হাদীস বিএন


সহীহুল বুখারী





সহীহুল বুখারী (4621)


مُنْذِرُ بْنُ الْوَلِيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجَارُوْدِيُّ حَدَّثَنَا أَبِيْ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مُوْسَى بْنِ أَنَسٍ عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ خَطَبَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم خُطْبَةً مَا سَمِعْتُ مِثْلَهَا قَطُّ قَالَ لَوْ تَعْلَمُوْنَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيْلًا وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيْرًا قَالَ فَغَطَّى أَصْحَابُ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وُجُوْهَهُمْ لَهُمْ خَنِيْنٌ فَقَالَ رَجُلٌ مَنْ أَبِيْ قَالَ فُلَانٌ فَنَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ : {لَا تَسْأَلُوْا عَنْ أَشْيَآءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ} رَوَاهُ النَّضْرُ وَرَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ عَنْ شُعْبَةَ.




আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন একটি খুতবা দিলেন যেমনটি আমি আর কখনো শুনিনি। তিনি বলেছেন, “আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে তবে তোমরা হাসতে খুব কমই এবং অধিক অধিক করে কাঁদতে”। তিনি বলেন, সহাবায়ে কিরাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নিজ নিজ চেহারা আবৃত করে গুনগুন করে কাঁদতে শুরু করলেন, এরপর এক ব্যক্তি (‘আবদুল্লাহ ইবনু হুযাইফাহ বা অন্য কেউ) বলল, আমার পিতা কে? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “অমুক”। তখন এই আয়াত অবতীর্ণ হল لاَ تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ এই হাদীসটি শু’বাহ থেকে নযর এবং রাওহ ইবনু ‘উবাদাহ বর্ণনা করেছেন। [৯৩; মুসলিম ৪৩/৩৭, হাঃ ২৩৫৯] (আধুনিক প্রকাশনী ৪২৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৬৩)









সহীহুল বুখারী (4622)


الْفَضْلُ بْنُ سَهْلٍ حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ حَدَّثَنَا أَبُوْ خَيْثَمَةَ حَدَّثَنَا أَبُو الْجُوَيْرِيَةِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ كَانَ قَوْمٌ يَسْأَلُوْنَ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم اسْتِهْزَاءً فَيَقُوْلُ الرَّجُلُ مَنْ أَبِيْ وَيَقُوْلُ الرَّجُلُ تَضِلُّ نَاقَتُهُ أَيْنَ نَاقَتِيْ فَأَنْزَلَ اللهُ فِيْهِمْ هَذِهِ الْآيَةَ : {يٰٓأَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْالَا تَسْأَلُوْا عَنْ أَشْيَآءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ} حَتَّى فَرَغَ مِنَ الآيَةِ كُلِّهَا.




ইবনু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, কিছু লোক ছিল তারা ঠাট্টা করে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রশ্ন করত, কেউ বলত আমার পিতা কে? আবার কেউ বলত আমার উষ্ট্রী হারিয়ে গেছে তা কোথায়? তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা এই আয়াত অবতীর্ণ করেছেন ..... يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ। (আধুনিক প্রকাশনী ৪২৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৬৪)









সহীহুল বুখারী (4623)


مُوْسَى بْنُ إِسْمَاعِيْلَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيْمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ قَالَ الْبَحِيْرَةُ الَّتِيْ يُمْنَعُ دَرُّهَا لِلطَّوَاغِيْتِ فَلَا يَحْلُبُهَا أَحَدٌ مِنْ النَّاسِ وَالسَّائِبَةُ كَانُوْا يُسَيِّبُوْنَهَا لِآلِهَتِهِمْ لَا يُحْمَلُ عَلَيْهَا شَيْءٌ قَالَ وَقَالَ أَبُوْ هُرَيْرَةَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَأَيْتُ عَمْرَو بْنَ عَامِرٍ الْخُزَاعِيَّ يَجُرُّ قُصْبَهُ فِي النَّارِ كَانَ أَوَّلَ مَنْ سَيَّبَ السَّوَائِبَ وَالْوَصِيْلَةُ النَّاقَةُ الْبِكْرُ تُبَكِّرُ فِيْ أَوَّلِ نِتَاجِ الإِبِلِ ثُمَّ تُثَنِّيْ بَعْدُ بِأُنْثَى وَكَانُوْا يُسَيِّبُوْنَهَا لِطَوَاغِيْتِهِمْ إِنْ وَصَلَتْ إِحْدَاهُمَا بِالْأُخْرَى لَيْسَ بَيْنَهُمَا ذَكَرٌ وَالْحَامِ فَحْلُ الإِبِلِ يَضْرِبُ الضِّرَابَ الْمَعْدُوْدَ فَإِذَا قَضَى ضِرَابَهُ وَدَعُوْهُ لِلطَّوَاغِيْتِ وَأَعْفَوْهُ مِنَ الْحَمْلِ فَلَمْ يُحْمَلْ عَلَيْهِ شَيْءٌ وَسَمَّوْهُ الْحَامِيَ و قَالَ لِيْ أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ سَمِعْتُ سَعِيْدًا قَالَ يُخْبِرُهُ بِهَذَا قَالَ وَقَالَ أَبُوْ هُرَيْرَةَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ وَرَوَاهُ ابْنُ الْهَادِ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَعِيْدٍ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم




সা‘ঈদ ইবনু মুসায়্যাব (রহ.) হতে বর্ণিত, الْبَحِيرَةُবাহীরা জন্তুর স্তন প্রতিমার উদ্দেশে সংরক্ষিত থাকে কেউ তা দোহন করে না। السَّائِبَةُসাইবা, যে জন্তু তারা তাদের উপাস্যের নামে ছেড়ে দিত এবং তা দিয়ে বোঝা বহন করা হত না। তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন যে, আমি ‘আমর ইবনু আমির খুযায়ীকে জাহান্নামের মধ্যে দেখেছি সে তার নাড়িভুঁড়ি টানছে, সে-ই প্রথম ব্যক্তি যে সায়িবা প্রথা প্রথম চালু করে। وَالْوَصِيلَةُওয়াসীলাহ্, যে উষ্ট্রী প্রথমবারে মাদী বাচ্চা প্রসব করে এবং দ্বিতীয়বারেও মাদী বাচ্চা প্রসব করে, ঐ উষ্ট্রীকে তারা তাদের তাগূতের উদ্দেশে ছেড়ে দিত। وَالْحَامِহাম, নর উট যা দ্বারা কয়েকবার প্রজনন কার্য নেয়া হয়, প্রজনন কার্য সমাপ্ত হলে সেটাকে তারা তাদের প্রতিমার জন্যে ছেড়ে দেয় এবং বোঝা বহন থেকে ওটাকে মুক্তি দেয়। সেটির উপর কিছু বহন করা হয় না। এটাকে তারা ‘হাম’ নামে অভিহিত করত।
আমাকে আবুল ইয়ামান বলেছেন যে, শু‘আয়ব, ইমাম যুহরী (রহ.) থেকে আমাদেরকে অবহিত করেছেন, যুহরী বলেন, আমি সা‘ঈদ ইবনু মুসাইয়্যিব (রহ.) থেকে শুনেছি, তিনি তাকে এ ব্যাপারে অবহিত করেছেন। সা‘ঈদ ইবনু মুসাইয়্যিব বলেছেন, আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এই রকম শুনেছি। ইবনু হাদ এটা বর্ণনা করেছেন ইবনু শিহাব থেকে। আর তিনি সা‘ঈদ থেকে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে যে, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছি। [৩৫২১] (আধুনিক প্রকাশনী ৪২৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৬৫)









সহীহুল বুখারী (4624)


مُحَمَّدُ بْنُ أَبِيْ يَعْقُوْبَ أَبُوْ عَبْدِ اللهِ الْكَرْمَانِيُّ حَدَّثَنَا حَسَّانُ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ حَدَّثَنَا يُوْنُسُ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ أَنَّ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَأَيْتُ جَهَنَّمَ يَحْطِمُ بَعْضُهَا بَعْضًا وَرَأَيْتُ عَمْرًا يَجُرُّ قُصْبَهُ وَهْوَ أَوَّلُ مَنْ سَيَّبَ السَّوَائِبَ.




‘আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আমি জাহান্নামকে দেখেছি যে, তার একাংশ অন্য অংশকে ভেঙ্গে ফেলছে বা আক্রমণ করছে, ‘আমরকে দেখেছি সে তার নাড়িভুঁড়ি টেনে নিয়ে হাঁটছে, সে-ই প্রথম ব্যক্তি যে ‘সায়ীবা’র রেওয়াজ চালু করেছিল। [১০৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী ৪২৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৬৬)









সহীহুল বুখারী (4625)


أَبُو الْوَلِيْدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ أَخْبَرَنَا الْمُغِيْرَةُ بْنُ النُّعْمَانِ قَالَ سَمِعْتُ سَعِيْدَ بْنَ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ خَطَبَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّكُمْ مَحْشُوْرُوْنَ إِلَى اللهِ حُفَاةً عُرَاةً غُرْلًا ثُمَّ قَالَ : {كَمَا بَدَأْنَآ أَوَّلَ خَلْقٍ نُّعِيْدُه” ط وَعْدًا عَلَيْنَا ط إِنَّا كُنَّا فٰعِلِيْنَ} إِلَى آخِرِ الْآيَةِ ثُمَّ قَالَ : أَلَا وَإِنَّ أَوَّلَ الْخَلَائِقِ يُكْسَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِبْرَاهِيْمُ أَلَا وَإِنَّهُ يُجَاءُ بِرِجَالٍ مِنْ أُمَّتِيْ فَيُؤْخَذُ بِهِمْ ذَاتَ الشِّمَالِ فَأَقُوْلُ يَا رَبِّ أُصَيْحَابِيْ فَيُقَالُ إِنَّكَ لَا تَدْرِيْ مَا أَحْدَثُوْا بَعْدَكَ فَأَقُوْلُ كَمَا قَالَ الْعَبْدُ الصَّالِحُ : {وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيْدًا مَّا دُمْتُ فِيْهِمْ جفَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِيْ كُنْتَ أَنْتَ الرَّقِيْبَ عَلَيْهِمْ} فَيُقَالُ : إِنَّ هَؤُلَاءِ لَمْ يَزَالُوْا مُرْتَدِّيْنَ عَلَى أَعْقَابِهِمْ مُنْذُ فَارَقْتَهُمْ




ইবনু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক দিন খুতবা দিলেন, বললেন, হে লোক সকল! তোমরা নগ্ন পদ, উলঙ্গ এবং খতনাবিহীন অবস্থায় আল্লাহ্‌র নিকট একত্রিত হবে, তারপর তিনি পড়লেন, كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ وَعْدًا عَلَيْنَا إِنَّا كُنَّا فَاعِلِينَ যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব, প্রতিশ্র“তি পালন আমার কর্তব্য, আমি তা পালন করবই। আয়াতের শেষ পর্যন্ত। (সূরাহ আম্বিয়া ২১/১০৪)
তারপর তিনি বললেন, ক্বিয়ামাতের দিন সর্বপ্রথম যাকে বস্ত্র পরিধান করানো হবে তিনি হচ্ছেন ইবরাহীম (‘আ.)। তোমরা জেনে রাখ, আমার উম্মতের কতগুলো লোককে হাজির করা হবে এবং তাদেরকে বামদিকে অর্থাৎ জাহান্নামের দিকে দেয়া হবে। আমি তখন বলব, প্রভু হে! এগুলো তো আমার কতক সহাবী, তখন বলা হবে যে, আপনার পর তারা কী নবোদ্ভাবিত কাজ করেছে তা আপনি জানেন না।
এরপর পুণ্যবান বান্দা যেমন বলেছিলেন আমি তেমন বলব ঃ كُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَا دُمْتُ فِيهِمْ فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِي كُنْتَ أَنْتَ الرَّقِيبَ عَلَيْهِمْ “আমি যতদিন তাদের ছিলাম ততদিন তাদের খোঁজখবর নিয়েছি, অতঃপর আপনি যখন আমাকে উঠিয়ে নিয়েছেন তখন থেকে আপনিই তাদের রক্ষক”।
এরপর বলা হবে আপনি তাদেরকে ছেড়ে আসার পর থেকে তারা পেছনে ফিরে গিয়ে ধর্মত্যাগী হয়েছে। [৩৩৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী ৪২৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৬৭)









সহীহুল বুখারী (4626)


مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيْرٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنَا الْمُغِيْرَةُ بْنُ النُّعْمَانِ قَالَ حَدَّثَنِيْ سَعِيْدُ بْنُ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّكُمْ مَحْشُوْرُوْنَ وَإِنَّ نَاسًا يُؤْخَذُ بِهِمْ ذَاتَ الشِّمَالِ فَأَقُوْلُ كَمَا قَالَ الْعَبْدُ الصَّالِحُ. {وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيْدًا مَّا دُمْتُ فِيْهِمْ} إِلَى قَوْلِهِ {الْعَزِيْزُ الْحَكِيْمُ}




ইবনু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, তোমাদের উঠিয়ে একত্রিত করা হবে এবং কিছু সংখ্যক লোককে বাম দিকে নিয়ে যাওয়া হবে, তখন আমি নেককার বান্দার অর্থাৎ মূসা (‘আ.)-এর মতো বলব, وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيداً مَا دُمْتُ فِيهِمْ فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِي كُنْتَ أَنْتَ الرَّقِيبَ عَلَيْهِمْ وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ - إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ “আমি যতদিন তাদের মাঝে ছিলাম, ততদিন তাদের খোঁজখবর নিয়েছি, তারপর যখন আপনি আমাকে উঠিয়ে নিয়েছেন তখন থেকে আপনিই তাদের তত্ত্বাবধায়ক। আপনি সব কিছুর ওপরে ক্ষমতাবান। আপনি যদি তাদেরকে শাস্তি দেন তাহলে তারা তো আপনার বান্দা। আর যদি তাদেরকে ক্ষমা করেন তাহলে আপনি পরাক্রমশালী ও সুবিজ্ঞ।” [৩৩৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী ৪২৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৬৮)









সহীহুল বুখারী (4627)


عَبْدُ الْعَزِيْزِ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيْمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَنْ أَبِيْهِ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ خَمْسٌ {إِنَّ اللهَ عِنْدَه” عِلْمُ السَّاعَةِ ج وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ ج وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ ط وَمَا تَدْرِيْ نَفْسٌ مَّاذَا تَكْسِبُ غَدًا ط وَمَا تَدْرِيْ نَفْسٌمبِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوْتُ إِنَّ اللهَ عَلِيْمٌ خَبِيْرٌ }.




সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, অদৃশ্যের চাবি পাঁচটি “নিশ্চয় আল্লাহ্‌রই কাছে রয়েছে ক্বিয়ামাত সম্বন্ধীয় জ্ঞান এবং তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন, আর তিনিই জানেন যা কিছু আছে গর্ভাধারে। কেউ জানে না আগামীকল্য সে কী উপার্জন করবে এবং কেউ জানে না কোথায় তার মৃত্যু ঘটবে। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু জানেন, সব খবর রাখেন” (সূরাহ লুকমান ৩১/৩৪)। [১০৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী ৪২৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৬৯)









সহীহুল বুখারী (4628)


أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِيْنَارٍ عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ {قُلْ هُوَ الْقَادِرُ عَلٰى أَنْ يَّبْعَثَ عَلَيْكُمْ عَذَابًا مِّنْ فَوْقِكُمْ} قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَعُوْذُ بِوَجْهِكَ قَالَ {أَوْ مِنْ تَحْتِ أَرْجُلِكُمْ} قَالَ أَعُوْذُ بِوَجْهِكَ {أَوْ مِنْ تَحْتِ أَرْجُلِكُمْ أَوْ يَلْبِسَكُمْ شِيَعًا وَّيُذِيْقَ بَعْضَكُمْ بَأْسَ بَعْضٍ} قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم هَذَا أَهْوَنُ أَوْ هَذَا أَيْسَرُ.




জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, যখন এই আয়াত قُلْ هُوَ الْقَادِرُ عَلَى أَنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عَذَابًا مِنْ فَوْقِكُمْ অবতীর্ণ হল তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি, আবার যখন أَوْ مِنْ تَحْتِ أَرْجُلِكُمْ অবতীর্ণ হল, তখনও বললেন, আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি এবং যখন أَوْ يَلْبِسَكُمْ شِيَعًا وَيُذِيقَ بَعْضَكُمْ بَأْسَ بَعْضٍ অবতীর্ণ হল তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এটা অপেক্ষাকৃত হালকা, তিনি هَذَا أَهْوَنُ কিংবা هَذَا أَيْسَرُ বলেছেন। [৭৩১৩, ৭৪০৬] (আধুনিক প্রকাশনী ৪২৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৭০)









সহীহুল বুখারী (4629)


مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِيْ عَدِيٍّ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ إِبْرَاهِيْمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ {وَلَمْ يَلْبِسُوْآ إِيْمَانَهُمْ بِظُلْمٍ} قَالَ أَصْحَابُهُ وَأَيُّنَا لَمْ يَظْلِمْ فَنَزَلَتْ {إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيْمٌ}.




‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, যখন وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ আয়াত অবতীর্ণ হল, তখন তাঁর সহাবাগণ বললেন, “যুল্ম করেনি আমাদের মধ্যে এমন কোন্ ব্যক্তি আছে?” এরপর অবতীর্ণ হল إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ “নিশ্চয় র্শিক মহা যুল্ম” (সূরাহ লুক্বমান ৩১/১৩)। [৩২] (আধুনিক প্রকাশনী ৪২৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৭১)









সহীহুল বুখারী (4630)


مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا ابْنُ مَهْدِيٍّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ عَمِّ نَبِيِّكُمْ يَعْنِي ابْنَ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَا يَنْبَغِيْ لِعَبْدٍ أَنْ يَقُوْلَ أَنَا خَيْرٌ مِنْ يُوْنُسَ بْنِ مَتَّى.




ইবনু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, “আমি ইউনুস ইবনু মাত্তা থেকে উত্তম” এমন কথা বলা কারও জন্যে শোভনীয় নয়। [৩৩৯৫] (আধুনিক প্রকাশনী ৪২৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৭২)









সহীহুল বুখারী (4631)


آدَمُ بْنُ أَبِيْ إِيَاسٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ أَخْبَرَنَا سَعْدُ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ قَالَ سَمِعْتُ حُمَيْدَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَا يَنْبَغِيْ لِعَبْدٍ أَنْ يَقُوْلَ أَنَا خَيْرٌ مِنْ يُوْنُسَ بْنِ مَتَّى.




আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, “আমি ইউনুস ইবনু মাত্তা (‘আ.) থেকে উত্তম”, এমন কথা বলা কারো জন্য শোভনীয় নয়। [৩৪১৫] (আধুনিক প্রকাশনী ৪২৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৭৩)









সহীহুল বুখারী (4632)


حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا هِشَامٌ، أَنَّ ابْنَ جُرَيْجٍ أَخْبَرَهُمْ، قَالَ: أَخْبَرَنِي سُلَيْمَانُ الأَحْوَلُ، أَنَّ مُجَاهِدًا أَخْبَرَهُ، أَنَّهُ سَأَلَ ابْنَ عَبَّاسٍ: أَفِي ص سَجْدَةٌ؟ فَقَالَ: «نَعَمْ»، ثُمَّ تَلاَ: {وَوَهَبْنَا لَهُ إِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ} [الأنعام: 84] إِلَى قَوْلِهِ {فَبِهُدَاهُمُ اقْتَدِهْ} [الأنعام: 90]، ثُمَّ قَالَ: «هُوَ مِنْهُمْ»، زَادَ يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، وَسَهْلُ بْنُ يُوسُفَ، عَنِ العَوَّامِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قُلْتُ لِابْنِ عَبَّاسٍ، فَقَالَ: «نَبِيُّكُمْ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِمَّنْ أُمِرَ أَنْ يَقْتَدِيَ بِهِمْ»




মুজাহিদ ইবনু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, সূরাহ ص-এ সিজদা্ আছে কি না। তিনি উত্তরে বললেন, হ্যাঁ আছে। এরপর এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন-

وَوَهَبْنَا لَهُ إِسْحَاقَ وَيَعْقُوْبَ ..... فَبِهُدَاهُمُ اقْتَدِهْ

তারপর বললেন যে, তিনি অর্থাৎ দাঊদ (আঃ) তাঁদের অন্তর্ভুক্ত। ইয়াযীদ ইবনু হারূন, মুহাম্মাদ ইবনু ‘উবায়দ এবং সাহল ইবনু ইউসুফ আওয়াম থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে একটু বেশি বর্ণনা করেছেন, মুজাহিদ বললেন যে, আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, এরপর তিনি বললেন, যাদের অনুসরণ করতে বলা হয়েছে তোমাদের নবী তাঁদের অন্তর্ভুক্ত।









সহীহুল বুখারী (4633)


عَمْرُوْ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ يَزِيْدَ بْنِ أَبِيْ حَبِيْبٍ قَالَ عَطَاءٌ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ قَاتَلَ اللهُ الْيَهُوْدَ لَمَّا حَرَّمَ اللهُ عَلَيْهِمْ شُحُوْمَهَا جَمَلُوْهُ ثُمَّ بَاعُوْهُ فَأَكَلُوْهَا وَقَالَ أَبُوْ عَاصِمٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيْدِ حَدَّثَنَا يَزِيْدُ كَتَبَ إِلَيَّ عَطَاءٌ سَمِعْتُ جَابِرًا عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم




জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তা‘আলা ইয়াহূদীদেরকে অভিসম্পাত করেছেন, যখন তিনি তাদের উপর চর্বি নিষিদ্ধ করেছেন তখন তারা ওটাকে তরল করে জমা করেছে, তারপর বিক্রি করে তার মূল্য ভক্ষণ করেছে। আবূ আসিম (রহ.) ......... হাদীস বর্ণনা করেছেন জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে। [২২৩৬] (আধুনিক প্রকাশনী ৪২৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৭৫)









সহীহুল বুখারী (4634)


حَفْصُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَمْرٍو عَنْ أَبِيْ وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ لَا أَحَدَ أَغْيَرُ مِنْ اللهِ وَلِذَلِكَ حَرَّمَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَلَا شَيْءَ أَحَبُّ إِلَيْهِ الْمَدْحُ مِنْ اللهِ وَلِذَلِكَ مَدَحَ نَفْسَهُ قُلْتُ سَمِعْتَهُ مِنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ نَعَمْ قُلْتُ وَرَفَعَهُ قَالَ نَعَمْ




‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নিষিদ্ধ কার্যে মু’মিনদেরকে বাধা দানকারী আল্লাহ্‌র চেয়ে অধিক কেউ নেই, এজন্যই প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য যাবতীয় অশ্লীলতা নিষিদ্ধ করেছেন, আল্লাহ্‌র প্রশংসা প্রকাশ করার চেয়ে প্রিয় তাঁর কাছে অন্য কিছু নেই, সেজন্যেই আল্লাহ আপন প্রশংসা নিজেই করেছেন।
‘আম্‌র ইবনু মুররাহ্ (রহ.) বলেন, আমি আবূ ওয়ায়িলকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি তা ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, এটাকে কি তিনি রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী হিসেবে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। [৪৬৩৭, ৫২২০, ৭৪০৩; মুসলিম ৪৯/৬, হাঃ ২৭৬০, আহমাদ ৩৬১৬] (আধুনিক প্রকাশনী ৪২৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৭৬)









সহীহুল বুখারী (4635)


مُوْسَى بْنُ إِسْمَاعِيْلَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ حَدَّثَنَا عُمَارَةُ حَدَّثَنَا أَبُوْ زُرْعَةَ حَدَّثَنَا أَبُوْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا فَإِذَا رَآهَا النَّاسُ آمَنَ مَنْ عَلَيْهَا فَذَاكَ حِيْنَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيْمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ.




আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়ের পূর্ব পর্যন্ত ক্বিয়ামাত অনুষ্ঠিত হবে না। লোকেরা যখন তা দেখবে, তখন পৃথিবীর সকলে ঈমান আনবে এবং সেটি হচ্ছে এমন সময় “পূর্বে ঈমান আনেনি এমন ব্যক্তির ঈমান তার কাজে আসবে না”। [৮৫; মুসলিম ৪/৭২, হাঃ ১৫৭, আহমাদ ৭১৬৪] (আধুনিক প্রকাশনী ৪২৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৭৭)









সহীহুল বুখারী (4636)


إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ هَمَّامٍ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا فَإِذَا طَلَعَتْ وَرَآهَا النَّاسُ آمَنُوْا أَجْمَعُوْنَ وَذَلِكَ حِيْنَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيْمَانُهَا ثُمَّ قَرَأَ الآيَةَ.




আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যতক্ষণ না পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় ঘটবে ততক্ষণ ক্বিয়ামাত হবে না, যখন সেদিক থেকে সূর্য উদিত হবে এবং লোকেরা তা দেখবে তখন সবাই ঈমান গ্রহণ করবে, এটাই সময় যখন কোন ব্যক্তিকে তার ঈমান কল্যাণ সাধন করবে না। তারপর তিনি আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন। [৮৫] (আধুনিক প্রকাশনী ৪২৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৭৮)









সহীহুল বুখারী (4637)


سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ أَبِيْ وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قُلْتُ أَنْتَ سَمِعْتَ هَذَا مِنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ نَعَمْ وَرَفَعَهُ قَالَ لَا أَحَدَ أَغْيَرُ مِنْ اللهِ فَلِذَلِكَ حَرَّمَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَلَا أَحَدَ أَحَبُّ إِلَيْهِ الْمِدْحَةُ مِنْ اللهِ فَلِذَلِكَ مَدَحَ نَفْسَهُ.




‘আম্‌র ইবনু মুররাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবূ ওয়ায়িলকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি এটা ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ এবং তিনি এটাকে মারফু‘ হাদীস হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, অন্যায়কে ঘৃণাকারী আল্লাহ্‌র তুলনায় অন্য কেউ নেই, এজন্যেই তিনি প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য যাবতীয় অশ্লীলতা নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন, আবার আল্লাহ্‌র চেয়ে প্রশংসা-প্রীতি অন্য কারো নেই, তাই তিনি নিজে নিজের প্রশংসা করেছেন। [৪৬৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী ৪২৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৭৯)









সহীহুল বুখারী (4638)


مُحَمَّدُ بْنُ يُوْسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى الْمَازِنِيِّ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ مِنَ الْيَهُوْدِ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَدْ لُطِمَ وَجْهُهُ وَقَالَ يَا مُحَمَّدُ إِنَّ رَجُلًا مِنْ أَصْحَابِكَ مِنَ الْأَنْصَارِ لَطَمَ فِيْ وَجْهِيْ قَالَ ادْعُوْهُ فَدَعَوْهُ قَالَ لِمَ لَطَمْتَ وَجْهَهُ قَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنِّيْ مَرَرْتُ بِالْيَهُوْدِ فَسَمِعْتُهُ يَقُوْلُ وَالَّذِي اصْطَفَى مُوْسَى عَلَى الْبَشَرِ فَقُلْتُ وَعَلَى مُحَمَّدٍ وَأَخَذَتْنِيْ غَضْبَةٌ فَلَطَمْتُهُ قَالَ لَا تُخَيِّرُوْنِيْ مِنْ بَيْنِ الْأَنْبِيَاءِ فَإِنَّ النَّاسَ يَصْعَقُوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَأَكُوْنُ أَوَّلَ مَنْ يُفِيْقُ فَإِذَا أَنَا بِمُوْسَى آخِذٌ بِقَائِمَةٍ مِنْ قَوَائِمِ الْعَرْشِ فَلَا أَدْرِيْ أَفَاقَ قَبْلِيْ أَمْ جُزِيَ بِصَعْقَةِ الطُّوْرِ




আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, এক ইয়াহূদী নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দরবারে উপস্থিত হল। তার মুখমণ্ডলে চপেটাঘাত খেয়ে সে বলল, হে মুহাম্মাদ! আপনার এক আনসারী সহাবী আমার মুখমণ্ডলে চপেটাঘাত করেছে। তিনি বললেন, তাকে ডেকে আন। তারা ওকে ডেকে আনল, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “একে চপেটাঘাত করেছ কেন?” সে বলল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমি এই ইয়াহূদীর পার্শ্ব দিয়ে অতিক্রম করছিলাম। তখন শুনলাম সে বলছে তাঁরই শপথ যিনি মূসা (‘আ.)-কে মানবজাতির উপর মনোনীত করেছেন, আমি বললাম মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপরও মনোনীত করেছেন কি? এরপর আমার রাগ চেপে গিয়েছিল, তাই তাকে চপেটাঘাত করেছি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমরা আমাকে অন্যান্য নাবীর থেকে উত্তম বলো না। কারণ ক্বিয়ামাত দিবসে সব মানুষই জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়বে, সর্বপ্রথম আমিই জ্ঞান ফিরে পাব। তিনি বলেন, তখন আমি দেখব যে, মূসা (‘আ.) আকাশের খুঁটি ধরে আছেন, আমি বুঝতে পারব না যে, তিনি কি আমার পূর্বে জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন নাকি তূর পর্বতের জ্ঞানশূন্যতার পুরস্কার হিসেবে তাঁকে পুনরায় জ্ঞানশূন্য করা হয়নি। [২৪১২] (আধুনিক প্রকাশনী ৪২৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৮০)









সহীহুল বুখারী (4639)


مُسْلِمٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ عَنْ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ زَيْدٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ الْكَمْأَةُ مِنَ الْمَنِّ وَمَاؤُهَا شِفَاءُ الِلْعَيْنِ.




সা‘ঈদ ইবনু যায়দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, الْكَمْأَةُ জাতীয় উদ্ভিদ মান্না-এর মতো এবং এর পানি চক্ষুরোগ আরোগ্যকারী। [৪৪৭৮] (আধুনিক প্রকাশনী ৪২৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৮১)









সহীহুল বুখারী (4640)


عَبْدُ اللهِ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَمُوْسَى بْنُ هَارُوْنَ قَالَا حَدَّثَنَا الْوَلِيْدُ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ الْعَلَاءِ بْنِ زَبْرٍ قَالَ حَدَّثَنِيْ بُسْرُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ قَالَ حَدَّثَنِيْ أَبُوْ إِدْرِيْسَ الْخَوْلَانِيُّ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الدَّرْدَاءِ يَقُوْلُ كَانَتْ بَيْنَ أَبِيْ بَكْرٍ وَعُمَرَ مُحَاوَرَةٌ فَأَغْضَبَ أَبُوْ بَكْرٍ عُمَرَ فَانْصَرَفَ عَنْهُ عُمَرُ مُغْضَبًا فَاتَّبَعَهُ أَبُوْ بَكْرٍ يَسْأَلُهُ أَنْ يَسْتَغْفِرَ لَهُ فَلَمْ يَفْعَلْ حَتَّى أَغْلَقَ بَابَهُ فِيْ وَجْهِهِ فَأَقْبَلَ أَبُوْ بَكْرٍ إِلَى رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ وَنَحْنُ عِنْدَهُ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَمَّا صَاحِبُكُمْ هَذَا فَقَدْ غَامَرَ قَالَ وَنَدِمَ عُمَرُ عَلَى مَا كَانَ مِنْهُ فَأَقْبَلَ حَتَّى سَلَّمَ وَجَلَسَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَصَّ عَلَى رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْخَبَرَ قَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ وَغَضِبَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَجَعَلَ أَبُوْ بَكْرٍ يَقُوْلُ وَاللهِ يَا رَسُوْلَ اللهِ لَأَنَا كُنْتُ أَظْلَمَ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم هَلْ أَنْتُمْ تَارِكُوْنَ لِيْ صَاحِبِيْ هَلْ أَنْتُمْ تَارِكُوْنَ لِيْ صَاحِبِيْ إِنِّيْ قُلْتُ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّيْ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِلَيْكُمْ جَمِيْعًا فَقُلْتُمْ كَذَبْتَ وَقَالَ أَبُوْ بَكْرٍ صَدَقْتَ
قَالَ أَبُوْ عَبْد اللهِ غَامَرَ سَبَقَ بِالْخَيْرِ




আবূ দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আবূ বাক্র (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ও ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মধ্যে বিতর্ক হল, আবূ বাক্র (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে রাগিয়ে দিয়েছিলেন, এরপর রাগানি¦ত অবস্থায় ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) সেখান থেকে চলে গেলেন, আবূ বাক্র (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে করতে তাঁর পিছু নিলেন কিন্তু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ক্ষমা করলেন না, বরং তাঁর সম্মুখের দরজা বন্ধ করে দিলেন। এরপর আবূ বাক্র (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দরবারে আসলেন। আবূ দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমরা তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে ছিলাম, ঘটনা শোনার পর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তোমাদের এই সঙ্গী আবূ বাক্র আগে কল্যাণ লাভ করেছে। তিনি বলেন, এতে ‘উমার লজ্জিত হলেন এবং সালাম করে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পাশে বসে পড়লেন ও সবকথা রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে বর্ণনা করলেন। আবূ দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, এতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অসন্তুষ্ট হলেন। আবূ বাক্র সিদ্দীক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বারবার বলছিলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আমি অধিক দোষী ছিলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমরা আমার খাতিরে আমার সাথীর ত্র“টি উপেক্ষা করবে কি? তোমরা আমার খাতিরে আমার সঙ্গীর ত্র“টি উপেক্ষা করবে কি? এমন একদিন ছিল যখন আমি বলেছিলাম, “হে মানুষেরা! আমি তোমাদের সকলের জন্য রাসূল, তখন তোমরা বলেছিলে, “তুমি মিথ্যা বলেছ” আর আবূ বাক্র (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছিল, “আপনি সত্য বলেছেন”।
ইমাম আবূ ‘আবদুল্লাহ বুখারী (রহ.) বলেন, غَامَرَআগে কল্যাণ লাভ করেছে। [৩৬৬১] (আধুনিক প্রকাশনী ৪২৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৮২)