হাদীস বিএন


সহীহুল বুখারী





সহীহুল বুখারী (4144)


يَحْيَى حَدَّثَنَا وَكِيْعٌ عَنْ نَافِعِ بْنِ عُمَرَ عَنْ ابْنِ أَبِيْ مُلَيْكَةَ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا كَانَتْ تَقْرَأُ {إِذْ تَلَقَّوْنَه” بِأَلْسِنَتِكُمْ} وَتَقُوْلُ الْوَلْقُ الْكَذِبُ. قَالَ ابْنُ أَبِيْ مُلَيْكَةَ وَكَانَتْ أَعْلَمَ مِنْ غَيْرِهَا بِذَلِكَ لِأَنَّهُ نَزَلَ فِيْهَا




আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি আয়াতাংশ (بِأَلْسِنَتِكُمْ تَلَقَّوْنَهُ إِذْ) পড়তেন এবং বলতেন
অর্থ (সূরাহ্‌হ আন্-নূর ২৪/১৫)। ইবনু আবূ মুলাইকাহ (রাহিঃ) বলেছেন, এ আয়াতের ব্যাখ্যা ‘আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) অন্যান্যাদের চেয়ে অধিক জানতেন। কারণে এ আয়াত তারই সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছিল। [৪৭৫২] (আধুনিক প্রকাশনী ৩৮৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৩৫)









সহীহুল বুখারী (4145)


عُثْمَانُ بْنُ أَبِيْ شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عَبْدَةُ عَنْ هِشَامٍ عَنْ أَبِيْهِ قَالَ ذَهَبْتُ أَسُبُّ حَسَّانَ عِنْدَ عَائِشَةَ فَقَالَتْ لَا تَسُبَّهُ فَإِنَّهُ كَانَ يُنَافِحُ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَتْ عَائِشَةُ اسْتَأْذَنَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِيْ هِجَاءِ الْمُشْرِكِيْنَ قَالَ كَيْفَ بِنَسَبِيْ قَالَ لَأَسُلَّنَّكَ مِنْهُمْ كَمَا تُسَلُّ الشَّعَرَةُ مِنَ الْعَجِيْنِ
وقَالَ مُحَمَّدُ : حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ فَرْقَدٍ سَمِعْتُ هِشَامًا عَنْ أَبِيْهِ قَالَ سَبَبْتُ حَسَّانَ وَكَانَ مِمَّنْ كَثَّرَ عَلَيْهَا




হিশামের পিতা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি 'আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সামনে হাস্সান ইবনু সাবিত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে গালি দিতে লাগলে তিনি বললেন, তাঁকে গালি দিও না। কারণ তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ হয়ে কাফিরদের বিরুদ্ধে লড়াই করতেন। 'আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন হাস্সান ইবনু সাবিত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কবিতার মাধ্যমে মুশরিকের নিন্দাবাদ করার জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে অনুমতি চাইলে তিনি বললেন, তুমি কুরাইশদের নিন্দায় কবিতা রচনা করলে আমার বংশকে কি পৃথক করবে? আমি আপনাকে তাদের থেকে এমনভাবে পৃথক করে রাখব যেমনভাবে আটার খামির থেকে চুল পৃথক করা হয়। [৩৫৩১]
মুহাম্মদ (রাহিঃ) বলেছেন, 'উসমান ইবনু ফারকাদ (রাহিঃ) আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আমি হিশাম (রাহিঃ)-কে তার পিতা 'উরওয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি হাস্সান ইবনু সাবিত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে গালি দিয়েছি। কেননা তিনি ছিলেন, 'আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর প্রতি অপবাদ রটনাকারীদের একজন। (আধুনিক প্রকাশনী ৩৮৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৩৬)









সহীহুল বুখারী (4146)


بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ مَسْرُوْقٍ قَالَ دَخَلْنَا عَلَى عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا وَعِنْدَهَا حَسَّانُ بْنُ ثَابِتٍ يُنْشِدُهَا شِعْرًا يُشَبِّبُ بِأَبْيَاتٍ لَهُ وَقَالَ :
حَصَانٌ رَزَانٌ مَا تُزَنُّ بِرِيْبَةٍ وَتُصْبِحُ غَرْثَى مِنْ لُحُوْمِ الْغَوَافِلِ
فَقَالَتْ لَهُ عَائِشَةُ لَكِنَّكَ لَسْتَ كَذَلِكَ قَالَ مَسْرُوْقٌ فَقُلْتُ لَهَا لِمَ تَأْذَنِيْنَ لَهُ أَنْ يَدْخُلَ عَلَيْكِ وَقَدْ قَالَ اللهُ تَعَالَى {وَالَّذِيْ تَوَلّٰى كِبْرَه” مِنْهُمْ لَه” عَذَابٌ عَظِيْمٌ}فَقَالَتْ وَأَيُّ عَذَابٍ أَشَدُّ مِنَ الْعَمَى قَالَتْ لَهُ إِنَّهُ كَانَ يُنَافِحُ أَوْ يُهَاجِيْ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم




মাসরূক (রাহিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি 'আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট গেলাম। তখন তাঁর কাছে হাস্‌সান ইবনু সাবিত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁকে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করে শোনাচ্ছেন। তিনি 'আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর প্রশংসায় বলেছনে, "তিনি সতী, ব্যক্তিত্বসম্পন্না ও জ্ঞানবর্তী, তাঁর প্রতি কোন সন্দেহই আরোপ করা যায় না। তিনি অভুক্ত থাকেন, তবুও অনুপস্থিত লোকেদের গোশত খান না (অর্থাৎ গীবত করেন না)। এ কথা শুনে 'আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, কিন্তু আপনি তো এরূপ নন। মাসরুক (রাহিঃ) বলেছেন যে, 'আমি আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বললাম, আপনি কেন তাকে আপনার কাছে আসার অনুমতি দেন? অথচ আল্লাহ আ'আলা বলেছেন, "তাদের মধ্যে যে এ ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা নিয়েছে, তার জন্য আছে কঠিন শাস্তি। 'আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, অন্ধত্ব থেকে কঠিনতর শাস্তি আর কী হতে পারে? তিনি তাঁকে আরো বলেন যে, হাস্সান ইবনু সাবিত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষাবলম্বন করে কাফিরদের সঙ্গে মুকাবালা করতেন অথবা কাফিরদের বিপক্ষে নিন্দাপূর্ণ কবিতা রচনা করতেন। [৪৭৫৫, ৪৭৫৬; মুসলিম ৪৪/৩৪, হাঃ ২৪৮৮] (আধুনিক প্রকাশনী ৩৮৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৩৭)









সহীহুল বুখারী (4147)


خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ قَالَ حَدَّثَنِيْ صَالِحُ بْنُ كَيْسَانَ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ الْحُدَيْبِيَةِ فَأَصَابَنَا مَطَرٌ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَصَلَّى لَنَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الصُّبْحَ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا فَقَالَ أَتَدْرُوْنَ مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ قُلْنَا اللهُ وَرَسُوْلُهُ أَعْلَمُ فَقَالَ قَالَ اللهُ أَصْبَحَ مِنْ عِبَادِيْ مُؤْمِنٌ بِيْ وَكَافِرٌ بِيْ فَأَمَّا مَنْ قَالَ مُطِرْنَا بِرَحْمَةِ اللهِ وَبِرِزْقِ اللهِ وَبِفَضْلِ اللهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ بِيْ كَافِرٌ بِالْكَوْكَبِ وَأَمَّا مَنْ قَالَ مُطِرْنَا بِنَجْمِ كَذَا فَهُوَ مُؤْمِنٌ بِالْكَوْكَبِ كَافِرٌ بِي.




যায়দ ইবনু খালিদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুদাইবিয়ার বছর আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সঙ্গে বের হলাম। এক রাতে খুব বৃষ্টি হল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। এরপরে আমাদের দিকে ফিরে বললেন, তোমরা জান কি তোমাদের রব কী বলেছেন? আমরা বললাম, আল্লাহ ও আল্লাহ্‌র রাসূলই অধিক জানেন। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ তা’আলা বলেছেন (বৃষ্টির কারণে) আমার কতিপয় বান্দা আমার প্রতি ঈমান এনেছে, আর কেউ কেউ আমাকে অমান্য করেছে। যারা বলেছে, আল্লাহ্‌র রহমত, আল্লাহ্‌র দয়া এবং আল্লাহ্‌র ফযলে আমাদের প্রতি বৃষ্টি হয়েছে, তারা আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী মু’মিন এবং তারা নক্ষত্রের প্রভাব অস্বীকারকারী। আর যারা বলেছে যে অমুক তারকার কারণে বৃষ্টি হয়েছে [৪১], তারা তারকার প্রতি ঈমান এনেছে এবং আমাকে অস্বীকারকারী কাফির। [৮৪৬] (আধুনিক প্রকাশনী ৩৮৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৩৮)









সহীহুল বুখারী (4148)


هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ عَنْ قَتَادَةَ أَنَّ أَنَسًا رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَخْبَرَهُ قَالَ اعْتَمَرَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَرْبَعَ عُمَرٍ كُلَّهُنَّ فِيْ ذِي الْقَعْدَةِ إِلَّا الَّتِيْ كَانَتْ مَعَ حَجَّتِهِ عُمْرَةً مِنَ الْحُدَيْبِيَةِ فِيْ ذِي الْقَعْدَةِ وَعُمْرَةً مِنَ الْعَامِ الْمُقْبِلِ فِيْ ذِي الْقَعْدَةِ وَعُمْرَةً مِنَ الْجِعْرَانَةِ حَيْثُ قَسَمَ غَنَائِمَ حُنَيْنٍ فِيْ ذِي الْقَعْدَةِ وَعُمْرَةً مَعَ حَجَّتِهِ.




আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চারটি ‘উমরাহ্ পালন করেছেন। তিনি হাজ্জের সঙ্গে যে উমরাহ্টি পালন করেন সেটি ব্যতীত সবকটিই যুলকাদাহ্ মাসে। হুদাইবিয়ার ‘উমরাহ্টি ছিল যুলকাদাহ্ মাসে। হুদাইবিয়ার পরের বছরের উমরাহ্টি ছিল যুলকাদাহ্ মাসে এবং হুনাইনের প্রাপ্ত গানীমাত যে জিঈরানা নামক স্থানে বন্টন করেছিলেন, সেখানের ‘উমরাহ্টিও ছিল যুলকাদাহ্ মাসে, আর তিনি হাজ্জের সঙ্গে একটি ‘উমরাহ পালন করেন। [১৭৭৮, ১৭৭৯] (আধুনিক প্রকাশনী ৩৮৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৩৯)









সহীহুল বুখারী (4149)


سَعِيْدُ بْنُ الرَّبِيْعِ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ يَحْيَى عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِيْ قَتَادَةَ أَنَّ أَبَاهُ حَدَّثَهُ قَالَ انْطَلَقْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَامَ الْحُدَيْبِيَةِ فَأَحْرَمَ أَصْحَابُهُ وَلَمْ أُحْرِمْ.




আবূ ক্বাতাদাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুদাইবিয়ার যুদ্ধের বছর আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সঙ্গে রওয়ানা করেছিলাম। তখন তার সাহাবীগণ ইহরাম বেঁধেছিলেন কিন্তু আমি ইহরাম বাঁধিনি। [১৮২১] (আধুনিক প্রকাশনী ৩৮৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৪০)









সহীহুল বুখারী (4150)


عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُوْسَى عَنْ إِسْرَائِيْلَ عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ عَنِ الْبَرَاءِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ تَعُدُّوْنَ أَنْتُمْ الْفَتْحَ فَتْحَ مَكَّةَ وَقَدْ كَانَ فَتْحُ مَكَّةَ فَتْحًا وَنَحْنُ نَعُدُّ الْفَتْحَ بَيْعَةَ الرِّضْوَانِ يَوْمَ الْحُدَيْبِيَةِ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَرْبَعَ عَشْرَةَ مِائَةً وَالْحُدَيْبِيَةُ بِئْرٌ فَنَزَحْنَاهَا فَلَمْ نَتْرُكْ فِيْهَا قَطْرَةً فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَتَاهَا فَجَلَسَ عَلَى شَفِيْرِهَا ثُمَّ دَعَا بِإِنَاءٍ مِنْ مَاءٍ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ مَضْمَضَ وَدَعَا ثُمَّ صَبَّهُ فِيْهَا فَتَرَكْنَاهَا غَيْرَ بَعِيْدٍ ثُمَّ إِنَّهَا أَصْدَرَتْنَا مَا شِئْنَا نَحْنُ وَرِكَابَنَا.




বারাআ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মাক্কাহ্ বিজয়কে তোমরা বিজয় মনে করছ। মাক্কাহ বিজয়ও একটি বিজয়। কিন্তু হুদাইবিয়ার দিনের বাইআতে রিদওয়ানকে আমরা প্রকৃত বিজয় মনে করি। সে সময় আমরা চৌদ্দ’শ সহাবী নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে ছিলাম। হুদাইবিয়াহ একটি কূপ। আমরা তা’ থেকে পানি উঠাতে উঠাতে তাতে এক বিন্দুও বাকী রাখিনি। এ সংবাদ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে পৌছলে তিনি এসে সে কুপের পাড়ে বসলেন। তারপর এক পাত্র পানি আনিয়ে অযু করলেন এবং কুল্লি করলেন। শেষে দু’আ করে অবশিষ্ট পানি কুপের মধ্যে ফেলে দিলেন। আমরা অল্প সময় কূপের পানি উঠানো বন্ধ রাখলাম। এরপর আমরা আমাদের নিজেদের ও আরোহী পশুর জন্য ইচ্ছে মত পানি কূপ থেকে উঠালাম। [৩৫৭৭] (আধুনিক প্রকাশনী ৩৮৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৪১)









সহীহুল বুখারী (4151)


فَضْلُ بْنُ يَعْقُوْبَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَعْيَنَ أَبُوْ عَلِيٍّ الْحَرَّانِيُّ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا أَبُوْ إِسْحَاقَ قَالَ أَنْبَأَنَا الْبَرَاءُ بْنُ عَازِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّهُمْ كَانُوْا مَعَ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الْحُدَيْبِيَةِ أَلْفًا وَأَرْبَعَ مِائَةٍ أَوْ أَكْثَرَ فَنَزَلُوْا عَلَى بِئْرٍ فَنَزَحُوْهَا فَأَتَوْا رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَأَتَى الْبِئْرَ وَقَعَدَ عَلَى شَفِيْرِهَا ثُمَّ قَالَ ائْتُوْنِيْ بِدَلْوٍ مِنْ مَائِهَا فَأُتِيَ بِهِ فَبَصَقَ فَدَعَا ثُمَّ قَالَ دَعُوْهَا سَاعَةً فَأَرْوَوْا أَنْفُسَهُمْ وَرِكَابَهُمْ حَتَّى ارْتَحَلُوْا.




আবূ ইসহাক (রাহিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) সংবাদ দিয়েছেন যে, হুদাইবিয়ার যুদ্ধের দিন তাঁরা চৌদ্দ’শ কিংবা তার চেয়েও অধিক লোক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে ছিলেন। তারা একটি কূপের পার্শ্বে অবতরণ করেন এবং তা থেকে পানি উত্তোলন করতে থাকেন। (পানি নিঃশেষ হয়ে গেলে) তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে এসে তা জানালেন। তখন তিনি কূপটির নিকট এসে ওটার পাড়ে বসলেন। এরপর বললেন, আমার কাছে ওটা থেকে এক বালতি পানি নিয়ে আস। তখন তা নিয়ে আসা হলো। তিনি এতে থুথু ফেললেন এবং দু'আ করলেন। এরপর তিনি বললেন, কিছুক্ষণের জন্য তোমরা এ থেকে পানি উঠানো বন্ধ রাখ। এরপর সকলেই নিজেদের ও আরোহী জন্তুগুলোর তৃষ্ণা নিবারণ করে যাত্রা করলেন। [৩৫৭৭] (আধুনিক প্রকাশনী ৩৮৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৪২)









সহীহুল বুখারী (4152)


يُوْسُفُ بْنُ عِيْسَى حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ حَدَّثَنَا حُصَيْنٌ عَنْ سَالِمٍ عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ عَطِشَ النَّاسُ يَوْمَ الْحُدَيْبِيَةِ وَرَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ يَدَيْهِ رَكْوَةٌ فَتَوَضَّأَ مِنْهَا ثُمَّ أَقْبَلَ النَّاسُ نَحْوَهُ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَا لَكُمْ قَالُوْا يَا رَسُوْلَ اللهِ لَيْسَ عِنْدَنَا مَاءٌ نَتَوَضَّأُ بِهِ وَلَا نَشْرَبُ إِلَّا مَا فِيْ رَكْوَتِكَ قَالَ فَوَضَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ فِي الرَّكْوَةِ فَجَعَلَ الْمَاءُ يَفُوْرُ مِنْ بَيْنِ أَصَابِعِهِ كَأَمْثَالِ الْعُيُوْنِ قَالَ فَشَرِبْنَا وَتَوَضَّأْنَا فَقُلْتُ لِجَابِرٍ كَمْ كُنْتُمْ يَوْمَئِذٍ قَالَ لَوْ كُنَّا مِائَةَ أَلْفٍ لَكَفَانَا كُنَّا خَمْسَ عَشْرَةَ مِائَةً.




জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুদাইবিয়ার দিন লোকেরা পিপাসার্ত হয়ে পড়লেন। এ সময় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট একটি চামড়ার পাত্র ভর্তি পানি ছিল। তিনি তা দিয়ে ওযু করলেন। তখন লোকেরা তাঁর দিকে এগিয়ে আসলে তিনি তাদেরকে বললেন, কী হয়েছে তোমাদের? তারা বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আপনার চর্মপাত্রের পানি বাদে আমাদের কাছে এমন কোন পানি নেই যা দিয়ে আমরা ওযু করতে এবং পান করতে পারি। বর্ণনাকারী জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর হাত ঐ চর্মপাত্রে রাখলেন। অমনি তার আঙ্গুলগুলো থেকে ঝরণার মতো পানি উথলে উঠতে লাগল। জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমরা সে পানি পান করলাম এবং ওযু করলাম। [সালিম (রাহিঃ) বলেন] আমি জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা সেদিন কতজন ছিলেন? তিনি বললেন, আমরা যদি একলাখও হতাম তবু এ পানিই আমাদের জন্য যথেষ্ট হত। আমরা ছিলাম পনের’শ। [৩৫৭৬] (আধুনিক প্রকাশনী ৩৮৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৪৩)









সহীহুল বুখারী (4153)


الصَّلْتُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا يَزِيْدُ بْنُ زُرَيْعٍ عَنْ سَعِيْدٍ عَنْ قَتَادَةَ قُلْتُ لِسَعِيْدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ بَلَغَنِيْ أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ كَانَ يَقُوْلُ كَانُوْا أَرْبَعَ عَشْرَةَ مِائَةً فَقَالَ لِيْ سَعِيْدٌ حَدَّثَنِيْ جَابِرٌ كَانُوْا خَمْسَ عَشْرَةَ مِائَةً الَّذِيْنَ بَايَعُوا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الْحُدَيْبِيَةِ تَابَعَهُ أَبُوْ دَاوُدَ حَدَّثَنَا قُرَّةُ عَنْ قَتَادَةَ. تَابَعَهُ مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا أَبُوْ دَاوُدَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ.




ক্বাতাদাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সা’ঈদ ইবনু মুসায়্যিব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বললাম, আমি শুনতে পেয়েছি যে, জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলতেন, তাঁরা (হুদাইবিয়াহ্য়) চৌদ্দশ’ ছিলেন। সা’ঈদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে বললেন, জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, হুদাইবিয়ার দিন যাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাতে বাই’আত গ্রহণ করেছিলেন, তাদের সংখ্যা ছিল পনের শত। আবূ দাউদ কুররা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মাধ্যমে ক্বাতাদাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে একই রকম বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু বাশ্শার (রাহিঃ)-ও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবূ দাউদ (রাহিঃ) (অন্য সানাদে) শু’বাহ (রাহিঃ) থেকেও একই রকম বর্ণনা করেছেন। [৩৫৭৬] (আধুনিক প্রকাশনী ৩৮৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৪৪)









সহীহুল বুখারী (4154)


عَلِيٌّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ عَمْرٌو سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ لَنَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الْحُدَيْبِيَةِ أَنْتُمْ خَيْرُ أَهْلِ الْأَرْضِ وَكُنَّا أَلْفًا وَأَرْبَعَ مِائَةٍ وَلَوْ كُنْتُ أُبْصِرُ الْيَوْمَ لَأَرَيْتُكُمْ مَكَانَ الشَّجَرَةِ تَابَعَهُ الْأَعْمَشُ سَمِعَ سَالِمًا سَمِعَ جَابِرًا أَلْفًا وَأَرْبَعَ مِائَةٍ




জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হুদাইবিয়ার যুদ্ধের দিন আমাদেরকে বলেছেন, পৃথিবীবাসীদের মধ্যে তোমরাই সর্বোত্তম। সেদিন আমরা ছিলাম চৌদ্দশ। আজ আমি যদি দেখতাম, তাহলে আমি তোমাদেরকে সে গাছের জায়গাটি দেখিয়ে দিতাম। [৩৫৭৬; মুসলিম ৩৩/১৮, হাঃ ১৮৫৬; আহমাদ ১৪৩১৭]
‘আমাশ (রাহিঃ) হাদীসটি সালিম (রাহিঃ)-এর মাধ্যমে জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন চৌদ্দশ। (আধুনিক প্রকাশনী ৩৮৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৪৫)









সহীহুল বুখারী (4155)


وَقَالَ عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُعَاذٍ حَدَّثَنَا أَبِيْ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ حَدَّثَنِيْ عَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِيْ أَوْفَى رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا كَانَ أَصْحَابُ الشَّجَرَةِ أَلْفًا وَثَلَاثَ مِائَةٍ وَكَانَتْ أَسْلَمُ ثُمْنَ الْمُهَاجِرِيْنَ




আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আউফা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, গাছের নীচে বাই’আত গ্রহণকারীদের সংখ্যা ছিল তেরশ। আসলাম গোত্রীয়রা ছিলেন মুহাজিরগণের মোট সংখ্যার এক-অষ্টমাংশ। [মুসলিম ৩৩/১৮, হাঃ ১৮৫৭] (আধুনিক প্রকাশনী ৩৮৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৪৫)
মুহাম্মাদ ইবনু বাশ্শার (রাহিঃ) তাঁর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবূ দাউদ (রাহিঃ) ও শু’বাহ (রাহিঃ) আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।









সহীহুল বুখারী (4156)


إِبْرَاهِيْمُ بْنُ مُوْسَى أَخْبَرَنَا عِيْسَى عَنْ إِسْمَاعِيْلَ عَنْ قَيْسٍ أَنَّهُ سَمِعَ مِرْدَاسًا الْأَسْلَمِيَّ يَقُوْلُ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ الشَّجَرَةِ يُقْبَضُ الصَّالِحُوْنَ الْأَوَّلُ فَالأَوَّلُ وَتَبْقَى حُفَالَةٌ كَحُفَالَةِ التَّمْرِ وَالشَّعِيْرِ لَا يَعْبَأُ اللهُ بِهِمْ شَيْئًا.




কায়েস (রাহিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি হুদাইবিয়ার সন্ধির দিন বৃক্ষতলের সহাবী মিরদাস আসলামীকে বলতে শুনেছেন যে, নেককার লোকদেরকে একের পর এক উঠিয়ে নেয়া হবে। এরপর বাকী থাকবে খেজুর ও যবের খোসার মতো খোসাগুলো আল্লাহ যাদের কোন তোয়াক্কা করবেন না। [৬৪৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী ৩৮৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৪৬)









সহীহুল বুখারী (4157)


عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ مَرْوَانَ وَالْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ قَالَا خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَامَ الْحُدَيْبِيَةِ فِيْ بِضْعَ عَشْرَةَ مِائَةً مِنْ أَصْحَابِهِ فَلَمَّا كَانَ بِذِي الْحُلَيْفَةِ قَلَّدَ الْهَدْيَ وَأَشْعَرَ وَأَحْرَمَ مِنْهَا لَا أُحْصِيْ كَمْ سَمِعْتُهُ مِنْ سُفْيَانَ حَتَّى سَمِعْتُهُ يَقُوْلُ لَا أَحْفَظُ مِنْ الزُّهْرِيِّ الإِشْعَارَ وَالتَّقْلِيْدَ فَلَا أَدْرِيْ يَعْنِيْ مَوْضِعَ الإِشْعَارِ وَالتَّقْلِيْدِ أَوِ الْحَدِيْثَ كُلَّهُ.




মারওয়ান এবং মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তাঁরা উভয়ই বলেছেন যে, হুদাইবিয়াহর বছর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সহস্রাধিক সহাবীকে সঙ্গে নিয়ে মদিনা থেকে বের হলেন। যুল-হুলাইফাহ্[১]তে পৌঁছে তিনি কুরবানীর পশুর গলায় কিলাদা বাঁধলেন, পশুর কুজ কাটলেন এবং সেখান থেকে ইহরাম বাঁধলেন। (বর্ণনাকারী) বলেন, এ হাদীস সুফ্ইয়ান থেকে কয় দফা শুনেছি তার সংখ্যা আমি গণনা করতে পারছি না। পরিশেষে তাঁকে বলতে শুনেছি, যুহরী থেকে কুরবানীর পশুর গলায় কিলাদা বাঁধা এবং ইশআর করার কথা আমার স্মরণ নেই। রাবী ‘আলী ইবনু ‘আবদুল্লাহ বলেন, সুফ্ইয়ান এ কথা বলে কী বোঝাতে চেয়েছেন তা আমি জানি না। তিনি কি এ কথা বলতে চেয়েছেন যে, যুহরী থেকে ইশআর ও কিলাদা করার কথা তাঁর স্মরণ নেই, নাকি সম্পূর্ণ হাদীসটি স্মরণ না থাকার কথা বলতে চেয়েছেন? [১৬৯৪, ১৬৯৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৪৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৪৭)









সহীহুল বুখারী (4158)


عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ مَرْوَانَ وَالْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ قَالَا خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَامَ الْحُدَيْبِيَةِ فِيْ بِضْعَ عَشْرَةَ مِائَةً مِنْ أَصْحَابِهِ فَلَمَّا كَانَ بِذِي الْحُلَيْفَةِ قَلَّدَ الْهَدْيَ وَأَشْعَرَ وَأَحْرَمَ مِنْهَا لَا أُحْصِيْ كَمْ سَمِعْتُهُ مِنْ سُفْيَانَ حَتَّى سَمِعْتُهُ يَقُوْلُ لَا أَحْفَظُ مِنْ الزُّهْرِيِّ الإِشْعَارَ وَالتَّقْلِيْدَ فَلَا أَدْرِيْ يَعْنِيْ مَوْضِعَ الإِشْعَارِ وَالتَّقْلِيْدِ أَوِ الْحَدِيْثَ كُلَّهُ.




মারওয়ান এবং মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তাঁরা উভয়ই বলেছেন যে, হুদাইবিয়াহর বছর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সহস্রাধিক সহাবীকে সঙ্গে নিয়ে মদিনা থেকে বের হলেন। যুল-হুলাইফাহ্[১]তে পৌঁছে তিনি কুরবানীর পশুর গলায় কিলাদা বাঁধলেন, পশুর কুজ কাটলেন এবং সেখান থেকে ইহরাম বাঁধলেন। (বর্ণনাকারী) বলেন, এ হাদীস সুফ্ইয়ান থেকে কয় দফা শুনেছি তার সংখ্যা আমি গণনা করতে পারছি না। পরিশেষে তাঁকে বলতে শুনেছি, যুহরী থেকে কুরবানীর পশুর গলায় কিলাদা বাঁধা এবং ইশআর করার কথা আমার স্মরণ নেই। রাবী ‘আলী ইবনু ‘আবদুল্লাহ বলেন, সুফ্ইয়ান এ কথা বলে কী বোঝাতে চেয়েছেন তা আমি জানি না। তিনি কি এ কথা বলতে চেয়েছেন যে, যুহরী থেকে ইশআর ও কিলাদা করার কথা তাঁর স্মরণ নেই, নাকি সম্পূর্ণ হাদীসটি স্মরণ না থাকার কথা বলতে চেয়েছেন? [১৬৯৪, ১৬৯৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৪৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৪৭)









সহীহুল বুখারী (4159)


الْحَسَنُ بْنُ خَلَفٍ قَالَ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ يُوْسُفَ عَنْ أَبِيْ بِشْرٍ وَرْقَاءَ عَنْ ابْنِ أَبِيْ نَجِيْحٍ عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ حَدَّثَنِيْ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِيْ لَيْلَى عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَآهُ وَقَمْلُهُ يَسْقُطُ عَلَى وَجْهِهِ فَقَالَ أَيُؤْذِيْكَ هَوَامُّكَ قَالَ نَعَمْ فَأَمَرَهُ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَحْلِقَ وَهُوَ بِالْحُدَيْبِيَةِ لَمْ يُبَيِّنْ لَهُمْ أَنَّهُمْ يَحِلُّوْنَ بِهَا وَهُمْ عَلَى طَمَعٍ أَنْ يَدْخُلُوْا مَكَّةَ فَأَنْزَلَ اللهُ الْفِدْيَةَ فَأَمَرَهُ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُطْعِمَ فَرَقًا بَيْنَ سِتَّةِ مَسَاكِيْنَ أَوْ يُهْدِيَ شَاةً أَوْ يَصُوْمَ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ.




কা’ব ইবনু উজরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে এমন অবস্থায় দেখলেন যে, উকুন তার মুখমণ্ডলে ঝরে পড়ছে। তখন তিনি বললেন, কীটগুলো কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার মাথা মুণ্ডিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন যখন তিনি হুদাইবিয়াহ্‌তে অবস্থান করছিলেন। তখন সাহাবীগণ মাক্কাহ প্রবেশ করার জন্য খুবই আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন। হুদাইবিয়াহ্‌তেই তাদের হালাল হতে হবে এ কথা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের কাছে বর্ণনা করেননি। তাই আল্লাহ ফিদইয়ার বিধান অবতীর্ণ করলেন। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে ছয়জন মিসকীনকে এক ফারাক (প্রায় বারো সের) খাদ্য খাওয়ানোর অথবা একটি বাক্‌রী কুরবানী করার অথবা তিন দিন সওম পালনের নির্দেশ দিলেন। [১৮১৪] (আধুনিক প্রকাশনী ৩৮৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৪৮)









সহীহুল বুখারী (4160)


إِسْمَاعِيْلُ بْنُ عَبْدِ اللهِ قَالَ حَدَّثَنِيْ مَالِكٌ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ أَبِيْهِ قَالَ خَرَجْتُ مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ إِلَى السُّوْقِ فَلَحِقَتْ عُمَرَ امْرَأَةٌ شَابَّةٌ فَقَالَتْ يَا أَمِيْرَ الْمُؤْمِنِيْنَ هَلَكَ زَوْجِيْ وَتَرَكَ صِبْيَةً صِغَارًا وَاللهِ مَا يُنْضِجُوْنَ كُرَاعًا وَلَا لَهُمْ زَرْعٌ وَلَا ضَرْعٌ وَخَشِيْتُ أَنْ تَأْكُلَهُمْ الضَّبُعُ وَأَنَا بِنْتُ خُفَافِ بْنِ إِيْمَاءَ الْغِفَارِيِّ وَقَدْ شَهِدَ أَبِي الْحُدَيْبِيَةَ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَوَقَفَ مَعَهَا عُمَرُ وَلَمْ يَمْضِ ثُمَّ قَالَ مَرْحَبًا بِنَسَبٍ قَرِيْبٍ ثُمَّ انْصَرَفَ إِلَى بَعِيْرٍ ظَهِيْرٍ كَانَ مَرْبُوْطًا فِي الدَّارِ فَحَمَلَ عَلَيْهِ غِرَارَتَيْنِ مَلَأَهُمَا طَعَامًا وَحَمَلَ بَيْنَهُمَا نَفَقَةً وَثِيَابًا ثُمَّ نَاوَلَهَا بِخِطَامِهِ ثُمَّ قَالَ اقْتَادِيْهِ فَلَنْ يَفْنَى حَتَّى يَأْتِيَكُمْ اللهُ بِخَيْرٍ فَقَالَ رَجُلٌ يَا أَمِيْرَ الْمُؤْمِنِيْنَ أَكْثَرْتَ لَهَا قَالَ عُمَرُ ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ وَاللهِ إِنِّيْ لَأَرَى أَبَا هَذِهِ وَأَخَاهَا قَدْ حَاصَرَا حِصْنًا زَمَانًا فَافْتَتَحَاهُ ثُمَّ أَصْبَحْنَا نَسْتَفِيْءُ سُهْمَانَهُمَا فِيْهِ.




আসলাম (রাহিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমি ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সঙ্গে বাজারে বের হলাম। সেখানে একজন যুবতী মহিলা তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলল, হে আমীরুল মু’মিনীন! আমার স্বামী ছোট ছোট বাচ্চা রেখে মারা গেছেন। আল্লাহর কসম! তাদের খাওয়ার জন্য পাকানোর মতো কোন বাকরীর খুরও নেই এবং নেই কোন ফসলের ব্যবস্থা ও দুধেল উট, বাকরী। আমার আশঙ্কা হচ্ছে পোকা তাদেরকে খেয়ে ফেলবে অথচ আমি হলাম খুফাফ ইবনু আইমা গিফারীর কন্যা। আমার পিতা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে হুদাইবিয়াহ্য় অংশগ্রহণ করেছিলেন। এ কথা শুনে ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাকে অতিক্রম না করে পার্শ্বে দাঁড়ালেন। এরপর বললেন, তোমার গোত্রকে মোবারাকবাদ। তাঁরা তো আমার খুব নিকটের মানুষ। এরপর তিনি ফিরে এসে আস্তাবলে বাঁধা উটের থেকে একটি মোটা তাজা উট এনে দুই বস্তা খাদ্য এবং এর মধ্যে কিছু নগদ অর্থ ও বস্ত্র রেখে এগুলো উটের পিঠে তুলে দিয়ে মহিলার হাতে এর লাগাম দিয়ে বললেন, তুমি এটি টেনে নিয়ে যাও। এগুলো শেষ হওয়ার আগেই হয়তো আল্লাহ তোমাদের জন্য এর চেয়ে উত্তম কিছু দান করবেন। তখন এক ব্যক্তি বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনি তাকে খুব অধিক দিলেন। ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক।১ আল্লাহর কসম! আমি দেখেছি এ মহিলার আববা ও ভাই দীর্ঘদিন পর্যন্ত একটি দূর্গ অবরোধ করে রেখেছিলেন এবং পরে তা জয় করেছিলেন। এরপর ঐ দূর্গ থেকে প্রাপ্ত তাদের অংশ থেকে আমরাও যুদ্ধলব্ধ সম্পদের দাবী করি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৪৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৪৯)









সহীহুল বুখারী (4161)


إِسْمَاعِيْلُ بْنُ عَبْدِ اللهِ قَالَ حَدَّثَنِيْ مَالِكٌ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ أَبِيْهِ قَالَ خَرَجْتُ مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ إِلَى السُّوْقِ فَلَحِقَتْ عُمَرَ امْرَأَةٌ شَابَّةٌ فَقَالَتْ يَا أَمِيْرَ الْمُؤْمِنِيْنَ هَلَكَ زَوْجِيْ وَتَرَكَ صِبْيَةً صِغَارًا وَاللهِ مَا يُنْضِجُوْنَ كُرَاعًا وَلَا لَهُمْ زَرْعٌ وَلَا ضَرْعٌ وَخَشِيْتُ أَنْ تَأْكُلَهُمْ الضَّبُعُ وَأَنَا بِنْتُ خُفَافِ بْنِ إِيْمَاءَ الْغِفَارِيِّ وَقَدْ شَهِدَ أَبِي الْحُدَيْبِيَةَ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَوَقَفَ مَعَهَا عُمَرُ وَلَمْ يَمْضِ ثُمَّ قَالَ مَرْحَبًا بِنَسَبٍ قَرِيْبٍ ثُمَّ انْصَرَفَ إِلَى بَعِيْرٍ ظَهِيْرٍ كَانَ مَرْبُوْطًا فِي الدَّارِ فَحَمَلَ عَلَيْهِ غِرَارَتَيْنِ مَلَأَهُمَا طَعَامًا وَحَمَلَ بَيْنَهُمَا نَفَقَةً وَثِيَابًا ثُمَّ نَاوَلَهَا بِخِطَامِهِ ثُمَّ قَالَ اقْتَادِيْهِ فَلَنْ يَفْنَى حَتَّى يَأْتِيَكُمْ اللهُ بِخَيْرٍ فَقَالَ رَجُلٌ يَا أَمِيْرَ الْمُؤْمِنِيْنَ أَكْثَرْتَ لَهَا قَالَ عُمَرُ ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ وَاللهِ إِنِّيْ لَأَرَى أَبَا هَذِهِ وَأَخَاهَا قَدْ حَاصَرَا حِصْنًا زَمَانًا فَافْتَتَحَاهُ ثُمَّ أَصْبَحْنَا نَسْتَفِيْءُ سُهْمَانَهُمَا فِيْهِ.




আসলাম (রাহিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমি ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সঙ্গে বাজারে বের হলাম। সেখানে একজন যুবতী মহিলা তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলল, হে আমীরুল মু’মিনীন! আমার স্বামী ছোট ছোট বাচ্চা রেখে মারা গেছেন। আল্লাহর কসম! তাদের খাওয়ার জন্য পাকানোর মতো কোন বাকরীর খুরও নেই এবং নেই কোন ফসলের ব্যবস্থা ও দুধেল উট, বাকরী। আমার আশঙ্কা হচ্ছে পোকা তাদেরকে খেয়ে ফেলবে অথচ আমি হলাম খুফাফ ইবনু আইমা গিফারীর কন্যা। আমার পিতা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে হুদাইবিয়াহ্য় অংশগ্রহণ করেছিলেন। এ কথা শুনে ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাকে অতিক্রম না করে পার্শ্বে দাঁড়ালেন। এরপর বললেন, তোমার গোত্রকে মোবারাকবাদ। তাঁরা তো আমার খুব নিকটের মানুষ। এরপর তিনি ফিরে এসে আস্তাবলে বাঁধা উটের থেকে একটি মোটা তাজা উট এনে দুই বস্তা খাদ্য এবং এর মধ্যে কিছু নগদ অর্থ ও বস্ত্র রেখে এগুলো উটের পিঠে তুলে দিয়ে মহিলার হাতে এর লাগাম দিয়ে বললেন, তুমি এটি টেনে নিয়ে যাও। এগুলো শেষ হওয়ার আগেই হয়তো আল্লাহ তোমাদের জন্য এর চেয়ে উত্তম কিছু দান করবেন। তখন এক ব্যক্তি বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনি তাকে খুব অধিক দিলেন। ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক।১ আল্লাহর কসম! আমি দেখেছি এ মহিলার আববা ও ভাই দীর্ঘদিন পর্যন্ত একটি দূর্গ অবরোধ করে রেখেছিলেন এবং পরে তা জয় করেছিলেন। এরপর ঐ দূর্গ থেকে প্রাপ্ত তাদের অংশ থেকে আমরাও যুদ্ধলব্ধ সম্পদের দাবী করি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৪৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৪৯)









সহীহুল বুখারী (4162)


مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ حَدَّثَنَا شَبَابَةُ بْنُ سَوَّارٍ أَبُوْ عَمْرٍو الْفَزَارِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِيْهِ قَالَ لَقَدْ رَأَيْتُ الشَّجَرَةَ ثُمَّ أَتَيْتُهَا بَعْدُ فَلَمْ أَعْرِفْهَا. قَالَ مَحْمُوْدٌ : ثم أنسيتها بعد




মুসাইয়্যাব (ইবনু হুয্‌ন) (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, (যেটির নীচে বাই’আত করা হয়েছিল) আমি সে গাছটি দেখেছিলাম। কিন্তু পরে যখন ওখানে আসলাম তখন আর সেটা চিনতে পারলাম না। মাহমুদ (রাহিঃ) বলেন, (মুসাইয়্যাব ইবনু হুয্‌ন বলেছেন) পরে ওটা আমাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। [৪১৬৩, ৪১৬৪, ৪১৬৫; মুসলিম ৩৩/১৮, হাঃ ১৮৫৯] (আধুনিক প্রকাশনী ৩৮৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৫০)









সহীহুল বুখারী (4163)


مَحْمُوْدٌ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ عَنْ إِسْرَائِيْلَ عَنْ طَارِقِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ انْطَلَقْتُ حَاجًّا فَمَرَرْتُ بِقَوْمٍ يُصَلُّوْنَ قُلْتُ مَا هَذَا الْمَسْجِدُ قَالُوْا هَذِهِ الشَّجَرَةُ حَيْثُ بَايَعَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بَيْعَةَ الرِّضْوَانِ فَأَتَيْتُ سَعِيْدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ سَعِيْدٌ حَدَّثَنِيْ أَبِيْ أَنَّهُ كَانَ فِيْمَنْ بَايَعَ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم تَحْتَ الشَّجَرَةِ قَالَ فَلَمَّا خَرَجْنَا مِنَ الْعَامِ الْمُقْبِلِ نَسِيْنَاهَا فَلَمْ نَقْدِرْ عَلَيْهَا فَقَالَ سَعِيْدٌ إِنَّ أَصْحَابَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَعْلَمُوْهَا وَعَلِمْتُمُوْهَا أَنْتُمْ فَأَنْتُمْ أَعْلَمُ.




তারিক ইবনু ‘আবদুর রহমান (রাহিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হাজ্জে রওয়ানা হয়েছিলাম। পথে সালাতরত এক কাওমের নিকট দিয়ে পথ অতিক্রমকালে তাদেরকে বললাম, এটা কেমন সালাতের স্থান? তাঁরা বললেন, এটা হলো সেই গাছ যেখানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাই’আতে রিদওয়ান গ্রহণ করেছিলেন। তখন আমি সা’ঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব (রাহিঃ)-এর কাছে গিয়ে এ ব্যাপারে তাঁকে জানালাম। তখন সা’ঈদ (ইবনু মুসাইয়্যাব) (রাহিঃ) বললেন, আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, গাছটির নীচে যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাতে বাই’আত গ্রহণ করেছিলেন তিনি ছিলেন তাঁদের মধ্যে একজন। মুসাইয়্যাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, পরের বছর আমরা যখন সেখানে গেলাম তখন আমাদেরকে ওটা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছিল যার ফলে তা নির্দিষ্ট করতে পারলাম না। সা’ঈদ (রাহিঃ) বললেন, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর সাহাবীগণ ওটা চিনতে পারলেন না আর তোমরা তা চিনে ফেললে? তাহলে তোমরাই দেখছি অধিক জান! [৪১৬২] (আধুনিক প্রকাশনী ৩৮৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৫১)