হাদীস বিএন


সহীহুল বুখারী





সহীহুল বুখারী (1561)


حَدَّثَنَا عُثْمَانُ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ وَلاَ نُرَى إِلاَّ أَنَّهُ الْحَجُّ فَلَمَّا قَدِمْنَا تَطَوَّفْنَا بِالْبَيْتِ فَأَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَنْ لَمْ يَكُنْ سَاقَ الْهَدْيَ أَنْ يَحِلَّ فَحَلَّ مَنْ لَمْ يَكُنْ سَاقَ الْهَدْيَ وَنِسَاؤُهُ لَمْ يَسُقْنَ فَأَحْلَلْنَ قَالَتْ عَائِشَةُ فَحِضْتُ فَلَمْ أَطُفْ بِالْبَيْتِ فَلَمَّا كَانَتْ لَيْلَةُ الْحَصْبَةِ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَرْجِعُ النَّاسُ بِعُمْرَةٍ وَحَجَّةٍ وَأَرْجِعُ أَنَا بِحَجَّةٍ قَالَ وَمَا طُفْتِ لَيَالِيَ قَدِمْنَا مَكَّةَ قُلْتُ لاَ قَالَ فَاذْهَبِي مَعَ أَخِيكِ إِلَى التَّنْعِيمِ فَأَهِلِّي بِعُمْرَةٍ ثُمَّ مَوْعِدُكِ كَذَا وَكَذَا قَالَتْ صَفِيَّةُ مَا أُرَانِي إِلاَّ حَابِسَتَهُمْ قَالَ عَقْرَى حَلْقَى أَوَ مَا طُفْتِ يَوْمَ النَّحْرِ قَالَتْ قُلْتُ بَلَى قَالَ لاَ بَأْسَ انْفِرِي قَالَتْ عَائِشَةُ فَلَقِيَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مُصْعِدٌ مِنْ مَكَّةَ وَأَنَا مُنْهَبِطَةٌ عَلَيْهَا أَوْ أَنَا مُصْعِدَةٌ وَهُوَ مُنْهَبِطٌ مِنْهَا




‘আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে বের হলাম এবং একে হজ্জের সফর বলেই আমরা জানতাম। আমরা যখন (মক্কায়) পৌঁছে বাইতুল্লাহ-এর তাওয়াফ করলাম তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ দিলেনঃ যারা কুরবানীর পশু সঙ্গে আসেনি তারা যেন ইহ্‌রাম ছেড়ে দেয়। তাই যিনি কুরবানীর পশু সঙ্গে আনেননি তিনি ইহ্‌রাম ছেড়ে দেন। আর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিণীগণ তাঁরা ইহ্‌রাম ছেড়ে দিলেন। ‘আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি ঋতুবতী হয়েছিলাম বিধায় বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতে পারিনি। (ফিরতি পথে) মুহাসসাব নামক স্থানে রাত যাপনকালে আমি বললাম, হে রাসূলুল্লাহ! সকলেই ‘উমরাহ ও হজ্জ উভয়টি সমাধা করে ফিরছে আর আমি কেবল হজ্জ করে ফিরছি। তিনি বললেনঃ আমরা মক্কা পৌঁছলে তুমি কি সে দিনগুলোতে তওয়াফ করনি? আমি বললাম, জ্বী-না। তিনি বললেন, তোমার ভাই-এর সাথে তান্‌’ঈম চলে যাও, সেখান হতে ‘উমরাহ’র ইহ্‌রাম বাঁধবে। অতঃপর অমুক স্থানে তোমার সাথে সাক্ষাৎ ঘটবে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ কী বললে! তুমি কি কুরবানীর দিনগুলোতে তাওয়াফ করনি! আমি বললাম, হ্যাঁ করেছি। তিনি বললেনঃ তবে কোন অসুবিধা নেই, তুমি চল। ‘আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে এমতাবস্থায় আমার সাক্ষাৎ হলো যখন তিনি মক্কা ছেড়ে উপরের দিকে উঠছিলেন, আর আমি মক্কার দিকে অবতরণ করছি। অথবা ‘আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি উঠছি ও তিনি অবতরণ করছেন। (২৯৪, মুসলিম ১৫/১৭, হাঃ ১২১১, আহমাদ ২৬২২৪) (আঃপ্রঃ১৪৫৮, ইঃফাঃ ১৪৬৪)









সহীহুল বুখারী (1562)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ بْنِ نَوْفَلٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ حَجَّةِ الْوَدَاعِ فَمِنَّا مَنْ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ وَمِنَّا مَنْ أَهَلَّ بِحَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ وَمِنَّا مَنْ أَهَلَّ بِالْحَجِّ وَأَهَلَّ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِالْحَجِّ فَأَمَّا مَنْ أَهَلَّ بِالْحَجِّ أَوْ جَمَعَ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لَمْ يَحِلُّوا حَتَّى كَانَ يَوْمُ النَّحْرِ




‘আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হান্থাতুল বিদার বছর আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে বের হই। আমাদের মধ্যে কেউ কেবল ‘উমরাহ’র ইহ্‌রাম বাঁধলেন, আর কেউ হজ্জ ও ‘উমরাহ উভয়টির ইহ্‌রাম বাঁধলেন। আর কেউ শুধু হজ্জ-এর ইহ্‌রাম বাঁধলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শুধু হজ্জের জন্য ইহ্‌রাম বাঁধলেন। যারা কেবল হজ্জ বা এক সঙ্গে হজ্জ ও ‘উমরাহ’র ইহ্‌রাম বেঁধেছিলেন তাদের একজনও কুরবানী দিনের পূর্বে ইহ্‌রাম খোলেননি। (২৯৪) (আঃপ্রঃ১৪৫৯, ইঃফাঃ ১৪৬৫)









সহীহুল বুখারী (1563)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ عَنْ مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ قَالَ شَهِدْتُ عُثْمَانَ وَعَلِيًّا وَعُثْمَانُ يَنْهَى عَنْ الْمُتْعَةِ وَأَنْ يُجْمَعَ بَيْنَهُمَا فَلَمَّا رَأَى عَلِيٌّ أَهَلَّ بِهِمَا لَبَّيْكَ بِعُمْرَةٍ وَحَجَّةٍ قَالَ مَا كُنْتُ لأَدَعَ سُنَّةَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لِقَوْلِ أَحَدٍ




মারওয়ান ইব্‌নু হাকাম (রাহিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ‘উসমান ও ‘আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে (উসফান নামক স্থানে) দেখেছি, ‘উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তামাত্তু’, হজ্জ ও ‘উমরাহ একত্রে আদায় করতে নিষেধ করতেন। ‘আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এ অবস্থা দেখে হজ্জ ও ‘উমরাহ’র ইহ্‌রাম একত্রে বেঁধে তালবিয়া পাঠ করেন- (আরবি) (হে আল্লাহ! আমি ‘উমরাহ ও হজ্জ-এর ইহ্‌রাম বেঁধে হাযির হলাম) এবং বললেন, কারো কথায় আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাত বর্জন করতে পারব না। (১৫৬৯, মুসলিম ১৫/২৩, হাঃ ১২২৩) (আঃপ্রঃ১৪৬০, ইঃফাঃ ১৪৬৬)









সহীহুল বুখারী (1564)


حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا ابْنُ طَاوُسٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانُوا يَرَوْنَ أَنَّ الْعُمْرَةَ فِي أَشْهُرِ الْحَجِّ مِنْ أَفْجَرِ الْفُجُورِ فِي الأَرْضِ وَيَجْعَلُونَ الْمُحَرَّمَ صَفَرًا وَيَقُولُونَ إِذَا بَرَا الدَّبَرْ وَعَفَا الأَثَرْ وَانْسَلَخَ صَفَرْ حَلَّتْ الْعُمْرَةُ لِمَنْ اعْتَمَرْ قَدِمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابُهُ صَبِيحَةَ رَابِعَةٍ مُهِلِّينَ بِالْحَجِّ فَأَمَرَهُمْ أَنْ يَجْعَلُوهَا عُمْرَةً فَتَعَاظَمَ ذَلِكَ عِنْدَهُمْ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَيُّ الْحِلِّ قَالَ حِلٌّ كُلُّهُ




‘ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকেরা হজ্জ-এর মাসগুলোতে ‘উমরাহ করাকে দুনিয়ার সবচেয়ে ঘৃণ্য পাপের কাজ বলে মনে করত। তারা মুহাররম মাসের স্থলে সফর মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ মনে করত। তারা বলত, উটের পিঠের যখম ভাল হলে, রাস্তার মুসাফিরের পদচিহ্ন মুছে গেলে এবং সফর মাস অতিক্রান্ত হলে ‘উমরাহ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি ‘উমরাহ করতে পারবে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ হজ্জ-এর ইহ্‌রাম বেঁধে (যিলহজ্জ মাসের) চার তারিখ সকালে (মক্কায়) উপনীত হন। তখন তিনি তাঁদের এ ইহ্‌রামকে ‘উমরাহ’র ইহরামে পরিণত করার নির্দেশ দেন। সকলের কাছেই এ নির্দেশটি গুরুতর বলে মনে হলো (‘উমরাহ শেষ করে) তাঁরা বললেন, হে রাসূলুল্লাহ! আমাদের জন্য কী কী জিনিস হালাল? তিনি বললেনঃ সবকিছু হালাল (ইহরামের পূর্বে যা হালাল ছিল তার সব কিছু এখন হালাল)। (১০৮৫)(আঃপ্রঃ১৪৬১, ইঃফাঃ ১৪৬৭)









সহীহুল বুখারী (1565)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ قَدِمْتُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهُ بِالْحِلِّ




আবূ মূসা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি আমাকে (ইহ্‌রাম ভঙ্গ করে) হালাল হয়ে যাওয়ার আদেশ দিলেন। (১৫৫৯) (আঃপ্রঃ১৪৬২, ইঃফাঃ ১৪৬৮)









সহীহুল বুখারী (1566)


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ ح و حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ حَفْصَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَا شَأْنُ النَّاسِ حَلُّوا بِعُمْرَةٍ وَلَمْ تَحْلِلْ أَنْتَ مِنْ عُمْرَتِكَ قَالَ إِنِّي لَبَّدْتُ رَأْسِي وَقَلَّدْتُ هَدْيِي فَلاَ أَحِلُّ حَتَّى أَنْحَرَ




নবী সহধর্মিণী হাফসা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হে রাসূলুল্লাহ! লোকদের কী হল, তারা ‘উমরাহ শেষ করে হালাল হয়ে গেল, অথচ আপনি ‘উমরাহ হতে হালাল হচ্ছেন না? তিনি বললেনঃ আমি মাথায় আঠালো বস্তু লাগিয়েছি এবং কুরবানীর জানোয়ারের গলায় মালা ঝুলিয়েছি। কাজেই কুরবানী করার পূর্বে হালাল হতে পারি না। (১৬৯৭, ১৭২৫, ৪৩৯৭, ৫৯১৬, মুসলিম ১৫/২৫, হাঃ ১২২৯, আহমাদ ২৬৪৮৬) (আঃপ্রঃ১৪৬৩, ইঃফাঃ ১৪৬৯)









সহীহুল বুখারী (1567)


حَدَّثَنَا آدَمُ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ أَخْبَرَنَا أَبُو جَمْرَةَ نَصْرُ بْنُ عِمْرَانَ الضُّبَعِيُّ قَالَ تَمَتَّعْتُ فَنَهَانِي نَاسٌ فَسَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ فَأَمَرَنِي فَرَأَيْتُ فِي الْمَنَامِ كَأَنَّ رَجُلاً يَقُولُ لِي حَجٌّ مَبْرُورٌ وَعُمْرَةٌ مُتَقَبَّلَةٌ فَأَخْبَرْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ فَقَالَ سُنَّةَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لِي أَقِمْ عِنْدِي فَأَجْعَلَ لَكَ سَهْمًا مِنْ مَالِي قَالَ شُعْبَةُ فَقُلْتُ لِمَ فَقَالَ لِلرُّؤْيَا الَّتِي رَأَيْتُ




আবূ জামরাহ নাসর ইব্‌নু ‘ইমরান যুবা‘য়ী (রাহিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি তামাত্তু‘ হজ্জ করতে ইচ্ছা করলে কিছু লোক আমাকে নিষেধ করল। আমি তখন ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) - এর নিকট জিজ্ঞেস করলে তিনি তা করতে আমাকে নির্দেশ দেন। এরপর আমি স্বপ্নে দেখলাম, যে এক ব্যক্তি আমাকে বলছে, উত্তম হজ্জ ও মাকবূল ‘উমরাহ। ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) -এর নিকট স্বপ্নটি বললাম। তিনি বললেন, তা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাত। এরপর আমাকে বললেন, তুমি আমার কাছে থাক, তোমাকে আমার মালের কিছু অংশ দিব। রাবী শু‘বাহ (রাহিঃ) বলেন, আমি (আবূ জামরাকে) বললাম, তা কেন? তিনি বললেন, আমি যে স্বপ্ন দেখেছি সে জন্য। (১৬৮৮) (আঃপ্রঃ১৪৬৪, ইঃফাঃ ১৪৭০)









সহীহুল বুখারী (1568)


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا أَبُو شِهَابٍ قَالَ قَدِمْتُ مُتَمَتِّعًا مَكَّةَ بِعُمْرَةٍ فَدَخَلْنَا قَبْلَ التَّرْوِيَةِ بِثَلاَثَةِ أَيَّامٍ فَقَالَ لِي أُنَاسٌ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ تَصِيرُ الآنَ حَجَّتُكَ مَكِّيَّةً فَدَخَلْتُ عَلَى عَطَاءٍ أَسْتَفْتِيهِ فَقَالَ حَدَّثَنِي جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللهِ أَنَّهُ حَجَّ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ سَاقَ الْبُدْنَ مَعَهُ وَقَدْ أَهَلُّوا بِالْحَجِّ مُفْرَدًا فَقَالَ لَهُمْ أَحِلُّوا مِنْ إِحْرَامِكُمْ بِطَوَافِ الْبَيْتِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَقَصِّرُوا ثُمَّ أَقِيمُوا حَلاَلاً حَتَّى إِذَا كَانَ يَوْمُ التَّرْوِيَةِ فَأَهِلُّوا بِالْحَجِّ وَاجْعَلُوا الَّتِي قَدِمْتُمْ بِهَا مُتْعَةً فَقَالُوا كَيْفَ نَجْعَلُهَا مُتْعَةً وَقَدْ سَمَّيْنَا الْحَجَّ فَقَالَ افْعَلُوا مَا أَمَرْتُكُمْ فَلَوْلاَ أَنِّي سُقْتُ الْهَدْيَ لَفَعَلْتُ مِثْلَ الَّذِي أَمَرْتُكُمْ وَلَكِنْ لاَ يَحِلُّ مِنِّي حَرَامٌ حَتَّى يَبْلُغَ الْهَدْيُ مَحِلَّهُ فَفَعَلُوا قَالَ أَبُو عَبْد اللهِ أَبُو شِهَابٍ لَيْسَ لَهُ مُسْنَدٌ إِلاَّ هَذَا




আবূ শিহাব (রাহিঃ) হতে বর্ণিত, আমি ‘উমরাহ’র ইহ্‌রাম বেঁধে হজ্জে তামাত্তু’র নিয়্যতে তারবিয়্যাহ দিবস (আট তারিখ)-এর তিন দিন পূর্বে মক্কায় প্রবেশ করলাম, মক্কাবাসী কিছু লোক আমাকে বললেন, এখন তোমার হজ্জের কাজ মক্কা হতে শুরু হবে। আমি বিষয়টি জানার জন্য ‘আত্বা (রাহিঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি বললেন, জাবির ইব্‌নু ‘আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে বলেছেন, যখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুরবানীর উট সঙ্গে নিয়ে হজ্জে আসেন তখন তিনি তাঁর সঙ্গে ছিলেন। সাহাবীগন ইফরাদ হজ্জ-এর নিয়্যাতে শুধু হজ্জের ইহ্‌রাম বাধেঁন। কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (মক্কায় পৌছে) তাদেরকে বললেনঃ বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সা‘ঈ সমাধা করে তোমরা ইহ্‌রাম ভঙ্গ করে হালাল হয়ে যাও এবং চুল ছোট কর। এরপর হালাল অবস্থায় থাক। যখন যিলহজ্জ মাসের আট তারিখ হবে তখন তোমরা হজ্জ-এর ইহ্‌রাম বেঁধে নিবে, আর যে ইহ্‌রাম বেঁধে এসেছ তা তামাত্তু‘ হজ্জের ‘উমরাহ বানিয়ে নিবে। সাহাবীগন বললেন, এ ইহ্‌রামকে আমরা কিরূপে ‘উমরাহ’র ইহ্‌রাম বানাব? আমরা হজ্জ-এর নাম নিয়ে ইহ্‌রাম বেঁধেছি। তখন তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে যা আদেশ করছি তাই কর। কুরবানীর পশু সঙ্গে নিয়ে না আসলে তোমাদেরকে যা করতে বলছি, আমিও সেরূপ করতাম। কিন্তু কুরবনী করার পূর্বে (ইহরামের কারনে) নিষিদ্ধ কাজ (আমার জন্য) হালাল নয়। সাহাবীগন সেরূপ পশু যবহ করলেন। আবূ ‘আবদুল্লাহ্‌ (ইমাম বুখারী) (রাহিঃ) বলেন, আবূ শিহাব (রাহিঃ) হতে মারফূ’ বর্ণনা মাত্র এই একটিই পাওয়া যায়। (১৫৫৭) (আঃপ্রঃ ১৪৬৫, ইঃফাঃ ১৪৭১)









সহীহুল বুখারী (1569)


حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ الأَعْوَرُ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ قَالَ اخْتَلَفَ عَلِيٌّ وَعُثْمَانُ وَهُمَا بِعُسْفَانَ فِي الْمُتْعَةِ فَقَالَ عَلِيٌّ مَا تُرِيدُ إِلاَّ أَنْ تَنْهَى عَنْ أَمْرٍ فَعَلَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ عَلِيٌّ أَهَلَّ بِهِمَا جَمِيعًا




সা’ঈদ ইব্‌নু মুসায়্যাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘উসমান নামক স্থানে অবস্থানকালে ‘আলী ও ‘উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) -এর মধ্যে হজ্জে তামাত্তু’ করা সম্পর্কে পরস্পরে দ্বিমত সৃষ্টি হয়। ‘আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ‘উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) -কে লক্ষ্য করে বললেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে কাজ করেছেন, আপনি কি তা হতে বারণ করতে চান? ‘উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আমাকে আমার অবস্থায় থাকতে দিন। ‘আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এ অবস্থা দেখে হজ্জ ও ‘উমরাহ উভয়ের ইহ্‌রাম বাধেঁন। (১৫৬৩) (আঃপ্রঃ ১৪৬৬, ইঃফাঃ ১৪৭২)









সহীহুল বুখারী (1570)


حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ قَالَ سَمِعْتُ مُجَاهِدًا يَقُولُ حَدَّثَنَا جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَدِمْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ نَقُولُ لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ بِالْحَجِّ فَأَمَرَنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَجَعَلْنَاهَا عُمْرَةً




জাবির ইব্‌নু ‘আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে আমরা হজ্জের তালবিয়া পাঠ করতে করতে (মক্কায়) উপনীত হলাম। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নির্দেশ দিলেন, আমরা হজ্জকে ‘উমরাহ’তে পরিণত করলাম। (১৫৫৭) (আঃপ্রঃ ১৪৬৭, ইঃফাঃ ১৪৭৩)









সহীহুল বুখারী (1571)


حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ عَنْ قَتَادَةَ قَالَ حَدَّثَنِي مُطَرِّفٌ عَنْ عِمْرَانَ قَالَ تَمَتَّعْنَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَنَزَلَ الْقُرْآنُ قَالَ رَجُلٌ بِرَأْيِهِ مَا شَاءَ




’ইমরান ইব্‌নু হুসায়ন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে হজ্জে তামাত্তু’ করেছি, কুরআনেও তার বিধান নাযিল হয়েছে অথচ এক ব্যক্তি তার ইচ্ছাতম অভিমত ব্যক্ত করেছেন। (৪৫১৮) (আঃপ্রঃ ১৪৬৮ ইঃফাঃ ১৪৭৪)









সহীহুল বুখারী (1572)


وَقَالَ أَبُو كَامِلٍ فُضَيْلُ بْنُ حُسَيْنٍ الْبَصْرِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو مَعْشَرٍ الْبَرَّاءُ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ غِيَاثٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ مُتْعَةِ الْحَجِّ فَقَالَ أَهَلَّ الْمُهَاجِرُونَ وَالأَنْصَارُ وَأَزْوَاجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ وَأَهْلَلْنَا فَلَمَّا قَدِمْنَا مَكَّةَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم اجْعَلُوا إِهْلاَلَكُمْ بِالْحَجِّ عُمْرَةً إِلاَّ مَنْ قَلَّدَ الْهَدْيَ فَطُفْنَا بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَأَتَيْنَا النِّسَاءَ وَلَبِسْنَا الثِّيَابَ وَقَالَ مَنْ قَلَّدَ الْهَدْيَ فَإِنَّهُ لاَ يَحِلُّ لَهُ {حَتَّى يَبْلُغَ الْهَدْيُ مَحِلَّهُ} ثُمَّ أَمَرَنَا عَشِيَّةَ التَّرْوِيَةِ أَنْ نُهِلَّ بِالْحَجِّ فَإِذَا فَرَغْنَا مِنْ الْمَنَاسِكِ جِئْنَا فَطُفْنَا بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَقَدْ تَمَّ حَجُّنَا وَعَلَيْنَا الْهَدْيُ كَمَا قَالَ اللهُ تَعَالَى {فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنْ الْهَدْيِ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَسَبْعَةٍ إِذَا رَجَعْتُمْ} إِلَى أَمْصَارِكُمْ الشَّاةُ تَجْزِي فَجَمَعُوا نُسُكَيْنِ فِي عَامٍ بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ فَإِنَّ اللهَ تَعَالَى أَنْزَلَهُ فِي كِتَابِهِ وَسَنَّهُ نَبِيُّهُ وَأَبَاحَهُ لِلنَّاسِ غَيْرَ أَهْلِ مَكَّةَ قَالَ اللهُ {ذَلِكَ لِمَنْ لَمْ يَكُنْ أَهْلُهُ حَاضِرِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ} وَأَشْهُرُ الْحَجِّ الَّتِي ذَكَرَ اللهُ تَعَالَى فِي كِتَابهِ شَوَّالٌ وَذُو الْقَعْدَةِ وَذُو الْحَجَّةِ فَمَنْ تَمَتَّعَ فِي هَذِهِ الأَشْهُرِ فَعَلَيْهِ دَمٌ أَوْ صَوْمٌ وَالرَّفَثُ الْجِمَاعُ وَالْفُسُوقُ الْمَعَاصِي وَالْجِدَالُ الْمِرَاءُ




ইব্‌নু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, হজ্জে তামাত্তু’ সম্পর্কে তাঁর নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি বললেন, বিদায় হজ্জের বছর আনসার ও মুজাহির সাহাবীগন, নবী-সহধর্মিণীগণ ইহ্‌রাম বাঁধলেন, আর আমরাও ইহ্‌রাম বাঁধলাম। আমরা মক্কায় পৌছুলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা হজ্জ-এর ইহ্‌রামকে ‘উমরায় পরিনত কর। তবে যারা কুরবানীর পশুর গলায় মালা ঝুলিয়েছে, তাদের কথা ব্যতিক্রম (তারা ইহ্‌রাম ভঙ্গ করতে পারবে না)। আমরা বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা মারওয়ার সা’য়ী করলাম। এরপর স্ত্রী-সহবাস করলাম এবং কাপড়-চোপড় পরিধান করলাম। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যে ব্যক্তি কুরবানীর জন্য উপস্থিত করার উদ্দেশে পশুর গলায় মালা ঝুলিয়েছে, পশু কুরবানীর স্থানে না পৌছা পর্যন্ত সে হালল হতে পারে না। এরপর যিলহজ্জ মাসের আট তারিখ বিকালে আমাদেরকে হজ্জ-এর ইহ্‌রাম বাঁধার নির্দেশ দেন। যখন আমরা হজ্জ-এর সকল কার্য শেষ করে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়া সা’য়ী করে অবসর হলাম, তখন আমাদের হজ্জ পূর্ণ হল এবং আমাদের উপর কুরবানী করা ওয়াজিব হলো। যেমন মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন : “যার পক্ষে সম্ভব সে একটি কুরবানী করবে, আর যার পক্ষে সম্ভব নয় সে হজ্জ চলাকালে তিনটি সওম পালন করবে এবং ফিরে এসে সাত দিন সওম পালন করবে অর্থাৎ নিজ দেশে ফিরে”- (আল-বাকারা : ১৯৬)। একটি বকরীই দম হিসেবে কুরবানীর জন্য যথেষ্ট। একই বছরে সাহাবীগন হজ্জ ও ‘উমরাহ একসাথে আদায় করলেন। আল্লাহ তাঁর কুরআনে এ বিধান নাযিল করেছেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ তরীকা জারী করেছেন আর মক্কাবাসী ব্যতীত অন্যদের জন্য তা বৈধ করেছেন। আল্লাহ ইরশাদ করেন : “( হজ্জে তামাত্তু’) তাদের জন্য, যাদের পরিবার-পরিজন মাসজিদে হারামের (হারামের সীমার) মধ্যে বাস করে না” – (আল-বাকারা : ১৯৬)। আল্লাহ তাঁর কুরআনে হজ্জের যে মাসগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন তা হলো : শাওয়াল, যিলক্বাদ ও যিলহজ্জ। যারা এ মাসগুলোতে তামাত্তু’ হজ্জ করবে তাদের অবশ্য দম দিতে হবে অথবা সওম পালন করতে হবে। (আঃপ্রঃ অনুচ্ছেদ ৩৭ এর শেষাংশ)
(আরবি) অর্থ স্ত্রী সহবাস, (আরবি) অর্থ গুনাহ, (আরবি) অর্থ বিবাদ। (আঃপ্রঃ, ই.ফা, পরিচ্ছেদ ৯৯৭)









সহীহুল বুখারী (1573)


حَدَّثَنِي يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ قَالَ كَانَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا دَخَلَ أَدْنَى الْحَرَمِ أَمْسَكَ عَنْ التَّلْبِيَةِ ثُمَّ يَبِيتُ بِذِي طِوًى ثُمَّ يُصَلِّي بِهِ الصُّبْحَ وَيَغْتَسِلُ وَيُحَدِّثُ أَنَّ نَبِيَّ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَفْعَلُ ذَلِكَ




নাফি’ (রাহিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইব্‌নু ‘উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হারামের নিকটবর্তী স্থানে পৌছলে তালবিয়া পাঠ বন্ধ করে দিতেন। অত:পর যী-তুয়া নামক স্থানে রাত যাপন করতেন। এরপর সেখানে ফজরের সালাত আদায় করতেন ও গোসল করতেন। তিনি বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরূপ করতেন। (১৫৫৩, মুসলিম ১৫/৩৮, হাঃ ১২৫৯) (আঃপ্রঃ ১৪৬৯, ইঃফাঃ ১৪৭৫)









সহীহুল বুখারী (1574)


حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ اللهِ قَالَ حَدَّثَنِي نَافِعٌ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ بَاتَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِذِي طُوًى حَتَّى أَصْبَحَ ثُمَّ دَخَلَ مَكَّةَ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَفْعَلُهُ




ইব্‌নু ‘উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভোর পর্যন্ত যী-তুয়ায় রাত যাপন করেন, অতঃপর মক্কায় প্রবেশ করেন। (রাবী নাফি’ বলেন) ইব্‌নু ‘উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) -ও এরূপ করতেন। (১৫৫৩) (আঃপ্রঃ ১৪৭০, ইঃফাঃ ১৪৭৬)









সহীহুল বুখারী (1575)


حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ قَالَ حَدَّثَنِي مَعْنٌ قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَدْخُلُ مِنْ الثَّنِيَّةِ الْعُلْيَا وَيَخْرُجُ مِنْ الثَّنِيَّةِ السُّفْلَى




ইব্‌নু ‘উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সানিয়্যাতুল ‘উলয়া (হারমের উত্তর-পূর্বদিকে কাদা নামক স্থান দিয়ে) মক্কায় প্রবেশ করতেন এবং সানিয়্যা সুফলা (হারমের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে কুদা নামক স্থান) দিয়ে বের হতেন। (১৫৭৬) (আঃপ্রঃ ১৪৭১, ইঃফাঃ ১৪৭৭)









সহীহুল বুখারী (1576)


حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ الْبَصْرِيُّ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ مَكَّةَ مِنْ كَدَاءٍ مِنْ الثَّنِيَّةِ الْعُلْيَا الَّتِي بِالْبَطْحَاءِ وَخَرَجَ مِنْ الثَّنِيَّةِ السُّفْلَى قَالَ أَبُو عَبْد اللهِ كَانَ يُقَالُ هُوَ مُسَدَّدٌ كَاسْمِهِ قَالَ أَبُو عَبْد اللهِ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ مَعِينٍ يَقُولُ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ يَقُولُ لَوْ أَنَّ مُسَدَّدًا أَتَيْتُهُ فِي بَيْتِهِ فَحَدَّثْتُهُ لاَسْتَحَقَّ ذَلِكَ وَمَا أُبَالِي كُتُبِي كَانَتْ عِنْدِي أَوْ عِنْدَ مُسَدَّدٍ




ইব্‌নু ‘উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাত্‌হায় অবস্থিত সানিয়্যা ‘উলয়ার কাদা নামক স্থান দিয়ে মক্কায় প্রবেশ করেন এবং সানিয়্যা সুফ্‌লার দিক দিয়ে বের হন। (১৫৭৫) (আঃপ্রঃ ১৪৭২, ইঃফাঃ ১৪৭৮)









সহীহুল বুখারী (1577)


حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمَّا جَاءَ إِلَى مَكَّةَ دَخَلَ مِنْ أَعْلاَهَا وَخَرَجَ مِنْ أَسْفَلِهَا




‘আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মক্কায় আসেন তখন এর উচ্চ স্থান দিয়ে প্রবেশ করেন এবং নীচু স্থান দিয়ে ফেরার পথে বের হন। (১৫৭৮,১৫৭৯,১৫৮০,১৫৮১, ৪২৯০,৪২৯১) (আঃপ্রঃ ১৪৭৩, ইঃফাঃ ১৪৭৯)









সহীহুল বুখারী (1578)


حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ الْمَرْوَزِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَامَ الْفَتْحِ مِنْ كَدَاءٍ وَخَرَجَ مِنْ كُدًا مِنْ أَعْلَى مَكَّةَ




‘আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কা বিজয়ের বছর কাদা-র পথে (মক্কায়) প্রবেশ করেন এবং বের হন কুদা-র পথে যা মক্কার উঁচু স্থানে অবস্থিত। (১৫৭৭) (আঃপ্রঃ ১৪৭৪, ইঃফাঃ ১৪৮০)









সহীহুল বুখারী (1579)


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ أَخْبَرَنَا عَمْرٌو عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَامَ الْفَتْحِ مِنْ كَدَاءٍ أَعْلَى مَكَّةَ قَالَ هِشَامٌ وَكَانَ عُرْوَةُ يَدْخُلُ عَلَى كِلْتَيْهِمَا مِنْ كَدَاءٍ وَكُدًا وَأَكْثَرُ مَا يَدْخُلُ مِنْ كَدَاءٍ وَكَانَتْ أَقْرَبَهُمَا إِلَى مَنْزِلِهِ




‘আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কা বিজয়ের বছর কাদা নামক স্থান দিয়ে মক্কার উঁচু ভূমির দিক হতে মক্কায় প্রবেশ করেন। রাবী হিসাম (রাহিঃ) বলেন, (আমার পিতা) ‘উরওয়া (রাহিঃ) কাদা ও কুদা উভয় স্থান দিয়ে (মক্কায়) প্রবেশ করতেন। তবে অধিকাংশ সময় কুদা দিয়ে প্রবশ করতেন, কেননা তাঁর বাড়ি এ পথে অধিক নিকটবর্তী ছিল। (১৫৭৭, মুসলিম ১৫/৩৭, হাঃ ১২৫৭, আহমাদ ৪৮৪৩) (আ,প্র. ১৪৭৫ সম্পূর্ণ নেই, ইঃফাঃ ১৪৮১)









সহীহুল বুখারী (1580)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ حَدَّثَنَا حَاتِمٌ عَنْ هِشَامٍ عَنْ عُرْوَةَ دَخَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَامَ الْفَتْحِ مِنْ كَدَاءٍ مِنْ أَعْلَى مَكَّةَ وَكَانَ عُرْوَةُ أَكْثَرَ مَا يَدْخُلُ مِنْ كَدَاءٍ وَكَانَ أَقْرَبَهُمَا إِلَى مَنْزِلِهِ




‘উরওয়া (রাহিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কা বিজয়ের বছর মক্কার উঁচু ভূমি কাদা দিয়ে (মক্কায়) প্রবেশ করেন। [রাবী হিশাম (রাহিঃ) বলেন] ‘উরওয়া (রাহিঃ) অধিকাংশ সময় কুদা’র পথে প্রবেশ করতেন, কেননা তাঁর বাড়ি এ পথের অধিক নিকটবর্তী ছিল। (১৫৭৭) (আঃপ্রঃ ১৪৭৬, ইঃফাঃ ১৪৮২)