব্নু সাবিত আনসারী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)- এর কাছে পেলাম। আয়াতটি হচ্ছে এইঃ “মু’মিনদের মধ্যে কতক আল্লাহ্র সঙ্গে কৃত ওয়াদা পূর্ণ করেছে। তাদের কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষা করছে। তারা তাদের সংকল্প মোটেই পরিবর্তন করেনি”- (সূরা আল-আহযাব ৩৩/২৩)। তারপর আমরা এ আয়াতটি সংশ্লিষ্ট সূরার সঙ্গে মাসহাফে লিপিবদ্ধ করলাম।(আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬১৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬২২)
يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ يُوْنُسَ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّ ابْنَ السَّبَّاقِ قَالَ إِنَّ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ قَالَ أَرْسَلَ إِلَيَّ أَبُوْ بَكْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ إِنَّكَ كُنْتَ تَكْتُبُ الْوَحْيَ لِرَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَاتَّبِعْ الْقُرْآنَ فَتَتَبَّعْتُ حَتَّى وَجَدْتُ آخِرَ سُوْرَةِ التَّوْبَةِ آيَتَيْنِ مَعَ أَبِيْ خُزَيْمَةَ الْأَنْصَارِيِّ لَمْ أَجِدْهُمَا مَعَ أَحَدٍ غَيْرِهِ{لَقَدْ جَآءَكُمْ رَسُوْلٌ مِّنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيْزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ} إِلَى آخِرِهاِ.
যায়দ ইব্নু সাবিত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন, তুমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর ওয়াহী লিখতে। সুতরাং তুমি কুরআনের আয়াতগুলো খোঁজ কর। এরপর আমি খোঁজ করলাম। অবশেষে সূরা তওবার শেষ দু’টো আয়াত আমি আবূ খুযায়মা আনসারী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)- এর কাছে পেলাম। তিনি ছাড়া আর কারো কাছে আমি এর সন্ধান পাইনি। আয়াত দু’টো হচ্ছে এইঃ “তোমাদের কাছে এসেছেন তোমাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল। তার পক্ষে অতি দুঃসহ-দুর্বহ সেসব বিষয় যা তোমাদেরকে বিপন্ন করে, তিনি তোমাদের অতিশয় হিতকামী, মু’মিনদের প্রতি বড়ই স্নেহশীল, খুবই দয়ালু। এতদসত্ত্বেও তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে আপনি বলে দিন- আমার জন্য আল্লাহ্ই যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত অন্য কোন মা’বুদ নেই। তাঁরই উপর আমি ভরসা করি এবং তিনি বিরাট আরশের অধিপতি”- (সূরা আত্-তাওবাহ ৯/১২৮-১২৯)।(আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬১৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬২৩)
عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُوْسَى عَنْ إِسْرَائِيْلَ عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ{لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُوْنَ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ ....وَالْمُجَاهِدُوْنَ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ} قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ادْعُ لِيْ زَيْدًا وَلْيَجِئْ بِاللَّوْحِ وَالدَّوَاةِ وَالْكَتِفِ أَوِ الْكَتِفِ وَالدَّوَاةِ ثُمَّ قَالَ اكْتُبْ{لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُوْنَ} وَخَلْفَ ظَهْرِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَمْرُوْ بْنُ أُمِّ مَكْتُوْمٍ الْأَعْمَى قَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ فَمَا تَأْمُرُنِيْ فَإِنِّيْ رَجُلٌ ضَرِيْرُ الْبَصَرِ فَنَزَلَتْ مَكَانَهَا{لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُوْنَ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُجَاهِدُوْنَ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ}.
বারাআ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, (আরবি) আয়াতটি অবতীর্ণ হলে নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যায়দকে আমার কাছে ডেকে আন এবং তাকে বল সে যেন কাষ্ঠখণ্ড, দোয়াত এবং কাঁধের হাড় (রাবী বলেন- অথবা তিনি বলছেন, কাঁধের হাড় এবং দোয়াত) নিয়ে আসে। এরপর তিনি বললেন, লিখ। এ সময় অন্ধ সহাবী আম্র ইব্নু উম্মু মাকতূম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর পেছনে বসা ছিলেন। তিনি বললেন, আমি তো অন্ধ, আমার ব্যাপারে আপনার কী নির্দেশ? এ কথার প্রেক্ষিতে পূর্বোক্ত আয়াতের পরিবর্তে অবতীর্ণ হলঃ “সমান নয় সেসব মু’মিন যারা বিনা ওজরে ঘরে বসে থাকে এবং ঐসব মু’মিন যারা আল্লাহ্র পথে নিজেদের জানমাল দিয়ে জিহাদ করে” – (সূরা আন-নিসা ৪/৯৫)।(আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬১৯, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬২৪)
سَعِيْدُ بْنُ عُفَيْرٍ قَالَ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ قَالَ حَدَّثَنِيْ عُقَيْلٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ حَدَّثَنِيْ عُبَيْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ اللهِ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا حَدَّثَهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَقْرَأَنِيْ جِبْرِيْلُ عَلَى حَرْفٍ فَرَاجَعْتُهُ فَلَمْ أَزَلْ أَسْتَزِيْدُهُ وَيَزِيْدُنِيْ حَتَّى انْتَهَى إِلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ
ইব্নু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, জিব্রীল (আঃ) আমাকে একভাবে কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন। এরপর আমি তাঁকে অন্যভাবে পাঠ করার জন্য অনুরোধ করতে লাগলাম এবং বার বার অন্যভাবে পাঠ করার জন্য ক্রমাগত অনুরোধ করতে থাকলে তিনি আমার জন্য তিলাওয়াতের পদ্ধতি বাড়িয়ে যেতে লাগলেন। অবশেষে তিনি সাত আঞ্চলিক ভাষায় তিলাওয়াত করে সমাপ্ত করলেন।(আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬২০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬২৫)
سَعِيْدُ بْنُ عُفَيْرٍ قَالَ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ قَالَ حَدَّثَنِيْ عُقَيْلٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ حَدَّثَنِيْ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ أَنَّ الْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَبْدٍ الْقَارِيَّ حَدَّثَاهُ أَنَّهُمَا سَمِعَا عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يَقُوْلُ سَمِعْتُ هِشَامَ بْنَ حَكِيْمِ بْنِ حِزَامٍ يَقْرَأُ سُوْرَةَ الْفُرْقَانِ فِيْ حَيَاةِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَاسْتَمَعْتُ لِقِرَاءَتِهِ فَإِذَا هُوَ يَقْرَأُ عَلَى حُرُوْفٍ كَثِيْرَةٍ لَمْ يُقْرِئْنِيْهَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَكِدْتُ أُسَاوِرُهُ فِي الصَّلَاةِ فَتَصَبَّرْتُ حَتَّى سَلَّمَ فَلَبَّبْتُهُ بِرِدَائِهِ فَقُلْتُ مَنْ أَقْرَأَكَ هَذِهِ السُّوْرَةَ الَّتِيْ سَمِعْتُكَ تَقْرَأُ قَالَ أَقْرَأَنِيْهَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ كَذَبْتَ فَإِنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ أَقْرَأَنِيْهَا عَلَى غَيْرِ مَا قَرَأْتَ فَانْطَلَقْتُ بِهِ أَقُوْدُهُ إِلَى رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلمفَقُلْتُ إِنِّيْ سَمِعْتُ هَذَا يَقْرَأُ بِسُوْرَةِ الْفُرْقَانِ عَلَى حُرُوْفٍ لَمْ تُقْرِئْنِيْهَا فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَرْسِلْهُ اقْرَأْ يَا هِشَامُ فَقَرَأَ عَلَيْهِ الْقِرَاءَةَ الَّتِيْ سَمِعْتُهُ يَقْرَأُ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَذَلِكَ أُنْزِلَتْ ثُمَّ قَالَ اقْرَأْ يَا عُمَرُ فَقَرَأْتُ الْقِرَاءَةَ الَّتِيْ أَقْرَأَنِيْ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَذَلِكَ أُنْزِلَتْ إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ أُنْزِلَ عَلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ فَاقْرَءُوْا مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ.
‘উমার ইব্নুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হিশাম ইব্নু হাকীম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)- কে রাসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)– এর জীবদ্দশায় সূরা ফুরকান তিলাওয়াত করতে শুনেছি এবং গভীর মনোযোগ দিয়ে আমি তাঁর কিরাআত শুনেছি। তিনি বিভিন্নভাবে কিরায়াত পাঠ করেছেন; অথচ রাসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে এভাবে শিক্ষা দেননি। এ কারণে সলাতের মাঝে আমি তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য আমি উদ্যত হয়ে পড়েছিলাম, কিন্তু বড় কষ্টে নিজেকে সামলে নিলাম। তারপর সে সালাম ফিরালে আমি চাদর দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে ধরলাম এবং জিজ্ঞেস করলাম, তোমাকে এ সূরা যেভাবে পাঠ করতে শুনলাম, এভাবে তোমাকে কে শিক্ষা দিয়েছে? সে বলল, রাসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)– ই আমাকে এভাবে শিক্ষা দিয়েছেন। আমি বললাম, তুমি মিথ্যা বলছ। কারণ, তুমি যেভাবে পাঠ করেছ, এর থেকে ভিন্ন ভাবে রাসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন। এরপর আমি তাকে জোর করে টেনে রাসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)– এর কাছে নিয়ে গেলাম এবং বললাম, আপনি আমাকে সূরা ফুরকান যেভাবে পাঠ করতে শিখিয়েছেন এ লোককে আমি এর থেকে ভিন্নভাবে তা পাঠ করতে শুনেছি। এ কথা শুনে রাসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। হিশাম, তুমি পাঠ করে শোনাও। তারপর সে সেভাবে পাঠ করে শোনাল, যেভাবে আমি তাঁকে পাঠ করতে শুনেছি। তখন আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এভাবেই অবতীর্ণ করা হয়েছে। এরপর বললেন, হে ‘উমার! তুমিও পড়। সুতরাং আমাকে তিনি যেভাবে শিক্ষা দিয়েছেন, সেভাবেই আমি পাঠ করলাম। এবারও রাসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এভাবেও কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে। এ কুরআন সাত আঞ্চলিক ভাষায় অবতীর্ণ করা হয়েছে। সুতরাং তোমাদের জন্য যা বেশি সহজ, সেভাবেই তোমরা পাঠ কর।(আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬২১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬২৬)
إِبْرَاهِيْمُ بْنُ مُوْسَى أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ يُوْسُفَ أَنَّ ابْنَ جُرَيْجٍ أَخْبَرَهُمْ قَالَ وَأَخْبَرَنِيْ يُوْسُفُ بْنُ مَاهَكٍ قَالَ إِنِّيْ عِنْدَ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا إِذْ جَاءَهَا عِرَاقِيٌّ فَقَالَ أَيُّ الْكَفَنِ خَيْرٌ قَالَتْ وَيْحَكَ وَمَا يَضُرُّكَ قَالَ يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِيْنَ أَرِيْنِيْ مُصْحَفَكِ قَالَتْ لِمَ قَالَ لَعَلِّيْ أُوَلِّفُ الْقُرْآنَ عَلَيْهِ فَإِنَّهُ يُقْرَأُ غَيْرَ مُؤَلَّفٍ قَالَتْ وَمَا يَضُرُّكَ أَيَّهُ قَرَأْتَ قَبْلُ إِنَّمَا نَزَلَ أَوَّلَ مَا نَزَلَ مِنْهُ سُوْرَةٌ مِنَ الْمُفَصَّلِ فِيْهَا ذِكْرُ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ حَتَّى إِذَا ثَابَ النَّاسُ إِلَى الإِسْلَامِ نَزَلَ الْحَلَالُ وَالْحَرَامُ وَلَوْ نَزَلَ أَوَّلَ شَيْءٍ لَا تَشْرَبُوا الْخَمْرَ لَقَالُوْا لَا نَدَعُ الْخَمْرَ أَبَدًا وَلَوْ نَزَلَ لَا تَزْنُوْا لَقَالُوْا لَا نَدَعُ الزِّنَا أَبَدًا لَقَدْ نَزَلَ بِمَكَّةَ عَلَى مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم وَإِنِّيْ لَجَارِيَةٌ أَلْعَبُ{بَلِ السَّاعَةُ مَوْعِدُهُمْ وَالسَّاعَةُ أَدْهٰى وَأَمَرُّ} وَمَا نَزَلَتْ سُوْرَةُ الْبَقَرَةِ وَالنِّسَاءِ إِلَّا وَأَنَا عِنْدَهُ قَالَ فَأَخْرَجَتْ لَهُ الْمُصْحَفَ فَأَمْلَتْ عَلَيْهِ آيَ السُّوَرِ.
ইউসুফ ইব্নু মাহিক (রাহিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর কাছে ছিলাম। এমন সময় এক ইরাকী ব্যক্তি এসে তাঁকে জিজ্ঞেস করলঃ কোন্ ধরনের কাফন শ্রেষ্ঠ? তিনি বললেন, আফ্সোস তোমার প্রতি! এতে তোমার কী ক্ষতি? তারপর লোকটি বলল, হে উম্মুল মু’মিনীন! আমাকে আপনি আপনার কুরআনের কপি দেখান। তিনি বললেন, কেন? লোকটি বলল, এ তারতীবে কুরআনকে বিন্যস্ত করার জন্য। কারণ লোকেরা তাকে অবিন্যস্তভাবে পাঠ করে। ‘আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, তোমরা এর যে অংশই আগে পাঠ কর না কেন, এতে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই। (الْمُفَصَّلِ) মুফাস্সাল সূরাহ সমূহের মাঝে প্রথমত ঐ সূরাগুলো অবতীর্ণ হয়েছে যার মধ্যে জান্নাত ও জাহান্নামের উল্লেখ রয়েছে। তারপর যখন লোকেরা দলে দলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে লাগল তখন হালাল-হারামের বিধান সম্বলিত সূরাগুলো অবতীর্ণ হয়েছে। যদি প্রথমেই এ আয়াত অবতীর্ণ হত যে, তোমরা মদ পান করো না, তাহলে লোকেরা বলত, আমরা কখনো মদপান ত্যাগ করব না। যদি শুরুতে অবতীর্ণ হতো তোমার ব্যভিচার করো না, তাহলে তারা বলত আমরা কখনো অবৈধ যৌনাচার ত্যাগ করব না। আমি যখন খেলাধূলার বয়সী একজন বালিকা তখন মক্কা্য় মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি নিম্নলিখিত আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়ঃ بَلِ السَّاعَةُ مَوْعِدُهُمْ وَالسَّاعَةُ أَدْهٰى وَأَمَرُّ মানে, ‘‘অধিকন্তু ক্বিয়ামাত তাদের শাস্তির নির্ধারিত কাল এবং ক্বিয়ামাত হবে কঠিনতর ও তিক্ততর।’’ (বিধান সম্বলিত) সূরাহ বাকারাহ ও সূরাহ নিসা আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে থাকাকালীন অবস্থায় অবতীর্ণ হয়। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর ‘আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর কাছে সংরক্ষিত কুরআনের কপি বের করলেন এবং সূরাসমূহ লেখালেন। [৪৮৭৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬২২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬২৭)
آدَمُ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ يَزِيْدَ بْنِ قَيْسٍ سَمِعْتُ ابْنَ مَسْعُوْدٍ يَقُوْلُ فِيْ بَنِيْ إِسْرَائِيْلَ وَالْكَهْفِ وَمَرْيَمَ وَطه وَالأَنْبِيَاءِ إِنَّهُنَّ مِنَ الْعِتَاقِ الْأُوَلِ وَهُنَّ مِنْ تِلَادِي.
ইব্নু মাস’উদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনি সূরা বানী ইসরাঈল, সূরা কাহ্ফ, সূরা মারিয়াম, সূরা ত্বাহা এবং সূরা আম্বিয়া সম্পর্কে বলতেন যে, এগুলো হচ্ছে আমার সর্বপ্রথম সম্পদ এবং এগুলো আমার পুরাতন সম্পত্তি।(আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬২৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬২৮)
أَبُو الْوَلِيْدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ أَنْبَأَنَا أَبُوْ إِسْحَاقَ سَمِعَ الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ تَعَلَّمْتُ{سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ} الْأَعْلَى قَبْلَ أَنْ يَقْدَمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم.
বারাআ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা্য় আসার পূর্বে আমি سَبِّحْ اسْمَ رَبِّكَ সূরাটি শিখেছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬২৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬২৯)
عَبْدَانُ عَنْ أَبِيْ حَمْزَةَ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ شَقِيْقٍ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللهِ لَقَدْ تَعَلَّمْتُ النَّظَائِرَ الَّتِيْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقْرَؤُهُنَّ اثْنَيْنِ اثْنَيْنِ فِيْ كُلِّ رَكْعَةٍ فَقَامَ عَبْدُ اللهِ وَدَخَلَ مَعَهُ عَلْقَمَةُ وَخَرَجَ عَلْقَمَةُ فَسَأَلْنَاهُ فَقَالَ عِشْرُوْنَ سُوْرَةً مِنْ أَوَّلِ الْمُفَصَّلِ عَلَى تَأْلِيْفِ ابْنِ مَسْعُوْدٍ آخِرُهُنَّ الْحَوَامِيْمُ{حٓمالدُّخَانِ} وَ{عَمَّ يَتَسَآءَلُوْنَ}.
‘আব্দুল্লাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সমপর্যায়ের ঐ সূরাগুলো সম্পর্কে আমি খুব অবগত আছি, যা নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রাক‘আতে জোড়া জোড়া পাঠ করতেন। তারপর ‘আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) দাঁড়ালেন এবং ‘আলক্বামাহ (রহ.) তাকে অনুসরণ করলেন। যখন ‘আলক্বামাহ (রহ.) বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসলেন তখন আমরা তাকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এগুলো হচ্ছে মোট বিশটি সূরা, ইবনু মাস‘ঊদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সংকলন মুতাবিক মুফাস্সাল থেকে যার শুরু এবং যার শেষ হচ্ছে الْحَوَامِيْمُ অর্থাৎ ‘হামীম’ ‘আদ্দুখান’ এবং ‘আম্মা ইয়াতাসা আলুন’। [৭৭৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬২৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৩০)
يَحْيَى بْنُ قَزَعَةَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيْمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَجْوَدَ النَّاسِ بِالْخَيْرِ وَأَجْوَدُ مَا يَكُوْنُ فِيْ شَهْرِ رَمَضَانَ لِأَنَّ جِبْرِيْلَ كَانَ يَلْقَاهُ فِيْ كُلِّ لَيْلَةٍ فِيْ شَهْرِ رَمَضَانَ حَتَّى يَنْسَلِخَ يَعْرِضُ عَلَيْهِ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْقُرْآنَ فَإِذَا لَقِيَهُ جِبْرِيْلُ كَانَ أَجْوَدَ بِالْخَيْرِ مِنْ الرِّيْحِ الْمُرْسَلَةِ.
ইব্নু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কল্যাণের কাজে ছিলেন সর্বাধিক দানশীল, বিশেষভাবে রমাযান মাসে। (তাঁর দানশীলতার কোন সীমা ছিল না) কেননা, রমাযান মাসের শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক রাত্রে জিব্রীল (আঃ) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং তিনি তাঁকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাতেন। যখন জিব্রীল (আঃ) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন তখন তিনি কল্যাণের জন্য প্রবাহমান বায়ুর চেয়েও বেশি দানশীল হতেন।(আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬২৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৩১)
خَالِدُ بْنُ يَزِيْدَ حَدَّثَنَا أَبُوْ بَكْرٍ عَنْ أَبِيْ حَصِيْنٍ عَنْ أَبِيْ صَالِحٍ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ كَانَ يَعْرِضُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الْقُرْآنَ كُلَّ عَامٍ مَرَّةً فَعَرَضَ عَلَيْهِ مَرَّتَيْنِ فِي الْعَامِ الَّذِيْ قُبِضَ فِيْهِ وَكَانَ يَعْتَكِفُ كُلَّ عَامٍ عَشْرًا فَاعْتَكَفَ عِشْرِيْنَ فِي الْعَام الَّذِيْ قُبِضَ فِيْهِ
আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, প্রতি বছর জিব্রীল (আঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর সঙ্গে একবার কুরআন মাজীদ শোনাতেন ও শুনতেন। কিন্তু যে বছর তাঁর ওফাত হয় সে বছর তিনি রাসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে দু’বার শুনিয়েছেন। প্রতি বছর নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমাযানে দশ দিন ই’তিকাফ করতেন। কিন্তু যে বছর তাঁর ওফাত হয় সে বছর তিনি বিশ দিন ই’তিকাফ করেন।(আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬২৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৩২)
إِبْرَاهِيْمَ عَنْ مَسْرُوْقٍ ذَكَرَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عَمْرٍو عَبْدَ اللهِ بْنَ مَسْعُوْدٍ فَقَالَ لَا أَزَالُ أُحِبُّهُ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ خُذُوا الْقُرْآنَ مِنْ أَرْبَعَةٍ مِنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ وَسَالِمٍ وَمُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ وَأُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ.
মাসরুক (রাহিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু আম্র ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু মাসউদের কথা উল্লেখ পূর্বক বলেছেন, আমি তাঁকে ঐ সময় থেকে ভালবাসি, যখন নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে আমি বলতে শুনেছি যে, তোমরা চার ব্যক্তি থেকে কুরআন শিক্ষা কর- ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু মাস’উদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা), সালিম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা), মু’আয (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এবং উবাই ইব্নু কা’ব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬২৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৩৩)
عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ حَدَّثَنَا أَبِيْ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ حَدَّثَنَا شَقِيْقُ بْنُ سَلَمَةَ قَالَ خَطَبَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مَسْعُوْدٍ فَقَالَ وَاللهِ لَقَدْ أَخَذْتُ مِنْ فِيْ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِضْعًا وَسَبْعِيْنَ سُوْرَةً وَاللهِ لَقَدْ عَلِمَ أَصْحَابُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنِّيْ مِنْ أَعْلَمِهِمْ بِكِتَابِ اللهِ وَمَا أَنَا بِخَيْرِهِمْ قَالَ شَقِيْقٌ فَجَلَسْتُ فِي الْحِلَقِ أَسْمَعُ مَا يَقُوْلُوْنَ فَمَا سَمِعْتُ رَادًّا يَقُوْلُ غَيْرَ ذَلِكَ
শাকীক ইব্ন সালামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু মাস’উদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন এবং বললেন, আল্লাহ্র শপথ! সত্তরেরও কিছু অধিক সূরা আমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর মুখ থেকে হাসিল করেছি। আল্লাহ্র কসম! নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর সহাবীরা জানেন, আমি তাঁদের চেয়ে আল্লাহ্র কিতাব সম্বন্ধে অধিক জ্ঞাত; অথচ আমি তাঁদের মধ্যে সর্বোত্তম নই। শাকীক (রাহিঃ) বলেন, সাহাবীগণ তাঁর কথা শুনে কী বলেন তা শোনার জন্য আমি মাজলিসে বসে থাকলাম, কিন্তু আমি কাউকে অন্যরকম কথা বলে আপত্তি করতে শুনিনি।(আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬২৯, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৩৪)
مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيْرٍ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيْمَ عَنْ عَلْقَمَةَ قَالَ كُنَّا بِحِمْصَ فَقَرَأَ ابْنُ مَسْعُوْدٍ سُوْرَةَ يُوْسُفَ فَقَالَ رَجُلٌ مَا هَكَذَا أُنْزِلَتْ قَالَ قَرَأْتُ عَلَى رَسُوْلِ اللَّه صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَحْسَنْتَ وَوَجَدَ مِنْهُ رِيْحَ الْخَمْرِ فَقَالَ أَتَجْمَعُ أَنْ تُكَذِّبَ بِكِتَابِ اللهِ وَتَشْرَبَ الْخَمْرَ فَضَرَبَهُ الْحَدَّ
‘আলক্বামাহ (রাহিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা হিম্স শহরে ছিলাম। এ সময় ইব্নু মাস’উদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) সূরা ইউসুফ তিলাওয়াত করলেন। তখন এক ব্যক্তি বললেন, এটা এভাবে অবতীর্ণ হয়নি। এ কথা শুনে ইব্নু মাস’উদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর সামনে এ সূরা তিলাওয়াত করেছি। তিনি বলেছেন, তুমি সুন্দর পড়েছ। এ সময় তিনি ঐ লোকটির মুখ থেকে মদের গন্ধ পেলেন। তাই তিনি তাকে বললেন, তুমি আল্লাহ্র কিতাব সম্পর্কে মিথ্যা বলা এবং মদ পানের অপরাধ এক সঙ্গে করেছ? এরপর তিনি তার ওপর নির্ধারিত শাস্তি জারি করলেন।(আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৩০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৩৫)
عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ حَدَّثَنَا أَبِيْ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ عَنْ مَسْرُوْقٍ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللهِ وَاللهِ الَّذِيْ لَا إِلَهَ غَيْرُهُ مَا أُنْزِلَتْ سُوْرَةٌ مِنْ كِتَابِ اللهِ إِلَّا أَنَا أَعْلَمُ أَيْنَ أُنْزِلَتْ وَلَا أُنْزِلَتْ آيَةٌ مِنْ كِتَابِ اللهِ إِلَّا أَنَا أَعْلَمُ فِيْمَ أُنْزِلَتْ وَلَوْ أَعْلَمُ أَحَدًا أَعْلَمَ مِنِّيْ بِكِتَابِ اللهِ تُبَلِّغُهُ الإِبِلُ لَرَكِبْتُ إِلَيْهِ
মাসরুক (রাহিঃ) হতে বর্ণিত, ‘আবদুল্লাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আল্লাহ্র কসম! যিনি ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই, আল্লাহ্র কিতাবের অবতীর্ণ প্রতিটি সূরা সম্পর্কেই আমি জানি যে, তা কোথায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং প্রতিটি আয়াত সম্পর্কেই আমি জানি যে, তা কোন্ ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। আমি যদি জানতাম যে, কোন ব্যক্তি আল্লাহ্র কিতাব সম্পর্কে আমার চেয়ে অধিক জ্ঞাত এবং সেখানে উট পৌঁছতে পারে, তাহলে সওয়ার হয়ে সেখানে পৌঁছে যেতাম।(আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৩১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৩৬)
حَفْصُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ قَالَ سَأَلْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ مَنْ جَمَعَ الْقُرْآنَ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَرْبَعَةٌ كُلُّهُمْ مِنْ الْأَنْصَارِ أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ وَمُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ وَزَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ وَأَبُوْ زَيْدٍ تَابَعَهُ الْفَضْلُ عَنْ حُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ عَنْ ثُمَامَةَ عَنْ أَنَسٍ
ক্বাতাদাহ (রাহিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস ইব্নু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)- কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর সময় কোন্ কোন্ ব্যক্তি কুরআন সংগ্রহ করেছেন? তিনি বললেন, চারজন এবং তাঁরা চারজনই ছিলেন আনসার সহাবী। তাঁরা হলেনঃ উবাই ইব্নু কা’ব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা), মু’আয ইব্নু জাবাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা), যায়দ ইব্নু সাবিত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এবং আবূ যায়দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)। (অন্য সানাদে) ফাদল (রাহিঃ) ..... আনাস ইব্নু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে এ রকমই বর্ণনা করেছেন।(আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৩২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৩৭)