সহীহুল বুখারী
إِبْرَاهِيْمُ بْنُ مُوْسَى أَخْبَرَنَا هِشَامٌ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ أَبِيْ مُلَيْكَةَ يَقُوْلُ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا {حَتّٰى إِذَا اسْتَيْأَسَ الرُّسُلُ وَظَنُّوْآ أَنَّهُمْ قَدْ كُذِبُوْا} خَفِيْفَةً ذَهَبَ بِهَا هُنَاكَ وَتَلَا : {حَتّٰى يَقُوْلَ الرَّسُوْلُ وَالَّذِيْنَ اٰمَنُوْا مَعَه” مَتٰى نَصْرُ اللهِ أَلَآ إِنَّ نَصْرَ اللهِ قَرِيْبٌ} فَلَقِيْتُ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ فَذَكَرْتُ لَهُ ذَلِكَ
ইবনু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ্র বাণী ঃ এমনকি যখন রাসূলগণ নিরাশ হয়ে পড়ল এবং ভাবতে লাগল যে, তাদেরকে মিথ্যা আশ্বাস দেয়া হয়েছে (সূরাহ ইউসুফ ১২/১১০)। তখন ইবনু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এই আয়াতসহ সূরাহ আল-বাকারাহ্র আয়াতের শরণাপন্ন হন ও তিলাওয়াত করেন, যেমন ঃ حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللهِ أَلاَ إِنَّ نَصْرَ اللهِ قَرِيبٌ এমনকি রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সঙ্গে ঈমান আনয়নকারীগণ বলে উঠেছিলআল্লাহ্র সাহায্য কখন আসবে? হ্যাঁ, হ্যাঁ, আল্লাহ্র সাহায্য নিকটেই (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/২১৪)।
فَقَالَ [ص:29]: قَالَتْ عَائِشَةُ: «مَعَاذَ اللَّهِ وَاللَّهِ مَا وَعَدَ اللَّهُ رَسُولَهُ مِنْ شَيْءٍ قَطُّ إِلَّا عَلِمَ أَنَّهُ كَائِنٌ قَبْلَ أَنْ يَمُوتَ، وَلَكِنْ لَمْ يَزَلِ البَلاَءُ بِالرُّسُلِ، حَتَّى خَافُوا أَنْ يَكُونَ مَنْ مَعَهُمْ يُكَذِّبُونَهُمْ» فَكَانَتْ تَقْرَؤُهَا: (وَظَنُّوا أَنَّهُمْ قَدْ كُذِّبُوا) مُثَقَّلَةً
রাবী বলেন, এরপর আমি ‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে এ সম্পর্কে জানালে তিনি বলেন যে, ‘আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি, আল্লাহর কসম! আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূলের নিকট যেসব অঙ্গীকার করেছেন, তিনি জানতেন যে, তা তাঁর মৃত্যুর পূর্বেই বাস্তবে পরিণত হবে। কিন্তু রাসূলগণের প্রতি সমূহ বিপদাপদ আসতে থাকবে। এমনকি তারা (সঙ্গী মু’মিনরা) আশঙ্কা করবে যে, সঙ্গী-সাথীরা তাঁদেরকে (রাসূলদেরকে) মিথ্যুক সাব্যস্ত করবে। এ প্রসঙ্গে ‘আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এ আয়াত পাঠ করতেন- تَقْرَؤُهَا وَظَنُّوْا أَنَّهُمْ قَدْ كُذِّبُوْا-তারা ভাবল যে, তারা তাদেরকে মিথ্যুক সাব্যস্ত করবে।
‘আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) -كُذِّبُو এরز ‘যা’ হরফটি তাশদীদযুক্ত পড়তেন।
إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ أَخْبَرَنَا ابْنُ عَوْنٍ عَنْ نَافِعٍ قَالَ كَانَ ابْنُ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا إِذَا قَرَأَ الْقُرْآنَ لَمْ يَتَكَلَّمْ حَتَّى يَفْرُغَ مِنْهُ فَأَخَذْتُ عَلَيْهِ يَوْمًا فَقَرَأَ سُوْرَةَ الْبَقَرَةِ حَتَّى انْتَهَى إِلَى مَكَانٍ قَالَ تَدْرِيْ فِيْمَ أُنْزِلَتْ قُلْتُ لَا قَالَ أُنْزِلَتْ فِيْ كَذَا وَكَذَا ثُمَّ مَضَى
নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) যখন কুরআন তিলাওয়াত করতেন তখন কুরআন তিলাওয়াত হতে অবসর না হয়ে কোন কথা বলতেন না। একদা আমি সূরাহ আল-বাকারাহ পাঠরত অবস্থায় তাঁকে পেলাম। পড়তে পড়তে এক স্থানে তিনি পৌঁছলেন। তখন তিনি বললেন, তুমি জান, কী ব্যাপারে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে? আমি বললাম, না। তিনি তখন বললেন, অমুক অমুক ব্যাপারে আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। তারপর আবার পাঠে অগ্রসর হলেন। [৪৫২৭] (আধুনিক প্রকাশনী ৪১৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৬৮)
وَعَنْ عَبْدِ الصَّمَدِ حَدَّثَنِيْ أَبِيْ حَدَّثَنِيْ أَيُّوْبُ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ {فَأْتُوْا حَرْثَكُمْ أَنّٰى شِئْتُم} قَالَ يَأْتِيْهَا فِيْ رَوَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ سَعِيْدٍ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ.
‘আবদুস সামাদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেন, আমার পিতা, তিনি বলেন, আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেন আইয়ুব, তিনি নাফি‘ থেকে আর নাফি‘ ইবনু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে। فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ “অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করতে পার” (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/২২৩)। রাবী বলেন, স্ত্রীলোকের পশ্চাৎদিক দিয়ে সহবাস করতে পারে। মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা‘ঈদ তাঁর পিতা থেকে, তিনি ‘উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি নাফি‘ থেকে এবং তিনি ইবনু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন। [৪৫২৬] (আধুনিক প্রকাশনী ৪১৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৬৮)
أَبُوْ نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ ابْنِ الْمُنْكَدِرِ سَمِعْتُ جَابِرًا رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَتْ الْيَهُوْدُ تَقُوْلُ إِذَا جَامَعَهَا مِنْ وَرَائِهَا جَاءَ الْوَلَدُ أَحْوَلَ فَنَزَلَتْ {نِسَآؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوْا حَرْثَكُمْ أَنّٰى شِئْتُمْ وَقَدِّمُوْا لِأَنْفُسِكُم}
জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়াহূদীরা বলত যে, যদি কেউ স্ত্রীর পেছন দিক থেকে সহবাস করে তাহলে সন্তান টেরা চোখের হয়। তখন (এর প্রতিবাদে) نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ আয়াত অবতীর্ণ হয়। [মুসলিম ত্বলাক/১৮, হাঃ ১৪৩৫] (আধুনিক প্রকাশনী ৪১৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৬৯)
عُبَيْدُ اللهِ بْنُ سَعِيْدٍ حَدَّثَنَا أَبُوْ عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ رَاشِدٍ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ قَالَ حَدَّثَنِيْ مَعْقِلُ بْنُ يَسَارٍ قَالَ كَانَتْ لِيْ أُخْتٌ تُخْطَبُ إِلَيَّ.
وَقَالَ إِبْرَاهِيْمُ عَنْ يُوْنُسَ عَنِ الْحَسَنِ حَدَّثَنِيْ مَعْقِلُ بْنُ يَسَارٍ ح حَدَّثَنَا أَبُوْ مَعْمَرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ حَدَّثَنَا يُوْنُسُ عَنِ الْحَسَنِ أَنَّ أُخْتَ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ طَلَّقَهَا زَوْجُهَا فَتَرَكَهَا حَتَّى انْقَضَتْ عِدَّتُهَا فَخَطَبَهَا فَأَبَى مَعْقِلٌ فَنَزَلَتْ {فَلَا تَعْضُلُوْهُنَّ أَنْ يَنْكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ}.
মা‘কিল ইবনু ইয়াসার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার এক বোনের বিয়ের পয়গাম আমার নিকট পেশ করা হয়। আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন যে, ইবরাহীম (রহ.) ইউনুস (রহ.) থেকে, তিনি হাসান বসরী (রহ.) থেকে এবং তিনি মা‘কির ইবনু ইয়াসার (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন।
আবূ মা‘মার (রহ.) ....... হাসান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত যে, মা‘কিল ইবনু ইয়াসার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর বোনকে তার স্বামী তালাক দিয়ে আলাদা করে রাখে। যখন ইদ্দত কাল পূর্ণ হয় তখন তার স্বামী তাকে আবার পয়গাম পাঠায়। মা‘কিল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) অমত করে পুনর্বিবাহে তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। فَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ أَنْ يَنْكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ “তখন যদি তারা পরস্পর সম্মত হয়ে নিজেদের স্বামীদের বিধিমত বিয়ে করতে চায় তাহলে তোমরা তাদের বাধা দিবে না” (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/২৩২)। [৫১৩০, ৫৩৩০, ৫৩৩১] (আধুনিক প্রকাশনী ৪১৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৭০)
أُمَيَّةُ بْنُ بِسْطَامٍ حَدَّثَنَا يَزِيْدُ بْنُ زُرَيْعٍ عَنْ حَبِيْبٍ عَنْ ابْنِ أَبِيْ مُلَيْكَةَ قَالَ ابْنُ الزُّبَيْرِ قُلْتُ لِعُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ {وَالَّذِيْنَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُوْنَ أَزْوَاجًا} قَالَ قَدْ نَسَخَتْهَا الآيَةُ الْأُخْرَى فَلِمَ تَكْتُبُهَا أَوْ تَدَعُهَا قَالَ يَا ابْنَ أَخِيْ لَا أُغَيِّرُ شَيْئًا مِنْهُ مِنْ مَكَانِهِ.
. ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ‘উসমান ইবনু ‘আফ্ফান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে উক্ত আয়াত সম্পর্কে বললাম যে, এ আয়াত তো অন্য আয়াত দ্বারা মানসূখ (রহিত) হয়ে গেছে। অতএব উক্ত আয়াত আপনি মুসহাফে কেন লিখেছেন, (অথবা রাবী বলেন) কেন বর্জন করছেন না, তখন তিনি [‘উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] বললেন, হে ভাতিজা! আমি মুসহাফের স্থান থেকে কোন জিনিস পরিবর্তন করব না। [৪৫৩৬] (আধুনিক প্রকাশনী ৪১৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৭১)
إِسْحَاقُ حَدَّثَنَا رَوْحٌ حَدَّثَنَا شِبْلٌ عَنْ ابْنِ أَبِيْ نَجِيْحٍ عَنْ مُجَاهِدٍ : {وَالَّذِيْنَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُوْنَ أَزْوَاجًا} قَالَ كَانَتْ هَذِهِ الْعِدَّةُ تَعْتَدُّ عِنْدَ أَهْلِ زَوْجِهَا وَاجِبٌ فَأَنْزَلَ اللهُ : {وَالَّذِيْنَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُوْنَ أَزْوَاجًا ﺻﻠﮯج وَّصِيَّةً لِّأَزْوَاجِهِمْ مَّتَاعًا إِلَى الْحَوْلِ غَيْرَ إِخْرَاجٍ ج فَإِنْ خَرَجْنَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيْ مَا فَعَلْنَ فِيْٓ أَنْفُسِهِنَّ مِنْ مَّعْرُوْفٍ ط وَاللهُ عَزِيْزٌ حَكِيْمٌ}. قَالَ : جَعَلَ اللهُ لَهَا تَمَامَ السَّنَةِ سَبْعَةَ أَشْهُرٍ وَعِشْرِيْنَ لَيْلَةً وَصِيَّةً إِنْ شَاءَتْ سَكَنَتْ فِيْ وَصِيَّتِهَا وَإِنْ شَاءَتْ خَرَجَتْ وَهْوَ قَوْلُ اللهِ تَعَالَى : {غَيْرَ إِخْرَاجٍ فَإِنْ خَرَجْنَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ} فَالْعِدَّةُ كَمَا هِيَ وَاجِبٌ عَلَيْهَا زَعَمَ ذَلِكَ عَنْ مُجَاهِدٍ وَقَالَ عَطَاءٌ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ نَسَخَتْ هَذِهِ الْآيَةُ عِدَّتَهَا عِنْدَ أَهْلِهَا فَتَعْتَدُّ حَيْثُ شَاءَتْ وَهْوَ قَوْلُ اللهِ تَعَالَى : {غَيْرَ إِخْرَاجٍ}.
قَالَ عَطَاءٌ إِنْ شَاءَتْ اعْتَدَّتْ عِنْدَ أَهْلِهِ وَسَكَنَتْ فِيْ وَصِيَّتِهَا وَإِنْ شَاءَتْ خَرَجَتْ لِقَوْلِ اللهِ تَعَالَى {فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيْمَا فَعَلْنَ} قَالَ عَطَاءٌ ثُمَّ جَاءَ الْمِيْرَاثُ فَنَسَخَ السُّكْنَى فَتَعْتَدُّ حَيْثُ شَاءَتْ وَلَا سُكْنَى لَهَا وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوْسُفَ حَدَّثَنَا وَرْقَاءُ عَنْ ابْنِ أَبِيْ نَجِيْحٍ عَنْ مُجَاهِدٍ بِهَذَا.
وَعَنْ ابْنِ أَبِيْ نَجِيْحٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ نَسَخَتْ هَذِهِ الْآيَةُ عِدَّتَهَا فِيْ أَهْلِهَا فَتَعْتَدُّ حَيْثُ شَاءَتْ لِقَوْلِ اللهِ {غَيْرَ إِخْرَاجٍ} نَحْوَهُ.
মুজাহিদ (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا আয়াতে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর পরিবারে থেকে ইদ্দত পালন করা ওয়াজিব। আয়াতে উল্লিখিত يَعْفُوْنَ শব্দের অর্থيَهَبْنَ দান করে। অনন্তর আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করেন ঃ وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا وَصِيَّةً لِأَزْوَاجِهِمْ مَتَاعًا إِلَى الْحَوْلِ غَيْرَ إِخْرَاجٍ فَإِنْ خَرَجْنَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا فَعَلْنَ فِي أَنْفُسِهِنَّ مِنْ مَعْرُوفٍ وَاللهُ عَزِيْزٌ حَكِيْمٌ “আর তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মৃত্যুমুখে পতিত হবে, তারা (মৃত্যুর পূর্বে) স্ত্রীদের ঘর থেকে বের না করে দিয়ে তাদের জন্য এক বছরের ভরণপোষণের অসিয়াত করে যাবে। কিন্তু যদি তারা নিজেরা বেরিয়ে যায় তবে বিধিমত তারা নিজেদের ব্যাপারে যা করবে তাতে তোমাদের কোন পাপ হবে না। আর আল্লাহ হলেন পরাক্রমশালী, মহাবিজ্ঞ” (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/২৪০)। রাবী বলেন, আল্লাহ তা‘আলা স্ত্রীর জন্য পূর্ণ বছর পূর্ণ করার জন্য সাত মাস এবং বিশ রজনী নির্ধারিত করেছেন ওসীয়ত হিসেবে। সে ইচ্ছা করলে তার ওসীয়তে থাকতে পারে, ইচ্ছা করলে বের হয়েও যেতে পারে। এ কথারই ইঙ্গিত করে আল্লাহ্র বাণী ঃ غَيْرَ إِخْرَاجٍ فَإِنْ خَرَجْنَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْكُمْ মোটকথা যেভাবেই হোক স্ত্রীর উপর ‘ইদ্দত পালন করা ওয়াজিব। মুজাহিদ থেকে এরূপই জানা গেছে। কিন্তু ইমাম ‘আত্বা বলেন যে, ইবনু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, এই আয়াত স্ত্রীর প্রতি তার স্বামীর বাড়িতে ‘ইদ্দত পালন করার হুকুম রহিত করে দিয়েছে। সুতরাং স্ত্রী যথেচ্ছা ‘ইদ্দত পালন করতে পারে। আল্লাহ্র এই বাণীর দলীল বলে ঃ غَيْرَ إِخْرَاجٍ ইমাম ‘আত্বা বলেন, স্ত্রী ইচ্ছা করলে স্বামীর পরিবারে থেকে ‘ইদ্দত পালন করতে পারে এবং তার ওসীয়ত থাকতে পারে অথবা তথা হতে চলেও যেতে পারে। فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيْمَا فَعَلْنَ এর আয়াতের মর্ম মুতাবিক।
ইমাম ‘আত্বা (রহ.) বলেন, তারপর মিরাস বা উত্তরাধিকারের হুকুম فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا فَعَلْنَ আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হল। সুতরাং ঘর ও বাসস্থানের নির্দেশ রহিত হয়ে যায়। কাজেই যথেচ্ছা স্ত্রী ‘ইদ্দত পালন করত পারে। আর তার জন্য ঘরের বা বাসস্থানের দাবী অগ্রাহ্য।
মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাদীস বর্ণনা করেন আমার নিকট ওরাকা’ ইবনু আবী নাজীহ্ থেকে আর তিনি মুজাহিদ থেকে এ সম্পর্কে এবং আরও আবূ নাজীহ্ ‘আত্বা থেকে এবং তিনি ইবনু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, এই আয়াত স্ত্রীর ‘ইদ্দত স্বামীর বাড়িতে পালন করার হুকুম রহিত করে দেয়। সুতরাং স্ত্রী যথেচ্ছা ‘ইদ্দত পালন করতে পারে। আল্লাহ্র এই বাণী ঃ غَيْرَ إِخْرَاجٍ এবং অনুরূপ আয়াত এর দলীল অনুসারে। [৫৩৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী ৪১৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৭২)
حِبَّانُ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ عَوْنٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيْرِيْنَ قَالَ جَلَسْتُ إِلَى مَجْلِسٍ فِيْهِ عُظْمٌ مِنَ الْأَنْصَارِ وَفِيْهِمْ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِيْ لَيْلَى فَذَكَرْتُ حَدِيْثَ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُتْبَةَ فِيْ شَأْنِ سُبَيْعَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ فَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ وَلَكِنَّ عَمَّهُ كَانَ لَا يَقُوْلُ ذَلِكَ فَقُلْتُ إِنِّيْ لَجَرِيْءٌ إِنْ كَذَبْتُ عَلَى رَجُلٍ فِيْ جَانِبِ الْكُوْفَةِ وَرَفَعَ صَوْتَهُ قَالَ ثُمَّ خَرَجْتُ فَلَقِيْتُ مَالِكَ بْنَ عَامِرٍ أَوْ مَالِكَ بْنَ عَوْفٍ قُلْتُ كَيْفَ كَانَ قَوْلُ ابْنِ مَسْعُوْدٍ فِي الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا وَهْيَ حَامِلٌ فَقَالَ قَالَ ابْنُ مَسْعُوْدٍ أَتَجْعَلُوْنَ عَلَيْهَا التَّغْلِيْظَ وَلَا تَجْعَلُوْنَ لَهَا الرُّخْصَةَ لَنَزَلَتْ سُوْرَةُ النِّسَاءِ الْقُصْرَى بَعْدَ الطُّوْلَى.
وَقَالَ أَيُّوْبُ عَنْ مُحَمَّدٍ لَقِيْتُ أَبَا عَطِيَّةَ مَالِكَ بْنَ عَامِرٍ.
মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এমন একটি মজলিসে উপবিষ্ট ছিলাম যেখানে নেতৃস্থানীয় আনসারদের কতক ছিলেন এবং তাঁদের মাঝে ‘আবদুর রহমান বিন আবূ লাইলা (রহ.)-ও ছিলেন। এরপর সুরাইয়া বিনতে হারিস (রহ.) প্রসঙ্গে বর্ণিত ‘আবদুল্লাহ বিন উত্বা (রহ.)-এর হাদীসটি নিয়ে আলোচনা করলাম, এরপর ‘আবদুর রহমান (রহ.) বললেন, “পক্ষান্তরে তাঁর চাচা এ রকম বলতেন না” অনন্তর আমি বললাম, কূফায় বসবাসরত ব্যক্তিটি সম্পর্কে যদি আমি মিথ্যা বলি তবে আমি হব চরম ধৃষ্ট এবং তিনি তাঁর স্বর উঁচু করলেন, তিনি বললেন, তারপর আমি বের হলাম এবং মালিক বিন ‘আমির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) মালিক ইবনু ‘আওফ (রহ.)-এর সঙ্গে আমি বললাম, গর্ভাবস্থায় বিধবা রমণীর ব্যাপারে ইবনু মাস‘ঊদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মন্তব্য কী ছিল, বললেন যে ইবনু মাস‘ঊদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, তোমরা কি তার উপর কঠোরতা অবলম্বন করছ আর তার জন্য সহজ বিধানটি অবলম্বন করছ না, সংক্ষিপ্ত সূরাহ নাসটি (সূরাহ ত্বালাক) দীর্ঘটি পরে অবতীর্ণ হয়েছে। আইয়ুব (রহ.) মুহাম্মাদ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন, আবূ আতিয়াহ মালিক বিন ‘আমির (রহ.)-এর সঙ্গে আমি সাক্ষাৎ করেছিলাম। [৪৯১০] (আধুনিক প্রকাশনী ৪১৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৭৩)
عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا يَزِيْدُ أَخْبَرَنَا هِشَامٌ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ عَبِيْدَةَ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ح و حَدَّثَنِيْ عَبْدُ الرَّحْمَنِ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيْدٍ قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ عَنْ عَبِيْدَةَ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ يَوْمَ الْخَنْدَقِ حَبَسُوْنَا عَنْ صَلَاةِ الْوُسْطَى حَتَّى غَابَتْ الشَّمْسُ مَلَا اللهُ قُبُوْرَهُمْ وَبُيُوْتَهُمْ أَوْ أَجْوَافَهُمْ شَكَّ يَحْيَى نَارًا
‘আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘আবদুর রহমান ....... ‘আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, খন্দক যুদ্ধের দিন কাফিরগণ আমাদেরকে মধ্যবর্তী সলাত থেকে বিরত রাখে এমনকি এ অবস্থায় সূর্য অস্তমিত হয়ে যায়। আল্লাহ তাদের কবর ও তাদের ঘরকে অথবা (রাবীর সন্দেহ) পেটকে আগুন দ্বারা পূর্ণ করুক। [২৯৩১] (আধুনিক প্রকাশনী ৪১৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৭৪)
مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ إِسْمَاعِيْلَ بْنِ أَبِيْ خَالِدٍ عَنِ الْحَارِثِ بْنِ شُبَيْلٍ عَنْ أَبِيْ عَمْرٍو الشَّيْبَانِيِّ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ قَالَ كُنَّا نَتَكَلَّمُ فِي الصَّلَاةِ يُكَلِّمُ أَحَدُنَا أَخَاهُ فِيْ حَاجَتِهِ حَتَّى نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ {حَافِظُوْا عَلَى الصَّلَوٰتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطٰى وَقُوْمُوْا لِلهِ قَانِتِيْنَ} فَأُمِرْنَا بِالسُّكُوْتِ
যায়দ ইবনু আরকাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা সলাতের মধ্যে কথাবার্তা বলতাম আর আমাদের কেউ অন্য ভাইয়ের প্রয়োজন নিয়ে কথা বলতেন। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয় ঃحَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ তখন আমাদেরকে চুপ থাকার নির্দেশ দেয়া হয়। [১২০০] (আধুনিক প্রকাশনী ৪১৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৭৫)
عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوْسُفَ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا كَانَ إِذَا سُئِلَ عَنْ صَلَاةِ الْخَوْفِ قَالَ يَتَقَدَّمُ الإِمَامُ وَطَائِفَةٌ مِنْ النَّاسِ فَيُصَلِّيْ بِهِمْ الإِمَامُ رَكْعَةً وَتَكُوْنُ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ الْعَدُوِّ لَمْ يُصَلُّوْا فَإِذَا صَلَّى الَّذِيْنَ مَعَهُ رَكْعَةً اسْتَأْخَرُوْا مَكَانَ الَّذِيْنَ لَمْ يُصَلُّوْا وَلَا يُسَلِّمُوْنَ وَيَتَقَدَّمُ الَّذِيْنَ لَمْ يُصَلُّوْا فَيُصَلُّوْنَ مَعَهُ رَكْعَةً ثُمَّ يَنْصَرِفُ الإِمَامُ وَقَدْ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ فَيَقُوْمُ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْ الطَّائِفَتَيْنِ فَيُصَلُّوْنَ لِأَنْفُسِهِمْ رَكْعَةً بَعْدَ أَنْ يَنْصَرِفَ الإِمَامُ فَيَكُوْنُ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْ الطَّائِفَتَيْنِ قَدْ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ فَإِنْ كَانَ خَوْفٌ هُوَ أَشَدَّ مِنْ ذَلِكَ صَلَّوْا رِجَالًا قِيَامًا عَلَى أَقْدَامِهِمْ أَوْ رُكْبَانًا مُسْتَقْبِلِي الْقِبْلَةِ أَوْ غَيْرَ مُسْتَقْبِلِيْهَا قَالَ مَالِكٌ قَالَ نَافِعٌ لَا أُرَى عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ ذَكَرَ ذَلِكَ إِلَّا عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم
নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে যখন সলাতুল খাওফ (যুদ্ধক্ষেত্রে শত্র“র ভয় থাকা অবস্থায় সলাত) প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হত তখন তিনি বলতেন, ইমাম সামনে যাবেন এবং একদল লোকও জামা‘আতে শামিল হবে। তিনি তাদের সঙ্গে এক রাক‘আত সলাত আদায় করবেন এবং তাদের আর একদল জামা‘আতে শামিল না হয়ে তাদের ও শত্র“র মাঝখানে থেকে যারা সলাত আদায় করেনি তাদের পাহারা দিবে। ইমামের সঙ্গে যারা এক রাক‘আত সলাত আদায় করেছে তারা পেছনে গিয়ে যারা এখনও সলাত আদায় করেনি তাদের স্থানে দাঁড়াবে কিন্তু সালাম ফেরাবে না। যারা সলাত আদায় করেনি তারা আগে বাড়বে এবং ইমামের সঙ্গে এক রাক‘আত আদায় করবে। তারপর ইমাম সলাত হতে নিষ্ক্রান্ত হবেন। কেননা তিনি দু’ রাক‘আত সলাত আদায় করেছেন। এরপর উভয় দল দাঁড়িয়ে নিজে নিজে বাকি এক রাক‘আত ইমামের সলাত শেষে আদায় করে নেবে। তাহলে প্রত্যেক জনেরই দু’ রাক‘আত সলাত আদায় হয়ে যাবে। ভয়-ভীতি এর চেয়েও অধিক হলে নিজে নিজে দাঁড়িয়ে অথবা যানবাহনে আরোহী অবস্থায় কিবলার দিকে মুখ করে বা যেদিকে সম্ভব মুখ করে সলাত আদায় করবে। ইমাম মালিক (রহ.) বলেন, ইমাম নাফি‘ (রহ.) বলেন, আমি অবশ্য মনে করি ইবনু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেই এই হাদীস বর্ণনা করেছেন। [৯৪২] (আধুনিক প্রকাশনী ৪১৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৭৬)
عَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِي الْأَسْوَدِ حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ الْأَسْوَدِ وَيَزِيْدُ بْنُ زُرَيْعٍ قَالَا حَدَّثَنَا حَبِيْبُ بْنُ الشَّهِيْدِ عَنْ ابْنِ أَبِيْ مُلَيْكَةَ قَالَ قَالَ ابْنُ الزُّبَيْرِ قُلْتُ لِعُثْمَانَ هَذِهِ الْآيَةُ الَّتِيْ فِي الْبَقَرَةِ {وَالَّذِيْنَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُوْنَ أَزْوَاجًا} إِلَى قَوْلِهِ {غَيْرَ إِخْرَاجٍ} قَدْ نَسَخَتْهَا الْأُخْرَى فَلِمَ تَكْتُبُهَا قَالَ تَدَعُهَا يَا ابْنَ أَخِيْ لَا أُغَيِّرُ شَيْئًا مِنْهُ مِنْ مَكَانِهِ قَالَ حُمَيْدٌ أَوْ نَحْوَ هَذَا
ইবনু আবূ মুলাইকাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু যুবায়র (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আমি ‘উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে জিজ্ঞেস করলাম যে, সূরাহ আল-বাকারাহ্র এ আয়াতটি وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا কে তো অন্য একটি আয়াত রহিত করে দিয়েছে। তারপরও আপনি তা কেন লিখছেন? জবাবে ‘উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, ভ্রাতুষ্পুত্র। আমরা তা যথাস্থানে রেখে দিয়েছি। আপন স্থান থেকে কোন কিছুই আমরা সরিয়ে ফেলিনি। হুমাইদ (রহ.) বললেন, অথবা প্রায় এ রকমই উত্তর দিয়ে দিলেন। [৪৫৩০] (আধুনিক প্রকাশনী ৪১৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৭৭)
أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ أَخْبَرَنِيْ يُوْنُسُ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِيْ سَلَمَةَ وَسَعِيْدٍ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم نَحْنُ أَحَقُّ بِالشَّكِّ مِنْ إِبْرَاهِيْمَ إِذْ قَالَ {رَبِّ أَرِنِيْ كَيْفَ تُحْيِي الْمَوْتٰى قَالَ أَوَلَمْ تُؤْمِنْ قَالَ بَلٰى وَلٰكِنْ لِيَطْمَئِنَّ قَلْبِيْ}.
আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন যে, ইবরাহীম (‘আ.) যখন رَبِّ أَرِنِي كَيْفَ تُحْيِي الْمَوْتَى قَالَ أَوَلَمْ تُؤْمِنْ قَالَ بَلَى وَلَكِنْ لِيَطْمَئِنَّ قَلْبِي হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে দেখাও কেমন করে তুমি মৃতকে জীবিত কর? তখন ইবরাহীম (‘আ.)-এর তুলনায় সন্দেহ করার ব্যাপারে আমিই অগ্রসর ছিলাম । [৩৩৭২] (আধুনিক প্রকাশনী ৪১৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৭৮)
إِبْرَاهِيْمُ أَخْبَرَنَا هِشَامٌ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ أَبِيْ مُلَيْكَةَ يُحَدِّثُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ وَسَمِعْتُ أَخَاهُ أَبَا بَكْرِ بْنَ أَبِيْ مُلَيْكَةَ يُحَدِّثُ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ قَالَ قَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يَوْمًا لِأَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِيْمَ تَرَوْنَ هَذِهِ الْآيَةَ نَزَلَتْ {أَيَوَدُّ أَحَدُكُمْ أَنْ تَكُوْنَ لَه” جَنَّةٌ} قَالُوا اللهُ أَعْلَمُ فَغَضِبَ عُمَرُ فَقَالَ قُوْلُوْا نَعْلَمُ أَوْ لَا نَعْلَمُ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فِيْ نَفْسِيْ مِنْهَا شَيْءٌ يَا أَمِيْرَ الْمُؤْمِنِيْنَ قَالَ عُمَرُ يَا ابْنَ أَخِيْ قُلْ وَلَا تَحْقِرْ نَفْسَكَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ ضُرِبَتْ مَثَلًا لِعَمَلٍ قَالَ عُمَرُ أَيُّ عَمَلٍ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لِعَمَلٍ قَالَ عُمَرُ لِرَجُلٍ غَنِيٍّ يَعْمَلُ بِطَاعَةِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ ثُمَّ بَعَثَ اللهُ لَهُ الشَّيْطَانَ فَعَمِلَ بِالْمَعَاصِيْ حَتَّى أَغْرَقَ أَعْمَالَهُ
‘উবায়দ ইবনু ‘উমায়র (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, একদা ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহাবীদের জিজ্ঞেস করলেন যে, أَيَوَدُّ أَحَدُكُمْ أَنْ تَكُونَ لَهُ جَنَّةٌ এ আয়াতটি যে উপলক্ষে অবতীর্ণ হয়েছে, সে ব্যাপারে আপনাদের মতামত কী? তখন তারা বললেন, আল্লাহই জানেন। ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এতে রেগে গিয়ে বললেন, বল আমরা জানি অথবা আমরা জানি না। ইবনু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! এ ব্যাপারে আমার অন্তরে কিছুটা ধারণা আছে। ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, বৎস! বলে ফেল এবং নিজেকে তুচ্ছ ভেবো না। তখন ইবনু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, এটা কর্মের দৃষ্টান্ত হিসেবে পেশ করা হয়েছে। ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, কোন্ কর্মের? ইবনু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, একটি কর্মের। ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, এটি উদাহরণ হচ্ছে সেই ধনবান ব্যক্তির, যে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ্র ‘ইবাদাত করতে থাকে, এরপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর প্রতি শায়ত্বকে প্রেরণ করেন। অতঃপর সে কাজ করে শেষ পর্যন্ত তাঁর সকল সৎকর্ম বরবাদ করে ফেলে। (আধুনিক প্রকাশনী ৪১৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৭৯)
ابْنُ أَبِيْ مَرْيَمَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَ حَدَّثَنِيْ شَرِيْكُ بْنُ أَبِيْ نَمِرٍ أَنَّ عَطَاءَ بْنَ يَسَارٍ وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَبِيْ عَمْرَةَ الْأَنْصَارِيَّ قَالَا سَمِعْنَا أَبَا هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يَقُوْلُ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَيْسَ الْمِسْكِيْنُ الَّذِيْ تَرُدُّهُ التَّمْرَةُ وَالتَّمْرَتَانِ وَلَا اللُّقْمَةُ وَلَا اللُّقْمَتَانِ إِنَّمَا الْمِسْكِيْنُ الَّذِيْ يَتَعَفَّفُ وَاقْرَءُوْا إِنْ شِئْتُمْ يَعْنِيْ قَوْلَهُ {لَا يَسْأَلُوْنَ النَّاسَ إِلْحَافًا}
‘আত্বা ইবনু ইয়াসার এবং আবূ ‘আম্র আনসারী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তাঁরা উভয়ে বলেন যে, আমরা আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলতে শুনেছি যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, একটি খেজুর কি দু’টি খেজুর আর এক গ্রাস কি দু’ গ্রাস খাদ্য যাকে দ্বারে দ্বারে ঘোরাতে থাকে সে প্রকৃত মিসকীন নয়। মিসকীন তো সে, যে ভিক্ষা করা থেকে বেঁচে থাকে। তোমরা (মিসকীন অর্থ) জানতে চাইলে আল্লাহ্র বাণী পাঠ করতে পার لاَ يَسْأَلُونَ النَّاسَ إِلْحَافًا । [১৪৭৬] (আধুনিক প্রকাশনী ৪১৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৮০)
عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ حَدَّثَنَا أَبِيْ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ عَنْ مَسْرُوْقٍ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ لَمَّا نَزَلَتْ الآيَاتُ مِنْ آخِرِ سُوْرَةِ الْبَقَرَةِ فِي الرِّبَا قَرَأَهَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى النَّاسِ ثُمَّ حَرَّمَ التِّجَارَةَ فِي الْخَمْرِ.
‘আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সুদ সম্পর্কে সূরাহ আল-বাকারাহ্র শেষ আয়াতগুলো যখন অবতীর্ণ হল তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লোকেদের নিকট তা পাঠ করে শোনালেন। তারপর মদের ব্যবসা নিষিদ্ধ করে দিলেন। [৪৫৯] (আধুনিক প্রকাশনী ৪১৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৮১)
بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ الْأَعْمَشِ سَمِعْتُ أَبَا الضُّحَى يُحَدِّثُ عَنْ مَسْرُوْقٍ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ لَمَّا أُنْزِلَتْ الْآيَاتُ الْأَوَاخِرُ مِنْ سُوْرَةِ الْبَقَرَةِ خَرَجَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَتَلَاهُنَّ فِي الْمَسْجِدِ فَحَرَّمَ التِّجَارَةَ فِي الْخَمْرِ.
‘আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সূরাহ আল-বাকারাহ্র শেষ আয়াতগুলো যখন অবতীর্ণ হল, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘর থেকে বের হলেন এবং মাসজিদে লোকেদেরকে তা পড়ে শোনালেন। এরপর মদের ব্যবসা নিষিদ্ধ করে দিলেন। [৪৫৯] (আধুনিক প্রকাশনী ৪১৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৮২)
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مَنْصُوْرٍ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ مَسْرُوْقٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ لَمَّا أُنْزِلَتْ الآيَاتُ مِنْ آخِرِ سُوْرَةِ الْبَقَرَةِ قَرَأَهُنَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَيْهِمْ فِي الْمَسْجِدِ وَحَرَّمَ التِّجَارَةَ فِي الْخَمْرِ.
‘আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সূরাহ আল-বাকারাহ্র শেষ আয়াতগুলো যখন অবতীর্ণ হল, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাসজিদে তা পাঠ করে শুনান এবং মদের ব্যবসা নিষিদ্ধ করে দেন। (আধুনিক প্রকাশনী ৪১৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৮৩)
وَ قَالَ لَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوْسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ مَنْصُوْرٍ وَالأَعْمَشِ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ مَسْرُوْقٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ لَمَّا أُنْزِلَتْ الآيَاتُ مِنْ آخِرِ سُوْرَةِ الْبَقَرَةِ قَامَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَرَأَهُنَّ عَلَيْنَا ثُمَّ حَرَّمَ التِّجَارَةَ فِي الْخَمْرِ
‘আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সূরাহ আল-বাকারার শেষ দিকের আয়াতগুলো যখন অবতীর্ণ হল, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাঁড়ালেন এবং আমাদের সামনে তা পাঠ করলেন। তারপর মদের ব্যবসা নিষিদ্ধ করে দিলেন। [৪৫৯] (আধুনিক প্রকাশনী ৪১৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৮৪)