হাদীস বিএন


সহীহুল বুখারী





সহীহুল বুখারী (4684)


أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ عَنِ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْفِقْ أُنْفِقْ عَلَيْكَ وَقَالَ يَدُ اللهِ مَلْأَى لَا تَغِيْضُهَا نَفَقَةٌ سَحَّاءُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَقَالَ أَرَأَيْتُمْ مَا أَنْفَقَ مُنْذُ خَلَقَ السَّمَاءَ وَالأَرْضَ فَإِنَّهُ لَمْ يَغِضْ مَا فِيْ يَدِهِ وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ وَبِيَدِهِ الْمِيْزَانُ يَخْفِضُ وَيَرْفَعُ {اعْتَرَاكَ} افْتَعَلَكَ مِنْ عَرَوْتُهُ أَيْ أَصَبْتُهُ وَمِنْهُ يَعْرُوْهُ وَاعْتَرَانِيْ {اٰخِذٌ بِنَاصِيَتِهَا} أَيْ فِيْ مِلْكِهِ وَسُلْطَانِهِ عَنِيْدٌ وَعَنُوْدٌ وَعَانِدٌ وَاحِدٌ هُوَ تَأْكِيْدُ التَّجَبُّرِ اسْتَعْمَرَكُمْ جَعَلَكُمْ عُمَّارًا أَعْمَرْتُهُ الدَّارَ فَهِيَ عُمْرَى جَعَلْتُهَا لَهُ نَكِرَهُمْ وَأَنْكَرَهُمْ وَاسْتَنْكَرَهُمْ وَاحِدٌ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ كَأَنَّهُ فَعِيْلٌ مِنْ مَاجِدٍ مَحْمُوْدٌ مِنْ حَمِدَ سِجِّيْلٌ الشَّدِيْدُ الْكَبِيْرُ سِجِّيْلٌ وَسِجِّيْنٌ وَاللَّامُ وَالنُّوْنُ أُخْتَانِ وَقَالَ تَمِيْمُ بْنُ مُقْبِلٍ وَرَجْلَةٍ يَضْرِبُوْنَ الْبَيْضَ ضَاحِيَةً ضَرْبًا تَوَاصَى بِهِ الْأَبْطَالُ سِجِّيْنَا.




আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তুমি খরচ কর। আমি তোমার উপর খরচ করব এবং [রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)] বললেন, আল্লাহ তা‘আলার হাত পরিপূর্ণ। রাতদিন অনবরত খরচেও তা কমবে না। তিনি বলেন, তোমরা কি দেখ না, যখন থেকে আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, তখন থেকে কী পরিমাণ খরচ করেছেন? কিন্তু এত খরচ করার পরও তাঁর হাতের সম্পদ কমে যায়নি। আর আল্লাহ তা‘আলার ‘আরশ পানির উপর ছিল। তাঁর হাতেই রয়েছে দাঁড়িপাল্লা। তিনি নিচু করেন, তিনি উপরে তোলেন। اعْتَرَاكَ افْتَعَلَتَ-এর বাব থেকে। عَرَوْتُهُ-এ অর্থে বলা হয়, তাকে পেয়েছি। তা থেকে يَعْرُوهُ (তার উপর ঘটেছে) ও اعْتَرَانِي (আমার উপর ঘটেছে) ব্যবহার হয়। آخِذٌ بِنَاصِيَتِهَا অর্থাৎ তাঁর রাজত্ব এবং عَنِيدٌ-عَنُودٌ-عَانِدٌ সবগুলোর একই অর্থ স্বেচ্ছাচারী।
ওটি দাম্ভিকতা অর্থের প্রতি জোর দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। اسْتَعْمَرَكُمْতোমাদের বসতি দান করলেন। আরবগণ বলত أَعْمَرْتُهُ الدَّارَ فَهِيَ عُمْرَىআমি এ ঘর তাকে জীবন ধারণের জন্য দিলাম। نَكِرَهُمْ وَأَنْكَرَهُمْ এবং اسْتَنْكَرَهُمْ সবগুলো একই অর্থে ব্যবহৃত। فَعِيلٌ-مَجِبْدٌ-حَمِيدٌ-مَجِيدٌ-এর ওযনে مَاجِدٌ (মর্যাদা সম্পন্ন) থেকে حَمِيدٌ (প্রশংসিত) এর অর্থে مَحْمُوْدٌ থেকে سِجِّيلٌঅতি কঠিন বা শক্ত। سِجِّيلٌ এবং سِجِّينٌ উভয় রূপেই ব্যবহৃত হয়। لاَمُ এবং نُوْنٌ যেন দুই বোন। তামীম ইবনু মুকবেল বলেন, “বহু পদাতিক বাহিনী মধ্যাহ্নে স্কন্ধে শুভ্র ধারালো তলোয়ার দ্বারা আঘাত হানে। কঠিন প্রস্তর দ্বারা তার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য বিপক্ষের বীর পুরুষগণ পরস্পরকে ওসীয়ত করে থাকে।” [৫৩৫২, ৭৪১১, ৭৪১৯, ৭৪৯৬] (আধুনিক প্রকাশনী ৪৩২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩২৪)









সহীহুল বুখারী (4685)


مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَزِيْدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا سَعِيْدٌ وَهِشَامٌ قَالَا حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ مُحْرِزٍ قَالَ بَيْنَا ابْنُ عُمَرَ يَطُوْفُ إِذْ عَرَضَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَوْ قَالَ يَا ابْنَ عُمَرَ سَمِعْتَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي النَّجْوَى فَقَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ يُدْنَى الْمُؤْمِنُ مِنْ رَبِّهِ وَقَالَ هِشَامٌ يَدْنُو الْمُؤْمِنُ حَتَّى يَضَعَ عَلَيْهِ كَنَفَهُ فَيُقَرِّرُهُ بِذُنُوْبِهِ تَعْرِفُ ذَنْبَ كَذَا يَقُوْلُ أَعْرِفُ يَقُوْلُ رَبِّ أَعْرِفُ مَرَّتَيْنِ فَيَقُوْلُ سَتَرْتُهَا فِي الدُّنْيَا وَأَغْفِرُهَا لَكَ الْيَوْمَ ثُمَّ تُطْوَى صَحِيْفَةُ حَسَنَاتِهِ وَأَمَّا الآخَرُوْنَ أَوِ الْكُفَّارُ فَيُنَادَى عَلَى رُءُوْسِ الْأَشْهَادِ هَؤُلَاءِ الَّذِيْنَ كَذَبُوْا عَلَى رَبِّهِمْ أَلَا لَعْنَةُ اللهِ عَلَى الظَّالِمِيْنَ وَقَالَ شَيْبَانُ عَنْ قَتَادَةَ حَدَّثَنَا صَفْوَانُ




সফওয়ান ইবনু মুহ্রিয (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা ইবনু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাওয়াফ করছিলেন। হঠাৎ এক ব্যক্তি তার সম্মুখে এসে বলল, হে আবূ ‘আবদুর রহমান অথবা বলল, হে ইবনু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)! আপনি কি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে (ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ তা‘আলা এবং মু’মিনদের মধ্যকার) গোপন আলোচনা সম্পর্কে কিছু শুনেছেন? তিনি বললেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, (ক্বিয়ামাতের দিন) মু’মিনকে তাঁর নৈকট্য দান করা হবে। হিশাম বলেন, মু’মিন নিকটবর্তী হবে, এমনকি আল্লাহ তা‘আলা তাকে স্বীয় পর্দায় ঢেকে নেবেন এবং তার নিকট হতে তার গুনাহসমূহের স্বীকারোক্তি নেবেন। (আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন) অমুক গুনাহ সম্পর্কে তুমি জান কি? বান্দা বলবে, হে আমার রব! আমি জানি, আমি জানি। এভাবে দু’বার বলবে। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, আমি দুনিয়ায় তোমার পাপ গোপন রেখেছিলাম। আর আজ তোমার সে পাপ ক্ষমা করে দিচ্ছি। তারপর তার নেক ‘আমালনামা গুটিয়ে নেয়া হবে।
আর অন্যদলকে অথবা (রাবী বলেছেন) কাফিরদের সকলের সামনে ডেকে বলা হবে, এরাই সে লোক যারা আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা বলেছিল এবং শায়বান حَدَّثَنَا قَتَادَةُ-এর পরিবর্তে قَتَادَةُ عَنْ এবং عَنْ صَفْوَانُ -এর পরিবর্তে حَدَّثَنَا صَفْوَانُ বর্ণনা করেছেন। [২৪৪১] (আধুনিক প্রকাশনী ৪৩২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩২৫)









সহীহুল বুখারী (4686)


صَدَقَةُ بْنُ الْفَضْلِ أَخْبَرَنَا أَبُوْ مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا بُرَيْدُ بْنُ أَبِيْ بُرْدَةَ عَنْ أَبِيْ بُرْدَةَ عَنْ أَبِيْ مُوْسَى رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ اللهَ لَيُمْلِيْ لِلظَّالِمِ حَتَّى إِذَا أَخَذَهُ لَمْ يُفْلِتْهُ قَالَ ثُمَّ قَرَأَ {وَكَذَلِكَ أَخْذُ رَبِّكَ إِذَا أَخَذَ الْقُرَى وَهِيَ ظَالِمَةٌ إِنَّ أَخْذَهُ أَلِيْمٌ شَدِيْدٌ}.




আবূ মূসা আশ‘আরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা যালিমদের ঢিল দিয়ে থাকেন। অবশেষে যখন তাকে ধরেন, তখন আর ছাড়েন না। (বর্ণনাকারী বলেন) এরপর তিনি [নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)] এ আয়াত পাঠ করেন “আর এরকমই বটে আপনার রবের পাকড়াও, যখন তিনি কোন জনপদবাসীকে পাকড়াও করেন তাদের যুল্মের দরুন। নিঃসন্দেহে তাঁর পাকড়াও বড় যন্ত্রণাদায়ক, অত্যন্ত কঠিন” (সূরাহ হূদ ১১/১০২)। (আধুনিক প্রকাশনী ৪৩২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩২৬)









সহীহুল বুখারী (4687)


مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَزِيْدُ هُوَ ابْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ عَنْ أَبِيْ عُثْمَانَ عَنْ ابْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَجُلًا أَصَابَ مِنْ امْرَأَةٍ قُبْلَةً فَأَتَى رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ فَأُنْزِلَتْ عَلَيْهِ {وَأَقِمْ الصَّلَاةَ طَرَفَيْ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنْ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِيْنَ}قَالَ الرَّجُلُ أَلِيَ هَذِهِ قَالَ لِمَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ أُمَّتِي.




ইবনু মাস‘ঊদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার এক ব্যক্তি এক মহিলাকে চুমু দিলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে এ ঘটনা বললেন, তখন (এ ঘটনা উপলক্ষে) এ আয়াত নাযিল হয়। وَأَقِمْ الصَّلاَةَ طَرَفَيْ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنْ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ“সলাত কায়িম করবে দিনের দু’ প্রান্তে এবং রাতের প্রথমভাগে । পুণ্য অবশ্যই মুছে ফেলে বদ কাজ। যারা নাসীহাত গ্রহণ করে তাদের জন্য এটি এক নাসীহাত” (সূরাহ হূদ ১১/১১৪)। তখন সে লোকটি বলল, এ নির্দেশ কি কেবল আমার জন্য? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমার উম্মাতের যেই এর ‘আমাল করবে তার জন্য। [৫২৬] (আধুনিক প্রকাশনী ৪৩২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩২৭)









সহীহুল বুখারী (4688)


عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ دِيْنَارٍ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ الْكَرِيْمُ ابْنُ الْكَرِيْمِ ابْنِ الْكَرِيْمِ ابْنِ الْكَرِيْمِ يُوْسُفُ بْنُ يَعْقُوْبَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيْمَ




‘আবদুল্লাহ্ ইব্‌নু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ সম্মানিত ব্যক্তির পুত্র সম্মানিত এবং তাঁর পিতাও সম্মানিত ব্যক্তির পুত্র সম্মানিত। তিনি হলেন ইউসুফ (‘আ.) যাঁর পিতা ইয়াকুব (‘আ.), যাঁর পিতা ইসহাক (‘আ.) যাঁর পিতা ইব্রাহীম (‘আ.)। [৩৩৮২] (আধুনিক প্রকাশনী ৪৩২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৮ম/৪৩২৭)









সহীহুল বুখারী (4689)


مُحَمَّدٌ أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ أَبِيْ سَعِيْدٍ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سُئِلَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَيُّ النَّاسِ أَكْرَمُ قَالَ أَكْرَمُهُمْ عِنْدَ اللهِ أَتْقَاهُمْ قَالُوْا لَيْسَ عَنْ هَذَا نَسْأَلُكَ قَالَ فَأَكْرَمُ النَّاسِ يُوْسُفُ نَبِيُّ اللهِ ابْنُ نَبِيِّ اللهِ ابْنِ نَبِيِّ اللهِ ابْنِ خَلِيْلِ اللهِ قَالُوْا لَيْسَ عَنْ هَذَا نَسْأَلُكَ قَالَ فَعَنْ مَعَادِنِ الْعَرَبِ تَسْأَلُوْنِيْ قَالُوْا نَعَمْ قَالَ فَخِيَارُكُمْ فِي الْجَاهِلِيَّةِ خِيَارُكُمْ فِي الإِسْلَامِ إِذَا فَقِهُوْا تَابَعَهُ أَبُوْ أُسَامَةَ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ.




আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করা হল, কোন্ ব্যক্তি বেশি সম্মানিত? তিনি বললেন, তাদের মধ্যে সে-ই আল্লাহ্‌র নিকট অধিক সম্মানিত, যে তাদের মধ্যে সবচাইতে অধিক আল্লাহ্ভীরু। লোকেরা বলল, আমরা এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিনি। তিনি বললেন, সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি হলেন আল্লাহ্‌র নাবী ইউসুফ (‘আ.)। তিনি নাবীর পুত্র, (তাঁর পিতাও) নাবীর পুত্র এবং (তাঁর পিতার পিতা) খালীলুল্লাহ্ (‘আ.)-এর পুত্র। লোকেরা বলল, আপনাকে আমরা এ ব্যাপারে প্রশ্ন করিনি। তিনি বললেন, সম্ভবত তোমরা আরব বংশ সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞেস করেছ। তারা বলল, হ্যাঁ।
রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যারা জাহিলিয়্যাতে তোমাদের মাঝে উত্তম ছিল, ইসলামেও তারা উত্তম যদি তারা দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞানের অধিকারী হয়। আবূ উসামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ‘উবাইদুল্লাহ্র সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেন। [৩৩৫৩] (আধুনিক প্রকাশনী ৪৩২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩২৮)









সহীহুল বুখারী (4690)


عَبْدُ الْعَزِيْزِ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيْمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ صَالِحٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ ح و حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ النُّمَيْرِيُّ حَدَّثَنَا يُوْنُسُ بْنُ يَزِيْدَ الْأَيْلِيُّ قَالَ سَمِعْتُ الزُّهْرِيَّ سَمِعْتُ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ وَسَعِيْدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ وَعَلْقَمَةَ بْنَ وَقَّاصٍ وَعُبَيْدَ اللهِ بْنَ عَبْدِ اللهِ عَنْ حَدِيْثِ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حِيْنَ قَالَ لَهَا أَهْلُ الإِفْكِ مَا قَالُوْا فَبَرَّأَهَا اللهُ كُلٌّ حَدَّثَنِيْ طَائِفَةً مِنَ الْحَدِيْثِ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِنْ كُنْتِ بَرِيئَةً فَسَيُبَرِّئُكِ اللهُ وَإِنْ كُنْتِ أَلْمَمْتِ بِذَنْبٍ فَاسْتَغْفِرِي اللهَ وَتُوْبِيْ إِلَيْهِ قُلْتُ إِنِّيْ وَاللهِ لَا أَجِدُ مَثَلًا إِلَّا أَبَا يُوْسُفَ فَصَبْرٌ جَمِيْلٌ وَاللهُ الْمُسْتَعَانُ عَلَى مَا تَصِفُوْنَ وَأَنْزَلَ اللهُ {إِنَّ الَّذِيْنَ جَاءُوْا بِالإِفْكِ عُصْبَةٌ مِنْكُمْ} الْعَشْرَ الْآيَاتِ




যুহ্রী (রহ.) হতে বর্ণিত, ‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র, সা‘ঈদ ইবনু মুসাইয়্যিব, ‘আলক্বামাহ ইবনু ওয়াক্কাস এবং ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) “ইফ্ক সম্পর্কে أَهْلُ الإِفْكِ যা বলেছেন, তা শুনেছি। অতঃপর আল্লাহ তাকে সবকিছু থেকে নির্দোষ ঘোষণা করেছেন। (বর্ণনাকারীদের) একদল থেকে আমি হাদীসটির কিছু অংশ শুনেছি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) [‘আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে] বললেন, যদি তুমি নির্দোষ হয়ে থাক তবে অতিশীঘ্র আল্লাহ্ তোমার নির্দোষিতা প্রকাশ করে দিবেন; আর যদি তোমার দ্বারা এ গুনাহ্ সংঘটিত হয়ে থাকে, তবে আল্লাহ্‌র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তাওবাহ কর। ‘আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আল্লাহ্‌র কসম! এ সময় আমি ইউসুফ (‘আ.)-এর পিতা [ইয়াকুব (‘আ.)]-এর উদাহরণ ব্যতীত আর কিছুই জবাব দেয়ার মতো খুঁজে পাচ্ছি না। (আমিও তাঁর মত বলছি) ঃ সুতরাং পূর্ণ ধৈর্যই শ্রেয়, তোমরা যা বলছ সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহ্ই আমার সাহায্যস্থল। অবশেষে আল্লাহ্ তা‘আলা (আমার নির্দোষিতা ঘোষণা করে) إِنَّ الَّذِينَ جَاءُوا بِالإِفْكِ সহ দশটি আয়াত অবতীর্ণ করেছেন। [২৫৯৩] (আধুনিক প্রকাশনী ৪৩২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩২৯)









সহীহুল বুখারী (4691)


مُوْسَى حَدَّثَنَا أَبُوْ عَوَانَةَ عَنْ حُصَيْنٍ عَنْ أَبِيْ وَائِلٍ قَالَ حَدَّثَنِيْ مَسْرُوْقُ بْنُ الْأَجْدَعِ قَالَ حَدَّثَتْنِيْ أُمُّ رُوْمَانَ وَهْيَ أُمُّ عَائِشَةَ قَالَتْ بَيْنَا أَنَا وَعَائِشَةُ أَخَذَتْهَا الْحُمَّى فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَعَلَّ فِيْ حَدِيْثٍ تُحُدِّثَ قَالَتْ نَعَمْ وَقَعَدَتْ عَائِشَةُ قَالَتْ مَثَلِيْ وَمَثَلُكُمْ كَيَعْقُوْبَ وَبَنِيْهِ {بَلْ سَوَّلَتْ لَكُمْ أَنْفُسُكُمْ أَمْرًا طفَصَبْرٌ جَمِيْلٌ طوَاللهُ الْمُسْتَعَانُ عَلٰى مَا تَصِفُوْنَ}.




‘আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মাতা উম্মু রূমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, (অপবাদ রটনার সময়) ‘আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাদের ঘরে জ্বরে আক্রান্ত ছিল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সম্ভবত এ অপবাদের কারণে জ্বর হয়েছে। ‘আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, হ্যাঁ। তিনি উঠে বসলেন এবং বললেন, আমার এবং আপনাদের দৃষ্টান্ত হল ইয়াকুব (‘আ.) এবং তাঁর পুত্র ইউসুফ (‘আ.)-এর ন্যায়। [ইয়াকুব (‘আ.) তাঁর ছেলেদেরকে বললেন] বরং তোমরা এক মনগড়া কাহিনী সাজিয়ে নিয়ে এসেছ কাজেই “ধৈর্যই শ্রেয়। তোমরা যা বলছ, সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহ্ই আমার সাহায্যস্থল।” [৩৩৮৮] (আধুনিক প্রকাশনী ৪৩৩০, ইা.ফা. ৪৩৩০)









সহীহুল বুখারী (4692)


أَحْمَدُ بْنُ سَعِيْدٍ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ أَبِيْ وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ هَيْتَ لَكَ قَالَ وَإِنَّمَا نَقْرَؤُهَا كَمَا عُلِّمْنَاهَا {مَثْوَاهُ} مُقَامُهُ {وَأَلْفَيَا} وَجَدَا أَلْفَوْا آبَاءَهُمْ أَلْفَيْنَا وَعَنْ ابْنِ مَسْعُوْدٍ {بَلْ عَجِبْتُ وَيَسْخَرُوْنَ}.




‘আবদুল্লাহ্ ইব্‌নু মাস‘ঊদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, هَيْتَ لَكَ আমরা সেভাবেই পড়তাম, যেভাবে আমাদের শিখানো হয়েছে। مَثْوَاهُ স্থান এবং أَلْفَيَا তারা দু’জনে পেল। এ থেকে أَلْفَوْا آبَاءَهُمْ হয়েছে। এমনিভাবে ইব্‌নু মাস‘ঊদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে بَلْ عَجِبْتُ وَيَسْخَرُونَ এর মধ্যে ت-কে পেশযুক্ত করে বর্ণনা করা হয়েছে। (তিনি এভাবে পড়তেন)। (আধুনিক প্রকাশনী ৪৩৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৩১)









সহীহুল বুখারী (4693)


الْحُمَيْدِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ مُسْلِمٍ عَنْ مَسْرُوْقٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ قُرَيْشًا لَمَّا أَبْطَئُوْا عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِالإِسْلَامِ قَالَ اللهُمَّ اكْفِنِيْهِمْ بِسَبْعٍ كَسَبْعِ يُوْسُفَ فَأَصَابَتْهُمْ سَنَةٌ حَصَّتْ كُلَّ شَيْءٍ حَتَّى أَكَلُوا الْعِظَامَ حَتَّى جَعَلَ الرَّجُلُ يَنْظُرُ إِلَى السَّمَاءِ فَيَرَى بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا مِثْلَ الدُّخَانِ قَالَ اللهُ {فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَآءُ بِدُخَانٍ مُّبِيْنٍ} قَالَ اللهُ {إِنَّا كَاشِفُو الْعَذَابِ قَلِيْلًا إِنَّكُمْ عَائِدُوْنَ} أَفَيُكْشَفُ عَنْهُمْ الْعَذَابُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَقَدْ مَضَى الدُّخَانُ وَمَضَتْ الْبَطْشَةُ




‘আবদুল্লাহ্ হতে বর্ণিত, যখন কুরাইশগণ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইসলামের দা’ওয়াত অস্বীকার করল, তখন তিনি আল্লাহ্‌র দরবারে আরয করলেন, হে আল্লাহ্! যেমনিভাবে আপনি ইউসুফ (‘আ.)-এর সময় সাত বছর ধরে দুর্ভিক্ষ দিয়েছিলেন, তেমনিভাবে ওদের ওপর দুর্ভিক্ষ অবতীর্ণ করুন। তারপর কুরাইশগণ এক বছর পর্যন্ত এমন দুর্ভিক্ষের মধ্যে আপতিত হল যে, সব কিছু ধ্বংস হয়ে গেল; এমনকি তারা হাড় পর্যন্ত খেতে শুরু করল; যখন কোন ব্যক্তি আকাশের দিকে নজর করত, তখন আকাশ ও তার মধ্যে শুধু ধোঁয়া দেখত।
আল্লাহ্ বলেন, فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُبِينٍ “সেদিনের অপেক্ষায় থাক, যেদিন আকাশ স্পষ্ট ধোঁয়া নিয়ে আসবে।” (সূরাহ দুখান ৪৪/১০)
আল্লাহ্ আরও বলেন ঃ إِنَّا كَاشِفُو الْعَذَابِ قَلِيلاً إِنَّكُمْ عَائِدُونَ “আমি শাস্তি কিছুটা সরিয়ে নিব, যেন তোমরা (পূর্বাবস্থায়) ফিরে আস” (সূরাহ দুখান ৪৪/১৫)। ক্বিয়ামাতের দিন তাদের থেকে আযাব দূর করা হবে কি? এবং دُخَانُ ও بَطْشَةُ এর ব্যাখ্যা আগে বলা হয়েছে। [১০০৭] (আধুনিক প্রকাশনী ৪৩৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৩২)









সহীহুল বুখারী (4694)


سَعِيْدُ بْنُ تَلِيْدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْقَاسِمِ عَنْ بَكْرِ بْنِ مُضَرَ عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ عَنْ يُوْنُسَ بْنِ يَزِيْدَ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ وَأَبِيْ سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَرْحَمُ اللهُ لُوْطًا لَقَدْ كَانَ يَأْوِيْ إِلَى رُكْنٍ شَدِيْدٍ وَلَوْ لَبِثْتُ فِي السِّجْنِ مَا لَبِثَ يُوْسُفُ لَأَجَبْتُ الدَّاعِيَ وَنَحْنُ أَحَقُّ مِنْ إِبْرَاهِيْمَ إِذْ قَالَ لَهُ {أَوَلَمْ تُؤْمِنْ قَالَ بَلٰى وَلٰكِنْ لِيَطْمَئِنَّ قَلْبِيْ}.




আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ্ তা‘আলা লূত (‘আ.)-এর উপর রহম করুন। তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের চরম শত্র“তায় বাধ্য হয়ে, নিজের নিরাপত্তার জন্য শক্ত খুঁটি অর্থাৎ আল্লাহ্‌র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন। যতদিন পর্যন্ত ইউসুফ (‘আ.) (বন্দীখানায়) ছিলেন, আমি যদি এভাবে বন্দীখানায় থাকতাম, তবে মুক্তি পাবার ডাকে অবশ্যই সাড়া দিতাম । আমরা (সন্দেহভঞ্জন করার ব্যাপারে) ইব্রাহীম (‘আ.)-এর চেয়েও আগে বেড়ে যেতাম যখন আল্লাহ্ তাঁকে বললেন, তুমি কি বিশ্বাস কর না? জবাবে তিনি বললেন, হাঁ। তবে আমার মনের প্রশান্তির জন্য। [৩৩৭২] (আধুনিক প্রকাশনী ৪৩৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৩৩)









সহীহুল বুখারী (4695)


عَبْدُ الْعَزِيْزِ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيْمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ صَالِحٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ أَخْبَرَنِيْ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ لَهُ وَهُوَ يَسْأَلُهَا عَنْ قَوْلِ اللهِ تَعَالَى {حَتّٰىٓإِذَا اسْتَيْأَسَ الرُّسُلُ} قَالَ قُلْتُ أَكُذِبُوْا أَمْ كُذِّبُوْا قَالَتْ عَائِشَةُ كُذِّبُوْا قُلْتُ فَقَدْ اسْتَيْقَنُوْا أَنَّ قَوْمَهُمْ كَذَّبُوْهُمْ فَمَا هُوَ بِالظَّنِّ قَالَتْ أَجَلْ لَعَمْرِيْ لَقَدْ اسْتَيْقَنُوْا بِذَلِكَ فَقُلْتُ لَهَا وَظَنُّوْا أَنَّهُمْ قَدْ كُذِبُوْا قَالَتْ مَعَاذَ اللهِ لَمْ تَكُنْ الرُّسُلُ تَظُنُّ ذَلِكَ بِرَبِّهَا قُلْتُ فَمَا هَذِهِ الْآيَةُ قَالَتْ هُمْ أَتْبَاعُ الرُّسُلِ الَّذِيْنَ آمَنُوْا بِرَبِّهِمْ وَصَدَّقُوْهُمْ فَطَالَ عَلَيْهِمْ الْبَلَاءُ وَاسْتَأْخَرَ عَنْهُمْ النَّصْرُ حَتَّى إِذَا اسْتَيْأَسَ الرُّسُلُ مِمَّنْ كَذَّبَهُمْ مِنْ قَوْمِهِمْ وَظَنَّتْ الرُّسُلُ أَنَّ أَتْبَاعَهُمْ قَدْ كَذَّبُوْهُمْ جَاءَهُمْ نَصْرُ اللهِ عِنْدَ ذَلِكَ.




‘উরওয়াহ ইব্‌নু যুবায়র (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে আল্লাহ্ তা‘আলার বাণী ঃ حَتَّى إِذَا اسْتَيْأَسَ الرُّسُلُ এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যে, এ আয়াতে শব্দটা أَكُذِبُوا ‘না’ كُذِّبُوا ‘আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, اَكُذِّبُوا আমি জিজ্ঞেস করলাম, যখন আম্বিয়ায়ে কিরাম পূর্ণ বিশ্বাস করে নিলেন, এখন তাদের সম্প্রদায় তাদের প্রতি মিথ্যারোপ করবে, তখন الظَّن ব্যবহারের উদ্দেশ্য কী? ‘আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, হ্যাঁ, আমার জীবনের কসম! তারা পূর্ণ বিশ্বাস করেই নিয়েছিলেন। আমি তাঁকে বললাম ظَنُّوا أَنَّهُمْ قَدْ كُذِبُوا অর্থ কী দাঁড়ায়? ‘আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, মা‘আযাল্লাহ! রাসূলগণ কখনও আল্লাহ্ সম্পর্কে মিথ্যা ধারণা করতে পারেন না। আমি বললাম, তবে আযাতের অর্থ কী হবে? তিনি বললেন, তারা রাসূলদের অনুসারী, যারা তাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান এনেছে এবং রাসূলদের সত্য বলে স্বীকার করেছে, তারপর তাদের প্রতি দীর্ঘকাল ধরে (কাফেরদের) নির্যাতন চলেছে এবং আল্লাহ্‌র সাহায্য আসতেও অনেক দেরী হয়েছে, এমনকি যখন রাসূলগণ তাঁদের সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে তাঁদের প্রতি মিথ্যারোপকারীদের ঈমান আনা সম্পর্কে নিরাশ হয়ে গেছেন এবং রাসূলদের এ ধারণা জন্মেছে যে, এখন তাঁদের অনুসারীরাও তাদের প্রতি মিথ্যারোপ করতে শুরু করবে, এমন সময় তাঁদের কাছে আল্লাহ্‌র সাহায্য এল। [৩৩৮৯] (আধুনিক প্রকাশনী ৪৩৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৩৪)









সহীহুল বুখারী (4696)


أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِيْ عُرْوَةُ فَقُلْتُ لَعَلَّهَا كُذِبُوْا مُخَفَّفَةً قَالَتْ مَعَاذَ اللهِ نَحْوَهُ




‘উরওয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন ঃ আমি ‘আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বললাম সম্ভবত كُذِبُوا (তাখফীফ সহ)। তিনি বললেন, মা‘আযাল্লাহ! ঐরূপ (كُذُّبُوْا)। [৩৩৮৯] (আধুনিক প্রকাশনী ৪৩৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৩৫)









সহীহুল বুখারী (4697)


إِبْرَاهِيْمُ بْنُ الْمُنْذِرِ حَدَّثَنَا مَعْنٌ قَالَ حَدَّثَنِيْ مَالِكٌ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ دِيْنَارٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ خَمْسٌ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا اللهُ لَا يَعْلَمُ مَا فِيْ غَدٍ إِلَّا اللهُ وَلَا يَعْلَمُ مَا تَغِيْضُ الْأَرْحَامُ إِلَّا اللهُ وَلَا يَعْلَمُ مَتَى يَأْتِي الْمَطَرُ أَحَدٌ إِلَّا اللهُ وَلَا تَدْرِيْ نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوْتُ وَلَا يَعْلَمُ مَتَى تَقُوْمُ السَّاعَةُ إِلَّا اللهُ




ইব্‌নু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘ইল্ম গায়েব-এর চাবিকাঠি পাঁচটি, যা আল্লাহ্ ভিন্ন কেউ জানে না। তা হলো ঃ আগামী দিন কী হবে, তা আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানে না। মায়ের জরায়ুতে কী আছে, তা আল্লাহ্ ভিন্ন আর কেউ জানে না। বৃষ্টি কখন আসবে, তা আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানে না। কোন ব্যক্তি জানে না তার মৃত্যু কোথায় হবে এবং ক্বিয়ামাত কবে সংঘটিত হবে, তা আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানে না। [১০৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী ৪৩৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৩৬)









সহীহুল বুখারী (4698)


حَدَّثَنِي عُبَيْدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ أَبِي أُسَامَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏"‏ أَخْبِرُونِي بِشَجَرَةٍ تُشْبِهُ أَوْ كَالرَّجُلِ الْمُسْلِمِ لاَ يَتَحَاتُّ وَرَقُهَا وَلاَ وَلاَ وَلاَ، تُؤْتِي أُكْلَهَا كُلَّ حِينٍ ‏"‏‏.‏ قَالَ ابْنُ عُمَرَ فَوَقَعَ فِي نَفْسِي أَنَّهَا النَّخْلَةُ، وَرَأَيْتُ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ لاَ يَتَكَلَّمَانِ، فَكَرِهْتُ أَنْ أَتَكَلَّمَ، فَلَمَّا لَمْ يَقُولُوا شَيْئًا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ هِيَ النَّخْلَةُ ‏"‏‏.‏ فَلَمَّا قُمْنَا قُلْتُ لِعُمَرَ يَا أَبَتَاهُ وَاللَّهِ لَقَدْ كَانَ وَقَعَ فِي نَفْسِي أَنَّهَا النَّخْلَةُ فَقَالَ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَكَلَّمَ قَالَ لَمْ أَرَكُمْ تَكَلَّمُونَ، فَكَرِهْتُ أَنْ أَتَكَلَّمَ أَوْ أَقُولَ شَيْئًا‏.‏ قَالَ عُمَرُ لأَنْ تَكُونَ قُلْتَهَا أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْ كَذَا وَكَذَا‏.‏




ইব্‌নু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে ছিলাম। তিনি বললেন, বল তো সেটা কোন বৃক্ষ, যা কোন মুসলিম ব্যক্তির মত, যার পাতা ঝরে না, এরূপ নয়, এরূপ নয় এবং এরূপও নয় যা সর্বদা খাদ্য প্রদান করে। ইব্‌নু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমার মনে হল, এটা খেজুর বৃক্ষ। কিন্তু আমি দেখলাম আবূ বাক্র (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ও ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কথা বলছেন না। তাই আমি এ ব্যাপারে বলা পছন্দ করিনি। শেষে যখন কেউ কিছু বললেন না, তখন রাসূলূল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সেটা খেজুর গাছ। পরে যখন আমরা উঠে গেলাম, তখন আমি ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বললাম, হে আব্বা! আল্লাহ্‌র কসম! আমার মনেও হয়েছিল, তা খেজুর বৃক্ষ। ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, এ কথাা বলতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? বললেন, আমি আপনাদেরকে কথা বলতে দেখলাম না, তাই আমি কথা বলতে এবং আমার মত ব্যক্ত করতে অঅপছন্দ করি। ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, অবশ্য যদি তুমি বলতে, তবে তা আমার নিকট এত এত থেকে অধিক প্রিয় হত। [৬১] (আধুনিক প্রকাশনী ৪৩৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৩৭)









সহীহুল বুখারী (4699)


أَبُو الْوَلِيْدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ أَخْبَرَنِيْ عَلْقَمَةُ بْنُ مَرْثَدٍ قَالَ سَمِعْتُ سَعْدَ بْنَ عُبَيْدَةَ عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ الْمُسْلِمُ إِذَا سُئِلَ فِي الْقَبْرِ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُوْلُ اللهِ فَذَلِكَ قَوْلُهُ {يُثَبِّتُ اللهُ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْاٰخِرَةِ}.




বারাআ ইব্‌নু ‘আযিব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, কবরে মুসলিমকে যখন প্রশ্ন করা হবে, তখন সে সাক্ষ্য দিবে ঃ “লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াআন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্” আল্লাহ্‌র বাণীতে এর প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে। বাণীটি হলো এই ঃ “যারা শাশ্বত বাণীতে বিশ্বাসী তাদেরকে দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে আল্লাহ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন” (সূরা ইবরাহীম ১৪/২৭)। [১৩৬৯] (আধুনিক প্রকাশনী ৪৩৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৩৮)









সহীহুল বুখারী (4700)


عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرٍو عَنْ عَطَاءٍ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ {أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِيْنَ بَدَّلُوْا نِعْمَةَ اللهِ كُفْرًا} قَالَ هُمْ كُفَّارُ أَهْلِ مَكَّةَ.




‘আত্বা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলতে শুনেছেন, أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ بَدَّلُوا نِعْمَةَ اللهِ كُفْرًا তারা হল মাক্কাহ্র কাফিরগণ। [৩৯৭৭] (আধুনিক প্রকাশনী ৪৩৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৩৯)









সহীহুল বুখারী (4701)


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ إِذَا قَضَى اللَّهُ الأَمْرَ فِي السَّمَاءِ ضَرَبَتِ الْمَلاَئِكَةُ بِأَجْنِحَتِهَا خُضْعَانًا لِقَوْلِهِ كَالسِّلْسِلَةِ عَلَى صَفْوَانٍ ـ قَالَ عَلِيٌّ وَقَالَ غَيْرُهُ صَفْوَانٍ ـ يَنْفُذُهُمْ ذَلِكَ فَإِذَا فُزِّعَ عَنْ قُلُوبِهِمْ قَالُوا مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ، قَالُوا لِلَّذِي قَالَ الْحَقَّ وَهْوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ، فَيَسْمَعُهَا مُسْتَرِقُو السَّمْعِ، وَمُسْتَرِقُو السَّمْعِ هَكَذَا وَاحِدٌ فَوْقَ آخَرَ ـ وَوَصَفَ سُفْيَانُ بِيَدِهِ، وَفَرَّجَ بَيْنَ أَصَابِعِ يَدِهِ الْيُمْنَى، نَصَبَهَا بَعْضَهَا فَوْقَ بَعْضٍ ـ فَرُبَّمَا أَدْرَكَ الشِّهَابُ الْمُسْتَمِعَ، قَبْلَ أَنْ يَرْمِيَ بِهَا إِلَى صَاحِبِهِ، فَيُحْرِقَهُ وَرُبَّمَا لَمْ يُدْرِكْهُ حَتَّى يَرْمِيَ بِهَا إِلَى الَّذِي يَلِيهِ إِلَى الَّذِي هُوَ أَسْفَلُ مِنْهُ حَتَّى يُلْقُوهَا إِلَى الأَرْضِ ـ وَرُبَّمَا قَالَ سُفْيَانُ حَتَّى تَنْتَهِيَ إِلَى الأَرْضِ ـ فَتُلْقَى عَلَى فَمِ السَّاحِرِ، فَيَكْذِبُ مَعَهَا مِائَةَ كَذْبَةٍ فَيَصْدُقُ، فَيَقُولُونَ أَلَمْ يُخْبِرْنَا يَوْمَ كَذَا وَكَذَا يَكُونُ كَذَا وَكَذَا، فَوَجَدْنَاهُ حَقًّا لِلْكَلِمَةِ الَّتِي سُمِعَتْ مِنَ السَّمَاءِ ‏"‏‏.‏
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا عَمْرٌو، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، إِذَا قَضَى اللَّهُ الأَمْرَ‏.‏ وَزَادَ الْكَاهِنِ‏.‏ وَحَدَّثَنَا سُفْيَانُ فَقَالَ قَالَ عَمْرٌو سَمِعْتُ عِكْرِمَةَ حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ إِذَا قَضَى اللَّهُ الأَمْرَ وَقَالَ عَلَى فَمِ السَّاحِرِ‏.‏ قُلْتُ لِسُفْيَانَ قَالَ سَمِعْتُ عِكْرِمَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ‏.‏ قَالَ نَعَمْ‏.‏ قُلْتُ لِسُفْيَانَ إِنَّ إِنْسَانًا رَوَى عَنْكَ عَنْ عَمْرٍو عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَيَرْفَعُهُ أَنَّهُ قَرَأَ فُزِّعَ‏.‏ قَالَ سُفْيَانُ هَكَذَا قَرَأَ عَمْرٌو‏.‏ فَلاَ أَدْرِي سَمِعَهُ هَكَذَا أَمْ لاَ‏.‏ قَالَ سُفْيَانُ وَهْىَ قِرَاءَتُنَا‏.‏




আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, যখন আল্লাহ্ তা‘আলা আকাশে কোন বিষয়ের সিদ্ধান্ত নেন, তখন মালায়িকাহ তাঁর কথা শোনার জন্য অতি বিনয়ের সঙ্গে নিজ নিজ পালক ঝাড়তে থাকে মসৃণ পাথরের উপর জিঞ্জিরের শব্দের মত। ‘আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, صَفْوَانِ এর মধ্যে فَا সাকিন যুক্ত এবং অন্যরা বলেন, فَا ফাতাহ্ যুক্ত। এভাবে আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর বাণী মালায়িকাহ্কে পৌঁছান। “যখন মালায়িকাহ্র অন্তর থেকে ভয় দূর হয়, তখন তারা একে অপররে জিজ্ঞেস করে, তোমাদের প্রভু কী বলেছেন? তখন তারা বলে, যা সত্য তিনি তাই বলেছেন, এবং তিনি অতি উচ্চ মহান।” চুরি করে কান লাগিয়ে (শায়ত্বনরা) তা শুনে নেয়। শোনার জন্য শায়ত্বনগুলো একের ওপর এক এভাবে থাকে। সুফ্ইয়ান ডান হাতের আঙ্গুলের ওপর অন্য আঙ্গুল রেখে হাতের ইশারায় ব্যাপারটি প্রকাশ করলেন। তারপর কখনও অগ্নি স্ফুলিঙ্গ শ্রবণকারীকে তার সাথীর কাছে এ কথাটি পৌঁছানোর আগেই আঘাত করে এবং তাকে জ্বালিয়ে দেয়। আবার কখনও সে ফুলকি প্রথম শ্রবণকারী শয়তান পর্যন্ত পৌঁছার পূর্বেই সে তার নিচের সাথীকে খবরটি জানিয়ে দেয়। এমনি করে এ কথা পৃথিবী পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দেয়। কখনও সুফ্ইয়ান বলেছেন, এমনি করে পৃথিবী পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তারপর তা জাদুকরের মুখে ঢেলে দেয়া হয় এবং সে তার সঙ্গে শত মিথ্যা মিশিয়ে প্রচার করে। তাই তার কথা সত্য হয়ে যায়। তখন লোকেরা বলতে থাকে, এ জাদুকর আমাদের কাছে অমুক অমুক দিন অমুক অমুক কথা বলেছিল;। বস্তুত আসমান থেকে শুনে নেয়ার কারণেই আমরা তা সত্যরূপে পেয়েছি। (আধুনিক প্রকাশনী ৪৩৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৪০)
আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। যখন আল্লাহ্‌র তা‘আলা কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন....এ বর্ণনায় كَاهِنِ (জ্যোতির্বিদ কথাটি) অতিরিক্ত। ..... আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, যখন আল্লাহ্ তা‘আলা কোন ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এ বর্ণনায় عَلَى فَمِ السَّاحِرِ (জাদুকরের মুখের ওপর) উল্লেখ করেছেন। ‘আলী ইব্‌নু ‘আবদুল্লাহ্ বলেন, আমি সুফ্ইয়ানকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি ‘আম্‌র থেকে শুনেছেন যে, তিনি বলেছেন, আমি ইকরামাহ থেকে শুনে এবং তিনি (ইকরামাহ) বলেন, আমি আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে শুনেছি। সুফ্ইয়ান বলেন, হ্যাঁ। ‘আলী বলেন, আমি সুফ্ইয়ানকে জিজ্ঞেস করলাম, এক ব্যক্তি আপনার থেকে এভাবে বর্ণনা করেছেন, ‘আম্‌র ইকরামাহ থেকে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পাঠ করেছেন। সুফ্ইয়ান বললেন, আমি ‘আম্রকে এভাবে পড়তে শুনেছি। তবে আমি জানি না, তিনি এভাবেই শুনেছেন কিনা; তবে এ-ই আমাদের পাঠ। [৪৮০০, ৭৪৮১] (আধুনিক প্রকাশনী ৪৩৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৪১)









সহীহুল বুখারী (4702)


إِبْرَاهِيْمُ بْنُ الْمُنْذِرِ حَدَّثَنَا مَعْنٌ قَالَ حَدَّثَنِيْ مَالِكٌ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ دِيْنَارٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِأَصْحَابِ الْحِجْرِ لَا تَدْخُلُوْا عَلَى هَؤُلَاءِ الْقَوْمِ إِلَّا أَنْ تَكُوْنُوْا بَاكِيْنَ فَإِنْ لَمْ تَكُوْنُوْا بَاكِيْنَ فَلَا تَدْخُلُوْا عَلَيْهِمْ أَنْ يُصِيْبَكُمْ مِثْلُ مَا أَصَابَهُمْ.




‘আবদুল্লাহ্ ইব্‌নু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হিজরবাসীগণ সম্পর্কে সহাবায়ে কিরামদের বললেন, তোমরা ক্রন্দনরত অবস্থা ব্যতিরেকে এ জাতির এলাকায় প্রবেশ করবে না। যদি তোমাদের ক্রন্দন না আসে, তবে তোমরা তাদের এলাকায় প্রবেশই করবে না। হয়ত, তাদের ওপর যা ঘটেছিল তা তোমাদের ওপরও ঘটতে পারে। [৪৩৩] (আধুনিক প্রকাশনী ৪৩৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৪২)









সহীহুল বুখারী (4703)


مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ خُبَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ عَنْ أَبِيْ سَعِيْدِ بْنِ الْمُعَلَّى قَالَ مَرَّ بِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا أُصَلِّيْ فَدَعَانِيْ فَلَمْ آتِهِ حَتَّى صَلَّيْتُ ثُمَّ أَتَيْتُ فَقَالَ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَأْتِيَنِيْ فَقُلْتُ كُنْتُ أُصَلِّيْ فَقَالَ أَلَمْ يَقُلْ اللهُ {يٰٓأَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا اسْتَجِيْبُوْا لِلهِ وَلِلرَّسُوْلِ} إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيْكُمْ ثُمَّ قَالَ أَلَا أُعَلِّمُكَ أَعْظَمَ سُوْرَةٍ فِي الْقُرْآنِ قَبْلَ أَنْ أَخْرُجَ مِنَ الْمَسْجِدِ فَذَهَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِيَخْرُجَ مِنَ الْمَسْجِدِ فَذَكَّرْتُهُ فَقَالَ الْحَمْدُ لِلهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ هِيَ السَّبْعُ الْمَثَانِيْ وَالْقُرْآنُ الْعَظِيْمُ الَّذِيْ أُوْتِيْتُهُ.




আবূ সা‘ঈদ ইব্‌নু মু‘য়াল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার পার্শ্ব দিয়ে গেলেন, তখন আমি সলাত আদায় করছিলাম। তিনি আমাকে ডাক দিলেন। আমি সলাত শেষ না করে আসিনি। তারপর আমি বললাম। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, আমার কাছে আসতে তোমাকে কিসে বাধা দিয়েছিল। আমি আসলাম, আমি সলাত আদায় করছিলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ্ তা‘আলা কি এ কথা বলেননি, “হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ্ এবং রাসূলের ডাকে সাড়া দাও?” তারপর তিনি বললেন, আমি মসজিদ থেকে বের হয়ে যাওয়ার আগেই কি তোমাকে কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ সূরাটি শিখিয়ে দেব না। তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মসজিদ থেকে বের হতে উদ্যত হলেন, আমি তাকে কথাটি মনে করিয়ে দিলাম। তিনি বললেন, সে সূরাটি হল, “আল্ হামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন।” এটি হল, বারবার পঠিত সাতটি আয়াত এবং মহা কুরআন যা আমাকে দেয়া হয়েছে। [৪৪৭৪] (আধুনিক প্রকাশনী ৪৩৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৪৩)