হাদীস বিএন


সহীহুল বুখারী





সহীহুল বুখারী (3621)


فَأَخْبَرَنِيْ أَبُوْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ بَيْنَمَا أَنَا نَائِمٌ رَأَيْتُ فِيْ يَدَيَّ سِوَارَيْنِ مِنْ ذَهَبٍ فَأَهَمَّنِيْ شَأْنُهُمَا فَأُوْحِيَ إِلَيَّ فِي الْمَنَامِ أَنْ انْفُخْهُمَا فَنَفَخْتُهُمَا فَطَارَا فَأَوَّلْتُهُمَا كَذَّابَيْنِ يَخْرُجَانِ بَعْدِيْ فَكَانَ أَحَدُهُمَا الْعَنْسِيَّ وَالْآخَرُ مُسَيْلِمَةَ الْكَذَّابَ صَاحِبَ الْيَمَامَةِ




আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, (ইব্‌ন ‘আব্বাস (রাহিঃ)...বলেন, ) আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে জানিয়েছেন, আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। স্বপ্নে দেখতে পেলাম আমার দু’হাতে সোনার দু’টি বালা। বালা দু’টি আমাকে চিন্তায় ফেলল। স্বপ্নেই আমার নিকট অহী এল, আপনি ফুঁ দিন। আমি তাই করলাম। বালা দু’টি উড়ে অদৃশ্য হয়ে গেল। আমি স্বপ্নের ব্যাখ্যা এভাবে করলাম, আমার পর দু’জন কায্যাব বের হবে। এদের একজন আনসী, অপরজন ইয়ামামাহবাসী মুসায়লামাতুল কাজ্জাব।









সহীহুল বুখারী (3622)


حَدَّثَنِيْ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ أُسَامَةَ عَنْ بُرَيْدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِيْ بُرْدَةَ عَنْ جَدِّهِ أَبِيْ بُرْدَةَ عَنْ أَبِيْ مُوْسَى أُرَاهُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ رَأَيْتُ فِي الْمَنَامِ أَنِّيْ أُهَاجِرُ مِنْ مَكَّةَ إِلَى أَرْضٍ بِهَا نَخْلٌ فَذَهَبَ وَهَلِيْ إِلَى أَنَّهَا الْيَمَامَةُ أَوْ هَجَرُ فَإِذَا هِيَ الْمَدِيْنَةُ يَثْرِبُ وَرَأَيْتُ فِيْ رُؤْيَايَ هَذِهِ أَنِّيْ هَزَزْتُ سَيْفًا فَانْقَطَعَ صَدْرُهُ فَإِذَا هُوَ مَا أُصِيْبَ مِنْ الْمُؤْمِنِيْنَ يَوْمَ أُحُدٍ ثُمَّ هَزَزْتُهُ بِأُخْرَى فَعَادَ أَحْسَنَ مَا كَانَ فَإِذَا هُوَ مَا جَاءَ اللهُ بِهِ مِنْ الْفَتْحِ وَاجْتِمَاعِ الْمُؤْمِنِيْنَ وَرَأَيْتُ فِيْهَا بَقَرًا وَاللهُ خَيْرٌ فَإِذَا هُمْ الْمُؤْمِنُوْنَ يَوْمَ أُحُدٍ وَإِذَا الْخَيْرُ مَا جَاءَ اللهُ بِهِ مِنْ الْخَيْرِ وَثَوَابِ الصِّدْقِ الَّذِيْ آتَانَا اللهُ بَعْدَ يَوْمِ بَدْرٍ




আবূ মূসা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আমি স্বপ্নে দেখতে পেলাম, আমি মক্কা হতে হিজরত করে এমন জায়গায় যাচ্ছি যেখানে বহু খেজুর গাছ রয়েছে। তখন আমার ধারণা হল, এ স্থানটি ইয়ামামা অথবা হাযর হবে। স্থানটি মদীনা ছিল। যার পূর্বনাম ইয়াস্রিব। স্বপ্নে আমি আরো দেখতে পেলাম যে আমি একটি তলোয়ার হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করছি। হঠাৎ তার অগ্রাংশ ভেঙ্গে গেল। উহুদ যুদ্ধে মুসলিমদের যে বিপদ ঘটেছিল এটা তা-ই। অতঃপর দ্বিতীয় বার তলোয়ারটি হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করলাম তখন সেটি আগের চেয়েও আরো উত্তম হয়ে গেল। এটা হল যে, আল্লাহ্ মুসলিমগণকে বিজয়ী ও একত্রিত করে দিবেন। আমি স্বপ্নে আরো দেখতে পেলাম, একটি গরু (যবহ হচ্ছে) এবং শুনতে পেলাম আল্লাহ্ যা করেন সবই ভাল। এটাই হল উহুদ যুদ্ধে মুসলিমদের শাহাদাত বরণ। আর খায়ের হল- আল্লাহ্‌র পক্ষ হতে ঐ সকল কল্যাণই কল্যাণ এবং সত্যবাদিতার পুরস্কার যা আল্লাহ্ আমাদেরকে বাদার দিবসের পর দান করেছেন।









সহীহুল বুখারী (3623)


حَدَّثَنَا أَبُوْ نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ عَنْ فِرَاسٍ عَنْ عَامِرٍ الشَّعْبِيِّ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ أَقْبَلَتْ فَاطِمَةُ تَمْشِيْ كَأَنَّ مِشْيَتَهَا مَشْيُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ النَّبِيُّ مَرْحَبًا بِابْنَتِيْ ثُمَّ أَجْلَسَهَا عَنْ يَمِيْنِهِ أَوْ عَنْ شِمَالِهِ ثُمَّ أَسَرَّ إِلَيْهَا حَدِيْثًا فَبَكَتْ فَقُلْتُ لَهَا لِمَ تَبْكِيْنَ ثُمَّ أَسَرَّ إِلَيْهَا حَدِيْثًا فَضَحِكَتْ فَقُلْتُ مَا رَأَيْتُ كَالْيَوْمِ فَرَحًا أَقْرَبَ مِنْ حُزْنٍ فَسَأَلْتُهَا عَمَّا قَالَ فَقَالَتْ مَا كُنْتُ لِأُفْشِيَ سِرَّ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى قُبِضَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلْتُهَا




‘আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর চলার ভঙ্গিতে চলতে চলতে ফাতিমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাদের নিকট আগমন করলেন। তাঁকে দেখে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমার স্নেহের কন্যাকে মোবারাকবাদ। অতঃপর তাঁকে তার ডানপাশে বা বামপাশে বসালেন এবং তাঁর সঙ্গে চুপিচুপি কথা বললেন। তখন ফাতিমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কেঁদে দিলেন। আমি [‘আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁকে বললাম] কাঁদছেন কেন? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পুনরায় চুপিচুপি তার সঙ্গে কথা বললেন। ফাতিমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এবার হেসে উঠলেন। আমি [‘আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললাম, আজকের মত দুঃখ ও বেদনার সঙ্গে সঙ্গে আনন্দ ও খুশী আমি আর কখনো দেখিনি। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কী বলেছিলেন? তিনি উত্তর দিলেন, আমি আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর গোপন কথাকে প্রকাশ করব না। শেষে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর ইন্তেকাল হয়ে যাবার পর আমি তাঁকে (আবার) জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কী বলেছিলেন?









সহীহুল বুখারী (3624)


فَقَالَتْ أَسَرَّ إِلَيَّ إِنَّ جِبْرِيْلَ كَانَ يُعَارِضُنِي الْقُرْآنَ كُلَّ سَنَةٍ مَرَّةً وَإِنَّهُ عَارَضَنِي الْعَامَ مَرَّتَيْنِ وَلَا أُرَاهُ إِلَّا حَضَرَ أَجَلِيْ وَإِنَّكِ أَوَّلُ أَهْلِ بَيْتِيْ لَحَاقًا بِيْ فَبَكَيْتُ فَقَالَ أَمَا تَرْضَيْنَ أَنْ تَكُوْنِيْ سَيِّدَةَ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ أَوْ نِسَاءِ الْمُؤْمِنِيْنَ فَضَحِكْتُ لِذَلِكَ




‘আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বললেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রথম বার আমাকে বলেছিলেন, জিব্রাঈল (আঃ) প্রতি বছর একবার আমার সঙ্গে কুরআন পাঠ করতেন, এ বছর দু’বার পড়ে শুনিয়েছেন। আমার মনে হয় আমার বিদায় বেলা উপস্থিত এবং অতঃপর আমার পরিবারের মধ্যে তুমিই সর্বপ্রথম আমার সঙ্গে মিলিত হবে। তা শুনে আমি কেঁদে দিলাম। অতঃপর বলেছিলেন, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, জান্নাতবাসী নারীদের অথবা মু’মিন নারীদের তুমি সরদার হবে। এ কথা শুনে আমি হেসেছিলাম।









সহীহুল বুখারী (3625)


حَدَّثَنِيْ يَحْيَى بْنُ قَزَعَةَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيْمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ دَعَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَاطِمَةَ ابْنَتَهُ فِيْ شَكْوَاهُ الَّذِيْ قُبِضَ فِيْهِ فَسَارَّهَا بِشَيْءٍ فَبَكَتْ ثُمَّ دَعَاهَا فَسَارَّهَا فَضَحِكَتْ قَالَتْ فَسَأَلْتُهَا عَنْ ذَلِكَ




‘আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অন্তিম পীড়িতাবস্থায় তাঁর কন্যা ফাতিমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) -কে ডেকে পাঠালেন। অতঃপর চুপিচুপি কী যেন বললেন। ফাতিমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তা শুনে কেঁদে ফেললেন। অতঃপর আবার ডেকে তাঁকে চুপিচুপি আরো কী যেন বললেন। এতে ফাতিমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হেসে উঠলেন। ‘আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি হাসি-কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলাম।









সহীহুল বুখারী (3626)


فَقَالَتْ سَارَّنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَنِيْ أَنَّهُ يُقْبَضُ فِيْ وَجَعِهِ الَّذِيْ تُوُفِّيَ فِيْهِ فَبَكَيْتُ ثُمَّ سَارَّنِيْ فَأَخْبَرَنِيْ أَنِّيْ أَوَّلُ أَهْلِ بَيْتِهِ أَتْبَعُهُ فَضَحِكْتُ




‘আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বললেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে চুপে চুপে বলেছিলেন, যে রোগে তিনি রোগাক্রান্ত হয়েছেন এ রোগেই তাঁর মৃত্যু হবে; তাই আমি কেঁদে দিয়েছিলাম। অতঃপত তিনি চুপিচুপি আমাকে বলেছিলেন, তাঁর পরিবার-পরিজনের মধ্যে সর্বপ্রথম আমিই তাঁর সঙ্গে মিলিত হব, এতে আমি হাসলাম।









সহীহুল বুখারী (3627)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَرْعَرَةَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِيْ بِشْرٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يُدْنِيْ ابْنَ عَبَّاسٍ فَقَالَ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ إِنَّ لَنَا أَبْنَاءً مِثْلَهُ فَقَالَ إِنَّهُ مِنْ حَيْثُ تَعْلَمُ فَسَأَلَ عُمَرُ ابْنَ عَبَّاسٍ عَنْ هَذِهِ الْآيَةِ إِذَا جَآءَ نَصْرُ اللهِ وَالْفَتْحُ (النصر :1) فَقَالَ أَجَلُ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَعْلَمَهُ إِيَّاهُ قَالَ مَا أَعْلَمُ مِنْهَا إِلَّا مَا تَعْلَمُ




ইব্ন ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘উমর ইব্‌ন খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ইব্‌ন ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) -কে বিশেষ মর্যাদা দান করতেন। একদা ‘আবদুর রাহমান ইব্‌ন আউফ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁকে বললেন, তাঁর মত ছেলে আমাদেরও আছে। এতে তিনি বললেন, এর কারণ তো আপনি নিজেও জানেন। তখন ‘উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ইব্‌ন ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) -কে ডেকে (আরবী) আয়াতের ব্যাখ্যা জিজ্ঞেস করেন। ইব্‌ন ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) উত্তর দিলেন, এ আয়াতে আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে তাঁর মৃত্যু সন্নিকট বলে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। ‘উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, এ আয়াতের অর্থ তুমি যা জান তা ছাড়া ভিন্ন কিছু আমি জানি না।









সহীহুল বুখারী (3628)


حَدَّثَنَا أَبُوْ نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ حَنْظَلَةَ بْنِ الْغَسِيْلِ حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ خَرَجَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِيْ مَرَضِهِ الَّذِيْ مَاتَ فِيْهِ بِمِلْحَفَةٍ قَدْ عَصَّبَ بِعِصَابَةٍ دَسْمَاءَ حَتَّى جَلَسَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَحَمِدَ اللهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ النَّاسَ يَكْثُرُوْنَ وَيَقِلُّ الأَنْصَارُ حَتَّى يَكُوْنُوْا فِي النَّاسِ بِمَنْزِلَةِ الْمِلْحِ فِي الطَّعَامِ فَمَنْ وَلِيَ مِنْكُمْ شَيْئًا يَضُرُّ فِيْهِ قَوْمًا وَيَنْفَعُ فِيْهِ آخَرِيْنَ فَلْيَقْبَلْ مِنْ مُحْسِنِهِمْ وَيَتَجَاوَزْ عَنْ مُسِيئِهِمْ فَكَانَ آخِرَ مَجْلِسٍ جَلَسَ بِهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم




ইব্ন ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শেষ রোগে আক্রান্ত হবার পর একটি চাদর পরে মাথায় একটি কাল কাপড় দিয়ে পট্টি বেঁধে ঘর হতে বের হয়ে মিম্বরের উপর গিয়ে বসলেন। আল্লাহ্ তা’আলার হামদ ও সানা পাঠ করার পর বললেন, আম্মা বাদ। লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকবে, আর আনসারদের সংখ্যা হ্রাস পেতে থাকবে। অবশেষে তাঁদের অবস্থা লোকের মাঝে যেমন খাদ্যের মধ্যে লবণের মত হবে। তখন তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তির মানুষের উপকার বা ক্ষতি করার ক্ষমতা থাকবে সে যেন আনসারদের ভাল কাজ গ্রহণ করে এবং তাদের ভুল-ক্রুটি ক্ষমা করে। এটাই ছিল নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সর্বশেষ মজলিস যা তিনি করেছিলেন।









সহীহুল বুখারী (3629)


حَدَّثَنِيْ عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْجُعْفِيُّ عَنْ أَبِيْ مُوْسَى عَنْ الْحَسَنِ عَنْ أَبِيْ بَكْرَةَ أَخْرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ الْحَسَنَ فَصَعِدَ بِهِ عَلَى الْمِنْبَرِ فَقَالَ ابْنِيْ هَذَا سَيِّدٌ وَلَعَلَّ اللهَ أَنْ يُصْلِحَ بِهِ بَيْنَ فِئَتَيْنِ مِنْ الْمُسْلِمِيْنَ




আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা হাসান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) -কে নিয়ে বেরিয়ে এলেন এবং তাঁকে সহ মিম্বারে আরোহণ করলেন। অতঃপর বললেন, আমার এ ছেলেটি সরদার। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা’আলা এর মাধ্যমে বিবাদমান দু’দল মুসলমানের মধ্যে সমঝোতা করিয়ে দিবেন।









সহীহুল বুখারী (3630)


حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوْبَ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلَالٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَعَى جَعْفَرًا وَزَيْدًا قَبْلَ أَنْ يَجِيءَ خَبَرُهُمْ وَعَيْنَاهُ تَذْرِفَانِ




আনাস ইব্ন মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জা’ফর এবং যায়দ [ইব্‌ন হারিস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] -এর শাহাদাত অর্জনের সংবাদ জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাদের উভয়ের শাহাদাত অর্জনের সংবাদ আসার পূর্বেই। তখন তাঁর দু’চোখ হতে অশ্রু ঝরছিল।









সহীহুল বুখারী (3631)


حَدَّثَنِيْ عَمْرُوْ بْنُ عَبَّاسٍ حَدَّثَنَا ابْنُ مَهْدِيٍّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم هَلْ لَكُمْ مِنْ أَنْمَاطٍ قُلْتُ وَأَنَّى يَكُوْنُ لَنَا الأَنْمَاطُ قَالَ أَمَا إِنَّهُ سَيَكُوْنُ لَكُمْ الأَنْمَاطُ فَأَنَا أَقُوْلُ لَهَا يَعْنِيْ امْرَأَتَهُ أَخِّرِيْ عَنِّيْ أَنْمَاطَكِ فَتَقُوْلُ أَلَمْ يَقُلْ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِنَّهَا سَتَكُوْنُ لَكُمْ الأَنْمَاطُ فَأَدَعُهَا




জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের নিকট আনমাত (গালিচার কার্পেট) আছে কি? আমি বললাম আমরা তা পাব কোথায়? তিনি বললেন, শীঘ্রই তোমরা আনমাত লাভ করবে। তখন আমি আমার স্ত্রীকে বলি, আমার বিছানা হতে এটা সরিয়ে দাও। তখন সে বলল, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি বলেননি যে, শীঘ্রই তোমরা আনমাত পেয়ে যাবে? তখন আমি তা রাখতে দেই।









সহীহুল বুখারী (3632)


حَدَّثَنِيْ أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُوْسَى حَدَّثَنَا إِسْرَائِيْلُ عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ انْطَلَقَ سَعْدُ بْنُ مُعَاذٍ مُعْتَمِرًا قَالَ فَنَزَلَ عَلَى أُمَيَّةَ بْنِ خَلَفٍ أَبِيْ صَفْوَانَ وَكَانَ أُمَيَّةُ إِذَا انْطَلَقَ إِلَى الشَّأْمِ فَمَرَّ بِالْمَدِيْنَةِ نَزَلَ عَلَى سَعْدٍ فَقَالَ أُمَيَّةُ لِسَعْدٍ انْتَظِرْ حَتَّى إِذَا انْتَصَفَ النَّهَارُ وَغَفَلَ النَّاسُ انْطَلَقْتُ فَطُفْتُ فَبَيْنَا سَعْدٌ يَطُوفُ إِذَا أَبُوْ جَهْلٍ فَقَالَ مَنْ هَذَا الَّذِيْ يَطُوفُ بِالْكَعْبَةِ فَقَالَ سَعْدٌ أَنَا سَعْدٌ فَقَالَ أَبُوْ جَهْلٍ تَطُوفُ بِالْكَعْبَةِ آمِنًا وَقَدْ آوَيْتُمْ مُحَمَّدًا وَأَصْحَابَهُ فَقَالَ نَعَمْ فَتَلَاحَيَا بَيْنَهُمَا فَقَالَ أُمَيَّةُ لسَعْدٍ لَا تَرْفَعْ صَوْتَكَ عَلَى أَبِي الْحَكَمِ فَإِنَّهُ سَيِّدُ أَهْلِ الْوَادِيْ ثُمَّ قَالَ سَعْدٌ وَاللهِ لَئِنْ مَنَعْتَنِيْ أَنْ أَطُوفَ بِالْبَيْتِ لَاقْطَعَنَّ مَتْجَرَكَ بِالشَّامِ قَالَ فَجَعَلَ أُمَيَّةُ يَقُوْلُ لِسَعْدٍ لَا تَرْفَعْ صَوْتَكَ وَجَعَلَ يُمْسِكُهُ فَغَضِبَ سَعْدٌ فَقَالَ دَعْنَا عَنْكَ فَإِنِّيْ سَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَزْعُمُ أَنَّهُ قَاتِلُكَ قَالَ إِيَّايَ قَالَ نَعَمْ قَالَ وَاللهِ مَا يَكْذِبُ مُحَمَّدٌ إِذَا حَدَّثَ فَرَجَعَ إِلَى امْرَأَتِهِ فَقَالَ أَمَا تَعْلَمِيْنَ مَا قَالَ لِيْ أَخِي الْيَثْرِبِيُّ قَالَتْ وَمَا قَالَ قَالَ زَعَمَ أَنَّه سَمِعَ مُحَمَّدًا يَزْعُمُ أَنَّهُ قَاتِلِيْ قَالَتْ فَوَاللهِ مَا يَكْذِبُ مُحَمَّدٌ قَالَ فَلَمَّا خَرَجُوْا إِلَى بَدْرٍ وَجَاءَ الصَّرِيْخُ قَالَتْ لَهُ امْرَأَتُهُ أَمَا ذَكَرْتَ مَا قَالَ لَكَ أَخُوكَ الْيَثْرِبِيُّ قَالَ فَأَرَادَ أَنْ لَا يَخْرُجَ فَقَالَ لَهُ أَبُوْ جَهْلٍ إِنَّكَ مِنْ أَشْرَافِ الْوَادِيْ فَسِرْ يَوْمًا أَوْ يَوْمَيْنِ فَسَارَ مَعَهُمْ فَقَتَلَهُ اللهُ




আবদুল্লাহ্ ইব্ন মাস’উদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সা’দ ইব্‌ন মু’আয (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ‘উমরাহ আদায় করার জন্য গেলেন এবং সাফওয়ানের পিতা উমাইয়াহ ইব্‌ন খালাফ এর বাড়িতে তিনি অতিথি হলেন। উমাইয়াহ ও সিরিয়া গমনকালে (মদীনায়) সা’দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) -এর বাড়িতে অবস্থান করত। উমাইয়াহ সা’দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) -কে বলল, অপেক্ষা করুন, যখন দুপুর হবে এবং যখন চলাফেরা কমে যাবে, তখন আপনি গিয়ে তাওয়াফ করে নিবেন। সা’দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাওয়াফ করছিলেন। এমতাবস্থায় আবূ জাহাল এসে হাজির হল। সা’দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) -কে দেখে জিজ্ঞেস করল, এ ব্যক্তি কে যে কা’বার তাওয়াফ করছে সা’দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আমি সা’দ। আবূ জাহাল বলল, তুমি নির্বিঘ্নে কা’বার তাওয়াফ করছ? অথচ তোমরাই মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাথীদেরকে আশ্রয় দিয়েছ? সা’দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, হ্যাঁ। এভাবে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হল। তখন উমাইয়াহ সা’দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) -কে বলল, আবুল হাকামের সঙ্গে উচ্চঃস্বরে কথা বল না, কারণ সে মক্কাবাসীদের নেতা। অতঃপর সা’দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আল্লাহ্‌র কসম! তুমি যদি আমাকে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতে বাধা প্রদান কর, তবে আমিও তোমার সিরিয়ার সঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্যের রাস্তা বন্ধ করে দিব। উমাইয়াহ সা’দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) -কে তখন বলতে লাগল, তোমার স্বর উঁচু করো না এবং সে তাঁকে বিরত করতে চেষ্টা করতে লাগল। তখন সা’দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ক্রোধান্বিত হয়ে বললেন, আমাকে ছেড়ে দাও। আমি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছি, তারা তোমাকে হত্যা করবে। উমাইয়াহ বলল আমাকেই? তিনি বললেন হ্যাঁ। উমাইয়াহ বলল, আল্লাহ্‌র কসম মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনও মিথ্যা কথা বলেন না। অতঃপর উমাইয়া তার স্ত্রীর নিকট ফিরে এসে বলল, তুমি কি জান, আমার ইয়াসরিবী ভাই আমাকে কী বলেছে? স্ত্রী জিজ্ঞেস করল কী বলেছে? উমাইয়াহ বলল, সে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছে যে, তারা আমাকে হত্যা করবে। তার স্ত্রী বলল, আল্লাহ্‌র কসম, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিথ্যা বলেন না। যখন মক্কার মুশরিকরা বদরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হল এবং আহবানকারী আহবান জানাল। তখন উমাইয়াহর স্ত্রী তাকে স্মরণ করিয়ে দিল, তোমার ইয়াসরিবী ভাই তোমাকে যে কথা বলছিল সে কথা তোমার মনে নেই? তখন উমাইয়া না যাওয়ারই সিদ্ধান্ত নিল। আবূ জাহল তাকে বলল, তুমি এ অঞ্চলের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা। আমাদের সঙ্গে দুইএকদিনের পথ চল। উমাইয়াহ তাদের সঙ্গে চলল। আল্লাহ্ তা’আলার ইচ্ছায় সে নিহত হল।









সহীহুল বুখারী (3633)


حَدَّثَنِيْ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْمُغِيْرَةِ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ مُوْسَى بْنِ عُقْبَةَ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَنْ عَبْدِ اللهِ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ رَأَيْتُ النَّاسَ مُجْتَمِعِيْنَ فِيْ صَعِيْدٍ فَقَامَ أَبُوْ بَكْرٍ فَنَزَعَ ذَنُوْبًا أَوْ ذَنُوْبَيْنِ وَفِيْ بَعْضِ نَزْعِهِ ضَعْفٌ وَاللهُ يَغْفِرُ لَهُ ثُمَّ أَخَذَهَا عُمَرُ فَاسْتَحَالَتْ بِيَدِهِ غَرْبًا فَلَمْ أَرَ عَبْقَرِيًّا فِي النَّاسِ يَفْرِيْ فَرِيَّهُ حَتَّى ضَرَبَ النَّاسُ بِعَطَنٍ وَقَالَ هَمَّامٌ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَنَزَعَ أَبُوْ بَكْرٍ ذَنُوْبًا أَوْ ذَنُوْبَيْنِ




আবদুল্লাহ্ (ইব্ন ‘উমর) (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, একদা (স্বপ্নে) লোকজনকে একটি মাঠে সমবেত দেখতে পেলাম। তখন আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) উঠে দাঁড়ালেন এবং এক অথবা দুই বালতি পানি উঠালেন। পানি উঠাতে তিনি দুর্বলতা বোধ করছিলেন। আল্লাহ্ তাঁকে ক্ষমা করুন। অতঃপর ‘উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বালতিটি হাতে নিলেন। বালতিটি তখন বড় আকার ধারণ করল। আমি মানুষের মধ্যে পানি উঠাতে ‘উমারের মত সুদক্ষ ও শক্তিশালী ব্যক্তি আর দেখিনি। শেষে উপস্থিত লোক তাদের উটগুলোকে পানি পান করিয়ে উটশালে নিয়ে গেল। হাম্মাম (রাহিঃ) বলেন, আমি আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) -কে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করতে শুনেছি আবূ বক্‌র দু’বালতি পানি উঠালেন।









সহীহুল বুখারী (3634)


حَدَّثَنِيْ عَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيْدِ النَّرْسِيُّ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ قَالَ سَمِعْتُ أَبِيْ حَدَّثَنَا أَبُوْ عُثْمَانَ قَالَ أُنْبِئْتُ أَنَّ جِبْرِيْلَ عَلَيْهِ السَّلَام أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَعِنْدَهُ أُمُّ سَلَمَةَ فَجَعَلَ يُحَدِّثُ ثُمَّ قَامَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِأُمِّ سَلَمَةَ مَنْ هَذَا أَوْ كَمَا قَالَ قَالَ قَالَتْ هَذَا دِحْيَةُ قَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ ايْمُ اللهِ مَا حَسِبْتُهُ إِلَّا إِيَّاهُ حَتَّى سَمِعْتُ خُطْبَةَ نَبِيِّ اللهِ يُخْبِرُ جِبْرِيْلَ أَوْ كَمَا قَالَ قَالَ فَقُلْتُ لِأَبِيْ عُثْمَانَ مِمَّنْ سَمِعْتَ هَذَا قَالَ مِنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ




আবূ ‘উসমান (রাহিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে জানানো হল যে, একবার জিব্রাঈল (আঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট আসলেন। তখন উম্মু সালামা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর নিকট ছিলেন। তিনি এসে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করলেন। অতঃপর উঠে গেলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উম্মু সালামা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) -কে জিজ্ঞেস করলেন, লোকটিকে চিনতে পেরেছ কি? তিনি বললেন, এতো দেহ্ইয়া। উম্মু সালামা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আল্লাহর কসম! আমি দেহ্ইয়া বলেই বিশ্বাস করেছিলাম কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে তাঁর খুতবায় জিব্রাঈল (আঃ) -এর আগমনের কথা বলতে শুনলাম। [সুলায়মান (রাবী) বলেন, আমি আবূ ‘উসমানকে জিজ্ঞেস করলাম এ হাদীসটি আপনি কার নিকট শুনেছেন? তিনি বললেন, উসামাহ ইব্‌ন যায়দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) -এর নিকট শুনেছি।









সহীহুল বুখারী (3635)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوْسُفَ أَخْبَرَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ الْيَهُوْدَ جَاءُوْا إِلَى رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرُوْا لَهُ أَنَّ رَجُلًا مِنْهُمْ وَامْرَأَةً زَنَيَا فَقَالَ لَهُمْ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَا تَجِدُوْنَ فِي التَّوْرَاةِ فِيْ شَأْنِ الرَّجْمِ فَقَالُوْا نَفْضَحُهُمْ وَيُجْلَدُوْنَ فَقَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ سَلَامٍ كَذَبْتُمْ إِنَّ فِيْهَا الرَّجْمَ فَأَتَوْا بِالتَّوْرَاةِ فَنَشَرُوْهَا فَوَضَعَ أَحَدُهُمْ يَدَهُ عَلَى آيَةِ الرَّجْمِ فَقَرَأَ مَا قَبْلَهَا وَمَا بَعْدَهَا فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللهِ بْنُ سَلَامٍ ارْفَعْ يَدَكَ فَرَفَعَ يَدَهُ فَإِذَا فِيْهَا آيَةُ الرَّجْمِ فَقَالُوْا صَدَقَ يَا مُحَمَّدُ فِيْهَا آيَةُ الرَّجْمِ فَأَمَرَ بِهِمَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَرُجِمَا قَالَ عَبْدُ اللهِ فَرَأَيْتُ الرَّجُلَ يَجْنَأُ عَلَى الْمَرْأَةِ يَقِيْهَا الْحِجَارَةَ




আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন ‘উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, ইয়াহুদীরা আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর খিদমতে এসে বলল, তাদের একজন পুরুষ ও একজন মহিলা ব্যভিচার করেছে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যা করা সম্পর্কে তাওরাতে কী বিধান পেয়েছ? তারা বলল, আমরা এদেরকে অপমানিত করব এবং তাদের বেত্রাঘাত করা হবে। ‘আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সালাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, তোমরা মিথ্যা বলছ। তাওরাতে প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যার বিধান রয়েছে। তারা তাওরাত নিয়ে এসে বাহির করল এবং প্রস্তর হত্যা করা সম্পর্কীয় আয়াতের উপর হাত রেখে তার আগের ও পরের আয়াতগুলি পাঠ করল। ‘আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সালাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, তোমরা হাত সরাও। সে হাত সরাল। তখন দেখা গেল প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যা করার আয়াত আছে। তখন ইয়াহুদীরা বলল, হে মুহাম্মাদ! তিনি সত্যই বলছেন। তাওরাতে প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যার আয়াতই আছে। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রস্তর নিক্ষেপে দু’জনকে হত্যা করার নির্দেশ দিলেন। ‘আবদুল্লাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি ঐ পুরুষটিকে মেয়েটির দিকে ঝুঁকে পড়তে দেখেছি। সে মেয়েটিকে বাচাঁনোর চেষ্টা করছিল। (১৩২৯, মুসলিম ২৯/৬, হাঃ ১৬৯৯, আহমাদ ৪৪৯৮) (আধুনিক প্রকাশনী ৩৩৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৩৭১)









সহীহুল বুখারী (3636)


حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ الْفَضْلِ أَخْبَرَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ ابْنِ أَبِيْ نَجِيْحٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ أَبِيْ مَعْمَرٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ انْشَقَّ الْقَمَرُ عَلَى عَهْدِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم شِقَّتَيْنِ فَقَالَ النَّبِيُّ اشْهَدُوْا




আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন মাস’উদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর যুগে চাঁদ দ্বিখন্ডিত হয়েছিল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমরা সাক্ষী থাক। (৩৮৬৯, ৩৮৭১, ৪৮৬৪, ৪৮৬৫, মুসলিম ৫০/৮, হাঃ ২৮০০, আহমাদ ৩৫৮৩) (আধুনিক প্রকাশনী ৩৩৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৩৭২)









সহীহুল বুখারী (3637)


حَدَّثَنِيْ عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا يُونُسُ حَدَّثَنَا شَيْبَانُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ح و قَالَ لِيْ خَلِيْفَةُ حَدَّثَنَا يَزِيْدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا سَعِيْدٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّهُ حَدَّثَهُمْ أَنَّ أَهْلَ مَكَّةَ سَأَلُوْا رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُرِيَهُمْ آيَةً فَأَرَاهُمْ انْشِقَاقَ الْقَمَرِ




আনাস (ইব্‌ন মালিক) (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, মক্কাবাসী কাফিররা আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট নির্দশন দেখানোর জন্য বললে তিনি তাদেরকে চাঁদ দু’ভাগ করে দেখালেন। (৩৮৬৮, ৪৮৬৭, ৪৮৬৮, মুসলিম ৫০/৮, হাঃ ২৮০২) (আধুনিক প্রকাশনী ৩৩৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৩৭৩)









সহীহুল বুখারী (3638)


حَدَّثَنِيْ خَلَفُ بْنُ خَالِدٍ الْقُرَشِيُّ حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ مُضَرَ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ رَبِيْعَةَ عَنْ عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ الْقَمَرَ انْشَقَّ فِيْ زَمَانِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم




ইব্‌ন ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর যুগে চাদঁ দু’খন্ড হয়েছিল। (৩৮৭০, ৪৮৬৬, মুসলিম ৫০/৮, হাঃ ২৮০৩) (আধুনিক প্রকাশনী ৩৩৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৩৭৪)









সহীহুল বুখারী (3639)


بَاب حَدَّثَنِيْ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا مُعَاذٌ قَالَ حَدَّثَنِيْ أَبِيْ عَنْ قَتَادَةَ حَدَّثَنَا أَنَسٌ أَنَّ رَجُلَيْنِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم خَرَجَا مِنْ عِنْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِيْ لَيْلَةٍ مُظْلِمَةٍ وَمَعَهُمَا مِثْلُ الْمِصْبَاحَيْنِ يُضِيئَانِ بَيْنَ أَيْدِيْهِمَا فَلَمَّا افْتَرَقَا صَارَ مَعَ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا وَاحِدٌ حَتَّى أَتَى أَهْلَهُ




আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর দু’জন সহাবী অন্ধকার রাতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট হতে বের হলেন, তখন তাদের সঙ্গে দু’টি বাতির মত কিছু তাদের সম্মুখ ভাগ আলোকিত করে চলল। যখন তাঁরা আলাদা হয়ে গেলেন তখন প্রত্যেকের সঙ্গে এক একটি বাতি চলতে লাগল। তাঁরা নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছা পর্যন্ত। (৪৬৫) (আধুনিক প্রকাশনী ৩৩৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৩৭৫)









সহীহুল বুখারী (3640)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِي الأَسْوَدِ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ إِسْمَاعِيْلَ حَدَّثَنَا قَيْسٌ سَمِعْتُ الْمُغِيْرَةَ بْنَ شُعْبَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا يَزَالُ نَاسٌ مِنْ أُمَّتِيْ ظَاهِرِيْنَ حَتَّى يَأْتِيَهُمْ أَمْرُ اللهِ وَهُمْ ظَاهِرُوْنَ




মুগীরা ইব্‌ন শু’বাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা বিজয়ী থাকবে। এমনকি যখন ক্বিয়ামত আসবে তখনও তারা বিজয়ী থাকবে। (৭৩১১, ৭৪৫৯, মুসলিম ৩৩/৫৩, হাঃ ১৯২১) (আধুনিক প্রকাশনী ৩৩৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৩৭৬)